প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

রাজনীতি–সচেতন মধ্যবিত্ত, ছাত্র–যুব ও সাধারণ মানুষই বিপ্লব আনবে

আজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই নীতিহীনতার এক কালো ছায়া দ্রুত ঘনিয়ে আসছে ও তা মানুষের প্রগতির পথে দারুণ অন্তরায় সৃষ্টি করে চলেছে৷ নীতিহীনতার এই আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করতে চাই প্রচণ্ড শক্তিশালী নৈতিক বল৷ এই দুর্দান্ত নৈতিক বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় না৷ এটা আমরা আশা করতে পারি অরাজনৈতিক পক্ষ থেকে৷ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কোন দল বা নেতাদের খামখেয়ালী কাজকর্মকে বাধা দেওয়ার মতো নৈতিক বলের যদি সমাজে অভাব দেখা দেয়, তাহলে যে কোন সরকার–তা সে ফ্যাসীবাদী, সাম্রাজ্যবাদী, সাধারণতন্ত্রী, একনায়কতন্ত্রী, আমলাতান্ত্রিক বা গণতান্ত্রিক, যাই হোক না কেন–সে সরকার অত্যাচারী হতে বাধ্য৷ সরকারের

দেশপ্রেমিকদের প্রতি (অংশবিশেষ)

রাজনীতি আমার ব্যবসাও নয়, পেশাও নয়৷ আমি ইতিহাসের এক সাধারণ ছাত্র মাত্র৷ ভারতবর্ষে যে ভয়াবহ চিত্র আমার চোখের সামনে ভেসে আসছে মুখ ফুটে তা’ প্রকাশ করা আমার কর্তব্য মনে করছি, তাতে ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকরা আমাকে দোষ না দেন৷ যাঁরা দেশনেতা এ ব্যাপারে তাঁদের দায়িত্ব সর্বাধিক৷ তাঁরা দেশকে ডোবাতেও পারেন, বাঁচাতেও পারেন৷ মুখে যাই বলা হোক না কেন, আসলে সরকারী বা বেসরকারী, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সকল সংস্থারই নীতি নির্ধারণ করে থাকেন মুষ্টিমেয় দু’চারজন৷ তাঁরাই সেই সংস্থার নেতা৷

জাতি, ভাষা, ধর্মমত ও সংস্কৃতিতে  বিশ্বজনীনতা

আজকের আলোচ্য বিষয়বস্তু হল ‘‘জাতি race), ভাষা, ধর্মমত ও সংস্কৃতিতে বিশ্বজনীনতা৷’’ যদিও মানুষের ভাষা,  বর্ণ  ইত্যাদির ক্ষেত্রে কিছু আপাতঃ বৈষম্য রয়েছে তথাপি মানুষের  এই সকল অপরিহার্য বিষয়গুলি  কিন্তু এসেছে একই  উৎস থেকে- সবই এসেছে সেই একক সত্যা পরমপুরুষ থেকে৷ ভাষাগত বৈষম্য  বর্ণগত বৈষম্য , জাতিগত বৈষম্য আছে ঠিকই কিন্তু এসবই বাহ্য আপাতঃদৃষ্ট৷ মুখের ভাষা নয়, আসলে হৃদয়ের ভাষা, সেন্টিমেন্টের ভাষায় শুণতে হবে৷

শোষণের বহুবিধ রূপ

লোকে প্রায়ই বলে থাকে যে বিশেষ কোনো ব্যষ্টি অথবা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা ভীষণভাবে শোষিত হচ্ছে৷ শোষণ বলতে তারা এটাই বোঝে যে এইসব লোকেরা অর্থনৈতিক স্তরে শোষিত হচ্ছে৷ কিন্তু যদি আমরা এই বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করি তাহলে আমরা উপলব্ধি করব যে শোষণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্তরেই সংঘটিত হচ্ছে না, মানবাস্তিত্বের অন্যান্য স্তরেও বিভিন্ন রূপে বিচিত্র ভাবে তার অস্তিত্ব রয়েছে৷ যখন আধিভৌতিক স্তরে (physical stratum) শোষণ হয় তখন সেটা যে সব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক হবে এমন নয় এটা প্রায়ই সামাজিক ও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যক্ষভাবে সামাজিক হয়ে থাকে৷ দৃষ্টান্ত–স্বরূপ বলা যায় কায়েমী স্বার্থবাহকেরা কোনো একটা পর্যায়ে জনমানসে

পশ্চাৎপদ শ্রেণীর উন্নয়ন

বিশ্বের বিভিন্ন পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা আমাদের আশু কর্ত্তব্য৷ যেহেতু বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন পূর্ত্তির প্রতি ও সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতির প্রতি নজর না দিয়ে সমাজের এক বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে’ চলেছে, সেইজন্যেই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবদমনের শিকার হচ্ছে৷

গণ–অর্থনীতি ও মানস–অর্থনীতি

আজকের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদই মানস–অর্থনীতি আর গণ–অর্থনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত–আর তাই তাঁদের বর্ত্তমান অর্থনৈতিক ধ্যান–ধারণায় অর্থনীতির এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখাই কোন স্থান পায়নি৷

কোনো অর্থনীতিকে উন্নত অর্থনীতি (Developed Economy) অভিধায় অভিহিত করতে গেলে তাতে থাকবে চারটি মুখ্য ধারা–

প্ত গণ–অর্থনীতি People’s Economy)

প্ত সাধারণ অর্থনীতি (General Economy)

প্ত মানসভৌম–অর্থনীতি (Psycho-Economy)

প্ত বাণিজ্যিক–অর্থনীতি (Commercial Economy)

স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক কর্মসংস্থান

প্রথমেই কোন এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের শতকরা একশ’ ভাগের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকা উচিত৷ সমস্ত মানুষের নূ্যনতম চাহিদা, অর্থাৎ অন্ততপক্ষে উপযুক্ত খাদ্য, বস্ত্র, আবাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হওয়া উচিত৷ জনগণের ১০০ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমেই তাদের এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে–দান–খয়রাতির মাধ্যমে নয়৷ আজকের দুনিয়ায় বেকারত্ব এক জটিল সমস্যা আর স্থানীয় মানুষের ১০০ শতাংশের কর্মসংস্থানের নীতিই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ৷ স্থানীয় জনসাধারণের শতকরা একশ’ ভাগের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রাউট স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী৷ স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা

পৃথিবীর জলসম্পদের সংরক্ষণ

পূর্ব প্রকাশিতের পর

নদী

তিন ধরনের নদী হয় –– বরফগলা জলে পুষ্ট নদী, বৃষ্টির জলে পুষ্ট নদী, আর ভূ–গর্ভস্থ জলে পুষ্ট নদী৷ প্রথমটির ক্ষেত্রে যখন তাপমাত্রা বাড়ে তখন নদীতে বন্যা হয়, আর বাকী দু’ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঋতু অনুযায়ী যখন ভারী বৃষ্টিপাত হয় তখন বন্যা হয়৷ অবশ্য তাপমাত্রা বেশী বাড়লে এই ধরনের নদী শুকিয়েও যায়৷

পৃথিবীর জলসম্পদের সংরক্ষণ

শুরুতে পৃথিবী গ্রহে বিরাজ করত চরম নীরবতা–কোনো জীবিত সত্তাতো ছিলই না, এমনকি গাছপালাও জন্মায়নি৷ লক্ষ কোটি বছর ধরে এই অবস্থা চলেছিল৷ তারপর পৃথিবী অনেক ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে উপযুক্ত ভাবে তৈরী হ’ল৷ এরপরে এক স্তরে পৃথিবীর বুকে নেবে এল বৃষ্টিধারা, শুরু হ’ল ঝড়ঝঞ্ঝা৷ এইভাবে ক্রম–পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে জীবনের উদ্ভব হ’ল৷ বৃষ্টির ফলেই কার্বণ পরমাণুতে প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হ’ল৷ কার্বণ পরমাণু–সমন্বিত প্রোটোপ্লাজমিক সংঘর্ষ–সমিতি জন্ম দিল এই প্রাণ শক্তির৷

বাঙলার সম্ভাবনা

শিরোনামে লিখিত বিষয়ের ওপর প্রাউট প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার তাঁর বিভিন্ন পুস্তকে যা বলেছেন, সেগুলিকে সংকলিত করে’ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট প্রাউটিষ্ট আচার্য ত্র্যম্বকেশ্বরানন্দ অবধূত৷

বস্ত্র উৎপাদন

আঁশ তৈরীর যেখানে  যে ধরণের কাঁচামাল পাওয়া যায়, ও যেখানে যে ধরণের জলবায়ু সেখানে সেই ধরণের পোষাক মানুষ পরে থাকে৷ বাঙালীস্তানের পটভূমিতে এই ব্যাপারটা দেখা যেতে পারে৷

বাঙালীস্তানে মূলতঃ চার ধরণের কাঁচামাল পাওয়া যায়–তুলো, তুঁতজাত রেশম,  তুঁতজাত নয় এমন রেশম ও অন্যান্য৷

তুলো