প্রবন্ধ

সদ্বিপ্রের নেতৃত্ব

সংকলন ঃ জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

(প্রাউট প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের রচনা সম্ভার থেকে সংগৃহীত)

প্রতিটি চলমান সত্ত্বাকে নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে প্রয়োজন সার্থক নেতৃত্ব৷ গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নৌকার জন্যে একজন কাণ্ডারী, ট্রেন-বাসের জন্যে ড্রাইভার যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই মানব সমাজের প্রগতির জন্যেও প্রয়োজন প্রকৃত নেতৃত্বের যাঁরা সমগ্র সমাজকে নির্ভুল দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাবেন৷ সমাজ সম্পর্কে আলোচনায় প্রাউট প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---

দানবীয় সাম্প্রদায়িকতা গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে৷

প্রভাত খাঁ

বেনিয়া ব্রিটিশ নীতি হলো বিভেদ সৃষ্টি করো ও  শাসন করো৷ তাই তাদের দ্বারা ভারতকে টুকরো করা হয়েছে৷ দেশকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ইংরেজ দিয়েছে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার ভিত্তিতে৷ দেশকে রক্তাক্ত করে যাদের হাতে  তুলে দেওয়া হয় তারা সবাই ছিল ইংরেজের অনুগামী স্তাবক৷ তা না হলে অখন্ড ভারতবর্ষ  পূর্ণস্বাধীনতা লাভ করতো নেতাজী সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ বাহিনীর দ্বারা৷  সুভাষচন্দ্র ভারতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে বাহিনী নিয়ে আসেন ও মনিপুরের মৈরানে ভারতীয় বাহিনীর পতাকা উত্তোলন করেন৷ তাতেই ভীত  ও সন্ত্রস্ত্র হয়  ইংরেজ  শাসক  ও এদেশের  রাজনৈতিক  দলগুলো৷ সেই কারণে  রাজনৈতিক দলের নেতারা লোকচক্ষে নেতাজীকে হেয় প্রতিপন্ন করতে কু

প্রকৃতির রুদ্ররোষ!  মানুষের দুর্বুদ্ধি!

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

করোনার আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব৷ বিশ্বায়ণের নূতন পর্ব হয়তো শুরু হল৷ ‘বিশ্বায়ণ’ শব্দটি এতদিন পুঁজিবাদী দুনিয়ার করায়ত্ত ছিল৷ এই বিশ্বায়ণ পুঁজিবাদী দুনিয়ার জন্যে অবাধ বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দিলেও সাধারণ নাগরিকের জন্য সি.এ.এ, এন.আর.সির আগল মজবুত করা হচ্ছিল৷ সহজ কথায় তথাকথিত বিশ্বায়ণ বণিক শ্রেণীর বিশ্বের বাজার দখলের, শোষণের হাতিয়ার৷ এই বিশ্বায়ণকে কেন্দ্র করেই উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে চলছে ঠান্ডা যুদ্ধ৷

প্রকৃত মানব ধর্মে জাতিভেদ, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের স্থান নেই

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

বর্তমানে ধর্মের নামে নানান ধরণের গোঁড়ামী, জাত–পাতের ভেদ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও বিদ্বেষ চলছে৷ এগুলিকে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে বলা হচ্ছে৷ তা কিন্তু  মোটেই ঠিক নয়৷

আবীরে লাল কলকাতার সেকাল

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

কলকাতার আদি পরিবারগুলির অন্যতম হল শেঠ পরিবার৷ এই শেঠ পরিবারের প্রথম যিনি কলকাতায় আসেন তাঁর নাম মুকুন্দরাম৷ মুকুন্দরামের ছেলে লালমোহন৷ খ্যাতিমান ব্যবসায়ী হিসেবে ইংরেজদের  কাছে বিশেষ সমাদর পেতেন এই লালমোহন৷ এই লালমোহন যে-দিঘি খনন করান তারই নাম লালদিঘি৷ লালদিঘি নামকরণের উৎস অবশ্য আরও আছে৷ দিঘির মাটি দিয়ে  ইঁট তৈরি করে  পশ্চিমদিকে একটা  ভদ্রাসন তৈরি করা হয়েছিল৷ লালমোহন একটা বাজারও তৈরি করেছিলেন৷ সেই বাজারটিই হল আজকের বিখ্যাত লালবাজার৷ ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ অবধি বাজারটির অস্তিত্ব ছিল৷ পরে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়৷ এখন শুধু নামটিই আছে৷

সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো-মন্দ

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া নামক একটি নোতুন জগতের সাথে আমাদের পরিচিতি ঘটেছে৷ এক বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্ণ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার পথ চলা শুরু৷ বর্তমান সময়ে এর প্রভাব ও বিস্তার উপেক্ষা করার মতো নয়৷ আট থেকে আশি সকলের কাছেই সমাদর লাভ করেছে সোস্যার মিডিয়া পরিবারের সদস্যবৃন্দ যেমন--- ফেসবুক , হোয়াটস আপ, টুইট্যার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি ৷

লক্ষ কোটি মানুষের মেল বন্ধন ঘটেছে৷ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে৷ আঙুলের স্পর্শে ভৌগোলিক দূরত্ব মুছে যাচ্ছে, দেশ-মহাদেশ -মহাসাগর অতিক্রম করে মানুষ মিশে যাচ্ছে, একাকার হয়ে যাচ্ছে স্থান-কাল-পাত্র উপেক্ষা করে৷

রবীন্দ্রভারতীর ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ী কে

তপোময় বিশ্বাস

বাঙলার সাংস্কৃতিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, গত ৬ই মার্চ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে আগত  কিছু বিকৃত মানসিকতার ছাত্রছাত্রার কার্যকলাপ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল৷

সোস্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই নক্কারজনক ঘটনা আজ আর কারো অজানা নয়৷ সেই সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে মালদা সহ কয়েকটি জায়গায় কিছু ছাত্রছাত্রার রবীন্দ্র সঙ্গীতের লাইনকে কদর্য ভাষায় গাওয়ার দৃশ্যটি৷ ছাত্রছাত্রা সকলেই স্কুল ইয়ূনিফর্মে ছিল৷ এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা অবশ্যই অপরাধী৷ তবে শুধু তাদেরকেই দায়ী করলেই হবে না৷

সমবায়ের মাধ্যমে গণ–অর্থনীতিকে বাস্তবায়ন করতে হবে

প্রভাত খাঁ

ব্যষ্টি নিয়ন্ত্রিত ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ব্যবস্থাই অদ্যাবধি পৃথিবীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ও মূলতঃ বন্টন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে৷ এদের যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রক সাম্যবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলা হয়৷

আজ এই দুটি উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থাই শোষণের হাতিয়ার হিসাবে চিহ্ণিত হচ্ছে৷

সারা পৃথিবীতে চলছে চরম অর্থনৈতিক শোষণ৷ বর্ত্তমানে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই সর্বত্র স্বনামে ও বেনামে কাজ করে চলেছে৷ এই দুই ক্ষেত্রেই শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী নানাভাবে আর্থিক দিক থেকে শোষিত হচ্ছে৷

যথার্থ আধ্যাত্মিক শিক্ষাই সমাজকে কলুষমুক্ত করতে পারে

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

বর্তমানে প্রতিদিন পত্রপত্রিকায় নানান দুর্নীতি, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ সহ নানান্ জঘন্য ধরনের অপরাধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে৷ যখন কোন একটি জঘন্য ধরনের অপরাধের বা দুর্নীতির খবর বেরোয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে বা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ওই বিশেষ অপরাধীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়, বুদ্ধিজীবীরাও ওই অপরাধ কান্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন৷ তারপর সবাই চুপচাপ৷ আবার পরদিন নোতুন অপরাধের  খবর বেরোয়, আবার ওই অপরাধীর বিরুদ্ধে সমালোচনায় সবাই তৎপর হয়ে ওঠেন৷

বাঁচাও বাঘরোল

শ্রীপ্রদীপ রঞ্জন রীত

গ্রামীণ দক্ষিণবঙ্গের একটি বিপন্ন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হ’ল বাঘরোল৷ ইংরেজী নাম ফিশিং ক্যাট৷ অঞ্চলভেদে প্রাণীটির নাম গোবাঘা, বাঘাভাম ইত্যাদি৷ হাওড়া ও সন্নিহিত এলকার জলা ও জঙলা ভূমিতে এদের বেশী দেখতে পাওয়া যায়৷ এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী বা স্টেট এনিম্যাল৷ খড়িবন, হোগলাবন বা জঙ্গলযুক্ত জলাভূমি এেেদর আদর্শ বসতিক্ষেত্র৷ রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ী ও কারখানা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এদের বাসভূমিতে টান পড়েছে৷ ফলে এরা লোকালয়ে বেরিয়ে পড়ছে বা পড়তে বাধ্য হচ্ছে৷ প্রাণীটি সম্পর্কে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে যুগ যুগ ধরে একটা আতঙ্ক আছে৷ সেই ভয় ও অসচেতনতা থেকে মানুষ এদের দেখা পেলে একে পিটিয়ে মারে৷ বসতভূমির হ্রাস ও মানুষে