আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

সদাশিবের আলোকে যোগ, রাজযোগ, অষ্টাঙ্গিক ও রাজাধিরাজ যোগ

পূর্ব প্রকাশিতের পর

কুসুমে সুরভি যে কেবল দেবতার কাম্য তা নয়৷ ভক্ত তার হৃদয়ের সুরভি দিয়ে মালা গাঁথে তার ইষ্টের জন্যে৷ কুসুমে সুরভি না থাকলে সে কুসুম ভক্তের কাছে কোন মূল্য বহন করে না৷ এখানে মনে রাখতে হবে, কুসুমের সুরভি আর ভক্তের হৃদয়ের কোমল মাধুরী দু’য়ে মিলে এক অনবদ্যতা এনে দেয়৷

সদাশিবের আলোকে যোগ, রাজযোগ, অষ্টাঙ্গিক ও রাজাধিরাজ যোগ

দর্শনশাস্ত্র প্রথম লিখলেন (তখন অক্ষর উদ্ভাবিত হয়েছে) মহর্ষি কপিল*৷  লোকে তাঁর পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হ’ল৷ প্রথম দর্শনের প্রবক্তা হিসেবে সমাজের সমস্ত পণ্ডিতেরাই এক বাক্যে ‘‘আদি বিদ্বান’’ বলে তাঁর মাথায় সম্মানের শিরোপা চড়িয়ে দিলেন৷ রাঢ়ের এই সারস্বত পুরুষ সৃষ্টিরহস্যের মূল কারণগুলো সংখ্যাক্ষদ্ধ করে বিদ্বৎসমাজে সাজিয়ে তুলে ধরলেন৷...

সদাশিবের আলোকে যোগ, রাজযোগ, অষ্টাঙ্গিক ও রাজাধিরাজ যোগ

আর্যরা ভারতে বসবাস করার  পরে অনার্য সমাজে জন্মেছিলেন এক বিরাট পুরুষ৷ মঙ্গোলীয়–আর্য মিশ্র কুলে জাত এই বিরাট পুরুষ ছিলেন উন্নতনাসা ও শুভ্রকান্তি৷ ইনি ছিলেন মহাতান্ত্রিক, মহাযোগী৷ অনার্য সমাজের এই মহাপুরুষ শিব নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন৷ একাধারে এত গুণ মানুষের মধ্যে যে থাকতে পারে এ কথা লোকে ভাবতে পারে না, তাই তাঁকে বলা হ’ত গুণাতীত বা নির্গুণ পুরুষ৷ তন্ত্রসাধনার ফলে এই শিব অর্জন করেছিলেন অলোকসামান্য শক্তি৷ এই শক্তিকে তিনি লাগিয়ে গেছলেন জনকল্যাণের কাজে৷ তন্ত্রশাস্ত্রকে সুসংবদ্ধরূপ ইনিই দিয়েছিলেন৷ তাই তান্ত্রিকের বা যোগীর ইনি ছিলেন গুরু–ইনি ছিলেন পিতা৷ এই ব্রহ্মজ্ঞ মহাপুরুষের দৃষ্টিতে উচ্চ–নীচ ভেদ ছিল ন

সংশ্লেষণের মহত্ত্ব

সংকোচনেই দুঃখ, আর ব্যাপ্তিতে পাওয়া যায় সুখ৷ মানুষ যখন ক্ষুদ্র বুদ্ধি তথা ক্ষুদ্র ভাবনার দ্বারা প্রেষিত হয়ে কাজ করে তখন সে ছোট হয়ে যায়, দুঃখ পায়, আর ক্ষৃহৎ ভাবনা নিয়ে কাজ করলে আনন্দ পায়, শান্তি পায়৷ যে মানুষ ক্ষুদ্র ভাবনা নিয়ে কাজ করে তার কী হয়? তার পথই বা কী? তার পথ বিশ্লেষণের পথ৷ এককে খণ্ড খণ্ড করার পথ৷ আর যে ক্ষৃহৎ ভাবনা নিয়ে কাজ করে, সে কী করে? সে অনেককে এক করে৷ তার পথ সংশ্লেষণের৷ তাই, সংশ্লেষণই জীবন (synthesis is life) সংশ্লেষণেই শান্তি (synthesis is peace) আর বিশ্লেষণ মানে মৃত্যু (analysis is death)৷

‘‘পিতা কস্য মাতা কস্য কস্য ভ্রাতা সহোদরাঃ৷

ভক্তির সর্ব্বোচ্চ ধাপ

‘আমি পরমপুরুষের দাসানুদাস, তাঁর কাজ তিনিই করছেন, আমি তাঁর যন্ত্রমাত্র’–এই যে মানসিকতা একেই বলে ‘প্রপত্তি’৷ ‘প্রপত্তি’ শব্দের ব্যুৎপত্তি হ’ল ঃ প্র–পত্-ক্তিন্ = প্রপত্তি৷ প্রপত্তিভাবের সাধক দুঃখকে দুঃখ, সুখকে সুখ বলে আদৌ মনে করেন না বস্তুতঃ সুখ–দুঃখকে তিনি সমভাবে প্রসন্নচিত্তে গ্রহণ করেন৷

মানবজীবনে সাফল্য লাভের রহস্য

বলা হয়েছে, পরমাত্মার কৃপা হলে ‘মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙঘয়তে গিরিম্’৷ অর্থাৎ যে মূক–বোবা সেও বাচাল হয়ে যায়, খুব কথা বলতে থাকে, আর পঙ্গুও পর্বত লঙঘন করতে পারে৷ পরমপুরুষের কৃপাতেই যে তা সম্ভব, এটা খুব সহজেই ক্ষোঝা যায়৷ কিন্তু আমি বলতে চাই– যে কোনো কাজই, মনে কর, মূক হয়তো বাচাল হচ্ছে না, কিন্তু কিছুটা কথা বলছে, পঙ্গু পর্বত লঙঘন করছে না, কিন্তু ধীরে ধীরে পাহাড়ে উঠছে– এটা কি মানুষ তার নিজের শক্তির সাহায্যে করে?

মানব ধর্ম

বৃক্ষলতার কিছু বিশেষ গুণ আছে৷ যেমন, মাটির নীচে থেকে রস টেনে নেওয়া৷ মানুষ নিতে পারে না৷ জন্তু–জানোয়াররাও নিতে পারে না৷ কিন্তু বৃক্ষলতারা মাটির থেকে রস টেনে নিতে পারে৷ বাতাস থেকেও এরা কিছু খাদ্য নেয়৷ যদিও জীবজন্তু, মানুষও কিছুটা তা করে, কিন্তু উদ্ভিদের মত অতটা নয়৷ একে আমরা বলতে পারি উদ্ভিদ–ধর্ম৷ বৃক্ষলতা পায়ের সাহায্যে খাদ্যগ্রহণ করে৷ তোমরা জান কি না?

নব্যমানবতাবাদ

মানুষ চলতে শুরু করেছে যখন, নিজের কথাটা যতটা ভেবেছে, অন্যের কথাটা ততটা ভাবেনি৷ অন্য মানুষের কথাও ভাবেনি, আর মনুষ্যেতর জীব–জন্তুর কথাও ভাবেনি, গাছ–পালার কথাও ভাবেনি৷ অথচ একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলে দেখা যাবে যে, নিজের কাছে নিজের অস্তিত্ব যতটা প্রিয়, প্রত্যেকের কাছে তাদের নিজের নিজের অস্তিত্ব ততটাই প্রিয়৷ আর সব জীবের এই নিজ অস্তিত্বপ্রিয়তাকে যথাযোগ্য মূল্য না দিলে সামগ্রিক ভাবে মানবিকতার বিকাশ অসম্ভব৷ মানুষ যদি ব্যষ্টি বা পরিবার,জাত বা গোষ্ঠীর কথা ভাবলো, সামগ্রিক ভাবে মানুষের কথা না ভাবলো–সেটা অবশ্যই ক্ষতিকর৷ কিন্তু মানুষ যদি সামগ্রিকভাবে জীবজগৎ, উদ্ভিদ জগতের কথা না ভাবলো সেটা কি ক্ষতিকর নয় মানবিক

জীবনবেদের গুপ্ত গায়ত্রী

যদি কোন বৃহৎ বা ভারী বস্তুকে কেউ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, তার পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে সেই বস্তুটার বীজটাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া৷ একটা গোটা বটগাছকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া খুব শক্ত৷ কিন্তু সেই বটবৃক্ষের একটা ছোট্ট বীজকে নিয়ে যাওয়া সহজ৷ বীজটাকে নিয়ে গেলেই গাছটাকে নিয়ে যাওয়া হ’ল৷