Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

গাজনে মড়া খেলা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

‘গাজন’ শব্দের উৎপত্তি প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তি বলেছেন---‘সারা বছর ধরে নানান জনের সঙ্গে নানান্‌ কথাই তো বলছি---জাগতিক কাজ করছি, ধান-চালের কথা বলছি পটোলের দর, বেগুনের দর নিয়ে চর্চা করছি৷ অন্ততঃ একদিন প্রাণভরে চীৎকার করে শিবের নামে গর্জন করি, ‘শিব হে’ বলে মানুষকে আহ্বানকারী গর্জন প্রাকৃতে ‘গজ্জন’ বর্তমান বাংলায় ‘গাজন’৷

এককালে চৈত্রমাসের গাজন ছিল বাংলার একটি জনপ্রিয় উৎসব৷ গাজনের নায়ক হচ্ছেন শিব৷ ভূত প্রেত নিয়ে শিব শ্মশানে থাকেন৷ তাই তাঁর উৎসবে একটু ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার থাকবে---এ আর আশ্চর্য কি৷ এমনি ধারণা লোকের৷

এখন গাজন উৎসব অনেক পরিচ্ছন্ন হয়েছে৷ সেকালের মতো গাজনে মড়া খেলার অনুষ্ঠান আর হয় না৷ গাজনের সন্ন্যাসীরা আচার-আচরণের দিক দিয়ে নানা শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল৷ কেউ পিশাচের বেশে মৃত নরদেহ নিয়ে নৃত্য করতো৷ এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হতো মড়া খেলা৷ কেউ বা আবার ডাকিনী সাজতো৷ পরণে লাল কাপড়, গলায় ফুলের মালা, গায়ে রূপোর গয়না, মাথায় লম্বা লম্বা চুল, মুখে আবিরের প্রলেপ আর হাতে বেত নিয়ে বিকট চিৎকার করে নেচে নেচে বেড়াতো৷ অনেকে আবার আবীরের বদলে মুখোশ পরে নাচতো৷

মড়া খেলা হতো উৎসবের দিন শেষ রাতে৷ অবিরাম ঢাকের আওয়াজ, ধূপের ধোঁয়া আর ভক্তদের ভৌতিক গর্জনে গা ছমছমানি ভাব৷ হঠাৎ আস্ত মড়া কাঁধে নিয়ে ভক্তরা নাচতে শুরু করতো৷ অনেকে গলিত শব নিয়েও নাচতো৷ যে যত বেশী শব সংগ্রহ করতে পারতো তার তত কৃতিত্ব৷ অন্যথায় মড়ার মাথা নিয়েই নাচ শুরু করতো৷ বর্দ্ধমানের কুড়মুনের গাজনেও সন্ন্যাসীরা নরমুণ্ড নিয়ে নাচতো৷ না শেষ হলে ভক্তরা শবের গায়ে আবির মাখাতো, শবকে আদর করতো৷ তারপর ঢাক বেজে উঠলেই ভক্তরা শবের চারদিক ঘিরে নেচে নেচে মন্ত্র পড়ত আর গান করতো---

শ্মশানে গিয়েছিলাম মশানে গিয়েছিলাম

সঙ্গে গিয়েছিল কে?

কার্ত্তিক গণেশ দুই ভাই

সঙ্গে সেজেছে৷৷

১২৮৮ সনে স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য সরকারী আদেশে শব আর নরমুণ্ডসহ নাচ বন্ধ হয়ে যায়৷ ইদানিং নরমুণ্ডের বদলে নারকেল নিয়ে নাচ হতে দেখা যায়৷

বাংলার গাজনে এই মড়া খেলার সূচনা কিভাবে হল? তিববতে লামাদের মধ্যে এধরণের মড়াখেলার প্রচলন আছে৷ ওয়াডেল সাহেবের বিবরণ অনুযায়ী তিববত, নেপাল ও ভুটান প্রভৃতি অঞ্চল থেকে এই মড়া খেলা অনুষ্ঠানের প্রেরণা আসতে পারে৷ আবার অনেক পণ্ডিতের মতে না, এই অনুষ্ঠান তিববত থেকে আমদানি হয়নি৷ তাঁদের মতে, ইন্দো-মঙ্গোল সংস্কৃতির মিশ্রণ বাংলার সংস্কৃতির ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে৷ এরকম কোন মিশ্রণের ফল হতে পারে এই ‘মড়া খেলা’ অনুষ্ঠান৷ আবার এমনও ভান হয়, বাঙলার একেবারে নিজস্ব সাংস্কৃতিক জমিতেই এই ‘মড়া খেলা’ অনুষ্ঠানের জন্ম৷

 

  • Log in to post comments

সুকুমার রায়ের কবিতা

(১)

প্রভু চিরকাল ধরে বিশ্বচরাচরে

লুকিয়ে আছ অনন্তে নিরাধারে

রূপাতীত তুমি গো দাও না ধরা

ঘুরিছে তোমার সন্তান সারা৷

 

এসেছিলে ধরায় প্রাণের টানে

মোহনভাবে মধুময় ছন্দে গানে

সত্য সনাতন কীরূপে ধরা দিয়ে

চলে গেলে সবার হাসায়ে কাঁদায়ে৷

(২)

তোমারি নামে গায় নাচে সবে

নোতুন প্রভাত নিয়ে এসেছ ভবে

সে কী আনন্দ গো তোমার পরশে

আঁধারের ব্যথা গেল যে ভেসে৷

 

দিয়েছ প্রেরণা সত্যের পথে

জাতি কূলভেদ করনি তাতে

দয়াল প্রীতিতে বেঁধেছ সবারে

চিরকাল এ মধুস্মৃতি রবে অন্তরে৷

 

  • Log in to post comments

সুপ্রভাত

কৌশিক খাটুয়া

বলতে পারো সূর্যিমামা

ভোরে কেন ওঠে, 

কুঁড়ি কেন সকালবেলা

ফুল হয়ে ফোটে?

ঝর্ণা কেন নৃত্য করে

একই ছন্দ ধারায়, 

নদী কেন কলতানে

সাগর মাঝে হারায়?

উর্মি কেন সাগর বুকে

নাচে উছল আনন্দে, 

ভ্রমর অলি কেন জুটে

কুসুমের গন্ধে?

পেখম তুলে নাচলে ময়ূর

বৃষ্টি আসে ঝরে, 

কোকিল জানায় উপস্থিতি

মিষ্টি কুহু সুরে৷

পাখিরা কেন এত স্বাধীন

যখন খুশি উড়ে, 

দখিনা পবন শিস দিয়ে বহে

পরমপিতার বরে!

 

  • Log in to post comments

নাচাতে নাচাতে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ঠাকুরের অর্থাৎ শ্বশুরের কন্যা এই অর্থে ঠক্করদুহিতা > ঠক্কুর জুহিআ > ঠাকুরঝিআ > ঠাকুরঝি৷ ননদকে বাংলায় ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করা হত ও আজও করা হয়ে থাকে৷ 

ননদের স্বামী নন্দাইকে (ননন্দাপতি>ননন্দাঅই>নন্দাই) সম্ৰোধন করা হত ‘ঠাকুর জামাই’ বলে৷ ঠাকুর জামাই মানে ঠাকুরের জামাই অর্থাৎ শ্বশুরের জামাই৷ রাঢ়ের কোনো কোনো অংশের পুরুষেরা পত্নীর ভগিনীকেও ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করে৷ ভাষাবৈজ্ঞানিক মতে এ ব্যবহার শুদ্ধ৷ 

‘ননন্দা’ মানে যে আনন্দিতা নয়৷ ভ্রাতৃজায়া ঘরে আসার সময় সব ননদের না হলেও কোনো কোনো ননদের মনে একটা বিক্ষোভ জন্মায়৷ সে ভাবে, অন্য বাড়ির মেয়ে এসে আমার বাপের বাড়িতে সর্বময়ী কর্ত্রী, একেবারে রাজরাণী হয়ে বসল আর আমি কি না পরের বাড়িতে গিয়ে দু’বেলা হেঁসেল ঠেলছি!

সেকালে ননদ ও ভাজ দু’য়েরই শিক্ষার স্তর খুব উন্নত ছিল না৷ তাই ছোটখাট ব্যাপারে একে অন্যকে ঠেস দিয়ে কথা শোনাত, একে অন্যকে সহ্য করতে পারত না৷ আজকাল কিন্তু চাকা ঘুরে গেছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজ দুই–ই শিক্ষিত৷ তাই দু’য়ের মধ্যে আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দারুণ ভাব৷ এ যেন একেবারে–

‘‘ভাবে গদগদ তেলাকুচো

কেঁদে মরে গেল কাল ছুঁচো৷’’

সেকালে কিন্তু সব ক্ষেত্রে না হোক, অনেক ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজে দিব্যি রেষারেষি চলত৷ সেই যে গল্প আছে না ঃ

ননদ–ভাজে ঘাটে গেছে চান করতে৷ এমন সময়ে কুমীর এসে ননদকে ধরে নিয়ে গেল৷ ভাজ কিন্তু কথাটি চেপে রাখল৷ মনে মনে তার খুব আনন্দ, কারণ ননদ তাকে জ্বালা দিত৷

         ‘‘ননদিনী রায়বাঘিনী, ননদিনী কুলের কাঁটা, 

         উঠতে বসতে দেয় গো খোঁটা৷৷’’

সে বাড়িতে এসে কাউকে কিচ্ছুটি বললে না, একবারও মুখটি খুললে না, কেননা মুখ খুললেই তো বিপদ৷ খাওয়া–দাওয়া শিকেয় উঠবে.......রাঁধা ভাতের হাঁড়ি ফেলে দিতে হবে.......শুক্তো–ঘণ্ট–ডাঁটা–চচ্চড়ি গোরু–ছাগলে খাবে৷ ভাজ তাই মুখে কুলুপ এঁটে রইল৷ তারপর পেট ভরে ৰেড়াল ডিঙ্গোতে পারে না এমন পরিমাণ ভাত খেয়ে, লাউডগা–পোস্তবাটা থেকে শুরু করে ঝালের ঝোল, অম্ৰল সব কিছু চেটেপুটে খেয়ে হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল৷ আর মনে মনে বললে, কী জ্বালা হয়েছে, এঁটো পাতা আবার আমাকেই তুলতে হবে!

         ‘‘ঢ়লাঢ়লা পুঁইয়ের পাতা মলুকচালের ভাত ৷

         খেয়ে দেয়ে রইনু বসে কে ফেলাবে পাত৷’’

বউ কোনোক্রমে গেল আঁচাতে৷

কুম্ভীরবর্গীয় সমস্ত জানোয়ারেরাই চলবার সময় একটু লাফাতে লাফাতে যায় (সে বিরাট আকারের কুমীর থেকে শুরু করে টিকটিকি পর্যন্ত সবাই এই রীতিতেই চলে) ও এই একই রীতিতে শিকার ধরে ৷ শিকার ধরে মুখে নিয়ে যাবার সময় তারা নিজেরা লাফাতে লাফাতে যায় বলে দেখে মনে হয় শিকারটাও ৰোধহয় নাচতে নাচতে যাচ্ছে৷ কুমীর যখন ননদকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তখন কুমীরটা নিশ্চয় ওই ভাবেই যাচ্ছিল৷ বউ দেখলে খ্যাঁটনের পালা তো চুকে গেছে৷ এখন ননদকে কুমীরে নিয়ে গেছে বললেও ক্ষতি নেই৷ হাঁড়ি যদি ফেলে দেওয়াও হয়, হাঁড়িতে এক কণা ভাতও অবশিষ্ট নেই৷ বউ সবই চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছে৷ তাই বউ (অর্থাৎ ভাজ) আঁচাতে আঁচাতে ঘাটের আর সবাইকে ডেকে বললে ঃ 

         ‘‘ভাল কথা মনে পড়ল আঁচাতে আঁচাতে৷

         ঠাকুরঝিকে নিয়ে গেল নাচাতে নাচাতে৷৷’’

সবাই বললে–তোমার ঠাকুরঝিকে কুমীরে নিয়ে গেছে এই খবরটা এতক্ষণ চেপে রেখেছিলে কেন ভাজ বললে– এতক্ষণ কথাটা মনে ছিল না৷ আঁচাতে আঁচাতে মনে পড়ল৷

 

সুস্বাগতম

জ্যোতিবিকাশ সিনহা

সময় এগিয়ে চলে নিজের নিয়মে 

দিন বেয়ে আসে কালো রাত্রি, 

রাত্রিশেষে জেগে ওঠে নোতুন প্রভাত

দিন দিন করে’ পেরোয় বছর

পিছনে জমে থাকে কত 

হাসি-কান্নার স্মৃতি৷ 

অদূরেই মর্মরিত নববর্ষের পদধবনি,

আজ যুগসন্ধিক্ষণে নব আশায় 

রোমাঞ্চিত সমগ্র ধরিত্রী৷

 

অতীতের গর্ভে জন্ম নেয় বর্তমান 

বর্তমানের বেদীমূলেই 

গড়ে ওঠে ভবিষ্যৎ,

শোষণ-জর্জরিত ভগ্ণস্তূপে দাঁড়িয়ে

এসো,ঊর্ধে তুলি বিপ্লবের মশাল---

নব্যমানবতার দীপ্ত আলোকে

ভাস্বর হোক সমাজ-

সভ্যতা-সংস্কৃতি সব

সত্য-ধর্ম-ন্যায়ের পথে

রক্তিম অরুণোদয়ে আসুক 

সুন্দর সকাল 

আর নোতুন জীবনের সবুজ স্বপ্ণ৷

47

একই বৃত্তায়ণে

কৌশিক খাটুয়া

চলে যায় যারা ফিরে আসে তারা 

     নাহি যায় চিরতরে,

ফেলে আসা সেই অপূর্ণতা পূরণে 

     নব আঙ্গিকে শুরু করে৷

নতুন দিনের নতুন কর্মসূচি 

 নতুন অঙ্গীকারে,

যারা আসে ফিরে ক’’ দিনের তরে 

 গৃহীত কর্মসূচী সারে৷

 

যুগ হতে যুগান্তরে 

 প্রত্যাবর্তন অবনি পরে

 নবরূপে আবির্ভূত,

বাহুতে শক্তি, হৃদয়ে ভক্তি

 কর্মে মুক্তি, সেবা তার ব্রত৷

 

 ফুল ঝরে যায় প্রভুর চরণে 

ফিরে আসে তারা স্বাগত বরণে,

 নদী বহমান সাগর-আহ্বানে,

ফিরে নির্ঝরিণী জলধারায়, 

 চক্রাকারে আবর্তিত৷

 

 তাপিত হৃদয়ে নয়ন ধারায় 

 প্রিয়জনকে জানায় বিদায়

বিয়োগান্তক সুর ক্রমে ম্লান হয়

 নিত্য ব্যস্ত কর্মধারায়,

যুগ যুগ ধরে মানব সমাজে 

আসা-যাওয়া মাঝে ব্যস্ততা কাজে 

 এই রীতিটাই প্রবর্তিত! 

 

তাঁহার লীলায় সবাই আসে যায় 

বিরাট আধারে সবে ঠাঁই পায়,

মিছে ভয় পাই, কিছু না হারায় 

যা’’ কিছু ঘটিছে তাঁর অভিপ্রায়৷

 

গমনাগমনের বৃত্তায়নে 

নিজ কর্মসূচি রূপায়ণে 

 বারংবার আসা যাওয়া,

কীর্তন-গানে ভজনে সাধনে

নিত্য চর্চা কঠোর অনুশীলনে 

 চরম লক্ষ্য পূরণে 

ফিরে আসা ফিরে পাওয়া৷

মিলে মিশে যায় 

 এক অভিন্ন সত্ত্বায় 

রয়েছে যে তাঁর মিলনের দায় 

 *পরমাত্মায়*!

 

  • Log in to post comments

আয় চৈতালী ঝড়

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

আয় বসন্ত, আয় দুরন্ত,

আয় চৈতালী ঝড়

আয়রে ভীষণ, আয়রে ভয়াল,

আয়রে ভয়ঙ্কর!

আনরে কাঁপন জীর্ণশাখায়,

আনরে মরণ শুষ্ক পাতায়,

আনরে মাতন সবুজ পাতায়---

হানরে অসুন্দর৷

আয় বসন্ত, আয় দুরন্ত,

আয় চৈতালী ঝড়!!

 

আয় ভাঙনের জয় গান গেয়ে,

আয় মহা তাণ্ডবে,

এক ঘেয়েমির সুর-তাল কেটে

আয় হত গৌরবে৷

আয় ধবংসের ডঙ্কা বাজিয়ে,

আয় সৃষ্টির অর্ঘ্য সাজিয়ে,

নবীন আশার পুলক জাগিয়ে

আয় নতুনের চর!

আয় বসন্ত আয় দুরন্ত

আয় চৈতালী ঝড়!!

 

  • Log in to post comments

আগ কঁহা লগী

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গদ্গদ বচ ঘঞ ঞ্চ গদ্গদবাচ৷ তোমরা অনেক নেতার জ্বালাময়ী বত্তৃণতা প্রাক্–স্বাধীনতাকালে হয়তো শুণেছ৷ তাঁরা ভাষণে আগুন ছুটিয়ে দিতেন, যদিও বক্তব্যে বড় একটা কিছু থাকত না৷ শ্রোতার তলিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না৷ এই ধরণের অভ্যন্তরীণ মূল্যহীন যে ভাষণ তা’ ‘গদ্গদবাচ’৷ 

একবার বিহারে কোন এক জনসভায় জনৈক নেতা এলেন নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা পরে৷ শ্রোতারা অধীর আগ্রহে কখনো রোদে মুখ পুড়িয়ে, কখনো বা জলে জামা ভিজিয়ে অপেক্ষা করে আছে৷ নেতার আসতে দেরী হ’ল কারণ তিনি একটি দূরবর্ত্তী স্থানের সুলভ শৌচালয়ের ফিতে কাটতে গেছলেন৷

তিনি এসে কিন্তু লজ্জিত হলেন না....তাঁর মুখে কিন্তু কিন্তু ভাবও ছিল না৷ তিনি শ্রোতাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন–‘‘মালা লেনে কা টাইম নহী হ্যায়, ম্যায় বহুৎ ব্যস্ত হুঁ’’৷ সবাই ভাবল–নেতা তো, কতই ব্যস্ত! তাই মালা নিতে চাইছেন না৷ তাঁর জনৈক টাউট শ্রোতাদের এ্যাড্রেস করে বিহারের স্থানীয় ভাষায় বললেন–এঁর সময়ের অত্যন্ত অভাব৷ আর কাজও প্রচুর৷ নাওয়া–খাওয়া–শোয়া তো প্রায় উঠেই গেছে৷ দীর্ঘশঙ্কায় (মলত্যাগ) না গেলে নয়, তাই যান৷ আর ত্যাগ! ত্যাগের কথা আর বলবেন না৷ আগে দিনে দশ প্যাকেট সিগারেট খেতেন৷ আজকাল কেবল দীর্ঘশঙ্কার সময় এক প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান, নইলে পেট পরিষ্কার হয় না৷ ভেবে দেখুন তো কী দারুণ ত্যাগ! আসছে ইলেকশানের সময় এঁর কথা আপনারা যেন কিছুতেই ভুলবেন না৷ আমি আবার আপনাদের জোড়া পায়ে সালাম দিতে আসব৷ 

তারপর নেতা শুরু করলেন তাঁর ভাষণ–বন্ধুয়োঁ, আজ ইস সুবসর পর আগ লগ গয়ী৷ ক্যা হুয়ী আগ লগ গয়ী৷ আগ কহাঁ লগী আগ লগ গয়ী আপকে দিল মে, মেরে দিল মে, দুঃখিয়া মানবতা কে দিলমে৷ আগ জ্বল রহী হ্যায়...আগ জ্বল রহী হ্যায়....জ্বলতী রহেগী৷

তবু শ্রোতারা মুগ্ধ....অভিভূত!              (শব্দ চয়নিকা, ১৮/২০)

 

কথা বেচে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রকাণ্ড ৰড় মিউজিয়াম (প্রত্নশালা)৷ কিউরেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত হয়েছেন একজন অতিজল্পক মানুষ৷ বিতর্কেই তিনি বেঁচে আছেন.......বিতর্কেই তিনি চাকরি বজায় রেখেছেন......... বিতর্কেই তিনি পদোন্নতির আশা পোষণ করেন৷ দর্শনার্থীদের সম্বোধন করে তিনি একটি ছোট্ট করোটি (মাথার খুলি) দেখিয়ে বললেন–আপনারা জেনে হয়তো অবাক হবেন.........সত্যিই তো, অবাক হবারই কথা.........এই করোটিটি হচ্ছে ইতিহাসধন্য পুরুষ রাণা প্রতাপের৷ উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন একজন ইতিহাসের অধ্যাপক৷ তিনি বললেন, কিন্তু স্যর, রাণা প্রতাপ তো ছিলেন তাগড়া আকারের দশাসই চেহারার মানুষ৷ তাঁর করোটি এত ছোট হবে কেন

কিউরেটর বললেন–আপনি ভারী সুন্দর কথা বলেছেন......এই তো ইতিহাসের অধ্যাপকের মতই কথা৷ তাহলে শুনুন–এই করোটিটি রাণা প্রতাপের অল্প বয়সের৷ তখন তিনি ছোট ছিলেন, তাই তাঁর করোটিও ছোট ছিল৷ তিনি যখন ৰড় হয়েছিলেন, তাঁর করোটিও ৰড় হয়েছিল, আপনি যেমন বলছেন স্যর.......কিন্তু সেই ৰড় করোটিটি আমাদের মিউজিয়ামে নেই ৷ কিন্তু স্যর,আমরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ সেটি জোগাড় করার জন্যে আমরা উদয়াস্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসছে বার যখন আপনার পদার্পণ হবে, তখন আপনাকে সেটা দেখাতে পারব৷

পিতৃ–আজ্ঞা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ–বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত–ডাল–তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ ৰাৰা খেতে বসে বলছে–রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা, দাইলনিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস 

বেটা বললে–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–দিৰারে কইসিলাম কয় গণ্ডা 

বেটা–আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ–দিস কত

বেটা–আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷

বাপ–এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা–এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ–ত্র্যাতাযুগে যে রামচন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন করস্৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস

বেটা–আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷ 

বাপ–দিস কত 

বেটা–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–তুমি পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন কর্স৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইরা তালা ৰাইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

 

জৈনগুরু বর্দ্ধমান মহাবীর

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

জৈনধর্মের প্রচারক বর্দ্ধমান ছিলেন এক ক্ষত্রিয়বংশের কনিষ্ঠপুত্র৷ ৫৯৯ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বৈশালীতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন৷ তাঁরও আগে আরো ২৩ জন জৈনধর্মের প্রচারক ছিলেন৷ এই জৈনধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঋষভদেব৷ জৈনধর্মের উল্লেখযোগ্য প্রচারক ছিলেন অজিত নাথ, অরিষ্ট নেমী আর পরেশনাথ৷ বর্দ্ধমানেরও দুশো বছর আগের প্রচারক ছিলেন পরেশনাথ৷ পরেশনাথের শিষ্যদের শ্বেতাম্বর আর বর্দ্ধমানের শিষ্যদের দিগম্বর বলা হয়৷ শ্বেতাম্বরা পরিধানের বস্ত্র ছাড়া আর সবকিছুই ত্যাগ করেন আর দিগম্বরা সবকিছুর সাথে পরিধানের বস্ত্রও ত্যাগ করেন৷ বর্দ্ধমান এই দুই সম্প্রদায়কে এক করেছিলেন বটে কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ বর্দ্ধমান ২৮ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করেন৷ ১২ বছর কঠোর তপস্যার পর তিনি কৈবল্য অর্থাৎ মোক্ষলাভ করেন৷ তখন তার নামকরণ হয় মহাবীর৷ আর তখন তিনি ‘জিন’ উপাধিতে ও ভূষিত হন৷

রাঢ় বাংলায় জৈনধর্মের যথেষ্ট প্রভাব ঘটেছিল৷ জৈনবাদ ও শৈবাদর্শ-পরস্পর তত্ত্বগত বিপরীত মুখী হলেও রাঢ়ের বুকে দীর্ঘকাল পাশাপাশি চলেছিল৷ রাঢ়ের একটি শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘আস্তিকনগর’৷ এ প্রসঙ্গে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘বর্দ্ধমানের নাম বার-এ দেওয়ান (লোকে গ্রহণ করেনি)৷ ‘বার -এ-দেওয়ান’ থেকে ইংরেজী ‘বার্ডওয়ান’ শব্দটি এসেছে৷ সুপ্রাচীন নাম বর্দ্ধমান আড়াই হাজার বছর ধরে চলে আসছে৷ নামটি জৈন ধর্মগুরু বর্দ্ধমান মহাবীরের নামে হয়েছে৷ শহরটির আরো প্রাচীন নাম ছিল ‘আস্তিকনগর’.. প্রাকৃতে অত্থিনগর (বর্ণবিজ্ঞান)৷

অহিংসা জৈনদের কাছে সব চেয়ে বড় জিনিস হলেও তা অবাস্তবতায় ভরা৷ যেমন, পাছে পথ চলবার সময় পায়ের চাপে জীবহত্যা হয়, সেজন্য সন্ন্যাসীরা সম্নার্জনী (ঝাঁটা) দিয়ে পথ পরিষ্কার করতে করতে চলেন৷ জল ছেঁকে খান৷ মধুপান করেন না৷ নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে জীবাণুর মৃত্যু হয়৷ সেজন্য নাকে কাপড় জড়িয়ে রাখেন৷ সেজন্য নাকে কাপড় জড়িয়ে রাখেন৷ আবার আত্মহত্যা মহাপাপ হলেও জৈনদের মর্ত্যে আত্মহত্যার দ্বারা জীবন বৃদ্ধি লাভ করে৷ যদি সন্ন্যাস জীবন যাপন সম্ভব না হয়, কামনা বাসনার নিবৃত্তি না হয় তাহলে আত্মহত্যা করার বিধান জৈন ধর্মে আছে৷ মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের জীবনে এমনটাই ঘটেছিল৷ শেষ বয়সে তিনি জৈনধর্ম গ্রহণ করেন, কিন্তু বাসনা নিবৃত্তি না হওয়ায় তিনি দাক্ষিণাত্যে আত্মহত্যা করেন৷ তবে বারো বছর সন্ন্যাসী জীবন যাপনের পর এই আত্মহত্যার বিধান আছে৷ নারীর প্রতি জৈনদের দৃষ্টিভঙ্গি এতই নীচ যে, নারী নাকি লোভের বস্তু৷ অতএব নারীসঙ্গ একান্তই বর্জনীয়৷ আবার কৃষিকার্যের ফলে মাটির নীচের পোকামাকড় মারা যায় তাই চাষ বাস ও নিষিদ্ধ৷

এইসব উদ্ভট বিধিনিষেধের জন্যই শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন--- ‘যদিও ‘জিন’ শব্দ থেকে জৈন শব্দের উৎপত্তি ও যার অর্থ হচ্ছে জয়ী হওয়া, সব কিছুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জয়ী হওয়া কিন্তু এই কূর্মভাবে তা কি করে সম্ভব? এজন্য প্রয়োজন প্রচণ্ড উৎক্ষেপণাত্মক সম্পেষণ৷ তাই জৈন মতবাদ মানুষকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, মানুষকে নিষ্কর্মের অন্ধ তমিশ্রার অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে৷’ (বাংলা ও বাঙালী)

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved