প্রভাতী

কবিতা

লেখক
কবি রামদাস বিশ্বাসের

আত্মসুখতত্ত্বে মজে

মারছে মানুষ মানুষে৷

উড়ছে আকাশপথে মানুষ

দেখছে চেয়ে ফানুষে৷

 

একলা বসি গুণছি সময়

কইবো কথা সবার সাথে,

বন্ধুরা সব এস ত্বরায়

এই মধুময় শারদ রাতে৷

 

তুলসী তলায় সাঁঝের বাতি

জ্বলছে ঘরে ঘরে৷

গাঁয়ের বধূ ঘোমটা টেনে

সেথায় প্রণাম করে৷৷

 

সাহিত্য

লেখক
জয়তী দেবনাথ

বড্ড আদরে বিধাতা তুমি,

গড়লে এই ভূবন৷

স্বর্গতুল্য করতে ধরা

সাহ্যিত্যের হল চয়ন৷৷

 

হৃদয় মাঝে সাহিত্য

যেন সুধার ধারা৷

সাহিত্যের ছোঁয়ায় হৃদয়,

হয় যে দুঃখহারা৷৷

 

রবির কিরণ যেমন করে

ঘুচায় সকল কালো৷

হৃদয়-মাঝে সাহিত্যও

তেমনি রবির আলো৷৷

 

মেঘে যখন হৃদয় ঢাকে,

লাগে দিশাহারা৷

সকল পুলক, সকল সুখ

হয়ে যায় সারা৷৷

 

সাহিত্যের হাওয়া তখন

লাগল যদি মনে৷

সকল মেঘ পড়বে ঝরে

কাটবে আঁধার ক্ষণে৷৷

 

সাহিত্যের এমনই জোর---

ভাষায় ভরা সুধা,

তার বলেই হৃদয়ের

মেটে অপার ক্ষুধা৷৷

 

সাহিত্যের রঙে রাঙিয়ে

দেখো হৃদয়খানি৷

মনের মাঝে পাবে শুধু

সুখেরই হাতছানি৷৷

 

মহাপুরুষের লক্ষণ

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যে ধরণের ভাবা উচিত নয় কেউ সেই ধরণের ভেবে থাকলে  তাদের জন্যে ঠাট্টা করে ‘স’ শব্দ  ব্যহৃত হয়ে থাকে৷ এই ‘স’ শব্দ প্রসঙ্গে আমার আবার আক্ল্মন্দ সিং - এর কথা মনে পড়ে গেল৷ একবার পরপর কয়েকদিন ধরেই আক্ল্মন্দের দেখাসাক্ষাৎ পাচ্ছিলুম না৷ তারপর একদিন হঠাৎ মীরজাপুর বাজারে মাদুর কিনতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল৷ তাকে বললুম, ‘হ্যাঁরে আক্ল্মন্দ, এতদিন তোর দেখা পাচ্ছিলুম না কেন!’ সে ললে ‘দারুণ ব্যস্ত ছিলুম’৷

আমি বললুম, ‘ব্যস্ত! ব্যস্ত তুই তো কখনও থাকিস না’৷ সে বললে---‘ব্যস্ত মানে, আমার গুরুজী এসেছিলেন৷ তাঁকে নিয়ে সমুদ্রের  তীরে রোজ বেড়াতে যেতুম কি না’৷     

আমি বললুম, ‘তাহলে ক’টা দিন তোর খু আনন্দেই কেটেছে, সৎসঙ্গ পেয়েছিলি৷’

সে বললে, ‘সৎসঙ্গ লে সৎসঙ্গ! গুরুজী আমার প্রকাণ্ড ড় রকমের মহাপুরুষ৷ এমন সৎসঙ্গ মানুষের জীবনে খুব কমই ঘটে থাকে’৷ আমি বললুম, ‘তিনি মুখ্যতঃ ধর্ম সম্বন্ধেই কথা বলেছিলেন, না সৎ নীতি সম্বন্ধে বলেছিলেন’?

সে বললে, ‘ধর্ম সম্বন্ধে তেমন কিছু বলেন নি৷’

আমি বললুম, তবে কি তিনি নীতি সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তর্ে কি সমাজ -সংস্কার সম্বন্ধে বলেছিলেন?

সে বললে ‘তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তর্ে কি তিনি বিভিন্ন ধরণের পরাবিদ্যা সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও-ও-ও নয়’৷

আমি বললুম,‘তবে কি তিনি অপরাবিদ্যা সম্বন্ধে বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘না  তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম,‘তবে কি তিনি বিজ্ঞান সম্বন্ধে বলেছিলেন?

সে বললে, ‘না তো, তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে কি তিনি দর্শন সম্বন্ধেই বলেছিলেন?’

সে বললে, ‘না তো, তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে  কি তিনি সৎপথে চলবার জন্যে কাঝকা শাসন করেছিলেন?’

সে বললে, ‘তাও-ও নয়’৷

আমি বললুম, ‘তবে কী করে ঝলি তিনি মহাপুরুষ?’

সে বললে, ‘একবার নয়, একশ’ বার ঝেছি তিনি মহাপুরুষ’৷

আমি বললুম , মহাপুরুষ তো নিশ্চয়৷ তবে জানতে ইচ্ছে হয় তুই কী করে বলি তিনি মহাপুরুষ’৷

সে বললে, ‘‘আমি তাঁর সেবার জন্যে দশ সের গরমাগরম জিলিপি একটা পরাতে সাজিয়ে দিয়েছিলুম৷ দশ সেরই তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাড় করে দিয়েছিলেন৷ মহাপুরুষ না হ’লে এমনটি কেউ পারে? তুমি কি পারবে? আমি কি পারবো?

তাহলে ঝলে, এই ধরণের ব্যাপারকে ‘স’ বলা হয়৷

 

সেই দিনগুলো

লেখক
জয়তী দেবনাথ

ছোট্টবেলার সেই মজাটা যে

এখন আর নাই৷

ইচ্ছে বড়ো ওইদিনে

আবার ফিরে যাই৷৷

 

দিনগুলো তখন একটু

অন্যরকম ছিলো৷

আজ যে দেখি অনেক কিছুর

মানে বদলে গেল৷৷

 

একই আছি সেই আমি

একই জল হাওয়া৷

তবুও কেন বদলে গেল

চাওয়া---না চাওয়া৷৷

 

আগের সেই গ্রীষ্ম বর্ষা

এখন আর নাই৷

শরৎ আর হেমন্তও

বদলে গেছে তাই৷৷

 

শীত বসন্তের সেই মজাটা

কেমনে ফিরে পাই?

সত্যি! আমার ইচ্ছে হয়

সেথায় ফিরে যাই!!

 

পরমাশ্রয়

লেখক
বিভাংশু মাইতি

 

 

সপ্তসিন্ধু উদক ঢালিয়া

                                                ধৌত করে যার শ্রীচরণ

কোটি সূর্য প্রদীপ জ্বালিয়া

                                                নতশিরে যারে করিছে বরণ

মহাবিশ্বের মহাধিপতি

                                                তিনিই শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তি

সকল জীবনের পরমাগতি

                                                তাঁকেই সতত কোটি প্রণতি৷

 

বিহগ-মৃগ-বন লতা-পাতা

                                                ফুল-পল্লব গাহে তারই গাথা

সূর্য-চন্দ্র-গ্রহ-তারকায়

                                                অদ্রিশৃঙ্গে তাহারই বারতা৷

 

সকল জীবের পরমাশ্রয়

                                                সকল ক্লেশের পরম ত্রাতা

যে পারে ধ্যানে ধরিতে তাঁহারে

                                                তারে ধরে রাখেন সেই বিধাতা৷

 

হিঙের কচুরির খাতিরে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গঙ্গা  জল ঞ্চ গঙ্গাজল৷ ‘জল’ শব্দের অর্থ যা টলটল করে৷ নীরং, তোয়ং, জলং, উদকং, পানীয়ম্ ইত্যাদি শব্দের মধ্যে ‘জল’ও একটি ‘জনপ্রিয়’ শব্দ৷ ‘জল’ মানে যা প্রবহমান...টলটলায়মান৷ পানীয়, অ–পানীয়, সুস্বাদু, কর্দমাক্ত যেমনই হোক না কেন তা জল৷ যে জল পান করার মত তা পানীয়...পীনেকা পানী, আর ‘পানী’ শব্দটি আসছে ‘পানীয়ম্’ থেকে যার মানে যা পান করার যোগ্য৷ ড্রেনের জল, বর্ষার ঘোলা নদীর জল, মাঠের কাদা–মেশানো জল–এরা পানীয় নয় কিন্তু জল৷ জলের স্বভাব ধর্ম হল টলমল করা–সে পদ্মপাতায় থাকুক আর নাই থাকুক ঃ

‘‘নলিনীদলগতজলম তদ্বজ্জীবনমতিশয়৷

ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকো ভবতি ভবাব্ধিতরণে নৌকা৷’’

গঙ্গাজল  বলতে স্বাভাবিক  অর্থে গঙ্গার  জলকে (Ganga-water) বোঝায় বটে, তবে গঙ্গার জল বলতে বৃষ্টির ক্ষার ও ধাতববর্জিত জল অথবা চোলাই করা (distilled water) বিশুদ্ধ জলকেও বোঝায় যা পানের অনুপযুক্ত৷

কিছু মানুষ গঙ্গামহিমায় একেবারেই উদ্বেল৷ এমনকি, গঙ্গার মাহাত্ম্য বলতে গিয়ে বেসামাল হয়ে কেউ কেউ এমনও বলে থাকেন যে আর সব জলই নাকি পচে যায়... আর সব জলে নাকি পোকা হয় কিন্তু গঙ্গাজলে তা হয় না৷ কথাটা মোটেই ঠিক নয়৷ আর সব জল যেমন গঙ্গাজলও তেমনই৷ আজকাল অনেক নদীর জল যেভাবে বিদূষিত হচ্ছে গঙ্গাজলও সেভাবে হচ্ছে৷ কলকাতার গঙ্গা, বিশেষ করে আদিগঙ্গার জল শুধু যে পানেরই অনুপযুক্ত তাই নয়, স্নানেরও অনুপযুক্ত৷ তবে হ্যাঁ, অনেক নদীর জলই পর্বতবিধৌত৷ তাই তাতে নানা খনিজ সম্পদের মিশ্রণ থাকে৷ সেই তুলনায় সাধারণ কূপের বা কলের জলের চেয়ে নদীর জলের গুণ ক্ষেশী থাকে৷ নদীর জল যদি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকে সেক্ষেত্রে তা স্নানের পক্ষে ক্ষেশ ভাল৷ তবে এ ব্যাপারে গঙ্গাজল বা  অন্য কোন নদীর জল  নিয়ে আদিখ্যেতা না  করাই ভাল৷ দীর্ঘপথের  পদযাত্রী গঙ্গা অনেক উপনদীর অনেক খনিজ বিধৌত জলে বা গঙ্গার শাখানদীর জলগুলোতে কিছুটা বাড়তি গুণ থাকলেও থেকে যেতে পারে৷

আমার এক ফুল মাসীমা ছিলেন ভীষণ গঙ্গাভক্ত৷ প্রত্যহ

গঙ্গাস্নান তো করতেনই, বাড়ীতেও  গঙ্গাজল ছাড়া  খেতেন না,  রান্নাও হত গঙ্গাজলে৷ রান্না ঘরে থাকত জালা–ভর্ত্তি গঙ্গাজল–তা সে গ্রীষ্মে শীতে বা বর্ষায় যে–কোন গঙ্গাজলই হোক না কেন৷ ফুল মাসীমা ছিলেন একটু দরাজদস্ত মানুষ৷ ঠিকভাবে মনোবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাঁর মন যুগিয়ে চলতে পারলে হিঙের কচুরি আর চাপ–চাপ ছোলার ডাল কারও পক্ষে বিশেষ দুর্লভ হত না...আমাদেরও হত না৷ এক্ষেত্রে ‘আমাদের’ শব্দটি ব্যবহার করছি ষষ্ঠী বিভক্তির দ্বিবচনে৷ একবচনে আমি আর দ্বিবচনে আমার মাসতুতো ভাই নন্কো বিশ্বাস৷ অসহযোগ আন্দোলনের (Non-co-operation movement) সময় ওর জন্ম হয়েছিল কিনা তাই ওর ডাকনাম হয় নন্কো৷ আমরা কখনো কখনো বলতুম–ফুল মাসীমা, আমাদের কলকাতা শহরটা বড় একঘেয়ে৷ তোমাদের পটনা শহরটা কত সুন্দর, যেন ছবি দেখতুম কয়েক মিনিটের মধ্যে হিঙের কচুরি আর ছোলার ডাল এসে যেত৷ কখনো বা বলতুম, কলকাতা যতই সুন্দর হোক না কেন পটনার মত অমন সুন্দর গোলঘর তো নেই৷ সঙ্গে সঙ্গে অভিলাষ পূর্ত্তি হত৷ কখনো বা বলতুম–আমাদের কলকাতার গঙ্গার চেয়ে তোমাদের পটনার গঙ্গা অনেক বেশী চওড়া৷ এপারে কত সুন্দর মহেন্দ্রঘাট, মাঝঘাট আর ওপারে ছবির মত সাজানো পাহ্লেজা ঘাট কলকাতায় এমন কি আছে মাসীমা বলতেন–সে কথা বলতে একবার নয়, একশ’বার সত্যি৷ মাসীমা ছিলেন বিহারের এক নামজাদা প্রকাণ্ড বড় জমীদারের দেওয়ানের স্ত্রী অর্থাৎ মেসোমশায় ছিলেন জমীদারের জাদরেল* (*‘জাঁদরেল’ শব্দটি ইংরেজী ‘জেনারেল’ General শব্দ থেকে এসেছে৷ এসেছে পাঞ্জাবী ‘জার্ণাইল’ শব্দটিও) দেওয়ান৷

‘অলমতি বিস্তারেণ’৷ যে–কোন লোকই বুঝত...আমরাও বুঝতুম মাসীমার হাতে অঢেল টাকা৷ আমি আর নন্কো–আমাদের মধ্যে আর কোন সদ্গুণ থাক বা না থাক একটা ব্যাপারে আমাদের এক মত ছিল যে গঙ্গা নিয়ে আদিখ্যেতা আমরা করতুম না৷ তবে হিঙের কচুরি হারাবার ভয়ে মাসীমার সামনে গঙ্গা নিয়ে বড় একটা নিন্দা করতুম না৷ একদিন আমরা দুজনে রান্নার ঘর ও ভাঁড়ার ঘরের মাঝখানে বসে জল–খাবার খাচ্ছিলুম৷ একটু দূরে রয়েছে জালা–ভর্ত্তি গঙ্গাজল৷ সেকালের উড়ে বেয়ারারা বাঁকে করে ঘরে ঘরে গঙ্গা জল যোগান দিয়ে যেত৷ আমাদের বাড়ীতেও তাই হত৷ তখন ঘোর বর্ষা৷ গঙ্গার জল কী ধরনের হলদে তা সহজেই অনুমেয়৷ সেবার আবার অজয়ে হয়েছিল প্রবল জলোচ্ছ্বাস৷ দেওঘরে অতিরিক্ত বর্ষায় কাটোয়ার অজয় ফুলে ফেঁপে উঠে গঙ্গাকে একেবারে লাল করে দিয়েছিল৷ নন্কো একবার উঠে দাঁড়িয়ে জালার জলের দিকে তাকিয়ে আমাকে বললে–জলটার অবস্থা দেখছ ফুল মাসী ওই জল খায়, ওই জলে রাঁধে, ওই জলে স্নান তো করেই৷ একবার তাকিয়ে দেখ, দেখলে ঘেণ্ণা...ঘেণ্ণা৷

আমি বললুম–ঘেণ্ণা ঘেণ্ণা...ও জল তো রোগের ডিপো...দেখলে অভক্তি৷ গামছা পরে চান করলে গামছায় এক ইঞ্চি এ্যালুবিয়ামের সিল্ট পড়ে যাবে...রোজ রোজ সোডা দিয়ে গামছা কাচতে হবে৷

নন্কো বললে–জান, গঙ্গাস্নান হচ্ছে একটি মনের রোগ৷ এ রোগ সারানো শিবেরও অসাধ্য৷

এমন সময় হঠাৎ ফুল মাসীমা চচ্চড়িতে পাঁচফোড়ন দিতে হঠাৎ রান্নাঘরে ঢুকে পড়লেন, বললেন–তোরা কী বলছিস রে?

মাসীর মুখ দেখে আমরা ভয়ে খানিকটা থতমত খেয়ে গেলুম৷ ভাবলুম আমাদের কথা মাসী চুপিসারে শুণেছেন৷ তারপর খানিকটা সামলে নিয়ে বললুম–শঙ্করাচার্য ঠিকই বলেছেন–

‘‘নাহং জানে তব মহিমানং

ত্রাহি কৃপাময়ি মামজ্ঞানম্৷’’

গঙ্গার মহিমা আমরা আর কতটুকু জানি শঙ্করাচার্য তাই বলেছেন–হে গঙ্গা, তোমার মহিমা আমি আর কতটুকু বলব, তুমি আমাকে ত্রাণ করো৷

মাসীমা বললেন–তোরা আজকাল এতদূর ভাবছিস আর তোদের কাছে গঙ্গা মাহাত্ম্যি বলে বলে এলে গেলুম৷ খুব ভাল কথা...খুব ভাল কথা৷ দেরীতে হলেও তোদের জ্ঞানোদয় হয়েছে তাহলে৷

আমরা বললুম–আমরা আজ ওই জালা–ভর্ত্তি জলটা দেখে ভাবছিলুম মা আজ কীরূপে এসেছেন মা যেন গেরুয়া বসনে এসেছেন...যেন গৈরিকবসনা গিরিকন্যা৷

মাসীমা আনন্দে ফুলে ফেঁপে বললেন–কী খাবি বল৷

আমরা বললুম–এইমাত্র তো জলখাবার খেলুম৷

মাসীমা বললেন–তোদের জন্যে এক্ষুণি হিঙের কচুরি আর ছোলার ডাল এনে দিচ্ছি, ওই পাতেই খেয়ে নে৷

আমি মায়াকান্না দেখিয়ে বললুম–কেন তুমি রোজ রোজ এত খরচ কর?

মাসীমা বললেন–থাম্, বেশী কথা বলিস নে৷ হ্যাঁ অনেকদিন তোদের রাজভোগ খাওয়ানো হয়নি৷ আজ রাজভোগ আনাচ্ছি৷ আমি দেখলুম ওষুধ ধরেছে৷

নন্কো বললে–হিঙের কচুরি, ছোলার ডালের সঙ্গে রাজভোগ–অত খাব কী করে

আমি বললুম–মাসীমা, আমরা তো গোরুবিশেষ, যা দেবে গোগ্রাসে গিলব কিন্তু তোমার কি অত খরচ করা উচিত?

মাসীমা বললেন–থাম, পাকামো করিস না৷ কতটুকুই বা খাস৷ আর কিছুটা ছানার পোলাও আনতে দিচ্ছি৷ ভাল করে বসে পেট ভরে জলখাবার খেয়ে নে৷

আমরা বললুম–অত জিনিস দোকান থেকে একজন মানুষে আনবে কী করে আমরাও যাচ্ছি৷ আমি ও নন্কো উঠে পড়লুম৷

মাসীমা বললেন–ঠিক আছে, তবে তোরাও যা৷

আমি সেই দিনই গঙ্গামহিমা, বিশেষ করে বর্ষার গঙ্গার ঘোলা জলের মহিমা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলুম৷ ঘটনাটা এইখানেই শেষ হয়েছিল৷    (শব্দ চয়নিকা, ১৫/১১৫)

 

পিতা-মাতার স্নেহ

লেখক
রামদাস বিশ্বাস

পিতার স্নেহ বোঝা অত সোজা নয়

সে সদা ব্যস্ত থাকে,

কাজ তাকে সদা ডাকে

স্নেহ ভালোবাসা যত কাজে পরিণত হয়৷৷

 

মায়ের মমতা মায়া 

পিতার শ্রমের ছায়া

কায়া ছাড়া ছায়ার তো নেই পরিচয়৷৷

 

পিতা যদি না থাকিত

কাজ যদি না করিত

মমতা না থাকিত মাটির ধরায়৷৷

 

ভালোবেসে

লেখক
বিভাংশু মাইতি

গন্ধরাজ গন্ধ ছড়াও চতুর্দিকে

নগরাজ প্রণত হও নির্ণিমেখে

মনরাজ আসছে যে আজ মধু রাতে

মালকোষেতে ঢেউ উঠেছে তার গীতিতে৷

 

মালতি মাতাও ভুবন মধুর হেসে

মানোময়ূর নাচ জুড়েছে তার আবেশে

লক্ষ তারা আলো জ্বালো গ্রহান্তরে

বক্ষমাঝে আসন পাতা ভক্তিভরে৷

 

হৃদয় আমার  সিক্ত আজি প্রীতিরসে

রোমাঞ্চিত চিত্ত আমার তারই আশে৷

আসবে সে যে রাজার বেশে মধুর হেসে

মর্মজুড়ে বসবে আমায় ভালোবেসে৷

 

করোনা বাইরাস

লেখক
বিভাংশু মাইতি

ঔদ্ধ্যত্বের সিঁড়ি বেয়ে

অহঙ্কারে বুক উঁচিয়ে

আমি চলছিলুম

চলছিলুম ভোগ-সিন্ধুর

শেষ বিন্দুটুকু শুষে নিতে

 

প্রাণী-পশু-উদ্ভিদ

পরিবেশ প্রতিবেশী

কারও দিকে তাকাইনি

সবাইকে শাসন-শোষণ

করেছি সাধ্যমত

আত্মসুখে হয়েছি উন্মত্ত

 

জড়বাদের তীব্র চাবুকে

রক্তাক্ত হয়েছে কত দেহ

মতবাদের অব্যর্থ বুলেটে

লুটিয়ে পড়েছে মানবতা,

প্রেম-প্রীতি আধ্যাত্মিকতা

 

অলখপুরুষ হেসে বলেছিলেন

সামলে চলো বৎস

সবার জন্য এই ধরা

সবাইকে ভালোবেসো

 

আমি ব্যঙ্গ করে বলেছিলুম

কে তুমি দেখেছি কখনো

জীবনটা যতক্ষণ

নিজ স্বার্থ দেখি ততক্ষণ

 

হঠাৎ একদিন

বিরাট এক অন্ধকার

সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

আমি করোনা বাইরাস

অস্তিবোধের আশ্বাস

স্মৃতি

লেখক
জয়তী দেবনাথ

হৃদয়ে জুড়ে কতই না স্মৃতির আনাগোনা

রঙিন সেই স্মৃতিগুলো বড্ড যতনে বোনা

 

দিন আসে, দিন যায়, কাটে বছর কত

সময় যে দিয়ে যায় স্মৃতি শত শত

 

আর ফেরেনা সেই সময়, সেই সুখের হাসি

সময় শুধুই দিয়ে যায়, স্মৃতি রাশি-রাশি

 

এখন সেই দিনগুলো কাটছে হেলায় খেলায়,

এক সময় এইগুলোই ভাসবে স্মৃতির ভেলায়

 

মনে হবে ঐদিন, আবার ফিরে পেতাম যদি

দু-হাত আগলে তবে রাখতাম তাদের বাঁধি