Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

হিংসার পরিণাম

দাদা ঠাকুর

ছোট ভাইবোনেরা, অপরের ক্ষতি করার ইচ্ছাকে বলে হিংসা৷ কথা ও কাজের দ্বারা কাউকে কষ্ট দিলে বা কষ্ট দেবার কথা ভাবলে তাকে হিংসা বলে৷ আর কথা ও কাজের দ্বারা কাউকে কষ্ট না দিলে বা কষ্ট দেবার কথা না ভাবলে তাকে বলে অহিংসা৷ শাস্ত্রে বলে অহিংসা পরমধর্ম ও হিংসা মহাপাপ৷ কেননা হিংসার পরিণাম খুবই খারাপ৷ এজন্যেই হিংসা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে৷ তোমরা কাউকে হিংসা করবে না৷ হিংসার পরিণাম নিয়ে একটা গল্প শোন৷ 

ভারন্ত নামে একটি অদ্ভুত ধরনের পাখি ছিল৷ তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ অন্যান্য পাখির মত৷ কিন্তু তার দুটি মুখ ছিল৷ দুটি মুখেই সে খাবার গ্রহণ করতে পারত৷ সে খাবার কিন্তু যেত একই পেটে৷ ফলও হত একই৷ যে কোন মুখে পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর পুষ্ট হত৷ আবার খারাপ কিছু খেলে খারাপ ফল হত৷ অসুখ করত৷ 

এই ভারন্ত পাখিটি নদীর ধারে বাস করত৷ নদীতে যে সব ফল ভেসে আসে তা খেয়েই ভারন্ত পাখিটি জীবন ধারণ করত৷ একদিন ভারন্ত পাখিটি দেখল সুন্দর একটি ফল ভেসে এসেছে৷ ফলটি ছিল অমৃত ফল৷ দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমনি সুস্বাদু৷ ভারন্ত পাখির খুব লোভ হল৷ একটি মুখ ফলটি খেতে শুরু করল৷ খেতে খেতে সে অন্য মুখকে বলল, জীবনে নদীতে ভেসে আসা অনেক ফলই খেয়েছি৷ কিন্তু এমন ফল কোন দিনই খাইনি৷ এই কথা শুনে দ্বিতীয় মুখ বলল, অমৃত ফল নাকি তা হলে আমাকে একটু দাও, খেয়ে তৃপ্ত হই৷ 

প্রথম মুখ হেসে বলল, তার দরকার কি আমাদের তো একটিই পেট৷ তুমিই খাও আর আমিই খাই সে তো এক পেটেই যাবে৷ একই খাবার ভিন্ন মুখে গ্রহণ করার কি দরকার৷ তার চেয়ে বরং এর কিছুটা স্ত্রীকে দেওয়া যাক৷ এই বলে প্রথম মুখ ফলটির কিছুটা অংশ স্ত্রীকে দিল৷ স্ত্রীও ফলটি খেয়ে খুব প্রশংসা করতে লাগল৷ 

ফল না খেতে পেয়ে দ্বিতীয় মুখ দারুণ রেগে গেল৷ প্রথম মুখের এ আচরণ সে ভুলতে পারল না৷ তার হিংসা হল৷ ঠিক করল, প্রথম মুখকে সে জব্দ করবেই৷ সে সুযোগ খুঁজতে লাগল৷ 

কিছুদিন পর দ্বিতীয় মুখ নদীর ধারে একটি বিষফল পেল৷ প্রথম মুখকে সে ডেকে বলল, ওরে নিষ্ঠুর, তুইতো সেদিন অমৃত ফলের অংশ আমাকে দিসনি৷ আমিও আজ যে বিষফল পেয়েছি এটি খেয়ে অপমানের প্রতিশোধ নে৷ 

বিষফলের কথা শুনে প্রথম মুখ আঁতকে উঠল৷ সে দ্বিতীয় মুখকে বলল, ‘‘একাজ করিস নে৷ এ ফল খেলে আমরা দুজনেই মরে যাব৷’’ 

দ্বিতীয় মুখ কোন কথা শুনতে রাজি নয়৷ অপমানের প্রতিশোধ সে নেবেই৷ বিষফলটি সে খেয়ে ফেলল৷ তারপর বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুজনেই মরে গেল৷ 

 

  • Log in to post comments

ত্যাগব্রতী

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

মানবতার মুক্তিস্নানে

পথে পথে বহে জনস্রোত

দেশে দেশে হয় বিপ্লব

কত সব তাজা প্রাণ ঝড়ে,

তবু থামে না উদ্যম 

দমেনি মানব মন কভু

চাহে করে যেতে কিছু

জগত কল্যাণে!

ধর্মের নামাবলী গায়ে

করে যাঁরা শোষণবঞ্চনা,

এ যুদ্ধ তাঁদের বিরুদ্ধে

বিশ্বজুড়ে সব খানে৷

সংগ্রামী চেতনা নিয়ে

চলে দৃঢ় পায়ে তরুণ দল

অরুণালোকে যায় খেলি

বাঁচাতে বাঁচিতে সবে 

মনুষ্যত্বের সাধন পথে

দুর্নিবার গতিতে চলি

হয় বলিদান ধরা প’রে,

অনুসারি তাদের পথে পথে

চলে রণে কৌশলী বীর

সুদীর্ঘকাল ধরে

রক্ষিতে জীবন মনে৷

আত্মিক সম্পদে

ধর্মের ধবজা ধরি হাতে

ঐক্যবদ্ধভাবে 

লড়ে যায় প্রাণপণে যাঁরা 

সারথীর নির্দেশে জেনো

বিজয়ী হবেই তাঁরা

এ রণাঙ্গণে!

 

  • Log in to post comments

রাজ ও রোদ্দুর

অবধূতিকা আনন্দ অদ্বৈতা আচার্যা

রাজ বলে,---‘‘শোণ মাগো,

আমি কত ভালো,

সকাল-সকাল জেগে উঠি

ঘুচলে রাতের কালো৷

উঠেই আমি চোখটি বুজে

হয়ে ধ্যানরত,

গুরুসকাশ করি মাগো

শান্ত ছেলের মত৷

ব্রাশটি নিয়ে দাঁত মেজে

হাত-মুখ ধুয়ে নিয়ে,

লেখাপড়া করতে বসি

লক্ষ্মী ছেলে হয়ে৷

লেখাপড়া শেষ করে,মা

চুপটি করে বসি,

তুমি ডাকলেই ছুটে আমি

খাবার খেতে আসি৷

ন’টা বাজলে স্নান সেরে

তৈরী হয়ে থাকি,

একদিনও তো আমি স্কুলে

দিই না, মাগো ফাঁকি৷

তাই তো স্কুলের ম্যাডাম আমায়

ভালোবাসেন কত৷

স্কুলের পড়া রোজই করি

সোণা ছেলের মত৷

মারামারি করি নে মা,

স্কুলের বন্ধুর সাথে,

তোমার কোলে শুয়ে শুয়ে 

গল্প শুণি রাতে৷

সবার কথা শুণি, মাগো 

সন্দেহ নেই তাতে৷

রোদ্দুর তোমার দুষ্টু ছেলে

কথা শুণতে চায় না,

দুষ্টুমি সে করতেই থাকে

করলে পরেও মানায়৷

স্কুলের পরা পড়ে না সে

যতই বলুক ম্যাডাম

বড়দের কথা শুণলেই তো

হয় না কোনো বদনাম৷

এখন থেকে রোদ্দুর যদি

আমার মত হবে,

কেউই ওকে বকবে না মা,

সবাই ভালোবাসবে

তোমার কোলে শুয়ে পড়ি

গল্প শুণে রাতে৷

 

  • Log in to post comments

নীতিবাদী মানুষ চাই

অবধূতিকা আনন্দ অদ্বৈতা আচার্যা

বেঁটে-খাটো মানুষ যারা, অনেক টাকা আছে,

তাকেই বড়লোক বলে আদর সবার কাছে,

লম্বা যে জন, ছোট সে জন, ধন সম্পত্তিহীন,

এ কেমন দেশের বিচার! বলছে তাকে দীন৷

অনেক বড় বাড়ী যাহার, সবাই তাকে মানে,---

পাতার কুটীর যার আছে, কে তাহারে চেনে?

সমাজসেবী মানুষ যারা এই দেশেতে থাকে.

হাজার বাধা সেবাকাজে, ঠকায় তাকে লোকে৷

ভোগ বিলাসে জীবনযাপন করে থাকে যারা,

মহান, ধনী, গুণী ভেবে সম্মান পায় তারা৷

সদাচারী যাঁরা আছেন তাদের বাঁচা দায়,---

মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে তাদের জেলখানা পাঠায়৷

যদি অনাচারী দুরাচারী দেশের সেবা করে,

লোভে মত্ত সকল অর্থ লাগায় নিজের তরে৷

স্বৈরাচারী ব্যভিচারীর কদর করে লোকে,

চুরি-ছিনতাই যাহাই করুক, উচ্চপদে থাকে৷

এমন বিচার মানব নাকো, নইকো মোরা ক্ষীণ,

এমন দেশেও থাকবো নাকো, ‘‘মানবতাহীন’’৷

নূতন করে ভেঙে, গড়ে নোব মোরা দেশ,---

সবাই সবার তরে মোরা থাকবো সুখে, বেশ!

নীতিবাদী শাসক হবে মোদের দেশের রাজা,

সত্য-ন্যায়ের সংবিধানে বিশ্ব হবে তাজা৷

এসো তবে আমরা সবাই মিলেমিশে ভাই

সবাই মিলে মহাবিশ্ব সমাজ গড়ে নোব তাই৷

মানবধর্মের মানুষ আমরা, হিংসা-নিন্দা ভুলে

বাসবো ভালো পশু, পাখী, তৃণলতা দলে৷

 

  • Log in to post comments

দশভুজা

সুপর্ণা মজুমদার রায়

প্রতি ঘরে ঘরে দশভুজারা দিনরাত্রি খাটে, 

কখনো একা সংসারেতে কখনো মাঠে ঘাটে৷

কখনো বা কলকারখানায় কখনো দিনমজুর,

দশভুজারা পেটের দায়ে জাগে রাত ভোর৷

সেবার কাজে দশভুজা স্নেহের হাতটি বাড়ায়,

পণ্যবিক্রয়ে দশভুজা রাস্তার মোড়ে দাঁড়ায়৷

রক্তাল্পতায় দশভুজারাভুগছে নানান রোগে,

কিংবা অচল শরীর নিয়ে অপুষ্টিতে ভুগে৷

পনের দায়ে দশভুজা জ্বলছে দিনরাত, 

স্বার্থের তাগিদে কেউ কোনদিন দেয়না তাদের সাথ

চাকরি বাঁচাতে দশভুজা মিছিলে মিছিলে হাটে, 

সমাজ কল্যাণে দশভুজা দুর্বার গতিতে ছুটে৷ 

পরিচয়হীন দশভুজা মায়ের কোলে পিঠে,

ডাষ্টবিনেতে দশভুজা কুকুররা জিভ চাটে৷

বিদুষীনি বেশে দশভুজা যুগে যুগে অবতীর্ণা,

লিঙ্গ ভেদে পরিত্যক্তা অগণিত দশভুজা কন্যা 

জনহিতে দশভুজারা বাড়িয়ে তাদের হাত,

পাষণ্ড সমাজে পায় শুধু লাঞ্ছনা, পদাঘাত৷

মৃন্ময়ীরূপী দশভুজা আলোক মালায় সজ্জিতা,

রক্ত মাংসের দশভুজারারাত ঁধারে ধর্ষিতা৷

মাটির প্রতিমা দশভুজার অসুর নিধন রূপ,

অত্যাচারিত দশভুজা ঘরের কোনে নিশ্চুপ৷

চিন্ময়ী রূপী দশভুজারা কখনো বহ্ণিশিখা,

কখনো বা দেশের কপালে পরায় জয়ের টীকা৷

চোখের জলকে তুচ্ছ করে নিজের ভবিষ্যত রচে, 

জীবন যুদ্ধে দশভুজা আপন শর্তেই বাঁচে৷

 

  • Log in to post comments

জাতিভেদ

অনামিকা

হে মানুষ ভেবে দেখেছো কি 

জাত কি?

ক্ষমতার বলে স্বার্থে সৃষ্টি করেছ তোমরাই একদিন নিচু জাত বলে উপহাস করছো

তাকে তোমরাই প্রতিদিন!৷

সে কি বর্বর জন্তু জানোয়ার 

নাকি তোমারি প্রজাতি

যাদের নিচু জাত বলে উপহাস করছো তারা কোন উপজাতি?

পড়েছো বিবেকানন্দ পড়েছো বিদ্যাসাগর শুনেছো

রবি ঠাকুরের কথা৷

তা কি শুধুই মনকে 

ভদ্রতা দিয়ে ঢেকে রাখা

উঁচু জাত বলে দাবি করে 

যারা নিজেকে

বুঝি তাদেরই হাতে নিভে যাবে সমাজের আলো কালকে৷

ছোটছোট শিশু জন্মায়

কোন জাত নিয়ে৷

কেন দরকার দেওয়া 

ওই জাতের তকমা 

তার জন্ম কার্ডে?

যদি কোনদিন পারে মানুষ 

জাত হীন ভাবে বাঁচতে 

বুঝি নতুন সূর্য উঠবে 

সেদিন পৃথিবীকে বাঁচাতে!

 

  • Log in to post comments

দাদু

সংগৃহীত

যে ক’জন ভারতসাধক হিন্দু এবং মুসলমান ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতির বাতাবরণ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম ভক্ত দাদু৷ ভক্ত দাদুকে মরমিয়া সাধক কবীরের উত্তরসুরী বলা হয়৷ কবীর যেমন বিভিন্ন গানের মাধ্যমে ভক্তিপথের সন্ধান করেছেন, দাদুও তাঁকে অনুসরণ করে আধ্যাত্মিক গান লিখে গেছেন৷ দাদু ছিলেন ধর্ম সমন্বয়ের এক মহান প্রতীক৷

আমাদের জানতে ইচ্ছে করে কে এই মহাত্মা দাদু? তাঁর জীবন কেমন ছিল? ১৫৪৪ খ্রিস্টাব্দের ফাল্গুন মাসে শুক্লাষ্টমী তিথিতে সাধক দাদুর আবির্ভাব হয়৷ তিনি জন্মেছিলেন এক দরিদ্র মুসলমান ধনুকরের পুত্র হিসাবে৷ তাঁর বাল্য জীবনের কথা আমরা বিশেষ কিছু জানতে পারি না৷ শুধু জানা যায়, তাঁর পিতার নাম ছিল লোদি আর মা ছিলেন পড়শিবাঈ৷ চামার পল্লীর দরিদ্রতা এবং অশিক্ষার অন্ধকারের মধ্যে দাদুর শৈশবকাল অতিবাহিত হয়৷ পড়াশোনা শেখার সামান্যতম সুযোগ তিনি পাননি৷ বাল্য এবং কৈশোরে তাঁর মধ্যে কোনো অসাধারণত্ব প্রকাশিত হয়নি৷ যৌবনেও তিনি অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন করেননি৷ বরং বলা যায় দুঃখ জর্জরিত দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে গেছেন৷ ছিলেন তাঁর প্রেমময়ী পত্নী হওয়া এবং চারজন পুত্র কন্যা৷ তাদের মধ্যে বড়ো ছেলে গৌরদাস পরবর্তীকালে মরমিয়া সাধক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন৷ সব থেকে ছোটো ছেলে মসতিনদাস এবং দুই কন্যা মনুবাঈ ও মাতাবাঈ আধ্যাত্মিক জীবনের পথে অনেক দূর অগ্রসর হন৷ একদিন কোনো অলৌকিক শক্তির প্রভাবে দাদু সংসার ত্যাগ করে পরিব্রাজকের জীবন যাপন করতে শুরু করলেন৷ এক পরিব্রাজক সাধক হিসাবে কাশী, বিহার এবং বাংলার বহু স্থান ভ্রমণ করলেন৷ এই সময় তিনি মন দিয়ে সহজমত, শূন্যবাদ, নিরঞ্জনবাদ এবং নাথতন্ত্রের সাধনতত্ত্ব আয়ত্ত করেছিলেন৷ নাথতন্ত্রের যোগসাধনায় অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন৷ এছাড়া বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত করেন৷ বাংলার নাথগ্রন্থ যোগীদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন৷

দাদুর সাধনায় হিন্দু-মুসলমান কোনো প্রভেদ ছিল না৷ তাঁর এই আচরণে সনাতনপন্থী হিন্দু পুরোহিত এবং মুসলমান উলেমারা খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন৷ তাঁরা একদিন দাদুকে প্রশ্ণ করলেন ‘‘আচ্ছা দাদু, মানুষ নির্দিষ্ট একটা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়ে সেবার কাজ করে, ঈশ্বরের আরাধনা করে৷ তুমি কোন সম্প্রদায়ের?’’

দাদু এই প্রশ্ণের উত্তরে একটু হেসে বলেছিলেন---‘‘ভাই, চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী- আকাশ-বাতাস-জলএরাও তো সেবাকর্মে রত৷ এরা কি কোনো বিশেষ ধর্মের পালক?’’

 

  • Log in to post comments

দানও নিলেন, দক্ষিণাও নিলেন

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

একটি প্রাচীন ৰাংলা গানে ‘কোদণ্ড’ শব্দটি কোদাল অর্থে ব্যবহূত হয়েছিল৷ গানটি রচনা করেছিলেন সুবিখ্যাত পাঁচালী গায়ক দাশরথি রায়–সংক্ষেপে দাশু রায়৷ ৰাংলার এই জন্মসিদ্ধ প্রতিভা দাশু রায় কবিতায় কথা বলতে পারতেন......পারতেন গানেও কথা বলতে৷ সংস্কৃত শাস্ত্রেও ছিল তাঁর প্রচণ্ড দখল......আর প্রচণ্ড দখল ছিল যেমন ৰাংলায় তেমনি সংস্কৃতেও৷ তার সঙ্গে তিনি ছিলেন মজলিশী মেজাজের মানুষ৷ লোককে হাসাতে পারতেন দারুণ৷

সেই যে গল্প আছে না! দাশু রায় একবার ৰর্দ্ধমান জেলার একটা প্রকাণ্ড মাঠ পার হচ্ছিলেন৷ সেকালে ৰর্দ্ধমান জেলার গ্রামগুলি ছিল খুব ৰড় ৰড় আর দূরে দূরে অবস্থিত৷ এখনও দেখবে, ৰাংলার ৰড় ৰড় গ্রামগুলির বেশীর ভাগই ৰর্দ্ধমান জেলায়৷ সেকালের সেই মাঠে রাত্তিরে তো বটেই, এমনকি দিনে দুপুরেও লেঠেলরা ওৎ পেতে বসে থাকত রাহাজানির উদ্দেশ্যে৷ একবার দাশু রায় ওই ধরনের একটা ৰড় মাঠ পার হচ্ছিলেন৷ সন্ধে তখন হৰ–হৰ৷ দাশু রায় যাচ্ছিলেন একটা ৰড় ৰট গাছের পাশ দিয়ে৷ হঠাৎ গাছের ওপর থেকে লাফিয়ে নেৰে পড়ল কয়েকজন লেঠেল৷ তারা দাশু রায়কে ৰললে–তোমার কাছে যা কিছু আছে সৰ দিয়ে দাও৷

দাশু রায় ৰললেন–আমি গরীব ৰ্রাহ্মণ......আমি দান–টান ৰুঝি না......আমি পরিগ্রহ ৰুঝি৷ তোমাদের সঙ্গে যা কিছু আছে তোমরাই সে সৰ আমাকে দাও৷

ডাকাতরা পড়ল মহা ফ্যাসাদে৷ ৰামুণ দান চাইছেন৷ না দিয়েই বা থাকে কি করে! আবার এদিকে না কাড়লে ডাকাত হিসেবেই বা মান বাঁচে কী করে৷ তারা তখন দাশু রায়কে ৰললে–তোমাকে চিনেছি ঠাকুরমশায়, তুমি তো দাশু রায়৷ তা’ তুমি আমাদের একটা মজার কথা শোনাও৷ আমরা তাতে সন্তুষ্ট হয়ে তোমাকে ছেড়ে দোব৷

দাশু রায় ৰললেন–এ অবস্থায় কার ঠোঁটেই বা মজার কথা আসে ৰল! তা গাছের নীচে তো দেখছি তোমরা তিনটি মূর্ত্তিমান দাঁড়িয়ে আছ৷ তোমাদের আত্মীয়–স্বজন জ্ঞাতি–কুটুম্ব আর ক’জন ওই গাছের ওপরে হুপ্ হুপ্ করছে ৰল তো!

ডাকাতরা ৰুঝলে, দাশু রায় তাদের ৰাঁদর ৰলে গালি দিলেন৷ কিন্তু ৰলবার কিছুই ছিল না৷

দাশু রায় ৰললেন–কথা বেচে খাওয়াই আমার জীবিকা৷ আমার যে প্রাপ্য পূরণ তা দিয়ে দাও৷ ডাকাতরা তাদের যথাসর্বস্ব দাশু রায়কে পেণ্ণামী হিসেৰে দিয়ে দিলে৷

* * *

সেই দাশু রায় একৰার চুঁচড়োয় এসেছেন ৰ্রাহ্মণ পণ্ডিতদের সভায় পাঁচালী গাইতে৷ চুঁচড়ো তখন সংস্কৃত পণ্ডিতদের কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিল (আর যে সকল স্থান সেকালের রাঢ়ে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিল তারা হ’ল ভাণ্ডারহাটি, ত্রিবেণী, দশঘরা, বাঁশৰেড়ে, জনাই, পেঁড়ো–বসন্তপুর, মাকড়দা, বালী, তমলুক, কাঁথি, মেদিনীপুর, সবঙ্গ, চন্দ্রকোণা, বিষ্ণুপুর, ইন্দাশ (বাঁকুড়া), সিমলাপাল, সোণামুখী, ৰর্দ্ধমান, কালনা, পূর্বস্থলী, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, ইন্দাশ (বীরভূম), শিউরী, মলুটী, সর্পলেহনা, কঙ্কালীতলা, কুন্তলা, করীধ্যা (বীরভূম) প্রভৃতি স্থান৷ সেখানে রাঢ়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ৰড় ৰড় পণ্ডিতরা এসেছেন....হচ্ছে দাশু রায়ের পাঁচালী গান৷ তিনি তাঁর গানের এক জায়গায় কোদাল অর্থে ‘কোদণ্ড’ শব্দটি ব্যবহার করলেন (গানের প্রথম লাইনটি ছিল ‘দোষ কারোর নয় গো মা’)৷ পণ্ডিতেরা একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন৷

তাঁরা ৰললেন–এ কী কথা! দাশু রায়ের মত পণ্ডিত মানুষ ‘কোদণ্ড’ শব্দটি ভুল অর্থে ব্যবহার করলেন! পাঁচালী গান হওয়ার পরে পণ্ডিতদের সভা বসল৷

তাঁরা বললেন–যদিও ‘কোদণ্ড’ শব্দটি কোদাল অর্থে চলে না কিন্তু দাশু রায়ের মত প্রখ্যাত পণ্ডিত ও প্রতিভাধর মানুষের সম্মান রক্ষার জন্যে আমাদের উচিত কোদাল অর্থে ‘কোদণ্ড’ শব্দটিকে মেনে নেওয়া৷ সংস্কৃতে এমন আর্ষ প্রয়োগের ঘটনা অজস্র রয়েছে৷ সুতরাং আরেকটি আর্ষ প্রয়োগ ৰাড়লই বা! তাই তখন থেকে ‘কোদাল’ অর্থেও ‘কোদণ্ড’ শব্দটি চলে আসছে৷

এই লব্ধপ্রতিষ্ঠ দাশু রায় ছিলেন বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর নিকটবর্ত্তী চুপী গ্রামের সন্তান৷ কবি সত্যেন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষেরাও এই চুপী গ্রামের অধিবাসী ছিলেন৷ এখন তোমরাই বিচার বিবেচনা করে আমাকে জানাও তোমরা চুঁচড়োর পণ্ডিত সমাজের এই বার্ত্তিক মানতে রাজী আছো কি না অর্থাৎ কোদাল অর্থে ‘কোদণ্ড’ শব্দটি ব্যবহার করবে কি না৷ কোদালের নিজস্ব সংস্কৃত হচ্ছে ‘কুদ্দালিক’৷

 

দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বিশ্বকর্মা দেব শিল্পী৷ প্রভাস নামক বায়ুর ঔরসে তৎ পত্নী যোগ সিদ্ধার গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম৷ বিশ্বকর্মা অর্থাৎ বিশ্ব হয়েছে যার কর্ম৷

বিশ্বকর্মা কারিগরি যন্ত্র শিল্প ও সর্বপ্রকার শিল্পকর্মের দেবতা৷ বিশ্বকর্মার শিল্পকীর্তি অসংখ্য৷ বিশ্বকর্মা শুধু শিল্পী নন তিনি স্থপতি ও রামায়ণে উল্লেখ আছে বিশ্বকর্মার লঙ্কাপুরী নির্মাণ করেছিলেন৷ বিশ্বকর্মার বানর পুত্র নল দারোকা পুরী নির্মাণ করেছিলেন৷ পিতার শক্তিতে শক্তিমান হয়ে সমুদ্রের ওপর সেতুবন্ধন করেছিলেন৷ সসৈন্য ভারতের আপ্যায়নের জন্য ভরদ্বাজ মুনি বিশ্বকর্মাকে দিয়ে গৃহ নির্মাণ করিয়েছিলেন৷

 কূর্ম পুরাণ মতে, সূর্যের সপ্ত রশ্মির অন্যতম বিশ্বকর্মা৷ গ্রীষ্ম শেষে যে সূর্য মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে কর্মসম্পন্ন করেন তিনি বিশ্বকর্মা৷ বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা আছে৷ তার কারণ ঘুড়ি ওড়ানোর সূর্য পূজারই একটা পদ্ধতি ঘুড়ি উড়িয়ে সূর্যকে বন্দনা করা হয়৷ ঘুড়ি ওড়ানো নিছক খেলা নয়৷

বর্ষান্তে ভাদ্র সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ ইন্দ্রপূজাও ভাদ্র মাসে৷ ইন্দ্র বৃষ্টির দেবতা৷ বিশ্বকর্মাও বর্ষার দেবতা৷ ভাদ্রের শেষে কৃষিকাজ শেষ হওয়ার পর কর্ষকদের ফসলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়৷ সেই অবসরে ভাদ্র সংক্রান্তিতে তারা বিশ্বকর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা বসতঃ পুজো করে থাকে৷ ইন্দ্রের মতো বিশ্বকর্মারও বাহন ঐরাবত৷ ঐরাবত আসলে ঐরাবত সদৃশ মেঘ৷ তাই বিশ্বকর্মা শুধু শ্রমিকদেরই দেবতা নন, চাষীদেরও দেবতা৷

বিদেশেও বিশ্বকর্মা আছেন৷ গ্রীকদের বিশ্বকর্মা নাম হেফায়েস্‌তাস৷ হেফায়েস্‌তাস্‌ হেরার পুত্র৷ কদাকার কুৎসিত বদমেজাজীও হলেও তাঁর দেহে অসাধারণ শক্তি৷ আর শিল্পকর্ম সবই নিখুঁত৷ তিনি তার শিল্পকর্মে সহায়তার জন্য কতগুলি সোনার যান্ত্রিক স্ত্রীলোক সৃষ্টি করেছিলেন৷ তাঁর কারখানায় সোনার চাকা লাগানো তিনপাওয়ালা কতগুলি টেবিল ছিল৷ প্রয়োজনীয় দ্রব্যসম্ভার নিয়ে টেবিলগুলো দেবতাদের সভায় দ্রুত যাতায়াত করত৷ প্রাচীন গ্রিক মিশে প্রিয় রোবটে বাস্তবায়িত হয়েছে৷ গ্রীস দেশের মতো রোমেরও বিশ্বকর্মা আছেন৷ তার নাম ভালকান৷ উত্তর ও মধ্য ইউরোপের বিশ্বকর্মা হলেন থর৷

 

  • Log in to post comments

বিপ্লবী বীর উন্নত শির

কৌশিক খাটুয়া

নিরস্ত্র যতীনের মল্ল যুদ্ধে 

রয়েল বেঙ্গল কুপোকাত, 

শোণিত ধারায় রণ হুঙ্কার 

ব্রিটিশ উচ্ছেদের সূত্রপাত!

দেশজোড়া নাম বাঘা যতীন 

চেয়েছিল দেশ করতে স্বাধীন,

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে

 তার সশস্ত্র বিপ্লব,

স্বদেশ মুক্তির শুভ সূচনা 

অস্ত্র আমদানীর পরিকল্পনা 

যুব সমাজের কণ্ঠে ধবনিত 

 একই কলরব!

জার্মান থেকে অস্ত্র জাহাজ 

 বুড়িবালামের তীরে,

জানতে পেরে ব্রিটিশ সেনা 

 এলাকা নিল ঘিরে৷

 শুরু হলো তুমুল লড়াই

যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতা চাই, 

দেশ মুক্তির মহান ব্রতে 

 যুদ্ধে অবতীর্ণ, 

দুঃসাহসিক অভিযানে 

 শত্রুকে করে বিদীর্ণ! 

সহযোদ্ধা যারা ছিল গুটিকয়--

 নাই সংশয় মৃত্যুর ভয়,

দেশের স্বার্থে অতন্দ্র প্রহরী 

 উদ্দীপনায় নাচিছে লহরী

 না জানি কখন কি হয়,

 মাতৃ-মুক্তির কঠিন শপথে 

 উদ্বেলিত হৃদয়!

অসম লড়াইয়ে জখম আহত

ঘাত-প্রতিঘাত চলে অবিরত! 

জন্মভূমির মুক্তিলক্ষ্যে

 লড়াই আমরণ৷

প্রাণবন্ত বঙ্গ-যুবক

 হাসপাতালের শয্যায়,

হাসিমুখে তার অকাল প্রয়াণ 

 স্বাধীনতা মহাদায়!

জন্মভূমির দৈন্য ঘুচাতে 

 করিল মৃত্যু বরণ! 

আজ পুনরায় ভারাক্রান্ত মনে

 সবিনয়ে করে স্মরণ৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved