Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

কালিদাসের গল্প

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

মহাকবি কালিদাস কত বড় পণ্ডিত অথচ দেখতে ছিলেন অতিশয় কুৎসিত৷ গায়ের রং ছিলো কালো৷ চোখমুখও ছিল শ্রীহীন৷

তাই নিয়ে কালিদাসের বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনরা কালিদাসকে হামেশাই ঠাটা তামাসা করত৷ এমনকি রাজা বিক্রমাদিত্য পর্যন্ত৷

একদিন রাজা বিক্রমাদিত্য কৌতুক করে বললেন, কালিদাস, তুমি এত বড় পণ্ডিত অথচ লোকের কাছে তোমার পরিচয় দিতে সত্যি লজ্জা করে৷ কালিদাস কারণ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন৷

তখন বিক্রমাদিত্য বললেন, তোমার যা কদাকার চেহারা৷ কালিদাস লজ্জা পেয়ে সসঙ্কোচে বললেন, ওটা ঈশ্বরের হাত৷ তবুও রাজা তার রূপ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েন না৷

কালিদাস নীরবে সব সহ্য করেন৷ তিনিও সুযোগের অপেক্ষায় আছেন৷ একদিন রাজা রাজপ্রাসাদে তার নবরত্নকে নিয়ে শুয়ে আছেন৷ তখন গ্রীষ্মকাল৷ অসহ্য গরম৷ রাজার ঘন ঘন পিপাসা পাচ্ছে৷ আর কালিদাস বারবার রাজাকে মাটির কুঁজো থেকে জল এনে খাওয়াচ্ছেন৷ কুঁজোর ঠাণ্ডা জল পান করে রাজা বেশ তৃপ্তিলাভ করছেন৷

রাজা একসময় বিরক্ত হয়ে বললেন, কালিদাস এক কাজ কর৷ আমার সোনার ঘটিতে বরং এক ঘটি জল এনে শিয়রের কাছে রেখে দাও৷ তেষ্টা পেলে আমি নিজেই নিয়ে খাব৷ তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না৷ কালিদাস তাই করলেন৷

‘কিছুক্ষণ বাদেই রাজার গলা শুকিয়ে গেল’৷ ঘটিটা নিয়ে জলে এক চুমুক দিতেই রাজার মুখ বিকৃত হয়ে গেল৷ তিনি কালিদাসকে বললেন, বড্ড গরম হয়ে গেছে জলটা৷ তুমি বরং কুঁজো থেকেই জল এনে খাওয়াও৷

কুঁজোর ঠাণ্ডা জল খেয়ে রাজা বেশ আরাম পেলেন৷ তখন কালিদাস বললেন, দেখলেন তো মহারাজ অমন সুন্দর সোনার ঘটির জল আপনার কাছে বিস্বাদ লাগলো৷ আর সামান্য বিশ্রী মাটির কুঁজোর জল খেয়ে আপনি তৃপ্তি পেলেন৷ এবার বলুন তো কোন টা বড় বাহ্যিকরূপ না ভেতরের গুণ৷

রাজা কোন কথা বললেন না৷ শুধু মুচকি হাসলেন৷

 

 

  • Log in to post comments

শতরূপে বিরাজিছ

শতরূপে বিরাজিছ

 

কৌশিক খাটুয়া

দুঃখের বেশে এসেছো জীবনে 

 ভেবেছো পারিনি চিনিতে,

‘দুঃখকে’ সুখে স্বাগত জানিয়ে 

 দ্বিধা করিনি তো বরিতে!

দুঃখের পাঁচালী সুখের আবরণে 

 হৃদয়ে সঙ্গোপনে,

নাইকো প্রয়াস দুঃখ নিবারণে 

 মনে রাখি সযতনে৷

 

 হর্ষ-বিষাদ তব দুই রূপ 

 সমভাবে জানাই স্বাগত,

খুলে দিনু দোর আলোকিত ভোর

 বিভাবরী হলো বিগত!

হৃদয় কুঞ্জে নিয়েছো যে ঠাঁই 

 সব আবিলতা সরিয়ে,

 মরুদ্যানে ফুটিয়েছো ফুল 

 নিরস হৃদয় ভরিয়ে৷

 

ছিনু অচেতনে জড়-বন্ধনে

 জাগতিক সুখ সন্ধানে,

নিত্য প্রয়াস বৃথা অভিলাষ 

 সময় অতিবাহিত ক্রন্দনে৷

 

 চিরন্তন সুখ কারে যেন কয়

জাগালে সে’’ বোধ তুমি দয়াময়,

অহেতুক কৃপায় শুভ চেতনায় 

 চিত্তে দিয়েছ দোলা,

 তোমাকেই খুঁজি ভিতরে বাহিরে 

জানি ঘিরে মোরে আছো চারিধারে 

 শতরূপে আছো জগৎ মাঝারে 

 তবু কেন মন উতলা!

 

স্রোতস্বিনী আজও কলতানে ----

 চলার পথে ভরায় গানে,

গতিধারা তার হলো পথ হারা 

 নীল জলধির টানে৷

তোমার পথে পথ হারাতে

 মুক্ত জগৎ-বন্ধনে,

জীবনতরী যায় ভেসে যায় 

 সুধা সাগর সন্ধানে!

 

স্মিত হাসিতে মোহন বাঁশিতে 

 স্থবির চিত্ত দোলে

সুপ্তি কাটিয়ে প্রেরণা যোগাও

 গোপনে অন্তরালে,

সমুখে চলার উপল পথে

 হাতটি তোমার রেখো হাতে,

মুক্তি মন্ত্রে আলোকজ্জ্বল

 গহন তমিস্রাতে!

তুমি আপনা হইতে এসেছ যখন 

বাহিরে যাওয়ার কিবা প্রয়োজন,

মম অন্তর তব আনন্দ নিকেতন 

হেথা হতে হোক সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ!

 

 

  • Log in to post comments

গদ্দী মেঁ কৌন্ হ্যায়

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

মানুষ আরামের অন্বেষণ করে৷ তাই এই অর্থে ‘ঢুণ্ঢ’ড করে যে ‘ঢ’ শব্দ পাই তার একটা অর্থ হ’ল আরামের উপকরণ (ভাবারূঢ়ার্থ), যোগারূঢ়ার্থে ‘গদি’৷ গদি বলতে ৰোঝায় যা শয়নকে বা উপবেশনকে আরামদায়ক করে দেয়৷ খাটের তোষকের নীচে যে গদি ব্যবহার করি ৰা চেয়ারের ওপর যে গদি ব্যবহার করি তার জন্যে ‘ঢ’ ব্যবহার করা যেতে পারে৷

উত্তর ভারতে সাধারণতঃ ‘গদ্দা’ ব্যবহূত হয়৷ তবে ‘গদ্দী’ শব্দে ব্যবহার যে নেই এমন নয়৷ তবে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ‘গদ্দী’ বলতে ৰোঝায় দোকানদার যেখানে বসে তার কাগজপত্র দেখে বা হিসেব–নিকেশ করে সেই স্থানটি অর্থাৎ অফিস৷ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অফিসকেও গদ্দী বলা হয়৷ গদ্দীর কথায় শেঠজীর সেই গপ্পটাও মনে পড়ে গেল৷ 

শেঠজীর বাড়াবাড়ি অসুখ........মৃত্যুশয্যায়৷ বাড়ীতে কান্নার রোল উঠেছে৷ খবর পেয়ে শেঠজীর পাওনাদারেরা উদ্বিগ্ণ৷ শেঠজীর অধমর্ণদের মুখে আনন্দের পাতলা ঝিলিক, যেন জল মেশানো ভেজাল দুধের পাতলা সরটি৷ শেঠজীর পুত্রেরা শশব্যস্ত হয়ে বিক্রয়কর, আয়কর ও আৰগারী বিভাগের খাতাপত্র সামলাতে ব্যস্ত৷

শেঠজী মরণাসন্ন৷ সেদিনকার মত গদ্দী ৰন্ধ করে তাঁর সাত ছেলে করজোড়ে শয্যাপার্শ্বে এসে দাঁড়াল৷ শেঠজী নাম করে করে তাদের খবর নিতে লাগলেন৷ প্রথমে খোঁজ করলেন প্রথম পু–ের৷ শেঠজী বললেন– রামনজ র হাজির রামনজ র হাত জোড় করে বললে–জী পিতাজী, হাজির৷ এবার দ্বিতীয় পু–ের খোঁজ করে বললেন–রামপরীক্ষণ হাজির৷ রামপরীক্ষণ বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁয় উপস্থিত হুঁ৷ এবার তৃতীয় পু–ের খোঁজ নিয়ে শেঠজী বললেন–রামসুরথ হাজির রামসুরথ বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁয় আপকা চরণ–কমলোঁ মেঁ হুঁ৷ এবার চতুর্থ পু–ের খোঁজ নিয়ে শেঠজী বললেন–রামসিংহাসন হাজির রামসিংহাসন বললে–জী পিতাজী, আপকা দাস হাজির৷ এবার পঞ্চম পু–ের খোঁজ নিয়ে বললেন–রামইক্ৰাল হাজির রাম ইক্ৰাল বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁ আপকা চরণোঁ মেঁ হুঁ৷ এবার ষষ্ঠ পু–ের খোঁজ নিয়ে বললেন–রামবেশন হাজির রামবেশন বললে–জী পিতাজী, দাস উপস্থিত হ্যায়৷ এবার সপ্তম পু–ের খোঁজ করে শেঠজী বললেন–রামনুঠা হাজির রামনুঠা বললে–দাস আপকে সেবা মেঁ হাজির হ্যায়৷ এবার শেঠজী ক্রোধে অগ্ণিশর্মা হয়ে বললেন–তুমলোগ সাতোঁ ভাই ইহাঁ পর হাজির হো তো গদ্দী মেঁ কৌন হ্যায় শেঠজী রাগে গর্জন করতে থাকায় হূদপিণ্ডের ক্রিয়া ৰন্ধ হয়ে গিয়ে শেঠজীর মৃত্যু হ’ল৷ 

হ্যাঁ, তাহলে ৰুঝলে বাংলা ‘গদি’ ও উত্তর ভারতের ‘গদ্দী’ এক জিনিস নয়৷ একটার সঙ্গে অপরটা তোমরা গুলিয়ে ফেলো না৷

 

মানুষের দায়

কৌশিক খাটুয়া

জঙ্গল কেটে সাফ করে শুরু 

 নগরের পত্তন,

অজ্ঞাতসারে আহ্বান জানাই

 মরুভূমির জাগরণ!

অনাবৃষ্টির করাল গাসে

 মাটি ফেটে যায় খরায়,

তরুলতা বন বিশুষ্ক মন

 সব সজীবতা হারায়৷

বায়ু দূষণের প্রাদুর্ভাবে 

 হারায় পরাণ বায়ু,

জীব, নরকুল, বনজ অকালে 

 হারায় তাদের আয়ু!

 একটি গাছ--একটি প্রাণ,

সে’ গাছ লাগিয়ে হও সুমহান৷

যে গাছ মোদের দেয় ফুল ফল,

 পক্ষীর নীড়, ছায়া তরুতল,

সেই তরুতলে সকালে বিকালে 

 ভালবেসে দিও জল,

কৃতজ্ঞতায় বিনিময়ে তরু

 দেয় ফুল ফল পরিমল!

 

  • Log in to post comments

হৃদিরেখা

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

নাম গোত্র পরিচয়হীন 

তুমি এক হৃদিরেখা

চলেছো সবে মাধুরী বিলায়ে

দিয়ে ক্ষণিক দেখা৷

কার আদেশে আসিয়া ভবে

গড়ে তোল সংসার

নিঃশেষে প্রাণ বিলিয়ে চলো 

মানে সবে তাই হার৷

কলা কৃষ্টি নৃত্যগীতে

হরষিত করি সবে

জাগাও তুমি চেতনা মনে

আসিয়া এ ভবে৷

ভাবতরঙ্গে বহিয়া চিতে

শোনাও মাধুরী সুর

মদালসারূপে জাগিয়ে প্রাণে

আনো সমাজ ভোর৷

ঘনঘোর যত সরিয়া গিয়াছে

এল’ চাঁদনী রাত

রূপালী-রঙে সাজালে সবে

নহে আর অশ্রুপাত৷

নদের নিমাই ভাবস্রোতে মেতে

বাঁচালো মানবতা

তরুলতাদেরও বাঁচাতে হবে

নাশিতে দানবতা!

 

  • Log in to post comments

বাঙালীস্তানের গান (২৭)

সাক্ষীগোপাল দেব

সংগ্রাম সংগ্রাম শুরু হলো সংগ্রাম

বন্ধু থেকো না আর বসে

দিন আগত ঐ পাপীরা মরবে জেনো৷

জনতার সীমাহীন রোষে৷৷

 

ঐ শোন শশ্মানের চিতা থেকে ভেসে আসা

শোকার্র্ত্ত জননীর ক্রন্দন

মুক্ত হয়নি আজও কারার আঁধারে থাকা

হাজার ভাই-এর লৌহ বন্ধন

প্রতিভার কত কুঁড়ি শোষণের দাবদাহে

পড়ে গেল একে একে খাস৷৷

 

একটি বুলেট বেঁধে নাণ শুধু 

তরতাজা তরুণের বুকে

একটি জননী নয় হাজার মায়ের বুক

ভেসে গেছে সন্তান হারানোর দুঃখে

একটি জননী যদি সন্তান হারা হয়

হারিয়েছে আমাদেরই দোষে৷৷

সামনে রয়েছে জেনো বাধার পাহাড় ওই

পিছনেতে রক্তিম সূর্য

হাজার সূর্য শিশু ডাকিছে তোমায় আজ

ঐ শোন বাজে রণ তূর্য্য

এসো তবে পৃথিবীটা প্রাউটের আদর্শে

গড়ে তুলি থেকো নাকো বসে৷৷

 

  • Log in to post comments

পর্বতের মূষিক প্রসব

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যে কথা আগে বললুম, কুক্কুর বর্গীয় ও মার্জার বর্গীয় জীবেদের সম্বন্ধে যে কথা খাটে কতকটা সেই কথাই খাটে উদ্ভিদ বর্গীয়ের সম্বন্ধেও৷ 

আমার জানা এক বসু মহাশয় সাত সমুদ্র তের নদী ঘুরে শেষ পর্যন্ত এসে বসলেন পৈত্রিক ভদ্রাসনে৷ ৰর্ধমান জেলার রায়না থানার পলাশন গ্রামে৷ ভদ্রলোক ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই দারুন রকমের ৰৃক্ষপ্রেমিক৷ এধরণের ৰৃক্ষপ্রেমিককে তাইলা্যণ্ডে ‘ৰৃক্ষশ্রী’ উপাধি দেওয়া হয়, ভারতে দেওয়া হয় ‘কৃষিপণ্ডিত’৷ সেবার ভদ্রলোক গ্রামে এসে গাছের ক্যাটালগ দেখে বিভিন্ন দেশ থেকে সেরা সেরা গাছ আনতে লাগলেন ও বর্ধমান জেলার মাটিতে তাদের ফুলোতে ও ফলাতে থাকলেন৷ একৰার তিনি শুণলেন এক অদ্ভুত রকমের ফুলের কথা৷ ফুলটির রঙ শ্বেত শুভ্র (ত্তন্প্তন্সম্ভ ভ্রড়ন্ব্ধন্দ্ব)৷ পাপড়িগুলো সাজানো কতকটা যেন গোলাপের মত৷ গন্ধে আকাশ বাতাস মধুময় হয়ে ওঠে–গাছে দারুণ আঠা৷ আঠার ফলে চোরেরা ফুল তুলতে সাহস করে না৷ অর্থাৎ এই ফুল একদিকে যেমন বাগানের শোভা বর্দ্ধন করে অন্যদিকে তেমনি তস্করের হাত থেকে নিজেই নিজেকে রক্ষা করে৷ দক্ষিণ আমেরিকার একটা বিশেষ গ্রীষ্মপ্রধান আর্দ্র অঞ্চলে এদের বাস৷ এদের বাঁচাতে গেলে শিশুকালে তালপাতা কিংৰা কলাপাতার ঠোঙা দিয়ে সকাল দশটা থেকে চারটে পর্যন্ত ঢ়াকা দিয়ে রাখতে হয়৷ এদের গায়ে সন্ধ্যায় ফুরফুরে হাওয়াও লাগাতে হয়৷ এ্যামোনিয়া সারের সঙ্গে সর্ষের খইল ও তার সঙ্গে কম্পোজ সার সমপরিমাণে মিশিয়ে চালুনিতে ভালভাৰে চেলে সমপরিমাণ ৰোন–ডাষ্ট মিশিয়ে শতকরা পাঁচ ভাগ গ্যামাক্সিন মিশিয়ে শেকড়ের আশপাশে ছিটিয়ে দিতে হয়৷ তবে শেকড়ের এক ইঞ্চি দূরত্বের মধ্যে ওই সার থাকা চলে না৷ 

ভদ্রলোক স্ত্রীকে ৰললেন, ‘‘শুণছ গো, গাছ নিয়ে নোতুন একটা গৰেষণা করার সুযোগ এল৷ আমাদের বদ্দমান জেলায় যা কেউ কখনও দেখে নেই এৰার তেমনটি হৰ্যে’’৷ ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা রবাণা হয়ে গেলেন৷ চার পাঁচদিনের মধ্যে ফিরে এলেন৷ এসে ৰোসগিন্নীকে ৰললেন, ‘‘দেখ এৰার সাগরসেঁচা মাণিক আননুম্৷ ৰদ্দমানের মাটিতে সেই মাণিকের গাছ হৰ্যে’’৷ 

ভদ্রলোকের কাজেকর্মে কোনখানটিতে তিলমাত্র খুঁৎ রইল না৷ প্রাণ ঢ়েলে ৰীজগুলোকে তোবাজ করতে লাগলেন৷ অনেক কষ্ট করে সার সংগ্রহ করলেন৷ বোসগিন্নী ওই সারকে চালৰার জন্যে ৰর্ধমান–রাণীগঞ্জ ৰাজার থেকে বিশেষ ধরণের মিহি চালুনি আনালেন৷ ভদ্রলোক সন্ধ্যের সময় নিয়মিতভাবে ৰীজতলার পাশে বসে সিঙ্গুর থেকে কিনে আনা তালপাতার পাখায় বাতাস করে যেতে থাকলেন৷ কাঁধের গামছাটা মধ্যে মধ্যে বাঁ হাতে তুলে নিয়ে ঘাড়–মাথা–কপাল–মুখ্ ঘাম মুছে যেতেন৷ মধ্যে মধ্যে চশমাটা খুলে নিয়ে ভাপে ঢ়াকা কাঁচ দু’টো ধুতিতে মুছে নিতেন৷ এই গলদ্ঘর্ম অবস্থা ৰোস মশায়ের চলেছিল ৰেশ কিছুদিন ধরে৷ যখন ভদ্রলোকের মনে হত সিঙ্গুরের ছোট পাখায় আর শাণাচ্ছে না তখন তারকেশ্বরের গাজনের মেলা থেকে কিনে আনা ৰিরাট আকারের তালপাতার পাখা দিয়ে দু’হাতে ক’রে হাওয়া করে যেতেন৷ 

যথাকালে ৰীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হ’ল৷ ভদ্রলোক ৰড় করে একটা সত্যনারায়ণ দিলেন৷ গাঁ শুদ্ধ লোক পেসাদ পেয়ে গেল........শুভেচ্ছা জানাল, ওই দক্ষিণ আমেরিকার ফুলের গাছের অঙ্কুর যেন তাড়াতাড়ি বের হয়৷ গাছের পাতা এলে যেন তাদের অৰশ্যই ডাকা হয়৷ ফুল দেখৰার নেমতন্ন যেদিন করা হৰে সেদিন যেন আরো একৰার একটা ৰড় করে সত্যনারায়ণ দেওয়া হয়৷ 

ৰোসৰাৰু ৰললেন, সে আর ৰলতে! যেদিন ৰীজ থেকে অঙ্কুর ৰেরুৰে ৰুঝতে হৰে আমার মানব জীবন সার্থক হয়েছে৷ যেদিন পাতা বেরুৰে সেদিন আমার নয়, গোটা বদ্দমান জেলার সকলের মানব জীবন সার্থক হয়েছে, আর যেদিন ফুল আসৰে সেদিন আমাদের অক্ষয় স্বর্গবাস৷ 

যথাকালে পাতা বেরুল৷ ৰোসমহাশয় স্বগতভাবে ৰললেন এমন পাতা কোন স্বপ্ণলোকে কখনও কোথাও দেখেছি দেখেছি ৰলে মনে হচ্ছে৷ ৰসুগৃহিণী মনে মনে ৰললেন–এই ধরণের পাতা আমার ৰাপের বাড়ীতে কোন্নগরের মিত্তির বাড়ীর পেছনের দিকে আস্তাকুঁড়ের পাশে যেন দেখেছি একথা মনে হচ্ছে৷ তবে আস্তাকুঁড়ের পাশে দেখেছি একথা তো কত্তাকে ৰলতে পারি না৷ যাই হোক কত্তাকে চেপেই যাই৷ 

গাছটি আরও ৰড় হ’ল৷ বসু মহাশয় পাড়ার লোকদের কোন খৰর দিলেন না, কারণ তার মনে যেন কেমন কেমন ঠেকছে৷ 

বসুমহাশয় ৰললেন, ‘‘গিন্নী, আমারও যেন কেমন কেমন লাগছে৷ তৰে এখন কথাটি না ৰলাই ভালো৷ কিছুদিন আর মুখ খুলো না, ফুল আসুক তখন দেখা যাৰে৷’’ 

দেখতে দেখতে গাছে কুঁড়ি এল৷ ভদ্রলোকের বুকের ধড়ফড়ানি ৰেড়ে গেল৷ ৰসু গিণ্ণী ৰললেন, ‘‘কত্তা আমারও শরীরটা যেন তেমন ভাল লাগছে না৷ রগ টনটন করছে .....কেমন গা ৰমি ৰমি করছে........অম্লশূলের ব্যথাটা যেন কেমন চেগে উঠেছে৷ আমি কপালে গামছা বেঁধে একটু শুয়ে পড়ি৷ 

পরদিন সকালের কথা৷ রোজ ভোরে বসুমশায় গিণ্ণীকে ডাকেন–এসো গো, চল গাছ দেখি গে৷ আজ আর গিণ্ণীকে ডাকলেন না৷ নিজেই ধীর পায়ে বাগানে গাছটির কাছে ৰসলেন৷ গাছটির কাছে আসার সময় তার আর পা সরছিল না–হাঁটু নড়ছিল না৷ গাছের পাশে এসে তিনি আস্তে আস্তে ৰসে পড়লেন৷ 

ফুল এসেছে৷ শুধু একা আসেনি৷ সঙ্গে নিয়ে এসেছে বসু পরিবারের জন্যে হতাশার হিমালয়৷ ভদ্রলোক না ডাকলে কি হৰে, বসুগিণ্ণী নিজের থেকেই এলেন৷ রগে তখন গামছা ৰাঁধা৷ গাছটির কাছে এসে তিনি ধপাস করে পড়ে গেলেন ৷ ভাগ্যিস বসুমশায় পাশেই ছিলেন, তাই তিনি গিণ্ণীর হাত ধরে ফেললেন৷ নইলে গিণ্ণী তো মুখথুবড়ে গাছটির ওপরেই পড়ে যেতেন৷ 

কর্ত্তার চোখে জল......গিণ্ণীর জীর্ণ মুখে হতাশার কাজল চিহ্ণ৷ এত কষ্ট করে, এত সার দিয়ে, এত পাখার বাতাস করে ঘটা করে সত্যনারায়ণ দিয়ে যে গাছটিকে আজানুম,সে যে আমাদেরই আস্তাকুড়ের পাশে অযত্নে গজিয়ে ওঠা ঘেঁটু ফুল৷ 

গিণ্ণী ৰললেন, ‘‘ঘেঁটুফুল গো ঘেঁটুফুল৷’’

কর্ত্তা ৰললে, ‘‘ঘেঁটুফুল গো ঘেঁটুফুল৷’’

কর্ত্তা ৰললে, ‘‘ভাল ৰাংলায় যাকে ৰলি ঘণ্টাকর্ণ’’৷

যাই হোক যে কথা জীবজগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উদ্ভিদ জগতের ক্ষেত্রেও তাই প্রযোজ্য.......ৰুঝলে!   

(শব্দ চয়নিকা, ১১/১৯১)

 

 

কান্ত কবি রজনীকান্ত

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

১৯০৫ সাল৷ ভারতের বড় লাট তখন লর্ড কার্জন৷ তিনি বাংলাকে দুইভাগে ভাগ করলেন৷ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও আসামকে একটি নতুন প্রদেশে পরিণত৷ করলেন৷ উক্ত প্রদেশের নাম হ’ল পূর্ববঙ্গ ও৷ আসাম৷ তার জন্য আলাদা শাসনকর্তা নিযুক্ত হ’ল৷ সেই সময় বিহার ও উড়িষ্যা বাংলার শাসনকর্তার দ্বারা শাসিত হতো৷ তাতে শাসনকার্যে নাকি নানারকম অসুবিধা হতো৷ সেই অজুহাতে অর্থাৎ শাসন কার্যের সুবিধার্থে বাংলাকে ভাগ করা হ’ল৷ তখন বাংলার জাতীয়তাবাদী নেতারা এই বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন৷ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুরু করলেন প্রবল আন্দোলন৷ বড়লাট যখন বললেন,‘Partition of Bengal is a settled ifact’’. উত্তরে সুরেন্দ্রনাথ বললেন,‘I will unsettled the settled fact’’ সারাদেশ জুড়ে দেখা দিল প্রবল উত্তেজনা৷ শুরু হ’ল অত্যাচার নির্যাতন আর নির্বিচার ধরপাকড়৷ তথাপি জাতীয় চেতনায় সমগ্র দেশ উত্তাল৷ প্রত্যেক দেশবাসী বিদেশী পণ্য বর্জন করতে লাগলো৷ কোলকাতার স্কুলের ছেলে মেয়েরা মিছিল বের করে গান গাইতে গাইতে চললো :

‘‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই 

দীন-দুখিনী মা-যে তোদের 

তার বেশি আর সাধ্য নাই৷

কচি কচি ছেলে মেয়েদের মিষ্টি গলার করুণ সুরে আকাশ বাতাস মূহ্যমান৷ মিছিলের পুরোভাগে চলেছেন এক খ্যাতনামা কবি৷ তাঁরই লেখা এই গান৷ সেদিন স্বরচিত স্বদেশী গান শুনে তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন৷

এই কবিই হলেন কান্তকবি রজনীকান্ত-সেন৷ পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার, ভাঙাবাড়ি নামক গ্রামে ১৮৬৫ খৃস্টাব্দের ২৪ জুলাই সম্ভ্রান্ত বৈদ্যবংশে তাঁর জন্ম হয়৷ পিতার নাম গুরুপ্রসাদ সেন, মাতা মনোমোহিনী দেবী৷ ১৮৯১ সালে বি.এল পাশ করে তিনি রাজশাহী কোর্টে ওকালতি শুরু করেন৷ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তাঁর রচিত গান দেশবাসীর মনে প্রচুর উদ্দীপনা- সঞ্চার করেছিল৷ তাঁর ‘‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই’’ অতুলনীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল৷ ‘‘বাণী’’, ‘‘কল্যাণী’’ ইত্যাদি তাঁর কাব্য ও সঙ্গীত গ্রন্থ৷ তিনি ‘‘কান্তকবি’’ নামেই লোক-সমাজে সমধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন৷

 

 

  • Log in to post comments

আলোর দেবতা

কৌশিক খাটুয়া

মম দৃষ্টিতে সবাই সমান

 কেহ নয় অভাজন,

সবাই আমার পরমাত্মীয় 

 বন্ধু ও পরিজন৷

 পরমপিতার অসীম আধারে

জীব-নির্জীব সবাই আশ্রিত,

 প্রীতি বন্ধনে আবদ্ধ হলে 

 সৃষ্টিকর্তা হবেন প্রীত!

 

জ্যোতির্ময়ের জ্যোতিরালোকে

 রবিও আহ্লাদিত,

রবির জ্যোতিতে শশীর উচ্ছ্বাস

 জ্যোৎস্নায় ধরা প্লাবিত৷

মিটি মিটি করে তারারা আকাশে

 জোনাকির আলো বনে,

আলোর দেবতা মগ্ণ রয়েছে 

 আলোর বিচ্ছুরণে!

 

দামিনী ঝলক প্রলয়োল্লাস 

 তাঁহার রুদ্র প্রকাশ,

কুয়াশা অমানিশা কোথায় হারায় 

 রাঙা হলে পূবাকাশ!

অন্তর যবে আলো করে রবে

 আলোর দেবতা মম,

আলোর ঝলকে অসীম পুলকে 

 দেখা দাও প্রিয়তম!

 

গহন কৃষ্ণ বিভাবরী শেষে

 আলো ঝলমলে ভোর,

হৃদাকাশ মোর আলোকিত করে

 খুলিয়া হৃদয়-দোর৷

 সবার মধ্যে তাঁহার প্রকাশ

হৃদয়-কুসুম ঢালিছে সুবাস,

 নানা রূপে সাজে বিবিধের মাঝে 

 রয়ে গেছে শত মানবিক কাজে

সব সাফল্যের নেপথ্যে যে’’ জন

 নিজেরে রাখে গোপন,

অপলকে যিনি চেয়ে মোর পানে

 সে আমার প্রিয়জন!

 

এসেছে আজিকে আলোর দেবতা,

নিয়ে আগামী দিনের আলোর বারতা,

 কুসুম কাননে ভ্রমর গুঞ্জনে 

 নদী কলতানে পাখীর কুজনে 

 জগৎ কর্মমুখর৷

নয়ন মেলিয়া দেখ চারিধার

 রাঙা হলো পূব-অম্বর,

ধরা জাগরণে নিশি অবসানে 

 হাসিছে সোনালী ভোর!

 

 

  • Log in to post comments

দৃঢ়চেতা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বেশি দিনের কথা নয়, তখন আমাদের দেশ ব্রিটিশ শাসনে শাসিত৷ স্থানটার নাম সুজা মুটা৷ সেটেলমেন্ট অফিসের এক বাঙালী অফিসার বদলি হলেন এই জায়গায়৷ নতুন কাজে হাত দিয়েই তার চক্ষু স্থির৷ তিনি দেখলেন সেটেলমেন্টের অন্যান্য অফিসাররা জমির জরিপ সংক্রান্ত ব্যাপারে অন্যায় ভাবে বেশি খাজনা আদায় করছেন৷ 

ক্ষুব্ধচিত্তে বাঙালী অফিসারটি এই অসৎ কাজের বিরুদ্ধে হাতিয়ার ধরলেন৷ বেআইনিভাবে বেশি খাজনা আদায় করা তিনি আইনের সাহায্য বন্ধ করে দিলেন৷

ফলে জেলার সাহেব অফিসাররা তার ওপর গেলেন ভীষণ খেপে৷ নিরুপায় হয়ে তারা গিয়ে আপিল করলেন জাজ এর কাছে৷ 

জজ বাঙালি অফিসারের বিরুদ্ধে রায় দিলেন আর ছোট লাট স্যার চার্লস ইলিয়ট তাকে ডেকে পাঠালেন অপমান করবার জন্য৷ একজন সামান্য বাঙালী অফিসারের স্পর্ধাকে তিনি এক ধমকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন৷ 

কিন্তু ছোট লাট তো দূরের কথা, বড়লাটকেও ভয় পাবার মত দুর্বল মানুষ বাঙালী অফিসারটি নন৷ তাই তিনিও মুখের ওপর দীপ্ত স্বরে বলে ফেললেন স্যার আপনি বরাবর পাঞ্জাবে ছিলেন অতএব বাংলাদেশের জরিপ সংক্রান্ত আইন কানুন আপনার কিছুই জানা নেই সুতরাং যা জানেন না তা নিয়ে তর্ক করবেন না৷ 

কি---ছোট লাট ‘ল’ জানেন না৷ সামান্য একজন বাঙালীর মুখে এত বড় কথা৷ 

তাই আবার মামলা শুরু হল, এবার কিন্তু জজ সাহেব বাঙালী অফিসারের পক্ষেই রায় দিলেন৷ তার মতকেই জজ সাহেব সমর্থন করলেন৷ ফলে বাঙালী অফিসারের চাকরিটা রক্ষা পেল৷ জমির খাজনা বেশি আদায় করাও বন্ধ করা গেল৷ 

কিন্তু তাঁর চাকরিতে আর পদোন্নতি হলো না যারা নেয়নিষ্ঠ নীতিবাদী তারা বহুজনের স্বার্থে আপন ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে সবসময় প্রস্তুত৷

বলতে পারো এই দৃঢ়চেতা বাঙালি অফিসারটি কে? ইনিই হলেন আমাদের প্রিয় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়৷ জন্ম কৃষ্ণনগর নদিয়া৷ প্রখ্যাত কবি ও নাট্যকার৷ ডি এল রায় নামে সমাধিক পরিচিত৷ জন্মদিন ১৯ শে জুলাই ১৮৬৩ সাল, মৃত্যু ১৭ই মে ১৯১৩৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved