প্রবন্ধ

ত্রিপুরার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

জ্যোতিবিকাশ সিন্‌হা

আমরা ত্রিপুরায় বাস করি৷ ত্রিপুরা আমাদের প্রিয় বাসভূমি৷ ত্রিপুরা নিয়ে বিগত শতাব্দীর  প্রায় মধ্যভাগ থেকে কিছুসংখ্যক উন্নত অথবা অবনত মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষ পদবাচ্য জীবদের দ্বারা এই ভূখণ্ডে বলতে গেলে, বিসদৃশ রকমেরই জল্পনা-কল্পনা, সন্ধি-দূরভিসন্ধির নানা রকমের ঘাত-প্রতিঘাত হয়েই চলেছে৷ বিগত কয়েকশো বছর ধরে  বড় জোর ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিক বা চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়া থেকে  অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় পাঁচশ কিংবা ছয়শ’ বছর আগে থেকে  উত্তর বার্র্ম থেকে মু-চাং-ফা-য়ের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত ও তিববত-বর্মী ভাষাগোষ্ঠীভুক্ত উপজাতিরা ত্রিপুরায় এসেছিলেন৷  ওই সময় অনাবৃষ্টির কারণে বার্র্ময় (ব্রহ্মদেশ বা বর

ত্রিপুরার প্রকৃত ইতিহাস জানুন

এইচ.এন.মাহাত

ত্রিপুরা রাজ্যটি মূলতঃ সুবেবাঙলা বা গৌড়বঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ ১৮৭২ সালের ব্রিটিশ ভারতে বাঙলার সীমানা ছিলো উত্তরে নেপাল, ভুটান ও সিকিম হিমালয়ের পাদদেশ, দক্ষিণে ছিলো মাদ্রাস প্রদেশ ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ব্রহ্মদেশের টেকনাফ নদী ও চীন সীমান্ত আর পশ্চিমে যুক্তপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ৷ অর্থাৎ পরেশনাথের পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর, মেঘাশিনি পাহাড় থেকে হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত৷ এই চৌহদ্দির মধ্যে আজকের ত্রিপুরা নামক রাজ্যটির অবস্থান৷ অতীতে নাম ছিলো চাকলা রোশনাবাদ, পরবর্তীতে একে শ্রীভূম বলে অভিহিত করা হতো৷ ব্রিটিশ আমলে রাজ্যটি সমতল ও  পার্বব্য ত্রিপুরায় ভাগ ছিলো৷ রাজ্যটি বিস্তারিত ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্র

দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থাকে বাঁচাতে হবে

প্রভাত খাঁ

যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা তখনই সার্থক হয় যখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আপন আপন সীমার মধ্যে থেকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মধুর সম্পর্ককে মান্যতা দিয়ে জনগণের স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়ে শাসন কাজ করে চলেন৷ কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে  যতোদিন যাচ্ছে ভারতের মতো বিরাট দেশে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্যে রাজ্যে আঞ্চলিক দলের উত্থান ও কেন্দ্রে সর্বভারতীয় দলের শাসনে  সমস্যারই সৃষ্টি হয়ে চলেছে৷ কোন সমস্যার সঠিক সমাধান হচ্ছে না৷ দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রে যে দল যখন শাসনে আসছে কিছু সংখ্যা গরিষ্ট হয়ে মিলিজুলি সরকার গড়ছে তখনই যাদের নিয়ে শাসন চালাচ্ছে তখনই সেই সরকারের

কবে বাঙালীর জীবন থেকে কালরাত্রির অবসান হবে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

এন আর সি-র কালো ধোঁয়া, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের অন্ধগলি, রাষ্ট্রহীনতার আশঙ্কা, রাজনৈতিক তঞ্চকতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক সাম্প্রদয়িক বিভেদ, সাংস্কৃতিক অবক্ষয়, শিক্ষার পবিত্র অঙ্গণে উচ্ছৃঙ্খলতা, সাহিত্যের নামে অশ্লীলতা, ধর্মের নামে বেলেল্লাপনা, সোনার বাঙলার স্বপ্ণ দেখিয়ে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদীর অনুপ্রবেশ, আদর্শহীন ভোট সর্বস্ব রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় পররাজ্যবাসীদের তোষণ--- বাঙালীর জীবনে সূর্যোদয়ের সকালটাও কালো অন্ধকারে ঢেকে দেয়৷

ভারতবাসী ও বিবেক-চেতনা

হরিগোপাল দেবনাথ

বর্তমান পৃথিবীতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ৷ রাষ্ট্র-শাসন পদ্ধতি নিয়ে বিচার করতে গিয়ে এ যাবৎ মানুষের উদ্ভাবিত যে-সব প্রক্রিয়া সমূহ রয়েছে, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বিচারে গণতন্ত্রকেই সবার সেরা পদ্ধতি বলে সর্বজন গ্রাহ্য অভিমত৷ তবে, আধুনিক বিচার-বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছে সে কথা অস্বীকার করারও উপায় নেই৷ বিশেষ করে পৃথিবীর বুকেই ঘটে চলা অবস্থা-পর্যবেক্ষণে সমালোচকগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেই জোরালো সব যুক্তিসমূহ যা’ দেখিয়ে চলেছেন সেগুলোও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই তাচ্ছিল্য ভরে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া চলে না৷ তদানীন্তনকালে পরাধীন ভারতবাসীর উপর বিদেশ

পশ্চিম বাঙলার বাজেট অর্থাৎ ব্যয়মাত্রিক মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মত

প্রভাত খাঁ

তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ত্তমানে ২০২১ এর অগাষ্ট মাস থেকে ২০২২ এর মার্চ পর্য্যন্ত যে বাজেট রাজ্যবিধানসভায় পেশ করে পশ্চিম বাঙলার সাধারণ মানুষের মুখে হাসি একটু ফোটালেন সেটাকে মান্যতা দিতেই হয়৷ এই বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে কৃষি,শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামোন্নয়ণে৷ ২০২০-২১ এর তুলনায় ২০.৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৩ লক্ষ, ৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার৷

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় এই বাজেট পেশ করলেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ দেখা গেল তৃণমূল যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনীকালে দিয়েছিল সেইগুলির মান্যতা দিয়েছে৷

সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আণুগত্যের অভাব

প্রবীর সরকার

এই প্রতিবেদনটি লিখতে বসে বার বার যাঁদের কথা স্মরণে আসছে তাঁরা হলেন রাশিয়ার প্রাক্তন দু’জন দেশ নেতা ও শাসক৷ তাঁদের নাম মাননীয় ক্রশ্চেভ ও বুলগ্যানিন৷ তাঁরা ভারতে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে  আসেন৷ গত শতাব্দীর ছয় দশকের প্রথম দিকে৷ তাঁরা বলেছিলেন দেশ স্বাধীন করতে আমাদের সন্তানদের হারিয়েছি৷ আজ বড়ো কষ্ট হয়৷ আমাদের নেতারা জন্মভূমিকে ইংরেজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তি ভাগ করে শাসন ক্ষমতা কায়েম করেন৷ কংগ্রেস জওহরলাল নেতৃত্বে মুসলীমলীগ জিন্না সাহেবের নেতৃত্বে হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান এর শাসন ক্ষমতা লাভ করে৷ এইভাবে দেশ ভাগের তেমন বিরোধিতা হয়েছিল বলে শোনাই যায় না৷ কমিউনিষ্ট দল তখন আন্দোলন করেনি কা

নোতুন পথে উন্নয়ন-যজ্ঞ শুরু করতে হবে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী ভারতের নিজস্ব সংবিধান কার্যকর করা হয় ও ভারতকে  গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা  হয়৷ এই সংবিধানে প্রতিটি  মানুষের জীবনধারণের অধিকার, সমানাধিকার, স্বাধীনতার অধিকার প্রভৃতি মৌলিক অধিকার  স্বীকৃত  হয়৷

গরমে রোগ–ব্যাধি ও নানা সমস্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি

বসন্ত ঋতু বিদায় নিয়ে এই বাঙলায় গ্রীষ্ম আসছে৷ গ্রীষ্মকাল মানেই গরমকাল৷ গরমে শারীরিক অস্বস্তি ও নানান রোগ–ব্যাধি দেখা দেয়৷ বলতে গেলে ছয় ঋতুর প্রভাব এই পশ্চিমবঙ্গে দেখা যায়৷ আর প্রতিটি ঋতুর আগমনই আমাদের কাছে আনন্দদায়ক৷ তবে প্রতিটি ঋতুর মত গ্রীষ্মেরও ভাল ও মন্দ দু’দিক রয়েছে৷ একটু সচেতন থাকলে গ্রীষ্মের এই মন্দ অর্থাৎ রোগ–ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে চিকিৎসকদের অভিমত৷ এই গরমে চলতে ফিরতে সকলের অসুবিধা হয় ও আমরা সবাই কম বেশী শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি৷ সময়মত সচেতন না হলে অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ সাধারণত অতিরিক্ত গরমে যে সব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলির কারণ ও প্রতি

ভারতের মাটিতে কোন বাঙালী বিদেশী নয়

তপোময় বিশ্বাস

২০২১ সালটি বাঙালীর কাছে একটি পরীক্ষা বছর৷ বাঙালীদের ভারতবর্ষে বিদেশী হয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে নাকি স্বদেশী হয়ে মাথা উঁচু করে থাকবে---এটাই ছিল পরীক্ষার বিষয়৷ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরা এ পরীক্ষায় দারুণ সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় কে জয় করেছে৷ মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে৷ কিন্তু অসমের বাঙালীদের নাগরিকত্ব হারানো/ ডিটেনশন ক্যাম্প ইত্যাদির ভয় গেল না৷ ২০২১-র অসম বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় বসেছে বিজেপি৷