সম্পাদকীয়

চাই নোতুন নীতি, নোতুন নেতা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শুধু মোদি সরকারের আমলেই বা বলি কেন স্বাধীনতার পর থেকে অর্থাৎ সেই গান্ধী নেহেরুর আমল থেকে বর্তমানে মোদির আমল পর্যন্ত এই ৭২ বছর ধরে দেশীয় শাসনে ভারতের ২৭ কোটি মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায় নি---এখন তারা ক্ষুধার শিকার৷ তারা প্রত্যহ রাতে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যায়--- ক্ষুধা নিয়ে জাগে৷

অথচ ভারতের ১০০ জন শীর্ষস্থানীয় বিত্তবানের  মোট সম্পদ ২০১১ সালে ছিল ১৩ লক্ষ ৪৯ হাজার  ৬০০ কোটি টাকা৷ ২০১২ সালে তা বৃদ্ধি হয়েছে ১৪ লক্ষ কোটি টাকা৷

বাঙলার প্রতি কোনও অবহেলা চলবে না

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ আদালত নির্দেশ জারী করেছে যে, এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টের রায়  ইংরেজী ও হিন্দী সহ তেলেগু, মারাঠি, কন্নড়, ওড়িয়া ও অসমিয়া ভাষাতেও মিলবে৷ এই মোট ৭টি ভাষাতে সুুপ্রিম কোর্টের এই রায় বিস্ময়জনক৷ দেশের শীর্ষ আদালত অন্ততঃ দেশের সমস্ত ভাষাভাষীদের  প্রতি নিরপেক্ষভাবে আচরণ করবে৷ এটাই আমরা আশা করব৷ সমস্ত নিরপেক্ষ বিচারশীল মানুষও এই আশা করে৷ কিন্তু অসমীয়া, ওড়িয়া  প্রভৃতি  আঞ্চলিক ভাষাতে সুপ্রিম কোর্টের  রায় দেওয়া হবে, অথচ ১৩ কোটি বাঙালীর মাতৃভাষা  বাংলাতে তা দেওয়া হবে না৷ অথচ, রাষ্ট্রসংঘেও যে ভাষায়  বত্তৃণতা দেওয়া যায়, যে ভাষাকে  রাষ্ট্রসংঘ পৃথিবীর মধুরতম  ভাষা হিসেবে  স্বীকৃতি  দিয়েছে,

দেশজুড়ে তীব্র জলসংকট ঃ সমাধান কোনপথে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সারাদেশ জুড়ে তীব্র জলসংকট দেখা দিয়েছে৷  ভারতের ‘নীতি আয়োগ’-এর রিপোর্ট বলছে, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ সহ ২১ টি শহরের ভূগর্ভস্থ জল আগামী বছরই প্রায় শেষ হতে চলেছে৷

নীতি আয়োগের রিপোর্ট, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে পানীয় জলের অভাবে৷  আর আগামী ২০৩০ সালে ভারতেব প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ তীব্র পানীয় জলের সংকটের  সম্মুখীন হবে৷

কাটমানি  প্রসঙ্গে

গত ১৮ই জুন দক্ষিণ কলকাতার  নজরুল মঞ্চে রাজ্যের সমস্ত পুরসভার  নির্বাচিত  দলীয়  প্রতিনিধিদের  নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অভিযোগ করেছেন, নানান্ জনহিতকর প্রকল্পে জনগণের  স্বার্থে সরকার  যে অর্থব্যয় করছেন, দলীয় নেতা  কর্মীরা  তার কাটমানি  অর্থাৎ কমিশন  নিচ্ছেন, এটা তাঁর অজানা নয়৷

বিশ্বমানবতার মহামিলন যজ্ঞের আর এক নাম--- যোগ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

২১শে জুনকে রাষ্ট্রসংঘ যোগদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে৷ শিক্ষক দিবস, নারীদিবস, মাতৃদিবস, শ্রমিক দিবস, পরিবেশ দিবস এইভাবে রাষ্ট্রসংঘ থেকে বিভিন্ন দিবস ঘোষণা  করা হয়---সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সর্ব সাধারণকে সচেতন করে তোলার জন্যে৷ তেমনি  ‘‘যোগের’’ মহত্ত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে যোগ দিবস ঘোষণা করা হয়েছে৷  শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার জন্যে যোগের অসাধারণ গুরুত্বের কথা জাত-পাত সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই বর্তমানে স্বীকার করেন৷ যোগাসন  ও কিছু কিছু প্রাণায়মের দ্বারা বিভিন্ন রোগ নিরাময় যে সম্ভব তা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন৷ তাই রাষ্ট্র সংঘের উদ্যোগে দেশে এদিন যোগ সচে

হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন রুখতে হবে

কেন্দ্রে আবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে৷ এর জন্যে এরা যে বিপুল অর্থশক্তি ও রাষ্ট্রশক্তিকে কাজে লাগিয়েছে তা বলাই বাহুল্য৷ তার ওপর বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজন নীতি সাধারণ মানুষকে যে বিপথে পরিচালিত করেছে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই৷

মানব সমাজ এক ও অবিভাজ্য৷ সমাজের বা দেশের প্রকৃত উন্নতি ঘটাতে গেলে সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হয়৷ মানুষে মানুষে আপাত বিরোধ বা পার্থক্য ভুলে সমস্ত মানুষকে ঐক্যের সূত্রে আবদ্ধ করে চলতে হয়৷

মানবধর্ম

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সংবাদে প্রকাশ কলকাতার  বেথুন কলেজে ও মেদিনীপুর কলেজ স্নাতক  স্তরের ভর্তির  অনলাইন ফর্মে রিলিজিয়নের আসনে হিন্দু, মুসলিম, জৈন, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ এ সবের তালিকায়  এবারে প্রথমে  ‘মানবধর্ম’ দেওয়া আছে৷ অর্র্থৎ  এতদিন নিজের ধর্ম হিসেবে হিন্দু, মুসলীম, খ্রীষ্টান--- প্রভৃতি একটাকে বেছে নিতে হ’ত৷ এবার ছাত্র-ছাত্রারা ইচ্ছা করলে ‘মানবধর্ম’কে নিজের ধর্ম হিসেবে বেছে নিতে পারে৷ বেথুন কলেজ ও মেদিনীপুর কলেজের কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে আমরা ধন্যবাদ জানাই ও একে পূর্ণ সমর্থন  করি৷

শিক্ষাব্যবস্থায় উৎকর্ষের জন্যে যা প্রয়োজন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্যোপাধ্যায় গত ২৭শে মে ফেসবুক পেজে ‘ছাত্র শিক্ষক’ -এর যাঁরা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, কীভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় উৎকর্ষ আনা যায়, সে ব্যাপারে পরামর্শ চেয়েছেন৷

সাংসদ নির্বাচন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৭তম লোকসভা নির্বাচনী পর্ব অতি সম্প্রতি শেষ হ’ল৷ এই সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত কেবল বোট গণনা বাকী রয়েছে৷ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম তাদের সমীক্ষায় বিজেপির ক্ষমতায় ফিরে আসার সংকেত দিয়েছে৷ বিরোধীরা একে বিজেপির সূক্ষ্ম কৌশল বলে প্রচার করছে৷ তাদের দাবী, এইভাবে জনমনে বিজেপির জেতার সম্ভাবনার হাওয়া তুলে ই.বি.এম. মেশিনে কারচুপি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ যাইহোক, ২৩ তারিখেই বোটের রেজাল্ট জানা যাবে৷

শিলচরের বাংলা ভাষা শহীদদের স্মরণে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৬১ সালের ১৯শে মে শিলচরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবীতে বাঙালীদের আন্দোলন ও পুলিশের গুলিতে ১১ জনের শহীদ হওয়ার ঘটনাকে আজ ভারতের বাঙালীরা প্রায় ভুলেই গেছে বললে হয়৷ অসমের বরাক উপত্যকা চিরকালই বাঙলাভাষী এলাকা৷ কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের চক্রান্তে ও স্বাধীনতার পর হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের ফলে বাঙলাভাষী বিশাল এলাকা অসমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়৷ শুধু তাই নয়, বাঙালীদের মাতৃভাষা–শিক্ষা ও সরকারী কাজে তাঁদের মাতৃভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়৷ এর বিরুদ্ধেই ১৯৬১ সালে বাঙালীরা গর্জে উঠেছিলেন ও তাঁরা এর প্রতিবাদে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন৷ সেই আন্দোলনের জেরেই নিরস্ত্র আন্দোলন