সংবাদ দর্পণ

আনন্দমার্গে চর্যাচর্য বিধিমত শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১)

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া  ঃ আমতার মুক্তিচক গ্রামের নরহরি মণ্ডলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আনন্দমার্গে চর্যাচর্য বিধি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়৷ নিষ্ঠাবান আনন্দমার্গী ও মার্গের সক্রিয় কর্মী নরহরি মণ্ডল গত ২৬শে অক্টোবর সকালে আনন্দমার্গের কলকাতা কেন্দ্রীয় আশ্রমে মার্গগুরুদেবের মহাপ্রয়াণ দিবসের কীর্ত্তন চলাকালীন দেহত্যাগ করেন৷

২৬শে অক্টোবর সকাল থেকেই তাঁর গ্রামের বাসভবনে শোকাহত আত্মীয়স্বজন ও সংঘের কর্মীরা আসতে থাকেন৷ সকাল ১১টায় শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শুরু হয়৷ প্রথমে প্রভাত সঙ্গীত ও বাবানাম কেবলম্ মহানাম মন্ত্র কীর্ত্তনের পর এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পরিচালনা করেন মার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য সর্বজয়ানন্দ অবধূত৷ আনন্দমার্গ দর্শন ও সমাজশাস্ত্র বিষয়ে বক্তব্য রাখেন আচার্য সুদীপানন্দ অভধূত, আমতা আনন্দমার্গ সুকলের টীচারইন-চার্জ শ্রী লক্ষ্মীকান্ত হাজরা৷ এরপর স্মৃতিচারণা শুরু হয়৷ স্মৃতিচারণা করেন অবধূতিকা আনন্দরেখা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দ রূপালীনা আচার্যা, জেলার ভুক্তিপ্রধান সুব্রত সাহা, কেন্দ্রীয় সমাজসচিব বকুল রায় ও আরও অনেকে৷

২)

হুগলী থেকে জ্যোতিবিকাশ সিন্হা ঃ হুগলী জেলার পুরশুরা ব্লকে সোদপুর গ্রাম নিবাসী বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী মথুরানাথ মান্নার মাতৃদেবী অলকাবালা মান্নার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান চর্যাচর্য বিধি অনুসারে গত ৬ই নভেম্বর ২০১৯ বুধবার শ্রীযুক্ত মান্নার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রীমতী অলকাবালা মান্না গত ২৯শে অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ৮৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন৷

প্রভাতসঙ্গীত, সিদ্ধমন্ত্র ‘বাবানাম কেবলম্’ কীর্ত্তন, ইশ্বর প্রণিধান ও সাধ্যায়ের পরে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সুসম্পন্ন করা হয়৷

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হুগলীর ডায়োসিস সেক্রেটারী আচার্য সুবিকাশানন্দ অবধূত৷ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে বহু আনন্দমার্গী ও অন্যান্য গ্রামবাসীরা উপস্থিত হন৷

আচার্য সুবিকাশানন্দ অবধূত কীর্ত্তন মহিমা ও আনন্দমার্গের চর্যাচর্যের বিধি সম্বন্ধে আলোচনা করেন৷

শিলচরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্মদিবস পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

৫ই নভেম্বর, শিলচর ঃ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দশস স্মৃতিরক্ষা সমিতির উদ্যোগে ৫ই নভেম্বর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্মদিবস যথাযোগয মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়৷ ওই দিন সকাল ৮-৩০ মিনিটে নেতাজী সুভাষ এ্যাভিনিউ ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এ্যাভিনিউ-এর সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশবন্ধুর প্রতিমূর্ত্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ দিয়ে ওই দেশবরেণ্য নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মানুষজন৷ এরপর শ্রদ্ধাঞ্জলী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাঃ তাপস শঙ্কর দত্ত, শিলচর পুরসভার সহঃ সভানেত্রী চামেলী পাল, শ্যামলকান্তি দেব, অজয় দাস প্রমুখ৷ আজকের প্রজন্মকে এই দেশবরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হতে আহ্বান জানানপ্রত্যেক বক্তাই৷ শিলচরের বিশিষ্ট ব্যষ্টিদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রী দেবপ্রসাদ রায়, নবদ্বীপ রায়, নীহার পুরকায়স্থ, বীরেশ ব্যানার্জী, পৌরকমিশনার রাখী চউধুরী, সিতু শুক্লাবৈদ্য, সাংবাদিক উত্তম সাহা, সৌরভ দেব ও সর্বশিক্ষা জ্যোতি কেন্দ্রের শিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রারা৷

শিলচর থেকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্মৃতিরক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সাধন পুরকায়স্ত এক প্রেস বার্তায় এই সংবাদ জানান৷

আনন্দমার্গের চর্যাচর্য বিধি অনুসারে বৈপ্লবিক বিবাহ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

৩রা নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কলিকাতা ভি.আই.পি. নগর বাজার কেন্দ্রীয় আশ্রমে আনন্দমার্গের সমাজশাস্ত্র চর্যাচর্য় মতে এক বৈপ্লবিক বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে আনন্দমার্গে সমস্ত রকম জাত-পাত-সম্প্রদায় ও ভৌগোলিক ব্যবধানকে অস্বীকার করে মার্গের সমাজশাস্ত্র মতে দুই তরুণ-তরুণী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বৈপ্লবিক বিবাহ বলা হয়৷ এই বিবাহ প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক৷

বিবাহের পাত্র ছিলেন হল্যাণ্ড নিবাসী  জয়দেব (জনি), পাত্রী ছিলেন ভারতেরই অসম প্রদেশের গুয়াহাটীর মেয়ে তনুকা দেব৷ সাপ্তাহিক ধর্মচক্র শেষে এই পবিত্র অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাত্রপক্ষে আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত ও পাত্রীপক্ষে অবধূতিকা আনন্দ তপস্নিগ্দা আচার্যা৷ উপস্থিত সুধীজন নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত৷

ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাঙালী যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে মহারাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন বীরভূম জেলার কুইটা গ্রামের বাসিন্দা পঁচিশ বছরের যুবক আকেবর আলি৷ ৩রা নভেম্বর সন্ধ্যায় তার মৃতদেহ ফিরে আসে গ্রামের বাড়ীতে৷ আকেবর আলি একটি ঠিকাদার সংস্থার হয়ে মহারাষ্ট্রের পুনেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন৷ ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের৷ কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ বা কীভাবে মারা গিয়েছেন সে সব কিছু জানানো হয়নি৷ শনিবার ২রা নভেম্বর বাড়ীতে ফোন করে জানানো হয় গত বৃহস্পতিবার কাজ করতে গিয়ে আকেবর মারা গিয়েছেন৷ প্রায় একমাস আগে আকেবর পুনে গিয়েছিলেন৷ তার বাবা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন৷

ঠিকাদার সংস্থার আচরণ ও আকেবরের মৃত্যু নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে৷ আকেবর মারা গিয়েছে বৃহস্পতিবার, অথচ খবর দেওয়া হয় শনিবার৷ কাজ করতে গিয়ে মারা যাওয়ার পরও ঠিকাদার সংস্থা কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি৷ আকেবরের পরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক ব্যবহার করেছে ঠিকাদার সংস্থা৷

বীরভূম সদাইপুর থানার বিভিন্ন গ্রামের বহু যুবক ভিন্ রাজ্যে কাজে যায়৷ একমাস আগেও সাহাপুর গ্রামের এক যুবক উত্তরপ্রদেশে কাজ করতে গিয়ে মারা যায়৷ এইভাবে এক মাসে ভিন রাজে করতে গিয়ে দুজনের মৃত্যু এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে৷

আদালতের রায় অমান্য করে রবীন্দ্র সরোবরে তাণ্ডবের প্রতিবাদে ‘আমরা বাঙালী’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রবীন্দ্রনাথের নামাঙ্কিত সরোবরে আদালতের নিষেধ অমান্য করে যেভাবে পুলিশ প্রশাসনের সামনে তালা ভেঙ্গে ছট পূজা হ’ল তার তীব্র প্রতিবাদ করেন আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাশ৷ শ্রী দাশ বলেন---আমরা বাঙালী কোন জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়৷ যে যার মত ধর্মাচরণ করতেই পারে৷ কিন্তু ভিন্ রাজ্য থেকে পেটের দায়ে বাঙলায় এসে বাঙলার কৃষ্টি-সংসৃকতির ওপর আঘাত হানবে এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ শুধু তালা ভাঙ্গাই নয়, কয়েক হাজার লোকের পূজো সামগ্রীসরোবরেব জলকে দূষিত করে৷ পরিণতিতে মাছ, কচ্ছপ প্রভৃতি জলজ প্রাণী মরতে শুরু করেছে৷

শ্রী দাশের কথায় বিজেপি, তৃণমূল ভোটের স্বার্থে বাঙলায় বাংলার ভাষা, কৃষ্টি, সংসৃকতি বিসর্জন দিয়ে বিহারী তোষণ করতে শুরু করেছে৷ বিজেপি দলটাই বাঙালী বিদ্বেষী৷ কিন্তু তৃণমূল বিশ্ববাঙলার লোগো টাঙিয়ে যেভাবে বিহারী তোষণ করছে তার নিন্দা করার ভাষা আমার জানা নাই৷ যে যার মত ধর্মাচরণ করার স্বাধীনতা সবার আছে৷ কিন্তু গায়ের জোরে ধর্মাচরণ পালনের স্থান কেউ নির্ধারণ করতে পারে না৷ বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষার জন্যে যেখানে আদালত নিষেধ জারী করেছে  গায়ের জোরে সেখানে ঢুকে ছট্পূজা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভের ওপর আঘাত৷ বিস্ময়ের কথা রাজ্যের শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দল এই নক্ক্যারজনক কাজকে সমর্থন করেছে৷

রবীন্দ্রনাথ এইসব কুসংস্কার, ভাবজড়তার চরম বিরোধী ছিলেন৷ তিনি প্রবন্ধ কবিতার মধ্যে তঁার সেই ভাবনা প্রকাশ করে গেছেন৷ তাই তার নামাঙ্কিত সরোবরে ছট্ পূজা করতে দিয়ে, আবার এই সরকার যখন রবীন্দ্রপ্রেমে গদ্গদ্ হয়ে যান তখন সেটা ভণ্ডামী ও কপটাচারিতা৷ আগামী দিনে রবীন্দ্র সরোবরে ছট্পূজা করতে এলে আমরা বাঙালী যোগ্য জবাব দেবে৷

কেন্দ্রের গুজরাটী প্রীতি---ক্ষুব্ধ আমরা বাঙালী

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নির্লজ্জ প্রাদেশিকতায় মত্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী৷ জয়েণ্ট এণ্টার্ন্স পরীক্ষায় আগামী বছর থেকে ইংরাজী হিন্দীর সঙ্গে শুধুমাত্র গুজরাটীকে অন্তর্ভুক্ত করায় এইভাবেই ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব শ্রী বকুল রায়৷ তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসমুক্ত ভারত চান৷ কিন্তু কংগ্রেসের সব অপকর্মের দুই গুজরাটী পাণ্ডার তিনি বড় ভক্ত৷ আগামী বছর জয়েণ্ট এণ্টার্ন্স-এ বাংলা অন্তর্ভুক্ত না হলে আমরা বাঙালী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে৷ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়ন্ত দাশ সমগ্র বাঙালী জাতীকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান জানান৷

প্রাউটিষ্ট ইয়ূনিবার্সালের জলপাইগুড়ি জেলার কর্মী সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৩রা নভেম্বর প্রাউটিষ্ট ইয়ূনিবার্সালের জলপাইগুড়ি জেলার কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জলপাইগুড়ি আনন্দমার্গ সুকলে৷ জেলার প্রতিটি ব্লক থেকে প্রায় শতাধিক সক্রিয় কর্মী এই সম্মেলনে যোগ দেন৷

সম্মেলনে বর্তমান সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রাউটিষ্টদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, আগামী দিনের কর্মসূচী প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়৷ সম্মেলনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাউটিষ্ট ইয়ূনিবার্সালের বিশিষ্ট প্রাউট তাত্ত্বিক আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দ অবধূত৷ জেলার প্রতিটি ব্লকে ছাত্র-যুবকদের প্রাউটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ তত্ত্বসভা, আলোচনা সভা, ছোট ছোট পথসভার মাধ্যমে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

শহরে ডেঙ্গীর প্রকোপ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কলিকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে এখনও ডেঙ্গীর প্রকোপ চলছে৷ বুধবার ভোর রাতে বাগুইআটির রুণু বিশ্বাস ডেঙ্গীতে আক্রান্ত হয়ে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মারা যান৷ মাত্র ১১ দিন আগে তিনি একটি শিশুকন্যার জন্ম দেন৷ ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান শিশুকন্যাটি সুস্থ আছে৷

মঙ্গলবারেই ডেঙ্গীতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নৈহাটী হাজিনগরের ২৫ বছরের যুবক কৃষ্ণগোপাল অধিকারী৷ পেশায় তিনি মেক-আপ শিল্পী ছিলেন৷ কল্যাণী জে.এন.এম. হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল৷ সৌদী আরবে চাকরী করতে যাবার জন্য তিনি পাশপোর্টও তৈরী করে রেখেছিলেন৷ ওই দিনই হাওড়ার চ্যাটার্জীহাটে চারাবাগানের ২৬ বছরের কেয়া গোস্বামী ডেঙ্গীর বলি হন৷ ২৯শে অক্টোবর জ্বরে আক্রান্ত হয় কেয়া৷ রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি ডেঙ্গীতে আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাকে আন্দুল রোডে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানেই তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যান৷ এই নিয়ে হাওড়ায় এখনও পর্যন্ত চার জন ডেঙ্গীতে প্রাণ হারালেন৷

সর্বনাশের খাদের কিনারায় বাঙালী --- মারের ওপর মাথা তুলে দাঁড়াতে ১৬ই নভেম্বর মহামিছিলের ডাক আমরা বাঙালীর

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগামী ১৬ই নভেম্বর কলকাতায় মহামিছিলের ডাক দিল আমরা বাঙালী৷ হাওড়া, শিয়ালদহ দুই প্রান্ত থেকে দুটি মিছিল বের হয়ে দুপুর ১২টায় ধর্মতলায় রাণী রাসমণি রোডে জমায়েত হবে৷ সংঘটনের কেন্দ্রীয় সচিব শ্রীবকুল রায় জানান এন. আর. সি. ও হিন্দী আগ্রাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট বাঙালী আজ নিজ ভূমে পরবাসী৷ এভাবে বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না৷ বাঙালীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷ বাঙালী যদি এখনই সব সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ না হয় তবে অচিরেই বাঙালী একটি লুপ্তপ্রায় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে৷

শ্রীরায় অভিযোগ করেন --- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও পরবর্তী ৭২ বছরের দিল্লীর বাঙালী বিদ্বেষী শাসক বাঙলার সামাজিক-অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে ধবংস করেছে৷ ভাষা, সাহিত্য, সংসৃকতির ওপর আঘাত হেনেছে৷ এখন এন.আর.সি.-র অজুহাতে বাঙালীকে বিদেশী বানিয়ে তার নিজ ভূমি থেকেই তাকে উচ্ছেদ করার চক্রান্তও শুরু করেছে৷ বাঙলার মাটিকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদ৷ যেভাবে দিনে দিনে হিন্দী আগ্রাসন বাড়ছে তাতে বাঙালীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷ রাজনৈতিক দলগুলো সব বুঝেও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে নীরব থাকছে৷ অদ্ভুত জিনিস দেখা গেল রবীন্দ্রসরোবরে ছট্ পূজো উপলক্ষ্যে৷ যে তৃণমূল-বিজেপি অহি-নকুল সম্পর্ক তারা উভয়ে উচ্চ আদালতের রায়কে অমান্য করে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে রবীন্দ্রসরোবরে তাণ্ডব করার সুযোগ দিল ভিন রাজ্যের মানুষকে৷ আমরা বাঙালী অনেক প্রতিবাদ করেছে, এবার প্রতিরোধে নামবে৷

সংঘটনের কলিকাতা, দুই ২৪ পরগণা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীজয়ন্ত দাশ বলেন ১৬ই নভেম্বর থেকে আমরা বাঙালী আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে৷ রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মদতে তালা ভেঙ্গে রবীন্দ্রসরোবরে ঢুকে একদল অবাঙালী তাণ্ডব চালিয়েছে, অন্য কোনও রাজ্যে বাঙালীরা গিয়ে যদি এই ধরণের ঘটনা ঘটাতো তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হ’ত৷ ডান-বাম-রাম করতে করতে আজ বাঙালী চেতনাই হারিয়ে গেছে৷ তিনি বলেন---আমরা বাঙালী কোন জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়৷ কোনও জনগোষ্ঠীর প্রতি তার কোনও বিদ্বেষ নেই৷ বরং ভারতবর্ষের ৪৪টি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে আমরা বাঙালী৷ কারও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও হস্তক্ষেপ করে না৷ কিন্তু রবীন্দ্রসরোবরে যা ঘটল তা বাঙালীর জাত্যাভিমানে আঘাত৷ বাঙলার শিরা-উপশিরায় রবীন্দ্রনাথ জড়িয়ে আছেন৷ তাঁর নামাঙ্কিত যে কোনও স্থানের শুচিতা রক্ষা করা প্রতিটি বাঙালীর দায়িত্ব৷ আগামী দিনে রাজ্যে এই ধরণের ঘটনা ঘটলে আমরা বাঙালী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে৷

১৬ই নভেম্বর মহামিছিলে যাতে বিশাল সংখ্যক মানুষ যোগ দেয় তার জন্যে প্রতিদিন ব্লকে ব্লকে ঘরোয়া সভা, আলোচনা সভা, ও প্রচারপত্র নিয়ে প্রচার করে যাচ্ছেন শ্রীজয়ন্ত দাশ, অরূপ মজুমদার, তপোময় বিশ্বাস, শৈলেন মোদক ও বাপী পালপ্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷

আনন্দমার্গের চর্যাচর্য বিধিমতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

পশ্চিম মেদিনীপুরের ভুক্তিপ্রধান শ্রীভবানীশঙ্কর ঘোষ প্রয়াত হন গত ৩০শে সেপ্ঢেম্বর৷ তিনি একজন আদর্শ আনন্দমার্গী ও সংঘের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন৷ দীর্ঘদিন তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের ভুক্তিপ্রধান হয়ে যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন৷ তাঁর একমাত্র পুত্র শুভেন্দু ঘোষও মার্গের একজন আদর্শ অনুগামী ও ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য৷

ভবানীশঙ্কর ঘোষের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান তাঁরই নিজ বাসভবন পশ্চিম মেদিনীপুরের বড়চাটি গ্রামে আনন্দমার্গীয় চর্যাচর্য বিধি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় গত ১০ই অক্টোবর৷

ওই দিন সকাল থেকে শোকাহত আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব ও সংঘটনের বহু কর্মী ও নেতৃবৃন্দ যথা প্রাক্তন ভুক্তিপ্রধান (পূর্ব মেদিনীপুর) সুভাষ প্রকাশ পাল, শিক্ষক বিদ্যাসাগর মাহাত প্রমুখ  উপস্থিত হন৷

সকাল দশটা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ প্রথমে প্রভাত সঙ্গীত ও ‘বাবানাম কেবলম’ মহানাম মন্ত্র কীর্ত্তনের পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ কীর্ত্তন পরিবেশন করেন আচার্য শিবপ্রেমানন্দ অবধূত, আচার্য অনির্বান ব্রহ্মচারী প্রমুখ৷ এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় সংযোগ সচিব আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত৷