প্রভাতী

ইতিহাসে উপেক্ষিতা তোসিকো

লেখক
কণিকা দেবনাথ

স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙলার মেয়েদের অবদান আমরা কম বেশি ইতিহাসে পড়ি কিন্তু ভারতবর্ষ থেকে বহু দূরে জাপানের একটি মেয়ের অবদান ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে কম নয় 
বিপ্লবী মহানায়ক রাসবিহারী বসু ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য যোদ্ধা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ তার মাথার দাম ধার্য করেছে তৎকালীন সময় এক লক্ষ টাকা তাই দেশে থাকা তাঁর পক্ষে আর নিরাপদ নয়
১২ই মে ১৯১৫ সাল খিদিরপুর ডকে ১২ নং জেটি থেকে জাপানী জাহাজ সানু কী মারু-তে করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় ও একান্ত সচিব পিএনঠাকুর পরিচয় দিয়ে  জন্মভূমিকে বিদায় জানিয়ে সিঙ্গাপুর, হংকং হয়ে ৫ই জুন,১৯১৫ জাপানে পৌঁছোলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য যোদ্ধা রাসবিহারী বসু ব্রিটিশ পুলিশের জানতে দেরী হলো না অতএব জাপান সরকারকে চাপ দেওয়া হল রাসবিহারীকে বহিষ্কার করতে জাপান সরকারও জাপান ত্যাগ করার নোটিশ জারী করলেন পাশে দাঁড়ালেন জাপানের বিরোধী দলনেতা তোয়ামা তাঁর প্রচেষ্টায় রাসবিহারী আশ্রয় পেলেন এক রুটি কারখানার মালিক মিঃ সোমার বাড়িতে কিন্তু জাপান পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কদিন থাকবে এগিয়ে এলেন মিঃ সোমা ও শ্রীমতি সোমা তাঁদের বড়ো মেয়ে তোসিকোর সঙ্গে রাসবিহারীর বিবাহ দেবে মায়ের কথায় জীবনের ঝঁুকি নিয়েও এক অজ্ঞাত, অপরিচিত, পলাতক বিপ্লবীকে বিয়ে করতে রাজি হলেন তোসিকো শুরু হলো নতুন জীবন, জাপানী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বার বার বাসা বদল, জীবনের ঝঁুকি রাসবিহারীর
 সঙ্গে সবকিছু হাসিমুখে মেনে নিলেন তোসিকো অবশেষে ১৯২৩ সালে জাপানী নাগরিকের স্বীকৃতি পেলেন রাসবিহারী এবার হয়তো শান্তি ভাবলেন রাসবিহারী কিন্তু ঘরের মঙ্গল শঙ্খ বিপ্লবীর জন্যে নয় ১৯২৫ সালের ৪ঠা মার্চ এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে ইহলোক ত্যাগ করলেন তোসিকো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবীকে রক্ষা করতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন একটি বিদেশিনী ইতিহাসে তাঁর তুলনা কোথায়! কিন্তু তাঁর কথা স্বাধীন দেশের কজনই বা জানে!

করোনা পাঁচালী

লেখক
বিভাংশু মাইতি

করোনা করোনা বলে আতঙ্কিত হয়োনা
পথে এসো, ভুলেও আর বিপথে যেওনা
আহার হোক শুচি-শুদ্ধ ভাবনাচিন্তা শুভ
ভালবাসায় ভরে যাক, জল-স্থল-নভ
নত হোক উদ্ধত যত কালো মাথা
বুঝে যাক সবে আজ ঈশ্বরই ত্রাতা
বাঁচা-মরা সুখ-দুঃখ সবই তাঁর হাতে
তিনিই পারেন আজ পৃথিবী বাঁচাতে
পরা-অপরা দুইজগত সমন্বিত হোক
বিজ্ঞানের শক্তি পাক অধ্যাত্ম-আলোক
দুর্নিবার ভোগে আজ যুক্ত হোক যোগ
ঘুচে যাবে যত ক্লেশ করোনার রোগ
করোনা বলিছে আজ কর-না কর-না
অবাঞ্ছিত কোনোকিছু করো-না
পৃথিবী সবার তরে সকলের ঠাঁই
হিংসার পথে আজ বাঁচার উপায় নাই
বিবেকের সম্প্রয়োগে আলোকের পথে
মানবতা পারে আজ পৃথিবী বাঁচাতে

বলো গো দয়াল

লেখক
জয়তী দেবনাথ

প্রিয় তোমার লীলা খেলার নেই যে কোনো সীমা
কজনার সাধ্য---বুঝে তোমার মহিমা

জানি তুমি থাকো সদাই আমার আশে পাশে
তোমার প্রখর কিরণ মনের সকল আঁধার নাশে

জানি তুমি সহায় আমার দুঃখ হতাশায়
তাই তো সকল দুর্র্যেগে প্রাণ তোমার পানে চায়

জীবনের সব রঙ যখন মুছে যায় নিমেষে
সকল আশা মিলায় তখন দুঃখগুলোর বশে

তুমি তখন আশার আলো তুমি সহায় আমার
তাই তো মন তোমার পানে ছুটে বারংবার

জীবনপথে আজও দেখি পথ হারা আমি
তুমি পথ দেখাও আমায় ওগো অন্তর্যামী

তোমার দেখানো পথ ধরে চলতে আমি চাই
বলগো দয়াল কেমনে তোমার পথের দেখা পাই

করোনা বাইরাস

লেখক
বিভাংশু মাইতি

ঔদ্ধ্যতের সিঁড়ি বেয়ে

অহঙ্কারে বুক উঁচিয়ে

আমি চলছিলুম

চলছিলুম ভোগ-সিন্ধুর

শেষ বিন্দুটুকু শুষে নিতে

 

প্রাণী-পশু-উদ্ভিদ

পরিবেশ প্রতিবেশী

কারও দিকে তাকাইনি

সবাইকে শাসন-শোষণ

করেছি সাধ্যমত

আত্মসুখে হয়েছি উন্মত্ত

 

জড়বাদের তীব্র চাবুকে

রক্তাক্ত হয়েছে কত দেহ

মতবাদের অব্যর্থ বুলেটে

লুটিয়ে পড়েছে মানবতা,

প্রেম-প্রীতি আধ্যাত্মিকতা

 

অলখপুরুষ হেসে বলেছিলেন

সামলে চলো বৎস

সবার জন্য এই ধরা

সবাইকে ভালোবেসো

 

আমি ব্যঙ্গ করে বলেছিলুম

কে তুমি দেখেছি কখনো

জীবনটা যতক্ষণ

নিজ স্বার্থ দেখি ততক্ষণ

 

হঠাৎ একদিন

বিরাট এক অন্ধকার

সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

আমি করোনা বাইরাস

অস্তিবোধের আশ্বাস

 

আবেগ

লেখক
নব্যদূত

পিতা মাতা ভগ্ণি ভ্রাতা

         নয় যে আপন পর,

    তুমিই ঘিরে রয়েছ মোরে

         ক্ষুদ্র জীবন ভর

তোমার মাঝেই প্রিয়তম

         রইযে সারাক্ষণ,

         আগেপরে তুমিই ওগো

         রয়েছো পরমধন

তোমার তালে তাল

মিলিয়ে চলি সারাক্ষণ,

         সহজ সরল সুদ্ধ

জীবন করে নিবেদন

দিয়েছি সব নিয়েছো সব

       জীবন আলো করে,

    তোমারি কৃপায় প্রিয়তম রয়েছো

         জীবন ভরে

স্বাধীনতা!

লেখক
জয়তী দেবনাথ

দুইশত বৎসরের বহু যন্ত্রণার পর,

এসেছিল আমাদের স্বাধীনতা!

ধর্মান্ধের রোষে ভেঙেছে রাষ্ট্র

      ছিন্ন হয়নি একতা

কলুষিত ছোঁয়ায় যায়নি হারিয়ে,

    এই পূণ্যভূমির পবিত্রতা

 

বিদেশী শাসক পারলো কি ভাঙতে

       আমাদের এই ঐক্য

হয়নি ব্যর্থ শত শহীদের

    দেশ প্রেমের বাক্য

এই ভারতে যখনই কোনো

     পাপীর হবে বাস,

ভারত মায়ের সন্তানরাই

     করবে তাদের নাশ

কেউ পারবে না ভাঙতে মোদের

        ঐক্য ও প্রীতি,

১৫ই আগষ্ট ভারতমাতাকে

       দিচ্ছি প্রতিশ্রুতি

 

১৯৪৭ সালে ১৫ই আগষ্টের

   সোনালী ভোরের আলো

সরিয়ে দিল জীবন হতে

      বিষন্নতার কালো

 

ভারত গগনের সুভ্রতার জোরে

         কাটল সকল মেঘ,

তবুও মনে আছে বীরেদের

         বেদনা ভরা ত্যাগ

 

তোমার কতো সন্তান মাগো

         হারালো নিজের প্রাণ,

তবুও তারা দিয়ে গেল

         মোদের পরিত্রাণ

 

পাটোয়ারী বুদ্ধি

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ক্রথ্’ ধাতুর অর্থ হ’ল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কাউকে হত্যা করা৷ দেবোদ্দেশ্যে বা ধর্মের নামে পশুহত্যা এই পর্যায়ে পড়ে৷ ক্রথ্  অচ্ ঞ্চ ক্রথ৷ ‘ক্রথ’ মানে যাকে হত্যা করা হচ্ছে৷ ক্রথ্  ল্যুট্ ঞ্চ ক্রথন মানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হত্যা করা, ধর্মের নামে হত্যা করা, অথবা যাকে হত্যা করা হচ্ছে৷ কেউ যদি ভাবে ধর্মের নামে পশু–হত্যা করলে উভয় পক্ষেরই লাভ অর্থাৎ মানুষের লাভ দুটো ঃ তার লোল জিহ্বা পাবে নিরীহ পশুর মাংস আর অর্জন করবে পুণ্য আর ওই নিরীহ হতভাগ্য পশু, যে জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল মানুষ নামে জীবকে বিশ্বাস করে, সে পাবে পশুজীবন থেকে মুক্তি–এ ধরনের জিনিসগুলি ভাবের ঘরে চুরি ছাড়া কিছুই নয়৷ সম্ভবতঃ মানুষ জাতের ইতিহাসে এই ধরনের স্বার্থপরতা ও ধর্মের নামে অধর্ম নির্মোকের প্রথম বিরোধিতা করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ৷ সেই যে গল্প আছে না–

এজন পরম শাক্ত প্রতি বছর ঘটা করে কালীপূজা করতেন৷ হঠাৎ দেখা গেল পঞ্চাশ বছর বয়সে তার ভীমরতি ধরেছে৷ লোকে শুধোলে–হ্যাঁগো, এতদিন ধ’রে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে এলে আর এই পঞ্চাশ বছর পরে এমনকি ভীমরতি ধরল যে পুজোটিই বন্ধ ক’রে দিলে?

সে বললে–হ্যাঁ ভাই, কী আর করব৷ গত বছর অবধিও দু’চারটে দাঁত ছিল, এবছর একটা দাঁতও আস্ত নেই৷ অথচ বলি তো দিতেই হবে৷ কী করি বল৷ বলি না দিলে তো পুজোয় খুঁত হয়ে যাবে৷ তাই পুজোটিই বন্ধ করে দিলুম৷

দেবোদ্দেশ্যে কোন স্বার্থপূর্ত্তির পরে কোন বিশেষ ধরনের বলি দেওয়াকে ‘ক্রথ’ ধাতুর আওতায় আনা যায়, অর্থাৎ হে জগজ্জননী, হে বিশ্বমাতা, তুমি আমার ছেলেটাকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে একটা চাকরি জুটিয়ে দাও মা৷ মেয়ের বিয়ের জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরে মরছি৷ বিনা পণে একটি সৎপাত্র জুটিয়ে দাও মা, তোমাকে জোড়া পাঁঠা বলি দেব৷ এই পাঁঠা বলিও ‘ক্রথ’ ধাতুর অন্তর্ভূক্ত৷ দেবতার সঙ্গে এটি একটি দেনা–পাওনার –স্বার্থ বিনিময়ের খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়৷

‘‘জগৎ যে মায়ের ছেলে

তার কি আছে পর–ভাবনা৷

তুমি তৃপ্ত করতে চাও মায়েরে,

হত্যা করে ছাগলছানা৷৷’’

এ ব্যাপারে আবার অনেক মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে পাটোয়ারী বুদ্ধির খেলাতেও নেবে পড়ে৷

একবার শুণেছিলুম একজন অতিভক্ত মায়ের কাছে মানত করেছিল তার ছেলেটার একটা চাকরি জুটলে আর মেয়েটা পাত্রস্থ হলে সে মায়ের মন্দিরে জোড়াপাঁঠা চড়াবে৷ যথাকালে মায়ের দওলতেই হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক ছেলেটার একটা হিল্লে হ’ল, মেয়েটার মাথাতেও বিয়ের জল পড়ল৷ একবার তাকে নাকি স্বপ্ণে মা এসে বললেন–হ্যাঁরে, তোর কাজ করে দিলুম, জোড়াপাঁঠা চড়াচ্ছিস না কেন আমি আর কতকাল আলোচাল–মটরদানার সঙ্গে কাঁচকলা–ঘি–সন্ধব নুনের হবিষ্যি চালিয়ে যাব?

অতিভক্ত বললে–এই দেখ মা, বেমালুম ভুলে গেছলুম৷ সাতশ’ কাজে ব্যস্ত থাকি তো তা আমার আর কী দোষ৷ আমার সাতশ’ কাজে ব্যস্ত করে তুমিই তো রেখেছ৷ তা যাই হোক, পাঁঠার আজকাল আগুন–ছোঁয়া বাজার দর৷ আমার গ্যাঁট খসালেও অত টাকা নাববে না৷ তাই হাতীবাগান বাজার থেকে রোব্বারের হাটে তোমার জন্যে একজোড়া গোলাপায়রা এনে চড়িয়ে দোব৷

দিন গেল, মাস গেল৷ আবার ছ’মাস কেটে গেল৷ আবার নাকি মা এসে বলেছিলেন–হ্যাঁরে জোড়া পাঁঠা তো দিলি না, জোড়া পায়রারও তো মুখ দেখতে পেলুম না৷ তা তুই করছিস টা কী

সে বললে–দেখ মা, হাতীবাগান বাজারে গিয়ে পছন্দসই পায়রা পেলুম না৷ কোনটার ঠ্যাঙ ভাঙা, কোনটার ন্যাজ ছেঁড়া, ওই সব খুঁতের জিনিস দিয়ে তো আর তোমার সামনে বলি দেওয়া যায় না৷ আমাকে তো মা’র মন যুগিয়ে চলতে হবে৷ তাই ভাবলুম তোমার জন্যে এক জোড়া আখ বা একজোড়া ছাঁচি কুমড়ো বলি দোব৷

মা নাকি তাকে বলেছিলেন–যা করবার তাড়াতাড়ি সেরে ফেল৷ তোর জন্যে আমি তো আর আলাদা এ্যাক্কাউণ্ঢ (হিসেবপত্র.....খেরো খাতায়) রাখতে পারব না৷

আবার ছ’মাস কেটে গেল৷ আবার নাকি মা এসে তাকে বললেন–হ্যাঁরে আখও দিলি না, ছাঁচি কুমড়োও দিলি না৷ ভেবেছিলুম শীতের দিনে একটু আখ চিবিয়ে খাব, ছাঁচি কুমড়ো দিয়ে নারকোল–কুমড়ি রাঁধব৷ তুই কী রে কী ধরনের কুপুত্তুর তুই৷

অতিভক্ত বললে–আমার আর কী দোষ বল৷ আমি ভাল আখ ও ছাঁচি কুমড়োর খোঁজে অনেকের ক্ষেতেই ঢুঁ মেরেছি৷ ভাল আখ আর ছাঁচি কুমড়োর ক্ষেতে সর্বত্রই কড়া পাহারা বসানো হয়েছে৷ তোমার জন্যে যে দু–চারটে তুলে আনব তার জো নেই৷ তার চেয়ে ভাবছি তোমার নামে এক জোড়া গঙ্গা ফড়িং বলি দোব৷

মা নাকি তাতে বিরক্ত হয়ে চলে গেছলেন৷ বলেছিলেন–তুই আমার কাছে পাটোয়ারী বুদ্ধি খাটাচ্ছিস, তোকে দেখে নোব ব্যাটাচ্ছেলে৷

আরও ছ’মাস চলে গেল৷ অতিভক্ত একজোড়া গঙ্গা ফড়িংও বলি দিলে না৷ এবার নাকি মা এলেন রণরঙ্গিণী মূর্ত্তি নিয়ে বললেন–আজই একটা হেস্তনেস্ত করব, আজই একটা এসপার ওসপার হবে৷ বল তুই আমার জন্যে বলি দিবি কি দিবি না?

অতিভক্ত বললে–মা, তুমি তো সর্বত্রই আছ৷ তা আমাকে নিয়ে আর কেন লীলাখেলা করছ৷ তোমার মন্দির থেকে এক ঢিলের রাস্তাতেই তো গড়ের মাঠ৷ সকাল সন্ধ্যেতেই তো সেখানে ফড়িং ওড়ে যথেষ্ট পরিমাণে৷ বর্ষার ভিজে হাওয়ায় বড় বড় গঙ্গা–ফড়িং আসে৷ তুমি কোনদিন প্রাতর্ভ্রমণে বা সান্ধ্যভ্রমণে দু’চারটে বা দু–চার ডজন কেন, যত ডজন ইচ্ছে গঙ্গাফড়িং ধরো আর খেয়ো৷ আমাকে আর নিমিত্তের ভাগী কর কেন

হ্যাঁ বলছিলুম কি, এই অতিভক্ত যদি কোন একটা বলি সত্যিসত্যিই দিত তবে সে বলি ‘ক্রথ্’ ধাতুর আওতায় আসত৷ একথা বলাই বাহুল্য যে ধর্মের নামে এই ধরনের পাটোয়ারী বুদ্ধি মানুষ সমাজে যথেষ্ট ক্ষতি করেছে৷ বিশ্বের স্রষ্টী শক্তির, আদ্যাশক্তির নামে এই ‘ক্রথ্’ ধাতুর ব্যবহার নিশ্চয় কোন শুভ চিন্তার দ্যোতক নয়৷

সেরা দশ

লেখক
জয়তী দেবনাথ

রেজাল্ট রেজাল্ট বুকটাতে

                                             সেই কি ধুক-পুক!

সকালবেলা থেকেই যেন

                                             শুকনো চোখ মুখ!!

ঘুম ভাঙাতে লাগত আগে

                                             এলার্ম ডাকাডাকি---

সেখানে আজ স্টুডেন্টরা যেন

                                             কাকভোরের পাখি!!

রেজাল্ট পেয়ে চোখে মুখে

                                             সেই কি সুখের জ্যোতি!!

রেজাল্ট হাতে গর্বে বাবার

                                             ফাটছে বুকের ছাতি!!

মায়ের তখন চোখেতে জল

                                             বুকটা স্নেহে ভরা

বুকে টেনে মায়ের আদর

                                             সেই কি আশীষ ঝরা!!

মনটা তখন হুট করে

                                             ছুটল স্কুলপানে---

শিক্ষকদের চরণ ধূলি

                                             চাই যে মনে প্রাণে৷

সকলের আশীষটুকু

                                             তুলে নিলাম শিরে৷

এবার শুধুই ছুটব লক্ষ্যে

                                             হাজারো স্বপ্ণের ভিড়ে!!

তুমি যে......

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

জীবন তরী, লড়াই গুরু

দমকা হাওয়া, বুক দুরু–দুরু

ভ্রষ্ট জনের দুষ্ট কর্ম

নষ্ট করে সমাজ ধর্ম

ঝঞ্ঝা–শনি, আঁধার রাতে

নিঃশঙক মানুষ এগিয়ে যাবেই–

তুমি যে গো রয়েছো সাথে৷

আসবে যাবে জীবন মরণ

সকল সময় তোমার শরণ

মত্ত যতই দুঃশাসন–নাচার

সত্য–ধর্ম সদা হাতিয়ার

নবারুণ রাঙা নবীন প্রভাতে

উদ্বেল মানুষ নোতুন আবেগে

তুমি যে গো রয়েছো সাথে৷৷

রামফল সিংয়ের কোষ্ঠী গণনা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যদিও জন্মকালের রাশি–লগ্ণের অবস্থিতি অনুযায়ী ব্যষ্টি ও রাষ্ট্রের ভাগ্য গণনা করাই প্রাচীনকালের প্রথা কিন্তু পরবর্ত্তীকালে করকোষ্ঠী বা ত্ন্ত্রপ্তপ্পন্ব্দব্ধব্জ্ এই বিদ্যাটি ভারতের পুরাতন বিদ্যা নয়৷ শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণেরা বিদেশ থেকে এটি ভারতে এনেছিলেন৷ সমুদ্রের ওপার থেকে এদেশে এসেছিল, তাই এর নাম সামুদ্রিক বিদ্যা) শাস্ত্রের উদ্ভাবন ও প্রচলন হয়৷ নাম অনুযায়ী ও ব্যষ্টির সংস্কার সম্পর্কিত সংখ্যা অনুযায়ীও আরও পরবর্ত্তীকালে ভাগ্য গণনার কাজ শুরু হয়৷ স্ফটিক দর্শন ন্তুব্জম্ভব্দব্ধ্ত্রপ্ত, নখদর্শন ন্প্ত–ন্ধ্ত্রম্ভ্রনুন্ধগ্ প্রভৃতি  বিদ্যাগুলির প্রচলন হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে৷ গণনা বিদ্যায় বা গণকের আওতার মধ্যে এরা সবাই আসে৷ বলা বাহুল্য মাত্র, জ্যোতিষের এই বিভিন্ন ধারার গণনা নিরঙ্কুশ বা ত্রুটিমুক্ত নয়৷ অবশ্য কেউ কেউ বলতে পারেন যে, যে সকল তথ্যের ভিত্তিতে গণনা করা হয়ে থাকে, সেই তথ্যে যদি ভুল থাকে বা গণনার অঙ্কে যদি ভুল থেকে যায় তাহলে ফলেতে তো ভুল থাকবেই৷ এই জন্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রের নিন্দা করা বৃথা৷ তাঁদের বক্তব্য একেবারে ফ্যালনা নয়৷ তবে কোনো মানুষেরই জ্যোতিষের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকা উচিত নয়৷ পুরুষকারের সাহায্যেই মানুষকে এগিয়ে যেতে হবে ও এটাই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ৷

‘‘দৈবং নিহত্য কুরু পৌরুষমাত্মশক্ত্যা৷’’

কোথাও জ্যোতিষীর গণনা যদি নিষ্ঠার সঙ্গেও করা হয়ে থাকে তাহলেও তা যে সবাইকার ক্ষেত্রে সমভাবে ফলে যাবে এমন কথা হলপ করে বলা যায় না৷

রাজার ছেলে ও প্রজার ছেলে দু’জনেই যদি একই সময়ে জন্মায় তাহলে কোনো তারিখে প্রদোষ আট ঘটিকায় যদি রাজকুমারের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয় তাহলে প্রজার  ছেলেটিকে হয়তো সেই সময়ে যাত্রার দলের রাজার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে৷ লোকে সেই সময়ের জন্যে তাকেও রাজা বলে ডাকবে৷

সেই যে কথা আছে না একটি নবজাত শিশু–তার নাম রামফল সিং৷ গণকঠাকুর খড়ি পেতে গুনে বললেন, এর গ্রহসংস্থান যেমন..........দশা–ন্তর্দশা যেমন তাতে এর খুবই প্রাচুর্য্যের মধ্যে দিন কাটবে৷ আমি যে দেখছি, এর ডাইনে বাঁয়ে সামনে পেছনে থাকবে কেবল গাড়ির পর গাড়ি৷ এ কী কম ভাগ্যের কথা

বন্ধু–বান্ধব আত্মীয়–স্বজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল কবে রামফলের সেই সৌভাগ্যের দিন আসবে৷ ২৪ বছর পর দেখা গেল রামফল সিং ট্রাফিক কন্ষ্টেবল হয়ে চউরাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে আর তার সামনে পেছনে ডাইনে বাঁয়ে হুস্ হুস্ করে গাড়ি চলছে৷

তা যাই হোক, গণকঠাকুররা যে সব সময় ভুল করেন একথা আমি বলছি না৷ কিছু কিছু জিনিস মিলে যেতে আমিও দেখেছি৷ তবে তোমরা যেন জ্যোতিষ বিদ্যার মুখ চেয়ে বসে থেকো না৷

একবার হজরৎ মোহম্মদের দুই দল শিষ্যের মধ্যে তুমুল বাদ–বিতণ্ডা শুরু হয়ে গেল৷ একদল বললে, তক্দির বা ভাগ্যে যা আছে তাই হবে৷ কোনো চেষ্টা করা বৃথা৷ আর একদল বললে, মানুষ তদ্বির অর্থাৎ চেষ্টা করেই সব কিছু পাবে৷ যুধ্যমান দু’দলই হজরৎ মোহম্মদের কাছে যখন পৌঁছুল, তখন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তিনি বললেন, তক্দিরে যা আছে তা–ই হবে কিন্তু তোমরা তদ্বির করে যাও৷