সম্পাদকীয়

রেলের বেসরকারী করণ সর্বনেশে সিদ্ধান্ত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় যে ভারত সরকার তার হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ বা শিল্প সংস্থাগুলিকে একে একে পুঁজিপতিদের হাতে বিক্রয় করে দিচ্ছে৷ ভারতীয় রেল দেশের বৃহত্তম পরিবহন সংস্থা৷ এতদিন পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে ছিল৷ দেশের সর্বসাধারণের স্বার্থ এর সঙ্গে জড়িত৷ সর্বসাধারণের যাতায়াতের মুখ্য মাধ্যম রেল৷ দেশের প্রায় সমস্ত কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা এর ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল৷ কৃষি বীজ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক উৎপাদন যন্ত্রের পরিবহন, কৃষি উৎপাদিত দ্রব্যের লেনদেন সব কিছুর জন্যেই রেলের ওপর নির্ভর করতে হয়৷ ছোট বড় সমস্ত শিল্পের যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, পরিবহন, শিল্পের জ

শুভ নববর্ষ ২০২০

শুভ নববর্ষে আসুন আমরা সংকল্প গ্রহণ করি, নব্যমানবতাবাদের পথ ধরে জাত-পাত-সম্প্রদায় ভুলে সবাইকে সাথে নিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা এগিয়ে চলি৷

নববর্ষের প্রাক্কালে---আলো-অন্ধকারে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কালের প্রবাহে বহে গেল গেল আরও একটা বছর৷ দিন-রাত্রি, সুখ-দুঃখের মত এই বছরটাও কেটে গেল আলো-অন্ধকারে৷ কিন্তু বছর শেষে অন্ধকারের আশঙ্কাই যেন ঘনিয়ে আসছে৷ অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজনের নীতি আর একটা অন্ধকারময় বছরের ইঙ্গিত দিচ্ছে৷

আর ক’দিন পরেই বিদায় নেবে ২০১৯৷ নোতুন বছরের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে একবার ফিরে দেখা যাক এই বছরটা কি দিয়ে গেল৷

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভাজনের নীতির ভিত্তিতে এনআরসি-র পরে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাশ করায় সারা দেশ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে Citizenship Amendment Bill—CAB) বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, বাঙলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রীষ্টান ও পার্সী সম্প্রদায়ের এ যাবৎ বে-আইনী অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ কিন্তু মুসলমান সম্প্রদায়ের কেউ এভাবে এলে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না৷ এ বিলের প্রতিবাদে অসম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সব জেলায় ট্রেনে, বাসে, দোকান, বাড়ীতে অগ্ণিসংযোগ, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুড়ি দিয়ে পথ অবরোধ করা এমনকি রেল ষ্টেশনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে৷ অসমে তো প্রায়ই দিনই এই হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে সাত  জনের মৃত্যুও হয়েছে৷

একের পর এক বলাৎকার ও খুনের ঘটনা ঃ সমস্যা সমাধান কোন পথে?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে৷ ২৮ শে নভেম্বর হায়দ্রাবাদের ঘটনায় সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল৷ সর্বত্রই এই সব নরপশুদের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানানো হ’ল৷’’ সর্বত্র দোষীদের ফাঁসীর দাবী উঠল৷ কিন্তু না,এ ধরনের অপরাধ কাণ্ড ঘটেই চলেছে৷ উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে ধর্ষণকারী জামিনে মুক্তি পেয়েই অভিযোগ কারিনীর  গায়ে  প্রকাশ্য রাস্তায় কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল৷ সর্বাঙ্গে জ্বলছে আগুন৷ এই অবস্থায় ওই তরুণী প্রায় এককিলোমিটার পথ  সাহায্যের জন্যে  ছুটে গিয়ে একজনকে দেখতে পেয়ে  তার ফোনে  নিজেই থানায়  ফোন করে পুলিশকে জানায়৷ পুলিশ ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷  হা

এন.আর.সি ঃ বিজেপি’র কাছে অশনি সংকেত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে  বিজেপি’র বিপুল জয়, বিশেষ  করে পশ্চিম বাঙলায়  বিজেপি’র  দ্রুত বিপুল উত্থানের  পর সম্প্রতি  এ রাজ্যের  ৩টি  উপনির্বাচনেই বিজেপি’র চিৎপাত  হয়ে উল্টে পড়ার দশা দেখে অনেকেই  কিছুটা বিস্মিত  হয়েছেন৷

হঠাৎ কী এমন  হ’ল যে বিজেপি’র এভাবে ‘পপাত ধরণীতলে’ দশাপ্রাপ্তি? গত লোকসভা নির্বাচনে তূণমূল যেখানে আশা করেছিল ৪২-এর ৪২টা আসন, অন্ততঃ ২/৪টি বাদ দিয়ে  সমস্ত  আসন কিন্তু কার্যতঃ নির্বাচনের  ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল বিজেপি’র  আশাতীতভাবে দ্রুত উত্থান হয়েছে৷ এক লাফে ১৮ টি আসন লাভ৷ ২৩টি জেলার মধ্যে ১৩টিজেলায় বিজেপি  তৃণমূলের চেয়ে বেশি বোট পেয়েছে৷

আত্মহত্যা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সমম্প্রতি কলকাতার নেতাজী নগর থানার গান্ধী কলোনীতে দেবার্চন ঘোষ নামে এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া গেল৷ তার বিছানাতে পাওয়া গেল তার লেখা সুইসাইড নোট৷ তাতে লেখা ‘আই এ্যাম ফেলিওর৷, গুড বাই বাবা৷’ ওই ঘরে থাকত সে আর তার ছোট ভাই দেবদ্যুতি ঘোষ৷ দেবার্চন ঘোষ ভূগোলে-অনার্স পাশ করে একটা বেসরকারী অফিসে কাজ করছিল৷ ভাই পড়াশোনা করত৷ বাবা পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর৷ বাবা বাইরে থাকেন৷ ছোট ভাই পড়াশোনা করে ঘরে ফিরে দেখে ঘর ভিতর থেকে বন্ধ৷ অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরেও দেখল ঘর খুলছে না৷ তখন দরজা ভেঙ্গে দেখা গেল দেবার্চনের মৃতদেহ ঝুলছে৷ ঠিক কেন আত্মহত্যা করেছে পুলিশ এখনও জানতে পারেনি৷ কিন্তু বোঝা যাচ্ছে যে হতাশায় এই আত্মহত্

ঘুমন্ত বাঘ জেগে ওঠার অপেক্ষায়

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে তৈরী হওয়া ন্যাশনাল টেষ্ট এজেন্সী (এন.টি.এ)-র নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে এখন থেকে জয়েণ্ট এণ্টার্ন্স পরীক্ষায় প্রশ্ণোত্তরের মাধ্যম হবে হিন্দী, ইংরাজী ও গুজরাতি৷ এতদিন কেবল হিন্দী ও ইংরাজীতে জয়েণ্ট এন্টার্ন্স পরীক্ষা দিতে হ’ত৷ তাতে স্বাভাবিকভাবে বাংলাভাষী সহ অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের প্রবল আপত্তি ছিল৷ হিন্দী ভাষীরা তাদের মাতৃভাষায় (যদিও ভারতবর্ষের কোনও জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা হিন্দী নয়, তবে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে কিছু জনগোষ্ঠী তাদের মাতৃভাষাকে বিসর্জন দিয়ে হিন্দীকেই মাতৃভাষা করে নিয়েছে) পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেত৷ কিন্তু অন্যান্য ভাষাভাষীরা সে সুযোগ পেত না

সমস্যার গভীরে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

এরাজ্যের হাজার হাজার মানুষ অন্য রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্যে পাড়ি দিয়েছে৷ সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার কুলঙ্গায়ের পাঁচজন কশ্মীরে আপেল বাগানে কাজ করতে গিয়ে জঙ্গীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে৷ এ সংবাদ আমাদের মর্মাহত করেছে৷ এর আগেও মহারাষ্ট্রে, কর্ণাটকে, রাজস্থানে, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক নির্যাতিত হয়েছে, ওই সমস্ত রাজ্যের স্থানীয় মানুষের রোষের শিকার হতে হয়েছে৷ ফলে কোন কোন সময় আতঙ্কিত হয়ে বাঙালী শ্রমিকরা স্বরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে৷ কিন্তু যেহেতু স্বস্থানে কর্মসংস্থানের উপায় নেই, তাই বাধ্য হয়ে কাজের জন্যে ভিন্ রাজ্যে পাড়ি দেওয়া বন্ধ হয়নি৷ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে দেখেছি প্রায়ই গ্রামাঞ্চল থেকে বেকার যুবকরা অন্য রা

জিডিপি নয় জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিই উন্নয়ণের মাপকাঠি৷

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি একটি  বহুল প্রচলিত দৈনিকে প্রকাশিত একটি সংবাদে দেখা গেল, ২০১৮ সালের বিশ্বের উন্নয়ণ সূচকে ভারতের অবস্থান ১৩০ তম স্থানে৷ ১৮৯ টি দেশের উন্নয়ন সূচক তুলনামূলকভাবে আলোচনা করতে গিয়ে এই চিত্র বেরিয়ে এসেছে৷

অবাক হওয়ার কথা বটে! ভারতের  মন্ত্রী মহোদায়রা তো ভারতের উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ তুলে দেশ মাতিয়ে তুলছেন৷ দাবী করছেন, ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছে৷ সেখানে ভারতের এই চিত্র--- কী করে সম্ভব! আর একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালের ‘হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এর চিত্রে গোটা বিশ্বে সুখের  মাপকাঠিতে ভারতেরস্থান ১৪০ নম্বরে৷