রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সদ্য প্রাক্তন হওয়া সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কম বিষোদগার হয়নে৷ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীর্ঘদিন কারাবাসে ছিলেন৷ কিন্তু দেশের বৃহত্তম প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্ণ বার বার ফাঁস হলেও খুব একটা উচ্চবাচ্য হয় না সংবাদ মাধ্যমে৷ সরকার ও নীরব থাকে৷ ২০২৪ সালে নীটের প্রশ্ণ ফাঁসের সঙ্গে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উঠেছিল৷ লোক দেখানো একটা তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানো হয়৷ কিন্তু সিবিআইকে দিয়ে করানো হয়৷ কিন্তু সিবিআই-এর ব্যর্থতায় প্রশ্ণ ফাঁস কেলেঙ্কারীর মূল সঞ্জীব মুখিয়া জামিন পেয়ে যায়৷
এক বছর পরে আবার নিটের প্রশ্ণ ফাঁস৷ প্রায় ২৩ লক্ষ ছাত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে নিট পরীক্ষা বাতিল ঘোষনা করা হয় বার বার প্রশ্ণ পত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা৷ তারা প্রবেশিকা পরীক্ষা আবার রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দেবার দাবী তুলছে৷
মোদি ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারা ভারতে এক সাথে এই পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়৷ এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে থাকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-এন.টি.এ৷ ২০২৪-এর পর আবার প্রশ্ণ ফাঁসের কারণে নিট বাতিল হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ছাত্ররা ক্ষুব্ধ৷ ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ আমাদের কেরিয়ার নিয়ে ছেলেখেলা হচ্ছে৷ তাদের অভিযোগ এন.টিএ এই পরীক্ষা চালাতে অক্ষম৷ রাজ্যের হাতেই প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়ীত্ব তুলে দেওয়া হোক৷
এবার নিট পরীক্ষার ২২ লক্ষেরও বেশী পরীক্ষায় বসেছিলেন৷ পশ্চিমবঙ্গের ছাত্ররা জানান---তারা ভালোভাবে সফল হওয়ার জন্যে প্রচু অর্থব্যয় করে নাম করা কোচিং সেন্টারে কোচিং নিয়েছে৷ কিন্তু কর্ত্তৃপক্ষের গাফিলতিতে অনিশ্চিততার মধ্যে পড়ে গেলাম৷
ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদিকে এক পত্র দিয়ে নিট কেলেঙ্কারির যৌথ তদন্তের দাবী জানান৷ সংঘটনের চেয়ার পার্সন ডঃ লক্ষ্য মিত্তল বলেন--- ২০২৪-এ কেলেঙ্কারীর তদন্ত হয়েছিল৷ কিন্তু প্রধান অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে জামিন পেয়ে যায়৷ সেদিন ঠিকমত তদন্ত করে অপরাধীকে সাজা দিত আজ এই দিন দেখতে হতো না৷ মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানান৷ তাদের বক্তব্য এন.টিএ কোচিং ইন্ডাস্ট্রি ও সরকারী কর্তাদের যোগ উঠিয়ে দেওয়া যায় না৷ কেন্দ্রীয় শিক্ষাদপ্তরকে এই কেলেঙ্কারীর দায়ীত্ব নিতে হবে৷