স্বাস্থ্য বিজ্ঞান

বিরুদ্ধ ভোজন

যে দু’টি বস্তুর গুণে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে তাদের একের পরে অন্যটি খাওয়াকে বলা হয় বিরুদ্ধ ভোজন৷ যেমন–দুধের আগে বা পরে মাছ–মাংস–ডিম বিরুদ্ধভোজন৷ কিন্তু ঘৃতের আগে বা পরে মাংসভক্ষণ বিরুদ্ধভোজন নয়৷ ফলের পরে জল বিরুদ্ধভোজন জলের পরে ফল বিরুদ্ধভোজন হলেও ৰড় রকমের ক্ষতিকর বিরুদ্ধভোজন নয়–অল্প ক্ষতিকর অবশ্যই৷ ফলের পর অন্ন (ভাত–রুটি–নুচি) ভক্ষণের পর বা মিষ্টান্ন ভোজনের পর জলপান করলে আর তা বিরুদ্ধভোজন থাকবে না৷ দুধে–মাছে, ক্ষীরে–মাছে অথবা ক্ষীরে–মাংসে একসঙ্গে মেখে খেলে তা উগ্র ধরনের বিরুদ্ধভোজন৷ এতে কুষ্ঠ ব্যাধিও হতে পারে৷ পায়েসের পরে মদ উগ্র মাত্রায় বিরুদ্ধভোজন, কিন্তু গাঁজার পরে দুধ বিরুদ্ধভোজন নয়৷ মিষ্ট

ভেজানো (বা অঙ্কুরিত) ছোলার উপকারিতা

ছোলার খোলা না ছাড়িয়ে জলে ভিজিয়ে ফুলিয়ে নিলে তাকে বলা হয় ‘সিক্তচনকং’৷ ছোলা কিছুটা গুরুপাক হলেও গুড়–আদার সঙ্গে ভিজে–ছোলা মিশিয়ে খেলে তা কিছুটা সহজ পাচ্য হয়৷ ‘লবণেন সহ সিক্তচনকং’–অর্থাৎ নুন দিয়ে ভিজে ছোলা  কিডনী রোগের ঔষধ৷ যাঁরা কোন কর্মে উৎসাহ পান না, যাঁরা দীর্ঘসূত্রী বা অলস, তাঁরা গুড়, ছোলা–ভিজে ও আদা একসঙ্গে কিছুদিন খেলে কর্মোদ্যম ফিরে পাবেন৷ যথেষ্ট খাদ্যগুণ–সমৃদ্ধ হওয়ায়, যাঁরা নিরামিষ আহার করেন, তাঁদের যদি পেটে সহ্য হয়, তবে সকালে নিয়মিতভাবে ভিজানো বা অঙ্কুরিত ছোলা খাওয়া খুবই উপকারী৷ ভিজে ছোলা পেট পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে৷

 

পক্ষাঘাত(প্যারালিসিস)

মানুষের দেহরূপী যন্ত্রের আপাতঃ নিয়ন্তা তার মস্তিষ্ক৷ সংজ্ঞা ও আজ্ঞা নাড়ীর সাহায্যে মস্তিষ্কই বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে ভাব গ্রহণ ও সঞ্চালন করে’ থাকে৷ এই মস্তিষ্করূপী স্নায়ুকেন্দ্র আবার দক্ষিণ ও বাম ভেদে মোটামুটি দু’টি অংশে বিভক্ত৷ দক্ষিণ মস্তিষ্কস্থ স্নায়ুপুঞ্জ দেহের বাম অংশ বা বাম পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করে ও বাম মস্তিষ্ক স্নায়ুপুঞ্জ দেহের দক্ষিণ অংশ বা দক্ষিণ পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ রক্তের চাপে বা অন্য কোন কারণে মস্তিষ্কের কোন একটি অংশের স্নায়ুপুঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে’ পড়লে সেই অংশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত দেহাংশ বা পক্ষ নিষ্ক্রিয় হয়ে’ পড়ে৷ দেহাংশবিশেষের এই যে নিষ্ক্রিয়তা একেই বলা হয় পক্ষাঘাত বা পক্ষবধ র

সদ্যোজাত শিশুর যত্ন

সাধারণতঃ মাতৃগর্ভে আট মাসের কম থাকার পরে শিশু জন্মগ্রহণ করলে সে মৃত অবস্থাতেই জন্মগ্রহণ করে, অথবা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মারা পড়ে৷ মৃতবৎসা নারীরা তাই সাত মাসে বা তার চেয়ে কম বয়সে শিশু প্রসব করে’ থাকে৷ আট মাসে জন্মালে বেশীর ভাগ শিশু প্রাণে বেঁচে থাকে, তবে আট মাসে জন্মায় খুব কম শিশু৷ তার চেয়ে বরং ন’মাসে জন্মায় বেশী শিশু৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে শতকরা ৯৫ শতাংশ ভাগ জন্মায় দশ মাসে, ক্বচিৎ কখনো দু’–একটা জন্মায় একাদশ মাসের গোড়ার দিকে৷ প্রথম সন্তান কোন কোন ক্ষেত্রে ন’মাসের শেষের দিকে জন্মে থাকে৷ নয় মাসের শেষে যারা জন্মায় তারা মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় থাকে৷ তাদের স্বাস্থ্যহানি বড় একটা হয় না৷ তবে গোড়ার দিকে তাদে

জ্বর ও জণ্ডিসের উপকারী আনারস

বিশেষ প্রতিনিধি

আনারস বিশ্বের অন্যতম সেরা ফল৷ পৃথিবীতে প্রায় ৯৫টি প্রজাতির আনারস চাষ হয়৷ পশ্চিমবাঙলার উত্তর দিনাজপুর ও দার্জিলিং জেলার সংলগ্ণ এলাকাতে এর বহুল চাষ করতে দেখা যায়৷ অসম, ত্রিপুরাতে আনারস চাষ একটি অর্থকরি ফসল৷ আনারসের পুষ্টিগুণ অতুলনীয়৷ এতে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টির উপাদান রয়েছে৷ ১০০ গ্রাম আনারসে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, শ্বেতসার ৬.২ গ্রাম, ০.১ ভাগ সহজপাচ্য ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১২.০ গ্রাম শর্করা, ০.১১ গ্রাম ভিটামিন বি–১,০.০৪মি. গ্রাম ভিটামিন–২, ভিটামিন সি ২১ মি.গ্রা., ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রা.

বাঁশপাতাও তার ঔষধীয় গুণ

পরিচয় ও প্রজাতি ঃ তৃণ বর্গের সবচেয়ে বৃহৎ প্রজাতি হচ্ছে বাঁশ৷ জাওল বাঁশ, মুঠি বাঁশ, মূলী বাঁশ, তলতা বাঁশ, পলকা বাঁশ–এরা সবাই অতি দীর্ঘকায় তৃণ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ সেই সকল বৃহৎ তৃণকে বাঁশ বলি যাদের ফুল–বীজ হোক না হোক, পাশ থেকে কোঁড় বের হয়, ঝুড়ি তৈরী হয় ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেতরটা থাকে ফাঁপা৷ সাধারণতঃ যে সকল বাঁশ বেশী দীর্ঘকায় হয় তারা বেশী ফাঁপা৷ যে সকল বাঁশেরা ছোট (এই ধরনের বাঁশ থেকেই লাঠি তৈরী হয়) তারা আকারে অতি ৰৃহৎ হয় না–ওজনে হয় ভারী৷ গাছগুলিও লোহার মত শক্ত৷

শশা ও তার উপকারিতা

পরিচয় ও প্রজাতি ঃ তোমরা অনেকেই হয়ত জান যে শশা সৃষ্ট জগতের একটি প্রাচীন অবদান৷ মানুষের উদ্ভূতির অনেক আগেই শশা এসেছে এই জগতে৷ বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন আবহাওয়ায় এই ফলটিকে জন্মাতে দেখা যায়৷ সর্বত্রই এটি বেশ জনপ্রিয়৷ ইংরেজী ন্তুব্ভন্তুব্ভপ্পত্ব্ন্দ্ব্ শব্দটি আপাতদৃষ্টিতে এ্যাংলো–স্যাক্সন মূলের বলে মনে হলেও এটি একটি ৰ্রাইটন শব্দ৷ ইংরেজীর সহযোগী ভাষাগুলি কেউ কেউ এটি ব্যবহার করলেও এর উদ্ভূতি ব্রিটানিতে [Brittany-France]৷

পোস্তর গুণাগুণ

ওপিয়াম পপির বীজকোরক সাধারণ পপি থেকে বড় ও পুষ্ট৷ এর গা চিরে দিলে এর থেকে রস বা আঠা বেরোয়৷ তাই হল কাঁচা আফিং৷ এই ওপিয়াম পপির বীজকোরকে যে বীজ থাকে তার রঙ ফিকে ঘি–রঙের, তাকে আমরা পোস্ত বলে থাকি৷ কী অদ্ভুত ব্যাপার, পোস্তর বীজকোরকের আঠা বড় রকমের নেশা ও অধিক মাত্রায় সেবন করলে বড় রকমের বিষ, অথচ ভেতরকার বীজ পোস্তর দানা, যা একটি সত্ত্বগুণসম্পন্ন বস্তু, তা শরীরের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে৷

কৃশতা

কারণ ঃ শারীরিক কৃশতার কারণ নানাবিধ ঃ

১) দুর্বল বা অসুবস্থ পুং বা স্ত্রীবীজ থেকে যে সকল শিশুর দেহ সৃষ্টি হয়েছে, তারা স্বভাবতই শক্তিহীন ও কৃশকায় হয়ে থাকে৷

২) শিশু যদি যথেষ্ট পরিমাণে মাতৃস্তন্য না পায় সেক্ষেত্রেও সে সাধারণতঃ কৃশকায় হয়ে থাকে৷

৩) দারিদ্র্য নিবন্ধন যে সকল পিতা–মাতা সন্তান–সন্ততিদের জন্যে যথেষ্ট পরিমাণে দুগ্ধের ব্যবস্থা করতে পারেন না ও অল্প বয়স থেকে তদের জন্যে ভাত, ডাল বা সাবু–বার্লি দেওয়া হয়, তাদের যকৃৎ ও পরিপাক যন্ত্রগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা কৃশকায় হয়ে পড়ে৷