প্রাউটের নব্যমানবতাবাদই বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ও শোষণ থেকে মুক্তির পথ

লেখক
প্রভাত খাঁ

বিংশ ও একবিংশ শতাব্দী পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়৷ ধবংস ও সৃষ্টি আপেক্ষিক জগতে  এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা৷ বিংশ শতাব্দিতে যে দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটে গেছে তাতে এই পৃথিবীর বুকে নিয়ে এসেছে মানব সমাজের অগ্রগতিতে এক নোতুন প্রবাহ৷ মানব সমাজ সামগ্রিকভাবে অধিকতর  সচেতন হয়েছে ও এক বৃহৎ পরিবার ভুক্ত হয়েছে বিজ্ঞানের উন্নতি ও অধ্যাত্মবাদের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের দরুণ৷ অত্যাধুনিক  জগতে মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী (মহান দার্শনিক শ্রদ্ধেয় প্রভাতরঞ্জন সরকার) পৃথিবীর বুকে সর্বরোগ হর যে আর্থসামাজিক দর্শন প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব দিয়েছেন সেটি যে আজকের সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কতটা প্রাসঙ্গিক তা বর্তমান বিশ্বের চিন্তাশীল ব্যষ্টিগণ  একবাক্যে স্বীকার করেছেন৷

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ৷  মানুষের লক্ষ্যই হলো সৃষ্টিকে জানা ও সৃষ্টিকে সার্থকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া৷ ধবংস  করাটা তার লক্ষ্য নয়৷ মানুষ ভোগসর্বস্ব প্রাণী নয়৷ শরীর রক্ষার্থে তার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দরকার৷ সে বাঁচবে ও অপরকে বাঁচার সাহায্য করবে Live and let live others)৷ কিন্তু অজ্ঞানবশতঃ ধবংসের  কাজটাই  মানুষ করে চলেছে৷ মানুষ তার চৈতন্যের সার্বিক বিকাশের কথা ঠিকমতো ভাবেনি৷ ভ্রান্ত পথে গিয়ে মানুষ পরমাত্মার সৃষ্টিকে পদে পদে  ধবংসই করেছে৷ মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী (মহান দার্শনিক শ্রদ্ধেয় প্রভাতরঞ্জন সরকার) সেই মানব সমাজকে যথার্থ পথ নির্দেশনা দিয়েছেন---কিভাবে মানুষকে সকল কুসংস্কার জাত-পাতের ঊধের্ব উঠে সার্থক মানব সমাজ গড়ে তুলতে হবে ও সকল মানুষকে নিয়ে এক বিরাট মানব সমাজ গড়তে হবে---‘সংগচ্ছধবং’ মন্ত্রে  উদ্বুদ্ধ হয়ে নব্যমানবতা ও বিশ্বৈকতাবাদের’ অমিয় পরশে,  সারা বিশ্বে সকল মানুষকে অধ্যাত্মবাদের ধ্যান ধারণায়  উদ্বুদ্ধ হয়ে  চলতে  হবে, দৈহিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিনটি দিকের সম্যক উন্নয়ন ঘটিয়ে প্রত্যেক মানুষকে সার্বিক বিকাশের পথে নিয়ে যেতে হবে, কেউ যেন কোনোভাবে শোষিত ও বঞ্চিত না হয়৷

অদ্যাবধি ধনতন্ত্র  ও জড়বাদ ভিত্তিক  সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা সংকীর্ণ স্বার্থে মানুষের  সমাজকে এগিয়ে নিয়ে  যায়নি বরং নানাভাবে শোষণ করেছে ও ক্ষতি করেছে জাত-পাত-সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ সৃষ্টি করে ও নারী পুরুষের  মধ্যে ভয়ঙ্কর পার্থক্য টেনে৷  এদের অনুসারী রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোন আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিশা নেই৷

বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বুকে পাকিস্তান নামক এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি তার জন্মক্ষণ থেকেই এক মারাত্মক  মানবতা  বিরোধী জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত  হয়ে বারবার ভারতের ক্ষতিসাধন করছে ও ভারতের মধ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে৷ শুধু ভারতে কেন চরম সন্ত্রাসবাদী কিছু মুসলীম গোষ্ঠী সারা পৃথিবীতেই সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে৷

প্রকৃতপক্ষে আজকের এই পৃথিবীতে আত্মসুখতত্ত্বভিত্তিক্ পুঁজিবাদী গোষ্ঠী, নীতিহীন জড়বাদী গোষ্ঠী ও ডগমাভিত্তিক জঙ্গী গোষ্ঠী---এই তিন গোষ্ঠীই নিপীড়িত মানবতাকে শোষণ করে চলেছে৷

প্রাউট-প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার তাঁর অধ্যাত্মভিত্তিক সামাজিক অর্থনৈতিক দর্শনের মাধ্যমে নিপীড়িত মানবতার সর্বাত্মক শোষণমুক্তির পথ দেখিয়েছেন৷

পাকিস্তানী গ্রন্থাকার সদস্য, পিরিয়ডিকা ইসলামিয়া সম্পাদকীয় বোর্ড-এর  ডঃ সোহেল ইনায়াতুল্লাহ বলেছেন---‘‘পি.আর . সরকার আমাদের সকলের হৃদয়ে স্পর্শ করে, যা এই গ্রহে  পরিবেশগতভাবে  সামঞ্জস্যময় ও গতিশীল  সভ্যতা আনতে সক্ষম৷’’

এই পৃথিবীতে  এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান হয় না৷  তাই পাকিস্তানী ইচ্ছাকৃত সন্ত্রাসকে বন্ধ করতে সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে৷ আর পাকিস্তান , ভারত, বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ  হয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে উন্নয়নের পথে চলে’ মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে৷ শ্রী সরকারের প্রাডট দর্শন হলো বর্তমান বিশ্বের আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের  পথ নির্দেশনা৷ সেই পথে সকলেরই কল্যাণ৷