দলতন্ত্রের চাপে গণতন্ত্রের নাভিশ্বাস উঠছে

লেখক
প্রভাত খাঁ

বর্তমানে সারা পৃথিবীর গণতন্ত্রের চরম দুর্দ্দশা দেখে সেই বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিকের কথা মনে পড়ে তিনিMischife of Party Spirit প্রবন্ধে বলে গেছেনIt is pernicious to the last degree অর্র্থৎ দলীয় প্রবণতা হলো শেষ পর্য্যন্ত অত্যন্ত ক্ষতিকারক কারণ দলীয় মতামতটা অন্য দলকে সহ্য করতে পারে না তাই ইংল্যাণ্ডে ন্যাড়া মাথার দলের সমর্থকগণ (পোপের দলের সমর্থকদের ঘৃণার চোখে দেখতো আর তাদের পোপের কুকুর অর্থাৎ পপীশ্ক্যার আর পোপের সমর্থকগণ ন্যাড়া মাথার দলের লোকদের বলতো দেশীয় কুকুর অর্থাৎ সংগ্রেল ডগ্ দলতন্ত্রের ফলে গণতন্ত্রটাই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দলবাজীটাই আজ গণতন্ত্রের যে সংজ্ঞা সেটাকে  গলা টিপে মারছে প্রায় সবদেশেই এই পৃথিবীতে ভারতের মতো বিরাট দেশে সেই---সরকার জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণের দ্বারা সেখানেই দলগুলো  বিভিন্নভাবে দলীয় শাসন কবজা করতে মারাত্মক ছল, বল কৌশল এর আশ্রয় নেয় তাছাড়া চরম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় দল ভাঙ্গাভাঙ্গী, ঘোড়া কেনাবেচার মতো দুর্নীতিকে প্রায় দলীয় স্বার্থেই সংখ্যার জোরে বেআইনকে আইনে পরিণত করে বসেছে খুনোখুনী থেকে শুরু করে, এমন খারাপ দিক নেই দলগুলো করে না বিশেষ করে সরকারে যারা থাকে বিরোধী শূন্য করে দলগুলো কুশাসন চালাতেই যেন ওস্তাদ ! এটা এদেশের নাগরিকগণ দেখে শুনে যেন অবাক  হয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ ৭৩ বছরে যতটা নোংরা হতে হয় দলগুলো ততটাই নোংরামীতে হাবু ডুবু খাচ্ছে বড়ো দলগুলো সবই ভেঙ্গে গেছে আর সারা দেশে দলছুটদেরই পোয়াবারো কথার জালে হতভাগ্য নাগরিকদের ভুলিয়ে দিয়ে রেখেছে সংবিধানকে দলীয় স্বার্থে সংশোধন করে তার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে! দলগুলো সম্পূর্ণ ধনীর সেবাদাসে পরিণত হয়েছে যতোদিন যাচ্ছে দেখা যাচ্ছে দলে আশ্রয় নিচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্তরা আর টাকার জোরে বংশো পরম্পরায় দলকে নিয়ন্ত্রন করছে তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে ব্যর্থ নেতারাই ঘোষণা করেন দলহীন গণতন্ত্রের কথা নির্বাচনকে আজ পৃথিবীতে প্রহসনে পরিণত করেছে দলগুলোই বিরোধীরা যাতে বোট দিতে না পারে আর তারা বোটে দাঁড়াতে না পারে সেই কারণে প্রার্থীদের ভয় দেখানো হয় এমনকি প্রাণ সংশয় করে তোলার  নজির সৃষ্টি করা হয় তাই সুষ্ঠু নির্র্বচনটা গণতন্ত্রে হয় বলে দেখাই যায় না নির্ভয়ে বোটদানটা খোদ নির্বাচন কমিশনও করাতে সক্ষম হন না কারণ শাসকদল সেখানেও রক্ত চক্ষু দেখাতে পিছু পা হয় না এটাই গণতন্ত্রের করুন দশা! ভারতের সংবিধানকে কে  গত কটা বছরে প্রায় ১০০ বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে! কেন এর জবাব কে দেবে তবে আমরা  আজ কোন পথে হাঁটবো মন্দের ভালো গণতন্ত্রের জন্যই দরকার  নীতিবাদী সৎ নাগরিকদের পাইয়ে দেওয়ার নোংরামীটাকে দূরে (ফেলে সুশিক্ষিত তরুণ তরুণীদের এগিয়ে আসতে হবে বোটের রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে নাগরিকদের বোঝাতে হবে প্রকৃত দেশ সেবক হয়ে তাই সমাজ আন্দোলন করতে হবে নিছক বোটের  রাজনীতি নয় সমাজের মানুষদের মধ্যে যে চরম শোষন চলছে  সেটা আঙ্গুল দিয়ে তাঁদের দেখাতে হবে তা হলে দলবাজিটা নিয়ন্ত্রিত হবে নিছক  ধান্দাবাজরা বোটে জিততে রাজনীতির ময়দানে আসবে না।

তাই আজ তরুণ তরুণী শিক্ষিতদের দায়িত্ব নিতে হবে দেশ সেবার আজ রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রকৃত দেশ সেবকগণ না না কারণে  আসেন না রাজনীতির সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে কিছু ধান্দাবাজ কেরিয়ারিষ্টগণ দেশের নাগরিকদের আজ অবশ্যই দেশের ও সমাজের  সরাসরি কল্যাণের কথা ভাববার সময় হয়েছে।