সংবাদ দর্পণ

দুর্গাপুরে প্রভাত সঙ্গীত প্রতিযোগিতা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১৮ই আগষ্ট দুর্গাপুর রবীন্দ্রভবনে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার রচিত ও সুরারোপিত প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে সঙ্গীত, নৃত্য ও অঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়৷ বিভিন্ন বিভাগে তিন শতাধিকেরও বেশী প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন৷

আনন্দমার্গের সর্বক্ষণের কর্মী মার্গী ভাইবোন ও বিশিষ্ট গুণীজনের উপস্থিতিতে এক মনোরম ও নান্দনিক পরিবেশে প্রতিযোগিতা সুসম্পন্ন হয়৷ অনুষ্ঠানটি সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে আনন্দমার্গের একনিষ্ঠ কর্মী শ্রীমতী পাপিয়া ধীবর নিষ্ঠার সঙ্গে সমস্ত আয়োজন করেন৷

প্রতিযোগিতার শেষে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ আলোচনার সভারও আয়োজন ছিল৷ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী শ্রী কানাইলাল ভৌমিক, রাজেন্দ্র প্রসাদ কুণ্ডু, অধ্যাপক মৃণাল কান্তি মণ্ডল, বৌদ্ধমন্দিরের সেক্রেটারী শ্রী অভিজিৎ বড়ুয়া ও মিলন সরকার প্রমুখ৷

শ্রী কানাইলাল ভৌমিক এই ধরণের অনুষ্ঠানের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘পৃথিবীর মানুষের অস্থিরতা, অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দমার্গের যোগভ্যাস বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য৷ মনের অন্ধকার দূর করতে হলে ও সুস্থ চিন্তা-ভাবনার জন্যে সাধনা ও সাংসৃকতিক চর্চার অবশ্যই প্রয়োজন৷ সমাজের শান্তি, দেশের শান্তি ও প্রতিটি মানুষের শান্তির জন্যে এই ধরণের অনুষ্ঠান খুবই প্রয়োজন৷’’ শ্রী রাজেন্দ্রপ্রসাদ কুণ্ডু অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘‘সমাজে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই ধরণের অনুষ্ঠান যত বেশী করা যাবে ততই সমাজের মঙ্গল৷

অনুষ্ঠান শেষে সফল প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত, আচার্য চিরাগতানন্দ অবধূত সন্ন্যাসিনী অবধূতিকা আনন্দকণিকা আচার্যা, অধ্যাপক মৃণালকান্তি মণ্ডল,  প্রমুখ৷

উলুবেড়িয়া পুরসভায় ‘আমরা বাঙালী’র বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২০শে আগষ্ট হাঢড়া জেলার উলুবেড়িয়ায় পুরসভার চাকরী সংক্রান্ত পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ব্যবহার ও ১০০ শতাংশ বাঙালীর চাকরীর দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ‘আমরা বাঙালী’ হাওড়া জেলা শাখা৷ বিক্ষোভে উস্থিত ছিলেন ‘আমরা বাঙালী’ দলের কেন্দ্রীয় সচিব শ্রীবকুল রায়, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অর্ণব কুণ্ডু চউধুরী, বাঙালী ছাত্র যুব নেতা শ্রী তপোময় বিশ্বাস, মহিলা সমাজের হাওড়া জেলা সচিব গোপা শীল প্রমুখ৷ তাঁরা সকলে মিলে পুরপ্রধানের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন৷ তাদের মূল দাবী ছিল শুধুমাত্র বাংলা ভাষাতেই চাকুরী সংক্রান্ত পরীক্ষা নিতে হবে ও ১০০ শতাংশ বাঙালীকে নিয়োগ করতে হবে৷

তামিলনাড়ুতে বন্যাত্রাণে আনন্দমার্গ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

তামিলনাড়ুর বন্যা কবলিত অঞ্চলে আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের রান্না করা খাবার, বস্ত্র, ওষুধপত্র, জল সরবরাহ করা হয়৷ তামিলনাড়ুর এ্যামার্ট কো-অর্ডিনেটর জি. মোহন এই খবর জানিয়ে বলেছেন---বন্যার্তরা আনন্দমার্গের এই সেবাকার্যকে প্রশংসা করেছেন৷

নেতাজীর মৃত্যু দিবসের শ্রদ্ধা দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ---পিছু হটল সরকার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

মৃত্যুর ৭৩ বছর পরেও নেতাজী আতঙ্ক  তাড়া করে বেড়াচ্ছে দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে৷ ১৮ই আগষ্ট নেতাজীর মৃত্যু দিবস পালন করে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় সরকার৷ প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো মারফৎ দেশবাসীকে তা জানিয়েও দেন৷ বিজেপির গুজরাট শাখাও সোস্যাল মিডিয়ায় ট্যুইট করে বলে---মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সুপ্রিম কমাণ্ডার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম৷ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নেতা-নেত্রীরা নেতাজীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে তাকে শ্রদ্ধা জানান৷ এরপরেই দেশ জুড়ে শুরু হয় বিতর্ক৷ বহু সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও বিশিষ্ট জনেরা প্রতিবাদে মুখর হন৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কারো নাম না নিয়ে ট্যুইটে মন্তব্য করেন---‘আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজী তাইহোকু বিমান বন্দর থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন৷ আমরা আজও জানি না এরপর কী হয়েছে৷ দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর আছে৷’

মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই কথা বলেন রাজ্য বিজেপির নেতা বসু পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু৷ ট্যুইটে চন্দ্রবাবু জানান---সরকারী ভাষ্য হ’ল বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর  (নেতাজী) মৃত্যু হয়৷ কিন্তু এই ভাষ্যে বহুরকম অসঙ্গতি পাওয়া গেছে৷ সরকারেরই দায়িত্ব প্রমাণ পেশ করে সত্য উদ্ঘাটন করা ও অসত্যের প্রচার বন্ধ করা৷ চন্দ্রবাবু আরও প্রশ্ণ তোলেন---জাপানের কাছে নেতাজী সংক্রান্ত তিনটি ফাইল আছে, যা চেয়ে জাপানকে চিঠি লিখেছিলেন সুষমা স্বরাজ৷ কেন্দ্র কী সেই ফাইল হাতে পেয়েছেন? যদি নতুন কোনও তথ্য না পেয়ে থাকে তাহলে বিতর্কিত একটি বিষয়কে সামনে আনার অর্থ কী?  নেহেরু পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতাজীর ভাইপো শিশির বসুর পুত্র সুগত বসু বলেন, নেতাজীর মৃত্যু ঐতিহাসিক সত্য৷

ফরওয়ার্ড ব্লকের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় পিআইবি-কে এই মিথ্যা প্রচারের জন্যে ক্ষমা চাইতে হবে৷ আমরা বাঙালী সংঘটনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীজয়ন্ত দাশও বলেন---মুখার্জী কমিশনের রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ আছে ওইদিন তাইহোকু বিমান বন্দরে কোনও দুর্ঘটনা হয়নি৷ তাইওয়ান সরকারও সেটা স্বীকার করেছে৷ তাহলে নেতাজীর মৃত্যু দিবস পালনের অর্থ কী? মোদীজি তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের হেফাজতে থাকা সমস্ত গোপন নথি প্রকাশ করবে৷ তা না করে এই ধরণের ন্যক্কারজনক প্রচার কেন্দ্রীয় সরকার কেন করছে?

দেশজুড়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে পিআইবি ও বিজেপির গুজরাট শাখা তাদের পোস্ট দুটি প্রত্যাহার করে নেয়৷ অবশ্য ব্যষ্টিগত পোষ্টগুলি রয়েই গেছে৷সদস্য শ্রীজয়ন্ত দাশও বলেন---মুখার্জী কমিশনের রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ আছে ওইদিন তাইহোকু বিমান বন্দরে কোনও দুর্ঘটনা হয়নি৷ তাইওয়ান সরকারও সেটা স্বীকার করেছে৷ তাহলে নেতাজীর মৃত্যু দিবস পালনের অর্থ কী? মোদীজি তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের হেফাজতে থাকা সমস্ত গোপন নথি প্রকাশ করবে৷ তা না করে এই ধরণের ন্যক্কারজনক প্রচার কেন্দ্রীয় সরকার কেন করছে৷

দেহজুড়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে পিআইবি ও বিজেপির গুজরাট শাখা তাদের পোস্ট দুটি প্রত্যাহার করে নেয়৷

বেহায়া শাসক

সংবাদদাতা
মননোজ দেব
সময়

কুলাল শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘‘কুলালের একটি অর্থ হচ্ছে শিল্পগত বা ভাবগত বা আদর্শগত ব্যাপারে যার বৈদগ্দ্যিক স্বাতন্ত্র রয়েছে ও যিনি তদনুযায়ী পরিকল্পনা করে এগিয়ে চলেছেন৷ এই ধরণের স্বাতন্ত্র্য বা পরিকল্পনা মুখরতায় ভীত হয়ে অনেকেই---বিশেষ করে বিরুদ্ধবাদী মতবাদের বাহকেরা অনেক সময় অযথা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন ও কুলালের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন৷’’

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধী-সুভাষের মধ্যে এই কুলালত্বগত বিরোধ ছিল৷ সুভাষচন্দ্রের কৌলালিক ভূমিকা সেই সময়ের দেশনেতারা মেনে নিতে পারেননি৷ ওই সব নেতৃবর্গের সমাজচেতনা, বৈপ্লবিক চেতনার অভাব তো ছিলই, সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চেতনারও অভাব ছিল৷ গান্ধী যদিও স্বাধীনতার জন্যে একটা জনজাগরণ আনতে পেরেছিলেন তবু তার মধ্যে এই সব গুণের অভাবগুলো ছিল৷ তাই তিনি স্বাধীনতার দাবীতে উদ্বুদ্ধ জাগ্রত জনতাকে সংগ্রামের পথে বেশীদূর নিয়ে যেতে পারেননি৷ আসলে দেশনেতারা চেয়েছিলেন গায়ে আঁচটিও না লাগিয়ে যে কোনভাবে স্বাধীনতার নামে ক্ষমতা হস্তগত করে নেওয়া৷ এ যেন ‘‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’’৷

ব্যতিক্রমী ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু৷ সুভাষচন্দ্রের কুলালত্ব ভিন্নধর্মী৷ তিনি ছিলেন আপোষহীন সংগ্রামী৷ যে কোনও উপায়ে স্বাধীনতা অর্জন করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য৷ তাঁর স্বাধীনতা লাভের উদগ্র বাসনা, তাঁর বৈদগ্দ, স্বতন্ত্র চিন্তাধারা, জনগণকে যেভাবে আলোড়িত করেছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল কুলালত্বহীন নেতাদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি৷ আবার তাঁরা সুভাষচন্দ্রের কৌলালিক ভূমিকাকেও মেনে নিতে পারেননি৷ তাই সেদিন তাঁরা সব রকম নৈতিকতা ও সততা বিসর্জন দিয়ে সুভাষ বিরোধিতায় নেমেছিলেন, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ও তৎকালীন রাজনীতির এক কদর্য ইতিহাস৷ পরবর্তী ইতিহাস রহস্যাবৃত৷ সুভাষচন্দ্রের দেশত্যাগ, জাপান গিয়ে রাসবিহারী বসুর হাত থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব গ্রহণ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম---যা ভারতবর্ষে স্বাধীনতা অর্জনের পথ করে দিয়েছিল৷ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা কোনও অহিংসা পূজারীর অবদান নয়৷ সুভাষ আতঙ্কে আতঙ্কিত ব্রিটিশ দেশ ছেড়ে চলে যায় কুলালত্বহীন সুবিধাবাদী দেশনেতাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে৷ কিন্তু সুভাষচন্দ্রের শেষ পরিণতি আজও অজ্ঞাত৷ প্রচার আছে ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট তাইহোকুতে এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান৷ কিন্তু দেশবাসী আজও সেকথা বিশ্বাস করে না৷ সরকারও একাধিক তদন্ত কমিশন বসিয়ে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়েও সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে প্রকৃত সত্য আজও উদ্ঘাটিত করতে পারেনি৷ বরং তাইওয়ান সরকারের স্বীকারোক্তি ও ভারত সরকার গঠিত মুখার্জী কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট তাইহোকু বিমান বন্দরে কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি৷

ভারত সরকার নেতাজীর মৃত্যু রহস্যের প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে না পারলেও সুভাষচন্দ্রকে মৃত প্রমাণ করতে সবরকম লজ্জা-শরম ত্যাগ করে আদাজল খেয়ে লেগে আছে৷ অথচ কেন্দ্রের হেফাজতে থাকা সুভাষচন্দ্র সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছে না কোনও সরকারই৷ নরসীমা রাও সরকার সুভাষচন্দ্রকে মরণোত্তর ভারতরত্ন দিতে চেয়েছিলেন৷ তখনও জনমতের চাপে পড়ে লজ্জা-শরম ত্যাগ করে পিছিয়ে গিয়েছিলেন৷ বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল ---কেন্দ্রীয় সরকারের হেফাজতে থাকা সুভাষচন্দ্র সম্পর্কিত সব গোপন নথি প্রকাশ্যে আনবেন৷ কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে হঠাৎ করে ১৮ই আগষ্ট সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু দিবস পালন করে বসলেন৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো’র মাধ্যমে তা প্রচারও করে দিলেন৷ আবারও যথারীতি জনমতের চাপে পড়ে নির্লজ্জের মত একদিন পরেই তা প্রত্যাহার করলেন৷

কেন বারবার দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে এই ধরণের নির্লজ্জ অবিবেচকের মত আচরণ করছেন বোধবুদ্ধি সব হারিয়ে৷ দুই বিপরীত মেরুর দল এই একটি বিষয়ে সবসময় এক মেরুতেই অবস্থান করে৷ কারণ আর কিছুই নয়, সুভাষচন্দ্রের দেশত্যাগ ও মৃত্যু রহস্যের পেছনে যে কলঙ্কিত ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে সেই কলঙ্কিত ইতিহাসের নায়করা এই দু’টি দলেরই সেদিনের নেতা ছিলেন৷ তিনি কেউ লৌহমানব হোন বা অহিংসার পূজারী৷ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের কলঙ্কিত ইতিহাসের কালি এদের সবার মুখেই লেগে আছে৷ সে ইতিহাস আজকের প্রজন্মের সামনে যাতে না আসে তাই সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে নক্কারজনক রাজনীতিতে কংগ্রেস বিজেপি এক মঞ্চে৷ 

সুভাষচন্দ্রের উদগ্র দেশপ্রেম, বৈদগ্দ ও কুলাল চেতনা আত্মম্ভরি কুলালত্বহীন সেদিনের দেশনেতাদের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়নি৷ দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে দূরে সরিয়ে সুভাষ বিরোধিতাই তাদের প্রধান হয়ে গিয়েছিল৷ সেই নক্কারজনক ইতিহাস আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেই সব ক্ষমতালোলুপ দেশনেতাদের উত্তরপুরুষদেরও৷ যদি সেই ইতিহাস কোনদিন সামনে আসে তাহলে মুখ লুকোবার জায়গা পাবে না আজকের অনেক দেশবরেণ্য নেতা৷

বাগনানে সেমিনার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১১ই আগষ্ট বাগনান চালিধাউড়িয়া আনন্দমার্গসুকলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় উক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেন আনন্দমার্গ প্রচারক সঙ্ঘের মহিলা বিভাগের হুগলী ডায়োসিস সচিব অবধূতিকা আনন্দ রূপালীনা আচার্যা৷ হাওড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় শতাধিক মার্গী ভাই-বোন আলোচনা সভায় যোগ দেন৷

সভার শুরুতে ‘সামাজিক মূল্য ও মৌল মানবিক  নীাতির’ ওপর আলোচনা করেন অবধূতিকা, আনন্দ চিতিসূধা আচার্যা, এরপর কেন্দ্রীয় শিবাসচিব আচার্য নির্মলশিবানন্দ অবধূত ‘আনন্দ প্রাপ্তির পথ’ বিষয়ের ওপর দীর্ঘ আলোচনা করেন৷ আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউটের  সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার যোগসূত্রের ওপর আলোকপাত করেন৷৷ এরপর সাংঘটনিক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন হুগুলী ডায়োসিস সচিব আচার্য সুবিকাশানন্দ অবধূত ও আচার্য সুদীপানন্দ অবধূত৷

মার্গীয় বিধিতে গৃহপ্রবেশ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১১ই আগষ্ট ঃ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট নিবাসী শ্রীতাপস সেনের নবনির্মিত ভবনের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ‘আনন্দমার্গের চর্যাচর্য’ বিধিমতে৷ ওই দিন প্রাতে সকলে  নবনির্মিত ভবনের মূল প্রবেশদ্বারে এসে জমায়েত হন৷ এরপর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে গৃহে প্রবেশ করেন প্রথমে পরিবারের মহিলা সদস্যরা ও পরে শ্রী তাপস সেন সহ আমন্ত্রিত অতিথি-অভ্যাগত আত্মীয-স্বজন প্রমুখ৷ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আচার্য নারায়ণানন্দ অবধূত৷

গৃহপ্রবেশ উপলক্ষ্যে ওই সকল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ব্যাপী ‘বাবা নাম কেবলম্’ অখণ্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷  কীর্ত্তন পরিচালনা করেন বর্ষীয়ান সন্ন্যাসী দাদা আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত, অবধূতিকা আনন্দ নীতিসুধা আচার্যা, শ্রীহরলাল হাজারী ও স্বপন মণ্ডল প্রমুখ৷ কীর্ত্তন ও সাধনা শেষে আনন্দমার্গের সমাজশাস্ত্র ও দর্শনের ওপর বক্তব্য রাখেন আনন্দমার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য সর্বেশ্বরানন্দ অবধূত ও অবধূতিকা আনন্দ নিরুক্তা আচার্যা৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলার ভুক্তিপ্রধান শ্রীসন্তোষ বিশ্বাস৷

বাঁকুড়া ঃ ১১ই অক্টোবর বাঁকুড়া জেলার পোয়া বাগানের বিশিষ্ট মার্গী মহাদেব মণ্ডলের পুত্রের নতুন ভবনের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান হয় মার্গীয় বিধিমতে৷ অনুষ্ঠানে  তিন ঘণ্টা অখণ্ড কীর্ত্তন, মিলিত সাধনা, গুরুপূজা হয়৷ অনুষ্ঠান শেষে নারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়েছিল৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আচার্য চিরঞ্জয়ানন্দ অবধূত৷

বাঁকুড়ায় আনন্দমার্গ দর্শন ও যোগের ব্যাপক প্রচার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

২৮শে জুলাই ঃ সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থানে আনন্দমার্গ দর্শন ও যোগ সাধনা সম্পর্কে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷ এই আলোচনা সভাগুলিতে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন আনন্দমার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত৷ ১৮ই জুলাই বাঁকুড়া শহরে নব শিক্ষা মন্দিরে (হায়ার সেকেণ্ডারী সুকল), ২রা আগষ্ট রাইপুর মহাবিদ্যালয়ে, ৩রা আগষ্ট ফুলকুসমা হায়ার সেকেণ্ডারী সুকলে আলোচনা সভাগুলি অনুষ্ঠিত হয়৷ তিনি আলোচনায় মনের একাগ্রতা, স্মৃতি ও যোগ বিষয়ে উপস্থিত ছাত্রছাত্রা ও শিক্ষকমণ্ডলীর কাছে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করেন ও যোগ প্রশিক্ষণ দেন৷

প্রকাশ থাকে যে ২৮শে জুলাই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মধুমাধবী আনন্দমার্গ আশ্রমে ব্রহ্মতত্ত্ব ও যোগবিদ্যা নিয়ে মূল্যবান দীর্ঘ আলোচনায়ও অংশগ্রহণ করেন আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত৷

তাঁর আলোচনায় মুগ্দ হয়ে বাঁকুড়ার ওন্দা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সহ বহু শিক্ষিত ও  ধর্মপিপাসু মানুষ আনন্দমার্গের যোগ সাধনা শেখেন৷

উক্ত প্রচার কর্মসূচীতে বিভিন্ন ভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আলোচনাগুলিকে সাফল্যমণ্ডিত করেন৷ বাঁকুড়া জেলার বিশিষ্ট তাত্ত্বিক শ্রী অশোক কুমার মণ্ডল৷

হাজরা পার্কে আমরা বাঙালীর বিক্ষোভ সভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১৩ই আগষ্ট  ঃ বেঙ্গল কেমিক্যাল বিলগ্ণীকরণের প্রতিবাদে ১৩ই আগষ্ট অপরাহ্ণে ‘আমরা বাঙালী’ কলকাতা জেলা কমিটি একটি বিক্ষোভ সভার আয়োজন করে৷ ‘আমরা বাঙালী’র বক্তব্য বেঙ্গল কেমিক্যাল বর্তমানে একটি লাভজনক সংস্থা৷ শুধু তাই নয়, বাঙলার এই ঐতিহ্যমণ্ডিত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে৷ শ্রীরায় বাঙালীকে শিল্প, ব্যবসায় উৎসাহিত করতে এই শিল্প কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার গোটা দেশটাকেই পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাশ৷ বেঙ্গল কেমিক্যাল বেসরকারীর হাতে তুলে দিলে ‘আমরা বাঙালী’ তীব্র আন্দোলন শুরু করবে বলে হুঁশিয়ারী দেন বাঙালী ছাত্র যুব সমাজের নেতা শ্রী তপোময় বিশ্বাস৷ এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন জেলা সচিব সুনীল চক্রবর্তী, হুগলী জেলা সচিব জ্যোতিবিকাশ সিন্হা, শৈলেন মোদক, সৈকত ঘোষ ও অরূপ মজুমদার৷

বাংলার দাবীতে বনগাঁ ষ্টেশনে বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৮ই আগষ্ট বনগাঁ ষ্টেশনে রেলের টিকিট সহ সমস্ত কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবীতে আমরা বাঙালী উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটি বনগাঁ ষ্টেশন ম্যানেজারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ রেলের সব কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহার সহ রাজ্যে রেলের চাকরীতে স্থানীয় বাঙালীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সহ আরো অন্যান্য দাবীতে তারা ষ্টেশন ম্যানেজারের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন৷ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়ন্ত দাশ, অরূপ মজুমদার, তপোময় বিশ্বাস, শ্যামল বিশ্বাস প্রমুখ৷