সম্পাদকীয়

ধর্মমতের সংকীর্ণ গণ্ডী অতিক্রম করে মানবধর্মের আদর্শে উদ্ধুদ্ধ হোক মানুষ

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

বর্তমানে ধর্মের নামে নানান ধরণের গোঁড়ামী, জাত–পাতের ভেদ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও বিদ্বেষ চলছে৷ অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের জালে জড়িয়ে আঁতুড় ঘর থেকে শশ্মানঘাট পর্যন্ত শোষনের জাল বোনা হয়েছে৷ অপ্রয়োজনীয় সামাজিক আচরণের বোঝাকে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে বলা হচ্ছে৷ তা কিন্তু  মোটেই ঠিক নয়৷

সমাজের সামনে তিন বিপদ

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

আজ দেশের সামনে, শুধু দেশের সামনে কেন, পুরো সমাজের সামনে ৩টি বৃহত্তম বিপদ৷ একটি হ’ল পুঁজিবাদ, দুই হ’ল জড়বাদ, আর তিন হ’ল গোঁড়া সাম্প্রদায়িকতা বা যাকে বলা হয় মৌলবাদ৷

ভেতর থেকে পরিবর্তন চাই

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

সব রাজনৈতিক নেতারাই তারস্বরে গণতন্ত্রের সুনাম করেন৷ রাজতন্ত্র, অভিজাত–তন্ত্র, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব নয়– এমন বোধ করি একজনও নেতা বা নেত্রী পাওয়া যাবে না৷ তবুও এ প্রশ্ণটা অত্যন্ত সঙ্গত যে– গণতন্ত্রকে কেউ কি মানে?

গণতন্ত্র মানে তো জনগণ, কারও চাপে নয়, স্বাধীন ভাবে বিচার–বিবেচনা করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে৷ আর সেই জনপ্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করবে৷ তবে তাকে বলা হবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনগণের জন্যে–জনগণের সরকার৷ একেই বলে গণতন্ত্র৷

ভয়ঙ্কর সংক্রামক ব্যাধি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

একজন মহান দার্শনিক বলেছিলেন–‘‘কিছু সংখ্যক গুণ্ডা–বদমাস অপেক্ষা একটি ভ্রান্ত দর্শনের অনুগামীরা সমাজের অনেক বেশী ক্ষতি করে৷’’

দুর্নীতি, শ্লীলতাহানী,খুন, ধর্ষনের মত জঘন্য অপরাধের ঘটনা প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে৷ এক একটি ঘটনা ঘটে–রাজনৈতিক দল থেকে বুদ্ধিজীবী মহল গণমাধ্যম সমাজের সর্বস্তরে সরগোল শুরু হয়, কঠোর সাজার দাবী ওঠে, রাজপথে মোমবাতি জ্বলে তারপর সব স্তিমিত হয়ে যায়৷ আর একটা ঘটনার জন্যে অপেক্ষায় থাকে প্রতিবাদের রংমশাল জ্বালাতে৷ কিন্তু তাতে অন্ধকার দুর হয় না৷ বরং দুর্নীতি অপরাধ বেড়েই চলে৷

নিখাদ প্রতারণা

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

দেশের রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সদস্যরা নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজ নিজ দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে ইস্তাহার প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিতে দেখা যায়৷ কিন্তু স্বীকার করতেই হয় এই সকল প্রতিশ্রুতির ভেতর এমন অনেক সদিচ্ছা থাকে যা সাধারণ ভোটারদের প্রলুব্ধ করে থাকে৷ অথচ নির্বাচন বৈতরণী পার হয়ে গেলে বিজয়ী দলের সাংসদ ও বিধায়করা প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুলে যান৷ বিগত ৭৩ বছর ধরেই এমনটা হচ্ছে৷ মাঝে মাঝে সরকার বদল হয়৷ কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভুলে যাওয়াটাই নেতামন্ত্রীদের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

আত্মনির্ভরতার অসার বুলি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে এখন শুধু আত্মনির্ভর দেশ গড়ার আহ্বান৷ কিন্তু তিনি দেশকে আত্মনির্ভর করার উপায় নিয়ে একটি বাক্যও বলেননি৷ বরং অর্থমন্ত্রী ২০২১-২২ আর্থিক বছরের বাজেট সংসদে পেশ করে আত্মনির্ভরতার  বিপরীত পথে চলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ব্যাপকভাবে পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ এর অর্থ দেশের সমস্ত সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজন পুঁজিপতিদের হাতে কুক্ষিগত হয়ে যাবে৷

অমর দধীচি লহ প্রণাম

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

যাঁরা মানবতার জন্যে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁরা হলেন দধীচি৷ বাংলা ভাষায় যে শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা হয় এর উৎস সন্ধান করলে আমরা দেখবো, মধ্যযুগে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের লড়াইয়ে যে সমস্ত মুসলিম মৃত্যু বরণ করতেন তাঁদের আরবী ভাষায় বলা হতো শহীদ৷ আর এই যুদ্ধের পরে যাঁরা জয়ী হয়ে ফিরে আসতেন তাঁদের বলা হতো গাজী৷ তেমনি খ্রীষ্ট ধর্মের হয়ে লড়াইতে যাঁরা প্রাণ বিসর্জন করতেন তাঁদের বলা হতো মার্ট্যার (Martyr)৷ শহীদ ওMartyr শব্দ দুটির সঙ্গে তাই বিশেষ বিশেষ রিলিজিয়ন বা মতবাদের স্বার্থে লড়াইয়ের সম্পর্ক জড়িত৷ যদিও বর্তমানে এই দুটি শব্দ ব্যাপক অর্থে প্রযুক্ত হয়৷

কেন্দ্রীয় আয়-ব্যয় মাত্রিকার উদ্দেশ্য

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

আগামী ২০২১-২২-এর কেন্দ্রীয় আয - ব্যয়-মাত্রিকার (বাজেট) সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি চোখে পড়ল, তারমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখনীয় হ’ল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করলেন, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ব্যাপকভাবে পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত,সংস্থাগুলির মধ্যে ৪টি মাত্র ষ্ট্রাটেজিক (জাতীয় স্বার্থে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ,শিল্পের ক্ষেত্রে সরকার সামান্য অংশীদাদায়িত্ব রাখবে,বাকি সবগুলির বেসরকারীকরণ করা  হবে৷

কুসংস্কার, ধর্ম ও সমাজ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

সুস্থ বিচারবুদ্ধি তথা বিবেকের প্রেরণাতে মানুষ এগিয়ে চলে’ শ্রেষ্ঠ জীবের শিরোপা লাভ করেছে ও ক্রমশঃ সভ্যতার পথে এগিয়ে চলেছে৷

কিন্তু ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, ভাবজড়তা বা ডগ্‌মা মানুষের সেই সুস্থ বিচারবুদ্ধি-তথা বিবেবকে আচ্ছন্ন করে,ঢেকে দেয়,প্রকাশ হতে দেয় না৷ তখন মানুষ ধীরে ধীরে পশুত্বের পর্যায়ে নেমে যায়৷

প্রকৃত ধর্মের সহায়তায় কিন্তু মানুষ পশুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়, আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতাকে বিশ্বকেন্দ্রিক করে মানুষকে দেবত্বের মহিমায় ভাস্কর করে তোলে৷ তাই ধর্মের প্রধান শত্রু এই অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার তথা ও ভাবজড়তা৷

ভারতের সংবিধান ঃ নীতিও প্রয়োগের বিরোধ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট ভারত ব্রিটিশের  কবল থেকে মুক্ত হয়৷ এরপর ভারতের রাষ্ট্রনীতি কী হবে, কীভাবে আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্থা চলবে তা নির্ধারণের জন্যে ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে এক কমিটি তৈরী করা হয়, তার ওপর ভারতের সংবিধান  লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ সংবিধান হল সেই নির্দেশক পুস্তক যাতে রাষ্টের আচরণ বিধি, আইন ও আদর্শ লিপিবদ্ধ থাকবে৷ যথারীতি ওই কমিটি তাদের লিখিত সংবিধান তৈরী করে ও ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়৷