সংবাদ দর্পণ

নৈহাটি স্টেশনে ‘আমরা বাঙালী’র বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৪ঠা অক্টোবর ‘আমরা বাঙালী’ উত্তর ২৪ পরগণা জেলাকমিটির পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের ‘হাতরসে’ নারী নির্যাতন ও কর্ষক আইনের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সভা করা হয়েছিল৷ এই বিক্ষোভ সভায় যোগী আদিত্যনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন করে দেয় ‘আমরা বাঙালী’রকর্মীবৃন্দ, পরে তার কুশপুত্তলিকাও দাহ করে৷

বিক্ষোভ সভায় বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তব্যে কৃষিআইনের বিরোধিতা করে বলেন--- এই আইন কর্ষকদের কোন স্বার্থরক্ষা করবে না৷ বরং এই আইনের দ্বারা কর্ষকদের পুঁজিপতি হাঙরদের মুখের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে৷ তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন---এই আইন কোনোমতেই পশ্চিমবঙ্গে চালু করা যাবে না৷ উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়ন্ত দাশ, ছাত্রযুব সমাজের সচিব তপোময় বিশ্বাস প্রমুখ৷ 

জেঠাইবাড়ীতে বস্ত্র বিতরণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্র্সল রিলিফ টীমের কাঁথি শাখার পক্ষ থেকে ৭ই অক্টোবর কাঁথি জেঠাইবাড়ীতে দুইশতাধিক দুঃস্থ মানুষের হাতে পরণের বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়৷ হুগলী জেলার তারকেশ্বর জুডো ক্যারাটে অ্যাকাডেমির কাছ থেকে এই বস্ত্র সংগ্রহ করা হয়৷

 

কীর্ত্তন দিবসের পঞ্চাশবর্ষ পূর্তি

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

‘‘ঊচ্চৈঃস্বরে পরমপুরুষের নামগান করাকে কীর্ত্তন বলা হয়৷’’ মানুষের জীবভাবকে পরমপুরুষের শাশ্বতভাবের  সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দেওয়াই হলো মোহনবিজ্ঞান৷ কীর্ত্তন এই মোহন বিজ্ঞানের অন্তর্গত৷ তাই পরমপুরুষের কাছে পৌঁছাবার সহজতম রাস্তা হলো কীর্ত্তন৷

১৯৭০ সালের ৮ই অক্টোবর রাঁচীর কাছে আমঝোরিয়া ফরেষ্ট রেস্ট হাউসে শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী সিদ্ধ অষ্টাক্ষরী মহামন্ত্রসহ কীর্ত্তন প্রবর্ত্তন করেন৷ তারপর তাঁর বিভিন্ন প্রবচনে কীর্ত্তনের প্রয়োজন, তার প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন৷

প্রতিবছর ৮ই অক্টোবর আনন্দমার্গের বিশ্বের সমস্ত শাখা কীর্ত্তন দিবস পালন করে৷ এই বছর কীর্ত্তন দিবসের পঞ্চাশ বছর পূর্তি হলো৷  এই উপলক্ষ্যে বিশ্বের সমস্ত ইয়ূনিটে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালিত হয়৷ মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে আনন্দনগরে মার্গগুরুদেবের স্মৃতিসৌধে৷ সেখানে পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পঞ্চাশ ঘন্টা কীর্ত্তন হচ্ছে৷ শুরু হয়েছে ৮ই অক্টোবর সকাল ৯টায়৷ ১০ই অক্টোবর বেলা ১১টায় কীর্ত্তন শেষ হবে৷

কলিকাতাস্থিত তিলজলা আশ্রমে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তিনঘন্টাব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ মার্গগুরুদেবের আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গে প্রবচন পাঠ করে শোনানো হয়৷ কীর্ত্তনের প্রভাব ও প্রয়োজন প্রসঙ্গে মনজ্ঞ আলোচনার পর অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়৷ অসম, ত্রিপুরা,ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে মার্গের প্রতিটি শাখার অগণিত ভক্ত ভক্তি-আপ্লুত হৃদয়ে পরমপুরুষের নাম গান করে, সিদ্ধ অষ্টাক্ষরী মহামন্ত্র---‘াা নাম কেবলম্’ কীর্ত্তন করে কীর্ত্তন দিবস পালন করে৷

 

বানেশ্বরে স্বাস্থ্য শিবির

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্র্সল রিলিফ টীমের মহিলা শাখার উদ্যোগে কোচবিহার জেলার বানেশ্বরের হোলাঙ্গীর কুঠিতে গত ৩রা অক্টোবর একটি স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেছিলেন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের স্থানীয় শাখার কর্মীবৃন্দ৷ অবধূতিকা আনন্দরসপ্রজ্ঞা আচার্যা জানান গ্রামের ৮০০ মানুষকে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় ও প্রয়োজন মত ঔষধও দেওয়া হয়৷

 

গোর্খাল্যাণ্ড--- ভোল পাল্টালো কেন্দ্র

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

রাজ্য সরকারকে বিব্রত করতে গিয়ে দার্জিলিং নিয়ে কেন্দ্রের এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা৷ ৪ঠা অক্টোবর  কেন্দ্রীয়  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘গোর্খাল্যাণ্ড’ বিষয়ে আলোচনার জন্যে একটি বৈঠক ডাকে৷ এই বৈঠকে রাজ্যসরকারকে না জানিয়ে দার্জিলিঙের জেলাশাসককে ডাকা হয়৷ বৈঠকে গোর্খামুক্তি মোর্চার ক্ষমতাসীন নেতাদেরও ডাকা হয়নি৷ বৈঠক নিয়ে রাজ্যসরকার ক্ষুদ্ধ  হয়৷ গোর্খাল্যাণ্ড ইস্যু নিয়ে বিজেপি বাঙলা ভাগের চক্রান্ত করছে বলে প্রতিবাদে মুখর হয় ‘আমরা বাঙালী’৷ নানা দিকের চাপে বিভ্রান্ত হয়ে ৫ই অক্টোবর আর এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বৈঠক বাতিল বলে ঘোষনা করা হয়৷ পরে বাতিল শব্দটি  বাতিল করে অনির্দিষ্টকালের  জন্যে স্থগিত ঘোষনা করা হয়৷ পরে সেটাও সংশোধন করে জানান হয় বৈঠক হবে, তবে ভুল করে গোর্খাল্যাণ্ড লেখা হয়েছে, তা সংশোধন করে জিটিএ কথাটি লেখা হয়৷ এইভাবে ৪৮ ঘন্টায় তিনবার বিজ্ঞপ্তির বয়ান পাল্টানোয় একটা কথা পরিস্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বিজেপির রাজ্যকমিটি ও রাষ্ট্রদোহী ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত বিমল গুরুং এর ঘনিষ্ঠ দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিষ্ঠার সঙ্গে মতবিরোধ৷ গোর্র্খল্যাণ্ড নিয়ে বিমল গুরুংকে খুশী করতে চাইছে রাজু বিষ্ঠা৷ আবার সামনে বাঙলায় বিধানসভার বোট৷ সবদিক বিবেচনা করে পা ফেলতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ তাতেই বিপত্তি ঘটছে৷

 

শিলচরে ‘আমরা বাঙালী’র বিক্ষোভ --- হুমকি

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৭ই অক্টোবর মেঘালয়ে, বাঙালী জনগোষ্ঠীর  ওপর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘আমরা বাঙালী’ অসম রাজ্য কমিটি শিলচর শহরে শহীদ ক্ষুদিরামের মূর্ত্তির পাদদেশে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ বেলা সাড়ে বারটা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়৷  বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দাবী ওঠে--- অবিলম্বে মেঘালয়ে বাঙালীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে ও নির্যাতনকারী দুষৃকতিদের শাস্তি দিতে হবে৷ নতুবা অসম মেঘালয় সীমান্তে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুমকি দেন ‘আমরা বাঙালী’রনেতৃবৃন্দ৷ আমরা বাঙালীর অসম রাজ্যসচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, মেঘালয়ে ইস্ট খাসি হিলস জেলার সোহরা সাব-ডিভিশনের শেল্লা  থানার ইছামতি ভোলাগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে বাঙালীরা অমানবিক নির্যাতনে শিকার হচ্ছে৷ বাঙালীর ব্যবসা, বাণিজ্য, উপার্জনের সবপথ বন্ধ হয়ে গেছে৷ নারী শিশু সহ বহু মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন  কাটাচ্ছে৷

শ্রী পুরকায়স্থ বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার, মেঘালয়ে বিজেপি জোট সরকার, রাজ্যে বাঙালীর ওপর শারীরিক মানসিক অর্থনৈতিক অত্যাচার চলছে ৷ অথচ বিজেপি সরকার রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে৷ সরকার যদি এই নির্যাতন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা না নেয় পরিস্থিতি অগ্ণিগর্ভ হবে৷

সাধন পুরকায়স্থ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাঙালী জনগোষ্ঠী অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে, এবার প্রতিরোধে নামার পালা৷ প্রয়োজনে অগ্ণিযুগের আন্দোলন শুরু হবে৷ বাঙালীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বন্ধ না হলে অপ্রত্যাশিত সংঘাত শুরু হবে পাহাড় সমতলের৷ আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হবে৷ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্যে মেঘালয় সরকার দায়ী থাকবে৷ ‘আমরা বাঙালী’ খুব শীঘ্র অসম-মেঘালয় সীমান্তে দিগর খাল ও মালি শহরে বাঙালী নির্র্যতনের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে৷

এই বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন--- কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেত্রী অনিতাচন্দ, আজমল হুসেন চৌধুরী,পান্না রায়, দেবাশিষ রায় চৌধুরী, বাঙালী ছাত্রযুব সমাজের আহ্বায়ক পার্থপ্রতিম দেব, নিত্যানন্দ দাশ, অর্চনা ধর,সমরপাল,স্বপ্ণা রায়, মণিপুরের জিজিরামের আহমেদ আলি প্রমুখ৷

বেহালায় অখণ্ড কীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৫ই অক্টোবর বেহালার ক্ষুদিরামপল্লীতে  বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী লক্ষ্মণ মণ্ডলের বাড়ীতে ১২ঘন্টাব্যাপী অখণ্ড ‘াা নাম কেবলম্ মহানাম মন্ত্র কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ স্থানীয় মার্গী ভাই-বোন ও তিলজলা আশ্রমের সন্ন্যাসী দাদা-দিদিরা এই মহতী কীর্ত্তনে অংশগ্রহণ করেন৷ কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর রচনা থেকে পাঠ করে শোনান আচার্য বাসুদেবানন্দ অবধূত৷ এরপর বিভিন্ন দাদা-দিদিরা কীর্ত্তনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন৷

 

পরলোকে প্রণব রায়l ---সেই ফোনটা আর আসবে না

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ ‘নোতুন পৃথিবী’রদীর্ঘদিনের সাথী প্রণব রায় গত ২রা অক্টোবর রাত্রি ৮-৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷  মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বৎসর৷ ১৯৩৯ সালে ১৭ই আগষ্ট কলিকাতার গিরিশ পার্কের কাছে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম৷ লেখা পড়ার শুরু স্কটিশচার্জ সুকলে৷ লেখাপড়া শেষ করে কলিকাতা কর্র্পেরেশনে কর্মজীবন শুরু করেন ৷ কিন্তু বেশী দিন কাজ করেন নি৷ ১৯৬৮ সালে বৃহৎ কর্তব্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কর্র্পেরেশনের কাজে ইস্তফা দিয়ে আনন্দমার্গে যোগ দেন৷ সেই থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আনন্দমার্গের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন৷ মার্গের যে কাজের দায়িত্ব পেতেন নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করতেন৷

অকৃতদার মানুষটির আনন্দমার্গই ছিল ঘর-সংসার৷ মার্গের প্রকাশিত পুস্তক-পত্র পত্রিকার প্রুফ দেখতেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে৷ সেই সূত্রে তিনি ‘নোতুন পৃথিবী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন৷ দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশী নোতুন পৃথিবী পত্রিকার প্রুফ দেখা ছাড়াও আরও  নানা দায়িত্ব সামলেছেন৷

 আমার নোতুন পৃথিবীতে লেখা শুরু প্রণবদার তাগিদেই৷ দেখা হলেই বলতেন, এই তুমি লেখ না  কেন? খালি লেক্চার দিয়ে বেড়াও৷ এমন হয়েছিল পত্রিকা অফিসে আসলে প্রণবদার ধমক খাওয়া আমার অবধারিত ছিল৷ সেই ভয়েই নোতুন পৃথিবী অফিসে আসলে একটা কিছু লেখা নিয়েই আসতাম, লেখা যাই হোক ধমকের হাত থেকে বাঁচতাম৷

এবারে আমি নোতুন পৃথিবীতে আসায় খুব খুশী হয়েছিলেন৷ বার্ধক্যজনিত কারণে উনি আর অফিসে আসতে পারতেন না৷ তবে ফোনালাপ বন্ধ হয়নি৷ বেশ কয়েকবার বলেছেন---একবার এসে দেখা করে যেও৷ কিন্তু যাব যাব করে আমার আর যাওয়া হয়নি৷ করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ফোন করে খবর নিতেন৷ গত সাতমাসে নিয়মিত প্রণবদার ফোনটা আসতো---‘‘কিগো কেমন আছো? সবাই ভালো আছে তো? পত্রিকা ছাপা হচ্ছে?’ ’ গত ২রা অক্টোবর রাত্রি ৮-৩০ মিনিটের পর থেকে ওই ফোনটা আর আসছে না৷ আমরা ভালো আছি, পত্রিকাও ছাপা হচ্ছে৷ শুধু প্রণবদার ফোনটা আর আসবে না৷                       ---আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

বিক্ষোভ সভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

৭ই অক্টোবর দিল্লীতে গুরুং পন্থিদের সঙ্গে যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক চলছে, তখন কলকাতা হাজরা পার্কে ‘আমরা বাঙালী’রবিক্ষোভ সভা চলছে৷ সভায় কেন্দ্রীয় সচিব শ্রী বকুল রায় বাঙলা ভাঙার চক্রান্ত রুখতে সমস্ত বাঙালী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান৷

 কেন্দ্রীয় কমিটির অপর সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাশ বলেন--- আজ রাষ্ট্রদোহী গুরুং-এর সহযোগীদের সঙ্গে যে বৈঠক হচ্ছে---তিনবার বয়ান পাল্টেও বৈঠকের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপি সরকারের আসল উদ্দেশ্য বলেনি৷ বিজ্ঞপ্তির শেষ বয়ানে বলা হয়েছে জিটিএ সংক্রান্ত বিষয়ের বৈঠক৷ আসলে যেটা হয়েছে  তা হলো বাঙলা ভাঙার পরিকল্পনার বৈঠক৷ তিনি বলেন খুনের আসামী রাষ্ট্রদ্রোহী বিমল গুরুং-এর হুমকিতেই এই বৈঠকে বসতে বাধ্য হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর৷ কারণ দার্জিলিংএ গুরুং যে অপকর্ম করেছে কেন্দ্রীয় শাসক দলের মদত ছাড়া তা করা সম্ভব ছিল না৷ ফেরারী গুরুং এখন কেন্দ্রীয় শাসকদলের আশ্রয়ে  বন্দী জীবনে আর থাকতে চাইছে না৷ তাই গুরুং গোর্খাল্যাণ্ড নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়া করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে৷ নতুবা রাজ্য প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে গুরুং৷ তাতে বিজেপির মুখ পুড়বে৷

বাঙালী ছাত্র যুব সমাজের সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন বাঙলা ভাঙতে এলে দিল্লী আর একবার অগ্ণিযুগের বাঙলাকে দেখবে৷ বৃহত্তর আন্দোলনের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে বাঙালী জনগোষ্ঠী৷ বাঙলার  সীমানা নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলা চলবে না৷ আর বাঙলা ভাগ নয়৷ এবার বাঙলা জোড়ার দিন আসছে৷ বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অসম প্রভৃতি রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত বাঙলার অংশ এবার বাঙলাকে ফেরৎ দিতে হবে৷

 

মেঘালয়ে বাঙালী নির্যাতন---দার্জিলিঙে গোর্খাল্যাণ্ড বৃহত্তর আন্দোলনের পথে ‘আমরা বাঙালী’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

মেঘালয়ে বাঙালীর ওপর নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে৷ দৈহিক নির্র্যতন দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এবার ভাতে মারা শুরু হয়েছে৷ বাঙালীদের উপার্জনের পথও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে৷ ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায় জানান---মেঘালয়ের ইচ্ছামতি ও ভোলাগঞ্জ এলাকায় বাঙালীদের দোকান বাজার খুলতে দেওয়া হচ্ছে না৷  বাঙালীদের ট্রাকে মাল তুলতে দেওয়া হচ্ছে না৷ আমরা বাঙালী কেন্দ্রীয় সচিবের অভিযোগ বিগত কয়েক মাস ধরে মেঘালয়ে বাঙালীদের ওপর অমানবিক নিপীড়ণ, নির্যাতন চলছে, নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে৷ মেঘালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না৷ কেন্দ্রও সাক্ষীগোপাল হয়ে বসে আছে৷

গত ৩রা অক্টোবর রুবি মোড় থেকে ‘আমরা বাঙালী’রএকটি মিছিল মেঘালয় ভবনে পৌঁছায়, সেখানে স্মারকলিপি দিয়ে মেঘালয়ের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয় অবিলম্বে বাঙালীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ও তাদের জীবন ও জীবিকায় যেন কোনরকম ব্যাঘাত না ঘটে তার ব্যবস্থা নিতে৷ স্মারকলিপি দিতে যান  কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায়, বাঙালী মহিলা সমাজের সচিব নমিতা দেবী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷

পরে মেঘালয় ভবনের সামনে একটি সভায় ‘আমরা বাঙালী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন৷ বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায়, বাঙালী যুব সমাজের  সচিব তপোময় বিশ্বাস, শুভজিৎ পাল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ৷ তপোময় বিশ্বাস বলেন--- অবিলম্বে অসম, মেঘালয় বাঙালীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে উত্তর পূর্র্বঞ্চলের প্রবেশ দ্বার  বন্ধ করে দেওয়া হবে৷

আমরা বাঙালী অসম রাজ্য কমিটির সচিব শ্রী সাধন পুরকায়স্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একপত্রে আবেদন করেছেন অবিলম্বে মেঘালয়ের ইছামতি, ভোলাগঞ্জের বাঙালীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে৷ বিগত কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় বাঙালীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে৷ অথচ মেঘালয়ে সরকার নীরব দর্শক হয়ে বসে আছেন৷  তিনি প্রশ্ন করেন মেঘালয় ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য না-কি সেখানে বিদেশী শাসন চলছে? সাধন পুরকায়স্ত ওই পত্রের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন--- আশা করি, আপনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন যাতে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষভাব দুর হয়ে যায় ও উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌভাতৃত্বের পরিবেশ গড়ে ওঠে৷

আগরতলায় ‘আমরা বাঙালী’রাজ্য কমিটির নেতৃবৃন্দ কয়েকশো প্রতিবাদী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মেঘালয় বাঙালী নির্যাতনের প্রতিবাদে একটি মিছিল বার করে৷ মিছিল শিবনগর হয়ে কামান চৌমুনী পৌঁছালে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে৷ ওখানেই ‘আমরা বাঙালী’ নেতৃবৃন্দ সভা শুরু করেন৷ বক্তব্য রাখেন রাজ্যসচিব গৌরাঙ্গরুদ্র পাল, কেশব মজুমদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷ তাঁরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন বিজেপি শাসনে রাজ্যে রাজ্যে বাঙালী নির্যাতন বাড়ছে৷ এর পরিণতি ভালো হবে না৷ অবিলম্বে বাঙালী নির্যাতন বন্ধ না হলে বাঙলায় আবার অগ্ণিযুগ ফিরে আসবে৷

এদিকে দিল্লীতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের নামে মূলত রাষ্ট্রদোহী গুরুং পন্থিদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র দপ্তর বৈঠক করে৷ বার বার বিজ্ঞাপ্তি পাল্টে জিটিএ বিষয়ে বৈঠকের কথা বললেও, গুরুং পন্থিরা জিটিএ-কে আমল দেয়নি৷ বৈঠকে গোর্খাল্যাণ্ডের দাবী তোলে৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জি কিষেন রেড্ডি৷ তিনি গুরুং পন্থিদের দাবী খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন৷