প্রায় সব খাদ্যদ্রব্যেই যে ভেজাল!

লেখক
নিজস্ব প্রতিনিধি

উৎসবের বাজার--- কী খাবেন? প্রায় সব খাদ্যদ্রব্যেই  যে ভেজাল৷ বাজারে গেছেন৷  দেখছেন, বেশ টাটকা শাকসব্জি, সবুজ টাটকা চকচকে উচ্ছে পটোল৷ না, এগুলো টাটকা  শাকসবজীর  রং নয়৷ টাটকা দেখানোর  জন্যে ক্ষতিকারক সস্তা রং  মেশানো হয়েছে, যা মপেটে গেলে নানান্ ধরণের রোগ সৃষ্টি করে৷ ক্যানসারও হতে পারে৷

মিষ্টি দোকানে ঢুকলেন৷ বেশ সুন্দর করে সাজানো মিষ্টি৷ আসলে ওতেও  ক্ষতিকারক রং মেশানো৷ কিছুদিন আগে পাউরুটিতে ও কেমিকক্যালস মেশানোর খবর বেরিয়েছিল৷বেকারি মালিকদের  চাপে এ নিয়ে বেশি হাল্লা হ’ল না৷ সবঠিক আছে বলে দেওয়া হ’ল৷ বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, আমরা যে দুধ বা দুধের  তৈরী ছানার মিষ্টি খাচ্ছি, ওই দুধেও  মারাত্মক  ভেজাল  দেওয়া হচ্ছে৷ এককিলো  দুধের সঙ্গে  নানান কেমিক্যালস্ মিশিয়ে ১০ কেজি দুধ করা হচ্ছে৷ তাছাড়া, গাই গোরুকে ইঞ্জেকশন দিয়ে তার দুধ  বাড়ানো  হচ্ছে৷ ওই দুধ, অরিজিন্যাল দুধের  মত  উপকারী তো নয়ই, অত্যন্ত ক্ষতিকারকও৷

বাঙালী ঘরের মানুষ৷ সকালবেলা মুড়ি না খেলে নয়৷ দোকান থেকে প্যাকেটে করে  মুড়ি কিনে আনা হচ্ছে৷ এখন প্রায় মেশিনেই মুড়ি ভাজা হয়৷ মুড়িভাজার সময় ইয়ূরিয়া (সার) মেশানো হয়ে থাকে, তবেই তা শাদা হয় ও বেশি ফোলা ফোলা হয়৷ আর মুড়িভাজা খরচও কমে, তাই লাভজনকও৷ আগে গ্রামে গ্রামে মা-মাসীরা মুড়ি ভাজতেন৷ এখন তো সে রেওয়াজ প্রায় উঠেই গেছে৷ মা-মাসীরা প্রতি কিলো ভেজা চালের সঙ্গে প্রায় ৪০ গ্রাম নুন মিশিয়ে শুকনো করে বালির ওপর ভাজতেন৷ এখন আধুনিক যন্ত্রে চালের সঙ্গে ইয়ূরিয়া মিশিয়ে ভাজা হয়৷ প্রতিবেদক একজন মুড়ি ব্যবসায়ীর বাড়ীতে গিয়েছিলেন, যেখানে মেশিনে মুড়িভাজা হয়৷ তাঁদের সঙ্গে গল্প হতে হতে জানা গেল তাঁরা কিন্তু নিজেদের মেশিনে তৈরী মুড়ি খান না৷ কারণ এতে গ্যাসট্রিক ট্রাবল্ হয়৷ তারা তাই তাঁদের নিজেদের খাওয়ার জন্যে বাড়ীতে উনুনে মুড়ি ভাজেন৷ এ ব্যাপারে  জনৈক রসায়নবিদ্ জানান, প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের সময় মানবদেহে  এমনিতেই ইয়ূরিয়া উৎপন্ন করে৷ এই ইয়ূরিয়া রক্তের সঙ্গে মিশে যায় ও পরে কিডনী এই ইয়ূরিয়াকে ছেঁকে  প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়৷ আবার খাবারের সঙ্গে অতিমাত্রায় ইয়ূরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে (যেমন মুড়ির মাধ্যমে) রক্তে ইয়ূরিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়৷ কিডনী এত বেশি ইয়ূরিয়া বের করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে যায়৷ রক্তকে ঠিকমত ইয়ূরিয়া মুক্ত করতে পারে না৷ ফলে তল পেটে যন্ত্রণা, দুর্বলতা, পেশিতে টান, কিডনীর অসুখ এ সমস্ত দেখা দেয়৷ এখন তো সব শাকসবজীতেই সার হিসেবে যে ইয়ূরিয়া প্রয়োগ করা হয় --- সেই ইয়ূরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দ্রব্য খাদ্যের সঙ্গে আমাদের  শরীরে প্রবেশ করে নানান দূরারোগ্য ব্যাধির সৃষ্টি করে৷ জৈবসারের বদলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল সারের প্রয়োগেও  এমনিভাবে শাকসবজীর মাধ্যমে আমরা বিষপান করছি৷

তাই, কেমিক্যাল সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে এখন জৈব সার ও জৈব কীটনাশকের ব্যবহার না করা ছাড়া সুস্থভাবে বাঁচার উপায় নেই৷ আগের মত বাড়ীতে ‘নুন দিয়ে মুড়ি ভাজারও বিকল্প নেই৷ অন্তত ঃ সুস্থভাবে বাঁচতে গেলে তাই করতে হবে৷

ধান ভানার সময় অতিরিক্ত পালিশ করা চকচকে সুদৃশ্য চালও প্রকৃতপক্ষে ভিটামিন বর্জিত৷ এখন ভাবার  সময় এসেছে, চালের ওপরকার লাল অংশ রেখে কীভাবে  আগের ঢেঁকি ছাটার মত চাল তৈরী করা যায়৷ তা জনসাধারণের হৃত স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম৷ এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা হওয়া দরকার৷ নোতুন করে গবেষণা হওয়া দরকার৷