সংবাদ দর্পণ

ময়ূরভঞ্জে অখণ্ড কীর্ত্তন, চিকিৎসা শিবির ও নারায়ণ সেবা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৯ই মে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার কুসমি ব্লকের  অন্তর্গত সুনুয়া গ্রামের বিশিষ্ট আনন্দমার্গী যোগেশ্বর মাহাতর গৃহপ্রাঙ্গণে ৬ঘন্টাব্যাপী ‘বাবা নাম কে বলম্’ সিদ্ধমন্ত্রের অখণ্ড কীর্ত্তন হয়৷ এই কীর্ত্তন পরিচালনা করেন আচার্য চিরাগতানন্দ অবধূত৷ কীর্ত্তনের পর সাধনা ও ভক্তিতত্ত্বের ওপর বক্তব্য রাখেন সেবা ধর্ম ভুক্তিপ্রধান সুরেশ নায়েক৷ সারাদিন ধরে চিকিৎসা শিবিরেরও আয়োজন  করা হয়৷  ডাঃ যুধিষ্ঠির  মাহাতের পরিচালনায় শতাধিক  দুঃস্থ রোগীকে  বিনাব্যয়ে চিকিৎসা করা হয় ও ফ্রি ঔষধও দেওয়া হয়৷ সবশেষে নারায়ণ সেবায় সমস্ত ভক্তদের  আপ্যায়িত করা হয়৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আচার্য ব্রতনিষ্ঠানন্দ অবধূত৷

নির্বাচনের রোড-শো-কে কেন্দ্র করে মনীষী বিদ্যাসাগরের মূর্ত্তি ভাঙ্গা গণতন্ত্রের কলঙ্ক

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

সাত দফায় অনুষ্ঠিতব্য সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে৷ গত ১৪ই মে কলকাতায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল৷ এর আগে শান্তিপূর্ণ মতদানের নামে মারপিট, গুণ্ডামী, হুমকী, বুথ দখলের মত ঘটনাও ঘটেছে৷ এদিন যা হ’ল তা গণতন্ত্রের কলঙ্ক ছাড়া আর কী বলা যাবে! বিজেপির রোড শো-তে রাজনৈতিক আবেদনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল রোড-শো-এর নামে ভরত নাট্যম, ভাংড়া, মাদ্রি নাচ, অসমিয়া নাচ থেকে শুরু করে সাঁওতালি নাচ আর মহিলা ঢাকিদের ঢাকের বাদ্য---কী ছিল না এই মিছিলে? রাজনৈতিক মিছিলে তো নিজেদের মতাদর্শ ও কার্যাবলী তুলে ধরে এগুলো সমর্থনের জন্যে পার্টির আবেদন থাকবে৷ তা নয়, এতো যেমন করে হোক নাচ-গান-হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যে মানুষকে আকৃষ্ট করা৷ আজকাল নির্বাচনে প্রার্থী করার ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে কতটা সাধারণ মানুষের স্বার্থে দেশের জন্যে উপযুক্ত আইন তৈরী করবেন ও সরকারী নীতিকে পরিচালনা করবেন, সে ব্যাপারে একেবারেই নজর দেওয়া হয় না৷ কেবল জনপ্রিয় সিনেমা আর্টিষ্টস্, খেলোয়াড় প্রভৃতিকে প্রার্থী করে যুব সমাজকে যেন-তেন-প্রকারেণ কাছে টানার কৌশল করা হয়৷ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে গেছে৷ গণতান্ত্রিক আদর্শের আজ কিছুই অবশিষ্ট নেই৷ সবাই মিলেমিশে আলোচনা করে জনসেবা করার উদ্যম বা উদ্যোগ কোনটাই লক্ষ্যে পড়ে না৷ যেমন করেই হোক ক্ষমতা দখল করাটাই মূল লক্ষ্য৷ ক্ষমতাকে কব্জা করার জন্যে পুঁজিপতিদের হাতে রাখাটা বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে একটা প্রধান অঙ্গ৷ গত মঙ্গলবারের রোড শো উপলক্ষ্যে দুই ছাত্র দলের মধ্যে চরম সংঘর্ষ বাঁধে৷ বিদ্যাসাগরের মত মনীষীর মূর্ত্তিও ভাঙ্গা হ’ল৷ এটা কত বড় লজ্জার ঘটনা, তা ভাবাই যায় না! এই কী রাজনীতির মাধ্যমে জনসেবার নমুনা? তা তো নয়৷ প্রচলিত গণতন্ত্র আজ তার মহিমা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে৷ আসলে দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন সুশিক্ষিত, নীতিবাদী ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়ে সচেতন, তার সঙ্গে তাদের জীবনের নূ্যনতম চাহিদা মিটেছে ---দেশের অবস্থা এমন হলে তবে সেখানে গণতন্ত্র সফল হবার সম্ভাবনা৷ প্রার্থীদেরও অবশ্যই যোগ্য হতে হবে৷ এসবের অভাবেই  বর্তমানে গণতন্ত্রে চলছে লুঠেরাদের তাণ্ডব৷

মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী ৯৯–তম শুভজন্মতিথি উৎসব

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগামী ১৮ই মে, শনিবার শুভ আনন্দ পূর্ণিমা তিথিতে (বৈশাখী পূর্ণিমা) আনন্দমার্গের প্রতিষ্ঠাতা মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর ৯৯তম শুভ জন্মতিথি উৎসব৷ সারা  পৃথিবীর ১৮২টি দেশে আনন্দমার্গের  সমস্ত শাখা সংঘটন ও ইয়ূনিটের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসমারোহে এই শুভদিনটি পালিত হচ্ছে৷ এই উপলক্ষ্যে কলকাতার ভি.আই.পি নগরস্থিত আনন্দমার্গের আশ্রমে ১৭ই মে সন্ধ্যা ৫.৫৫ মিনিটে প্রথমে প্রভাত সঙ্গীত ও তারপর ৬.০৭ মিনিট থেকে অখণ্ড ‘বাবা নাম কেবলম্’ নামকীর্ত্তন শুরু হবে৷

সারা রাত ধরে কীর্ত্তন চলবে৷ ভোর ৪টে থেকে  ৪.৪৫ মিঃ পর্যন্ত হবে প্রভাত ফেরী৷ সকাল  ৬.০৭ মিনিটে অখণ্ড কীর্ত্তন সমাপ্ত হবে৷ সঙ্গে সঙ্গে জয়ধবনি, উলুধবনি ও বিভিন্ন মঙ্গলধবনির মাধ্যমে পরমারাধ্য বাবার শুভ জন্মলগ্ণের ঘোষণা করা হবে৷ এরপর ৬.২০মি থেকে ৬.৪৫ মিঃ পর্যন্ত চলবে সাধনা গুরুপূজা ও আশীর্বচন৷ তারপর ৬.৪৫ মিঃ থেকে ৬.৫০ মিঃ প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন৷ ৬.৫০ মিঃ থেকে ৭.২০ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষায় বাণীপাঠ ও বাণীর ওপর  বক্তব্য৷ ৭.৩০ মি.থেকে ৮-৩০ প্রসাদ গ্রহণ, ৮.০০ থেকে ১০ টা প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ ও হাসপাতালে রোগীদের  মধ্যে ফল বিতরণ৷

১০ টা থেকে ১২-৩০ মিলিত সাধনা, বাবার ভিডিও প্রদর্শন ও বরাভয় মুদ্রা প্রদর্শন৷ ১২-৩০ থেকে ৩.০০ প্রীতিভোজ৷ ৪.০০ থেকে ৬.০০ সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান, প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন, মিলিত সাধনা ও ‘বাবা কথা’৷

ওড়িশায় আনন্দমার্গের ত্রাণকার্য

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

সম্প্রতি ওড়িশাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র তাণ্ডবের ফলে বিশেষ করে  পুরী জেলার  বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ী, গাছপালা ভেঙ্গে গেছে৷ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাপ্লাবিত হয়ে যায়৷ বহু ঘরবাড়ী, গাছপালা ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে যায়৷ এ অবস্থায়  ঝড়ের অব্যহিত করে আনন্দমার্গ ইউনিবার্স্যাল রিলিফ টিমের স্বেচ্ছাসেবীরা   বন্যা ও ঝড় বিধবস্ত এলাকায় পৌছে গিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য শুরু করে দেন৷ এখনও তাঁরা সেখানে ত্রাণকার্য চালাচ্ছেন৷ যেসব  ঘরবাড়ী ও গাছপালা ভেঙ্গে রাস্তাঘাট  বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই সব ভাঙ্গা ঘর, গাছের ডাল পালা সরিয়ে  তাঁরা রাস্তা পরিষ্কার করছেন৷ ১৫টি জায়গায় তাঁর লঙ্গরখানা  খুলে দুর্গতদের  খিচুড়ী বা ভাত  ডাল-তরকারী খাওয়াচ্ছেন৷ অন্যান্য বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবীরা গিয়ে শুকনো খাদ্য, টর্চ ত্রিপল প্রভৃতি দিচ্ছেন৷

স্থানীয় প্রশাসন ও আনন্দমার্গের ত্রাণকার্যে সন্তুষ্ট হয়ে আনন্দমার্গের সঙ্গে  সহযোগিতা করছেন৷ স্থানীয় আনন্দমার্গীরা ও আনন্দমার্গের শুভানুধ্যায়ীরাও তাঁদের  সাহায্যে এগিয়ে আসছেন৷

এই সমস্ত সেবাকার্য পরিচালনা করছেন  আনন্দমার্গ ইয়ূনিবারসাল রিলিফ  টিম Amurt) এর  সচিব আচার্য মর্মদেবানন্দ অবধূত৷ তিনি ওড়িশায় ত্রাণ কার্যের বিরবণ দিয়ে জানাচ্ছেন৷ এই ত্রাণকার্যে যারা অর্থ নিয়ে  বা ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করতে চান, তারা যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ Amurt- এর  ব্যাঙ্কের Account No. -698501700163, IFC Code : ICIC0006985, Branch-ICICI Bank, Lower Parel, West Mumbai 13. প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ঃ আচার্য দিব্যচেতনানন্দ অবধূত, ফোন নং : ৯৯৫৮২৬৮৫৭৮/৯৩২৪২৭৯১৭৯৷

আনন্দনগরে ধর্মমহাসম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী ৯৯তম শুভজন্মতিথি উপলক্ষ্যে আগামী ২৪,২৫,২৬ মে (শুক্র, শনি ও রবিবার) আনন্দনগরে আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷ এই ধর্মমহাসম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে  ও পশ্চিমবঙ্গ আর পার্শ্ববর্তী রাজ্য সমূহের প্রত্যন্ত প্রদেশ থেকে আনন্দমার্গের বিভিন্ন স্তরের কর্মিগণ ও আনন্দমার্গীগণ যোগদান করবেন৷

আনন্দমার্গের পুরোধা প্রমুখ আচার্য কিংশুক রঞ্জন সরকার এই ধর্মমহাসম্মেলনে মার্গগুরু প্রতিনিধিরূপে আধ্যাত্মিক প্রবচন দেবেন৷ এছাড়া আনন্দমার্গের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তৃগণ উপস্থিত থেকে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের বহুমুখী সেবার কর্মসূচী পর্যালোচনা করবেন ও আগামী  ৬ মাসের জন্যে নোতুন কর্মসূচী গ্রহণ করবেন৷

মালদহে ‘মানবতা বাঁচাও দিবস’ পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৩০শে এপ্রিল মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের রাধানগর লালবাথানি গ্রামে ‘মানবতা বাঁচাও দিবস’-এ  ১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল নৃশংসভাবে নিহত ১৭ জন আনন্দমার্গী সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীর প্রতি যথোচিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়৷ প্রভাত সঙ্গীত, মহামন্ত্র ‘বাবা নাম কেবলম্’ কীর্ত্তন মিলিত সাধনা ও স্মৃতিচারণের পর বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী অজিত মণ্ডল মহাশয়ের পরিচালনায় একটি চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রায় শতাধিক দুঃস্থ রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবধূতিকা আনন্দমহাবিদ্যা আচার্যা ও স্থানীয় আনন্দমার্গী ভক্ত সাধকবৃন্দ৷

মাধ্যমিকের ফল ২১শে মে, উচ্চমাধ্যমিক ৩০শে মে

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ২১শে মে মঙ্গলবার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে৷ উচ্চ-মাধ্যমিকের শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস জানিয়েছেন আগামী ৩০শে মে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের জন্যে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷

গণতন্ত্রের দুর্দশা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নির্বাচনী যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের ক্যাডাররা পারস্পরিক সংঘর্ষে মেতে উঠেছে৷ আমরা ধরে নিতে পারি, পার্টির ওপরতলাকার নেতা-নেত্রীরা শিক্ষিত সমাজ সচেতন ও অবশ্যই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সচেতন৷ এ অবস্থায় তাঁদের উচিত, নীচুতলার ক্যাডারদের শান্ত করা৷ কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখছি, ওপরতলার নেতা-নেত্রীরা প্রত্যক্ষভাবে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করছেন৷ এক্ষেত্রে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের হুঙ্কার গণতন্ত্র সচেতন দেশের সাধারণ মানুষদের বিস্মিত করেছে৷ তিনি বলেছেন, ‘উত্তরপ্রদেশ থেকে এক হাজার ছেলে নিয়ে এসে বাড়ী থেকে টেনে বের করে কুকুরের মত মারব৷ একজন উচ্চশিক্ষিতা প্রাক্তন আই.পি.এস. পুলিশ অফিসারের মুখে এই কথাই বুঝিয়ে দিচ্ছে বর্তমান গণতন্ত্র কোন্ পর্যায়ে এসে পৌঁচেছে৷

‘ফণী’র দাপটে বিধবস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের চাষী আত্মঘাতী

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কয়েকদিন আগে বিধবংসী ঝড় ‘ফণী’ পরে একটানা বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়৷ ধান চাষীরা অনেকে জমি থেকে পাকা ধান তুলতে পারেননি৷ ফলে চাষীদের প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে৷ পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার খাড়গ্রামের এমনই এক ধান চাষী  মানিক মাইতি (৩৫)৷ মাণিকের বাবা প্রদীপ মাইতি জানিয়েছেন তাঁরা তাঁদের সাড়ে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন৷ চাষ করতে গিয়ে প্রায় এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন৷ আশা ছিল ধান বেচে টাকা শোধ করবেন৷ কিন্তু বৃষ্টির জলে ডুবে জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ছেলে মাণিক মনমরা হয়ে যায়৷ এই অবস্থায় দিনভর তাকে বাড়ীতে ফিরতে না দেখে তাঁরা বাইরে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন মাঠের পাশে একটি গাছে ফাঁস দিয়ে ছেলে ঝুলছে৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহকে হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্যে পাঠান৷

জানা গেছে, এইভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে এলাকার ৮০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে৷ আশপাশের থানাগুলির অবস্থাও তাই৷ বহু ধান চাষী এইভাবে ঋণ করে চাষ করেছেন ও ফসল নষ্ট হওয়ায় সবার মাথায় হাত৷ এভাবে চাষীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিবছর ফসল ফলায়৷ বহুবারই কখনও খরাতে, কখনও অতি বৃষ্টিতে কখনো কখনো অকস্মাৎ রোগের প্রকোপে বহু ফসল নষ্ট হয়৷ আর চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হন৷ এইভাবে নানান ঝুঁকি নিয়ে চাষীরা ফসল ফলিয়ে দেশবাসীকে অন্ন জোগায়৷ শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই অধিকাংশের ক্ষেত্রে অনাহারে, অর্দ্ধাহারে দিন কাটাতে হয়৷ এই সমস্যা বছরের পর বছর চলছে, কিন্তু কোন সরকার এর স্থায়ী কোনও সমাধানের ব্যবস্থা করছেন না৷

নির্বাচনী প্রচারে ‘আমরা বাঙালী’র প্রধান দাবী - অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ও বাংলা ভাষার মর্যাদা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

‘আমরা বার্র্ঙলী’র কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা বাঙালী একটা আদর্শের জন্য লড়াই করছে৷ মুখ্যতঃ ‘আমরা বাঙালী’ যে দাবীগুলি মানুষের সামনে তুলে ধরছে, তা হ’ল---প্রথমতঃ অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের নূন্যতম চাহিদা পূরণের গ্যারাণ্টি অর্থাৎ যুগোপযোগী অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের গ্যারাণ্টি দেওয়া ও উত্তরোত্তর তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি৷ আর দ্বিতীয় মুখ্য দাবী হ’ল---বাঙালীস্তানের অর্থাৎ সমসত্মত বাংলা ভাষা-ভাষী এলাকায় সরকারী সমস্ত কাজে অফিস-আদালতে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করা৷ এতে বাঙলার সংস্কৃতি ও সভ্যতা রক্ষা পাবে৷ তার সঙ্গে সঙ্গে সর্বত্র নৈতিক তথা আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া৷

‘আমরা বাঙালী’ নেতা বলেন, আগামী ১২ই মে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, টাটানগর ও ধানবাদে নির্বাচন হচ্ছে ও ওই কেন্দ্রগুলি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ বেরা, লক্ষ্মীকান্ত মাহাত, অঙ্গদ মাহাত ও মনোতোষ মণ্ডল৷

তাঁদের সমর্থনে সর্বত্রই জোর প্রচার চলছে৷ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি, নোংরা ভাষা ব্যবহার এসব ‘আমরা বাঙালী’র নেতা-নেত্রীরা করেন না, তাঁরা আমরা বাঙালীর আদর্শকেই মানুষের সামনে তুলে ধরছেন, এলাকার প্রকৃত সমস্যা সে বাঙলার হোক বা ঝাড়খণ্ডের হোক মানুষের সামনে তুলে ধরে প্রাউট দর্শনের মাধ্যমে এই সমস্যার কী সমাধান তাই ব্যক্ত করছেন৷ বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যেভাবে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে হিংসা, দ্বেষ ছড়াচ্ছে---আমরা বাঙালী তার নিন্দা করে৷ আমরা বাঙালীর বক্তব্য, এতে বরং বাঙালী জাতির সর্বনাশ হচ্ছে, কারণ এতে বাঙালী ঐক্য---বাঙালী সংহতি ধবংস হচ্ছে৷

আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী এলাকা যেমন মেদিনীপুরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছেন বকুল চন্দ্র রায়, তারাপদ বিশ্বাস, প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ বেরা, খুশী মণ্ডল, সৌরভ মালিক, গঙ্গা পাত্র, রামপদ হাঁসদা, বাসুদেব মণ্ডল, শঙ্কর প্রসাদ কুণ্ডু, রাজু মান্না প্রমুখ৷ এঁরা মেদিনীপুর, খড়গপুর, কেশিয়ারী, নারায়ণগড়, দাঁতন, এগরা প্রভৃতি এলাকায় নির্বাচনী সভা করছেন৷

পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে আমরা বাঙালীর নির্বাচনী সভাগুলিতে বক্তব্য রাখছেন বিভূতি দত্ত, প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত মাহাত, বিদ্যুৎ কুমার, রতন মাহাত, প্রদীপ সরকার, রঞ্জিত কুমার, রামপদ মাহাত, শক্তি গড়াঞ, দশরথ টুডু, বনমালী মাহাত, শুভম্ মাহাত, অমরেন্দ্র মাঝি প্রমুখ৷ আমরা বাঙালীর নির্বাচনী সভা হয়েছে পুঞ্চা, হুড়া, লালপুর, বিশপুর, কালীপুর, বাঘমুণ্ডি, সুইসা, গাগী, চেমেন্দি, জয়পুর, কোটশিলা, ছটকা, ডিমডিহা, ঘাঘরা, পুন্দাগ, সিধি, রোপো, নামরা, চিরাডি, নোয়াহাতু, চিতমু, বড়রোলা, শ্যামপুর প্রভৃতি স্থানে৷

টাটানগরের প্রার্থী অঙ্গদ মাহাতর সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে ‘আমরা বাঙালী’ র নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছেন আশিস নাগ চউধুরী, নারায়ণ সেন, মোহনলাল রজক, সুনীল মাহাত, কেয়া মাহাত, তপেন্দ্র সরকার, তুহীন বিশ্বাস, জয়শ্রী মাহাত, দেবযানী বিশ্বাস প্রমুখ৷ র্বিাচনী সভা হয়েছে বহরাগড়া, ঘাটশিলা, চাকুলিয়া, ধলভূমগড়, মশাবনি, পটমদা, বড়াম, যুগসলাই জামশেদপুর শহর প্রভৃতি স্থানে৷

বোকারোতে (ঝাড়খণ্ড) ‘আমরা বাঙালী’ প্রার্থী মনোতোষ মণ্ডলের সমর্থনেও সমস্ত নির্বাচনী এলাকা জুড়ে প্রচার চলছে৷ প্রার্থী মনোতোষ মণ্ডল ছাড়া ওই নির্বাচনী সভায় প্রধান বক্তারা হচ্ছেন নিতাই মণ্ডল, চক্রধর কালিন্দী, প্রভু প্রসাদ প্রমুখ৷ নিরসা, চাষ, বোকারো প্রভৃতি  স্থানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় তাদেরন্যতম প্রধান দাবী হ’ল ঝাড়খণ্ডে ৬৫ শতাংশ বাঙালী, অথচ এই রাজ্যে সরকারী কাজকর্মে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাংলা ভাষার স্থান নেই৷ বাঙালী হয়েও এই রাজ্যের বাঙালীরা মাতৃদুগ্দ সম মাতৃভাষা থেকে বঞ্চিত৷ এটা হিন্দী সাম্রজ্যবাদী শোষণ ছাড়া আর কিছু নয় এই শোষণের বিরুদ্ধে আমরা বাঙালীর নেতারা প্রতিটি জনসভায় সরব হন৷ তাছাড়া, ধানবাদ ও বোকারো অঞ্চল শিল্প সমৃদ্ধ হলেও এই অঞ্চলের বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্থায়ী অধিবাসীদের বেকারত্ব ঘুচছে না৷ বহিরাগতরা এসে ওই সব শিল্পে কাজ করছে৷ স্থানীয় মানুষেরা চরম দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করছে৷ প্রাউটের নীতিতে ব্লকভিত্তিক পরিকল্পনা ও সমবায় শিল্পই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান৷