Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

রাধা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

ভক্তঃ বলি ও দুলালী, শ্যামদুলালী,

        শুধাই একটি কথা---

        কে তোমারে জনম দিল,

        দিল অমরতা?

রাধা ঃ নই আমি নই মাতৃগর্ভ-জাত,

        ভক্ত কবির মানস-লোকে

        আমি যে প্রতিভাত৷

        নই আমি নই কাহারো ভার্যা,

        নই কাহারো কন্যা,

আমি কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি-ইচ্ছা

        কৃষ্ণ প্রেম-ধন্যা৷

আমি রাসযাত্রার রস তরঙ্গে

        কৃষ্ণ-কন্ঠ লগ্ণ,

আমি ভুবন-ভোলানো মোহন বাঁশীর

        সুর-সুধাপাণে মগ্ণ৷

আমি হা কৃষ্ণ হা কুষ্ণ

        হা কৃষ্ণের হাহাকার,

আমি তীব্র আকুতি আকুল ব্যাকুল

        কৃষ্ণ-মিলনে অভিসার৷

        আমারে পাবে না মাটির পৃথিবীতে

        জনম আমার কবি মানসের 

        কৃষ্ণ-ভক্তি গীতে৷

     লীলায়িত আমি কৃষ্ণের জীবনীতে,

        বিরহবেদনা মিলন মধুর৷

        বৈষ্ণব পদাবলীতে৷

        ইতিহাস বা কোষ্ঠী ঠিকুজি---

        কোথা ও পাবে না আমারে খুঁজি,

        জ্ঞানীর মানস, যোগীর হৃদয়---

        কদাপি নয়, কদাপি নয়৷

        এই কথাটা জেনে রাখো শুধু-

        ভক্তের অন্তর 

        আমার আঁতুর ঘর৷

 

  • Log in to post comments

ধর্মপ্রাণ

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

আলো ছায়ার মাঠের প’রে

কাটছে চাষী ধান,

সবার তরে তুলছে ফসল

বাঁচাতে সব প্রাণ৷

জীবন পণ লড়ছে সদাই

করছে কত কাজ,

ঝড় বাদলে সকাল দুপুর 

নেইক তাতে লাজ৷

সরল সহজ জীবন মনে

খাটছে বারোমাস,

অরুণ রাঙা সূর্য কিরণ

নেইক রোগের ত্রাস৷

সবার হিতে করি কর্ম

কত না সুখ পায়,

জুটছে যাহা কাজের শেষে

ভাগ করে সে খায়৷

আমোদ আহ্লাদ লেগেই আছে

ওরা ধর্মপ্রাণ,

থাকছে সদা সেবার কাজে

বাড়িয়ে তার মান৷

এমন চিতের মাহাত্ম্যতে

রননা দূরে প্রভূ,

যোগান তিনি সকল কিছু 

রহে না ব্যামো কভু৷

 

  • Log in to post comments

বাংলা ভাষা

অমিতাভ মাইতি

 তোমার ভাষা   আমার ভাষা

 এ বাংলার     সবার ভাষা

    বাংলা ভাষা৷

 বাঙালীর      মাতৃ ভাষা

 বাঙালীর       সবার ভাষা

    বাংলা ভাষা৷

 মায়ের থেকে শেখা ভাষা

 সবার থেকে সেরা ভাষা

বাংলা ভাষা৷

 গুণে মানে     সননে মননে

 গল্পে গানে সেরা স্থানে 

বাংলা ভাষা৷

মনের কথা  প্রাণের ব্যাথা

সকল ভাবের মুক্তি দাতা

বাংলা ভাসা৷

ভালো বাসার মধুর ভাষা

ভাব প্রকাশের সরল ভাষা

বাংলা ভাষা৷

এ ভাষায় শিখে রাখো

এ ভাষা বাঁচিয়ে রাখো

এ যে বাংলা ভাষা৷

 

  • Log in to post comments

কাণ্ড

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গোপনে কাউকে উপদেশ–নির্দেশ দেওয়াকেও ‘কাণ্ড’ বলা হয়ে থাকে৷ সবাইকে সদুপদেশ সকলের সামনে দেওয়া যায় না৷ এই যে ব্যষ্টিগতভাবে কাউকে উপদেশ দেওয়া, একেও বলা হয় ‘কাণ্ড’৷ 

গোপনে পরামর্শ দেওয়া বলতে একটা ছোট্ট গপ্প মনে পড়ে গেল৷ তোমরা পা ছড়িয়ে বসে মুড়ি–আলুর চপ খেতে খেতে গপ্পটা শোনো৷

এক ছিল বামুণ ........ এক ছিল বামণী৷ বামণী ছিল বড় দজ্জাল৷ বামুণকে সব সময় জ্বালা দিত৷ বামুণ যখন যেটি বলত বামণী তাতে তাকে খেঁকিয়ে তো উঠতই আর করত তার উল্টোটা৷ একবার বামুণ বামণীকে বললে, ‘‘দেখ বামণী, এই আসছে হপ্তায় আমার পিতাঠাকুরের বাৎসরিক শ্রাদ্ধ৷ শ্রাদ্ধটা তো করতেই হবে৷ তাই সব ব্যবস্থা–ট্যাবস্থা করে রাখ’’৷

বামণী বললে, ‘‘কী! কার শ্রাদ্ধ! ওসব শ্রাদ্ধ–টাদ্ধ কোন ভুতের হতে দোব না’’৷ 

বামুণ বললে, ‘‘ভুতের নয়, আমার পিতাঠাকুরের’’৷

বামণী বললে, ‘‘তোমার পিতাঠাকুর কি এখন জলজ্যান্ত রয়েছে! ভুত নয় তো কী! ওই শ্রাদ্ধ–পিণ্ডি–টিণ্ডি আমি এ বাড়ীতে হতে দোব না .......... দোব না...... দোব না – এই বলে রাখলুম, তুমি নিকে রেখে দাও’’৷

বামুণ দেখলে বেগতিক৷ বামুণ তখন জয়–মা–কালী বলে সেখান থেকে পিঠ–টান দিলে৷ গিয়ে পৌঁছুল সোজা তার গুরুর খিড়কি–দোরের সামনে৷ গুরুঠাকুর তাকে দেখে শুধোলেন, ‘‘হ্যাঁ গা, এই 

বে–টাইমে ছুটতে ছুটতে এসেছ কেন কী হয়েছে’’

বামুণ তার দুঃখের কথা সবিস্তারে গুরুকে নিবেদন করলে৷ 

গুরুঠাকুর বললেন, ‘‘হ্যাঁ, এটা একটা ভাববার মত কথা’’৷ 

তারপর গুরু বামুণের কাণে কাণে একান্তে একটা গোপন মন্ত্র দিয়ে দিলেন৷ বামুণ সেই মন্ত্র জপ করতে করতে ঘরে ফিরে এল৷ বামুণ ফিরে এসে দেখে – বামণী একথালা ভাত আর সাতাশ ব্যঞ্জনের বাটি নিয়ে পা ছড়িয়ে বসে বসে খাচ্ছে আর তারিয়ে তারিয়ে শোজনের ডাঁটা চিবোচ্ছে৷ বাঁ–হাতে চেপে ধরে রেখেছে জল–ভর্ত্তি একটা প্রকাণ্ড খাগড়াই কাঁসার ঘটি৷ 

বামুণের আর তর সইল না৷ মন্ত্রের ফলাফল দেখবার জন্যে সে বামণীর কাছে এসে বললে, ‘‘দেখ বামণী, তোর কথাটাই রাখলুম৷ এ বৎসর আর পিতাঠাকুরের শ্রাদ্ধ করব না’’৷ 

বামণী বললে, ‘‘কী! কার এত বড় আস্পর্দ্ধা যে বলে শ্বশুরঠাকুরের শ্রাদ্ধ করব না৷ শ্বশুরঠাকুরের শ্রাদ্ধ করতেই হবে৷’’

বামুণ বললে, ‘‘যদি করতেই হয় তাহলে গঙ্গার ঘাটে একটা সস্তার পুরুৎ ডেকে এনে নমোনমঃ করে সারব’’৷

বামণী বললে, ‘‘এ্যাঁ, সে কী কথা! আমার বাড়ীর সম্মান নেই! ভাল ভট্চায্–পুরুৎকে দিয়ে শ্রাদ্ধ করাতে হবে৷’’

বামুণ বললে, ‘‘তা না হয় হ’ল, কিন্তু এবার আমার পয়সার টানাটানি৷ যজমান বাড়ী থেকে তেমন কিছু পাই নি৷ আলুর চাষ এবার মার খেয়েছে৷ তাই হয় গোণাগুণতি পাঁচটি বামুণকে খাওয়াব, না হয় একটা ভুজ্যি দিয়ে দোব’’৷ 

বামণী বললে, ‘‘ছিঃ! এ কী লজ্জার কথা! অন্ততঃ পাঁচশ’ লোককে খাওয়াতে হবে৷ টাকার অভাব থাকলে আমি আমার এই দশ ভরির পাটিহার ছড়াটাকে বেচেও টাকার ব্যবস্থা করে দোব৷’’

সব কাজ ঠিকঠাক চলছিল৷ বামুণ মহা খুশী৷ গুরু–ঠাকুরের মন্ত্র ঠিক ঠিক ফল দিয়ে চলেছে৷ এমন সময় বামুণ আনন্দে অধীর হয়ে মন্ত্রটাই ভুলে গেল৷ গুরুর দেওয়া গোপন মন্ত্র বিস্মৃতিতে চলে গেল৷ সপিণ্ডকরণের পর বামুণ বামণীকে বললে, ‘‘দেখ বামণী, এই আলো–চাল, তিল আর শ্রাদ্ধের অন্যান্য উপকরণগুলো – যা, গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে আয়৷’’

বামণী বললে, ‘‘কী, এত বড় আস্পর্দ্ধা! এইসব আজে বাজে জিনিস আমি গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে আসব! এই সবগুলো আমি নালীতে ফেলব..... ফেলব.... ফেলব..... ফেলব৷’’

বামুণ তো থ’৷ মন্ত্রের গোপনীয়তা হয়তো ছিল কিন্তু মন্ত্রের মূল্যজ্ঞান ও মাত্রাজ্ঞান বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছল৷ তাই না এই ফ্যাসাদ হল৷

তা তোমরা বুঝলে, গুরুঠাকুর বামুণকে যে গোপন নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকেও ‘কাণ্ড’ বলা হয়৷

 

গোরাচাঁদ ও একতারা

আশীষ দত্ত রায়

 চৈত্র মাসের শেষ৷ রাতের শহর বড় রুক্ষ৷ রাস্তায় বাতাস তার গরম আর ধুলোর আস্তরণ৷ মাটিরও যেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে৷ এই ’’বিসম্বাদ’’ রাস্তার এক কোণে গোরাচাঁদ বাউল বসেছিল৷ লালন সাঁইয়ের ভাবের উত্তরাধিকারী বলেই তাকে চিনত তার গ্রামের লোক৷ এখানে এই নগরে, সে এক অনাহূত৷

সম্বল বলতে একটি জীর্ণ একতারা, গর্ভ আর ঢাকনি তার বিবর্ণ৷ তার গায়ে কত ‘‘পথের ধুলা আর মনের সুর’’ জমা৷ কাঁধে একটি রং-জ্বলা গামছা, যেন অকিঞ্চনতার উত্তরীয়৷ চোখে কোনো ভার ছিল না, ছিল এক নির্ভার শূন্যতা, এই বিশ্ব-সংসারকে সে ‘‘গুরুধামের লীলা’’ হিসেবে দেখেছে৷ এই নগর-খাঁচায় এসেছিল কেবল ‘‘প্রাণের টানে’’এই নশ্বর দেহে শ্বাসটুকু ধরে রাখার জন্য৷ কিছু মাধুকরী আর ভাব বিলোনোর আশায়৷

এই ‘‘পাথরের জঙ্গল’’ তো সহজ মানুষের ভিড় নয়৷ মেট্রো স্টেশনের গেটে অবিরাম মানুষ ঢুকছে আর বেরোচ্ছে৷ যেন এক ছায়াছবি৷ তাদের কেউকেউ গৌরহরিকে দেখছিল কেবল ‘‘কৌতূহলের চোখ’’ দিয়ে, তারপর আবার নিজস্ব লক্ষ্যের দিকে ছুট৷ কারো বা হাতে কফির কাপ কিন্তু সুস্থে বসে খাওয়ার সময় নেই, বেশির ভাগের কানে ইয়ারফোনবিচ্ছিন্নতার্ যন্ত্র৷ গোরাচাঁদের কণ্ঠে তখন দেহতত্ত্বের নিগূঢ় সুর: ‘‘মানুষ ভজিলে সোনার মানুষ হবি রে৷’’ এ সুরে ছিল অন্তরের আহ্বান, কিন্তু মানুষের কান ছিল বাইরের কোলাহলে মগ্ণ৷ আর গোরাচাঁদের সুরটা ছিল বাতাসে ক্ষীণ৷ বিভিন্ন গাড়ির সমবেত হর্নের ‘‘বধির করা চিৎকারে’’ তা তলিয়ে যাচ্ছিল৷

পরের দিনের বিকেল৷ এক ‘‘উদাসীন আলো’’ পার্কের গাছ গুলিতে, মাটিতে আর রেলিঙে এসে পড়ছে৷ এক টুকরো শুকনো পাউরুটি আর জল খেয়ে গোরাচাঁদ ’’শ্যাওলা-ধরা বেঞ্চে’’ বসেছিল৷ পাশের গাছের ডালে পাখিরা ফিরছে যেন ’’আপন ডেরায় ফেরা মুক্ত জীবাত্মা’’৷ গোরাচাঁদের মনে পড়ল তার গ্রাম৷ শরতে কাশবনের হাওয়া৷ গ্রীষ্মে নদীর ঘাটে ছেলেদের দাপাদাপি৷ বৎসর জুড়ে শিমুল-ছায়ায় বসে তার গান ছিল প্রকৃতিরই প্রতিধবনি৷ আর আজ, সেই ’’আবেগের সুর’’ও যেন শহরের বিষাক্ত ধোঁয়ায় মরচে ধরেছে৷

সেদিনের গভীর রাত৷ ফুটপাথের ধারে এক চায়ের দোকানে জ্বলছিল আগুন৷ গোরাচাঁদের দেখে লাগছিল ওটাই যেন ‘‘জীবনের শেষ আশ্রয়’’৷ গোরাচাঁদ ‘‘নিঃশব্দ পায়ে’’ দোকানে গিয়ে দাঁড়াল৷

দোকানদার জিজ্ঞেস করল, ‘‘বাবা, কিছু খাবে?’’

সে মাথা নাড়ল৷ উত্তর ছিল তার বৈরাগ্যের ভাষা: ‘‘তুমি নিজের কাজ করো, আমি নেব শুধু তোমার লড়াইয়ের উষ্ণতাটুকু৷’’

সেই রাতে সে আর কোনো স্বরলিপি ধরল না৷ একতারাকে কোলে নিল যেন ‘‘হারিয়ে যাওয়া সন্তান’’৷ চোখ বুজল, খুঁজছিল ’’মনের মানুষ’’কে৷ হয়তো খুঁজছিল সেই ’’খোলা আকাশ’’, যেখানে তার গান ঘুঙুরের মতো বেজে উঠত৷

পরদিন সকালে, শহর ‘কর্ম-সাগরে’ জেগে ওঠার আগেই, গোরাচাঁদ ‘অজ্ঞাতের পথে’ পাড়ি জমাল৷ কেউ জানল না সে কোথায় মিশে গেল৷ সে ছিল রাঢ় মাটির দেশের মানুষ, সে কি আবার তার মা টির কাছেই ফিরে গেল? শুধু সেই মেট্রো স্টেশনের ধারে পড়ে রইল তার সঙ্গীহীন একতারা৷ তারটি ছিল ছিন্ন, যেন প্রতীকী জীবনের সম্পর্ক-ছেদ৷ বিজপট্ট খুলে বেরিয়ে গেছে, একতারার বাকি অংশগুলিতে তখনও লেগে ছিল তার ফকিরি জীবনের ধুলো আর না বলা যন্ত্রণার শুকনো অশ্রুর দাগ৷ লোকেরা সেদিনও ছুটছিল৷ এই ‘নশ্বরতা’ তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল৷

শুধু গরম আর শুকনো বাতাসের গভীরে তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল সেই চিরন্তন ভাব, এক ক্ষীণ আত্মার স্বর৷ আজও শহরের অলস মধ্যরাতে, যখন কিছু আলো নিভে যায়, তখন এক মায়াবী আলো নেবে আসে আকাশ থেকে, কোথা থেকে যেন শোনা যায় সেই ভাব, ভাষা, সুর ও ছন্দে মেশা অলিক জীবনের ডাক৷ সে এক ও অদ্বিতীয় চৈতন্যলোকের আহ্বান, যে ডাক মৃদু গলায় জানায়: জীবন কেবলই দৌড়ানো নয়, জীবন হলো নিজেদের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে নেওয়া৷ আর সেই খোঁজই হলো বাউলের পথ৷

 

  • Log in to post comments

বছরের প্রথম মাস অগ্রহায়ণ

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বছরের প্রথম মাস অগ্রহায়ণ৷ এখন নয়, আগে ছিল৷ বাঙালী হিন্দুর নববর্ষ এখন পয়লা বৈশাখ৷ প্রাচীনকালে হতো অগ্রহায়ণে৷ হায়ণের অর্থ বৎসর৷ অগ্র হচ্ছে প্রথম৷ অর্থাৎ বছরের প্রথম মাস৷ গীতায় অগ্রহায়ণকে বলা হয়েছে মার্গশীর্ষ৷ 

এককালে এই মার্গশীর্ষ বা অগ্রহায়ণ ছিল বছরের প্রথম মাস৷ মার্গশীর্স নক্ষত্রে পূর্ণচন্দ্রের উদয় হলে সেই পূর্ণিমাকে বলে মার্গশীর্ষী৷ এই মার্গশীর্ষী পূর্ণিমার জন্যেই মাসটির নাম মার্গশীর্ষ৷ অগ্রহায়ণ মাসে সূর্যাস্তের পর এই নক্ষত্রেপূর্ণ চন্দ্রের উদয় হয়৷ অতএব বছরের প্রথম মাস ছিল অগ্রহায়ণ৷

বাংলার একটি ছড়াতে আছে---‘অঘ্রাণেতে বছর শুরু নবান্ন হয় মিঠে/পৌষে আউলি বাউলি ঘরে ঘরে পিঠে৷’ আর কার্ত্তিক ছিল বছরের শেষ মাস৷ তাই আগেকার দিনের বাঙালী মেয়েরা কার্ত্তিক মাসে বাপের বাড়ি যেত না৷ ‘কার্ত্তিক মাস বছরের শেষ, না যেও পিতার দেশ৷’

শক জাতির রাজা ছিলেন শালিবাহন৷ শকাব্দ নামক অব্দ তিনিই প্রবর্তন করেন৷ শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘বাংলা বৎসর শালিবাহনের সময় থেকেই চলে আসছিল, অগ্রহায়ণে মার্গশীর্ষে শুরু৷ অগ্রহায়ণ ছিল বৎসরের প্রথম মাস৷ জ্যোতিষিক নাম মার্গ শীর্ষ কিন্তু যেহেতু সেটা প্রথম মাস তাই বাংলায় তাকে বলা হত অগ্রহায়ণ৷ আকবরের সময় পর্যন্ত অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বছরের প্রথম মাস৷ তারপরে ভারতীয় পঞ্জিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখবার জন্যে করে দেওয়া হল বৈশাখ মাস৷’’                   (বাঙলা ও বাঙালী)

 

  • Log in to post comments

বাপের হোটেল

কৌশিক খাটুয়া

বাপের হোটেলে খাই

 কিছুই পরোয়া নাই

বেকার ছেলের কাজকর্ম থাকে না, 

 সংসার কাকে বলে জানিনা৷

সারাদিন টো টো করে 

 দিনরাত বেড়াই ঘুরে, 

রকে বসে আড্ডায় 

 প্রশান্তি মন জুড়ে, 

‘বাপের হোটেল’ এ প্রবেশ

 রাত্রে ও দ্বীপ্রহরে!

কেটে যায় জীবনটা 

 আহারে ও বিহারে!

 

  • Log in to post comments

অশান্ত সময়

বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বর্তমান সময়টা বড়ই 

অশান্ত আর দিশাহীন

বিশ্বের এক প্রান্তে নিরন্তর 

যুদ্ধের আগ্রাসন চলছে, 

যুদ্ধাস্ত্রের আগুনে পৃথিবীর 

কেবল প্রকৃতি ঝলসে যাচ্ছে

বিপন্ন মানুষ খাদ্য পানীয় 

আর নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে৷

আমাদের দেশেও অমানিশার অন্ধকার ক্রমশ জমাট বাঁধছে

অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি 

আর শিক্ষানীতির কোমর ভাঙছে, 

অভাব, বেকারত্ব, কপটতা 

আর অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে

মানুষ ধীরে ধীরে নিজস্বতা 

হারিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়ছে৷

এক জাতি, এক প্রাণ, এক রাষ্ট্র 

এই ভাবনা অতীত হতে চলেছে

দ্বেষ বিদ্বেষ আর পরাগত 

অহিষ্ণুতা বর্তমানকে গ্রাস করছে

তরুণ সমাজ হতাশায় 

আজ মুঠোফোনকে 

একান্ত দোসর করেছে

তাদের তারুণ্য আর নির্ভীকতা ক্রমশই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছে৷

মানুষের শিক্ষা, চেতনা 

আর সমাজ ভাবনা 

তিমির অবগুণ্ঠনে ঢাকা পড়ছে

সততা মূল্যবোধ 

আর স্বচ্ছতা এগুলো

ধীরে ধীরে কল্পলোকে চলে যাচ্ছে৷

এ যে দেশ, সভ্যতা 

আর সমাজের বড় ঘোর সঙ্কটকাল

বিপন্ন আর বিধবস্ত মানুষ 

সাগ্রহে প্রহর গোনে 

কবে আসবে নোতুন সকাল৷

 

  • Log in to post comments

পুজো আসছে

পুজো আসছে

 -এই যে গাইড৷

- কী ব্যাপার সন্ধ্যে রাতে..৷ মনটন খারাপ নাকি?

- আরে শুধু কি মনখারাপ, সঙ্গে বুকের ভিতর টা হু ..... হু৷

- ও’টা বোধ হয় বাংলার বাইরে থাকার এফেক্ট৷

- সে’টা ডিনাই করছি না, তবে এ মনখারাপ সে জন্যে নয় গো৷

- নতুন করে স্মৃতিবেদনায় চক্করে পড়োনি তো? শেস বয়সে এসে অমন একটু আধটু হতেই পারে৷

- তাইই মনে হচ্ছে৷ এ বয়সে নতুন ঐটাই তো অবলম্বন৷ কিছু ওই গৃহপালিত এক্সারসাইজগুলো এন্টারটেনিং হয় বটে৷ এনগেজিং ও বটে৷ এই যেমন ধরো গিন্নী প্রাতরাশ এর ফল ছুলে দিতে বললে৷ তা দিলাম৷ প্রভাতী চা টা তো করেই থাকি৷ মশারির খোলা ও ভাজ করা৷ পার্ফেক্ট রিদমে৷ সব ক’টা কাজ আমার দৃষ্টিতে নিখুঁত, কিন্তু তার দৃষ্টিতে গোলমেলে৷ কাজের কোনও ছিরি ছাদ নেই৷ তবে নতুন প্রেমের ‘ওগো-হ্যাঁগো-তোমায় ছাড়া দুনিয়া অন্ধকার -গো’..ও’সব আর এই বয়সে সইবে কেন বলো৷ 

- তা’হলে শাগরেদ, কেন তব এ দুর্মতি ?

- জীবনের হাহাকারটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে গাইড৷ সে জন্যেই এই কান্দণ৷

- কী’রকম?

- এই যে ধরো পুজো আসছে৷ ছেলেবেলার এক্সাইটমেন্টটা ভাবতে চাইছি কিন্তু কিছুতেই হচ্ছে না৷ ভাবছি এন্তার ঘোরাফেরা, খাওয়া দাওয়া করব৷ লুচি তে সাঁতার কাটব, চপ-ঘুগনিতে বুঁদ হয়ে যাব৷ আর গ্রামে গিয়ে মায়ের হাতের খিচুড়ি লাবড়া ......

ভেবে যেমন আনন্দ হচ্ছে, তেমনি বুক শুকিয়ে যাচ্ছে রিয়েলিটির কথা ভেবে৷ আজকাল সল্টেড বাদাম চিবুলেও বুকজ্বালা৷ কোথায় লুচি ঘুগনি, কীসের চপ ? সেই ট্যালট্যালে ডাল আর মিক্সড ভেজিটেবলেই স্বস্তি৷ বড় জোর শেষ পাতে চাটনি৷ তারপর ধরো কলকাতার প্যান্ডেল প্যান্ডেল ঘুরে রাতকাবার করাটা একসময় মনে হত মার দিয়া কেল্লা৷ এখন ভীড় ভাবলেই বুক কেঁপে উঠছে৷ পুজোসংখ্যা হাতে আর পাইনা তাই স্যোশাল মিডিয়াই ভরসা৷ আচ্ছা গাইড, সবই কি ক্লিশে? ও’সব কি আর কোনওদিনই ফিরে পাবো না? আর, ভয়ের কথা বুড়িয়ে গেলাম নাকি? 

- ক্লিশে উড়িয়ে দেবে বিদগ্দ মানুষজন৷ তোমার আমার সে দায় নেই হে৷ চেনা পরিচিত ভালোলাগাগুলোকে জড়িয়ে ধরব, বুক বাজিয়ে ডিফেন্ড করব৷ মনের সুখে সে’ সব ভাবনাগুলোকে আগলে রাখব৷ অত ভেবে অফিসের ডেটাবেস সাজিও, বৃষ্টি নামলে মুড়ি আর ভাজাভুজি খোঁজ করাতেই আমাদের মুক্তি৷

- তবে ‘পুজো আসছে পুজো আসছে’ করে লাফিয়ে উঠতে পারছি না কেন? কেউ কানের কাছে পুজো-পুজো ঘ্যানঘ্যান করলেই রাগ হচ্ছে কেন ? তার ঝুঁটি টা ধরে নাড়িয়ে দিতেই বা ইচ্ছে যাচ্ছে কেন ?

- সে’ টা ক্লিশে নয় হে৷ বড়জোর আক্ষেপ বলতে পারো৷ 

- ব্যাখ্যা ? কিন্তু বাংলায়৷ 

- কিশোর বেলায় পুজোটা তুমি গ্রামের বাড়িতে কাটাতে, তাই না?

- প্রতি বছর৷ উইদাউট ফেল৷ যখন থেকে একা যাতায়াত করতে শিখেছি৷ আহা, সে কথা মনে পড়ায় ‘পেটে, বুকে হুহু, চোখে জল’ সিচুয়েশন হয়ে গেল৷ আর বাবা৷ আর মা৷ আর খোলা মাঠ মিষ্টি হাওয়া, কুয়োর জল৷ পাড়ার সে আটপৌরে পুজো৷ আর সেই মানুষগুলো৷ আর সে খিচুড়ি খাওয়া৷ আর বাবা৷ আর মা৷ আর সে দূর থেকে পুজোর অঞ্জলি শুরুর ঘোষণা৷ সন্ধ্যের থিয়েটার এর আওয়াজ৷ আর কচিকাঁচাদের মাইকে গিয়ে নিজের কন্ঠস্বর শোনার ....৷ আর ইয়ে, দশমীর নারকেলের নাড়ু আর ঘুগনি৷ আর বাবা৷ আর মা৷ 

- ওয়াটার ওয়াটার এভ্রিহোয়্যার নট আ ড্রপ টু ড্রিঙ্ক৷ চারদিকে পুজো পুজো ভাব শাগরেদ, অথচ তুমি তোমার পুজোয় ফিরতে পারছ না৷

- বাবা, মা সে পুজো বগলদাবা করে চলে গেল যে৷ 

- একটা কথা বলি শাগরেদ? 

- নিশ্চয়ই গাইড৷ 

- তোমার বাবা, মা তোমার ভালোবাসার পুজোর স্মৃতি তৈরি করে গেছেন, যে স্মৃতি নেড়েচেড়ে আজও তুমি চাঙ্গা হয়ে ওঠো৷ তাই না? তেমনই, নিজের বুড়োটেপনায় আটকে না থেকে, অন্য কচি কাঁচাদের হয়ে ভালোবাসার পুজো তৈরির দায়ও তো তোমার ওপর খানিকটা বর্তায়, তাই নয় কি?

- দায়? আছে, তাই না?

- আলবাত৷ আর সে’টা দায়ভার নয়৷ আমার ধারণা সে’টাও বেশ তৃপ্তির৷ 

- গাইড, পুজো সত্যিই চলে এলো৷ তাই না?

- একদম! একদম!

 

  • Log in to post comments

কিশোর বিপ্লবী (২)

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

১৯০৬ সাল৷ সারা দেশ বৃটিশের অত্যাচার অতিষ্ঠ৷ মুক্তি-পাগল দেশবাসীর মনে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগাবার জন্য সমাস্ত্র উষ্ণরক্ত বিপ্লবী দল সবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে৷

ফেব্রুয়ারী মাস৷

মেদিনীপুর শহরের একটি পুরনো জেল খানার প্রাঙ্গনে কৃষি-শিল্পের প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে৷ নানান লোকের আনা গোনা চলছে৷ দর্শকের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়৷ একটি বালক রোজই আসে৷ মেলা দেখে চলে যায়৷

মেলা আরম্ভ হবার আটদিন পর শুরু হলো পুরস্কার বিতরনী সভা৷ জেলার যত হোমড়া চোমড়া আর বড় বড় সরকারি কর্মচারী যোগ দিলেন সেই সভায়৷ চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেল৷ অতিথিদের আপ্যায়নে সভার উদ্যোক্তারা ব্যস্ত৷

ঠিক এমন সময় সুযোগ বুঝে সেই বালক মেলার প্রবেশ দ্বারে প্রকাশ্যে কতকগুলো বই বিলোতে লাগলো৷ বই গুলি ছিল রাজ দ্রোহাত্মক৷ তাই সে তাড়াতাড়ি কাজ সারতে লাগলো৷

দেখতে দেখতে মেলার স্বেচ্ছা সেবকদের অধিনায়কের নজরে পড়ে গেল ব্যাপারটা৷ তিনি তৎক্ষণাৎ বালককে ধরাবার জন্য তৎপর হলেন৷ কিন্তু বালকের শক্তি সামর্থ্যের পরিচয় তিনি বোধহয় আগেই পেয়েছিলেন৷ তাই নিজে না গিয়ে একজন সেপাইকে পাঠালেন৷

কিন্তু তাকে ধরা তো দূরে কথা, সোনাই দুপা এগিয়ে আসতেই বালক তার নাকে বসিয়ে ছিল প্রচণ্ড এক ঘুষি৷ সেপাই যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলো৷ আহত নাকটা ধরে বসে পড়লো মাটিতে৷ নাক দিয়ে গল গল করে রক্ত ঝরতে লাগলো৷

মূহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজন হুড় হুড় করে ছুটে এলো৷ সেপাইর দুরবস্থা দেখে সবাই ক্রোধে মার মার চিৎকার করে উঠলো৷

ডান পিটে বালক পালিয়ে এল আলিগঞ্জে৷ লোক চক্ষুর অন্তরালে এক তাঁতশালে কাটালো একমাস৷ কিন্তু ধূর্ত পুলিশের চোখকে সে ফাঁকি দিতে পারলো না৷

বালককে হাজতে ধরে আনা হলো৷ শুরু হলো বিচার কিন্তু বিচারকের বোধ হয় মায়া হলো বালকের সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের মতো মুখখানার দিকে তাকিয়ে৷ বিচারে বালক মুক্তি পেল৷ 

ইতিমধ্যে সারা শহরময় ছড়িয়ে পড়েছিল বালকের সাহসিকতার কথা৷ তাই মুক্তির পর যখন সে বিচারালয় থেকে বের হলো তখন স্কুলের সব ছাত্ররা মিছিল করে তাকে নিয়ে শহরের পথে শোভা যাত্রা শুরু করলো৷ আবালবৃদ্ধবণিতা সকলের মুখেই বালকের জয়ধবনি৷

দেবদাস করণ তার সাপ্তাহিক ‘মেদিনী বান্ধব’ পত্রিকায় বালকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে একটি সুন্দর প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন৷ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়লো তার নাম৷ তার আগুন জ্বালানো কীর্তি প্রতি ঘরে ঘরে মহা আলোড়ণ--- সৃষ্টি করলো৷ বলতে পারো কে এই দুর্দান্ত সাহসী বালক? সে আর কেউ নয়৷ তোমাদের অতি পরিচিত মরণজয়ী বিপ্লবী বীর ক্ষুদিরাম৷ জন্ম ৩রা ডিসেম্বর, ১৮৮৯ খ্রীষ্টাব্দে মেদিনীপুরের হবিবপুর গ্রামে৷ ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে গুপ্ত সমিতি কলকাতার চিফ্‌ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিষ্ট্রেট অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করে৷ তখন নিরাপত্তার কারণে কিংসফোর্ডকে বিহারের মজঃফরপুরে বদলি করা হয়৷ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্লচাকী মজঃফরপুর যাত্রা করে৷ ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে ৩০শে এপ্রিল রাত আটটায় একটি ফিটন গাড়ীকে কিংসফোর্ডের গাড়ি মনে করে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল বোমা নিক্ষেপ করে৷ গাড়ীর আরোহী দুই ইউরোপীয় মহিলার মৃত্যুর হয়৷ পরদিন ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হয় ও বিচারে তার ফাঁসি হয়৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved