সম্পাদকীয়

বাইরাস আক্রান্ত গণতন্ত্র

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

বিশ্বজুড়ে করোনা বাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের তরুণ ব্রিগেডের নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ২২ জন বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি’তে  যোগ দিলেন৷ ফলে এই সম্পাদকীয়  লেখা পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তাতে দেড় বছরের মধ্যেই কমলনাথ সরকারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের পতনের সম্ভাবনা ও এখানে পুনরায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল৷

করোনা বাইরাস আতঙ্কের প্রেক্ষীতে মাইক্রোবাইটাম তত্ত্ব

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

করোনা বাইরাস (corona virus)  আজ সারা পৃথিবীর আতঙ্ক হয়ে উঠেছে৷ গত  ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান প্রদেশে এই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়৷  এখান থেকে  চীনের অন্যত্র ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এইরোগ ( চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কার্ভড-১৯) ছড়িয়ে পড়েছে৷ এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত  চীনে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত ৮০,৫৫২৷ দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত ২৮ জন, আক্রান্ত  ৬,২৮৪ জন, ইতালিতে  মৃত ১০৭ জন, আক্রান্ত ৩,৫৫৮, ইরানে মৃত ১৩৭জন, আক্রান্ত ১,৭৪৭, ফ্রান্সে মৃত ৭, আক্রান্ত ৪২৭৷ এমনিভাবে বহু দেশেই  এই রোগ অতি দ্রুত ছড়িয়ে  পড়েছে৷ ভারতেও এ পর্যন্ত ৬১ জনের আক্রান্তের সংব

এই কি রাজধর্ম

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

দিল্লী আগুনে জ্বলছে৷ সিএএ পন্থী ও সিএএ বিরোধীদের মধ্যে লড়াই চলছে৷ যেন পুরোপুরী যুদ্ধক্ষেত্র৷ এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত পুলিশের রিপোর্টেই বলা হচ্ছে, ৫০০ রাউণ্ড গুলি চলেছে৷ মূলত লড়াই চলেছে ওই দুই পক্ষের মধ্যেই৷ এ পর্যন্ত মৃত ৫০ জন, আহত ২৫০-এর বেশী৷ পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি বলে পুলিশেরই রিপোর্ট৷ গুলির সঙ্গে চলেছে অ্যাসিড ছোড়া, পুড়ছে ঘরবাড়ী, গাড়ী, সুকটার৷ এখন প্রায় সমস্ত উত্তরপূর্ব দিল্লী জ্বলছে৷ এ আগুনই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা৷ বিস্ময়ের বিষয় এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তির জন্য আবেদন করা, দুই পক্ষকে শান্ত করা---এসব করতে দেখা যায়নি৷

অমর দধীচি লহ প্রণাম

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

যাঁরা মানবতার জন্যে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁরা হলেন দধীচি৷ বাংলা ভাষায় যে শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা হয় এর উৎস সন্ধান করলে আমরা দেখবো, মধ্যযুগে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের লড়াইয়ে যে সমস্ত মুসলিম মৃত্যু বরণ করতেন তাঁদের আরবী ভাষায় বলা হতো শহীদ৷ আর এই যুদ্ধের পরে যাঁরা জয়ী হয়ে ফিরে আসতেন তাঁদের বলা হতো গাজী৷ তেমনি খ্রীষ্ট ধর্মের হয়ে লড়াইতে যাঁরা প্রাণ বিসর্জন করতেন তাঁদের বলা হতো মার্ট্যার Martyr)৷ শহীদ ওMartyr শব্দ দুটির সঙ্গে তাই বিশেষ বিশেষ রিলিজিয়ন বা মতবাদের স্বার্থে লড়াইয়ের সম্পর্ক জড়িত৷ যদিও বর্তমানে এই দুটি শব্দ ব্যাপক অর্থে প্রযুক্ত হয়৷

মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ ও সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী কাজে মাতৃভাষার দাবী

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী৷ মাতৃভাষার গৌরব প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বিশেষভাবে স্মরণীয় একটা দিন৷ ওই দিন ওপার বাঙলায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবিস্মরণীয় এক ভাষা আন্দোলনের দিন৷

নীলকণ্ঠ দিবসের তাৎপর্য

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

জগৎগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর একটি বাণীতে বলেছেন ---

‘‘ইতিহাসে দেখা গেছে যখনই মানুষ ধার্মিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা অন্য কোন ক্ষেত্রে স্পষ্ট কথা বলেছে, সন্দেহের নিরসন করেছে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে পাপ শক্তি ষড়যন্ত্র করেছে, বিষ প্রয়োগ করেছে, অপপ্রচার করেছে, ক্ষেপে মরিয়া হয়ে উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে৷ নিষ্ঠুর ভাবে আঘাতের পর আঘাত হেনেছে, কিন্তু সেই আঘাতই আবার প্রত্যাহত হয়ে তারই কাছে ফিরে গেছে৷ নিজের আঘাতের প্রত্যাঘাতেই পাপশক্তি বিনষ্ট হয়েছে৷ তোমরা জেনে রেখো, ইতিহাসের অমোঘ বিধানে পাপ শক্তিকে বিধবস্ত হতেই হবে৷’’

দিশাহীন কেন্দ্রীয় আয়-ব্যয় মাত্রিকা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ১লা ফেব্রুয়ারী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২০-২০২১ আর্থিক বৎসরের জন্যে আয়-ব্যয় মাত্রিকা (বাজেট) প্রকাশ করলেন৷ বর্তমানে দেশে যে অভূতপূর্ব আর্থিক মন্দা চলছে এই সমস্যার সুরাহার জন্যে কেন্দ্র কি পরিকল্পনা নিচ্ছেন তারই প্রকাশ ঘটেছে এই আয়-ব্যয় মাত্রিকায়৷

অশনি সংকেত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সংবাদে প্রকাশ, একমাত্র অসমে এন আর সি করতে সরকারের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা৷ কার টাকা? সরকারকে জনসধারণের দেওয়া ট্যাক্সের টাকা৷ কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সব রাজ্যেই এন.আর.সি. করা হবে৷ তারপর আবার নাগরিক সংশোধন (সি.এ.এ.) কার্যকর করা হবে৷ অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা এভাবে খরচ হবে৷ তাতে যাদের টাকা, সেই জনসাধারণের কি উপকার হবে? এতে কি গরীব মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা বা কর্মসংস্থান সমস্যার সুুরাহা হবে?

দেশের যথার্থ-অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোন্পথে?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আর ২ দিন পরে আগামী ২৬ শে জানুয়ারী ঘটা করে কেন্দ্রীয় সরকার  ভারতের প্রজাতন্ত্র  দিবস পালন করবেন৷  ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট ব্রিটিশরা  স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা  হস্তান্তরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী ভারতের নিজস্ব সংবিধান কার্যকর করা হয় ও ভারতকে  গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা  হয়৷ এই সংবিধানে প্রতিটি  মানুষের জীবনধারণের অধিকার, সমানাধিকার, স্বাধীনতার অধিকার প্রভৃতি মৌলিক অধিকার  স্বীকৃত  হয়৷

রেলের বেসরকারী করণ সর্বনেশে সিদ্ধান্ত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় যে ভারত সরকার তার হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ বা শিল্প সংস্থাগুলিকে একে একে পুঁজিপতিদের হাতে বিক্রয় করে দিচ্ছে৷ ভারতীয় রেল দেশের বৃহত্তম পরিবহন সংস্থা৷ এতদিন পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে ছিল৷ দেশের সর্বসাধারণের স্বার্থ এর সঙ্গে জড়িত৷ সর্বসাধারণের যাতায়াতের মুখ্য মাধ্যম রেল৷ দেশের প্রায় সমস্ত কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা এর ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল৷ কৃষি বীজ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক উৎপাদন যন্ত্রের পরিবহন, কৃষি উৎপাদিত দ্রব্যের লেনদেন সব কিছুর জন্যেই রেলের ওপর নির্ভর করতে হয়৷ ছোট বড় সমস্ত শিল্পের যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, পরিবহন, শিল্পের জ