সম্পাদকীয়

সংকীর্ণ সেন্টিমেন্ট ভিত্তিক  নির্বাচন বনাম দেশের আমূল পরিবর্তন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি মেদিনীপুরের লোকসভা প্রার্থী দিলীপ ঘোষ রামনবমীর দিন রামনবমীর মিছিলের নামে গদা হাতে মিছিল করলেন, কেউবা তলোয়ার হাতে মিছিল করলেন৷ প্রয়োজনে কারুর বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহার করারও হুমকি দিলেন৷

নির্বাচন বিধি অনুসারে অস্ত্র হাতে মিছিল নিষিদ্ধ৷ নির্বাচন কমিশন সেই ঘোষণাও করেছেন৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশনারের সেই ঘোষণাকে অমান্য করেই মিছিলে অস্ত্র ব্যবহার করা হল৷

দিলীপবাবু---ইতোপূর্বেই ঘোষণা করেছিলেন, ‘রামনবমীতে অস্ত্র শোভাযাত্রা, ঐতিহ্য৷ আর যেটা ঐতিহ্য সে সেভাবে করবে৷’

শুভ নববর্ষ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আগামী সোমবার বাংলার শুভ নববর্ষ৷ বাংলা ১৪২৫ সাল পেরিয়ে ১৪২৬ শুরু হবে৷ আমরা নোতুন বছরে পা দেব৷ এমনি এক বাংলা নববর্ষের প্রবচনে প্রাউট–প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার যিনি একাধারে মহান দার্শনিক, ইতিহাসবিদ্, ভাষাতত্ত্ববিদ্, শিক্ষাবিদ্, সঙ্গীতকার, যিনি মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী রূপে সমধিক পরিচিত, তিনি আত্মবিস্মৃত বাঙালী জাতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘বাঙালী নামধেয় জনগোষ্ঠী অতীতে জীবিত ছিল, আজও জীবিত ও আমি আশা করব, ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্তভাবে জীবিত থাকবে৷ সেই জনগোষ্ঠীকে নোতুন করে শপথ নিতে হবে–এই নোতুন বছরটা তারা কীভাবে আরও সফল করে তুলবে৷ নিজেদের অস্তিত্বকে কীভাবে আরও প্রাণবান, প্রাণোচ

বিজেপি’র বাঙালী বিদ্বেষী চরিত্র

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে বীর বিক্রমে ঘোষণা করলেন---এবার ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে এন.আর.সি. লাগু করবেন ও খুঁজে খুঁজে বিদেশী তাড়াবেন৷ অসমে নরেন্দ্র মোদীও এন.আর.সি.-র পক্ষে বলে গেলেন৷ তার সঙ্গে সঙ্গে বললেন---হিন্দু শরণার্থীদের নিরাপদে আশ্রয় দেওয়া হবে৷ অসমে এন আর সি লাগু করে ৪০ লক্ষ মানুষকে বিদেশী তক্মা দিয়ে তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তার প্রায় ৫০ শতাংশ বাঙালী হিন্দু, আর বাকী ৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান প্রভৃতি৷

‘‘বোটের লাগিয়া ভিখারি সাজিনু’’

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

এককালে জঙ্গীপুর (মুর্শিদাবাদ) এর দাদাঠাকুর প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থায় ধনিক শ্রেণীর ভোট ভিক্ষাকে ব্যঙ্গ করে গান বেঁধেছিলেন ও নিজেই জমিদারের বিরুদ্ধে একজন দরিদ্র অশিক্ষিত মানুষকে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তার পক্ষে দলবল নিয়ে ওই গান গেয়ে প্রচারেও নেমেছিলেন৷ সেই দাদাঠাকুরের বাঁধা গানে ছিল---

‘‘আমি ভোটের লাগিয়া

ভিখারি সাজিনু,

ফিরিনু গো দ্বারে দ্বারে’’

বা---

‘‘ভোট দিয়ে যা ও ভোটাররা

মাছ কুটলে মুড়ো দেব---

ধান ভানলে কুঁড়ো দেব

কালো গোরুর দুধ দেব

দুধ খাওয়ার বাটি দেব

ভোট দিয়ে যা ও ভোটাররা৷’’

গণতন্ত্রের বেনামীতে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

আগামী ১১ই এপ্রিল থেকে ভারতের লোকসভার নির্বাচন শুরু হচ্ছে৷  সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নির্র্বচনে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়৷ সঙ্গে সঙ্গে দল বদলের খেলাও৷ বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি  দিলীপ  ঘোষ তো খোলাখুলি  সাংবাদিকদের কাছে বললেন, লোকসভায় জিতে  আসার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞ  প্রার্থী তাঁর  দলে নেই, তাই দল বদল করে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের  তিনি তাঁর  দলে আহ্বান  জানাচ্ছেন৷ সম্প্রতি ভাটপাড়ার  প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন সিং বিজেপিতে  যোগ দিলেন৷ আর বিজেপিও সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তাঁদের  দলের সংসদের প্রার্থী ঘোষণা  করে দিয়েছে৷ ইতোপূর্বে তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতা  যিনি নাকি  তৃণমূলকে নিজ হাতে গড়েছেন বলে দাবী করেন--- তিনি এখন বিজেপি’র এরা

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশন্যাল সাম্পেল সার্ভের রিপোর্ট থেকে জানা গেল গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশে গত ২০১৭-১৮ সালে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশী৷ আর তা হলো ৬.১ শতাংশ৷ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৫ থেকে ২৯ বৎসর বয়সীদের মধ্যে বেকার সমস্যা ভয়ঙ্কর৷ মোদিজীর ক্ষমতায় আসার আগে ২০১১ -১২ আর্থিক বছরে বেকারত্বের হার ছিল যুবক যুবতীদের মধ্যে যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ৪.৮ শতাংশ৷ আর ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে গ্রামীণ যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৭.৪ শতাংশ ও ১৩.৬ শতাংশ৷ আর শহরের যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকাত্বের হার হয়েছে ওই সময়ের মধ্যে যুবকদের ক্ষেত্রে ৮.১ শতাংশ (২০১১-১২) থেকে ১৮.৭ শতাংশ (২০১৭-১৮) আর যুবতীদের

আন্তর্জতিক নারী দিবসের প্রত্যাশা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আজ  সঙ্গতভাবেই  নোতুন  করে  প্রশ্ণ  উঠছে,  একবিংশ  শতাব্দীতে  মানুষ কি ধীরে ধীরে  বিবর্তনের  উল্টো  পথে  চলে  পশু হয়ে  যাচ্ছে? বর্তমানে  পত্র–পত্রিকায়  যেভাবে  নারী–নিগ্রহ , নারী–পাচার,  নারীর  ওপর  পাশবিক  অত্যাচারের  খবর  বেরুচ্ছে ,  তাতে  প্রতিটি  শুভবুদ্ধিসম্পন্ন  মানুষেরই  মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে৷

ডগ্‌মা বনাম বিশ্বমানবতা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি কশ্মীরের পুলওয়ামায় মুসলীম জঙ্গীরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর  কনভয়ের ওপর হামলা চালিয়ে ৪৯ জন জওয়ানকে হত্যা করল৷ সংবাদে  প্রকাশ  গত ৫ বছরে জঙ্গীদের আক্রমণে একমাত্র কশ্মীরেই ৪৬০জন জওয়ান ও ২৮০জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে৷ শুধু কশ্মীরে নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে  বিভিন্ন  সময়ে এই মুসলীম জঙ্গীরা  হামলা চালিয়ে  সারা দেশ জুড়ে সন্ত্রাসের  আবহ সৃষ্টি করেছে৷ শুধু ভারতেই  বা বলি কেন সারা পৃথিবীতেই মুসলীম জঙ্গীরা  যত্রতত্র হামলা চালিয়ে  সারা পৃথিবী জুড়েই সন্ত্রাসের  আবহ সৃষ্টি করেছে৷ এই জঙ্গীগোষ্ঠীরা তরুণ যুবাদের  মগজ ধোলাই করে’ তাদের শেখাচ্ছে, অমুসলীমরা  সবাই কাফের৷ তাদের হত্যা করলে ‘আল্লা’ সন্তুষ্ট হবেন৷ যে

‘বাংলাকে ভালবাসি’

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আবার আসছে ২১শে ফেব্রুয়ারী৷ ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’! না, আমরা ভুলতে পারি না৷ ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস৷ মাতৃভাষা মাতৃদুগ্দের মতো৷ মাতৃভাষা আমাদের প্রাণের ভাষা৷ আমরা ভুলতে পারি না, ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে ডাকার (ঢাকা) রাজপথে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্যে ৫জন শহীদ হয়েছিলেন ও ১৭জন আহত হয়েছিলেন৷ এরপর ১৯৬১ সালের ১৯শে মে তেও অসমের শিলচরে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে ১১ জন শহীদ হয়েছিলেন৷

নীলকণ্ঠ দিবস

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

১২ই ফেব্রুয়ারী ‘নীলকণ্ঠ’ দিবস৷ আনন্দমার্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন৷ আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭৩ সালের ঘটনা৷ পটনার বাঁকিপুর সেন্ড্রাল জেলে মিথ্যা অভিযোগে বন্দী মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূত্তিজীক্ হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধের নামে প্রাণঘাতী মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ কিন্তু মার্গগুরুদেব সেই বিষকে আত্মস্থ করে তাঁর প্রতিক্রিয়া নষ্ট করে দেন৷

মার্গগুরুদেব এই বিষ প্রয়োগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেন৷ সরকার তাঁর দাবীতে কর্ণপাত করেনি৷ এরপর ১লা এপ্রিল (১৯৭৩) তিনি এই দাবীতে অমরণ অনশন শুরু করেন৷ এই ঐতিহাসিক অনশন চলেছিল পাঁচ বছর চার মাস দুই দিন৷