প্রভাতী

কাণ্ডারী

লেখক
রবীন্দ্র নাথ সেন

প্রভু যদি তোমার

কাজে লাগালে মোরে

বাঁধো আমায় শক্ত করে

যেন মন পালাতে না পারে৷

দাও গো তুমি এমন বোঝা

যেন চলে মন কেবল সোজা,

এদিক ওদিক করলে পরে দেবে

টান আচ্ছা করে৷

প্রভু তুমি মোর কাণ্ডারী, তবে

কেন কাজ লাগে ভারি?

কাজের বোঝা চাপলে মাথায়

তোমায় ডাকতে যে ভুল করি৷

তোমার কাজে কষ্ট কেন হবে

আমি রাজার কাজে

এসেছি যে ভবে

তোমার যখন ইচ্ছে হবে,

তুমি আমায় ডেকে নেবে৷

বলো প্রভু কাজ করে যাই

তোমার সুরে সুরে

দেখি এবার কেমন করে

রাখো আমায় দূরে৷

 

যেমন দ্যাবা তেমনি দেবী৷

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

তা যাই হোক আসল কথায় আসা যাক৷ তখন আমাদের শহরে বেগুনের দর এক পয়সা পসুরী  – দু’আনায় মণ অর্থাৎ এক পয়সায় পাঁচ সের৷ মণ্ডামোহন মুখুজ্জে জনৈক কুজরাকে  ( বিহারের যারা তরকারী বেচে তাদের বলা হয় কুজরা আর যারা তরকারী উৎপাদন করে তাদের বলা হয় কোইরী৷ কোইরীরা ধর্মে হিন্দু আর কুজরারা মুসলমান৷ আমাদের ওখানকার কুজরাদের মাতৃভাষা অঙ্গিকা৷ তাদের নাম হত মহারাজ কুজরা, শনিচারা কুজরা, এতবারী কুজরা ইত্যাদি) এক পয়সার বেগুন দিতে বলল, কুজরা পাঁচ সের বেগুন দিয়ে আট–দশটা বেগুন ফাউ দিয়ে দিল৷ মণ্ডামোহন বললে, – ‘তোর ফাউয়ের বেগুনেই আমার চলবে৷  বেগুন কিনতে আর হবে না৷ আমার পয়সাটা ফেরৎ দে৷’

বলা বাহুল্য মাত্র, মোহগ্রস্ত লোক অন্যের ঘৃণার পাত্র হয়৷ নিজেও অন্যকে ভয় পায়৷ মণ্ডামোহন তাই হয়ে উঠেছিল সবাইকার ঘৃণার পাত্র৷

* *  * *

সেবার পাড়ায় জাঁক–জমক করে কালীপূজো হচ্ছিল৷ পাড়ার ছেলেরা থিয়েটারের রিহারর্স্যাল দিচ্ছে৷ কারও কারও পকেট খরচার পয়সায় টান পড়েছে৷ আগে বাড়ীর বাজার খরচার পয়সা থেকেই কমিশন টানত৷ কিন্তু এখন খরচা বেশী হয়ে যাচ্ছে দেখে বাপ নিজেই বাজার করা শুরু করে দিয়েছে৷ তাই কমিশনের পয়সা কম হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি অতি–উৎসাহী ছেলে চাঁদার খাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল৷ সবাই যে যেমন পারল চাঁদা দিলে৷ মণ্ডামোহনের কাছে চাঁদা চাওয়া মাত্রই সে চোখ কপালে তুলে বললে – ‘‘ওরে বাবা কালী সে তো রণবাই চণ্ডী৷ আমরা পরম বৈষ্ণব৷ কালীপূজো আমাদের করতে নেই, পূর্ব–পুরুষের মানা আছে৷’’

ছেলেরা ভাবলে – সত্যিই বুঝি মানা আছে৷ তাই তারা ফিরে গেল৷ পরের দিন পাড়াশুদ্ধ লোককে বসিয়ে ভাল করে কালীর মহাপ্রসাদ দেবার ব্যবস্থা করা হল৷ দেখা গেল প্রথম পঙ্ক্তিতে প্রথম মানুষ যিনি পাত পেতে বসেছেন তিনি শ্রীযুক্ত বাবু মণ্ডামোহন মুখুজ্জে৷ বন্ধুরা বললে – ‘‘হ্যাঁরে মণ্ডামোহন, তুই  যে বললি তোকে কালীপূজো করতে নেই৷’’

মণ্ডামোহন বললে – ‘আমি তো বলেছি পূজো করতে নেই  কিন্তু পেসাদ খেতে নেই এমন কথা তো বলি নি৷ মায়ের পেসাদ না খেয়ে হাতী–ঘোড়া দূরের কথা, কীট–প্রতঙ্গও কি একদিনও বাঁচতে পারে? আমি ও তোমরা সবাই অর্থাৎ আমরা সবাই বেঁচে আছি কি করে দু’বেলা মায়ের পেসাদ পাচ্ছি বলেই না৷ এখন তোমরাই বল আমি এখানে পাত পেতে কী অন্যায়টা করলুম৷ এ যেন সেই ঃ

‘‘আমি বেহায়া পেতেছি পাত৷

কোন্ বেহায়া না দেয় ভাত’’৷৷

 

মণ্ডামোহন

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যে সকল অন্তর্নিহিত দুর্বলতা মানুষের ক্ষতিসাধন করে সেগুলিকে রিপু বলা হয়৷ আর জীবের এই অন্তর্নিহিত দুর্বলতা বা রিপুর সুযোগ নিয়ে বাইরে থেকে যে বন্ধন এসে জেঁকে বসে’ মানুষকে জড়িয়ে ধরে ........ আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরে ...... জগদ্দল পাথরের মত বুকে চেপে বসে সেগুলিকে বলা হয় পাশ৷ রিপু ছয়টি – কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য্য৷ আর এই রিপুগুলি থাকার ফলে যে পাশগুলি (পাশ মানে বন্ধনরজ্জু) মানুষকে বন্ধন করে তারা হ’ল সংখ্যায় আট৷

                ‘‘ঘৃণা–শঙ্কা–ভয়ং–লজ্

                                জুগুপ্সা চেতি পঞ্চমী

                কুলং–শীলঞ্চ–মানঞ্চ্

                                অষ্টপাশাঃ প্রকীর্ত্তিতাঃ’’৷৷

এই ঘৃণা–শঙ্কা–ভয়–লজ্জ্ (গোপন রাখবার ইচ্ছা বা কপটতা – ড়ম্ভহ্মপ্সন্তুব্জন্ব্দ্ ), কুলাভিমান, মানাভিমান ও গুণাভিমান এই আটটি হচ্ছে পাশ৷ এই ঘৃণা পাশের বীজমন্ত্র হচ্ছে ‘প’৷ একটি পাশ যে কেবল একটি রিপুতেই সন্নিবদ্ধ হয় তা নয়, একটি পাশের পেছনে একাধিক রিপুগত ত্রুটি থাকতে পারে৷ তবে ঘৃণা–ভয় পাশ দু’টি অন্যান্য রিপু–আশ্রিত হলেও এরা মুখ্যতঃ মোহ রিপুর পরিপোষকতা পায়৷ যেমন ধর, কারও মধ্যে পানাসক্তি রয়েছে৷ আকর্ষণ যেখানে জড়াভিমুখী, মনের গতি সেখানে নিম্নঢালুতে৷ গতি যেখানে নিম্নঢালু ক্রিয়া সেখানে ‘পত্ (পততি)৷ আসক্তির ফলে হয় পতন৷ আর গতি যেখানে  ঊর্ধ্বঢালুতে তাকে বলে অনুরক্তি ও অনুরক্তির চরম অবস্থার  নামই ভক্তি৷ এর জন্যে সংস্কৃতে ধাতু হ’ল ‘উর্ধ্ব গম্’ (ঊর্ধ্ব গচ্ছতি)৷ যার মধ্যে পানাসক্তিরূপী মোহগত দুর্বলতা রয়েছে সে সহজেই ঘৃণা ও ভয়ের দ্বারা বদ্ধ হয়৷ কেবল পানাসক্তিই নয়, যে কোন প্রকারের মোহ রিপু মানুষকে অন্যের কাছে ঘৃণিত ও অন্যকে তার কাছে ভয়ের বস্তু করে তোলে৷ সে যুক্তিতর্ক বর্জিতভাবেই মোহ আলেয়ার পেছনে ছুটে যায়৷ এই মোহ বৃত্তি সম্বন্ধে একটি গল্প মনে পড়ল৷

মোমিনপুরে থাকত আমার জানা–চেনা, কী যেন নামটা ... বোধ হয় মণ্ডামোহন মুখুজ্জে৷ মণ্ডামোহনকে কেউ বলত হাড়কেপ্পন, কেউ বলত দৃষ্টিকেপ্পন, কেউ বলত

আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে জল গলে না, কেউ বলত একটা পয়সা খসালেই ওর একটা পাঁজর খসে যায়, কেউ বলত ওয়ান পাইস ফাদার–মাদার, কেউ বলত এক পয়সা প্যাঁজ–ফুলুরী, কেউ বা রসিকতা করে বলত প্যাঁজ–পয়জার৷ আধুনিক ছেলেরা বলত, উপুড়হস্ত নো–নট–নেবার৷ কথাগুলো শুনে ও বেশ তৃপ্তি অনুভব করত৷

সেবার বেগুনের হয়েছিল অতি–উৎপাদন ৷ বিজ্ঞানসম্মত অর্থনৈতিক কাঠামো যে দেশে নেই সেদেশে অতি উৎপাদনকারীদের মাথায় হাত দিয়ে বসতে হয়৷ বেগুনের অতিরিক্ত ফলনে সেবার বাঙলার চাষীদের মাথায় হাত দিয়ে বসতে হয়েছিল৷ নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানায় বেগো গাঁয়ে গিয়ে দেখি চাষীরা কাটারিতে বেগুন টুকরো টুকরো করে গোরুর জাব খাবার ডাবায় নুন মাখিয়ে ঢেলে দিচ্ছে৷ গোরু মুখ দিতে গিয়ে যেই দেখছে বেগুন অমনি নাক সিঁটকে মুখ ঘুরিয়ে বলছে – হুঁ ... বেগুন.... হাম্বা হাম্বা৷ ডাবার আর একটা কোণ ঘেঁসে যেই আবার মুখ রাখতে যাচ্ছে সেখানেও ওই একই কাহিনী৷ আবার সে ভুরু কঁুচকে মুখ বেঁকিয়ে বলছে – উঁ...... আবার বেগুন ...... হাম্বা হাম্বা৷ চাষীরা দেখলে – গোরু জাব খাওয়া ছেড়ে  দিয়েছে, এবার দুধ বন্ধ হয়ে যাবে৷ তাই তারা গোরুকে বেগুন দেওয়া বন্ধ করে দিলে৷

বীরভূমের রামনগরের চাষীরা বনেদী বেগুনচাষী৷ ওখানে গিয়ে শুনলুম, ওরা গাছ থেকে বেগুন তোলা ছেড়েই দিয়েছে৷ ওরা আমাকে বললে, ‘‘বাবু, বেগুনগুলো গাছেই পচুক৷ ওতে বরং গাছের সার হবে’’৷ পাঁজিপাড়া যাবার সময় পাইনি৷ তাই ওখানকার ডাকসাইটে বেগুনের কী দশা হয়েছিল বলতে পারছি না৷ আমাদের শহরে সে সময় পসুরী হিসেবে পাইকারী বাজারে কেনাবেচা হত৷ ৫ সেরে হত ১ পসুরী, আর ৮ পসুরীতে হত ১ মণ৷ তবে সেরের হিসেব সব জেলায় এক রকম ছিল না৷ প্রমাণ পরিমাপের সের বলতে বোঝাত ৮০ তোলাকে৷ কিন্তু আমাদের মুঙ্গেরে চলত ৮৪ তোলা৷ আবার পাশের জেলা ভাগলপুরে কোথাও কোথাও ১০০, ১০১, ১০৩ তোলা চলত৷ কোথাও বা ১০৫ তোলায় ১ সের৷ ৬০ তোলার সেরকে কাঁচি হিসেব বলা হত৷ তাই সে যাই হোক, সেবার অতি–উৎপাদনের সময় আমাদের শহরে বেগুনের ফ্যালা–ছড়া৷ মণ্ডামোহনের বাড়ীতে তিন মাস ধরে কেবল ভাত আর বেগুন–পোড়া চলত৷ পাড়ার মেয়েরা মণ্ডামোহনের স্ত্রী শ্রীমতী মিথ্যাময়ী দেবীকে জিজ্ঞেস করত ... ‘‘হ্যাঁ গা মর্কটের মা, (মণ্ডামোহনের ছেলেটির নাম ছিল মর্কট মোহন মুখুজ্জে৷ সে লটারির টিকিট বেচত আর টিউশানি করত৷ জলখাবার ছাত্রের বাড়ীতেই পাওয়া যেত – তবে ছুটির দিনে হরিমটর চিবিয়ে থাকাই পছন্দ করত)৷ আজ কী রাঁধলে গা?’ সে বলত, ‘আজ সেই ভোর থেকে দুপুর বারটা অবধি একটানা হেঁসেলে থাকায় ঘাড়–পিঠ টনটন করছে’৷ লোকেরা শুধোলে, ‘তা অতক্ষণ ধরে কী রাঁধলে গা?’ সে বললে, প্রথম পাতের জন্যে রাঁধলুম নিম–বেগুন  তারপর বেগুন বোঁটার চচ্চরি, ... তারপর বেগুনের কোপ্তা .... তারপরে বেগুনের কোর্মা ... তারপরে আদা বাটা দিয়ে বেগুনের ঝাল....সর্ষে বাটা দিয়ে বেগুনের ঝাল আর শেষ পাতে এখো গুড় দিয়ে বেগুন বীচির পায়েস৷ বেগুন–পোস্ত করব ভেবেছিলুম৷ উনুনে আঁচ না থাকায় আর করা গেল না৷ বেগুনপোড়া–টোড়া হেঁসেলের ত্রিসীমানায় ঘেঁসতে দিই না৷ ওইসব গরীবদের জন্যেই থাকুক৷’

 

কীর্ত্তন

লেখক
রবীন্দ্রনাথ সেন

বাউলে ভরা এই রাঢ়ের ভূমিতে

কীর্তন জন্ম নিল তারই প্রেরণাতে৷

বাউল আশ্রয়ী এই রাঢ়ীয় কীর্ত্তনে

ভাব মাধুর্য্যে ভরা ঈশ্বরীয় গানে৷

কানের ভিতর দিয়া মরমে সে পশে

আকুল করে প্রাণ কোন্ সে আবেশে৷

মাটির কবি জয়দেব চণ্ডীদাস ঠাকুর

নোতুন মূর্চ্ছনায় বেঁধেছিল কীর্ত্তনের সুর৷

সেই সুর ভেসে চলে গ্রাম হতে গ্রামে

‘তোমারে ধরিতে চাই তোমার কীর্ত্তন নামে’৷

মহাপ্রভু এলেন যেদিন রাাভূমি ’পরে

অপূর্ব এই বাউল কীর্ত্তন স্পর্শ করে তারে৷

স্বতঃ প্রবৃত্ত নিমাই ঠাকুর গেলেন বলে

কীর্ত্তন করিব আমি, ‘রাঢ়ী সুরে রাঢ়ী বোলে৷’

 

কাশ-বালিকা

লেখক
জয়তী দেবনাথ

 

কাশ-বালিকা, কাশ-বালিকা

                                কে-গো, তুমি বলো৷

মোদের সাথে লুকোচুরি,

                                কেন এমন খেলো?

 

তোমার ছোঁয়ায় মাতলো ভূবন,

                                ওগো  মায়াবিনী৷

কাশ বালিকা তুমি কি শুধুই

                                রূপকথারই  রাণী?

 

তোমার রূপে  মুগ্দ  শরৎ

                                উঠলো এমন মেতে

ভরছে পবন সুরভীতে,

                                সে-কি বিপুলানন্দে!

 

কাশ বনের ওই শোভা দেখি,

                                দুটি নয়ণ ভরে ৷

তৃষিত মোর দৃষ্টি কেবল,

                                কাশ বালিকার তরে৷৷

 

কাশ বালিকা  কাশ বালিকা              বলো না তুমি কে-গো৷

আভাস শুধুই পাই যে তোমার

                                দেখতে পাই নে তো৷৷

 

কবিতা

লেখক
কবি রামদাস বিশ্বাসের

আত্মসুখতত্ত্বে মজে

মারছে মানুষ মানুষে৷

উড়ছে আকাশপথে মানুষ

দেখছে চেয়ে ফানুষে৷

 

একলা বসি গুণছি সময়

কইবো কথা সবার সাথে,

বন্ধুরা সব এস ত্বরায়

এই মধুময় শারদ রাতে৷

 

তুলসী তলায় সাঁঝের বাতি

জ্বলছে ঘরে ঘরে৷

গাঁয়ের বধূ ঘোমটা টেনে

সেথায় প্রণাম করে৷৷

 

সাহিত্য

লেখক
জয়তী দেবনাথ

বড্ড আদরে বিধাতা তুমি,

গড়লে এই ভূবন৷

স্বর্গতুল্য করতে ধরা

সাহ্যিত্যের হল চয়ন৷৷

 

হৃদয় মাঝে সাহিত্য

যেন সুধার ধারা৷

সাহিত্যের ছোঁয়ায় হৃদয়,

হয় যে দুঃখহারা৷৷

 

রবির কিরণ যেমন করে

ঘুচায় সকল কালো৷

হৃদয়-মাঝে সাহিত্যও

তেমনি রবির আলো৷৷

 

মেঘে যখন হৃদয় ঢাকে,

লাগে দিশাহারা৷

সকল পুলক, সকল সুখ

হয়ে যায় সারা৷৷

 

সাহিত্যের হাওয়া তখন

লাগল যদি মনে৷

সকল মেঘ পড়বে ঝরে

কাটবে আঁধার ক্ষণে৷৷

 

সাহিত্যের এমনই জোর---

ভাষায় ভরা সুধা,

তার বলেই হৃদয়ের

মেটে অপার ক্ষুধা৷৷

 

সাহিত্যের রঙে রাঙিয়ে

দেখো হৃদয়খানি৷

মনের মাঝে পাবে শুধু

সুখেরই হাতছানি৷৷

 

মহাপুরুষের লক্ষণ

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যে ধরণের ভাবা উচিত নয় কেউ সেই ধরণের ভেবে থাকলে  তাদের জন্যে ঠাট্টা করে ‘স’ শব্দ  ব্যহৃত হয়ে থাকে৷ এই ‘স’ শব্দ প্রসঙ্গে আমার আবার আক্ল্মন্দ সিং - এর কথা মনে পড়ে গেল৷ একবার পরপর কয়েকদিন ধরেই আক্ল্মন্দের দেখাসাক্ষাৎ পাচ্ছিলুম না৷ তারপর একদিন হঠাৎ মীরজাপুর বাজারে মাদুর কিনতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল৷ তাকে বললুম, ‘হ্যাঁরে আক্ল্মন্দ, এতদিন তোর দেখা পাচ্ছিলুম না কেন!’ সে ললে ‘দারুণ ব্যস্ত ছিলুম’৷

আমি বললুম, ‘ব্যস্ত! ব্যস্ত তুই তো কখনও থাকিস না’৷ সে বললে---‘ব্যস্ত মানে, আমার গুরুজী এসেছিলেন৷ তাঁকে নিয়ে সমুদ্রের  তীরে রোজ বেড়াতে যেতুম কি না’৷     

আমি বললুম, ‘তাহলে ক’টা দিন তোর খু আনন্দেই কেটেছে, সৎসঙ্গ পেয়েছিলি৷’

সে বললে, ‘সৎসঙ্গ লে সৎসঙ্গ! গুরুজী আমার প্রকাণ্ড ড় রকমের মহাপুরুষ৷ এমন সৎসঙ্গ মানুষের জীবনে খুব কমই ঘটে থাকে’৷ আমি বললুম, ‘তিনি মুখ্যতঃ ধর্ম সম্বন্ধেই কথা বলেছিলেন, না সৎ নীতি সম্বন্ধে বলেছিলেন’?

সে বললে, ‘ধর্ম সম্বন্ধে তেমন কিছু বলেন নি৷’

আমি বললুম, তবে কি তিনি নীতি সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তর্ে কি সমাজ -সংস্কার সম্বন্ধে বলেছিলেন?

সে বললে ‘তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তর্ে কি তিনি বিভিন্ন ধরণের পরাবিদ্যা সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও-ও-ও নয়’৷

আমি বললুম,‘তবে কি তিনি অপরাবিদ্যা সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘না  তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম,‘তবে কি তিনি বিজ্ঞান সম্বন্ধে বলেছিলেন?

সে বললে, ‘না তো, তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে কি তিনি দর্শন সম্বন্ধেই বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘না তো, তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে  কি তিনি সৎপথে চলবার জন্যে কাঝকা শাসন করেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে কী করে ঝলি তিনি মহাপুরুষ?’

সে বললে, ‘একবার নয়, একশ’ বার ঝেছি তিনি মহাপুরুষ’৷

আমি বললুম , মহাপুরুষ তো নিশ্চয়৷ তবে জানতে ইচ্ছে হয় তুই কী করে বলি তিনি মহাপুরুষ’৷

সে বললে, ‘‘আমি তাঁর সেবার জন্যে দশ সের গরমাগরম জিলিপি একটা পরাতে সাজিয়ে দিয়েছিলুম৷ দশ সেরই তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাড় করে দিয়েছিলেন৷ মহাপুরুষ না হ’লে এমনটি কেউ পারে? তুমি কি পারবে? আমি কি পারবো?

তাহলে ঝলে, এই ধরণের ব্যাপারকে ‘স’ বলা হয়৷

 

সেই দিনগুলো

লেখক
জয়তী দেবনাথ

ছোট্টবেলার সেই মজাটা যে

এখন আর নাই৷

ইচ্ছে বড়ো ওইদিনে

আবার ফিরে যাই৷৷

 

দিনগুলো তখন একটু

অন্যরকম ছিলো৷

আজ যে দেখি অনেক কিছুর

মানে বদলে গেল৷৷

 

একই আছি সেই আমি

একই জল হাওয়া৷

তবুও কেন বদলে গেল

চাওয়া---না চাওয়া৷৷

 

আগের সেই গ্রীষ্ম বর্ষা

এখন আর নাই৷

শরৎ আর হেমন্তও

বদলে গেছে তাই৷৷

 

শীত বসন্তের সেই মজাটা

কেমনে ফিরে পাই?

সত্যি! আমার ইচ্ছে হয়

সেথায় ফিরে যাই!!

 

পরমাশ্রয়

লেখক
বিভাংশু মাইতি

 

 

সপ্তসিন্ধু উদক ঢালিয়া

                                                ধৌত করে যার শ্রীচরণ

কোটি সূর্য প্রদীপ জ্বালিয়া

                                                নতশিরে যারে করিছে বরণ

মহাবিশ্বের মহাধিপতি

                                                তিনিই শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তি

সকল জীবনের পরমাগতি

                                                তাঁকেই সতত কোটি প্রণতি৷

 

বিহগ-মৃগ-বন লতা-পাতা

                                                ফুল-পল্লব গাহে তারই গাথা

সূর্য-চন্দ্র-গ্রহ-তারকায়

                                                অদ্রিশৃঙ্গে তাহারই বারতা৷

 

সকল জীবের পরমাশ্রয়

                                                সকল ক্লেশের পরম ত্রাতা

যে পারে ধ্যানে ধরিতে তাঁহারে

                                                তারে ধরে রাখেন সেই বিধাতা৷