প্রভাতী

করোনা বাইরাস

লেখক
কবি রামদাস বিশ্বাস

শূন্য থেকে মাইক্রোবাইটা

            করোনা যে এল৷

এমন মারণ ব্যাধি আগে

            মানুষ কবে পেল!

পায়নি কেহ পায়নি কেহ

            এই যে পাপের শাস্তি৷

ভুলে গেছে ন্যায়-অন্যায়

            ভুলে অস্তি-নাস্তি৷

দুষ্টকর্মে অণুজীবৎ

            নেতিবাচক রূপে

মেরে মেরে দেয় যে ফেলে

            নরক নামক কূপে৷

দুই রকম অণুজীবৎ

            চরাচরে আছে৷

মন্দ কাজে মরে মানুষ

            ভালো কাজে বাঁচে৷

মানুষ হয়ে মানুষ যদি

            পশুর কর্ম করে,

মন্দ অণুজীবৎ পেয়ে

            পশুর মত মরে৷

প্রাউট সঙ্গীত

লেখক
সাক্ষীগোপাল দেব

বিশ্বভুবন ঘুরে এলাম

ভরল না মন ভাই

বাংলা মায়ের মত এমন

কোথা  ও দেখি নাই৷৷

 

কোথায় এমন ছয়টি ঋতু

সাতটি রঙে সাজে

সকাল সাঁঝে  পাখির কুজন

সুর হয়ে কাণে বাজে৷

রঙ ছড়িয়ে প্রজাপতি

হাওয়ায় উড়ে ইতিউতি

মৌমাছিরা মধুর লোভে

ফুলে ফুলে ধায়৷৷

 

নীল আকাশে অর্কপ্রভা

রাতে তারা চন্দ্রশোভা

জলভরা মেঘ কখনো বা

মলয় পবন বায়৷৷

 

কত নদী ঝর্ণাধারা

সাগর মাঝে হয় যে হারা

ভাটিয়ালী বাউল গানে

মন হারিয়ে যায়৷৷

 

কাঁসর ঘন্টা আজানের সুর

মিলেমিশে হয় যে মধুর

মানবতার মিলনভূমি

(হেথা) বিশ্বজনের ঠাঁয়৷৷

লুচি/নুচি দুই–ই ঠিক

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আমার গ্রামে পটোল ঘোষ নামে একজন ঔদরিক ছিলেন৷ নেমন্তন্ন বাড়িতে তাঁর নুচি (নুচি/লুচি দুই–ই শুদ্ধ) খাওয়ার সর্বনিম্ন মান ছিল ১০১৷

পঞ্চাশোর্দ্ধে তিনি দারুণ অম্ল রোগে ভুগতে লাগলেন৷ সঙ্গে সব সময় থাকত সোডি–বাইকার্বের টিন৷ কিন্তু তাঁর অর্জিত চ্যাম্পিয়ানশিপ বজায় রাখার জন্যে নেমন্তন্ন বাড়িতে ১০১–এর একটিও কম নুচি খেতেন না৷ বলতুম ১০১ আবার কেন, ১০০–তেই তো সোজা হিসেব থাকবে৷ উনি বলতেন–১০০টা খেলুম, আর একটি ভবিষ্যতের নিশ্চিততার জন্যে (নিশ্চয়তা’ ভুল) অর্থাৎ ওই একটির মাধ্যমে জানিয়ে দিলুম যে ভবিষ্যতে আরও এক হাজার খেতে পারি৷ এই ভবিষ্যতের জন্যে জানানোকে ‘জানান দেওয়া’ (Prior intimation) বলে৷

সেকালে নিয়ম ছিল ‘শ্রাদ্ধে চ ভুরিভোজনম্’ অর্থাৎ শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিতদের ভুরিভোজন করাতে হবে৷ ভাবারূঢ়ার্থে ‘ভুরি’ বলা হয় ‘প্রচুর’–কে আর যোগারূঢ়ার্থে তুমি যে পাতে খাচ্ছ তাতে যতগুলি নুচি, যতগুলি রসগোল্লা, যত সের ক্ষীর–রাবড়ি পড়ল তোমার পাশে রাখা আর একটি পাতেও হুবহু সেইসব জিনিস রাখা হবে৷ ভোজনান্তে বিদায় নেবার সময় সেই পাতাটি পুঁটলি ক্ষেঁধে বাসায় নিয়ে গেলে তাকে বলা হত ‘ছাঁদা’৷ আকণ্ঠ ভোজনের পর (অর্থাৎ এত ভোজন করা হয়েছে যে উদর–বক্ষ অতিক্রম করে  কণ্ঠে এসে পৌঁছেছে) সেই পরিমাণ ভোজ্য যখন ছাঁদা হিসেবে নিয়ে যাবে তখন ধরা হবে তোমার ভুরিভোজন সমাপ্ত হয়েছে৷

 সেকালের নেমন্তন্ন বাড়িতে নিয়ম ছিল, কেউ যদি মুখ নেড়ে বলত হুঁ–হুঁ–হুঁ–হুঁ–হুঁ.....কী করছেন........কী করছেন.......আর দেবেন না.......বরং সামনের ভদ্রলোকটিকে দশটি রসগোল্লা দিন, বুঝতে হবে যিনি ওই কথা বললেন তিনি নিজের জন্যেই দশটা রসগোল্লা চাইছেন ও ছাঁদার জন্যে দশটা রসগোল্লা চাইছেন৷ এই অবস্থায় তাঁকে না বললেও দেবে৷ কেউ যদি বলেন–হাঁ–হাঁ–হাঁ–হাঁ কী করছেন......কী করছেন.....সর্বনাশ করছেন.....বিশটা রসগোল্লা কি আমি খেতে পারি একে ডায়াবেটিস, তার ওপর ডিসপেপ্সিয়া, তার ওপর ক্রণিক ডিসেন্ড্রি, বিশটা রসগোল্লা খাবার সামর্থ্য আমার আছে কি আচ্ছা নেহাৎই যখন না দিয়ে ছাড়বেন না, আপাততঃ পঁচিশটা রসগোল্লা রেখে যান৷

সুতরাং ওইরকম হাঁ–হাঁ–হাঁ–হাঁ করলেও অবশ্যই তাকে দেবে৷ কেউ যদি নিজের পাতা বাঁচিয়ে দু’হাত নাড়তে নাড়তে বলে, করছেন কী করছেন কী আর দেবেন না৷ পনেরটা রসগোল্লা আমি কি খেতে পারি তবে যদি একান্তই না ছাড়বেন তবে এবারকার মত ত্রিশটা ঢেলে দিন৷ পরে আরও পারি তো ভবিষ্যতে দেখা যাবে৷ এইরকম পাত বাঁচিয়ে হাত নেড়ে যদি কেউ মানা করেন তাকেও অবশ্যই দেবে৷ কেউ যদি অসম্মতিসূচক মাথা নাড়তে নাড়তে বলেন–আর দেবেন না৷ এককালে খেতুম, আজকাল আর পারি না৷ সেকালে বিশটা ক্ষীরমোহন এক গ্রাসেই গিলেছি, আজ কী আর পারি আজকাল পঁচিশটা খেয়েই কাহিল হয়ে যাই ৷ আপনি দশটা দিতে চান......অত পারব না৷ তবে পরীক্ষামূলক ভাবে পঁচিশটা দিয়ে দেখতে পারেন৷ এই অবস্থাতে তাকে পঁচিশটা অবশ্যই দেবে৷ কেবল যদি কেউ বাঘের মত লাফিয়ে উঠে তোমার দু’হাতে চেপে ধরে বলে–আর দেবেন না, আর আমি পারব না, কেবল তাকেই দেবে না৷ সুতরাং পরিবেশনকারীরা এই শ্লোকটি মনে রাখবেন–

‘‘হুঁ হুঁ দেয়ং হাঁ হাঁ দেয়ম৷

দেয়ঞ্চ করকম্পনে

শিরসি চালনে দেয়ং

ন দেয়ং ব্যাঘ্রঝম্পনে৷৷’’

যাই হোক, ঔদরিকতার একটি চিত্র দেখতে পেলে তো৷ ‘ঔদরিক’–এর বাংলা ‘পেটুক’ (বাংলা ‘উক’ প্রত্যয়) ও উত্তর ভারতে ‘পেটু’৷

 

মুন্নীলালের কোষশুদ্ধি

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রাচীনকালে কোনো লোক যদি অগ্ণিপরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে বেরিয়ে আসত অর্থাৎ সে যুগের সেই নিষ্ঠুর পরীক্ষাতেও দৈবলীলায় উত্তীর্ণ হয়ে আসত সেক্ষেত্রে এই উত্তীর্ণ হওয়াটাকে বলা হত ‘কোষশুদ্ধি’৷

কোনো জিনিস অযোগ্য লোকের হাতে পড়ে যদি অপব্যবহহৃত হয়, তারপর সেটিকে যদি পবিত্র করা অর্থে পুড়িয়ে নেওয়া হয় তখন সেই বস্তুকেও ‘কোষশুদ্ধি’ বলা হয়৷

তখন চলছে ইংরেজ যুগের রমরমা৷ লেখক ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কাজের তথ্য সংগ্রাহক৷ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ বেধে গেছে৷ প্রতি মুহূর্তে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রিক জীবনে পটপরিবর্ত্তন ঘটে চলেছে৷ লেখককে ক্রমশঃ নিতে হচ্ছে অধিকাধিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভার বা অতিভার৷ সে সময়ে লেখকের যিনি চাপরাসি ছিলেন তাঁর নাম ধরো মুন্নীলাল মিশির৷ মুন্নীলালের বাড়ী ছিল এলাহাবাদে৷ কিন্তু আমাদের এখানে দীর্ঘকাল থেকে সে মুঙ্গের জেলার স্থানীয় ভাষা অঙ্গিকা বেশ রপ্ত করে নিয়েছিল৷ মুন্নীলালের ছিল অজস্র গুণ, কিন্তু দোষ ছিল দু’টি৷ মুন্নী কারণবারির খুক্ষ ভক্ত ছিল৷ অমাবস্যায় শনিবারে ও মঙ্গলবারে কালীপুজো দিয়ে কারণবারি পান না করে সে অন্ন গ্রহণ করত না৷ তার মাইনের দিনে লেখক বিশেষ ব্যবস্থার দ্বারা তাঁর স্ত্রীকে পে–ফিসের (বেতন অফিস) সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিতেন যাতে মুন্নী তাঁর পকেট–ভর্ত্তি টাকা নিয়ে বাড়ীতে যাবার পূর্বে শুঁড়িখানায় ঢুঁ মারবার সুযোগ না পায়৷ মুন্নীর স্ত্রী তাঁর অফিসের থেকে সব টাকা নিয়ে চলে যেত৷ কিন্তু মুন্নী তখন পেছনে দৌড়তে দৌড়তে বলত ঃ–

‘‘হে–গে সুমতিয়ার মায় তনিক্ কিরপা তো কর্ আই য়ে ভর কিরপা চাহয়ছী’য়ে৷’’ (ওগো সুমতির মা, একটু কৃপা তো করে যাও৷ আজকের জন্যে তোমার কাছ থেকে একটু কৃপা চাই) অর্থাৎ মুন্নী তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে কয়েকটা টাকা চাইত খাবার জন্যে৷ কিন্তু মুন্নীর স্ত্রী সুমতির মা সেই যে ছোঁ মেরে মুন্নীর পকেট থেকে টাকা নিয়ে নিজের কোঁচড়ে বাঁধত তারপর একটি পয়সাও সে উপুড়হস্ত করত না৷ কিন্তু সুমতির মা সব সময় তো টাকা পাহারা দিয়ে রাখতে পারে না৷ তাই মুন্নী যেভাবেই হোক টাকা জোগাড় করে নিয়ে মদের দোকানে ঢুকে যেত ও কারণবারিতে গলা ভিজিয়ে ধর্ম রক্ষা করত৷

মুন্নীর দ্বিতীয় গুণ বা অবগুণ ছিল সে জাতপাত একটু বেশী করেই মানত......ছোঁয়া–ন্যাপার বিচার ছিল প্রচণ্ড রকমের৷ লেখক একদিন বলেই ফেললে–‘‘হ্যাঁরে তোর যখন ছোঁয়া–ন্যাপার এত বিচার কিন্তু তুই যে কারণবারি পান করিস ওটা কী কেবল কুলীন বামুণে ছোঁয়, না, ওটা ৭০০ জাতে ছোঁয় আবার কোনো কোনোটা তো বিদেশ থেকেও আসে, ম্লেচ্ছরাও তো ছোঁয়৷ তবে ও খেয়ে তোর জাত বাঁচছে কি? এ তো যেন জাত যায় কিন্তু পেট ভরে না’র মত ব্যাপার৷’’

ও বললে–‘‘সাহাব, আমি তো আর সোজাসুজি মদ খাই না৷ আমি তো ওগুলোকে মায়ের মন্দিরে নৈবেদ্য রূপে চড়িয়ে দিই৷ তারপর প্রসাদ হিসেবে ওটাকে কারণবারি রূপে পান করি–মদ রূপে নয়৷ প্রসাদে তো সাহাব দোষ নেই৷’’

আমি বললুম–সে কেমন

ও বললে–এই যেমন ধরুন না কত্তা, এই মায়ের মন্দিরে মণ্ডা আতপচাল নৈবেদ্য দিই৷ ওই মণ্ডা যে দুধে তৈরী হয়ে থাকে সেই দুধ যে তৈরী করে থাকে, সেই দুধটা যে এনেছিল তারাও তো আমার মত নৈকষ্য কুলীন নয় যেহেতু নৈবেদ্য চড়ানো হয়েছে তাই সেটা প্রসাদ হয়ে গেছে, সেই মণ্ডায় দোষ নেই৷

তারপর আমি বললুম–‘‘তোর যুক্তি গ্রহণযোগ্য৷’’

সে বললে–‘‘এই যে আতপ চাল, ওটা যার জমিতে হয়েছিল, যে কেটেছিল, যে কুটেছিল তারা কি আমার মত বনেদী বামুণ? নিশ্চয়ই তা নয়৷ ওই চালের মধ্যেই কি অল্পমাত্রায় জলও নিহিত ছিল না যেহেতু ওই আতপ চাল হয়ে গেল প্রসাদী তাই ওতে কোনো দোষ নেই৷ তাই দেশী হোক, বিদেশী হোক, মদ যখন পূজান্তে কারণবারিতে রূপান্তরিত হয় তখন তাতে দোষ থাকে না৷’’

একদিন মুন্নীলাল আমার এ্যালুমিনিয়ামের গেলাসটা নিয়ে গেছল অন্য কোনো অফিসারের টেবিলে৷ সে টেবিলের জনৈক মিলিটারী অফিসার তাঁকে তাঁর গেলাসটা দিয়ে এক গেলাস জল আনতে বললেন৷ সেদিন মাস পয়লা৷ সেদিন মুন্নীর মন থেকে অন্য সব চিন্তা অপসৃত হয়েছিল৷ তাঁর মাথায় কারণবারির কথাই ঘুরছিল৷ তাই সে ভুল করে আমার গেলাসে জল ভরে নিয়ে সেই সামরিক অফিসারটির টেবিলে রেখে দিলে আর তাঁর গেলাসটিতে জল ভরে রেখে দিলে আমার টেবিলে৷

আমি বললুম–‘‘মুন্নী, এ গেলাসটা তো আমার নয়৷ দেখিসনি, আমার গেলাসে স্বস্তিক চিহ্ণ আঁকা আছে৷’’

মুন্নী বললে–‘‘ভুল হোয় গেলয়’’ (ভুল হয়ে গেছে)৷

আমি বললুম–‘‘অখ্নি কী হোতেয়’’ (এখন কী হবে)?

মুন্নী সঙ্গে সঙ্গে বললে–‘‘কোষশুদ্ধি হোতেয়৷ শাস্ত্র মঁ একর বিধানোঁ ছে’’ (কোষশুদ্ধি হবে৷ শাস্ত্রে এর বিধানও আছে)৷

মুন্নী চলে গেল সেই ভদ্রলোকের গেলাসটা নিয়ে৷ কিছুক্ষণ পরে সে আমার গেলাসটা নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল৷

ও বললে–‘‘কোষশুদ্ধি করীকে নানয়ছীয়ে’’ (কোষশুদ্ধি করে আনছি)৷

মুন্নী উধাও৷ খানিক বাদে যখন এল তখন তার দু’চোখে জল৷

আমি জিজ্ঞাসা করলুম–কী হোলয়......কী হোলছে (কী হল, কী হয়েছে)?

মুন্নী বলছে–জ্বরী গেলয়....জ্বরী চুকলছে (জ্বলে গেছে......গলে  শেষ হয়ে গেছে)৷

আমি ঠিক বুঝতে পারলুম না ও কী বলতে চায়৷ ও তখন পকেট থেকে এ্যালুমিনিয়ামের একটা ডেলা বের করে দেখালে৷

আসলে মুন্নী গেলাসটি রেখেছিল কোষশুদ্ধি করবার জন্যে ফার্ণেসের ওপরে৷ এ্যালুমিনিয়ামের গেলাস তো৷ অত উত্তাপ সহ্য করবে কেন সে গলে একটা এ্যালুমিনিয়ামের ডেলায় পরিণত হয়ে গেছে৷

আমি বললুম–শাস্ত্র মঁ  একরে কোষশুদ্ধি  কহয়ছে কী (শাস্ত্রে  কি একেই  কোষশুদ্ধি

ক্ষলে)?

যাই হোক্, তোমরা ‘কোষশুদ্ধি’ কাকে বলে বুঝে গেলে তো

জানার বিষয়

 

১) করোনা বাইরাস  কত সালে আবিসৃকত হয়?

                                             --- ১৯৬০ এর দশকে৷

২) চীনের  কোন শহরে করোনা বাইরাসের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যায়?                --- উহান শহরে

৩) করোনা বাইরাসের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যেটি উহান শহরে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম কী?

                                             ---নোভেল  করোনা বাইরাস৷

৪)  চীনের সাথে সাথে মো১ট কতগুলি দেশ এই বাইরাসে আক্রান্ত?

                                             ---এখনও পর্যন্ত ১০৩টিরও বেশি

৫) পৃথিবীর বিভিন্নদেশ মিলিয়ে প্রায় কত মানুষ এই বাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন?

                                             ---প্রায় ১ লক্ষ সাড়ে ৭ হাজার মানুষ

৬) বিভিন্নদেশ মিলিয়ে মোট কতজন মানুষ এই বাইরাসের আক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে৷

                                             ---  ৬০,৬৩৭ জনেরও বেশি৷

৭) করোনা বাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ কটি?

                                             ---৬টি৷

৮) করোনা বাইরাসের প্রথম লক্ষণটি কী?  ---জ্বর৷

৯) করোনা বাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর কারণ কী?

                                             --- শ্বাস কষ্টের গুরুতর সংক্রমণ৷

১০) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কী নামকরণ করেন?           ---এন.সি.ও.ভি৷

নোতুন পৃথিবী

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

‘‘নোতুন পৃথিবী’’র দৃপ্ত আহ্বান ধায় দিকে দিকে

   শোষণের প্রতিবাদে বাঁধো জোট প্রাউটের ডাকে৷

যুগ যুগ ধরে চলেছে অন্যায়, অবিচার, বঞ্চনা

দুর্বিনীতের অত্যাচার, লুন্ঠন, শোষকের লাঞ্ছনা৷

জড়বাদ-পুঁজিবাদের দুষ্টচক্রে শোষিতের আর্তনাদ

কোটি কোটি অসহায় মানুষের চরম সর্বনাশ

ভ্রষ্ট রাজনীতির ক্রর ছলনা, সাম্রাজ্যবাদীর হুঙ্কার

মানবসমাজ করেছে ছারখার, দেশে দেশে মৃত্যুর পাহাড়৷

নব্যমানবতার আদর্শে এসো, সবে শপথ নিই আজ

গড়বই নোতুন পৃথিবী, শোষণমুক্ত মানব সমাজ৷

নারী

সংবাদদাতা
জয়তী দেবনাথ
সময়

নারী তুমি বিজয়িনী

               তুমি মহীয়সী,

তোমার উত্তাপে দগ্দ রবি

               তুমিই স্নিগ্দ শশী৷

তুমিই যে ভাঙ্গো নাকো

               কোন প্রতিঘাতে,

তাই ধরণীর তরণীর হাল

               ধরলে তুমি হাতে৷

তোমার সুরভী মাখানো

               সুমনের দলে,

এই ধরণী পরিপূর্ণ

               তোমার ফুলে ফলে৷

তুমিই আবার দীপের শিখা

               আঁধারেতে আলো,

নিমেষেই দূর কর

               যত আঁধার কালো৷

এই ধরাতে বয়ে আনো

               তুমি শ্যামলিমা,

গীতি সাহিত্যে ছড়িয়ে আছে

               তোমার মধুরিমা৷

তোমার মহিমা বর্ণনাকারী

               শব্দ বিশ্বে নাই

তুমিই মহান তুমিই শ্রেষ্ঠ

               বলি ওগো তাই৷

পঞ্চ দধীচি স্মরণে

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

সেদিনও জেগেছিল শাল-পিয়ালের কোলে এমনই ফাগুন

বনবিতানে মধুর কুহুতানে মুখর কোকিল

পলাশের ডালে হাওয়ায় দোলা পুষ্পিত আগুন

প্রকৃতির বুকে বসন্তের আনন্দ অনাবিল৷

কুলু কুলু রবে রঙের উৎসবে উচ্ছল উত্তরা-দক্ষিণা

ফুলের গন্ধে নৃত্য ছন্দে চঞ্চলা হরিণী

আঁকাবাঁকা পথে ছুটিয়া চলিতে নাই যে তার মানা

দূরে ওই শান্ত বেলামু, ধ্যানমগ্ণ গম্ভীর, মৌনী৷

পরমপিতার নির্দেশ মানি সত্যনিষ্ঠ ভক্ত দলে দলে

ঊষর টিলার পাথর ভাঙে, ফণীর সাথে বাঁধে ঘর

ঝড়-জল-রোদে অবিরাম মহানন্দে কর্মযজ্ঞ পাহাড়ে-জঙ্গলে

গড়িতে মহাসম্ভূতি-পদচিহ্ণ আঁকা পবিত্র আনন্দনগর৷

অতর্কিতে হানে আক্রমণ হিংস্র নর-শয়তান হাজারে হাজারে

সত্য ধর্ম মানবতার শত্রু কুচক্রী ইঙ্গিতে---

প্রতিরোধে আগুয়ান ত্যাগব্রতীগণ অকুতোভয় ধর্ম-সমরে

পঞ্চ দধীচি বিসর্জিল অমূল্য জীবন দুর্বৃত্তের অস্ত্রাঘাতে৷

আত্ম বলিদানে সমুজ্জ্বল ৫ই মার্চ, পুণ্য দধীচি দিবস

যন্ত্রণা-তপ্ত অশ্রু মুছি, একসাথে নিই শপথ---

ত্যাগ সেবা মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ কর্মব্রত নিরলস

পঞ্চদধীচির আদর্শ শিখায় প্রদীপ্ত মানুষ যত

ঢালি জীবন যৌবন বিশ্বপিতার চরণ কমলে

নাশি সকল দুঃশাসন, দুষ্টচক্র, পাপের গড়

বিশ্ববিধাতার অনন্ত অমেয় আশীর্বাদ বলে

গড়বই পৃথিবীর আলোকবর্তিকা মহান আনন্দনগর৷

হাঁসের ছানা

লেখক
শ্রীপ্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

হাঁসের ছানা  হাঁসের ছানা

ঘাঁটিস কেন জংলা পানা

সর্দি হবে কাশি হবে

বাপে-মায়ে মন্দ কবে৷

হাঁসের ছানা  হাঁসের ছানা

শক্ত সবল হয়নি ডানা---

প্যাঁকপেকিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে

বেড়াস যে খুব ঢঙ দেখিয়ে!

 

হাঁসের ছানা  হাঁসের ছানা

শামুক খা-না, গুগ্লি খা-না

সারা দুপুর ঝুপ-ঝুপ-ঝুপ

পাঁকের জলে দিস কেন ডুব?

তোমার চরণে রাখো হে

লেখক
রতন কুমার দে

চঞ্চল মন শোনে না বারণ

প্রভু, চঞ্চলতা করো নিবারণ

রাখো হে তোমার চরণে৷৷

তুমি জাগাইয়া না রাখিলে প্রাণে

কেমনে রহিব তোমারই ধ্যানে–

কেমনে গাহিব তোমার গান?

চঞ্চল মন করো নিবারণ

তোমায় ডাকিতে দাও হে৷৷

প্রেম ভক্তি ধ্যানে তোমার

জুড়াক আমার প্রাণ

করো নির্ভয়

ঘুচাও ব্যাধি আর মৃত্যুর ভয়

প্রভু, তোমার চরণে রাখো হে৷৷