প্রভাতী

উপস্থিত ৰুদ্ধি

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘তন্’ ধাতুর অর্থ হ’ল ৰেড়ে যাওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া৷ যে মানুষ তার ভাবধারাকে নাচে–গানে অভিনয়ে–আবৃত্তিতে অভিব্যক্ত করতে পারে তার জন্যে ‘তন্’ ধাতুূড প্রত্যয় করে ‘ত’ শব্দ ব্যবহূত হয়৷ তাই এক্ষেত্রে ‘ত’–শব্দের একটি অর্থ হ’ল ণট বা অভিনেতা৷

অভিনেতার মধ্যেও অনেক সময় অদ্ভুত রকমের উপস্থিত ৰুদ্ধি দেখা যায়৷ সে বিচারে তিনি দু’দিক দিয়েই ‘ত’৷ অভিনয় জগতের ‘ত’–এদের উপস্থিত–ৰুদ্ধি সম্ৰন্ধে বা উপস্থিত ৰুদ্ধির স্বভাব সম্ৰন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে৷ দু’একটি গল্প তোমাদের শোনাচ্ছি ঃ

 সেটা তখন ইংরেজ আমল৷ আমি তখন দিনাজপুরে৷ উত্তর ৰাঙলার অন্যান্য শহরের মত দিনাজপুরও একটি মাঝারি রকমের ছিমছাম শহর ছিল৷ শহরটি ছিল আমার খুব প্রিয়৷ দিনাজপুর–বাসীর স্বভাবের একটি বৈশিষ্ট্য আমার খুবই ভাল লাগত৷ ওঁরা*(*ওনারা, যেনারা, তেনারা শব্দগুলি গ্রাম্য দোষে দুষ্ট৷ ওঁরা, যাঁরা, তাঁরা–ই শুদ্ধ ওনারা, যেনারা, তেনারা না লেখাই ভাল৷) ছিলেন খুবই নাচ–গান–ভিনয় প্রিয়৷ সেকালে স্থায়ী অভিনয়মঞ্চ কোলকাতার বাইরে আর কোনো শহরেই ৰড় একটা ছিল না৷ কিন্তু দিনাজপুরে তা–ও ছিল৷ কয়েকজন স্থানীয় অভিনেতা তখন রীতিমত প্রথিতযশা হয়ে পড়েছেন৷ কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের দিকেও থিয়েটারের রমরমা৷ সেই সময়টায় ওই দিকটায় ‘সীতা’ নাটকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে৷ সীতার ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি দু’হাতে যশ কুড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল সম্ভবতঃ আব্দুল লতিফ৷

সীতা নাটকের অভিনয় চলছে৷ শহরে হাজার হাজার গোরুর গাড়ীর ভীড়৷ গ্রামের লোক ঝেঁটিয়ে এসেছে অভিনয় দেখতে৷ হাতে পাট বেচার তাজা টাকা৷ দরকার পড়লে অভিনয়ের জন্যে ৰেশ কিছু খরচ করতেও তৈরী৷

অভিনয় চলছে৷ নাটক তার চরম স্তরে (climax) এসে পৌঁছেছে৷ এবার সীতার পাতাল প্রবেশ৷ ধরিত্রী মাতাকে সম্বোধন করে সীতাকে যা বলতে হবে তার মোদ্দা কথা হচ্ছে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, দ্বিধা হও, আমি তোমার  স্নেহময় অঙ্গে স্থানলাভ করি’’৷ আব্দুল লতিফে.র নাটকের ভাব ষোল আনাই জানা, ভাষাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠোঁটস্থ৷ এই বিশেষ স্থানটিতে সীতা ধরিত্রী মাতাকে সম্ৰোধন করে যা বলবেন তার ভাবটিও তাঁর জানা আছে৷ কিন্তু ভাষা একটু গোলমেলে হয়ে গেছে৷ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ‘‘মাতঃ বসুন্ধরে’’ বলার পরই স্মারকের (prompter) এসে গেল দারুণ কাশি৷ সে কাশির চোটে আর কথা বলতে পারছে না অথচ সীতা তো আর তার প্রত্যাশায় মুখ ৰন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সে তখন উপস্থিত ৰুদ্ধি প্রয়োগ করে বললে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, তুই ফাঁক হ, মুই ভিতরত্ ঢুকিম্’’৷

দেখলুম, এ জিনিসটা শ্রোতারা সহজেই গ্রহণ করলেন৷ নাটকের কিছুমাত্র রসভঙ্গ হ’ল না৷

নেতাজী প্রণাম

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্‌হা

নেতাজী, নেতাজী, আজাদ হিন্দ্‌ বাহিনীর নেতাজী

নেতাজী, নেতাজী, সকলের আদরের নেতাজী

বাঙলার মহান সন্তান তুমি, ভারতের গৌরব

বিশ্বনিখিলে সততঃ স্পন্দিত তোমার স্বদেশপ্রেমের সৌরভ

শতাব্দীর ধ্রুবতারা তুমি, যুগপুরুষ মহাবিপ্লবী

ত্যাগ-মন্ত্র বলে ভারতবাসীর বুকে এঁকেছিলে দেশাত্মবোধের ছবি

আসমুদ্র হিমাচল হয়েছে উত্তাল তোমারই অমোঘ আহ্বানে

লক্ষ লক্ষ বীর সৈনিক জেগেছে ‘জয় হিন্দ্‌’ গানে

বিদেশী শাসকের অমানুষিক নিপীড়ন আর পৈশাচিক অট্টহাস

কলঙ্কিত করেছে পৃথিবী ও সভ্য মানুষের ইতিহাস৷

অন্ধঘোর নিশীথের বক্ষ চিরে রক্তিম পূবের আকাশ

উদ্‌ভাসিত করলে যুগ সন্ধিক্ষণে, তুমি, সুভাষ৷

পুষ্পশোভিত নিঃশঙ্ক  জীবনের হাতছানি দিয়েছ বিসর্জন

কণ্টকাকীর্ণ রক্তাক্ত দুর্গম পথ হাসিমুখে করেছ বরণ৷

গগনভেদী হুঙ্কারে ভেঙেছে অত্যাচারীর পাষাণ কারাগার

কেঁপেছে শার্দূল-শয়তান, দুর্বার শক্তিতে তোমার

লালচক্ষু-ভ্রূকূটি অবহেলে, ধূর্ত শ্যেন দৃষ্টি দিয়েছ ফাঁকি

অভ্রংলেহী মদমত্ত বোঝেনি, তুমি বিধাতার এক অপূর্ব সৃষ্টি৷

তরুণ সমাজের আদর্শ তুমি, চির উন্নত শাশ্বত মৃত্যুঞ্জয়

যুব-মানসে যুগে যুগে সঞ্চার’ পৌরুষ অমর অক্ষয়৷

শুভ জন্মদিনে স্মরণে-বরণে জানাই শতকোটি প্রণাম আজি

নেতাজী, নেতাজী, অফুরন্ত যৌবনের অগ্রদূত নেতাজী

নেতাজী, নেতাজী, আপামর দেশবাসীর গর্বের নেতাজী৷৷

অথ খারো কাহিনী

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

কোনো নূতন শাড়ি–বাড়ি–গাড়ি আনলে অথবা হাঁড়িতে কোনো নূতন রান্না চাপালে লোকে চায় সে সম্বন্ধে অন্যে কিছু বলুক৷ কারণ নূতন অর্থে ‘কোরা’ মানেই যা ধ্বনিকে উৎসাহ দেয়৷ নূতন শাড়ি পরলে মন চাইবে প্রতিবেশিনী জিজ্ঞাসা করুন, ‘‘হ্যাঁ দিদি, শাড়িটা কবে কিনলে? কত পড়ল?’’ নূতন বাড়ি করলে ইচ্ছে জাগে, ৰন্ধু–ৰান্ধবরা বলুক, বাড়িটা ৰেশ হয়েছে৷ নূতন গাড়ি কিনলে ৰন্ধুর মুখ থেকে শুনতে চাইবে, ‘‘এটা কোন্ বৎসরের মডেল?’’ হাঁড়িতে রান্না চাপালে প্রশ্ণ অপেক্ষিতই থাকবে, ‘‘রান্না কোথায় শিখলি রে?’’

নতুনের সম্বন্ধে জানার আগ্রহ ও প্রশ্ণ পাওয়ার আগ্রহের কথা বলতে গিয়ে আমার সেই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ খারো গ্রামের ততোহধিক  প্রসিদ্ধ ঘটনাটির কথা মনে পড়ল৷ খারো একটি বিরাট সুশিক্ষিত গ্রাম৷ কিন্তু দুষ্টুলোকে বলে থাকে, বিদ্বান হলে কী হবে, গ্রামের ৰৌদ্ধিক মান বৈদুষ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি৷ যেদিন গ্রামেরপঞ্চাশৎতম ছেলেটি এম. এ. পাস করলে সেদিন গ্রামবাসীরা সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল যে এই উপলক্ষ্যে তারা একটি বিরাট উৎসবের আয়োজন করবে৷ পটনা থেকে লাটসাহেৰকে  আমন্ত্রণ জানানো হবে (তখন ইংরেজ আমল৷ রাজ্য ও রাজ্যপাল শব্দের প্রচলন হয়নি৷ বলা হত প্রদেশ ও প্রদেশের গভর্ণর বা ছোট লাটৰহাদুর)৷ যেমনটি ভাবা, তেমনটি কাজ ৷ খারো গ্রাম উৎসবমুখর  হয়ে উঠল৷ মিষ্টি হেসে লাটসাহেৰ সভাপতিত্ব করে গেলেন......উচ্ছ্বসিত ভাষায় খারো গ্রামের মানুষদের ঐতিহ্যের, তাঁদের বৈদুষ্যের উচ্চকণ্ঠে প্রশংসা করে গেলেন .....নিমন্ত্রিত হয়ে যেমনটি করতে হয়৷ লাটসাহেৰ বলে গেলেন, খারো গ্রাম সম্বন্ধে এদিক ওদিক দু’চারটে উল্টোপাল্টা কথা আমার কানে ভেসে আসত৷ অবশ্য সে সব কথায় আমি কখনই আমল দিইনি৷ আজ চাক্ষুষ দেখে গেলুম খারো গ্রাম সাংস্কৃতিক  দিক থেকে কত উন্নত৷ এখানকার মানুষের ৰৌদ্ধিক স্তর কত গগনচুম্বী৷ আমি রাজধানীতে ফিরেই এ সম্বন্ধে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দোব যাতে সমস্ত কটু সমালোচনার শেষ নির্যাসটুকুও শূন্যে মিলিয়ে যায়৷

লাটসাহেৰ ফিরছেন৷ তিনি গাড়িতে উঠে বসলেন৷ চারিপাশে অনেক শিক্ষিত তরুণদের ভিড়৷ লাটসাহেৰকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছে দেবার দায়িত্ব যে তরুণটি নিলেন তিনি আবার ত্ত.ট্ট.–তে তেরস্পর্শ (ত্র্যহস্পর্শ৷

তাঁর সহযোগী হিসেবে ছিলেন আরও দু’টি তরুণ৷ বৈদুষ্যে তারা এ বলে আমায় দ্যাখ, ও বলে আমায় দ্যাখ৷

চারিপাশে দিগন্তবিস্তৃত কৃষিক্ষেত্র.....ফসলে মাঠ লালে লাল৷ লাটসাহেৰ শুধোলেন–ওই লাল লাল ফলগুলি কী? সকলেই উৎসাহের সঙ্গে বলে উঠলেন–মরচাই......মরচাই (লঙ্কা,......লঙ্কা৷ হিন্দীতে ‘মীর্চ্’)৷

লাটসাহেৰ বললেন–বা ভারী সুন্দর দেখাচ্ছে তো তরুণেরা সমস্বরে ড্রাইভারকে বললেন–একটু থেমে যান ড্রাইভার সাহেৰ৷

তাঁরা সবাই মাঠের দিকে ছুটলেন৷ যিনি যতটা পারলেন লঙ্কা তুলে এনে বস্তাবন্দী করে লাটসাহেৰের পাশে রেখে দিলেন৷ বললেন–আমাদের অঞ্চলের লঙ্কা বিশ্ববিখ্যাত৷ ভারতের ও বহির্ভারতের নানান জায়গায় এই লঙ্কা গিয়ে থাকে৷ আপনি যে দয়া করে আমাদের গ্রামে এলেন ও দয়া করে লঙ্কাগুলোকে দেখলেন এতে এদের ‘লঙ্কা’ নাম সার্থক হ’ল৷ রাজধানী কিছুটা দূরের পথ৷ পথে কিছুটা একঘেয়েমি লাগতে পারে৷ এই টুকটুকে লাল লঙ্কাগুলো সঙ্গে দিলুম৷ যখনই মন চাইবে টুকটাক করে মুখে ফেলতে ফেলতে যাবেন৷ পথের ক্লান্তি এতে দূর হবে৷

লাটসাহেৰ বিস্ফারিত নেত্রে তাকিয়ে রইলেন৷

  *              *          *           *

এই সেই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ খারো গ্রাম৷ সেই গ্রামের নূতনের পরিচিতি সম্বন্ধে একটা গল্প মনে এল৷

গ্রামের ৰর্দ্ধিষ্ণু কর্ষক ও সুশিক্ষিত মার্জিতরুচি তরুণ শ্রীভূতনারায়ণ সিং মহাশয় তাঁর ৰন্ধু শ্রীভূতনন্দন সিং–এর সঙ্গে আলোচনা করে স্থির করলেন–তাঁদের গ্রাম এত উন্নত, কিন্তু গ্রামে কারো ঘড়ি নেই ৷ একটা ঘড়ি না কিনলে গ্রামের মর্যাদাই থাকে না৷ যেমন ভাবা তেমনি কাজ৷ সিংজী কিছুটা জমি বেচে ৫০০০ টাকা নিয়ে কলকাতায় এলেন৷ ঘড়িওয়ালাকে বললেন–এই ৫০০০ টাকা দিচ্ছি৷ তোমার দোকানের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘড়িটি আমি কিনতে চাই৷

দোকানদার খদ্দেরের  নাড়ীর গতি ভালভাবে ৰুঝে নিলেন৷ তিনি দোকানের সর্বশ্রেষ্ঠ একটা ছোট আকারের ঘড়ি সিংজীর হাতে তুলে দিলেন৷

সিংজী তাতে সন্তুষ্ট হবেন কেন তিনি দেখলেন, দোকানে ওই ঘড়িটির চেয়ে অনেক ৰড় ৰড় ঘড়ি রয়েছে৷ তিনি বললেন–৫০০০ হাজার টাকা দিয়ে এত ছোট আকারের ঘড়ি নিতে যাব কেন? সবচেয়ে ৰড় ঘড়িটি আমার পাওয়া উচিত৷

দোকানদার সেই সময়কার বাজারের সবচেয়ে সস্তা দামের হাতঘড়ি সিংজীর হাতে তুলে দিয়ে বললেন, এই ঘড়িটি থেকে আপনি দুই ধরনের কাজ পাবেন৷ প্রথমতঃ এতে সময় দেখতে পারবেন দ্বিতীয়তঃ প্রয়োজনবোধে ঘড়িটিকে ঢ়িলের মত ব্যবহার করে আঁৰ পাড়তে পারবেন৷ সিংজী তো মহা খুশী৷

সিংজী যথাসময়ে খারো গ্রামে ফিরে এলেন৷ দিবারাত্র........অষ্টপ্রহর.......চব্বিশ ঘণ্টা ঘড়ি পরে ঘুরে ৰেড়ান৷ যেখানেই দু’চার জনকে দেখেন পাঞ্জাবীর হাত গুটিয়ে সেইখানে গিয়ে পৌঁছেন৷ কিন্তু সিংজীর মন্দ ভাগ্য কেউ কখনও জিজ্ঞেস করে না–হ্যাঁ সিংজী, ঘড়িটা কবে কিনলেন?

একদিন শেষ রাতে সিংজী নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলেন৷ আগুন দেখে পাড়া প্রতিবেশীরা তো এলেনই, এমনকি ভিন্ গাঁয়ের মানুষও ছুটে এল আগুন নেবাতে৷ বাড়ির চারি পাশে মানুষের ভীড়৷ ও ধরনের জায়গায় দমকলের কোনো ব্যবস্থা ছিল না৷ তাই তখন শুধু শোনা যাচ্ছিল কতকগুলি ধবনি ঃ–আগুন–ওদিকে–এদিকে–বালতি–জল–আয়–যা ইত্যাদি, ইত্যাদি৷

                সিংজী যেখানেই দেখছেন ৪৷৫ জন লোক জড়ো হয়েছেন তিনি দৌড়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছোচ্ছেন৷ নিজের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলছেন–আগ লগীথী পাঁচ বাজকে পঁচপন মিনিট মে৷ ইয়হ্ ঘড়ি টাইম্ বী দেতী হৈ, ইস্সে আম ভী তোড়ে জা শকতে হৈ৷ সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে তিনি আবার আর একটা জটলার দিকে ছুটে যাচ্ছেন আর ওই  কথাই বলছেন৷ এদিকে আগুন যে নিবে এল শেষ প্রয়াস হিসেবে সিংজী দৌড়োতে দৌড়োতে আর একটা জটলার দিকে পৌঁছোলেন আর চীৎকার করে বলতে লাগলেন–আপনারা শুনেছেন আগুন লেগেছিল ৫টা বেজে ৫৫মিনিটে৷ এই ঘড়ি কত সুন্দর সময় দেয় কী বলব এ দিয়ে আবার আঁৰও পাড়া যায়......আগ লগী থী ৫ বাজকে ৫৫ মিনিট মে৷ ইয়হ্ ঘড়ি টাইম বী দেতী হৈ, আম ভী তোড়ে জা শকতে হৈ৷ হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে কে একজন বলে উঠল–আরে ঘড়ি কবে কিনলি?.....আর একজন বললে–কোত্থেকে কিনলি?.....আর একজন বললে–কত দাম পড়ল?......আর একজন বললে–ভারী সুন্দর তো

ৰাবু ভূতনারায়ণ সিং নিজ শিরে করাঘাত করে বললে–ইয়হ্ ৰাত অগর পহ্লে ৰোলতে তো কোন ৰুদ্ধু আগ লগানে জাতা৷

এই সেই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ খারো গ্রাম৷

ছাবিবশে জানুয়ারী

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

এলো ফিরে ফের বড় শুভ দিন

ছাবিবশে জানুয়ারী---

প্রদেশে প্রদেশে মিটুক বন্দ্ব

ঘুচে যাক আড়াআড়ি৷

হৃদয়ে হৃদয়ে হোক যোগাযোগ

প্রেমের আলিঙ্গনে,

মহামিলনের পূত আয়োজন

ভারতের বাতায়নে৷

আতুর জনের অশ্রুসিক্ত

মুখেতে জাগুক হাসি৷

দুঃখ-কাঁটার মাঝারে ফুটুক

আশা ফুল রাশি রাশি৷

নব চেতনায়  নব প্রেরণায়

জাগ্রত হোক সবে,

মিলুক আজিকে আত্মদানের

পবিত্র উৎসবে!!

বিবর্ত্তনের দিনে

লেখক
আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

চলছে মানুষ চক্রাকারে

কেহ কভু থামছে নারে

ভাগ্যচক্র খুলতে বুঝি

চলছে রণ এ সংসারে৷

জ্বলছে আগুন মনের মাঝে

সাজছে সব রণ সাজে

আসছে এবার দামাল ছেলে

প্রতিষ্ঠিতে ভুমা রাজে৷

বাঁচবে মানুষ বাঁচার মত

করছে না মায়া নত

প্রগতিশীল উপযোগতত্ত্বে

চলছে লড়াই অবিরত৷

গণবিক্ষোভ আন্দোলনে

মানুশ কারা নেবে চিনে

হিতের ভাবনা রাখছে যারা

বরে নে তায়ে এ দুর্দিনে!

গণের দায়িত্ব গণেশ নিলেন

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

তোমরা শুণেছ অথবা ছোটবেলায় তোমাদের জোর করে শোণানো হয়েছে বা ভয় দেখানোর জন্যে বলা হয়েছে যে ভূত বলে একটা অদ্ভুত জিনিস আছে৷ ছোটবেলায় যখন পিসিমার কোলে শুয়ে বা বসে হাত–পা ছুঁড়ে বলতে–দুধ খাব না, তখন পিসিমা একটা ভয়ের গল্প শোণাতেন৷ তখন ভয়ে হাত–পা নাড়া বন্ধ করে দিতে, পিসিমা হঠাৎ এক ঝিনুক দুধ মুখে ঢ়েলে দিতেন৷ সেই থেকে তোমার মনে শুরু হয়েছিল একটা ভূতের ভয়......একটা অজানা আতঙ্ক৷ এই ভূতেরা নাকি আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়ায়......গা ভাসিয়ে দেয় হাওয়ার গতিধারায়৷ রাতবিরেতে....অন্ধকারে.....আলো–আঁধারিতে কাউকে একলা পেলে তাকে হাতছানি দেয়...দিন–দুপুরে বড় বাড়ীতে একলা ঘরে ভূতের কাল্পনিক পদধ্বনিতে গা ছমছম করে....আর সব ইন্দ্রিয় কাজ করা বন্ধ করে দেয়....কাণ হয়ে থাকে খাড়া....সে আসছে হয়তো বা সে আসে....মনে হয় দিনের বেলা ভুল করতুম তর্ক করে এই বলে যে ভূত নেই কিন্তু বর্তমানে যে পরিবেশে রয়েছি সেই পরিবেশে কেবল আমি রয়েছি আর রয়েছে ভূত....একজন ভয় পাচ্ছি....আরেকজন ভয় পাওয়াচ্ছে৷ এই যে ভূতেরা এরা আলো দেখলে পালিয়ে যায়৷ এক সঙ্গে অনেক মানুষের জটলা দেখলে গা ঢ়াকা দেয়৷ সমাজে এরা কখনো কখনো ভয়ের বস্তু হিসেবে চিহ্ণিত বলে আদর–কদর পায় না৷ মানুষ যখন ভীতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকে না তখন সুযোগ মত ভূতের ওপর এক হাত নেয় কিন্তু সে একলা থাকলে রাতের অন্ধকারে তাদের অপদেবতা বলে সম্মান জানায়৷ যেমন চোরেরা পুলিশ অফিসারের কাছে পৌঁছে গেলে ভয়ে ভক্তিতে সালাম জানায় কিন্তু দূর থেকে দেখতে পেলে ডাইনে বাঁয়ে যে গলিটাই দেখতে পায় সেই গলিটায় ঢুকে পড়ে৷ ভূতেদের কিন্তু ব্যথা এখানেই৷ তারা সামাজিক স্বীকৃতি পায় না৷

হ্যাঁ, ওদের কথা তো জানই৷ এমনিতে অনেকেই বলে থাকে দেবতাদের সংখ্যা নাকি তেত্রিশ কোটি৷ যখন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা তেত্রিশ কোটির চেয়ে কম ছিল, দেবতা ছিলেন ৩৩ কোটি অর্থাৎ মাথাপিছু গড়ে একের ৰেশী দেবতা৷ সুতরাং মানুষকে ট্রাম–বাসে চলবার সময় একবার বাঁ দিকে, একবার ডানদিকে কপাল ঠুকতে হত৷ আবার সেই মানুষই যখন শাস্ত্রচর্চা করত ওদের বলত সব লৌকিক দেবতা৷ কারও সম্বন্ধে বলত ওরা পৌরাণিক দেবতা, কারো সম্বন্ধে বলত ওরা আসলে জৈন দেবতা৷ শরীরের অনেক অঙ্গকে কাটাকুটি করে করে দেওয়া হয়েছে খাঁদুরাণী বা খাঁদুবিবি৷ কারো সম্বন্ধে বলা হয় বিবর্ত্তিত বেনামা ৰৌদ্ধদেবতা৷ কোনো পেত্নী বা পেঁচো ভূতে ধরলেই তখন  এদের শরণাপন্ন হয়৷ এদের বামুন–পুরুত নেই৷ জাত–বাঙ্গালী পুরুত এদের পুজো করে থাকেন৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুজোর বাড়ীর মেয়েছেলেরাই একটু আধটু উপবাস অধিবাস করে বাংলা পাঁচালী পড়ে পাঁচালীর পুঁথিটি কপালে তিনবার ঠেকিয়ে পুজো শেষ করে দেয়৷ তারপর প্রসাদ বিতরণ করা হয় বাতাসা, কলা, কখনো কখনো জলখাবারের সময় গরম ভাজা জিলিপি৷ এই যে দেবতারা এদের সংখ্যা যে কত তা আজ বলা যায় না৷ কারণ প্রতি দশম বর্ষে মানুষের আদমসুমারী হয় কিন্তু এই ভূতেদের বা দেবতাদের আদমসুমারী হয় কিনা বলতে পারছি না৷ কোন্ গণক বা এনিউমারেটর এই কাজ করেন তাও ঠিক জানা নেই৷ এই ধরনের দেবী–দেবতাকে অনেক সময় মানুষ সুস্থ মনে মানে না, কিন্তু বিপদে আপদে মানে৷ কোন দেবী সম্বন্ধে বলা হয়–অমুক রোগ বলতে নেই....বলতে হয় মায়ের দয়া হয়েছে....বিহারে বলা হয় ‘‘মাতা হোল ছে’’ (মাতা হয়েছে)৷ কলেরা হলে ফাসী–উর্দু–হিন্দোস্তানী বলে ‘হ্যায়জা’, সংস্কৃতে ‘বিসূচিকা’, বাংলায় ‘ওলাওঠা’৷ ওলাওঠা হলে ওলাইচণ্ডীর প্রতি ভক্তি বাড়ে৷ অন্য সময় বলা হয় ‘ওলাইচণ্ডী’ লৌকিক দেবী৷ গ্রামাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সাপের উপদ্রব একটু বাড়ে ভরা বর্ষায় ও ভাদ্রের শেষ পর্যন্ত৷ তাই বিষহরি বা মনসার এই সময়টিতে প্রভাব হয় বেশী এতে জাতপাতের বিচার নেই...হিন্দু–মুসলমানের ভেদ নেই৷ ওলাবিবির মত মনসাও সবাইকার দেবী৷ মনসার ভাসান বা পাঁচালীতে ছোঁয়াছুঁয়ি নেই৷ একই গ্রামে অর্জুন মণ্ডল নামে তিন ৰন্ধু–একজন হিন্দু, একজন মুসলমান, একজন খ্রীষ্টান–মনসার ভাসানে তিন জনই গান গায়৷ এই সকল দেবীদেবতারা ভক্তি–শ্রদ্ধা পায় না৷ সেই জন্যে প্রাচীনকালে পুরাণকারেরা নানানভাবে ভয়ের সূচিকাভরণ করে নুন্দন্দ্বন্তুব্ধন্প্সুগ্ এই সকল দেবতাদের প্রতি ভক্তি জাগাবার চেষ্টা করেছেন–তৈরী করেছেন রকমারি গল্প যা শোণানোর সঙ্গে সঙ্গে একেবারে ভয়ে–ভক্তিতে স্বেদ–ঘর্ম দেখা দেয়৷ এই দেবতাদের চরিত্র এমনভাবে আঁকা হয়েছে যেন তারা সব সময় রেগে টং হয়ে রয়েছে....শাপ দেবার জন্যে জিব উঁচিয়ে রয়েছে৷ তবু এই সকল দেবদেবীরা সাময়িকভাবে মর্যাদা পান–অন্য সময়ে নয়৷ কায়স্থদের ঘোষ–বোস–মিত্র–গুহ বিয়ে বাড়ীর ছাদনা তলায় একরাত্রির শাহানশাহ হয়ে যান, তারপরে লোকে তাদের কথা ভুলে যায়৷ এই যে সব দেবী–দেবতা যারা শাস্ত্রমতে স্বীকৃত দেব–দেবী তো নয়ই....কোথাও কোথাও শাস্ত্রে অস্বীকৃত–এদেরও অনেক সময় লোকে ভয়ে উপদেবতা বলে থাকে৷ ভূতকে সে ভয়ে বলে থাকে অপদেবতা৷ এই সকল অপদেবতা ও উপদেবতারা (উপ মানে কাছাকাছি) পৌরাণিক গল্পমতে একবার তাদের উপেক্ষার মর্মজ্বালা সহ্য করতে না পেরে শিবের শরণাগত হয়েছিল৷ শিব তাদের শরণ দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তারা সৎপথে চলবে... ভক্তিরসে জারিত হয়ে থাকবে....পারস্পরিক মারামারি, কাড়াকাড়ি, হানাহানি করবে না...নিরীহের মুণ্ডুপাত করে রক্ত মোক্ষণ করবে না৷ এই উপদেবতা ও অপদেবতারা শিবকে নাকি বচন দিয়েছিল তারা অহেতুকভাবে কাউকে অকালে যমালয়ে পাঠাবে না৷ তাই এরা পেল শিবের আশ্রয়৷ শিবের আশ্রয় পাওয়া এইসব উপদেবতা–পদেবতা নাম দেওয়া হল ‘গণ’৷ ঠিক হল, শিব যেখানে যাবেন শিবের আগে বা পরে, বিশেষ করে সেটা যদি হয় সোমবার অথবা বিশেষ করে হয় চৈত্র মাস তাহলে সেই অপদেবতা বা উপদেবতারা শিবের আগে বা পরে চলতে থাকবে৷ এই গণেরা যাতে কোন অবাঞ্ছিত কাজ না করে বসে তাই এদের আচরণের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার তা শিব অনুভব করেছিলেন৷ সেই আশায় শিব কার্ত্তিককে বলেছিলেন–‘‘কার্ত্তিক, তুমি এদের দায়িত্ব নাও৷’’

কার্ত্তিক বললেন–‘‘পিতৃদেব আপনি যা আদেশ দেবেন আমি তা পালন করব৷ কিন্তু মুসকিল হচ্ছে দু’জায়গায়৷ প্রথমতঃ আপনি যখন তাণ্ডব নাচেন তখন আপনার জটা থেকে দলে দলে সাপেরা মাটিতে পড়তে থাকে৷ আপনি তো জানেন সাপ ময়ূরের প্রিয় খাদ্য৷ ওই সময় যদি ময়ূরকে অন্য কাজে ব্যস্ত না রাখা হয় তাহলে সর্পকুল ধ্বংস হওয়া সুনিশ্চিত৷ কবি বিদ্যাপতিও পার্বতীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন ঃ

‘‘কার্ত্তিক পোষল ময়ূর সেহ নাগে খাবত হে৷’’

পিতৃদেব, আরও একটি কথা হচ্ছে এই যে ময়ূরটি আমার অনেকদিন ধরেই বাত রোগে জরাজীর্ণ রয়েছে....চৌরঙ্গী বাত৷ মাথার ঝুমকো থেকে পায়ের কড়ে আঙ্গুলের নখ পর্যন্ত বাতগ্রস্ত৷ ডাক্তার বলছে, এর সর্বাঙ্গে ব্যায়াম দরকার৷ তাই ময়ূরের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আমি ময়ূরকে আমার সঙ্গে বিশ্বপরিক্রমায় ব্যস্ত রাখতে চাই৷ এই অবস্থায় আমাকে যদি গণেদের তদারকিতে ব্যস্ত থাকতে হয় তাহলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে৷ তবু আপনি যখন বলছেন, করব৷ তবে আপনি একবার দাদা গণেশকে শুধিয়ে দেখতে পারেন৷

শিব ওই কথা গণেশকেও বললেন৷

গণেশ বললেন–‘‘বাবা, তুমি যখন বলছ তখন আমি নিশ্চয় করব৷ এক্ষুণি এই মুহূর্ত থেকেই করব৷’’

শিব আশ্বস্ত হলেন৷

গণেশের ওপর তদারকি বা খবরদারির দায়িত্ব দেবার ফলে গণেশকে নাম দেওয়া হল গণেশ (গণ  ঈশ)–গণেদের নিয়ন্ত্রক....controller of Ganas.

তাহলে তোমরা ‘গণ’ শব্দের এই মানেটাও বুঝে গেলে তো  (শব্দ চয়নিকা, ১৬/১২১)

কোথায় ঈশ্বর

লেখক
সাক্ষীগোপাল দেব

কাঁসর ঘন্টা বাজে মন্দিরে

প্রার্থনা হয় গীর্জায়

দূরে আজানের ধবনি ভেসে আসে

সবই তো তাঁহারই সজ্জায়৷৷

কে করে পূজা কেবা নেয় পূজা

সহজ সত্য বোঝা নয় সোজা

যাহা দিই তারে যে দেয় তারে

সব একে মেশে শেষটায়৷

যত যাবে ধীরে মনে গভীরে

পৌঁছে যাবে চেতনার তীরে

অখণ্ড চৈতন্য সাগর

আকুল হয়ে ডাকিছে তোমায়৷৷

পৌষে ধান্য লক্ষ্মীর পুজো

লেখক
প্রণবকান্তি  দাশগুপ্ত

কৃষিসভ্যতার সূচনাকাল থেকে পৃথিবীর সমস্ত দেশে নানারীতিতে প্রবর্ত্তিত হয়েছে শস্য উৎসব৷ ঘরের মেয়েরাই এইসব শস্যউৎসবের উদ্যোক্তা৷ মাঠের শস্য ঘরে তোলার পর সুখী সংসারের স্বপ্ণে মেয়েরা গান গায়, নাচে, পুজো করে৷ পৃথিবীর সমস্ত দেশের মেয়েরাই ফসলী ঋতুতে কৃষি উৎসবে মেতে ওঠে৷

বাঙলার ঘরে ঘরে পৌষ সংক্রান্তিতে পৌষালী পার্বন অনুষ্ঠিত হয়৷ নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আয়োজন শুরু হয়ে যায়৷ বাঙালীর কাছে ধনি লক্ষ্মী৷ সেই ধনি গোলার ওঠা মানে লক্ষ্মীর আগমণ৷ তাঁকে পুজো করতে হবে বেঁধে রাখতে হবে৷ ঘরের পুরুষরা খড় দিয়ে গোলা বাঁধে আর মেয়েরা ছড়া কাটে---

আওনি বাওনি চাওনি৷

তিন দিন পিঠা খাওনি৷৷

অর্থাৎ লক্ষ্মীর আবির্ভাব (আওনি), লক্ষ্মীর বন্ধন (বাওনি) লক্ষ্মীর ঘরে চিরস্থায়ী বসতি হোক এই প্রার্থনা (চাহনি-চাওনি)৷ পৌষ সংক্রান্তির আসল মজা তিন দিন ধরে পিঠে খাওয়া৷ এই পিঠে ও কিন্তু শস্যজাত খাদ্য৷ এইদিন মেয়েরা উঠোনে বারান্দায় আলপনায় এঁকে গোবরের নাড়ু আর চালের গুঁড়ো পুজো করে৷ সারারাত জেগে,  থেকে সেসব পাহারা দেয়৷ একে বলে পৌষ আগলানো৷’ মেয়েরা দুপুর বেলা কুনকেতে ধান ও ধানের ছড়া ভরে পুজো করে৷ ধান্য লক্ষ্মীর বন্দনা গায়৷

শুধু বাঙলায় নয়, দক্ষিণ ভারতেও এই তিথিতে অনুরূপ শস্য উৎসব ‘পাঙ্গল’ পালিত হয়৷ আসামে হয় বিহূ উৎসব৷ তাই গুজরাটে সূর্য পূজার অঙ্গ হিসাবে ঘুড়ি ওড়ানো হয়৷ সূর্যের কৃপা ছাড়া, কৃষি-কাজে সফলতা লাভ করা অসম্ভব৷ সূর্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই ঘুড়ি ওড়ানো হয়৷

জীবন

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

রং বেরঙের ফুলের সাজে

তৈরি ফুলের তোড়া,

মন ভুলানো রূপের মাঝে

স্নিগ্দ সুবাস ভরা৷

কুসুমকলি, মধুপ-অলি

চিরন্তন মধুরতা,

পুষ্প কোরকে ব্যস্ত ভ্রমর

দেয় কি প্রীতির বারতা?

কেউ করে না এমন দাবী,

আমি সবার সেরা,

পরমপিতার চরণতলে

নিত্য শোভিত তারা৷

রকমারী পাখীর নীড়

একই তরু-শাখায়,

একতার বাণী প্রচার করে

ভর করিয়া পাখায়৷

সঙ্ঘবদ্ধ জীবন যাপন

চেতনা স্বাধীনতায়

দিনের বেলায় কর্মমুখর

নিশিথে নিদ্রা যায়৷

কলতানে প্রভুকে স্মরণ

ঠিক ভোর পাঁচটায়,

জেগে ওঠা, জগৎ জাগানো

এদের বিষম দায়!

আহার, বিহার কর্মসূচি,

নাই ভবিষ্যতের ভয়,

দানাপানি গ্রহণ করে,

করে নাকো সঞ্চয়৷

মানুষ তুমি ফুলের কাছে

পাখীর কাছে শেখো,

সবার উপর মানবতা

কেমনে ভুলে থাকো!

কিন্তু মানুষ অহেতুকই

যা করে সঞ্চিত,

তারা ভাবুক তাদের তরে

তার প্রতিবেশী বঞ্চিত৷

ভবিষ্যতের দুর্ভাবনায়

যারা করে সঞ্চয়,

স্রষ্ঠার প্রতি ভরসা কোথায়,

কেন এত সংশয়?

এই ধরনীর যত সম্পদ

সকলের আছে সম অধিকার,

ছলেবলে অবৈধ সঞ্চয়,

হতাশ মনের বিকার৷

মানব জীবন দুর্লভ জীবন

বিধাতার উপহার,

জগতের হিতে আত্মনিয়োগ

জীবনের সদ্ব্যাবহার৷

ঘোড়া রোগ

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

এক জমিদার সাহেবের এক ভাইপো (ভ্রাতৃপুত্র ঞ্ছ(ভ্রাত্তিপুুত্ত ঞ্ছভাইপু ঞ্ছভাইপুতা ঞ্ছভাইপো ঃ ভ্রাতৃজ ঞ্ছভাত্তিজ ঞ্ছ ভাতিজা৷) ছিল৷ ভাইপোর নাম ছিল লোটা৷ জমিদার সাহেব বাইরের লোকেদের সামনে বনেদীয়ানা দেখাবার জন্যে ভাইপোর সঙ্গে বাংলা–উর্দু মিশ্রিত এক খিচুড়ি ভাষায় কথা বলতেন, যেমন–খাইকে পানী লাইকে যাবি না’ (খাবার পানী আনতে যাবি না)? আর যখন এদিক ওদিক চেয়ে দেখতেন বাইরের কেউ নেই তখন ভাইপোর সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা কইতেন৷

একবার জমিদার সাহেব পশ্চিম দেশের লক্ষ্ণৌয়ের দিকে গেছলেন৷ ওখানে গিয়ে তিনি উর্দু ভাষা ও উর্দু চালচলন কিছুটা শিখে এসেছিলেন৷ আসবার সময় ওখানকার নবাবকে বাঙলায় আসার দাবাৎ জানিয়েও এসেছিলেন৷ ভেবেছিলেন নবাব বাহাদুর আর বাঙলায় আসবেন না, দাবাৎ জানিয়ে রাখি৷ কিন্তু শিরে কইল সর্পাঘাত, কোথায় ৰাঁধবি তাগা৷ কিছুদিন পর সেখানকার নবাব সাহেব চিঠি লিখলেন যে তিনি বাঙলায় আসছেন৷

জমিদার সাহেব তো মহা ফ্যাসাদে পড়লেন, তিনি তাঁর ভাইপো লোটাকে ডেকে বললেন–দ্যাখ লোটা, আমার তো কটি–বাত অইসে৷ আমি ইষ্টিশনে যাইবার পারমু না৷ তুমি নবাবেরে অভ্যর্থনা কইর্যা আইস৷

লোটা বললে–চাচা (শব্দটি হিন্দোস্তানী৷ প্রকৃত শব্দটি ‘চচা’ বাংলায় ভুল করে ‘চাচা’ বলা হয়৷ ‘কাকা’ শব্দটি ফারসী৷ খাঁটি বাংলা শব্দ ‘খুড়া’ ঞ্ছখুড়ো৷) কইত্যাসেন যহন যামু৷ যামু তো নিশ্চয় কিন্তু আমি তো উর্দু ভাষা জানিনা৷ কী করমু কইআ দ্যান৷

জমিদার বললেন–উর্দু শিখবার লাগব না৷ বাংলার সাথে দু’ চারিডা মঁৈ হঁৈ হুঁ লাগাইয়া দিবা নি, তাতেই উর্দু অইয়া জাইব৷

লোটা বললে–হ বুস্সি৷ তবে চাচা আমি তো উর্দু দ্যাশের আদব–কায়দা জানি না, আমারে শিকাইয়া দ্যান৷

জমিদার সাহেব বললেন–যার সাথে কথা কবা নি তারে বঢ় করবা আর নিজেরে সোট করবা৷ যদি তোমারে জিগায়, তোমার কয়ডা নবাবজাদা আসে, এ্যার অর্থ অইল নবাব তোমারে নবাব কইত্যাসেন৷ উত্তরে শরাফৎ কইর্যা কবানি, জনাব গোলাম কা তিন হারামজাদা হ্যায়৷ বুজহস্?

লোটা বললে–হ বুসসি৷

লোটা ইষ্টিশনে গেল৷ নবাব সাহেবের নাম মালেক–উল–মুল নবাব উশ্–শাক–ঈশাখ বাহাদুর৷

লোটা এ–কামরা ও–কামরা উঁকিঝুকি মেরে দেখছে৷ একটা কামরায় সে দেখলে জমকালো পোষাকে একজন ভদ্রলোক বসে আছেন৷ লোটা বুঝে নিলে ইনিই সেই নবাব বাহাদুর৷ লোটা যখন তাঁর সম্মানে জিজ্ঞাসা করলে–‘‘তুম্ নবাব বাহাদুর হ্যায়?’’

নবাব বাহাদুর বিনয় করে বললেন–নহী জনাব, ম্যাঁয় তো নবাব বাহাদুর নহী হুঁ৷

লোটা তখন বললে, তব্ তুম্ কৌন্ হ্যায়?

নবাব বললেন, ম্যাঁয় খাক্ হুঁ, ম্যাঁয় দুনিয়াকা খাক্ হুঁ৷ ম্যাঁয় সবোঁকে কদ্মোঁকা খাক্ হুঁ, ম্যাঁয় খাক্, ম্যাঁয় খাক্, মেরা নাম ঈশাক৷

লোটা নবাবের বিনয়ে অভিভূত হয়ে গেল৷ এত ৰড় একজন নবাব তিনি কি না বিনয় করে নিজেকে খাকের (ছাই) সঙ্গে তুলনা করলেন আর কৌশলে নিজের নামটা বলে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনিই নবাব সাহেব৷ শুধু তাই নয়, নবাবের কী কবিত্ব শক্তি খাক্ আর ঈশাক–কেমন কবিতার মিল আচ্ছা, আমিও দেখিয়ে দোব যে উর্দু ভাষা উর্দু শরাফতে নবাবের চেয়ে আমিও পিছিয়ে নেই৷

নবাব লোটাকে শুধোলেন–আপ্ কৌন্ হেঁ? আপ্ জমীঁনদার সাহেব কা ভাতিজা হেঁ?

লোটা নবাবের কাছ থেকে শেখা কায়দায় বললে–নহীঁ নহীঁ, হম্ কিসী জমীন্দার কা ভাতিজা নহীঁ হেঁ৷

নবাব শুধোলেন–তব্ আপ্ কৌন হেঁ?

লোটা বললে–ম্যাঁয় চোট্টা হুঁ৷ ম্যাঁয় দুঁনিয়াকা চোট্টা হুঁ, ম্যাঁয় আপকা কদ্মোঁকা চোট্টা হুঁ৷ ম্যাঁয় চোট্টা হুঁ৷ ম্যাঁয় চোট্টা–ম্যাঁয় চোট্টা, মেরা নাম লোটা৷

নবাব তখন বুঝে নিলেন সত্যিই জমিদার সাহেব আর তার পরিবার একেবারে খানদানী উর্দুভাষী৷