সম্পাদকীয়

গণতন্ত্রের বেনামীতে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

আগামী ১১ই এপ্রিল থেকে ভারতের লোকসভার নির্বাচন শুরু হচ্ছে৷  সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নির্র্বচনে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়৷ সঙ্গে সঙ্গে দল বদলের খেলাও৷ বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি  দিলীপ  ঘোষ তো খোলাখুলি  সাংবাদিকদের কাছে বললেন, লোকসভায় জিতে  আসার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞ  প্রার্থী তাঁর  দলে নেই, তাই দল বদল করে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের  তিনি তাঁর  দলে আহ্বান  জানাচ্ছেন৷ সম্প্রতি ভাটপাড়ার  প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন সিং বিজেপিতে  যোগ দিলেন৷ আর বিজেপিও সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তাঁদের  দলের সংসদের প্রার্থী ঘোষণা  করে দিয়েছে৷ ইতোপূর্বে তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতা  যিনি নাকি  তৃণমূলকে নিজ হাতে গড়েছেন বলে দাবী করেন--- তিনি এখন বিজেপি’র এরা

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশন্যাল সাম্পেল সার্ভের রিপোর্ট থেকে জানা গেল গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশে গত ২০১৭-১৮ সালে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশী৷ আর তা হলো ৬.১ শতাংশ৷ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৫ থেকে ২৯ বৎসর বয়সীদের মধ্যে বেকার সমস্যা ভয়ঙ্কর৷ মোদিজীর ক্ষমতায় আসার আগে ২০১১ -১২ আর্থিক বছরে বেকারত্বের হার ছিল যুবক যুবতীদের মধ্যে যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ৪.৮ শতাংশ৷ আর ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে গ্রামীণ যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৭.৪ শতাংশ ও ১৩.৬ শতাংশ৷ আর শহরের যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকাত্বের হার হয়েছে ওই সময়ের মধ্যে যুবকদের ক্ষেত্রে ৮.১ শতাংশ (২০১১-১২) থেকে ১৮.৭ শতাংশ (২০১৭-১৮) আর যুবতীদের

আন্তর্জতিক নারী দিবসের প্রত্যাশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আজ  সঙ্গতভাবেই  নোতুন  করে  প্রশ্ণ  উঠছে,  একবিংশ  শতাব্দীতে  মানুষ কি ধীরে ধীরে  বিবর্তনের  উল্টো  পথে  চলে  পশু হয়ে  যাচ্ছে? বর্তমানে  পত্র–পত্রিকায়  যেভাবে  নারী–নিগ্রহ , নারী–পাচার,  নারীর  ওপর  পাশবিক  অত্যাচারের  খবর  বেরুচ্ছে ,  তাতে  প্রতিটি  শুভবুদ্ধিসম্পন্ন  মানুষেরই  মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে৷

ডগ্‌মা বনাম বিশ্বমানবতা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি কশ্মীরের পুলওয়ামায় মুসলীম জঙ্গীরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর  কনভয়ের ওপর হামলা চালিয়ে ৪৯ জন জওয়ানকে হত্যা করল৷ সংবাদে  প্রকাশ  গত ৫ বছরে জঙ্গীদের আক্রমণে একমাত্র কশ্মীরেই ৪৬০জন জওয়ান ও ২৮০জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে৷ শুধু কশ্মীরে নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে  বিভিন্ন  সময়ে এই মুসলীম জঙ্গীরা  হামলা চালিয়ে  সারা দেশ জুড়ে সন্ত্রাসের  আবহ সৃষ্টি করেছে৷ শুধু ভারতেই  বা বলি কেন সারা পৃথিবীতেই মুসলীম জঙ্গীরা  যত্রতত্র হামলা চালিয়ে  সারা পৃথিবী জুড়েই সন্ত্রাসের  আবহ সৃষ্টি করেছে৷ এই জঙ্গীগোষ্ঠীরা তরুণ যুবাদের  মগজ ধোলাই করে’ তাদের শেখাচ্ছে, অমুসলীমরা  সবাই কাফের৷ তাদের হত্যা করলে ‘আল্লা’ সন্তুষ্ট হবেন৷ যে

‘বাংলাকে ভালবাসি’

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আবার আসছে ২১শে ফেব্রুয়ারী৷ ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’! না, আমরা ভুলতে পারি না৷ ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস৷ মাতৃভাষা মাতৃদুগ্দের মতো৷ মাতৃভাষা আমাদের প্রাণের ভাষা৷ আমরা ভুলতে পারি না, ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে ডাকার (ঢাকা) রাজপথে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্যে ৫জন শহীদ হয়েছিলেন ও ১৭জন আহত হয়েছিলেন৷ এরপর ১৯৬১ সালের ১৯শে মে তেও অসমের শিলচরে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে ১১ জন শহীদ হয়েছিলেন৷

নীলকণ্ঠ দিবস

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১২ই ফেব্রুয়ারী ‘নীলকণ্ঠ’ দিবস৷ আনন্দমার্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন৷ আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭৩ সালের ঘটনা৷ পটনার বাঁকিপুর সেন্ড্রাল জেলে মিথ্যা অভিযোগে বন্দী মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূত্তিজীক্ হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধের নামে প্রাণঘাতী মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ কিন্তু মার্গগুরুদেব সেই বিষকে আত্মস্থ করে তাঁর প্রতিক্রিয়া নষ্ট করে দেন৷

মার্গগুরুদেব এই বিষ প্রয়োগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেন৷ সরকার তাঁর দাবীতে কর্ণপাত করেনি৷ এরপর ১লা এপ্রিল (১৯৭৩) তিনি এই দাবীতে অমরণ অনশন শুরু করেন৷ এই ঐতিহাসিক অনশন চলেছিল পাঁচ বছর চার মাস দুই দিন৷

পুঁজিবাদী আগ্রাসন ও নিপীড়িত-মানবতার মুক্তির পথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের আগে বিশ্ববিখ্যাত আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষা সংঘটন ‘অক্সফ্যাম’ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক  চেহারা নিয়ে একটি তথ্যনির্ভর সমীক্ষা প্রকাশ করেছে৷ ওই সমীক্ষায় ভারতসহ সারা বিশ্বের  ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে---তা এককথায় বিস্ময়জনক৷ বিস্ময়জনক হলেও ধ্রুবসত্য৷

প্রজাতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব চিত্র

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে৷ যদিও এই স্বাধীনতাকে সার্বিক স্বাধীনতা বলা যায় না৷ বলা চলে এদিন আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করেছি৷ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আমরা পাই নি৷ ব্রিটিশ শাসকের হাত থেকে শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে এলেও বহুজাতিক পুঁজিপতি গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নাগপাশ থেকে ভারতের জনগণ মুক্তি লাভ করে নি৷

নেতাজী জয়ন্তীর শপথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মহাকালের কালচক্রে দিন, মাস, বছর নিয়মিত আসে যায়৷ কিন্তু এরই মধ্যে বছরের এক একটা দিন এমনই স্মরণীয় হয়ে থাকে যে, আমরা এটিকে পবিত্র দিন হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হই৷ এমনি একটা পবিত্র দিন ২৩শে জানুয়ারী–নেতাজী জয়ন্তী৷ এই দিন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর পুন্য জন্মদিন, যিনি আজীবন দেশের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার জন্যে কঠোর তপস্যা করে গেছেন৷

ধর্ম বনাম ডগ্মা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আনন্দনগরে মহাসমারোহে আনন্দমার্গের  ধর্মমহাসম্মেলন হয়ে গেল৷ এই ধর্ম  মহাসম্মেলনের মাধ্যমে যে মূল কথাটা মানুষের  সামনে  তুলে ধরা হচ্ছে, তা হ’ল প্রকৃত ধর্মই  মানবজীবন তথা মানব সমাজের  ভিত্তিভূমি৷ আর এই ধর্ম তথাকথিত  সাম্প্রদায়িকভিত্তিক ধর্মমত বা রিলিজিয়ন নয়, এখানে  কোনো ডগ্মা তথা অযৌক্তিক অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের স্থান নেই৷  যেমন, বর্তমানে  ধর্মের নামে সারা দেশ জুড়ে  চলছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উত্তেজনা সৃষ্টির  প্রয়াস৷  হিন্দুত্ববাদীরা  ‘গো-রক্ষা’র  আন্দোলনের  নামে মানুষ হত্যা  করছে৷