প্রবন্ধ

আমরা হিন্দীর বিরুদ্ধে নই, হিন্দী-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে

মানস দেব

আমি ও আমরা যারা রাজ্যে হিন্দী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করছি আমরা কেউ হিন্দী ভাষা ও হিন্দী ভাষীদের বিরুদ্ধে নই৷ আমরা হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে৷ যেমন হিন্দী বিহারকে বুদ্ধু  বানিয়ে দিয়েছে৷ মৈথিলি, ভোজপুরী, অঙ্গিকা ভাষাগুলো অনেক উন্নত হওয়া সত্ত্বেও আজ গেঁয়ো ভাষায় পরিণত হয়েছে হিন্দী আগ্রাসনের শিকার হয়ে৷  বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও সেই একই  ষড়যন্ত্র চলছে৷ আমাদের হিন্দি বিরোধিতা এখানেই৷ তাছাড়া  আজ ভারতবর্ষে  যারা একটি বিশেষ ধর্মীয় মতবাদকে জোর করে গিলিয়ে সাম্রাজ্যবাদী  শাসন কায়েম  করতে চাইছে  হিন্দী  ভাষা  তাদের  প্রধান হাতিয়ার৷ আমার তো মনে  হয় প্রকৃত হিন্দী অনুরাগীদেরও প্রতিবাদে সরব হওয়া উচিত৷ কেন তাদে

পা ধুয়ে দেওয়া নাটক

সুকুমার সরকার

পা ধুয়ে দেওয়া আর পা মাড়িয়ে যাওয়া দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না যদি মনুষ্যত্বের মর্য্যাদায় না থাকে৷ সম্প্রতি ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্ত্তৃক অর্ধকুম্ভস্নানের পর পাঁচ দলিত সাফাই কর্মীর পা ধুইয়ে দেওয়ার পর যে বিতর্ক উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিবন্ধের অবতারণা৷

দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজ দলিত ও সাফাই কর্মীদের পা ধুইয়ে দেওয়া নয়৷ তাঁর কাজ দেশের প্রতিটি মানুষের আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সুনিশ্চিত করা ও মানুষকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে সমাজ রাষ্ট্রে যেখানে যেটুকু গলদ আছে আইনেরে দ্বারা তা দুর করা৷

দেশ ভাগের বলি বাঙালী, দেশ ভাগের পরিণতি কশ্মীর

মনোতোষ দেব

ক্ষমতালোভী নেতাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চতুর ব্রিটিশ তথাকথিত স্বাধীনতার নামে দেশ ভাগ করে দিয়ে চলে যায়৷ পরিণাম দুই প্রান্তে, দুই সীমান্তে---উত্তরে কশ্মীর ও পূর্বে বাংলায় আজও জ্বলছে আগুন৷ উত্তরে নেহেরু সরকারের দুর্বলতার ও বুদ্ধিহীনতার নাকি চাতুরীর পরিণাম অগ্ণিগর্ভ কশ্মীর৷ স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে কশ্মীরের রাজা হরি সিং ঘোষণা করেন--- কশ্মীর ভারতের সঙ্গেই থাকবে৷ স্বাধীনতার শর্ত অনুসারে হরি সিংহের ঘোষণায় কশ্মীরের ভারতে অন্তর্ভুক্তি সন্দেহাতীত হয়ে গেল৷ কিন্তু তারপরও পাক সৈন্য কশ্মীর প্রবেশ করে৷ সেই দিনই পাকিস্তানকে মার দিয়ে কশ্মীরকে মুক্ত করার ক্ষমতা ছিল ভারতীয় সেনার যার নেতৃত্বে ছিলেন বাঙালী সেনা

নারী–প্রগতি

অবধূতিকা আনন্দরসধারা আচার্যা

আজকাল প্রায়ই নারী প্রগতি বলে একটা কথা অনেকের মুখে মুখে চলে আসছে৷ সেদিন রেডিও এফ. এম. গোল্ড এ প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এই ‘‘নারী প্রগতি’’ কথাটা শুনে আমার মনে এ বিষয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা প্রকট হয়৷

পাকিস্থান, ভারত ও বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে উন্নয়নের পথে চলার মানসিকতাকে অগ্রাধিকার দিক

প্রভাত খাঁ  

পাকিস্তান এমন একটি ভূখণ্ড যার তিনদিকই পাহাড় ও ভূমিবেষ্টিত  কিন্তু ভারত বিশাল দেশ তার পশ্চিমদিকে বিরাট অংশ ও পূর্বদিকের তিনভাগে প্রায় দুভাগ সমুদ্রবেষ্টিত তাই ভারতকে স্থলপথ ও জলপথে আক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষায় বেশি সচেতন হতে হয়৷ গত ২০১১ তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র-এর মদতপুষ্ট লস্কর তৈবার জঙ্গীরা  মুম্বাই আক্রমণ করে জলপথে৷ তার ভয়ঙ্কর পরিণতি শুধু ভারত নয় সারা পৃথিবী দেখেছে আর একটা অপ্রিয় সত্য কথা হল যে পাকিস্তানের জন্মই হয়েছে ভারত বিদ্বেষকে হাতিয়ার কবে৷ তাই সাম্প্রদায়িকেতার ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগাটাই হল সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক গোষ্ঠীর একটা কূটচাল  যার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানকে সামনে রেখে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চ

বসন্তোৎসব

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

বসন্তোৎসব সারা ভারতের উৎসব–উত্তর ভারতে ‘হোলি’, বিহার অঞ্চলে ‘ফাগুয়া’ ও বাংলায় ‘দোলযাত্রা’৷ আদিতে এই উৎসব ছিল মূলতঃ আর্যদের৷ প্রাচীন আর্যদের বাসভূমি ছিল মধ্য এশিয়ায়৷ এই অঞ্চলটা ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা৷ সারা শীতকাল কেবল বরফ পড়তো, এটা ছিল আর্যদের দুঃসহ কষ্টের কাল৷ নিদারুণ ঠাণ্ডায় মানুষ জবু–থবু হয়ে মরার মত পড়ে থাকতো, কোন কাজকর্ম করতে পারতো না৷ এই শীতকালটা যখন বিদায় নিত, আর্যরা তখন আনন্দে উৎসবে মেতে উঠতো৷ ‘উৎ’ মানে আনন্দে লাফিয়ে ওঠা আর ‘সব’ মানে ‘জন্মগ্রহণ করা’৷ আক্ষরিক অর্থেই বসন্তের আগমনে আর্যরা প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠতো, হৈ–হুল্লোড় ও কর্মচাঞ্চল্যে মেতে উঠতো৷

স্বচ্ছতার কাঁচটা ক্রমশঃ ঝাপসা হয়ে গেছে

জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

ভারতবর্ষের নির্বাচন কমিশন কর্ত্তৃক ১০ই মার্চ রবিবার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়ে গেছে৷ টিভি, রেডিও, সংবাদপত্রে এখন শুধু নির্বাচনী সংবাদের রমরমা৷ ৫বছর আগে ২০১৪ সনের নির্বাচনের প্রাক্কালে  সুন্দর ভারত গড়ার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে, আচ্ছে দিনের স্বপ্ণ দেখিয়ে নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে এনডি.এ সরকার ভারতবর্ষের প্রশাসনে আসে৷ দেশের তরুণ ও যুব সমাজের জন্যে বছরে ২ কোটি চাকরী,  বিদেশে গচ্ছিত  এদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমান কালো টাকা উদ্ধার করে এনে প্রত্যেক দেশ বাসীর ব্যাঙ্ক একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়া, দেশের শিল্প ও কৃষির অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়ে ‘‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’’ এর মাধ

মানুষ কবে মানুষ হবে

‘‘মানুষ মানুষ হারায়ে হুঁশ কোথায় চলেছ তুমি,

আকাশ সাগর বিষিয়ে দিয়ে নরক করে’ মর্তভূমি?’’

সাবাস ভারতীয় সেনা, এই জবাবটা দেয়ারই  ছিল ধর্মের নাম নিয়ে পৈশাচিকভাবে  নরহত্যা  কিছুতেই  মেনে নেওয়া যায় না৷ সীমান্ত পারের জল্লাদ গুলোকে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনী, প্রয়োজনে আরও কঠিন কঠোর জবাব দিতে হবে৷ সেনাবাহিনীর এই কাজে প্রতিটি ভারতবাসীই সেনা বাহিনীর পাশেই থাকবে৷ একদল ধর্র্মন্ধ মানুষ ধর্মের মুখোশে মুখ ঢেকে দশকের পর দশক  ধরে পৈশাচিক  হত্যালীলা চালিয়ে যাবে, একে আর কোনও মতেই প্রশ্রয়  দেওয়া উচিত নয়৷

দধীচি দিবসের তাৎপর্য

মন্ত্র আনন্দ

শাসকের রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নত করে নয়, নেতা মন্ত্রীদের তোয়াজ তোষামোদ করে নয় জামালপুরের ছোট্ট একটা রেল কোয়ার্টার্স থেকে আনন্দমার্গ বিশ্ব সংঘটন হয়ে ওঠার পিছনে আছে বহু কর্মীর ত্যাগ তিতিক্ষা আত্মত্যাগের ইতিহাস৷ দুর্জয় সাহসে ভর করে সমস্ত বাধা-বিপত্তি দু’পায়ে দলে এগিয়ে চলার ইতিহাস৷ ১৯৬৭ সাল, বাঙলার ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ৷ কংগ্রেস দলের ভাঙনকে সহায় করে বাঙলার রাজনীতিতে জড়বাদী কমিউনিষ্টদের উত্থান৷ খণ্ডিত কংগ্রেসের এক অংশের সঙ্গে জোট বেঁধে প্রতিষ্ঠিত হ’ল যুক্তফ্রণ্ট সরকার৷ বিরোধী অবস্থানে থেকে যে কমিউনিষ্টরা এত দিন উন্নয়নের বুলি কপচে গেছে, যুক্তফ্রণ্ট সরকারে তারা কোনও উন্নয়নমুখী দপ্তর চায়নি, স্বরাষ্ট্র

গণতন্ত্রকে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেতে হবে না হলে গণতন্ত্র ব্যর্থ

প্রভাত খাঁ

১৯৫০ সালের ২৬শে জাানুয়ারী থেকে সংবিধান মোতাবেক দেশের কেন্দ্র ও রাজ্যে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে শাসন চলছে৷ যদি সমীক্ষা করা যায় তাহলে দেখা যাবে এই সাধারণতন্ত্রের অর্থ কী সেটা মনে হয় খুব কমই লোক জানেন ও বোঝেন৷ তবে ১৫ই আগষ্টের দিনটিকে অনেকেই স্মরণে রেখেছেন৷