সম্পাদকীয়

নেতাজী জয়ন্তীর শপথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মহাকালের কালচক্রে দিন, মাস, বছর নিয়মিত আসে যায়৷ কিন্তু এরই মধ্যে বছরের এক একটা দিন এমনই স্মরণীয় হয়ে থাকে যে, আমরা এটিকে পবিত্র দিন হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হই৷ এমনি একটা পবিত্র দিন ২৩শে জানুয়ারী–নেতাজী জয়ন্তী৷ এই দিন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর পুন্য জন্মদিন, যিনি আজীবন দেশের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার জন্যে কঠোর তপস্যা করে গেছেন৷

ধর্ম বনাম ডগ্মা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আনন্দনগরে মহাসমারোহে আনন্দমার্গের  ধর্মমহাসম্মেলন হয়ে গেল৷ এই ধর্ম  মহাসম্মেলনের মাধ্যমে যে মূল কথাটা মানুষের  সামনে  তুলে ধরা হচ্ছে, তা হ’ল প্রকৃত ধর্মই  মানবজীবন তথা মানব সমাজের  ভিত্তিভূমি৷ আর এই ধর্ম তথাকথিত  সাম্প্রদায়িকভিত্তিক ধর্মমত বা রিলিজিয়ন নয়, এখানে  কোনো ডগ্মা তথা অযৌক্তিক অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের স্থান নেই৷  যেমন, বর্তমানে  ধর্মের নামে সারা দেশ জুড়ে  চলছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উত্তেজনা সৃষ্টির  প্রয়াস৷  হিন্দুত্ববাদীরা  ‘গো-রক্ষা’র  আন্দোলনের  নামে মানুষ হত্যা  করছে৷

স্বাগত ২০১৯

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

২০১৯ এসে গেল৷ সামনে লোকসভা নির্বাচন৷ এই লোকসভা নির্বাচন নিয়ে  এখন  সারা দেশ ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় ফুটছে৷ বিশেষ করে রাজনৈতিক  ক্ষেত্রে৷ আর  বর্তমানে  রাজনীতি  যখন  সমাজের  আপাতত  নিয়ামক  হয়ে উঠেছে,  এই পরিপ্রেক্ষিতে  সবাই  তাকিয়ে আছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের  দিকে৷

এর ঠিক আগে ৫টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গেল৷ সেই  নির্বাচন  ছিল  বলা যায়, লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইন্যাল৷ সেই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপির গোহারান হার  বিজেপি ও তার পার্শ্বস্থিত বজরং দল,  আর.এস.এস প্রভৃতির দর্প চূর্ণ করে দিয়েছে৷ অন্যদিকে  কংগ্রেস সভাপতি রাহুল ও দেশের অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী আশায়  বুক বেঁধেছে৷

আন্তর্জাতিক  নববর্ষে নোতুন পথের দিশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কালের প্রবাহ  বয়ে চলেছে  অনাদি  কাল থেকে  অনন্তকাল৷ আর সেই  কালপ্রবাহের একটা খন্ড অংশে আমাদের  জীবন৷ এও বয়ে যায় কাল প্রবাহের ছন্দে৷ একটা  জাতি, দেশ বা সমগ্র  মানবজাতির  ইতিহাসও এই একই ভাবেই  বয়ে চলে কালের  প্রবাহের সঙ্গে৷ এই ইতিহাসকেও  গড়ে  তুলি  আমরাই--- সামূহিকভাবে৷

কালপ্রবাহ  অখন্ড হলেও  চলার পথে আমরা এই কালপ্রবাহকে খণ্ড খণ্ড করে বৎসর,মাস, দিন ইত্যাদিতে বিভক্ত করেছি৷ কারণ সব গতিই উহ-আবোহাত্মক, অগতি-অগতির বা সংকোচ বিকাশাত্মক  তরঙ্গায়িত  পথ বেয়ে  এগিয়ে চলে৷  তাই দিনের চলার পর  রাতের বিশ্রাম, আবার নোতুন উদ্যম নিয়ে পথ চলা৷

মদ্যপান নিষিদ্ধ হোক

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ১৭ই সেপ্ঢেম্বর কলকাতায় দিন দুপুরে রামলীলা ময়দান থেকে এক অভিনব মিছিল বেরোয়৷ মিছিলের সামনে ছিল ঝাঁটা হাতে কয়েকশ’ মহিলা৷ মিছিলটি নবান্ন পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল৷ কিন্তু এস.এন.ব্যানার্জী রোড ধরে এগিয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দেয়৷ এরপর মিছিলকারীরা এখানে প্রায় আধঘন্টা করে ধর্র্ণয় বসে৷ ‘ওয়েল ফেয়ার  পার্টি অব ইণ্ডিয়া’-র উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে বিভিন্ন স্থানের, বিশেষ করে, ভুক্তভোগী মহিলারা যোগ দিয়েছিলেন৷ তাঁদের দাবী, বিহার ও কেরলের মত পশ্চিমবাংলাতেও মদকে নিষিদ্ধ করতে হবে৷

কর্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোন পথে?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ৩০শে নবেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে পার্র্লমেন্ট ষ্ট্রীট পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ কর্ষক বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হয়ে ঋণমুকুব, ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রভৃতির দাবী জানায়৷ অল ইণ্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়৷ উত্তর প্রদেশ , মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু , কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য থেকে কর্ষকরা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ বস্তুতঃ সারা বিশ্বেই কর্ষকরা বিপন্ন৷ ভারতীয় কর্ষকদের অবস্থা আরও খারাপ৷ ক্ষুদ্র-চাষীদের অবস্থা সর্র্বধিক মর্মান্তিক৷ খরা, বন্যা, ঋণের প্রভৃতি বোঝা, ফসলের ওপর রোগাক্রমণ বিভিন্ন কারণে ফসল নষ্ট হয়৷ এই

দান খয়রাত নয়, ক্রয় ক্ষমতা দান

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মহান্ দার্শনিক পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের ‘প্রাউট’ দর্শনে বলা হয়েছে, সমাজের প্রতিটি মানুষের যা সর্বনিম্ন প্রয়োজন অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের গ্যারান্টী দেওয়া সবাইকার জন্যে করাই যে কোনো কল্যাণকামী সরকারের প্রাথমিক কর্তব্য৷ তার মানে  কিন্তু সরাসরি প্রত্যেকের গৃহে অন্ন পৌঁছিয়ে দেওয়া বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছিয়ে দেওয়া সরকারের কর্তব্য নয়৷ আর তা করাটাও সমাজের পক্ষে ভাল নয়৷ প্রাউটে বলাই হয়েছে, প্রতিটি মানুষের সর্বনিম্ন প্রয়োজন মেটাবার দায়িত্ব সমাজের বা সরকারের৷ কিন্তু সরকার যদি এই দায়িত্বের প্রেরণায় প্রেষিত হয়ে প্রত্যেকের গৃহে অন্নপ্রেরণের ব্যবস্থা করে’ প্রত

দুর্নীতিগড়

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

দেশের বড় বড় অপরাধ, বড় বড় দুর্নীতি-যা অত্যন্ত জটিল ও বিভিন্ন রাজ্যপুলিশ যার সুরাহা করতে অপারগ--- এমন সব অপরাধ ও দুর্নীতির তদন্ত করার জন্যে রয়েছে আমাদের দেশের সিবিআই৷ বর্তমানে সেই সিবিআই-এর শীর্ষ আধিকারিকরা একে অপরকে দুষছেন দুর্নীতিপরায়ণ ---ঘুষখোর বলে৷ সিবিআই-এর স্পেশাল ডাইরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে মোটা অংকের ঘুষ খাওয়ার অভিযোগে এফআইআরও করেছেন সিবি আই-এর ডাইরেক্টর আলোক ভার্মা৷ ‘রাকেশ আস্থানাও উল্টে অনুরূপ অভিযোগ এনেছেন আলোক ভার্মার বিরুদ্ধে৷

বাঙালী জাতির অস্তিত্বের লড়াই

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ১লা নভেম্বর অসমের তিনসুকিয়ায় বাঙালী বিদ্বেষী এক জঙ্গীগোষ্ঠী পাঁচ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালীকে চরম নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে৷ নিহতকরা গরীব খেটে খাওয়া বাঙালী৷ তারা কেবলমাত্র বাঙালী---এছাড়া এদের বিরুদ্ধে আর কোনরকম অভিযোগও ছিল না৷ এন আর সি, ডি ভোটার নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না৷ তবুও তাদের এমনই বর্বরভাবে হত্যা করা হ’ল!

শবরীমালা মন্দিরের রীতি তথা ডগ্মা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেরালার শবরীমালায় অবস্থিত আয়াপ্পার মন্দিরে ৯ থেকে ৫০ বছর বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না৷ সম্প্রতি এই সম্পর্কিত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সবার প্রবেশাধিকারের রায় ঘোষণা করেছেন৷ এ ব্যাপারে মহিলা-পুরুষের কোনো বিভেদ করা চলবে না বলে সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন৷ কিন্তু এরপরও মন্দির কর্তৃপক্ষ ও তাদের গোঁড়া একশ্রেণীর ভক্ত মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না৷ পুলিশও নিষ্ক্রিয়৷ বর্তমানে এটাকে কেন্দ্র করে জোর রাজনীতি চলছে৷ বি.জে.পি ও কংগ্রেস দুই পার্টিই মন্দির কর্তৃপক্ষ তথা গোঁড়া ভক্তদের সমর্থন করছে৷ তাঁরা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, এটা এখানকার পরম্পরা