আসন্ন ২০১৯ বিশ্বকাপে টিম ইণ্ডিয়ার তুরুপের তাস হবে কে?

সংবাদদাতা
ক্রীড়াপ্রতিনিধি
সময়

ডন ব্রাডম্যান ও রির্র্চড হ্যাডলির  দেশে বিজয়ধবজা উড়িয়ে নোতুন ইতিহাস লেখার পরে এখন প্রধান লক্ষ্য বিশ্বকাপের পনেরো  জনের দল চূড়ান্ত করা৷ আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এই দলটিই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে৷ ক্রিকেটে দলের সকলকেই ভাল খেলতে হবে সেরার মুকুট জয় করা জন্যে---তবুও দেখা গেছে বিশ্বকাপের মহারণে দু’একজন খেলোয়াড় অন্য সকলের থেকে ছাপিয়ে গিয়ে ফারাক গড়ে দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির মধ্যে৷ এই খেলোয়াড়রাই হন বিশ্বকাপের তুরুপের তাস৷ যেমন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপে কপিল দেব, মহিন্দর অমরনাথ ছিনিয়ে আনলেন বিশ্বকাপ৷ তার কয়েক বছর পর শচীন-বিরাট-ধোনীরা তুরুপের তাস হয়ে সেরা খেলাটা খেললেন এক-একজন এক-একটি ম্যাচে৷ দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করল ভারত৷ ২০১৯-এ ভারত বেশ শক্তিশালী ব্যালেন্সড্ দল৷ তবে বিশেষ করে কোন খেলোয়াড় অন্য দলের খেলোয়াড়দের হার মানিয়ে জয়ের মুকুট তুলে ধরবে ভারতের হয়ে---তা জানতে হলে অপেক্ষায় থাকবে হবে সেই ফাইনালের দিনটির জন্যে৷ তবে মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচ৷ এক ইঞ্চি জমিও কেউ কাউকে ছেড়ে দেবে না৷ সাম্প্রতিক অতীতের সাফল্য বা ব্যর্থতার কোনও ছাপই থাকবে না বিশ্বকাপের ব্যাটে-বলের টক্করে৷ তাই আত্মতুষ্টিতে ভুগে ইংলণ্ডে পা রাখলে ভুল করবে টীম ইণ্ডিয়া৷ মিশন বিশ্বকাপের জন্য একটাই লক্ষ্য---প্রতিটি ম্যাচেই জয় চাই৷ চ্যাম্পিয়নদের জন্যে এটাই একমাত্র লক্ষ্য৷

নিউল্যাণ্ডে ৪-১ সিরিজ জিতে ‘উরি’ দেখতে গেছে ভারতীয় দল৷  আগামী বিশ্বকাপে দল বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরুও হয়ে গেছে৷ ভারতের বিশ্বকাপে দল নির্বাচনীর ব্যাপারটা মোটামুটিভাবে তৈরি করে ফেলা হয়েছে৷ ছয় স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান, দুই জন উইকেটকিপার, পেসার ও স্পিনার মিলিয়ে ছয় জন স্পোলিষ্ট বোলার, বাকীরা অলরাউণ্ডার---এই হবে খেলোয়ার বাছার ফর্মুলা৷  জানা গেছে, আপাতত ১৫ জনের নাম কার্যত পাকা৷ এঁরা হলেন---

রোহিত শর্র্ম- ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান অস্ত্র৷ দুর্দান্ত স্ট্রোকপ্লেয়ার৷

শিখর ধওয়ন- ডান হাতি রোহিতের সঙ্গে বাঁ হাতির জুটি ওপেনিংয়ে সেরা৷

বিরাট কোহালি- অধিনায়ক ও প্রধান ভরসা৷

অম্বাতি রায়ডু- ওয়েলিংটনের ৯০ শতাংশ সংশয় দূর করেছে৷ চার নম্বরে তিনি৷

কেদার যাদব - মাঝের দিকে ব্যাট হাতে সফল, ও  অফব্রেক বোলিংও জানেন৷

এম.এস.ধোনি - শেষ চার ম্যাচে তিনটি পঞ্চাশ৷ সঙ্গে কিপিংয়েও ক্ষিপ্র৷

ঋষভ পন্থ - উপযোগী ক্রিকেটার, সাম্প্রতিক পারফরমেন্স খুবই ভাল৷

যশপ্রীত বুমরা- ভারতের পেস বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র৷ ফর্মে রয়েছেন৷

ভুবনেশ্বর কুমার- নতুন বলে বুমরার সঙ্গী৷ বু-ভু জুটির দিকে  তাকিয়ে দল৷

মহম্মদ শামি - দারুণ ছন্দে রয়েছেন এই বোলার ইংল্যাণ্ডের আবহাওয়ায় ভাল বল করনবেন৷

কুলদীপ যাদব- ক্রিকেট  বিশ্ব তাঁকে  দেখার অপেক্ষায়৷

যুজবেন্দ্র চহাল - লেগস্পিনার হয়েও আগ্রাসী৷

খলিল আহমেদ - বাঁ হাতি বলে চতুর্থ পেসার হিসাবে মহম্মদ সিরাজের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে৷ দারুণ মানসিকতা৷ কিন্তু প্রশ্ণ বলের গতি নিয়ে৷

দীনেশ কার্তিক- ফিনিশারের কাজে  সফল৷  তবে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেও যেতে পারেন৷

হার্দিক পাণ্ড্য- অলরাউন্ডার হিসেবে কোহালির অন্যতম তুরুপের তাস হতে পারেন৷

এছাড়া দেখা যাচ্ছে, ছয় ব্যাটম্যানের মধ্যে  পাঁচ জনের নাম চূড়ান্ত৷ শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে কার নাম লেখা হবে, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশী আগ্রহ তৈরী হয়েছে৷ শোনা যাচ্ছে  ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান হতে পারেন --- পৃথ্বী৷  টেষ্ট ক্রিকেটে  ইতোমধ্যেই তিনি সাড়া জাগিয়ে ফেলেছেন৷  অনেকে তাঁকে ছোট সচিন তেন্ডুলকরও বলে চেনেন৷  যদিও কারোও ভূলে যাওয়ার কথা  নয় অনূধর্ব ১৯ এর বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন পৃথ্বী৷

এবারের বিশ্বকাপ হবে ইংল্যাণ্ডে৷ জুন মাসে গরম চলবে, পরিবেশ বা পিচ হয়তো  পেসারদের  দারুণ বন্ধু হয়ে দেখা দেবে না৷ তবু ইংল্যাণ্ডের  স্বাভাবিক প্রচলন  অনুযায়ী, বল শুরুর দিকে নড়াচড়া করতেই পারে৷ দল পরিচালন সমিতি ও নির্বাচকদের তাই মনে হচ্ছে, বাড়তি ব্যাটসম্যান  হিসেবে  এমন এক জনকে  নিয়ে যাওয়া উচিত, যিনি  প্রয়োজনে তৃতীয় ওপেনারের  কাজ করতে পারবেন৷ বিশ্বকাপ দীর্ঘপ্রতিযোগিতা৷  সেমিফাইনালের  আগেই খেলতে হবে ৯ টি ম্যাচ৷ এবারের ফর্র্ম্যট অনুযায়ী, দশটি দেশের প্রত্যেকে  প্রত্যেকের সঙ্গে খেলবে৷ তারপরে সেমিফাইনাল, ফাইনাল৷