প্রবন্ধ

প্রাউটের সমাজ আন্দোলনের লক্ষ্য স্থানীয় মানুষের হাতে থাকবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা

মনোজ দেব

আজ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র পথ হিসেবে মেনে নিয়ে আপন আপন কর্মসূচী নিয়ে কাজ করে চলেছে৷ তারা দেশে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও বেকার সমস্যা সমাধানের জন্যে দেশী-বিদেশী পুঁজিপতিদের শরণাগত৷ দেশী-বিদেশী পুঁজিপতিরা যাতে রাজ্যে তাদের মোটা পুঁজি বিনিয়োগ করে’ শিল্প গড়ে তুলতে এগিয়ে আসে, সেজন্যে ওই পুঁজিপতিদের নানান ভাবে তোষণ করে চলেছে৷ তাদের নানাভাবে প্রলোভন দিচ্ছে৷ সস্তায় জমি, বিদ্যুৎ, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে করছাড় ইত্যাদির আশ্বাস দিয়ে নানাভাবে তাদের মন ভেজানোর চেষ্টা করছে৷ বাম আমলেও দেখা গেছে কট্টর মার্কসবাদী বলে পরিচিত সিপিএম সহ অন্যান্য সঘোষিত সমাজতন্ত্রী

বুর্র্জেয়া শিক্ষা৷

হৃদয় ঘোষ

সময়টা ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ আর ৭০-এর দশকের প্রথম ভাগ৷ খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গের চারিদিকে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, কতিপয় পথভ্রষ্টের বিচারে মৃত্যুদণ্ডাঙ্গা প্রাপ্ত কত না প্রতিভার রক্তক্ষরণ হ’য়ে চলেছিল প্রতিনিয়ত!

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও অচেতন মনের ভূমিকা

সমরেন্দ্রনাথ ভৌমিক

যে কোন মৌলিক আবিষ্কার করতে হলে আবিষ্কারের জন্য উপাদান ও যন্ত্রপাতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু  তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হ’ল মানব মন৷ কারণ, মানবমনই করে এই আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যা কিছু আবিষ্কার হয় এই মনের দ্বারা ৷ সুতরাং এই মনকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ঠিক ঠিকভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হবে৷ আর এই দক্ষতাকে খুঁজে পেতে হলে আমাদের এই সাধারণ মনকে চেতন মনের স্তর অতিক্রম ক’রে নিয়ে যেতে হবে অচেতন মনের স্তরে৷ কারণ, আবিষ্কারের যে বীজ বা উৎস তা লুকায়িত রয়েছে এই গভীর গহন অচেতন মনের স্তরে Layer of superconcious mind)৷ মনের তৃতীয় স্তরকে বলা হয় অচেতন মনের স্তর৷ আজ পর্যন্ত যত মৌলিক আবিষ্কার হয়ে

দলতান্ত্রিক শাসনে সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ্ হচ্ছে

প্রভাত খাঁ

মানবিক মূল্যবোধ যদি রাজধর্মের ও জনসেবার কাজে যুক্ত দেশসেবকগণের না আসে তাহলে পৃথিবীর বিরাট রাষ্ট্র-এর উন্নতি হওয়া সম্ভব পর নয়৷ এই কথাটি  সেদিন যাঁরা ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে শাসনভার নিয়েছিলেন তাঁদের মাথায় আসেনি৷ কিন্তু শাসনভার হাতে নিতে সেদিনের ২জন ব্যষ্টি যাঁরাই ইংরেজের কাছের লোক সেই মাননীয় জওহরলাল ও জিন্না সাহেব যাঁরা ইংল্যাণ্ডে শিক্ষা লাভ করেন তাঁরা রাজশক্তি হাতে পেতেই আগ্রহশীল বেশী হন৷ তবে ভারতের সংবিধান প্রণেতারা খুবই বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ছিলেন তাই ভারতের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মমত নিরপেক্ষ শব্দটিকে অত্যধিক গুরুত্বদান করেন৷ এই শব্দটিকে কিন্তু দলতন্ত্রের সেবকগণ কোনদিনই আন্তরিকভ

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে বাঙালীদেরই

বিশ্বদেব মুখার্জী

টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে কিছু কিছু অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়৷ ধারাবাহিকগুলোর পাশাপাশি দাদাগিরি,দিদি নং-১ যেমন জনপ্রিয় তেমনই জনপ্রিয় গানের অনুষ্ঠান সা- রে- গা- মা-পা কিংবা  নাচের অনুষ্ঠান ’ ড্যান্স বাংলা ড্যান্স’৷ বহু নবীন প্রতিভা এইসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উঠে আসে বা প্রতিষ্ঠা পায় একথা সত্য৷ এই বিষয়ে আলোকপাত করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন লেখা নয়,প্রশ্ণটা অন্য৷

সাপ্তাহিক ধর্মচক্র ও মাইক্রোবাইটাম

সমরেন্দ্রনাথ  ভৌমিক

আনন্দমার্গের সাধনা পদ্ধতি কতকগুলি ক্রমানুসারে শেখানো হয়৷ এই সাধনাক্রমগুলি হ’ল--- প্রারম্ভিক যোগ, সাধারণ যোগ, সহজ যোগ, বিশেষ যোগ ও সবশেষে হ’ল পজিটিভ মাইক্রোবাইটাম সাধনা৷ এই সাধনাগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ সাধনা হ’ল ‘মাইক্রোবাইটাম সাধনা’৷ আর এই মাইক্রোবাইটা সাধনা ‘ৰাৰা’-র বিশেষ কৃপা জড়িত সাধনা৷  এ পর্যন্ত ‘ৰাৰা’ ১৫৫ জনকে এই  মাইক্রোবাইটাম সাধনা দিয়ে গেছেন৷ মাইক্রোবাইটাম হ’ল এক অতীব সূক্ষ্ম রহস্যজনক সত্তা৷ এই মাইক্রোবাইটাম এতটাই সূক্ষ্ম যে, একে ‘ৰাৰা’ বলেছেন---‘‘মাইক্রোবাইটাম এক প্রকার শক্তি  energy)৷ তবে এই শক্তি অন্ধশক্তি Blind energy) নয়, এর বিবেক আছে৷’’ সুতরাং এই সূক্ষ্ম মাইক্রোবাইটামের নিয়ন্ত্র

কেন্দ্রের হিন্দুত্ববাদী  সরকার সারাদেশে একদলীয় সরকার চায়  তাই বোটারগণ সাবধান

প্রভাত খাঁ

এদেশে আজ কোন সরকারই চায় না সকল মানুষ সার্বিক শোষণমুক্ত হোক৷ নামেই স্বাধীন দেশ, কিন্তু শাসকগণ প্রায় সকলেই শোষক!

স্মৃতির অন্তরালে

কণিকা দেবনাথ

১৯৪৩ সাল ৪ঠা জুলাই, সিঙ্গাপুরের ক্যাথে বিল্ডিং৷ চারিদিকে লোকে লোকারণ্য৷ প্রেক্ষাগৃহে তিল ধারণের স্থান নেই৷ আনন্দ উচ্ছ্বল মুখগুলো অপেক্ষা করছে কোনও একজনের জন্যে৷ এত ভীড়, এত কষ্ট তবু মুখে কারো কোনও বিরক্তির ছাপ নেই৷ সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছে আকাঙ্ক্ষিত মানুষটির জন্যে৷ এমন সময় বাতাসে ভেসে এল সেই কণ্ঠ---‘বন্ধুগণ, টোকিও যাবার আগে বলেছিলাম, আপনাদের জন্যে আমি একটি ভাল উপহার নিয়ে আসব৷ আমার সেই উপহার আজ আমার পাশেই আছেন৷ (একজনকে ইঙ্গিতে দেখালেন) ভারতবর্ষ বা পৃথিবীর কোথাও তাঁর নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই৷ তাঁর পরিচয় তিনি নিজেই৷ শুধু সেনাবাহিনী নয়, সেই সঙ

বাঙালীর জাতিসত্ত্বা, ভাষা, লিপি ও কৃষ্টি কি হারিয়ে যেতে বসেছে

জে.ডি. মণ্ডল

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

 বাংলা ভাষার বিবর্ত্তন ঃ প্রাচীনকাল থেকে বর্ত্তমান রূপঃ--- প্রাচীন বাংলা ভাষার কয়েকটি উদাহরণঃ---(ক) প্রাচীন বাঙলা সাহিত্যে খাদ্য তালিকায় আছে---

ওগগর ভক্তা, রম্ভাপত্তা,গাইক্ক ঘিত্তা, দুগ্দ সজন্তা,

নালিতা গচ্ছা, মোল্লামচ্ছা, দিচ্ছই কন্যা,খাত্র পুন্যবন্তা৷

অর্থাৎ ‘ওগ্‌গর ভক্তা’ মানে গরম গরম ভাত, আর এই ভাত দেওয়া হতো কলাপাতায়---ভাতের সাথে ফুটিয়ে দুধ দেওয়া হত৷ তার সঙ্গে ঘি, মৌরালী মাছ,আর নলতে শাক৷ কান্তা দিচ্ছে আর পুন্যবান খাচ্ছে৷

তারপর---

            টালত ঘর মোর নাহি পড়িবেশী,

            হাঁড়ির ভাত নাই নিতি আবেশী৷