প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ

বিশ্বের যাবতীয় জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ গ্রহণ করতে হবে, ও যুক্তিসঙ্গত বণ্ঢন করতে হবে৷

স্থূল জগতে, সূক্ষ্ম জগতে ও কারণ জগতে যা কিছু সম্পদ নিহিত আছে তার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে জীব কল্যাণে৷ ক্ষিতি–অপ–তেজ–মরুৎ্– পঞ্চতত্ত্বের যেখানে যা কিছু লুকানো সম্পদ রয়েছে তা ষোল আনা সদ্ব্যবহারের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এর উৎকর্ষ সাধিত হবে৷ জল–স্থল–অন্তরীক্ষ তোলপাড় করে’ মানুষকে প্রয়োজনের উপাদান খুঁজে বের করে’ নিতে হবে–তৈরী করে’ নিতে হবে৷

ধনসঞ্চয় সম্পর্কে প্রাউটের নীতি

কোন ব্যষ্টিই সামবায়িক সংস্থার (collective body) সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ভৌতিক সম্পদ সঞ্চয় করতে পারবে না৷

 

আমাদের চাহিদা তিন ধরনের–

  • ভৌতিক (physical)
  • মানসিক (psychic)
  • আধ্যাত্মিক (spiritual)

অণুমন তার অনন্ত ক্ষুধা ভৌতিক উপাদান লাভের মাধ্যমেই তৃপ্ত করতে চায়, কিন্তু এই ভৌতিক সম্পদ যদিও বিপুল, তবুও অনন্ত নয়– সীমিত৷ ভৌতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন স্তরের মধ্যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক জগৎ অনন্ত৷ এই দুই স্তরে অণুমনের অনন্ত এষণার পরিতৃপ্তি হতে পারে৷ এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দেবে না৷

‘‘যাকে নিয়ে মোদের গর্ব এই সেই বাঙালী পূর্বাকাশে নূতন করে জ্বালাবে দীপালী’’

কোচ  ঃ  কুচ+ঘ=কোচ৷ ‘কুচ্’ ধাতুর অর্থ হ’ল আকর্ষণ করা, আশ্রয় দেওয়া, আশ্রয় দেওয়ার মত আকর্ষণ করা৷ যেমন শৈলোপকন্ঠ, যেমন সাগরবেলা , যেমন তরঙ্গ–কান্তার, যেমন হরিৎমেখলা৷ বরেন্দ্র রাঢ় তৈরী হবার বহু পরে হলেও অক্ষশিষ্ট বাঙলা যখন তৈরী হয়েছিল....সেও আজকের কথা নয়৷ সেও কয়েক লক্ষ বছর হয়ে গেছে৷ হয়তো সে সময়টা মানুষের আসার কিছুটা পরেই৷ তবে তা খুক্ষ বেশী পরে নয়৷ ওলিগোসিন ও মেসাজোয়িক এজের মধ্যবর্তী কোন একটা সময়ে নিশ্চয়ই ৷ পশ্চিম রাঢ়ের নদীগুলির দ্বারা বাহিত পলি বালিতে তৈরী হ’ল প্রথমে পূর্ব বরেন্দ্র রাঢ়, ও তার পরে পশ্চিম বরেন্দ্র রাঢ় ও পূর্ব রাঢ়ের নদীগুলির দ্বারা বাহিত পলি বালিতে দক্ষিণ দিক থেকে তৈরী হয়েছিল মেন স

সামাজিক মূল্য ও মানবিক মৌল নীতি

পূর্ব প্রকাকশিতের পর

আমাদের বক্তব্য হ’ল, মানুষকে নীচ করে, মানবতাকে অবহেলা করে, তাকে কখনও শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নেওয়া যায় না৷ শাস্ত্র তৈরী করে মানুষ নিজের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার জন্যে৷ শাস্ত্র শাসন করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু সে শাসন কখনও মানুষকে কবর দেবার জন্যে নয়৷ মানুষকে তার ন্ধন থেকে মুক্ত করে সবার উৎস সেই পরম সত্তার সাথে মিলিয়ে দেওয়াতেই শাস্ত্রের সার্থকতা৷ শাস্ত্র মানুষের টুঁটি টিপে হত্যা করবে, শুধু বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে জীবনের স্বাভাবিক গতিটুকুকে রুদ্ধ করে দেবে---মানুষের সমাজে তা কখনও সমর্থন করা যায় না৷

সামাজিক মূল্য  ও  মানবিক  মৌল নীতি

বর্তমান যুগ ও মানবিক মূল্য

বর্তমান যুগে জীবনের মূল্য নির্ধারিত হয় অর্থ দিয়ে৷ ‘‘যস্যাস্তি বিত্তম্ সঃ নরঃ কুলিনঃ সঃ পন্ডিতঃস শ্রুতবান্ গুণজ্ঞঃ স এব বত্তা স চ দর্শনীয়ঃ৷ সর্বে গুণাঃ কাঞ্চনমাশ্রয়ন্তি৷৷’’

সামাজিক মূল্য ও মানবিক মৌল নীতি

সুদুর অতীত থেকে একে একে বিবর্তনের ধাপ পেরিয়ে নামুষ আজকের এই পরিবেশে এসে পৌঁছেছে৷ তার এই অবিরল যাত্রা কিন্তু একক নিঃসঙ্গ যাত্রা নয়৷ সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে তার সমাজকেও৷ অতীতের সেই অবিকশিত অনুন্নত অবস্থাতেও মানুষ বাস করত বিভিন্ন গোষ্ঠীতে দলবদ্ধ  হয়ে৷ এর কারণ, মানুষ পারে না একা বাস করতে পারে না তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খোরাক সংগ্রহ করতে৷ সমষ্টি ব্যতিরেকে ব্যষ্টির অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব কারণ মানুষ এক সামাজিক জীব৷ মানুষের কথা ভাবতে গেলে স্বভাবতই তার সমাজও এসে পড়ে, তাই মানুষের অস্তিত্বের দু’টি দিক---একটা সে নিজে তার ব্যষ্টির অস্তিত্ব আর দ্বিতীয়টি হ’ল সে সমাজের সদস্য---তার সমষ্টিগত অস্তিত্ব৷ এই

শোষণ করা চলবে না

আমি ইতোপূর্বেই বলেছি যে মানুষের মধ্যে যতটা সামর্থ্য রয়েছে মানুষ তার খুব অল্প অংশই কাজে লাগায়৷ লতে গেলে তার সামর্থ্যের শতকরা এক ভাগও প্রয়োগ করে না৷ আর সমাজ যাদের মহাপুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, দেখা যায় তারাও বড় জোর শতকরা দশভাগ সামর্থ্যের উপযোগ নেয় আর বাকী শতকরা নববই ভাগ অব্যবহৃত থেকেই যায়৷ সাধারণ ভাবে লতে গেলে, মানুষ তার সামর্থ্যের নববই ভাগই কাজে লাগায় না৷ স্থূল ব্যষ্টি যারা তারা তো তাদের অন্তর্নিহিত সামর্থ্যের অর্ধেকটা কেবল শুয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়৷ বাকি সামর্থ্যের খুব অল্প ভাগই সে প্রকৃত কাজে লাগায়৷

এ্যাটম ব্যোম কি মানবসভ্যতাকে ধবংস করতে পারে?

কিছুদিন আগে জনৈক সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘এ্যাটম বোমের বিধবংসী কার্যকারিতা সম্বন্ধে ও মানুষ জাতির ওপর তার ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে আপনার মত কী?’’ সাধারণতঃ সাংবাদিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকে না৷ কিন্তু আমি এই প্রশ্ণের উত্তর দিয়েছিলুম৷ এই প্রশ্ণের উত্তরে লেছিলুম ‘‘এ্যাটম বোমের শক্তির চেয়ে মানুষের শক্তি অনেক বেশী৷ সুতরাং এ্যাটম বোমে মানুষকে শেষ করে দেবে--- এরকম ভাবা মানে মানুষের মনীষাকে, মানুষের মানসিক শক্তিকে অপমান করা৷ কারণ, মানুষ এ্যাটম বোমেকে তৈরী করেছে৷ মানুষ এ্যাটম বোমের স্রষ্টা৷ সুতরাং মানুষকে কি এ্যাটম বোমে ধবংস করতে পারে?