সম্পাদকীয়

বিজেপির গোর্খা তোষণনীতি মায়ের বুকে ছুরিকাঘাতের সামিল

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়, ৭ই অক্টোবর ‘গোর্খাল্যাণ্ড’ ইস্যু নিয়ে এক জরুরী বৈঠক হবে৷ ওই বৈঠকে পৌরোহিত্য করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ্৷ তাতে বিশেষ করে ডাক পেয়েছেন গোর্খাজনমুক্তি মোর্র্চর প্রধান বিমল গুরুং, যিনি বর্তমানে ফেরার ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত৷ এই বৈঠকের কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়নি৷ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, দার্জিলিং-এর জোলা শাসক ও জি.টি.এ-র প্রধান সচিবকে, জি.টি.এর অন্য কোনো পদাধিকারীদের ডাকা হয়নি৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বর্তমান সভাপতি বিনয় তামাংকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি৷ পরিষ্কার বোঝা যায়, এর

একমাত্র সমবায়ই সমাধান

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

 সংসদে বাস্তবিক পক্ষে অগণতান্ত্রিকভাবে পাশ হওয়া কৃষি-বিল তিনটিতে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ সই করার পর এগুলি আইনে পরিণত হল৷ এই আইন যে কর্ষকদের স্বার্থসিদ্ধি করবে না, বরং পুঁজিপতি হাঙ্গরদের মুখে  তাদের ঠেলে দেওয়া হ’ল তা এর আগের দিন সম্পাদকীয়তে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি৷ মোদিজী যুক্তি দেখাচ্ছেন, চাষীরা গ্রামের মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা শোষিত হচ্ছিল, এখন তারা এই শোষণ থেকে মুক্তির রাস্তা পেল৷ আশ্চর্যের ব্যাপার, যে চাষীরা গ্রামীণ ছোট-খাটো মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে তাদের উৎপন্ন ফসলের দরকষাকষিতে পেরে উঠছিলেন না, তারা তাহলে  বড়ো বড়ো কর্র্পেরেট পুঁজিপতি হাঙ্গরদের সঙ্গে পেরে উঠবে কী করে?

কৃষিক্ষেত্রে পঁু জি পতিদের অবাধ মুনাফা লুণ্ঠনের সুযোগ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

কৃষিবিল নিয়ে সংসদ তোলপাড়৷ বিজেপি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধীদের সমবেত বিরোধিতা সত্ত্বেও সহজেই লোকসভায় এই বিল পাশ করে নেয়৷ রাজ্যসভায় কিন্তু এত সহজে এই বিল পাশ করা সম্ভব নয়৷ রাজ্যসভায় বিরোধীরা এই বিলের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে৷

এই পরিস্থিতিতে ৮জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু৷

এ লজ্জা রাখি কোথায়!

আচার্য সাত্যাশিবানন্দ অবধূত

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন --- মানুষ  পিতামাতার মধ্য থেকে যে অমৃতের  ধারা লাভ করেছে সেইটিকে অনুসরণ করতে গিয়ে দেখেছে কোথাও  তার সীমা নেই পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের যে অবিচ্ছেদ্য স্নেহের সম্পর্ক তা অন্তহীন, তা চিরন্তন তাই  পিতা মাতা যেমন তাঁদের অন্তরের সমস্ত স্নেহ ভালবাসা, সম্পদ দিয়ে সন্তানের প্রতি  দায়িত্ব পালন করেন, সন্তানকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলেন, উপযুক্ত সন্তানও তেমনি পিতামাতার বয়সকালে তার দায়িত্ব পালন করে, পিতামাতার সব ভার সন্তানের ওপর বার্তায় আমাদের সমাজে এটাই ছিল সংসারের স্বাভাবিক ধর্ম এ নিয়ে কোন গোল ছিল না কিন্তু  আজ জড়বিজ্ঞানের নিত্যনূতন আবিষ্কার যেমন মানুষের অঞ্জলি ভরে  দিয়েছে, তেমনি হৃদয় নিঃস

শান্তিনিকেতনে অশান্তি

আচার্য সাত্যাশিবানন্দ অবধূত

প্রাচীন ভারতের তপোবনের অধ্যাত্ম-ভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার যোগসাধনের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী স্থাপন করে ছিলেন শুরুতে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রাচীন ভারতের মুনীঋষিদের আদর্শকে তিনি এই শিক্ষার ভিতরূপে গ্রহণ করেছিলেন শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার দিবসেই তিনি তাঁর আদর্শ পরিষ্কার ভাবে সুপরিস্ফুট করেছিলেন তিনি প্রাচীন ভারতের ঋষিদের আদর্শের মূল কথাকে তুলে ধরে বলেছিলেন,তাদের বেশভূষা বিলাসিতা কিছুই ছিল না অথচ বড়ো বড়ো রাজারা এসে তাঁদের কাছে মাথা নত করতেন আমরা টাকাকড়ি জুতোছাতা পাবার জন্যে  যেরকম  প্রাণপণ খেটে মরি, তাঁরা সত্যকে পাবার জন্যে তার চেয়ে অনেক বেশি

সর্বাত্মক স্বাধীনতা

আচার্য সাত্যাশিবানন্দ অবধূত

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট ভারত তথাকথিত স্বাধীনতা লাভের  পর ৭৩ বছর অতিক্রান্ত হল । এখন আমরা সদ্য ৭৪ তম স্বাধীনতা উৎসব পালন করলাম কিন্তু আজও এই পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ দেশে কত শতাংশ মানুষ পেয়েছে এখন এইটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ণ । কয়েকমাস আগে এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুনিয়ার ক্ষুধার সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০২ নম্বরে । আমাদের ওপরে আছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ইরাক, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশ অর্থাৎ ওইসব দেশের চেয়েও ভারতের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যার হার কম, ভারতে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমারেখার নীচে জীবনধারণের নূ্যনতম চাহিদা মেটানোর সামর্থ্য এদের নেই । কোটি কোটি মানুষ কর্মহী

শিক্ষা সংস্কারের নামে শিক্ষা সংকোচন

আচার্য সাত্যাশিবানন্দ অবধূত

গত ২৯শে জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় বৈঠকে পাশ করল এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নাম পরিবর্তন করে করা হল শিক্ষামন্ত্রক যদিও এই নাম পরিবর্তনের কোনও আবশ্যকতাই  ছিল না।

বাঙালী জাতির প্রতি অসমের মন্ত্রীর অশালীন মন্তব্যের  প্রেক্ষীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

আচার্য সাত্যাশিবানন্দ অবধূত

অসমের রাজস্বমন্ত্রী ভবেশ কলিতার বাঙালী জাতি সম্পর্কে সাম্প্রতিক অশালীন মন্তব্য শুধু নিন্দনীয় নয়, ঘৃণার বিষয় অসমের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, অসমের রঙ্গিয়া এলাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বন্টন করতে গিয়ে অসমের মন্ত্রী ভবেশ কলিতা বলেছেন, বাঙালীরা খচ্চর জাতি।

মেঘালয়ে বাঙালী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমস্ত বাঙালী ঐক্যবদ্ধ হোন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

দেশজুড়ে করোনার সঙ্গে লড়াই চলছে, করোনার আক্রান্ত ও করোনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে৷ আর করোনার কারণে দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে দেশের জনসাধারণের অর্থনৈতিক অবস্থাও অতীব সংকটজনক৷

এর মধ্যেই গোদের ওপর বিষফোঁড়া--- মেঘালয় থেকে প্রাপ্ত সংবাদ সেখানে বাঙালী নির্যাতন সমানে  চলেছে৷ গত ফেব্রুয়ারী মাসে মেঘালয়ে ইছামতী ও বলাগড় এলাকায় খাসী ষ্টুডেন্টস্ ইয়ূনিয়নের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাঙালীদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে বাঙালীদের দোকানপাট ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়৷ তার ওপর মেঘালয় সরকার প্রায় ৮০০ বাঙালী তরুণদের গ্রেফতার করে বাঙালীদের ওপর অত্যাচার অব্যাহত রাখে৷

পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে (গত ৩০ জুনের খবর) এ নিয়ে ২২ বার পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হ’ল৷ পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মানে অন্যান্য সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের  মূল্যবৃদ্ধি ৷ কারণ তেলের ওপর নির্ভরশীল ট্রাক, বাস প্রভৃতি পরিবহন৷ ভোগ্যপণ্যের পরিবহন খরচ বাড়লে স্বাভাবিকভাবে তার দাম বাড়বে৷ এমনিতে করোনা সংক্রমণ রোখার জন্যে ৩ মাসের  বেশি লকডাউনের ফলে স্থানীয় কলকারখানা কার্যতঃ বন্ধ৷