সংবাদ দর্পণ

মার্গীয় বিধিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৩০শে মার্চ, মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের খয়েরতলা গ্রাম নিবাসী একনিষ্ঠ আনন্দমার্গী সঞ্জয় কুমার মণ্ডল ৫২ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন৷ গত ১০ই এপ্রিল ২০১৯ তারিখে খয়েরতলার বাসভবনে আনন্দমার্গীয় শাস্ত্রানুসারে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সুসম্পন্ন হয়৷ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পরিচালনা ও পৌরোহিত্য করেন আচার্য রত্নেশানন্দ অবধূত৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদহের ভুক্তিপ্রধান শ্রী অরবিন্দ সরকার, বিশিষ্ট আনন্দমার্গী সর্বশ্রী আশুতোষ সরকার, অজিত মণ্ডল, সুবল মণ্ডলসহ স্থানীয় মার্গীভাই ও বোনেরা৷ আচার্য রত্নেশানন্দ অবধূত আনন্দমার্গের চর্র্যচর্য অনুযায়ী শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের বিশেষত্ব উপস্থিত জনসাধারণের সম্মুখে ব্যাখ্যা করেন৷

আসন্ন বোটের মুখে  শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে  আগ্ণেয়াস্ত্র উদ্ধার ও ধৃত ১৩ জন দুষৃকতী

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আসন্ন বোটের (ভোটের) মুখে শহরতলির পুলিশ শহরের বিভিন্ন জায়গায় সন্দেহ বশতঃ তল্লাশি চালিয়ে  আগ্ণেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে, এর মধ্যে ছিল বোমা, ধারালো অস্ত্র ও  রিভালবার সমেত ১২ দুষৃকতীকেও  গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ এছাড়া  শহরতলির সোনারপুর থেকেও ধরা হয়েছে  এক অস্ত্রপাচারকারীকে৷

পুলিস সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার  গভীর রাতে হাওড়া থানার  তদন্তকারী অফিসার জানতে পারেন, ইস্ট-ওয়েস্ট  বাইপাসে  কয়েকজন দুষৃকতী জড়ো হয়েছে৷ তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক৷ এরপরেই সাদা পোশাকের পুলিশ বাইপাসে  হানা দিয়ে হাতে নাতে গ্রেফতার  করে প্রসেনজিৎ কুণ্ডু ওরফে ভিকি, সিন্টু চক্রবর্তী, বিনোদ সাউ ও অয়ন কর্মকার  নামে চার দুষৃকতীকে৷ সকলেই হাওড়ার বাসিন্দা৷ তবে দলের বাকিরা পালিয়ে যায়  বলেই দাবি পুলিশের৷ ধৃতদের থেকে চপার, লোহার রড, ছুরি, ভোজালি বাজেয়াপ্ত হয়েছে৷ ওই রাতেই  পৌনে দু’টো  নাগাদ  বালি থানার টহলদার গাড়ির  কর্মীরা  খবর পান, জিটি রোডে  দুই যুবক ইতস্ততঃ ঘোরাঘুরি  করছে৷ খবর পেয়ে  সেখানে  পুলিশের  গাড়ি যেতেই  ছুটতে  শুরু করে ওই দুই যুবক৷ ধাওয়া করে কিছুটা দূরে গিয়ে  পাকড়াও  করলে তাদের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ধারালো অস্ত্র৷ গত বুধবার ভোরে  হাওড়া সিটি পুলিশের  গোয়েন্দারা  লিলুয়ার মনসা কলোনিতে  হানা দিয়ে জিতু সিংহ  নামে এক যুবকের বাড়ি থেকে  একটি সেভেন এম.এম পিস্তল  ও তিন  রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন৷ গ্রেফতার করা হয়েছে  ওই যুবককে৷  এ দিন গোপনসূত্রে  খবর পেয়ে হাওড়া রেল মিউজিয়ামের  সামনে আগে  থেকেই হাজির ছিল গোয়েন্দাবাহিনী৷ পাঁচ যুবক সেখানে  আসতেই  তাদের ধরে ফেলেন  তাঁরা৷  ধৃতদের  থেকে মিলেছে  তিনটি তাজা বোমা  ও গুলি ভর্তি  ওয়ান শটার৷ ধৃতদের  তিন জন মথুরাপুর,একজন  জয়নগর  ও আর একজন এন্টালির বাসিন্দা৷ পুলিশ কর্র্তরা জানিয়েছেন, ধৃতদের  বিরুদ্ধে পুরনো কী অভিযোগ  রয়েছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে৷

এছাড়া ওইদিনেই  বিকেলে সোনারপুর থানার বারুইপুর জেলার পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন্স গ্রুপ  ও সোনারপুর থানার পুলিশ শেখ গোলাম রাকিব নামে একজন অস্ত্রপাচারকারীকে গ্রেফতার করে, এখান থেকে দু’টি ওয়ান শটার, একটি গুলিভর্তি সেভেন এম.এম পিস্তল ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা গেছে, তবে অস্ত্রপাচার চক্রের মূল পাণ্ডাকে ধরা যায়নি৷

শান্তিনিকেতনে আনন্দমার্গ আশ্রমে বাংলা নববর্ষ পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বোলপুর ঃ ১লা বৈশাখ ১৪২৬ সাল, শুভ বাংলা নববর্ষ৷ শান্তিনিকেতনের  ‘বাবা বিতান সুভাষপল্লী আনন্দমার্গ আশ্রমে’ সাড়ম্বড়ে শুভ বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হলো৷ সকাল ৭টায় প্রভাতসঙ্গীতের মনমাতানো সুরে উৎসবের সূচনা হয়৷ তারপর সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় তিনঘন্টাব্যাপী আনন্দঘন মহামন্ত্র   ‘াানাম কেবলম্’’ সংকীর্ত্তন৷ প্রায় আড়াই শতাধিক  ভক্তের  উদাত্ত কন্ঠে াানাম কেবলম্ সংকীর্ত্তনে আকাশ বাতাস মথিত করে সেই সুর দূর দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে৷ সেই সাথে কবি রামদাস বিশ্বাসের কাব্য গ্রন্থ ‘গানের ভেলা’র আবরণ উন্মোচিত হয়৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটির পৌরোহিত্যে ছিলেন নদীয়া জেলার বরণবেড়িয়ার আনন্দ নবদ্বীপ চক্রনেমির রেক্টর মাস্টার আচার্য অনুপমানন্দ অবধূত৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন  বীরভূমের ডিট.এস আচার্য সৌম্যশুভানন্দ  অবধূত, আমড়াপালন  চক্রনেমির  রেক্টর মাস্টার আচার্য মিতাক্ষরানন্দ অবধূত, মঙ্গলডিহি আনন্দমার্গ চক্রনেমির  অবধূতিকা আনন্দ তন্ময়া আচার্যা দিদি, সিউড়ি আনন্দমার্গ  চক্রনেমির অবধূতিকা  আনন্দ প্রজ্ঞাধীশা আচার্যা দিদি ও অন্যান্য অবধূত অবধূতিকাবৃন্দ৷ সাধনা ও স্বাধ্যায়ের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আচার্য সৌম্যশুভানন্দ অবধূত,আচার্য মিতাক্ষরানন্দ অবধূত, অবধূতিকা আনন্দ তন্ময়া আচার্যা দিদি ও আরও অনেকে৷ মধ্যাহ্ণ ভোজনের পরে বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চলে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর৷ বীরভূমের বিশিষ্ট কবিদের কবিতাপাঠের শেষে সভাপতি অধ্যাপক  তপন কুমার মুখোপাধ্যায় মহাশয় তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে  আনন্দমার্গের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷

কশ্মীরে ওমর আবদুল্লার উক্তি সংবিধান বিরোধী ও মারাত্মক

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য দেশের সংবিধানকে মেনে চলা৷ সেটি যদি কেউ না করে সেটা হবে সংবিধানবিরোধী কাজ৷ বিশেষ করে যখন যে ব্যষ্টি নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজ্যে বা কেন্দ্রে শাসন ক্ষমতা পরিচালনার দায়িত্ব পান তাকে অবশ্যই সংবিধানকে মান্যতা দিতে হবে৷

অত্যন্ত লজ্জা ও দুখের কথার প্রায় দেখা যায় ভারতের অন্তর্গত জম্মু ও কশ্মীর রাজ্যে কোন কোন শাসক ইচ্ছাকৃতভাবে সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে ও একটা দেশবিরোধী বাতাবরণ তৈরী করে৷ সম্প্রতি দেখা গেল, জম্মু কশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা দাবী করেছেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দিতে হবে৷ ভারতবর্ষের সংবিধান অনুযায়ী আমরা জানি ভারতবর্ষ কতকগুলি অঙ্গরাজ্য নিয়ে একটা যুক্ত রাষ্ট্র৷ অঙ্গরাজ্যগুলির জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধান শাসককে মুখ্যমন্ত্রী বলা হয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী বলা হয়৷ জম্মু-কশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা ওমর আবদুল্লা ঠিক কি কারণে এমন মন্তব্য করলেন সেটা স্পষ্ট নয়৷ বর্তমান লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ন্যাশনাল কনফারেন্স লড়ছে৷ এই অবস্থায় তাঁর এই উক্তি সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও দেশবিরোধী৷ কারণ আমাদের দেশের সংবিধান অনুযায়ী দুইজন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না৷ তাই একটি অঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী দাবী করার অর্থ ঘুরিয়ে পৃথক রাষ্ট্রের দাবী৷ তাই আবদুল্লার এই দাবী জম্মু-কশ্মীরে বিদেশী জঙ্গী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে মদত জোগাবে৷

সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী মাননীয় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ওমর আবদুল্লার দেশবিরোধী মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছেন৷ তিনি দাবী করেন ওমর আবদুল্লার বিরুদ্ধে এফ.আই.আর করাটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অবশ্য কর্তব্য৷ দেশভাগের যে মারাত্মক অভিশাপ আজও প্রতিদিন প্রতিটি ভারতবাসীকে ভোগ করতে হচ্ছে সেই সময় একটি অঙ্গরাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল রাজনীতিকের পক্ষে এই ধরণের উক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক৷ কশ্মীরের মত রাজ্যে,যেখানে দেশের ঐক্যকে বিপন্ন করতে বিদেশী শক্তি প্রতিনিয়ত সক্রিয়, সেখানে একজন দায়িত্বশীল নেতার এই উক্তি দেশের ঐক্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক৷

স্মরণে আছে জম্মু-কশ্মীরের মহারাজা হরি সিং জম্মু-কশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার পর পর শেখ আবদুল্লা কশ্মীরে অশান্তির আগুন জ্বালান৷ এটা যে জহরলাল উপলব্ধি করেননি তা নয়, কিন্তু যেহেতু আবদুল্লা কশ্মীরেরই বাসিন্দা তাই তাঁর অনেক আবদারও নেহেরু মেনে নেন৷ তিনি লোকসভাকে পাশ কাটিয়ে কশ্মীরকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দান করেন, যা আজ সারা ভারতের গলার কাঁটা হয়ে আছে৷ এই সুযোগ-সুবিধার ফলেই ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা কশ্মীরিদের কাছে ভিন দেশের বাসিন্দাদের মত৷ কশ্মীরি জনগণ সারা ভারতের যে কোনও স্থানে জমি কিনে বাস করতে পারবে৷ কিন্তু ভারতেরই অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কশ্মীরে সেই সুযোগ নেই৷ এই ধরণের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ফলেই আজ কশ্মীরের নেতা-নেত্রীরা ভারতবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী কথাবার্তা বলার সাহস পায়৷

নেহেরুর সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশভাগ ছিল ক্ষতিকারক, যার ফল আজও ভারতবাসীকে মর্মে মর্মে ভোগ করতে হচ্ছে৷ এই কশ্মীরের বুকে পাকিস্তান যে সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে সেখানেও কশ্মীরের স্থানীয় কিছু নেতানেত্রীদের ইন্ধন আছে৷ এই অবস্থায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারকে আরও বেশী সজাগ হতে হবে৷ এই ধরণের দেশবিরোধী উক্তিকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না৷

ওরা দু’পায়ে দলে, মরণ শঙ্কারে,  সবারে ডেকে গেল শিকল ঝংকারে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

১৮ই এপ্রিল ১৯৩০-বাঙলার সশস্ত্র বিপ্লবের ইতিহাসে রক্তের অক্ষরে লেখা একটি দিন৷ না, সভা-সমিতিতে জ্বালাময়ী বত্তৃণতা দিয়ে নেতা হওয়ার জন্যে নয়, মাতৃভূমির মুক্তির জন্যে আত্মত্যাগের এক দুর্লভ ইতিহাস৷ সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসককে যোগ্য জবাব দিতে বাঙলার ঘরে ঘরে তখন নবজীবনের সাড়া৷ একতরফা মার খাওয়ার দিন শেষ৷ সাম্রাজ্যবাদী বিদেশী শাসককে এবার যোগ্য জবাব দিতে হবে৷ পরাধীনতার যন্ত্রণা জাগিয়ে তোলে বাঙলার সুপ্ত যৌবনকে৷ নেতৃত্বের লোভে নয়, দেশের জন্যে স্বাধীনতার জন্যে আত্মত্যাগের, জীবন উৎসর্গের প্রতিদ্বন্দ্বিতা---‘আগে কে বা প্রাণ করিবেক দান, তারই লাগি কাড়াকাড়ি৷’ পরাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসের পাতায় ওই সময়টা চিহ্ণিত অগ্ণিযুব বলে৷

সেই অগ্ণিযুগের একটি অধ্যায়---চট্টগ্রাম সশস্ত্র বিপ্লব---অস্ত্রাগার লুণ্ঠন---জালালাবাদের যুদ্ধ৷ ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০৷ অত্যাচারী শাসককে যোগ্য জবাব দিতে মাষ্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে অনেক আগে থেকেই৷ ওই দিন মধ্যরাতের কিছু আগেই সশস্ত্র বিপ্লবীরা ঝাঁপিয়ে পড়ল পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারে জেলখানায়, ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্কে, থানায়৷ চট্টগ্রামের সর্বত্র৷ কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল সূর্য অস্ত না যাওয়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসকের বুকে চট্টগ্রামের সূর্য ও তাঁর সহকর্মীবৃন্দ৷ ১৮ই এপ্রিল বাঙলার সেই বীর বিপ্লবীদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করার দিন৷

রেলের টিকিটে বাংলা ভাষার দাবীতে শিয়ালদহ ডিভিশনে ‘আমরা বাঙালী’র স্মারকলিপি প্রদান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

দমদম, বারাসত, ব্যারাকপুর সহ শিয়ালদহ ডিভিশনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশনের রেলওয়ে টিকিটে ও ষ্টেশনে বাংলায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার দাবীতে ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীজয়ন্ত দাশের নেতৃত্বে উল্লিখিত ষ্টেশন সমূহের ষ্টেশন মাষ্টার/ষ্টেশন সুপারিটেণ্ডেণ্টের নিকট স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়৷

অরূপ মজুমদার, বাপী পাল, রাজু বিশ্বাস, এস.পি.সিং, অনির্বান মুখার্জী, জ্যোতিবিকাশ সিনহা, শ্রাবণী বসাক প্রমুখ ‘আমরা বাঙালী’র কর্মিবৃন্দ বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন৷ এছাড়া বঙ্গ ব্রিগেড ও জাতীয়তাবাদী বাঙালী মঞ্চের নেতৃবৃন্দও উক্ত দাবীতে সরব হন৷ উপস্থিত সাধারণ মানুষও এই দাবীকে সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন৷

বিপন্ন জাতিসত্তা পুনরুদ্ধারে  মানুষের পাশে ‘আমরা বাঙালী’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

পূর্ব ও উত্তর পূর্ব অঞ্চলে আমরা বাঙালী ১১টি লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্রে লড়াই করছে৷ ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাশ জানান পশ্চিমবঙ্গে আজ বাঙালী জাতিসত্তার অস্তিত্ব বিপন্ন৷ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের স্বার্থে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের মদত দিয়ে চটুল রসের অসংস্কৃতির স্রোতে ভাসছে৷ ফলে কলুষিত হচ্ছে বাঙলার উন্নত ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি৷ বিপথগামী হচ্ছে বাঙলার তরুণ ছাত্র-যুব সমাজ৷ শ্রী দাশ আরও বলেন---ভারতবর্ষ কোনও একটি বিশেষ ভাষার মানুষের দেশ নয়৷ ৪৪টি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ভারতবর্ষ একটি যুক্তরাষ্ট্র৷ এই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে মজবুত করতে হলে ৪৪টি জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি, অর্থনীতিকে উন্নত করতে সমান গুরুত্ব দিতে হবে৷ ‘আমরা বাঙালী’র লক্ষ্য সেটাই৷ ‘আমরা বাঙালী’র আন্দোলন তথাকথিত টিপ্রা ল্যাণ্ড আর গোর্খাল্যাণ্ডের মত কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়৷ ‘আমরা বাঙালী’র এই আন্দোলন ভারতবর্ষের ৪৪টি সমাজকে নিয়ে৷ জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় ও মজবুত করাই এই আন্দোলনের লক্ষ্য৷

ত্রিপুরা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি জানাচ্ছেন পূর্ব ত্রিপুরা কেন্দ্রের ‘আমরা বাঙালী’ প্রার্থী কর্ণধন চাক্মা ধর্মনগরে একটি প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন---অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে বাঙালী ও জনজাতির মধ্যে বিভেদের রাজনীতি করে চলেছে৷ ভোটের প্রাক্কালে এটি তীব্র আকার ধারণ করেছে৷ তিনি আরও বলেন, দুঃস্থ কর্ষক ও জুম চাষীদের বলির পাঁঠা করে ফায়দা লুটছে রাজনৈতিক নেতারা৷ এন.আর.সি. টিপ্রা ল্যাণ্ডের বিরুদ্ধেও তিনি বলেন---এ.ডি.সি. করেও জনজাতির কোনও লাভ হয়নি৷ মুষ্টিমেয় কিছু নেতা আবার এ.ডি.সি.-র টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে৷ তিনি সবাইকে বলেন---আপনারা দলে দলে ‘আমরা বাঙালী’র প্রার্থীকে টর্চলাইট প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন৷

পশ্চিমবঙ্গে চিরাচরিত প্রথায় দ্বিতীয় দফার বোট  শেষ হ’ল

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অভিযোগে পাল্টা অভিযোগ বোটদানে বাধা এইসব ছোটখাটো ঘটনার  মধ্যে দিয়েই দ্বিতীয় দফার তিনটি কেন্দ্রের বোট শেষ হল৷ পশ্চিমবঙ্গে বোট মানেই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকবেই৷ দ্বিতীয় দফার বোটও তার ব্যতিক্রম নয়৷ বিশেষ করে দার্জিলিং কেন্দ্রে চোপড়া ও রায়গঞ্জ কেন্দ্রে ইসলামপুর ও আর কয়েকটি জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে৷ তবে এবারে বুথ দখলের চেয়ে বোট দানে বাধা দেওয়ারই অভিযোগই বেশী৷ চোপড়া গোয়াল পোখর কাটা ফুলবাড়ি  প্রভৃতি এলাকা থেকে বোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে৷ জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের ‘আমরা বাঙালী’ প্রার্থী খুশিরঞ্জন মণ্ডল জানান তার কেন্দ্রে বোট শান্তিতেই হচ্ছে বড় কোন ঘটনার খবর নেই৷ দার্জিলিং কেন্দ্রের ‘আমরা বাঙালী’ প্রার্থী নীরোধ অধিকারী জানান তার এলাকায় কোন ঝামেলা হয়নি৷

বাঙলার নববর্ষ বরণে স্পান্দনিক

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কলকাতা ঃ গত ১লা বৈশাখ তিলজলা আনন্দমার্গ আশ্রমের জাগৃতি ভবনে সাংসৃকতিক প্রকোষ্ঠ ‘স্পান্দনিকে’র উদ্যোগে বাঙলার বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালিত হ’ল৷ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকালে তিন ঘণ্টা ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তনের পর মিলিত সাধনা অনুষ্ঠিত হয়৷ এরপর আচার্য প্রিয়শিবানন্দ অবধূত প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন ও তারপর প্রাউট প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার প্রদত্ত ‘বাঙলার নববর্ষ’ প্রবচনটি পাঠ করে শোনান আচার্য নিত্যসত্যানন্দ অবধূত৷ এই প্রবচনে প্রাউট দর্শনের প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বাঙলা ও বাঙালীর ইতিহাস সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাঙালী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস তিন হাজার বছরের বেশী৷ কারণ অথর্ব বেদের অনেক জায়গায় বাঙলার উল্লেখ আছে৷’ তিনি বলেন, ‘ঋকবেদ গত পনেরো হাজার বছর থেকে দশ হাজার বছর পূর্বে রচিত হয়েছে৷ যজুর্বেদ রচিত হয়েছে৷ গত দশ হাজার বছর পূর্ব থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত৷ আর অথর্ব বেদ রচিত হয়েছে পাঁচ হাজার বছর পূর্ব থেকে তিন হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত৷ এই অথর্ব বেদে বাঙলার উল্লেখ থাকায় প্রমাণিত হয় বাঙলার সভ্যতার ইতিহাস তারও পুরোনো৷ তাছাড়া বাঙলার নিজস্ব পোষাক আছে, মেয়েদের শাড়ী পরবার নিজস্ব পদ্ধতি আছে যা অন্যদের চেয়ে ভিন্ন৷ বাঙলার নিজস্ব পঞ্জিকা আছে, নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব লিপি আছে৷ প্রাউট-প্রবক্তা বলেছেন, এতগুলো বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর আর কোন জনগোষ্ঠীর নেই৷ এই প্রবচনের অন্তে প্রাউট-প্রবক্তা বলেছেন, ‘বাঙালী নামধেয় জনগোষ্ঠী অতীতে জীবিত ছিল, আজও জীবিত ও আমি আশা করব ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্তভাবে জীবিত থাকবে৷’ সেই জনগোষ্ঠীকে আজ নোতুন করে শপথ নিতে হবে---এই নোতুন বছরটা তারা কীভাবে আরও সফল করে তুলবে৷ নিজেদের অস্তিত্বকে কীভাবে আরও প্রাণবান, প্রাণোচ্ছ্বল করে তুলবে৷ আজ আনন্দের দিন ও এই আনন্দের মধ্যেই তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে ও ভবিষ্যতের রসদ সংগ্রহ করে নিতে হবে৷ ‘নান্যপন্থা বিদ্যতে অয়নায়’৷

এরপর ছিল প্রাতরাশের কর্মসূচী৷ তারপর বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷ সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পী প্রভাত সঙ্গীত ও প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য প্রদর্শন করে দর্শকমণ্ডলীকে মুগ্দ করে দেন৷ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আচার্য প্রিয়শিবানন্দ অবধূত, জয়ন্ত সরকার, সুরশ্রী মাইতি, অরুণিমা ভট্টাচার্য ও তাঁর পুত্র অংশুমান ভট্টাচার্য, মোহন অধিকারী প্রমুখ৷ নৃত্য পরিবেশন করে সর্বপ্রথমে আনন্দমার্গ শিশুসদনের কলাকুশলীবৃন্দ ও দেবাক্ষি কলাকুঞ্জ ছাড়াও আরও অনেকে৷ অনুষ্ঠানে আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন- বাঙালী জাতি আজ সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক প্রভৃতি বিভিন্ন দিক থেকেই শোষণ ও নিপীড়ণের শিকার৷ তিনি আরও বলেন---বাঙলার শোষণমুক্তি তথা সর্বাত্মক সমৃদ্ধিই একমাত্র মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার প্রদত্ত প্রাউটের পথেই সম্ভব৷ প্রাউট দর্শনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল বাঙলারই নয় সমগ্র বিশ্বের সর্বাত্মক শোষণমুক্তি ও সর্বাত্মক সমৃদ্ধি ঘটবে৷ এছাড়া অন্য কোনও পথ আজ মানুষের সামনে খোলা নেই৷ তাই তিনি সকলের কাছে আবেদন জানান, প্রাউট জানুন, এই প্রাউটকে বাস্তবায়িত করে বাঙলা ও বিশ্বের সর্বাত্মক সমৃদ্ধি ঘটান৷ শ্রীবকুল চন্দ্র রায় বাঙলার শোষণমুক্তির আন্দোলনে সবাইকে অগ্রণী হতে আহ্বান জানান৷ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রীরবীন সেন৷

আনন্দমার্গীয় বিধিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৬ই এপ্রিল শনিবার উত্তর২৪পরগণার জেলার গাঁইঘাটা ব্লকের কাহনকিয়া গ্রামের বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী হরিপদ সরকারের আনন্দমার্গীয় বিধিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পালিত করা হয়৷ উক্ত অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আচার্য ভাবপ্রকাশানন্দ অবধূত৷ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে কীর্ত্তন পরিচালনা করেন শ্রী প্রমোদ দাস ও নিত্যানন্দ দাস৷ কীর্ত্তনশেষে সাধনা ও গুরুপূজার পর  আনন্দমার্গের শ্রাদ্ধ বিধি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন শ্রী সন্তোষ কুমার বিশ্বাস (ভুক্তিপ্রধান)৷ উল্লেখ্য হরিপদ সরকার হচ্ছেন শ্রীমতী কল্যাণী মণ্ডলের পিতা ও শ্রীপরিতোষ মণ্ডলের শ্বশুর মহাশয়৷