প্রভাতী

রামফল সিংয়ের কোষ্ঠী গণনা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যদিও জন্মকালের রাশি–লগ্ণের অবস্থিতি অনুযায়ী ব্যষ্টি ও রাষ্ট্রের ভাগ্য গণনা করাই প্রাচীনকালের প্রথা কিন্তু পরবর্ত্তীকালে করকোষ্ঠী বা ত্ন্ত্রপ্তপ্পন্ব্দব্ধব্জ্ এই বিদ্যাটি ভারতের পুরাতন বিদ্যা নয়৷ শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণেরা বিদেশ থেকে এটি ভারতে এনেছিলেন৷ সমুদ্রের ওপার থেকে এদেশে এসেছিল, তাই এর নাম সামুদ্রিক বিদ্যা) শাস্ত্রের উদ্ভাবন ও প্রচলন হয়৷ নাম অনুযায়ী ও ব্যষ্টির সংস্কার সম্পর্কিত সংখ্যা অনুযায়ীও আরও পরবর্ত্তীকালে ভাগ্য গণনার কাজ শুরু হয়৷ স্ফটিক দর্শন ন্তুব্জম্ভব্দব্ধ্ত্রপ্ত, নখদর্শন ন্প্ত–ন্ধ্ত্রম্ভ্রনুন্ধগ্ প্রভৃতি  বিদ্যাগুলির প্রচলন হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে৷ গণনা বিদ্যায় বা গণকের আওতার মধ্যে এরা সবাই আসে৷ বলা বাহুল্য মাত্র, জ্যোতিষের এই বিভিন্ন ধারার গণনা নিরঙ্কুশ বা ত্রুটিমুক্ত নয়৷ অবশ্য কেউ কেউ বলতে পারেন যে, যে সকল তথ্যের ভিত্তিতে গণনা করা হয়ে থাকে, সেই তথ্যে যদি ভুল থাকে বা গণনার অঙ্কে যদি ভুল থেকে যায় তাহলে ফলেতে তো ভুল থাকবেই৷ এই জন্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রের নিন্দা করা বৃথা৷ তাঁদের বক্তব্য একেবারে ফ্যালনা নয়৷ তবে কোনো মানুষেরই জ্যোতিষের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকা উচিত নয়৷ পুরুষকারের সাহায্যেই মানুষকে এগিয়ে যেতে হবে ও এটাই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ৷

‘‘দৈবং নিহত্য কুরু পৌরুষমাত্মশক্ত্যা৷’’

কোথাও জ্যোতিষীর গণনা যদি নিষ্ঠার সঙ্গেও করা হয়ে থাকে তাহলেও তা যে সবাইকার ক্ষেত্রে সমভাবে ফলে যাবে এমন কথা হলপ করে বলা যায় না৷

রাজার ছেলে ও প্রজার ছেলে দু’জনেই যদি একই সময়ে জন্মায় তাহলে কোনো তারিখে প্রদোষ আট ঘটিকায় যদি রাজকুমারের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয় তাহলে প্রজার  ছেলেটিকে হয়তো সেই সময়ে যাত্রার দলের রাজার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে৷ লোকে সেই সময়ের জন্যে তাকেও রাজা বলে ডাকবে৷

সেই যে কথা আছে না একটি নবজাত শিশু–তার নাম রামফল সিং৷ গণকঠাকুর খড়ি পেতে গুনে বললেন, এর গ্রহসংস্থান যেমন..........দশা–ন্তর্দশা যেমন তাতে এর খুবই প্রাচুর্য্যের মধ্যে দিন কাটবে৷ আমি যে দেখছি, এর ডাইনে বাঁয়ে সামনে পেছনে থাকবে কেবল গাড়ির পর গাড়ি৷ এ কী কম ভাগ্যের কথা

বন্ধু–বান্ধব আত্মীয়–স্বজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল কবে রামফলের সেই সৌভাগ্যের দিন আসবে৷ ২৪ বছর পর দেখা গেল রামফল সিং ট্রাফিক কন্ষ্টেবল হয়ে চউরাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে আর তার সামনে পেছনে ডাইনে বাঁয়ে হুস্ হুস্ করে গাড়ি চলছে৷

তা যাই হোক, গণকঠাকুররা যে সব সময় ভুল করেন একথা আমি বলছি না৷ কিছু কিছু জিনিস মিলে যেতে আমিও দেখেছি৷ তবে তোমরা যেন জ্যোতিষ বিদ্যার মুখ চেয়ে বসে থেকো না৷

একবার হজরৎ মোহম্মদের দুই দল শিষ্যের মধ্যে তুমুল বাদ–বিতণ্ডা শুরু হয়ে গেল৷ একদল বললে, তক্দির বা ভাগ্যে যা আছে তাই হবে৷ কোনো চেষ্টা করা বৃথা৷ আর একদল বললে, মানুষ তদ্বির অর্থাৎ চেষ্টা করেই সব কিছু পাবে৷ যুধ্যমান দু’দলই হজরৎ মোহম্মদের কাছে যখন পৌঁছুল, তখন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তিনি বললেন, তক্দিরে যা আছে তা–ই হবে কিন্তু তোমরা তদ্বির করে যাও৷

 

চেনা

লেখক
নব্যদূত

নাম না জেনেও চিনি তারে

                              পথে ঘাটে মাঠে---

আগ বাড়িয়ে থাকে সে যে

                              নিত্যনতুন ঠাটে৷

চেনা তারে হয়না যে শেষ

                              জীবন পলে পলে

চিনি বলেই রয় অচেনা

               ভাবান্তরে অজানা কৌশলে৷

স্বার্থ যখন জেগে ওঠে

                              বিবেক অন্ধকারে,

রূপান্তরের অন্যরূপ

                              আঁধার পারাপারে৷

কী কঠিন এই মানুষ চেনা৷

                              সাথেই যখন থাকে,

দিনে রাতে ছন্দে তালে

                              স্বরূপ নিয়েই মাতে৷

ওরা যখন অট্টালিকায়

                              তুমি পথের ধারে,

বন বনানীর সবুজ পাতা

                              ফুলে ফলে ভরে৷

হাত বাড়িয়ে চাইছে ওরা

                              দেওনা একটি ফল,

একটি কেন আরো নেও

                              বাড়াও তোমার বল৷

‘রবি ঠাকুর’

লেখক
জয়তী দেবনাথ

সাহিত্যের রাজা তুমি

                              কবির তুমি গুরু৷

তব অসীম জ্ঞান সাগরে,

                              নেই যে শেষ-শুরু৷

রবি গো তোমার উদয় ছিল,

                              নেই যে অস্তাচল৷

               তাই তো তোমার কিরণ আজও

                              রাঙায় ধরা তল৷

কলমে তোমার ওগো কবি

                              ছিল কেমন জাদু!

তোমার কাব্য হৃদয় মাঝে,

                              যেন মাখায় মধু৷

তোমার গানের কথা-সুর

                              জোড়ায় হৃদয় খানি

সঙ্গীত জগৎ চিরকাল

                              তোমার দানে ঋণী৷

তোমার গীতি কাব্য যেন,

                              সিঞ্চিত কি সুধায়৷

তাইতো রবি অমর তুমি

                              সাহিত্যেরই পাতায়৷

দর্জি

লেখক
তোতন আদক

এক যে আছে দর্জি

কাপড় কেটে জামা বানায়

যেমনটি তার মর্জি৷

 

এসে দ্যাখেন খদ্দের,

বাবুর দেওয়ার জামার ছিটে

প্যান্ট করেছে বৈদ্যের৷

ও আমার বন্ধুরে

লেখক
রামদাস বিশ্বাস

ও আমার বন্ধুরে তোর লাগি মোর

জলভরা চোখ পথের ধারে স্থির৷

ও তুই আসবি বলে এলি না

কথা দিয়ে রাখলি না

খাইলি না মোর আপন হাতে

তৈরী ননী খির৷৷

হাওয়া লেগে শুকনো পাতা

খস খসিয়ে সরে

বুঝি আমার বন্ধু আসে

বুক ধড়ফড় করে

চাহিয়া দেখি কেহ না

ধুক পুকুনি থামে না৷

বুকের ব্যথা দাপিয়ে মরে

ঝরে আঁখি নীড়৷৷

জল খাই না পিপাসাতে ভাতের খিদে নেই

কেউ শুধালে আমি পাই না খুঁজে খেই

কথা রাখো মাথা খাও

একবারটি দেখে যাও

মানের গোড়ায় ছাই দিয়েছি

মান রাখো মানে নীড়৷

শ্রীচরণে

লেখক
বিভাংশু মাইতি

আমার মনের বনে ফুটে ওঠা

ভাব-ভাবনার ফুলগুলো

ভক্তিভরে তোমার পায়ে

দিলুম আমি অঞ্জলি৷

আমার চিদাকাশে জেগে ওঠা

রামধনুর ওই রঙগুলি,

সযতনে রাঙিয়ে দিলুম

ওই আলতা বরণ পাগুলি

শক্তি ভক্তি, বুদ্ধি-বিবেক

যা কিছু মোর ঘরে আছে

সযতনে সঁপে দিলুম

সেই চরণের কাছে৷

সব কিছু মোর নিঃশেষে নাও

গ্রহণ কর মোরে,

সেই চরণে ঠাঁই যেন পাই

জন্ম-জন্মান্তরে৷

ও কী করে এসেছিল

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ইহ’ মানে ‘এই জগতে’৷ মনে রাখা দরকার ‘অত্র’ আর ‘ইহ’ এক জিনিস নয়৷ ‘অত্র’ মানে এখানে–এই স্থানে আর ‘ইহ’ ব্যবহূত হয় অনেক ব্যাপকার্থে......‘এই লোকে’/‘এই জগতে’৷ ‘ইহ’‘ঠক্’ প্রত্যয় করে আমরা পাচ্ছি ‘ঐহিক’ শব্দটি৷ তার বিপরীত শব্দ হচ্ছে ‘পরত্র’ থেকে ‘পারত্রিক’ ‘ইহলৌকিক’–বিপরীত শব্দ ‘পারলৌকিক’৷ ‘ইহলোক’–বিপরীত শব্দ ‘পরলোক’৷ ‘ইহ তিষ্ঠ’ না বলে ‘অত্র তিষ্ঠ’ বলা ক্ষেশী সঙ্গত হবে৷ ‘ইহ তিষ্ঠ’ মানে ‘এই জগতে থাকো’৷ আর ‘অত্র তিষ্ঠ’ মানে  ‘এইখানটিতে থাকো’৷ সুপ্রাচীনকাল থেকেই ‘ইহ’ শব্দটি অব্যয় রূপে ব্যবহূত হয়ে এসেছে৷

ইহলোক আর পরলোকের মধ্যে অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত থেকে যায় এক সূক্ষ্ম স্বর্ণরেখা৷

সে অনেক দিন হয়ে গেল৷ তখন দিল্লীতে নিজের বাড়ী ছিল না৷ থাকতুম কখনো হোটেলে, কখনো ভাড়া বাড়ীতে৷ সেবার হোটেলেই ছিলুম৷ সান্ধ্য–ভ্রমণ সেরে হোটেলে ফিরলুম রাত্রি প্রায় সাড়ে আটটায়৷ বাথরুমে গিয়ে ক্ষেসিনে হাত–মুখ ধুচ্ছি, হঠাৎ পেছন দিক থেকে শুনলুম আগেকার সুপরিচিত মিষ্টি আওয়াজ–‘কেমন আছো?’ ভাবলুম–এ কী এ যে আমার ছোটবেলাকার অতিপরিচিত দুলু পালিতের আওয়াজ দুলু একাধারে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আবার দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও৷ দুলুর বাড়ী ছিল মগরার কাছে......অভিজাত পরিবারের ছেলে৷ দুলু পালিত, ব্রজগোপাল সান্ন্যাল ও আমার মধ্যে ছিল নিবিড় বন্ধুত্ব৷ দুলু পালিত ও ব্রজ সান্ন্যাল ছিল অত্যন্ত রূপবান৷ ওদের মনের সৌন্দর্য ছিল আরও বেশী৷ পরোপকার ছিল তাদের সহজাত সংস্কার৷ কিন্তু এখানে এই হোটেলের বাথরুমে সেই দুলুর আওয়াজ কোত্থেকে এল কী করেই বা এল আমি স্বপ্ণও দেখছি না, সুস্থ শরীরে, সুস্থ মস্তিষ্কে বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত–মুখ ধুচ্ছি–এ তো শোনার ভুল হতে পারে না, ভাবার ভুলও হতে পারে না

দুলু এবার একটু অভিমানের সঙ্গে বললে–‘‘তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছো? আমার দিকে তাকাচ্ছো না কেন?’’

হ্যাঁ, বলে রাখি, দুলু আমায় বড্ড বেশী ভালক্ষাসত৷ সে  আমাকে  ছোটবেলায় কয়েকবারই বলেছিল–যেমন কৃষ্ণলীলার সুদামা–কৃষ্ণের সম্ক্ষন্ধ তেমনই আমাদের সম্ক্ষন্ধ৷ সুদামা কৃষ্ণকে বড্ড ভালবাসত৷ কৃষ্ণও সুদামাকে খুব ভালবাসত৷ ও আমাকে বলত–‘‘দেখ, আমরা একে অন্যকে এত বেশী ভালক্ষাসব যে কৃষ্ণ–সুদামাকেও হার মানিয়ে দোক্ষ৷’’

আমি বলেছিলুম–‘‘আমি তেমন পারক্ষ কিন্তু তুমি কি তেমন পারবে?’’

ও বলেছিল–‘‘নিশ্চয় পারক্ষ, দেখে নিও’’

আজ সেই দুলুর আওয়াজ পেলুম৷ আর সে অভিমানের সুরে বলছে–‘‘আমি তার দিকে তাকাচ্ছি না কেন’’

আওয়াজ আসছিল যেন আমার পেছনের দিক থেকে৷ পেছনের দিকে দেওয়ালে তাকিয়ে দেখি, দেওয়ালের গায়ে দুলু আলোকোজ্জ্বল পূর্ণাবয়বে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর আমার দিকে চেয়ে আনন্দে হাসছে৷ আমি তাকাতেই  সে আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠে বললে–‘‘কেমন আছো? তোমার জন্যে ক’দিন হ’ল আমার মনটা ছটফট করছিল৷ এখন তোমাকে কাছে পেয়ে ক্ষাঁচলুম৷’’

আমি বললুম–‘‘আমি বেশ ভালই আছি৷ এক্ষার কলকাতায় গিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করব৷’’

ও বললে–‘‘নিশ্চয়, নিশ্চয়৷’’ তারপর একটুখানি পরে বললে–‘‘আমাকে তোমার পছন্দমত কোনো কাজে লাগিয়ে নাও৷ এতে আমার  সুক্ষিধে হবে এই যে, সব সময় তোমার কাছে থাকা যাবে৷ যদি কখনো কাছে না–ও থাকা যায় অর্থাৎ কাজ নিয়ে বাইরে কোথাও যেতেও হয় তাহলেও মনে এই পরিতৃপ্তি থাকবে যে তোমার কাজ করতেই বাইরে যাচ্ছি৷’’

আমি বললুম–‘‘তেমনটিই হবে৷ আমি ক’দিনের মধ্যেই কলকাতায় ফিরছি৷’’

এমন সময় টেলিফোনের আহ্বান আসায় শোবার ঘরে চলে এলুম৷ ফোন ধরতেই ওদিক থেকে আওয়াজ এল–‘‘আমি ব্রজগোপাল সান্ন্যাল কলকাতা থেকে বলছি৷’’

ব্রজগোপাল আমার ছোটবেলাকার বন্ধু৷ ও ভালভাবেই জানত, দুলু পালিত আমাকে ছাড়া থাকতেই পারে না....কতকটা যেন ত্ব–এর পাশে হু–এর মত৷

আমি ব্রজকে বললুম–‘‘কী বলছো?’’

ব্রজ বললে–‘‘আমাদের ছোটবেলাকার বন্ধু দুলু পালিত ক’দিন ধরেই বড্ড বেশী অসুস্থ৷ আমি এখন ওর বাড়ী থেকেই ফোন করছি৷’’

আমি বললুম–‘‘কী হয়েছে?’’

ব্রজ বললে–‘‘কী হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না৷ নাড়ীর গতি স্বাভাবিক, কোনো রোগ–ভোগ নেই, জ্বর–জ্বালাও নেই৷ ডাক্তার বলছে, কোনো রোগই ধরা পড়ছে না’’৷

আমি বললুম–‘‘তবে কী হয়েছে?’’

ব্রজ বললে–‘‘ও কেবল শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে আর তোমার কথা বলছে৷ বলছে কতদিন দেখা হয়নি, আবার কবে দেখা হবে কে জানে পরিচিত কাউকে দেখলেই তাকে তোমার কথা জিজ্ঞেস করছে, আর বলছে, কবে দেখা হবে কে জানে’’

আমি ব্রজকে জানালুম যে, সব কাজকর্ম ফেলে রেখে আমি কালকের প্লেনেই  দিল্লী থেকে কলকাতা পৌঁছোচ্ছি৷ আর বিমান বন্দর থেকে সোজা ওর বাড়ীতেই যাব৷

ব্রজ আশ্বস্ত হয়ে ফোন ছেড়ে দিল৷ আমি আবার বাথরুমে গেলুম দেওয়ালের দুলুর সঙ্গে আরও কথা বলতে–সেই কোটপ্যান্টপরা আলোকোজ্জ্বল দুলু৷ বললুম–‘‘তারপরে বলো কী খবর৷ এখন তাহলে ভালই আছো৷’’

ও বললে–‘‘ভাল বলে ভাল, খুব ভাল৷ তোমাকে কাছে পেয়ে কত যে ভাল লাগছে কী বলব৷ মনে হচ্ছে এমন ভালর মধ্যে মরাও ভাল৷’’ সেই যে কবি বলেছেন না–

‘‘এমন চাঁদের আলো মরি যদি সেও ভালো

 সে মরণ স্বর্গসমান৷’’

আমি বললুম–‘‘মরণের কথা–টথা বলবে না, তাহলে আমি ভীষণ রেগে যাব৷ তোমাকে বকাঝকা করব৷ আমার মেজাজটা তো তুমি ভালভাবেই জানো৷’’

ও বললে–‘‘তোমাকে আমি রাগতে দোব না, মরণের কথা বলব না৷’’

আমি বাথরুম থেকে হাত–মুখ ধুয়ে ফিরছি৷ ঘড়িতে তখন ন’টার ঢং ঢং আওয়াজ শুনলুম৷ আর দুলুর দিকে তাকাতেই দেখি, দুলুর চিত্র শাদা দেওয়ালে মিশে গেল৷ আমার খাবার সময় হয়েছে দেখেই বোধ হয় ও চলে গেল৷

শোবার ঘরে এলুম৷ কয়েক মিনিট পরে কলকাতা থেকে ফোন এল৷ আবার সেই ব্রজগোপাল সান্ন্যালের কন্ঠস্বর৷ ও বললে–‘‘তোমাকে অত্যন্ত দুঃসংবাদ জানাচ্ছি, আমাদের দুলু এইমাত্র ঠিক ন’টার সময় আমাদের ছেড়ে অন্যলোকে চলে গেল৷ বুঝলে, আমার সব কিছুই গোলমেলে ঠেকছে৷ বুঝতে পারছি না কোন্টা ইহলোক, কোন্টা পরলোক৷

সংগ্রামই হোক জীবনধর্ম

লেখক
প্রভাত খাঁ

(১)

সংগ্রামই যখন জীবন-ধর্ম

             বলে মনে করি

তাই করোনা বাইরাসকে

             মোরা নাহি ডরি ৷

অভীমন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে

  এগিয়ে চলো ভাই,

বাঁচার মতো বাঁচতে হবে

  লক্ষ্যভেদে তাই ৷

বিশ্ব মায়ের সন্তান মোরা

  একই মায়ের কোলে

জনম মোদের---তাই অভেদ জ্ঞানে

চলতে হবে ভেদ জ্ঞান ভুলে ৷

 

(২)

 সারা বিশ্ব দূষণের শিকার হয়ে

করোনা বাইরাসে আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত ৷

ভ্রষ্টাচারী শাসকগণ সংকীর্ণ স্বার্থে

মারণাস্ত্রের লড়াইয়ে ধরার বুকে ব্যস্ত !

সেই বিষময় ফল এই বাইরাসের স্রষ্টা

তাই তো এই মাটির বুকে

  মহামারির করাল দংষ্ট্রা ।

 

(৩)

 সমাজের বুকে সম্বিত ফেরাতে হবে

  মিলনের মহামন্ত্রে

ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মানব সমাজ গড়ার

  নির্দ্দেশ দেন স্রষ্টা ৷

ধর্মাশ্রয়ী, আদর্শবান

  নীতিবাদীরা এক হয়ে

মানবতা রক্ষায়

  সার্থক করো জীবনটা৷

মানুষের মনে বিশ্বাস জাগাও

  আশার সঞ্চার করো

মানবতাকে সর্বাগ্রে রেখে

  মানব মনকে বড়ো করে গড়ো ৷

 

কথা বেচে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রকাণ্ড বড় মিউজিয়াম (প্রত্নশালা)৷ কিউরেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত হয়েছেন একজন অতিজল্পক মানুষ৷ বিতর্কেই তিনি বেঁচে আছেন........বিতর্কেই তিনি চাকরি বজায় রেখেছেন.........বিতর্কেই তিনি পদোন্নতির আশা পোষণ করেন ৷ দর্শনার্থীদের সম্বোধন করে তিনি একটি ছোট্ট করোটি (মাথার খুলি) দেখিয়ে বললেন---‘আপনারা জেনে হয়তো অবাক হবে....সত্যিই তো, অবাক হবারই কথা...........এই করোটিটি হচ্ছে ইতিহাস ধন্য পুরুষ রাণা প্রতাপের৷ উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন একজন ইতিহাসের অধ্যাপক৷ তিনি বললেন, কিন্তু স্যার, রাণা প্রতাপ তো ছিলেন তাগড়া আকারের দশাসই চেহারার মানুষ৷ তাঁর করোটি এত ছোট হবে কেন?

কিউরেটর বললেন--- আপনি ভারী সুন্দর কথা বলেছেন........এই তো ইতিহাসের অধ্যাপকের মতই কথা৷ তাহলে শুনুন--- এই করোটিটি রাণা প্রতাপের অল্প বয়সের৷ তখন তিনি ছোট ছিলেন, তাই তাঁর করোটিও ছোট ছিল৷ তিনি যখন বড় হয়েছিলেন, তাঁর করোটিও বড় হয়েছিল, আপনি যেমন বলছেন,স্যর.....কিন্তু সেই বড় করোটিটি আমাদের মিউজিয়ামে নেই৷ কিন্তু স্যর, আমরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ সেটি জোগাড় করার জন্যে আমরা উদয়াস্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসছে বার যখন আপনার পদার্পণ হবে, তখন আপনাকে সেটা দেখাতে পারব৷

 

পিতৃ-আজ্ঞা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ-বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত-ডাল-তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ বাবা খেতে বসে বলছে--- রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা,দাইল নিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস?

বেটা বললে--- সয় গণ্ডা৷

বাপ--- দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা?

বেটা--- আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ--- দিস কত?

বেটা--- আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷

বাপ--- এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা--- এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ--- ত্র্যাতাযুগে যে রামচন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ-আজ্ঞা লঙ্ঘন করস৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস?

বেটা---আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ--- দিস কত?

বেটা--- সয় গণ্ডা৷

বাপ--- তুমি পিতৃ-আজ্ঞা লঙ্ঘন  করস৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইর্যা তালা াইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷