আত্মহত্যার মিছিল ঃ সমস্যার সমাধান কোন্ পথে

লেখক
আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

গত ১০ই সেপ্ঢেম্বর চলে গেল বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস  সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে এ সংবাদ রাষ্ট্রসংঘের

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলিতে অর্থাৎ পত্র-পত্রিকা,দূরদর্শন সবেতেই তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে প্রশাসনিক বিভাগীয় তদন্তে কেউ সন্তুষ্ট নয়, দেশের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা সিবিআই এর তদন্তের ভার নিয়েছে তদন্তের জালে প্রাক্তন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী সহ মুম্বাই সিনেমা জগতের বহু তারকা জড়িয়ে পড়ছে এমনকি বলা হচ্ছে বলিউডের ৭০ শতাংশ তারকার সঙ্গে  মাদক সেবন বা মাদক কারবারের যোগ আছে

সুশান্ত সিং রাজপুতের  আত্মহত্যা নিয়ে এত তোলপাড় চলছে কিন্তু প্রতিদিনই কত আত্মহত্যা হচ্ছে, তা নিয়ে কি প্রশাসন, কি সংবাদ সংস্থার এত তো চিন্তা দেখা যায় নি!

এই তো সেদিন কলেজ ষ্ট্রীটের বই দোকানের এক কর্মচারী চার-পাঁচ মাস কাজ বন্ধ শিশু সন্তান ও স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যা করল এমনি করে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে না পেরে বিভিন্ন গ্রামে শহরে বহু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে ঋণভারে  জর্জরিত হয়ে গত ২৫ বছরে সাড়ে ৪ লাখ কর্ষক আত্মহত্যা করেছে

কেবল অর্থনৈতিক কারণ নয়,ভারত সরকারের ন্যাশন্যাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর সমীক্ষায় প্রকাশ প্রতি বছর হাজার হাজার তরতাজা তরুণ আত্মহত্যা করছে

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০১৫তে ৮৯৩৪ জন, ২০১৬ তে ৯৪৭৮ জন ২০১৭তে ৯৯০৫ জন ও ২০১৮তে আত্মহত্যা করেছে ১০,১৫৯ জন এ পর্যন্ত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে, আর সমীক্ষার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি কিন্তু এই তথ্যের ট্রেণ্ড থেকে বোঝা যাচ্ছে এই সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়ে চলেছে

প্রথমেই বলেছি, সারা বিশ্বে প্রতিবছর আত্মহত্যার সংখ্যা মোটের ওপর প্রায় ১০ লাখ প্রতি লাখ মানুষে আত্মহত্যা করছে প্রায় ১৬জন অর্র্থৎ প্রতি সেকেণ্ডে প্রায় ১জন করে আত্মহত্যা করছে

কিন্তু কেন এত আত্মহত্যা প্রথমেই বলেছি আত্মহত্যার প্রথম ও প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও বেকার সমস্যা যা  এই পঁুজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অবধারিত অবদান কেবল ভারতের মত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনুন্নত দেশে নয়, অর্র্থেন্নত দেশ বলে যে আমেরিকা, কানাডা প্রভৃতি দেশ চিহ্ণিত--- ওখানে ও এই সমস্যার তীব্রতা রয়েছে পঁুজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে এই সমস্যার যে সমাধান নেই তা অত্যন্ত স্পষ্ট বলা বাহুল্য,মার্কসবাদও এ ব্যাপারে  তার ব্যর্থতা প্রমাণিত করেছে তাই প্রকৃতপক্ষে মার্কসবাদের অপমৃত্যু ঘটেছে অন্য পথের সন্ধান করা ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই কী সেই উপায় পরে বলছি

এখন আত্মহত্যার অন্যান্য কারণগুলোও একটু বিশ্লেষণ করা যাক এই আত্মহত্যার  কারণগুলি খতিয়ে  দেখলে বোঝা যাবে--- মোটামুটি  মানসিক অবসাদ, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কা, ভালবাসার পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে অবিশ্বাস, বিবাদ বা বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে, যৌন অপরাধ করা বা অপরাধের  শিকার হওয়া, সাংসারিক অশান্তি ইত্যাদি

এই সবকিছুর মধ্যেও একটা জিনিস খঁুটিয়ে ভাবলে বোঝা যাবে আদর্শহীন, দিশাহীন জীবনধারা মানুষের জীবনের যে একটা মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে এ সম্পর্কে দৃঢ় সচেতনতার অভাবই  এসবের মূল কারণ এখানেও সেই পঁুজিবাদ বা জড়বাদের ভোগবাদী প্রভাব

আত্মসুখতত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত পঁুজিবাদ---যেখানে স্থূল স্বার্থপূরণটাই জীবনের সারকথা, তাদের জীবনের ভিতটাই দুর্বল তাই সামান্য আঘাতে  তা ভেঙে পড়ে জড়বাদও তাই এই জড়বাদও  একই দোষে দুষ্ট ডগ্মাকেন্দ্রিক এই জড়বাদও একই দোষে দুষ্ট ডগ্মাকেন্দ্রিক তথাকথিত ধর্মবিশ্বাসেও স্থূল স্বার্থপূর্ত্তিটাই জীবনের সারকথা, ইহলোকে বা পরলোকে ভোগবাদই জীবনের ধ্যেয়

ঘুরে ফিরে এরাও ভোগবাদ বা জড়বাদের গোলকধাঁধাতে পড়ে মনুষ্যত্বের মহিমাকে উপলদ্ধি করতে পারে না তার কারণেই আত্মহননের হাতছানি উপেক্ষা করতে পারে না

সমাধান কী

এই সমস্ত সমস্যারই সমাধান রয়েছে মহান্ দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকারের (শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী) পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শের মধ্যে--- যা মানুষের সমষ্টিজীবনের  সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সমস্যার আর তার সঙ্গে সবাইকার ব্যষ্টিগত জীবনের দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যার সমাধানের সুষ্ঠু পথ দেখাচ্ছে এখানে মানবজীবনের ভৌতিক, মানসিক ও আত্মিক কোনো সমস্যাকেই অবহেলা করা হয়নি সমাজের এইভাবে সর্বপ্রকার সমস্যার সমাধানের  এই যে অখণ্ড দৃষ্টিভঙ্গী এর আগে আর কোনো দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক, ধর্মগুরু বা সমাজের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে দেখা যায়নি এটাই ছিল সমস্ত সমস্যার মূলীভূত কারণ

এই পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শের ৩টি প্রধান দিক হল---

(১) যুগান্তকারী সামাজিক-অর্থনৈতিক দর্শন প্রাউটের বিকেন্দ্রিত অর্থনীতি

(২) প্রতিটি মানুষের দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক একই সঙ্গে এই ত্রিমুখী বিকাশের উপযোগী যুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত যোগসাধনা পদ্ধতি

(৩) নব্যমানবতাবাদী শিক্ষাব্যবস্থা

মানবসমাজের সার্বিক বিকাশের বিভিন্ন দিকের ওপরই মহান্ দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের (শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী) বিস্তারিত অবদান রয়েছে---যা নিশ্চিতরূপে আজকের দিনের সমস্ত প্রশ্ণের উত্তর, সমস্ত সমস্যার সমাধান ও সমস্ত হতাশার আশ্বাস এই পূর্ণাঙ্গ দর্শনকে তথা আদর্শকে জানবার জন্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানাই