প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

প্রাউটের অর্থনীতি–ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

বিকেন্দ্রিত সামাজিক–অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অতি সহজেই কৃষি ও শিল্পের আধুনিকীকরণ করা যায় ও তার উৎপাদিত দ্রব্যের বাজারও সহজে পাওয়া যায়৷ এইভাবে যদি সামাজিক–র্থনৈতিক অঞ্চলগুলি আপন আপন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ ঘটায় তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলের মাথা পিছু আয়–বৈষম্য হ্রাস পাবে ও অনুন্নত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাকে উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমপর্যায়ে আনা যাবে৷ প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে৷ যখন প্রত্যেকটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আসবে তখন সমস্ত দেশই অতি দ্রুত অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করবে৷

প্রাউটের অর্থনীতি–ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

প্রাউটের অর্থনীতি–ব্যবস্থার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ওপর নিম্নে আলোকপাত করা হচ্ছে ঃ

নূ্যনতম প্রয়োজন ও ক্রয়ক্ষমতার গ্যারান্টী ঃ

প্রাউট প্রতিটি মানুষকে জীবন–ধারণের নূ্যনতম প্রয়োজন–অন্ন, বস্ত্র, আবাস, চিকিৎসা ও শিক্ষা–প্রদানের নিশ্চিততার (গ্যারান্টী) পক্ষপাতী৷ নূ্যনতম প্রয়োজনপূর্তির গ্যারান্টী দানের পর যে উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকবে তা যাঁরা বিশেষ দক্ষতার অধিকারী বা বিশেষ গুণ–সম্পন্ন যেমন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়র বৈজ্ঞানিক প্রভৃতির মধ্যে বন্টন করতে হবে, কারণ সমাজের সামূহিক উন্নয়নে এঁদের বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে৷

সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ

বিশ্বের যাবতীয় জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ গ্রহণ করতে হবে, ও যুক্তিসঙ্গত বণ্ঢন করতে হবে৷

স্থূল জগতে, সূক্ষ্ম জগতে ও কারণ জগতে যা কিছু সম্পদ নিহিত আছে তার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে জীব কল্যাণে৷ ক্ষিতি–অপ–তেজ–মরুৎ্– পঞ্চতত্ত্বের যেখানে যা কিছু লুকানো সম্পদ রয়েছে তা ষোল আনা সদ্ব্যবহারের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এর উৎকর্ষ সাধিত হবে৷ জল–স্থল–অন্তরীক্ষ তোলপাড় করে’ মানুষকে প্রয়োজনের উপাদান খুঁজে বের করে’ নিতে হবে–তৈরী করে’ নিতে হবে৷

ধনসঞ্চয় সম্পর্কে প্রাউটের নীতি

কোন ব্যষ্টিই সামবায়িক সংস্থার (collective body) সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ভৌতিক সম্পদ সঞ্চয় করতে পারবে না৷

 

আমাদের চাহিদা তিন ধরনের–

  • ভৌতিক (physical)
  • মানসিক (psychic)
  • আধ্যাত্মিক (spiritual)

অণুমন তার অনন্ত ক্ষুধা ভৌতিক উপাদান লাভের মাধ্যমেই তৃপ্ত করতে চায়, কিন্তু এই ভৌতিক সম্পদ যদিও বিপুল, তবুও অনন্ত নয়– সীমিত৷ ভৌতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন স্তরের মধ্যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক জগৎ অনন্ত৷ এই দুই স্তরে অণুমনের অনন্ত এষণার পরিতৃপ্তি হতে পারে৷ এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দেবে না৷

‘‘যাকে নিয়ে মোদের গর্ব এই সেই বাঙালী পূর্বাকাশে নূতন করে জ্বালাবে দীপালী’’

কোচ  ঃ  কুচ+ঘ=কোচ৷ ‘কুচ্’ ধাতুর অর্থ হ’ল আকর্ষণ করা, আশ্রয় দেওয়া, আশ্রয় দেওয়ার মত আকর্ষণ করা৷ যেমন শৈলোপকন্ঠ, যেমন সাগরবেলা , যেমন তরঙ্গ–কান্তার, যেমন হরিৎমেখলা৷ বরেন্দ্র রাঢ় তৈরী হবার বহু পরে হলেও অক্ষশিষ্ট বাঙলা যখন তৈরী হয়েছিল....সেও আজকের কথা নয়৷ সেও কয়েক লক্ষ বছর হয়ে গেছে৷ হয়তো সে সময়টা মানুষের আসার কিছুটা পরেই৷ তবে তা খুক্ষ বেশী পরে নয়৷ ওলিগোসিন ও মেসাজোয়িক এজের মধ্যবর্তী কোন একটা সময়ে নিশ্চয়ই ৷ পশ্চিম রাঢ়ের নদীগুলির দ্বারা বাহিত পলি বালিতে তৈরী হ’ল প্রথমে পূর্ব বরেন্দ্র রাঢ়, ও তার পরে পশ্চিম বরেন্দ্র রাঢ় ও পূর্ব রাঢ়ের নদীগুলির দ্বারা বাহিত পলি বালিতে দক্ষিণ দিক থেকে তৈরী হয়েছিল মেন স

সামাজিক মূল্য ও মানবিক মৌল নীতি

পূর্ব প্রকাকশিতের পর

আমাদের বক্তব্য হ’ল, মানুষকে নীচ করে, মানবতাকে অবহেলা করে, তাকে কখনও শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নেওয়া যায় না৷ শাস্ত্র তৈরী করে মানুষ নিজের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার জন্যে৷ শাস্ত্র শাসন করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু সে শাসন কখনও মানুষকে কবর দেবার জন্যে নয়৷ মানুষকে তার ন্ধন থেকে মুক্ত করে সবার উৎস সেই পরম সত্তার সাথে মিলিয়ে দেওয়াতেই শাস্ত্রের সার্থকতা৷ শাস্ত্র মানুষের টুঁটি টিপে হত্যা করবে, শুধু বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে জীবনের স্বাভাবিক গতিটুকুকে রুদ্ধ করে দেবে---মানুষের সমাজে তা কখনও সমর্থন করা যায় না৷

সামাজিক মূল্য  ও  মানবিক  মৌল নীতি

বর্তমান যুগ ও মানবিক মূল্য

বর্তমান যুগে জীবনের মূল্য নির্ধারিত হয় অর্থ দিয়ে৷ ‘‘যস্যাস্তি বিত্তম্ সঃ নরঃ কুলিনঃ সঃ পন্ডিতঃস শ্রুতবান্ গুণজ্ঞঃ স এব বত্তা স চ দর্শনীয়ঃ৷ সর্বে গুণাঃ কাঞ্চনমাশ্রয়ন্তি৷৷’’