আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

যে পরোপকার করে সে মহৎ

যে পরোপকার করে সে মহৎ৷ পরোপকার করার জন্যে অনেক টাকা–পয়সার দরকার নেই৷ তোমার কাছে বর্তমানে যে সম্পদ আছে তাতেই তুমি পরোপকার কর৷ শরীর যদি সবল থাকে তাহলে শরীর দিয়ে কর, অর্থ থাকলে অর্থ দিয়ে কর, বুদ্ধি থাকলে বুদ্ধি দিয়ে কর–আর কিছু না থাকলে সদ্ভাবনা দিয়ে কর৷ পরোপকারের দ্বারাই মানুষ মহৎ হয়, আর যেখানে পরোপকারের ভাবনা নেই সেখানে সে ক্ষুদ্র বা ছোট হয়ে যায়৷

ঈশ্বরই পরমাগতি

এটা মানব মনের স্বভাব যে, সে সব সময় অনুকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায়৷ আমরা কদাচিঠ এ কথা বলি–‘‘হে পরমাত্মা, তুমি আমাকে কত কিছু না দিয়েছ, কত বৌদ্ধিক সম্পদে আর মানসোত্তর উপসম্পদায় না আমাকে ভূষিত করেছ তুমি আমাকে এত বেশী দিয়েছ কিন্তু আমি এর উপযুক্তই নই৷’’ মানুষ সাধারণতঃ নিজের অনুপপত্তিটাই, তার সীমিতত্ব বা ত্রুটিগুলিকেই বড় করে দেখে৷ তার কী নেই–সে সম্পর্কেই সে বেশী সচেতন থাকে৷ কিন্তু যখন তার কাছে অনেক ধনসম্পদ, অনেক মানসম্মান বা অন্য কোনো সম্পদ এসে যায়, সে কখনই বলে না–‘‘হে প্রভু, আমার কোনো যোগ্যতা নেই, তবু আমাকে এত বেশী দিচ্ছ’’ এ ধরনের কথা কখনই মানুষ বলে না৷ এভাবে মানুষ কখনই চিন্তা করে

মিষ্টিসিজম্ ও যোগ

সূক্ষ্ম নন্দনতত্ত্বের ওপর আধারিত নান্দনিক অভীপ্সা যখন একটা নির্দিষ্ট উচ্চ মানে পৌঁছে যায় তাকে বলে মিষ্টিসিজম্৷ আর এই মিষ্টিসিজম্ যখন মানবীয় গরিমা মহিমার শীর্ষে বা শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ে চলে আসে তাকে বলে আধ্যাত্মিকতা (spirituality)৷ এখন মিষ্টিসিজম্ কী? মিষ্টিসিজম্ হ’ল সীমার সঙ্গে অসীমের, ক্ষুদ্র ‘আমি’র সঙ্গে বৃহৎ ‘আমি’র বা আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সম্পর্ক নির্ণয়ের এক নিরন্তর প্রয়াস৷

স্থায়ী আশ্রয়

  এই বস্তুজগতের সমস্ত কিছুই দেশ-কাল-পাত্রে আধারিত । প্রতিটি সৃষ্ট সত্তার, বিশেষ করে মানুষের স্বভাবই হ’ল আশ্রয়ের অনুসন্ধান করা । এই ভাসমান অনুসত্তার জন্যে একটা স্থায়ী আশ্রয় একান্ত আবশ্যক ।

  এখন, শ্রেষ্ঠ আশ্রয় কী? দেশ-কাল-পাত্রাধিগত প্রতিটি সত্তাই ক্ষণস্থায়ী । তাই এই বিশ্বের কোন কিছুই তোমার স্থায়ী আশ্রয় হতে পারে না । যদি তুমি স্থায়ী আশ্রয় পেতে  চাও, তাহলে তোমাকে তিন আপেক্ষিক তত্ত্বের ওপর আধারিত এই প্রকাশমান জগতের অধিক্ষেত্রের বাইরে যেতে হবে । আর আপেক্ষিকতার ঊর্ধ্বে যে পরম তত্ত্ব—তিনি হলেন পরমপুরুষ । তাই পরম পুরুষই তোমার একমাত্র আশ্রয় । তোমার আর দ্বিতীয় কোন আশ্রয় হতে পারে না ।

মানুষ বিশ্বৈকতাবাদী হবে

  গত রাতে আমি এই পরিদৃশ্যমান জগতে বিভিন্ন সম্ভাবনাপূর্ণ অস্তিত্ব,যেমন—অণুমানসত্বা ও চিতিসত্তা সম্পর্কে বলেছিলুম ।পরম চিতিশক্তির যে অন্তর্মুখী গতি (বহির্মুখী গতিতে পঞ্চভৌতিক জগতের উৎপত্তি) তারই এক স্তরে    মানুষের সৃষ্টি ।এইঅন্তর্মুখী গতি পরম চিতিশক্তিতে ফিরে আসার জন্যে ।                                                                                                                     **এখন আমরা জানি শক্তির ঘনীভূত রূপ হচ্ছে জড় বস্তু । আবার এই জড়তত্ত্ব চূর্ণীভূত হলে (সুক্ষ্মক্ত্বের পথে চলতে থাকলে) মনের উৎপত্তি হয় । ধর তোমাকে খুব কষ্টকর শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে হচ্ছে । এতে স্বাভাবিক ভাবে তু

পরমপুরুষ-সবকিছুর-প্রাণকেন্দ্র

কেউ কেউ পরমপুরুষকে চিতিশক্তি বলে অভিহিত করেন কিন্তু বাস্তবে পরমপুরুষ হলেন তার অতিরিক্ত কিছু। দর্শণের বড় বড় পন্ডিতেরা বলে থাকেন যে পরমপুরুষ হলেন জ্ঞাতৃসত্তা ও পরমাপ্রকৃভি হলেন ক্রিয়াশক্তি। তোমরা জানো যে ক্রিয়াশক্তি হ’ল একটা অন্ধাশক্তি মাত্র, এর পেছনে চৈতন্যশক্তির সমর্থন থাকতেই হবে। যখন পরমাপ্রকৃতি কাজ করা শুরু করেন, ক্রিয়াশক্তি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করেন বা পালন করেন বা ধংস  করেন, সৃষ্টি-স্থিতি-ধ্বংসমূলক তিনি যা কিছু করেন বা তাঁর যা কিছু বাস্তব ক্রীয়াশীলভা তার সবই কিন্তু ভূমা চৈতন্যের অনুমতিসাপেক্ষ।

 বিশ্ব ভাতৃত্ববোধ

মানব মনের একটা চিরন্তন প্রশ্ন হচ্ছে: তুমি কোত্থেকে এসেছ?আর তুমি যখন এসেছ তখন অবশ্যই তুমি কোন একটি বিশেষ স্থান থেকে এসেছ। তাই কোত্থেকে এসেছো...... কোথায় যাবে..... কীই বা করতে হবে? আর এই সামুহিক তথা বৈয়ষ্টিক সত্তা গুলি বা কোত্থেকে আসে?তোমরা জানো তো, এই বিশ্বের কোন কিছুই বিনাশ শীল নয়। এ জগতের সমস্ত কিছুই অবিনাশী। কোন

আদিবিন্দু আর অন্তবিন্দু

যখন কেউ কোন কাজ করে তাকে কিছু বিধি নিয়ম মেনে চলতে হয়। যাঁর এই নিয়ম কানুন তৈরি করার অধিকার আছে তাঁকে বলা হয় নিয়ন্ত্রক সত্তা।আমাদের এই মহাবিশ্বে অনেক কর্ম সংঘটিত হচ্ছে, অনেক রকমের অভিব্যক্তি নিরন্তর প্রকাশিত হয়ে চলেছে।বিভিন্ন তরঙ্গধারা নানা উৎস থেকে উৎসারিত হয়ে চলেছে। তাই এসবের জন্য একজন বেশ শক্তপোক্ত নিয়ন্ত্রক সত্তা  থাকতেই হবে। কিন্তু সেই সত্তা একটা যন্ত্রের মত কাজ করে চলবেন না। তিনি অবশ্যই হবেন ভালোবাসার মূর্ত্ত প্রতিরূপ।

মনকে একাগ্র করার উপায়

আজ একজন সাধক মনকে একাগ্র করার পদ্ধতি সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিল৷ তার প্রশ্ণ ছিল কীভাবে মন একাগ্রতার চরমাবস্থায় পৌঁছতে পারবে? এর উত্তর সব সাধকেরই জানা উচিত৷ বৌদ্ধিক বিচারে প্রতিটি জীবই তিন শ্রেণীভুক্ত–পশু, মানব ও দেবতা৷ আধ্যাত্মিক সাধনা হ’ল এক বিশেষ অভ্যাস যা পশুত্ব থেকে মানবত্বে ও মানবত্ব থেকে দেবত্বে প্রতিষ্ঠিত করে৷