সকল মানুষের  ধর্ম এক

লেখক
অরুণাভ সরকার

‘‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ, পরধর্র্মে ভয়াবহঃ৷’’ গীতোক্ত এই  আপ্তবাক্যের  সাধারণভাবে  যে অর্থ করা হয় তা হলো --- যে যে ধর্মমতে  বিশ্বাসী তার কাছে  সেই ধর্মটি  শ্রেষ্ঠ৷ অপরের ধর্ম  গ্রহণ করা বা ধর্র্মন্তরিত  হওয়া ভয়াবহ৷ তাই বিভিন্ন  ধর্ম মতাবলম্বীই  এ আদর্শ গ্রহণ করে নিজ নিজ ধর্মমতের  স্বপক্ষে অকাট্য যুক্তির  অবতারণা  করে থাকেন৷ কিন্তু  প্রকৃত অর্থ কি তাই?

স্বাধ্যায় করতে না  জানলে শাস্ত্রপাঠ নিরর্থক৷ শাস্ত্রের  প্রতি  কথার  আধ্যাত্মিক  অর্থ অনুধাবন  করাই স্বাধ্যায়৷ গীতায়  শ্রীকৃষ্ণ কোনও  বিশেষ ধর্মমতের নাম উল্লেখ  করেন নি৷  তাঁর বাণী প্রতিটি  মানুষের  জন্য প্রযোজ্য৷ মানুষকে  বুঝে নিতে  হবে তার ধর্ম কী? স্বধর্ম অর্থে স্বভাব ধর্মকে বোঝানো  হয়েছে৷ নিজ নিজ স্বভাব ধর্মই তার প্রকৃত  ধর্ম, সে ধর্মের  বিশিষ্ট  কোন নাম নেই৷ সকল মানুষের  ধর্ম একপ্রকার৷

স্বভাব ধর্ম কি? প্রতিটি মানুষের  স্বভাব হলো সুখের  অন্বেষণ করা৷ বিশ্বের  এমন কোন দেশ নেই বা স্থান নেই  যেখানকার  মানুষ দুঃখ চায়৷ ‘‘সুখানুরক্তিঃ পরমা জৈবী বৃত্তিঃ৷’’ প্রতিটি জীবের ধর্মই সুখানুরক্তিঃ পরমা জৈবী বৃত্তিঃ৷’’ প্রতিটি  জীবের ধর্মই সুখানুরক্তি৷ সেই সুখ  মানুষ নিরবচ্ছিন্নরূপে  পেতে চায়৷ ‘‘নাল্পে  সুখমস্তি, ভূমৈব সুখম্৷ অনন্তং সুখম আনন্দম্৷’’ অনন্ত সুখেরই নাম আনন্দ৷ আনন্দই প্রতিটি মানুষের  স্বভাবগত চাহিদা৷ কোন্ পথে চললে জীবনে পরম আনন্দ উপলদ্ধি  করা যাবে তাই মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে৷ প্রকৃত পথ নির্দেশনা  পেয়ে গেলে  তাকে  বলব আনন্দের  পথ তথা ‘‘আনন্দমার্গ’’৷ যে পথিক  সেই চরম ও পরম পথ ধরেছে তাকেই বলি ‘‘আনন্দমার্গী’’৷ সংসারে কেই বা দুঃখ মার্গে চলতে চায়৷ তাই সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে সকল মানুষই  আনন্দমার্গী, আনন্দের  পথ ধরে চলাই সবার ধর্ম৷

বিষয়ানুরক্ত মানুষ অনন্ত চাহিদার পূর্তির পথ সহজে খুঁজে পায় না৷ কারণ জড়াধার,ভাবাধার  ও চেতনার--- এই তিনভাগে  মানুষের  ব্যাষ্টিত্ব বিভাজিত৷ ভৌতিক ভোগের  দ্বারা জড়াধারের  প্রয়োজন মেটে  কিন্তু পরিতৃপ্তি হয় না৷  কারণ ভাবাধার ও চেতনাধারের পরিপূর্ণতা আসে  মানসিক  ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের  মধ্য দিয়ে৷  এমনিভাবে ত্রিবিধ ধারায়  স্বীয়  সত্তাকে  প্রয়োজনানুসারে  প্রধাবিত করে নিয়ে যাওয়ার  উপরই  নির্ভর করে আনন্দোপলব্ধি৷ এটাই মানুষের  প্রতিদিনের  কর্ম, এই হলো মানুষের ধর্ম সাধনা৷

পরম আনন্দের  পথে চলে স্বভাবের  ‘অনুকূল  বেদনীয়ম’ অনুভব করাই  প্রকৃত মানবধর্ম,তাই শ্রেয়৷ বিষয়লিপ্ত  মানুষ ভোগের  স্রোতে  পাল তুলে  দিয়ে যদি  বিপরীত  পথে  চলে তবে  তাই ভয়াবহ৷  অন্ধ তমিস্রার  পথে পরম জড়ত্ব প্রাপ্ত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষ দুঃখের  সাগরে নিমজ্জিত  থাকে৷  তাই পরধর্ম মান হলো  ভোগাশ্রিত  জড় জীবন৷ কর্ম নিবন্ধন  জন্মজন্মান্তর  ধরে  কর্মফল  ভোগ  করতে থাকে ৷ এ তত্ত্ব বিশ্ব সংসারে  প্রতিটি মানুষের  ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷ তাই সবার ধর্ম এক৷ ধর্ম একাধিক  হতেই পারে না৷ অতএব মানুষের ধর্মকে কোন বিশেষ নামে আখ্যায়িত করাই মূঢ়তা৷

হিন্দু ধর্ম, ইসলাম ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খৃষ্টি ধর্ম, জৈন ধর্ম ইত্যাদি যে সমস্ত  ধর্মের  নাম আমরা  শুনতে পাই  তার কোনটাই প্রকৃত ধর্মকে বোঝায়  না৷ তা হলো  ধর্মীয়  মতবাদ  বা উপধর্ম ইংরেজীতে যাকে বলে ‘রিলিজিয়ন’ আর আরবীতে বলে মজহব৷ ধর্ম কথার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘ধৃ’ ধাতুর উত্তর ‘মণ’ প্রত্যয় অর্র্থৎ যা ধারণক্ষম৷ প্রতিটি বস্তুর যেমন নিজস্ব স্বভাব বা গুণ রয়েছে যা ধারণ করে তার সত্য পরিচয়কে প্রস্ফুটিত করে তুলেছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি জীবের নিজস্ব  স্বভাব তার পরিচয়কে  বহন করে চলেছে৷ মানুষের  ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নেই৷  যেমন জলের ধর্ম শীতলতা, তারল্য ও নিম্নাভিমুখী গতি বরফের ধর্ম ধবলতা, আগুনের  ধর্ম উত্তাপ, তেমনি মানুষের ধর্ম অনন্ত  পরিমাণে সুখকে  পাওয়ার  ইচ্ছা বা এষণা৷ তাই সকল  মানুষই ছুটে চলেছে আনন্দ কুম্ভের  সন্ধানে৷ তার চলার  গতিকে, ছন্দকে, চলার লক্ষ্যকে যথাযথ করে দেওয়াই ধর্ম সাধনার কাজ৷ মানুষের ধর্মই প্রতিটি  মানুষের  স্বধর্ম, মনুষ্যেতর তথা পশুর ধর্মই তার পরধর্ম৷ প্রকৃত ধর্মের  বিরুদ্ধাচরণ করলে মানব জীবন পেয়েও জড়ত্ব ও পশুত্ব প্রাপ্ত হয়ে জন্মান্তরে কোটি কোটি  বৎসর ধরে পশুজীবনের ক্লেশে দগ্দ হতে থাকে৷ সে পথ ভয়ঙ্কর৷ তাই মানুষ মাত্রেরই তা বর্জনীয়৷ প্রকৃত ধর্মের  সংজ্ঞাই  মানুষ ও পশুর মধ্যে মূল প্রভেদকে স্পষ্ট করে  দেখিয়েছে৷ বাস্তবিক জৈব ধর্ম অনুসারে  মানুষ ও পশুতে তফাৎ নেই বললেই চলে৷ ঋষি তাই বলেছেন---

আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুনঞ্চ সামান্য মেতদ্  পশুভির্ণরাণাম্ ৷

ধর্র্মেহি তেষামধিকো বিশেষো ধর্মেন হীনা পশুভিঃ সমানাঃ৷৷

 অর্র্থৎ আহার নিদ্রা ভয় ও মৈথুন এই চারটি জৈবীবৃত্তি মানুষ ও পশু উভয়েতেই বিদ্যমান৷ কিন্তু ধর্মবিহীন মানুষ পশুর সমান৷  আনন্দমার্গ দর্শনের  চিন্তাধারায় ধর্মবিহীন মানব জীবন পশুর চেয়েও অধম জীবন৷ কারণ মানুষ বিবেক-বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ধর্মবিহীন হয়৷

কোনও মহাপুরুষের  বা অবতারের  নামের লেবেল দিয়ে তাঁর মতবাদ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়---এ ধরণের  চিন্তাধারায় সুস্থতার কোন লক্ষণ নেই৷  কোনও  মহাপুরুষ  ধর্মের  সৃষ্টি করেন নি৷  ধর্মই  অগণিত মহামানবের সৃষ্টি করেছে৷  ধর্ম শাশ্বত--- ধর্ম পূর্বেও ছিল, আজও  আছে, আর চিরকাল তা থাকবে৷ শুধু মানুষকে  তা অনুসরণ করার পথ  বাৎলে  দিতে  হবে৷ মজহবী চিন্তাধারা প্রকৃত ধর্মের  পথ  নয়, বরং  প্রকৃত ধর্মের পথে  বাধা স্বরূপ৷ মানুষে  মানুষে  বিভেদের প্রাচীর খাড়া  করে মানব  সমাজকে  খণ্ড বিখণ্ড করে দিয়ে যুগে যুগে  কালে কালে সাম্প্রদায়িকতার  বিষবাষ্প ছড়িয়ে চলেছে  এই মজহবী ধর্ম বা রিলিজিয়ন৷ এ ধরণের  ধর্মীয় মতবাদ সমাজে  কোনও  দিন শান্তি প্রতিষ্ঠা  করতে পারবে  না৷ এ সমস্ত  ধর্মীয় মতবাদ বা রিলিজিয়ন অদ্যাবধি মতবাদের  বেড়াজালে  মানুষকে নিক্ষিপ্ত করে হানাহানি  ও রক্তারক্তি কলঙ্কময় ইতিহাস রচনা করেছে, গোটা পৃথিবীর বুকে৷ আজ যখন সভ্যতার  ইমারৎ গগনচুম্বী তখনও তথাকথিত  ধর্মের  শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারে নি মানুষ৷

প্রকৃত ধর্ম বা মানব ধর্ম আর মজহবী ধর্ম বা উপধর্ম তথা রিলিজিয়ন-এর তফাৎগুলো বিশেষভাবে  লক্ষণীয়  ও অনুধাবন যোগ্য ঃ---

‘‘ধর্মস্যতত্ত্বং নিহিতং গুহায়াম৷’’ অন্তরের অন্তঃস্তলে  মনের গহীন গুহায়  নিহিত রয়েছে  ধর্মের তত্ত্ব--- বিশ্বের জ্ঞান ভাণ্ডার৷ প্রকৃত পথে সাধনা  করে গেলে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মত প্রবাহিত ধর্মের প্রবাহ প্রতিটি মানুষের জীবন ধারায়, তার কর্মে প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠবে৷ তার ধর্ম কোনও প্রকার বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠান, দিক্-বিদিক, তিথি নক্ষত্র বা কোনও  বস্তুর উপর নির্ভরশীল থাকবে না৷ জীবনচর্র্যয় তা  স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠবে৷ ঝর্ণাধারার মত স্বতঃপ্রবাহিনী হয়ে জীবনকে  মহিমাহিত করে তুলবে৷ সে ধর্মই প্রকৃত ধর্ম৷ প্রতিটি মানুষের  আপন ধর্ম৷ তার কোন বিকল্প নেই, নেই কোন পরিবর্তন-পরিবর্দ্ধন৷  সে ধর্মের ক্ষয় নেই নিন্দা-প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করে বা সশস্ত্র আক্রমণের দ্বারা তাকে ঠেকিয়ে রাখা যায় নি, কোনও কালে যাবেও না৷ যতো ধর্ম ততো ইষ্টঃ, যতো  ইষ্টঃ ততো জয়ঃ৷

 

ধর্ম

প্রকৃত ধর্ম বা মানবধর্ম

মজহব বা রিলিজিয়ন (উপধর্ম/ধর্মীয় মতবাদ)

১৷   ‘ধৃ’ ধাতু ‘মন্’ প্রত্যয় করে  ‘ধর্ম’ শব্দ নিষ্পন্ন যার অর্থ ধারণ করা৷ কোন ভাষাতেও তার প্রকৃত প্রতিশব্দ নেই, ইংরেজীতেও নেই৷ প্রকৃত ধর্ম  এক ও অখণ্ড৷

১৷   সংস্কৃতে একে উপধর্ম,আর ধর্মীয় মতবাদ, আরবীতে মজহব এবং ইংরেজীতে রিলিজিয়ন বলে৷ এ ধরণের  ধর্ম পৃথিবীতে অনেক  রয়েছে৷

২৷   ব্যবহারিক  জ্ঞান ও বিবেক পূর্ণ বিচারশীলতার উপর প্রতিষ্ঠিত৷

২৷   ভাবাবেগ প্রসূত বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত৷ কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধ বিশ্বাস বলা চলে৷

৩৷ যুক্তিপূর্ণ অথচ পরম সত্যাশ্রিত৷

৩৷ তথাকথিত শাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল৷ শাস্ত্রগুলো  সবই ঈশ্বরের বাণী বলে কথিত অথচ একেক শাস্ত্রের একক মত৷ পরস্পর বিরোধী মতাবাদের অভাব নেই৷

৪৷   বিশ্বজনীন তাৎপর্য্যপূর্ণ ও বৈষ্টিকভাবে অধ্যাত্ম অনুশীলন  দ্বারাই তাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়৷

৪৷ আঞ্চলিক ভেদাভেদ, ভাষাগত  অসহিষ্ণুতা, গোষ্ঠীগত প্রবৃত্তি, জাতসম্প্রদায়, কুসংস্কার ও আচরণ সর্বস্ব৷

৫৷   কোনপ্রকারের শোষণের  সুযোগ  নেই, কায়েমী স্বার্থবাদ ও  দলীয় মনোভাবের  স্থান নেহ৷ বিশ্বভ্রাতৃত্বই সামাজিক  লক্ষ্য৷

৫৷ রোহিততন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, পোপতন্ত্র, গুরুতন্ত্র ইত্যাদির  অপ্রতিহত শোষণ চলতে থাকে৷

৬৷ প্রেম, মৈত্রী, করুণা স্বাতন্ত্র্য ও সমতার  উপর প্রতিষ্ঠিত৷

৬৷ যুক্তিহীনতা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধবিশ্বাস ও ভয় প্রসূত বিশ্বাসের  উপর প্রতিষ্ঠিত৷

৭৷   স্থান-কাল-পাত্রের বন্ধনে  আবদ্ধ নয়৷  স্বজাতীয় বিজাতীয়  স্বগত  কোনও  প্রকার  বিভেদ নেই, চিরন্তন দ্বন্দ্বাতীত৷

৭৷   কুসস্কারাচ্ছন্ন মতবাদ ও তার প্রয়োগ  স্থান, কাল ও পাত্রের পরিবর্তনের  সাথে সাথে   পরিবর্তিত  হতে থাকে৷  আপেক্ষিক  তত্ত্বের  ওপর নির্ভরশীল  বলে চিরকাল  স্থায়ী হয় না৷

৮৷ ধর্র্মেপলব্ধির জন্য একমাত্র মনের প্রয়োজন৷ আধ্যাত্মিক  আত্মানুশীলনের  দ্বারা, মনের ব্যাপ্তি ঘটিয়ে  উপলব্ধি  হয়ে থাকে  ও তাতে  মনের  গতি অন্তর্মুখী হয়৷

৮৷ আচরণসর্বস্ব Ritualistic) জাগতিক  বিষয়ের ব্যবহার, পবিত্র স্থান, পবিত্র স্নান ইত্যাদির  মাহাত্ম্য প্রচার  দ্বারা মনের গতিকে  বহির্মুখী করে তোলে৷

৯৷ ব্যষ্টি ও সমষ্টির  প্রতি বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি  ও আবেদন  নিয়ে  সবার  সমভাবে কল্যাণ ভাবনা পোষণ করা হয়৷

৯৷ বিভিন্ন উপধর্মের আচরণগুলো পারস্পরিক শত্রুভাবাপন্ন  ও বিরোধী৷ ফলে  তা পারস্পরিক  অবিশ্বাস, অনৈক্য এবং ধবংসের কারণ স্বরূপ৷

১০৷ সংশ্লেষণাত্মক, সৃজনশীল বিবর্দ্ধনশীল ও প্রগতিশীল৷

১০৷ বিশ্লেষণাত্মক উৎপীড়নকর, অধঃপতনশীল ও অপ্রগতিশীল৷

১১৷ মানবত্বে  ঐক্যসূত্রে গ্রথিত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷

১১৷ মানুষে মানুষে  ভেদ প্রবণতা, পশুত্ব ও এমন কি খুন-খারাপির  পথে পরিচালিত করে৷

১২৷ ধর্মে  রয়েছে  বিশ্বজনীনতার পরম শক্তি  যা মানুষকে ‘হরমে  পিতা, গৌরীমাতা, স্বদেশ ভূবন ত্রয়ম্’---নীতির  শিক্ষা দিচ্ছে, এক লক্ষ্য  বিশ্ববন্ধুত্ব, বিশ্বপ্রেম, একজাতি একপ্রাণ--- এই ভাবনায়  প্রতিষ্ঠিত  করে এক বিশ্ব  মানব সমাজ গড়ে  তোলার প্রয়াস পাচ্ছে৷

১২৷ মানুষকে  আত্মকেন্দ্রিকতা , মানসিক বিচ্ছিন্নতা, কায়েমী স্বার্থবাদ, সংকীর্ণতা ও অনৈক্যের পথে  পরিচালিত করে৷

১৩৷ সবাকার  জীবনে  শান্তি প্রতিষ্ঠার  মাধ্যমে  পরমানন্দ উপলদ্ধিই ও জগৎকল্যাণ একমাত্র লক্ষ্য৷‘‘আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ৷’’

১৩৷ উপধর্ম  বড়বড় ভাব সমূহের প্রবচন দিয়ে থাকে৷ কিন্তু প্রকারান্তরে  কপটতা, ব্যষ্টিপূজা, বিচ্ছিন্নতা ও  সামাজিক  খণ্ডতার দিকে  নিয়ে যায়৷

১৪৷ যুক্তিসিদ্ধভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকৃত৷

১৪৷ অযৌক্তিক, কাল্পনিক ও অন্ধবিশ্বাস আরোপিত ঈশ্বরের ও সঙ্গে সঙ্গে বহু দেবদেবীর অস্তিত্ব স্বীকৃত৷

১৫৷ শরীর থেকে মন সূক্ষ্ম, মন থেকে আত্মা আরও  সূক্ষ্ম বা সূক্ষ্মতম৷  প্রকৃত ধর্ম জীবকে  স্থূলতা থেকে সূক্ষ্মত্বের দিকে  নিয়ে যার৷

১৫৷ অনষ্ঠান বহুল বিষয়াশ্রিত উপধর্ম জীবকে  স্থূলতা তথা জড়ত্বের  দিকে নিয়ে যায়৷ ‘‘যাদৃশী ভাবনা যস্য সির্দ্ধিভবতি তাদৃশী৷’

১৬৷ ধর্ম নিষ্কাম কর্মবাদ, সাত্ত্বকী ভক্তি ও কৈবল্য৷ ভক্তির পথে  পরমা  শান্তির  দিশারী৷

১৬৷ তামসিক ও রাজসিক ভক্তি, কর্মবন্ধন ও জন্মান্তরে  কর্মভোগ ও বিপাক ক্লেশযুক্ত বদ্ধজীবন লাভ হয়৷

১৭৷ ধর্মে স্বর্গ নরক, পাতাল  রসাতল, তীর্থক্ষেত্র, স্থান-মাহাত্ম, ঠাকুর-দেবতা, ভুত-প্রেত, দত্যিদানা, ভর-বশীকরণ, মারণ-উচাটন ইত্যাদির  স্থান নেই৷

১৭৷ স্বর্গ-নরকাদির  কাহিনী শুনিয়ে মানুষের  মনে ধর্মভীরুতার সৃষ্টি করে ধর্মের নামে শোষণ চালিয়ে যায়৷