সম্পাদকীয়

‘বাংলাকে ভালবাসি’

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আবার আসছে ২১শে ফেব্রুয়ারী৷ ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’! না, আমরা ভুলতে পারি না৷ ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস৷ মাতৃভাষা মাতৃদুগ্দের মতো৷ মাতৃভাষা আমাদের প্রাণের ভাষা৷ আমরা ভুলতে পারি না, ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে ডাকার (ঢাকা) রাজপথে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্যে ৫জন শহীদ হয়েছিলেন ও ১৭জন আহত হয়েছিলেন৷ এরপর ১৯৬১ সালের ১৯শে মে তেও অসমের শিলচরে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে ১১ জন শহীদ হয়েছিলেন৷

নীলকণ্ঠ দিবস

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১২ই ফেব্রুয়ারী ‘নীলকণ্ঠ’ দিবস৷ আনন্দমার্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন৷ আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭৩ সালের ঘটনা৷ পটনার বাঁকিপুর সেন্ড্রাল জেলে মিথ্যা অভিযোগে বন্দী মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূত্তিজীক্ হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধের নামে প্রাণঘাতী মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ কিন্তু মার্গগুরুদেব সেই বিষকে আত্মস্থ করে তাঁর প্রতিক্রিয়া নষ্ট করে দেন৷

মার্গগুরুদেব এই বিষ প্রয়োগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেন৷ সরকার তাঁর দাবীতে কর্ণপাত করেনি৷ এরপর ১লা এপ্রিল (১৯৭৩) তিনি এই দাবীতে অমরণ অনশন শুরু করেন৷ এই ঐতিহাসিক অনশন চলেছিল পাঁচ বছর চার মাস দুই দিন৷

পুঁজিবাদী আগ্রাসন ও নিপীড়িত-মানবতার মুক্তির পথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের আগে বিশ্ববিখ্যাত আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষা সংঘটন ‘অক্সফ্যাম’ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক  চেহারা নিয়ে একটি তথ্যনির্ভর সমীক্ষা প্রকাশ করেছে৷ ওই সমীক্ষায় ভারতসহ সারা বিশ্বের  ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে---তা এককথায় বিস্ময়জনক৷ বিস্ময়জনক হলেও ধ্রুবসত্য৷

প্রজাতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব চিত্র

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে৷ যদিও এই স্বাধীনতাকে সার্বিক স্বাধীনতা বলা যায় না৷ বলা চলে এদিন আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করেছি৷ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আমরা পাই নি৷ ব্রিটিশ শাসকের হাত থেকে শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে এলেও বহুজাতিক পুঁজিপতি গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নাগপাশ থেকে ভারতের জনগণ মুক্তি লাভ করে নি৷

নেতাজী জয়ন্তীর শপথ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মহাকালের কালচক্রে দিন, মাস, বছর নিয়মিত আসে যায়৷ কিন্তু এরই মধ্যে বছরের এক একটা দিন এমনই স্মরণীয় হয়ে থাকে যে, আমরা এটিকে পবিত্র দিন হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হই৷ এমনি একটা পবিত্র দিন ২৩শে জানুয়ারী–নেতাজী জয়ন্তী৷ এই দিন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর পুন্য জন্মদিন, যিনি আজীবন দেশের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার জন্যে কঠোর তপস্যা করে গেছেন৷

ধর্ম বনাম ডগ্মা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আনন্দনগরে মহাসমারোহে আনন্দমার্গের  ধর্মমহাসম্মেলন হয়ে গেল৷ এই ধর্ম  মহাসম্মেলনের মাধ্যমে যে মূল কথাটা মানুষের  সামনে  তুলে ধরা হচ্ছে, তা হ’ল প্রকৃত ধর্মই  মানবজীবন তথা মানব সমাজের  ভিত্তিভূমি৷ আর এই ধর্ম তথাকথিত  সাম্প্রদায়িকভিত্তিক ধর্মমত বা রিলিজিয়ন নয়, এখানে  কোনো ডগ্মা তথা অযৌক্তিক অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের স্থান নেই৷  যেমন, বর্তমানে  ধর্মের নামে সারা দেশ জুড়ে  চলছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উত্তেজনা সৃষ্টির  প্রয়াস৷  হিন্দুত্ববাদীরা  ‘গো-রক্ষা’র  আন্দোলনের  নামে মানুষ হত্যা  করছে৷

স্বাগত ২০১৯

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

২০১৯ এসে গেল৷ সামনে লোকসভা নির্বাচন৷ এই লোকসভা নির্বাচন নিয়ে  এখন  সারা দেশ ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় ফুটছে৷ বিশেষ করে রাজনৈতিক  ক্ষেত্রে৷ আর  বর্তমানে  রাজনীতি  যখন  সমাজের  আপাতত  নিয়ামক  হয়ে উঠেছে,  এই পরিপ্রেক্ষিতে  সবাই  তাকিয়ে আছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের  দিকে৷

এর ঠিক আগে ৫টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গেল৷ সেই  নির্বাচন  ছিল  বলা যায়, লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইন্যাল৷ সেই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপির গোহারান হার  বিজেপি ও তার পার্শ্বস্থিত বজরং দল,  আর.এস.এস প্রভৃতির দর্প চূর্ণ করে দিয়েছে৷ অন্যদিকে  কংগ্রেস সভাপতি রাহুল ও দেশের অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী আশায়  বুক বেঁধেছে৷

আন্তর্জাতিক  নববর্ষে নোতুন পথের দিশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কালের প্রবাহ  বয়ে চলেছে  অনাদি  কাল থেকে  অনন্তকাল৷ আর সেই  কালপ্রবাহের একটা খন্ড অংশে আমাদের  জীবন৷ এও বয়ে যায় কাল প্রবাহের ছন্দে৷ একটা  জাতি, দেশ বা সমগ্র  মানবজাতির  ইতিহাসও এই একই ভাবেই  বয়ে চলে কালের  প্রবাহের সঙ্গে৷ এই ইতিহাসকেও  গড়ে  তুলি  আমরাই--- সামূহিকভাবে৷

কালপ্রবাহ  অখন্ড হলেও  চলার পথে আমরা এই কালপ্রবাহকে খণ্ড খণ্ড করে বৎসর,মাস, দিন ইত্যাদিতে বিভক্ত করেছি৷ কারণ সব গতিই উহ-আবোহাত্মক, অগতি-অগতির বা সংকোচ বিকাশাত্মক  তরঙ্গায়িত  পথ বেয়ে  এগিয়ে চলে৷  তাই দিনের চলার পর  রাতের বিশ্রাম, আবার নোতুন উদ্যম নিয়ে পথ চলা৷

মদ্যপান নিষিদ্ধ হোক

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ১৭ই সেপ্ঢেম্বর কলকাতায় দিন দুপুরে রামলীলা ময়দান থেকে এক অভিনব মিছিল বেরোয়৷ মিছিলের সামনে ছিল ঝাঁটা হাতে কয়েকশ’ মহিলা৷ মিছিলটি নবান্ন পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল৷ কিন্তু এস.এন.ব্যানার্জী রোড ধরে এগিয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দেয়৷ এরপর মিছিলকারীরা এখানে প্রায় আধঘন্টা করে ধর্র্ণয় বসে৷ ‘ওয়েল ফেয়ার  পার্টি অব ইণ্ডিয়া’-র উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে বিভিন্ন স্থানের, বিশেষ করে, ভুক্তভোগী মহিলারা যোগ দিয়েছিলেন৷ তাঁদের দাবী, বিহার ও কেরলের মত পশ্চিমবাংলাতেও মদকে নিষিদ্ধ করতে হবে৷

কর্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোন পথে?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত ৩০শে নবেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে পার্র্লমেন্ট ষ্ট্রীট পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ কর্ষক বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হয়ে ঋণমুকুব, ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রভৃতির দাবী জানায়৷ অল ইণ্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়৷ উত্তর প্রদেশ , মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু , কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য থেকে কর্ষকরা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ বস্তুতঃ সারা বিশ্বেই কর্ষকরা বিপন্ন৷ ভারতীয় কর্ষকদের অবস্থা আরও খারাপ৷ ক্ষুদ্র-চাষীদের অবস্থা সর্র্বধিক মর্মান্তিক৷ খরা, বন্যা, ঋণের প্রভৃতি বোঝা, ফসলের ওপর রোগাক্রমণ বিভিন্ন কারণে ফসল নষ্ট হয়৷ এই