প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সৈদ্ধান্তিক তত্ত্ব ও প্রয়োগ-ভৌমিক তত্ত্ব

যে সিদ্ধান্ত প্রয়োগভূমি থেকে আত্মপ্রকাশ করে তাকে স্বল্পায়াসেই বাস্তবে রূপায়িত করা যায়, সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে তবে তা প্রচেষ্টা, সময় ও সংযোগের ওপর নির্ভরশীল কিন্তু যখন প্রয়োগের দিকটা সিদ্ধান্ত তৈরী করার পরে আসে, তখন তা বাস্তবে রূপায়িত হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে

সর্বাধিক শিল্প–বিকাশ

প্রাউট অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী৷ তাই একস্থানের উন্নতি না করে’ সর্বত্র যাতে সমানভাবে প্রগতি হতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় সম্পদ ও শক্তি সামর্থ্যকে প্রথমে নিয়োগ করার পরিকল্পনা নিতে হবে৷ স্থানীয় এলাকায় কাঁচামালের সহজপ্রাপ্যতা, ও ওই এলাকার মানুষদের ভোগ্যপণ্যের প্রয়োজন অনুসারে সর্বাধিক শিল্প বিকাশ প্রয়োজন৷ এই নীতি বহিরাগতদের হাত থেকে অর্থনৈতিক ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের হাতে তুলে দেবে৷ এইভাবে ওই সামাজিক–অর্থনৈতিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রভূত বিকাশ সম্ভব হবে৷ প্রাউটের অর্থনীতি অনুসারে কৃষির মত অধিকাংশ শিল্পই উৎপাদক–সমবায় ও উপভোক্তা–সমবায়ের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত

বৃহত্তর বাঙলা

প্রায় ৫০০০ বছর আগে অষ্ট্রিক, মঙ্গোলিয়ন আর নিগ্রো রক্তের সংমিশ্রণ–জাত বাঙালী জনসমুদায় সৃষ্টি হয়েছিল৷ সেই সময় বাঙলার ভাষা ছিল সংস্কৃত, তাই বাংলাভাষারও পথনির্দেশক ভাষা হচ্ছে সংস্কৃত৷ প্রায় ১২০০ বছর আগে বাংলাভাষার এক রূপান্তরণ হয়েছিল৷ সেই সময় বাঙলা বলতে বোঝাত বর্তমানের পশ্চিমবঙ্গ, নেপালের ঝাপা জেলা, বিহারের পূর্বাংশ, সম্পূর্ণ বাঙলাদেশ আর বর্মা, মেঘালয়ের সমতল অংশ, প্রাগজ্যোতিষপুরের কিছু অংশ আর অসমের বরপেটা, কামরূপ ও নগাঁও৷ বৃহত্তর বাঙলার এই ছিল এলাকা৷ আজ বাঙালী বলতে বোঝায় দুই প্রকারের অভিব্যক্তি– ভারতীয় বাঙালী আর বাঙলাদেশী বাঙালী ৷ এই দু’য়ের মধ্যে একটা সংহতিকরণ বা মিশ্রণ অবশ্যই হওয়া উচিত৷

অর্থনৈতিক মন্দা

তোমরা জান অর্থনৈতিক জগতে মোদ্দা কথা হচ্ছে দু’টো । একটা হচ্ছে মুদ্রাকে বহতা রাখতে হবে, টাকাকে যতটুকু সময় অচল অবস্থায় রাখছ অর্থাৎ তার ক্রয়ক্ষমতাকে যতটুকু সময়ের জন্যে কাজে লাগাচ্ছ না, বুঝতে হবে ততক্ষণ তুমি আর্থিক জগতের ক্ষতি করে’ চলেছ । দ্বিতীয় কথা হচ্ছে টাকা প্রত্যক্ষ্যভাবে ও টাকার সুদ অপ্রত্যক্ষভাবে ধনকেন্দ্রিক  বৈষম্য ডেকে আনতে পারে যদি তা সন্তুলিত ভারসাম্যের একক হবার যোগ্যতা হারায় । আর্থিক জগতের এই মূল দুটি কথা আংশিকভাবে বিস্মৃত হলে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা (Economic Depression) দেখা দেবে ।

মানুষের সমাজ ও নীতিবাদ

 নীতি হচ্ছে একটা living force যার সাধনা মানসসত্তাকে অধিকতর মননশীলতার মাধ্যমে চরম সূক্ষ্মত্বে — পরমাপ্রজ্ঞায় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সেখান থেকে মানুষকে আর কোথাও নিয়ে যাবার প্রশ্ন থাকেনা—সেখান পর্যন্ত নিয়ে যাবার  প্রেরণা দিতে পারলে তবেই ‘নীতি’ নাম সার্থক হয়ে ওঠে ।

জাতি, ভাষা, ধর্মমত ও সংস্কৃতিতে বিশ্বজনীনতা

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হ’ল ‘‘জাতি(race)ভাষা প্রভৃতিতে বিশ্বজনীনতা’’ যদিও মানুষের ভাষা, বর্ণ ইত্যাদিতে কিছু কিছু আপাত বৈষম্য রয়েছে, তথাপি মানুষের এই সকল অপরিহার্য বিষয়গুলি কিন্তু এসেছে একই উৎস থেকে, এইসব এসেছে সেই একক সত্তা পরমপুরুরুষ থেকে । ভাষাগত বৈষম্য,  বর্ণগত বৈসম্, জাতিগত বৈষম্য আছে ঠিকই, কিন্তু এই সবই বাহ্য ও আপাতদৃষ্ট । মুখের ভাষা নয়, আসলে হৃদয়ের ভাষা, সেন্টিমেন্টের ভাষাই শুণতে হবে ।

সামাজিক-অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ

সভ্যতার উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে জেগেছিল শিল্প সৃষ্টির এষণা ও প্রেষণা। এষণাই প্রেষণাকে ডেকে আনে। সভ্যতার প্রথম ধাপে শিল্পমাত্রেই ছিল কুটির শিল্প। নারী-পুরুষ-বালক-বালিকা নির্বিশেষে সবাই শিল্প রচনায় হাত লাগাত। পরে দেখা গেল কিছু শিল্প গ্রামে গ্রামে করা যায় না...

অর্থকে সচল রাখো

অর্থের মূল্য বেড়ে চলে তার চলমানতায় অর্থাৎ টাকা যত হাত ঘুরতে থাকে ততই তার মূল্য বাড়তে থাকে। টাকা যত সিন্ধুকে বন্ধ থাকবে তত মরচে পড়বে, ছাতা ধরবে, তার মূল্য কমে যেতে থাকবে। এইটাই অর্থনীতির মৌলিক কথা।এই জনকল্যাণের কথা ভেবে কৌশীদব্যবস্থা রাখতে হয় ও জনগণের সামগ্রিক আর্থিক উন্নতির কথা ভাবতে গেলে কৌশীদব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে যায়। Keep the wagons moving এর মত ক keep coins (money) moving--কথাটা সমভাবে সত্য। তবে কৌশীদকে এ ব্যাপারে দুটি জিনিসের দিকে নজর রাখতে হবে। একটা হচ্ছে কৌশীদব্যবস্থা এমন যেন না হয় যার রাক্ষসী ক্ষুধায় সাধারণ মানুষের জীবন কুশীদ যোগাতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে......

পরিকল্পনার মৌল নীতি

যাঁরা বিভিন্ন স্তরে যোজনা পর্ষদের সঙ্গে সংযুক্ত সেই ধরণের বড় বড় অর্থনীতি-বিদদের কোন পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে যে কয়েকটি বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত সেগুলি হল–

* উৎপাদনের ব্যয়       * উৎপাদন–ক্ষমতা

* ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা     * সামূহিক প্রয়োজনীয়তা৷

এবার উপরি–উক্ত বিষয়গুলির প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করা যাক৷

উৎপাদন–ব্যয়