সম্পাদকীয়

ধন বৈষম্য সমাজের এক সর্বনাশা ব্যাধি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

কয়েক বছর আগে বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক সমীক্ষায় বলা হয়, পৃথিবীতে আয় বৈষম্য ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ আরও বলা হয়েছে বিশ্বে দারিদ্র্য সীমারেখার নিম্নে রয়েছে ৭৬ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ৷ আজ পৃথিবীর প্রায় এক শতাংশ মানুষের কুক্ষিগত পৃথিবীর ৫০ শতাংশের বেশী সম্পদ৷ সমাজে দারিদ্র্য সীমারেখার নিম্নে যারা বসবাস করছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি না হলেও গত দশ বছরে ভারতে কোটিপতিদের সম্পদ বেড়েছে দশ গুণ৷ এক বছরে ভারতের শীর্ষস্থানীয় পুঁজিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০,৪০০ কোটি টাকা৷ আর প্রতিদিনই এক-এক জনের গড়ে সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ১.৩৮ কোটি টাকা৷ তাই দেখা যাচ্ছে পুঁজিপতিদের সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, অথচ কোটি কোটি মানুষ

ফাঁসি অপরাধ দমনের পথ নয়

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

আর একটি নির্ভয়া কাণ্ড ঘটে গেল মহারাষ্ট্রে মুম্বাইয়ের সাকিনাকায়৷ নির্যাতিতার মৃত্যু হয় গত ১১ই সেপ্ঢেম্বর৷ যথারীতি দাবী উঠেছে অপরাধীর ফাঁসি চাই৷ কিন্তু অপরাধীর ফাঁসি দিলেই কি সমাজ অপরাধ মুক্ত হবে? এমনটাতো নয় যে আজ পর্যন্ত কোন অপরাধীর ফাঁসি হয়নে৷ এই পশ্চিমবাঙলাতেই এমন দৃষ্টান্ত আছে অপরাধীর ফাঁসি হয়েছে৷ কিন্তু তারপরেও কি অপরাধ দমন করা সম্ভব হয়েছে৷

ফাঁসি অপরাধীকে হত্যা করে, অপরাধ দমন করে না৷ যাঁরা অপরাধীর ফাঁসির দাবীতে সরব তারা অধিকাংশই প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলে এমন দাবি করে৷ অপরাধীর শাস্তিটাই তাদের কাছে বড়, সমাজের শুচিতা রক্ষার উপায়  নিয়ে ভাবার জন্যে মানসিক স্থিরতা তাদের নেই৷

অ-শান্তিনিকেতন!

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

প্রাচীন ভারতের তপোবনের অধ্যাত্ম-ভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার যোগসাধনের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী স্থাপন করে ছিলেন৷ শুরুতে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ব্রহ্মচর্যাশ্রম৷ প্রাচীন ভারতের মুনীঋষিদের আদর্শকে তিনি এই শিক্ষার ভিতরূপে গ্রহণ করেছিলেন৷ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার দিবসেই তিনি তাঁর আদর্শ পরিষ্কার ভাবে সুপরিস্ফুট করেছিলেন৷ তিনি প্রাচীন ভারতের ঋষিদের আদর্শের মূল কথাকে তুলে ধরে বলেছিলেন,‘‘তাদের বেশভূষা বিলাসিতা কিছুই ছিল না৷ অথচ বড়ো বড়ো রাজারা এসে তাঁদের কাছে মাথা নত করতেন৷...

প্রভাত সঙ্গীত  ঙ্গ আলোয় ফেরার আকুতি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

আজ সমাজের সর্বস্তরে দেখা দিয়েছে চরম অবক্ষয়ের অমানিশা৷ অর্থনৈতিক স্তরে চলছে চরম শোষণ ও দুর্নীতি৷ ঈশ্বর সৃষ্ট এই জগতের সম্পদ যা ঈশ্বরের সন্তান সমস্ত মানুষের মিলেমিশে খেয়ে পরে বাঁচার জন্যে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের চরিতার্থতার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে, কিন্তু আজ সেই সম্পদ লুঠে পুটে খাচ্ছে সমাজের এক শ্রেণীর শোষকগোষ্ঠী৷ রাজনীতি – যা নাকি দেশ–সেবার প্রকৃষ্ট নীতি, তা হয়ে উঠেছে যেন তেন প্রকারেণ ক্ষমতা করায়ত্ত করার ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার কৌশল মাত্র৷ এখানে ‘নীতি’টা নিতান্তই গৌণ৷ শিক্ষার নামে চলেছে কেবলমাত্র অর্থ রোজগারের উপায় আয়ত্ত করার প্রশিক্ষণ, সেখানে নীতিশিক্ষা–ধ্যাত্মশিক্ কোনো নাম–ঠিকানা নেই৷ সং

শ্রাবণী পূণির্র্মর ঐতিহাসিক আহ্বান

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

আগমী ৭ই আগষ্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা, যাকে রাখীপূর্ণিমাও বলা হয়--- এর এক বিশেষ মহত্ত্ব আছে৷ কথিত আছে, এই শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথিতে মানব সভ্যতার আদিগুরু সদাশিব আজ থেকে  ৭ হাজার বৎসর পূর্বেপ্রথম ধর্মপ্রচার শুরু করেছিলেন৷ তাছাড়া প্রাচীন কাল থেকে ভারতবর্ষে এদিনটি রাখী বন্ধন রূপেও পালিত হয়ে আসছে৷ এদিন বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখী পরিয়ে দেয়৷ ভাইয়েরাও বোনেদের সুরক্ষার দায়িত্ব উপলদ্ধি করেন৷ সে কারণে এই উৎসব সারা ভারতে ‘রক্ষা-বন্ধন’ উৎসব হিসেবেও পরিচিত৷

নীতি ও নেতৃত্বের সংকট

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শুধু মোদি সরকারের আমলেই বা বলি কেন স্বাধীনতার পর থেকে অর্র্থৎ সেই গান্ধী নেহেরুর আমল থেকে বর্তমানে মোদির আমল পর্যন্ত এই ৭৫ বছর ধরে দেশীয় শাসনে ভারতের ২৭ কোটি মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায় নি---এখন তারা ক্ষুধার শিকার৷ তারা প্রত্যহ রাতে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যায়--- ক্ষুধা নিয়ে জাগে৷

অথচ দেশের সিংহভাগ  মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধনকুবের দখল করে বসে আছে৷

দেশের বিশাল এক অংশ আজ চরম দারিদ্রের শিকার৷ দেশের অধিকাংশ ছাত্র-যুবা বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে মরছে৷ জীবনকে সুন্দর করে বিকাশের কথা ভাববার অবসর নেই তাদের৷  ---অন্নচিন্তা চমৎকারা !

শ্রাবণী পূর্ণিমা–আলোর পথে যাত্রা শুরু

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

‘আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ’–আত্মার মুক্তি ও জগতের কল্যাণ–এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে আনন্দমার্গ প্রচারক সঙঘ তার শাখা–প্রশাখা ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের দেশে–দেশে৷ ধর্ম ও কর্মের সমন্বয়ে এই সুমহান আদর্শকে রূপ দিতে আনন্দমার্গ গড়ে তুলেছে বিশ্বের সর্বত্র অসংখ্য আদর্শ স্কুল, শিশু সদন, ত্রাণ কেন্দ্র, সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাষ্টার ইয়ূনিট সহ বহু সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প৷ যাঁর আশীর্বাদ ও প্রেরণা নিয়ে আনন্দমার্গ অত্যল্পকালের মধ্যেই বিশ্ব সংঘটন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে তিনি হলেন সেই সংঘটনেরই জনক ও গুরুদেব শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী৷

একপেশে উন্নতি অবনতির কারণ

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

মানুষের অস্তিত্ব ত্রিস্তরীয়---শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক৷ মানুষের উন্নতি মানে এই ত্রিস্তরীয় সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নতি৷ এই সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নতি যদি না থাকে তাহলে উন্নতির পরিবর্তে অবনতি হবে৷ বর্তমানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির হাত ধরে বা আধুনিকতার ছাপ মেরে যে বিপুল উন্নতির বড়াই আমরা করি এই তথাকথিত উন্নতি যে অনেক জটিল প্রশ্ণের সম্মুখে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা আজ কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না৷ তার কারণ একটাই৷  বাড়ী, গাড়ী, রাস্তা-ঘাট, পোষাক-পরিচ্ছদ, নানান্‌ সুস্বাদু খাওয়া-দাওয়া এসবের জাঁকজমকের পাশাপাশি দুর্নীতি, যৌন কেলেঙ্কারী, মানবিকতার অভাব, শোষণ, খুন-জখম এসবও যে মহামারীর মত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে

নেতা নির্বাচনে সচেতন হতে হবে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুল সমান দুই ভাগে বিভক্ত৷ এককচারী ও যূথবদ্ধ৷ অতি পরিচিতদের মধ্যে  ছাগল, মুরগী জাতীয় কয়েকটি প্রাণী এককচারী৷ আবার হাতী, ভেড়ার মত কিছু প্রাণী আছে তারা যূথবদ্ধ৷ এককচারী জীবেরা সাধারণতঃ আত্মস্বার্থ কেন্দ্রিক হয়৷ সব সময় নিজের স্বার্থ রক্ষার্থেই ব্যস্ত থাকে৷ অন্য কারোর দিকে ফিরেও চায় না৷ পাশে কেউ বিপদে পড়লেও তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ থাকে না৷ এই ধরণের জীবকে গৃহে পোষ মানাতে গেলেও তারা কখনোই পালক প্রভুর অনুগত হয় না৷ যেখানেই থাকুক যাই করুক,নিজের স্বার্থটাই  কেবল তার কাছে প্রাধান্য পায়৷

সংবিধানের অঙ্গীকার কবে প্রতিষ্ঠিত হবে!

১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী দেশ শাসনের জন্যে ভারতের নিজস্ব সংবিধান প্রবর্ত্তিত হয়৷ তারপর সত্তরটা বছর অতিবাহিত হয়েছে৷ আজ দেশের নাগরিককে নাগরিকত্বের প্রমাণের জন্যে লাইনে দাঁড়াতে হবে৷ সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক বিভাজন ও রাজনৈতিক সংঘাতে প্রতিনিয়ত পদদলিত হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার৷ পরিতাপের বিষয় এই যে শাসক দলের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদতে এগুলি হয়ে চলেছে৷ অথচ শাসক দলেরই প্রধান দায়িত্ব সংবিধানের অঙ্গীকারগুলি পালন করা৷ মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা৷