Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সংবাদ দর্পণ

মঙ্গলগ্রহের মাটিতে তৈরি করা হয়েছে অক্সিজেন

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

মঙ্গলগ্রহের মাটিতে মানুষের শ্বাস নেওয়ার মতো অক্সিজেন তৈরি করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা৷ একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে মঙ্গলে তৈরি হয়েছে ১২২ গ্রাম অক্সিজেন৷ পরীক্ষামূলক এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে মঙ্গল নিয়ে একাধিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, মত বিজ্ঞানীদের৷ পৃথিবী থেকে পাঠানো ওই যন্ত্র মঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেখানকার বায়ুমণ্ডল থেকে সংগ্রহ করা উপাদান দিয়েই অক্সিজেন তৈরি করেছে৷ সেই অক্সিজেন আরও বেশি পরিমাণে উৎপন্ন করা গেলে মঙ্গলে শ্বাসকার‌্য চালাতে মহাকাশচারীদের আর কোনও অসুবিধা হবে না৷ ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযান থেকে ফেরার জন্য পৃথিবী থেকে আলাদা করে বাড়তি অক্সিজেন নিয়েও যেতে হবে না৷

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানীরা মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সহযোগিতায় অক্সিজেন তৈরির যন্ত্র পাঠিয়েছিল মঙ্গলে৷ সেই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয় ‘মক্সি’, যার পুরো কথা হল মার্স অক্সিজেন ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন এক্সপেরিমেন্ট৷ ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নাসার প্রিজারভেন্স রোভারে চেপে এই যন্ত্র মঙ্গলগ্রহে পৌঁছোয়৷ এমআইটি-র বিশেষজ্ঞ মাইকেল হেচ এবং জেফরি হফম্যানের নেতৃত্বে গবেষকেরা এই যন্ত্র তৈরি করেছিলেন৷ ২০২১-এ স্পেস সায়েন্স রিভিউজ-এ তার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়৷ মক্সি সক্রিয় ছিল ২০২৩ সালের ৭ অগস্ট পর্যন্ত৷

যন্ত্রটির ওজন ১৫ কিলোমিটার৷ নাসা আনুষ্ঠানিক ভাবে একে মাইক্রোওভেনের আকারের যন্ত্র বলে উল্লেখ করলেও এর সঙ্গে কেউ কেউ ছোট টোস্টারের সাদৃশ্য পান৷ এর নকশার নথিতে বলা হয়েছিল, মক্সি প্রতি ঘণ্টায় ৬ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম৷ সেই অক্সিজেন ৯৮ শতাংশ বিশুদ্ধ৷ প্রাথমিক ভাবে মক্সি-র উদ্দেশ্য ছিল মঙ্গলে উপস্থিত উপাদান কাজে লাগিয়েই অক্সিজেন তৈরি করা৷ পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া উপাদান যাতে কম ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে আদৌ এই কাজ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ ছিল৷ কারণ এর আগে পৃথিবীর বাইরে সেখানকার উপাদান দিয়ে কখনও শ্বাসবায়ু তৈরি করেনি মানুষ৷

মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ৯৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড৷ তবে তার ভরের সিংহভাগই অক্সিজেন৷ কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে অক্সিজেনকে আলাদা করার প্রক্রিয়া পৃথিবীতে নতুন নয়৷ কিন্তু মঙ্গলগ্রহে তা সম্ভব কি না, সেটাই দেখতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ ২০২১ সালের শেষ দিকের তথ্য বলছে, মক্সি মঙ্গলগ্রহে ঘণ্টায় ৬ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি করেছে৷ সকাল কিংবা রাত, মঙ্গলের ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতেও এই অক্সিজেন তৈরি হয়েছে৷ ওই বছরের পর যন্ত্রের সক্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয় নাসা৷ চূড়ান্ত মিশনের ঘোষণার সময় অর্থাৎ, ২০২৩ সালে মক্সি থেকে ঘণ্টায় ১২ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যের দ্বিগুণ৷

 

এবার ব্রিটেনও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

ভাবনাচিন্তা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই৷ এ বার সেই ভাবনাচিন্তাই বাস্তবায়িত করতে চলেছে ব্রিটেন৷ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার৷ অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার পর ব্রিটেনেও ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ স্টার্মার জানান, শিশুদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

স্টার্মারের কথায়, ‘‘আমরা ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছি৷ শিশুদের এমন এক জগতে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয় তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ছাপ ফেলে৷ আমরা চলতে দিতে পারি না৷ আমরা চাই, শিশুদের শৈশব ফিরে আসুক৷ সেখানে কোনও ভাবে প্রযুক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না৷’’

তবে সমাজমাধ্যমের কোন কোন ক্ষেত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ ১৬ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে গত তিন মাস ধরে আলোচনা হয়েছে ব্রিটেনে৷ বিবিসি জানিয়েছে, শুধু সমাজমাধ্যম নয়, গেমিং অ্যাপে অপরিচিতদের সঙ্গে মেলামেশার উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সেনেটে বিল পাশ করে এই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার‌্যকর করা হয়৷ জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতি ১০টি প্রচলিত সমাজমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷ পরে একই পথে হেঁটে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করে৷

ব্রিটেনেও এই নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে৷ তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে কিছু কম কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল৷ যেমন ইনফিনিট স্ক্রল বা অটোপ্লে-র মতো ফিচার বন্ধ, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার বা এআই চ্যাটবটের ব্যবহার সীমিত করার মতো বিষয়৷ সেই সমীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে ছিলেন৷ তবে কিছু অভিভাবকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে৷ যদিও শেষপর্যন্ত সব কিছু বিবেচনা করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল ব্রিটেন৷

 

কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির উন্নতিতে রাশ টানতে চায় মার্কিন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিক

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দুনিয়ায় শোরগোল৷ শোরগোল ফেলেছে অ্যানথ্রপিক৷ তাদের তৈরি ‘ক্লড এআই’ নাকি নিজের থেকেই বানাতে পারছে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা৷ এর জেরে এআইয়ের উন্নতি আরও দ্রুত হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট৷

 ‘এআই ক্লড’কে নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের ব্লগে গবেষণামূলক একটি লেখা পোস্ট করে অ্যানথ্রপিক৷ সেখানে বলা হয়েছে, যে ভাবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিটি কাজ করছে, তাতে এটি ‘পুনরাবৃত্তিমূলক আত্ম-উন্নয়ন’-এর দিকে চলে যেতে পারে৷ অর্থাৎ, আগামী দিনে মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজের উত্তরসূরির নকশা, নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ দিতে পারবে ‘এআই ক্লড’৷

মার্কিন টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, কৃত্রিম মেধার ‘পুনরাবৃত্তিমূলক আত্ম-উন্নয়নের’ বাস্তবায়ন হয়তো পুরোপুরি সম্ভব নয়৷ কিন্তু, এই ধরনের ভয়াবহ কিছু হতে পারে সেটা ধরে নিয়ে সরকার এবং সমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে৷ কারণ, যে গতিতে কৃত্রিম মেধা এগোচ্ছে তাতে চিন্তাভাবনার সময়টুকুও পাওয়া যাবে না৷ এর উন্নতি ধীরে হওয়ার বদলে খুব দ্রুত গতিতে হচ্ছে৷

একাধিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষকদের তড়িৎগতিতে কাজ করতে সাহায্য করছে এআই৷ অ্যানথ্রপিক মনে করে, আগামী দিনে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান এবং উৎপাদনশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বড় ধরনের উন্নতির পথ খুলে দেবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি৷ তখন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কী ভাবে নিজের সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ণ থাকছে৷

নিজেদের ব্লগে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছে অ্যানথ্রপিক৷ সেখানে বলা হয়েছে, গোড়ার দিকে সফটয়্যার তৈরি করতে ইঞ্জিনিয়ারেরা হাতে-কলমে কোড লিখতেন৷ তার পর এল এআই চ্যাটবট৷ তারা ছোটখাটো কোড লিখতে সাহায্য করত৷ সেটাই বর্তমানে কোডিং এজেন্টে পরিণত হয়েছে৷ এরা স্বাধীন ভাবে ফাইল লিখতে এবং সম্পাদনা করতে পারে৷ ফলে ওই ইঞ্জিনিয়ারদের আর কোনও প্রয়োজন নেই৷

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত কয়েক বছরে এআই এজেন্টগুলো আরও উন্নতি করেছে৷ কোড লেখা, ফাইল সম্পাদনার পাশাপাশি অন্য এজেন্টদের হাতে কাজ ভাগ করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের৷ অ্যানথ্রপিক মনে করে, এর পরের পদক্ষেপ হল এমন একটা কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা যারা অন্যান্য এআই মডেল বানিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেবে৷মার্কিন টেক জায়ান্টটির দাবি, প্রযুক্তিগত উন্নতির জেরে কৃত্রিম মেধার উপর আমজনতার নির্ভরশীলতাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ একটি পরিসংখ্যান থেকে সেটা বুঝে নেওয়া যেতে পারে৷ বর্তমানে প্রতি চার মাসে এআই ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ আগে এটা ছিল সাত মাস৷ ২০২৪ সালে মাত্র চার মিনিটে একজন সফটয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের প্রায় সব কাজ করে ফেলত ‘ক্লড ওপাস ৩’৷

গত বছর (২০২৫ সাল) ‘ক্লড সনেট ৩.৭’ বাজারে আনে অ্যানথ্রপিক৷ সেটা আরও কম সময়ে সেরে দিচ্ছিল সফয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ৷ এ বছর ‘ক্লড ওপাস ৪.৬’ তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট৷ যে কাজ করতে এক ব্যক্তির ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে, সেটা এই কৃত্রিম মেধা নিমেষে করতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, বর্তমানে এআই মডেল তৈরির বেশির ভাগ কোড নিজের থেকে লিখছে ‘ক্লড’৷ ফলে ইঞ্জিনিয়ারেরা অনেক বেশি পরিমাণে কোড তৈরি করতে পারছেন৷ ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের কোড তৈরির পরিমাণে দৈনিক প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেটা অভাবনীয়৷

‘ক্লড’ এআই মডেলটি শুধুমাত্র কোডিংয়ে দক্ষ, তা ভাবলে ভুল হবে৷ গবেষণামূলক কাজেও এই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিটি বেশ উন্নতি করছে৷ ফলে কঠিন কোডিংয়ে সাফল্যের হার চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে অ্যানথ্রপিক সূত্রে জানা গিয়েছে৷ আর তাই এআইয়ের ব্যাপারে তিনটি পূর্বাভাস দিয়েছে এই মার্কিন টেক জায়ান্ট৷অ্যানথ্রপিকের দাবি, কিছু কিছু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গোড়াতেই অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ করা গিয়েছে৷ ফলে পরবর্তী কালে অনেকটাই শ্লথ হয়েছে তাদের অগ্রগতি৷ কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রেও সেটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়৷ অন্যথায় উৎপাদনের দুনিয়ায় বড় ভূমিকা নেবে এআই৷ পাশাপাশি, নিজেরাই নিজেদের উত্তরসূরি তৈরি করে ফেলবে৷ এবং সেটা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল৷

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী সমস্ত এআই সংস্থাকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও৷ ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া থাকা দরকার৷ নইলে ভুল ভাবে এআই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে৷ এর সামাজিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে৷’’ আর তাই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার গতি শ্লথ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷

এর পাশাপাশি কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থাগুলির কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন আমোদি৷ ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, ‘‘বড় ধরনের কোনও ভুল হলে এআই টুলটি নিষিদ্ধ হতেই পারে৷ তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে৷’’

ইতিমধ্যেই অ্যানথ্রপিক তাদের এআই মডেল ‘মিথোস’-এর একটি সর্বজনীন সংস্করণ বাজারে এনেছে৷ সফয়্যারের ত্রুটি খুঁজে বার করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে এর আগের একটি ‘প্রিভিউ’ সংস্করণ বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল৷ এ বার সাইবার নিরাপত্তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রোধে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ যুক্ত করেছে তারা৷

চলতি বছরের ৯ জুন মার্কিন টেক জায়ান্টটি জানায়, সফয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যানালিটিক্স ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করা ‘ক্লড ফেবল ৫’ মডেলটি তাদের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল, যা ব্যাপক পরিসরে ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে৷ গত এপ্রিলে ‘মিথোস’-এর মাধ্যমে হাজার হাজার সফয়্যার দুর্বলতা বা ‘ভালনারেবিলিটি’ শনাক্ত করার পর এর ব্যবহার সীমিত করে অ্যানথ্রপিক৷

মার্কিন এআই সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৯৬,৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছে গিয়েছে৷ তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা হল চ্যাটজিপিটির নির্মাণকারী সংস্থা ওপেনএআই৷ দু’টি কোম্পানিই বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম মেধার নতুন মডেল প্রতিযোগিতায় অ্যানথ্রপিককে কিছুটা এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷

 

আমরা বাঙালি কর্মী শহীদ বাবুল দেবের মৃত্যু দিবসকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sat, 04-07-2026

গতকাল ৭ই জুন যথাযোগ্য মর্যাদায় আমরা বাঙালি কর্মী শহীদ বাবুল দেবের মৃত্যু দিবসকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়৷ 

১৯৮৭ সালের ৫ই জুন আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও আইএমডিটি আইন বাতিলের দাবিতে সারা আসাম ছাত্র সংস্থা অর্থাৎ আসু আসাম বন্ধের ডাক দিয়েছিল৷ বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ণে এই বন্ধের বিরোধিতায় অন্যান্য দল সংগঠনের সঙ্গে আমরা বাঙালি দল রাস্তায় নেমেছিল৷ সেদিন কাছাড় জেলার উদারবন থানার সামনে আসুর গুন্ডাদের দ্বারা বাবুল দেব আক্রান্ত হয়৷ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শিলচর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় সাতই জুন বাবুল দেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন৷ সেদিনের এই বন্ধের বিরোধিতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যেমন রাস্তায় নেমেছিল৷ তেমনি তখনকার প্রভাবশালী ছাত্র যুব সংগঠন সংগ্রাম সমন্বয় সমিতি ,আকসা ইত্যাদি অনেক সংগঠন আসুর এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল৷ বাবুল দেব কে হত্যার অভিযোগ নিয়ে উদারবন থানায় তপন ঘোষ নামে উদারবনদ দুর্গানগর এর বাসিন্দা খুনের মামলা দায়ের করেন৷ সেই মামলার নম্বর হচ্ছে ৭৬/১৯৮৭৷ উদারবন পুলিশ ১৫/১ /৮৯ ইংরেজি তারিখে চার্জ সিট জমা করেছিলেন, কিন্তু তখনকার বাঙালি বিদ্বেষী অসম গণপরিষদ সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন৷ অর্থাৎ খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে গেল৷৷ পরবর্তীকালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলে ও এই মামলা চালু করা হয় নাই৷ আজও বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কেদেই চলেছে৷ আমরা বাঙালি দল প্রতিবছর ৭ই জুন দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে৷ আমরা আশা করি সেদিনের আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন বাবুল দেবের ন্যায় বিচারের জন্য তারাও সরব হবেন৷সক্রিয় হবেন৷ এইভাবে একটা ইতিহাস অস্তাচলের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাই এগিয়ে আসবেন৷ 

সেদিনের আন্দোলনে উধার বন্ধের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ তার মধ্যে বিশু দত্ত, রঞ্জিত রায়, ইহজগত নেই৷ বিধান রায় সহ অনেকেই জীবিত আছেন৷ সেদিনের ঘটনা তারা কাছে থেকে দেখেছেন৷ এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ আমরা চাই বাবুল দেবের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আবার চালু করা হোক৷ 

বাবুল দেবের প্রতি আমরা বাঙালি দলের পক্ষ থেকে গতকালকের শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে যারা যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আজমল হোসেন চৌধুরী, অনিতা চন্দ, চন্দনা পুরকায়স্থ, দেব প্রিয়া পুরকায়স্থ সহ অনেকেই ছিলেন৷

 

শিলচরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ১০১তম প্রয়াণ দিবস পালন

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sat, 04-07-2026

গত ১৬ই জুন অসমের বরাকবঙ্গের শিলচরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ১০১তম প্রয়াণ দিবস পালন করা হয় শিলচর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্মৃতিরক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে৷ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো ত্যাগী নেতা খুবই বিরল তিনি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছাড়াও কবি ও চিন্তাবিদ ছিলেন৷ দেশের জন্য তিনি সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন৷ নেতাজী সুভাষচন্দ্র তাঁরই ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন৷

এইদিন শিলচরে এন.এস. এ্যাভিনিউয়ে ন্যাশানাল হাইওয়ের রোড পয়েন্টে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মূর্ত্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সমিতির সদস্যবৃন্দ৷ সকাল সাড়ে আটটায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীরেশ ব্যানার্জী নীহার পুরকায়স্থ, বাবুল ধর, কবি শতদল আচার্য, শিহাবউদ্দিন আহমেদ, রসরাজ দাস প্রমুখ৷

স্মরণসভায় বক্তারা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বর্ণময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন৷ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম সফল নেতা ও ত্যাগী পুরুষ৷ তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে স্বরাজ পার্টি ঘটন করেছিলেন৷ তাঁর অকাল প্রয়াণ না হলে ভারতবর্ষের স্বাধীন সংগ্রামের ইতিহাস অন্যপথে চলত৷

 

১১ মাসে দেশে বেকারত্বের হার সর্বাধিক

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sat, 04-07-2026

২০১৪ সালে মোদি জমানার শুরুতে প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে দু-কোটি চাকরী৷ সে এখন অতীত৷ সাধারণ মানুষ এখন মোদি গ্যারান্টি নিয়ে ঠাট্টা তামাসা করে৷ তবে মোদি জমানায় বছরে দু-কোটি চাকরি না হলেও দেশে বেকারত্বের হার কিন্তু বেড়েই চলেছে৷ গত ১৫ই জুন সরকারী সমীক্ষার প্রকাশিত প্রতিবেদন চলতি বছরের মে মাসে দেশে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৫ শতাংশ৷ যা গত ১১ মাসের হিসেবে সর্বাধিক৷ গত এপ্রিল মাসে বেকারত্বের বেকারত্বের হার ছিল ৫.২ শতাংশ৷ শহর অঞ্চলে এপ্রিলে বেকারত্বের হার ছিল ৪.৬ শতাংশ৷ মে মাসে হয়েছে ৫.১ শতাংশ৷

বেকারত্বের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দেখান হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ জ্বালানি সংকটের জন্যে দেশে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে৷ যার ফলে বহু পরিযায়ী শ্রমিক কাজ হারিয়েছে৷ জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় পিরিয়াডিক লেবার ফোর্স সার্ভের (পি.এল.এফ.এস) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতেই বেকারত্বের এই করুণ চিত্র ধারা পড়েছে৷ দেশের অন্যতম সংঘটিত কর্মসংস্থান তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মে মাসের কাজের চাহিদা ২শতাংশ কমে গেছে৷ এই বেকারত্বের হার ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ৷ শহর অঞ্চলে বেকারত্বের হার অবশ্য এপ্রিল মাসের তুলনায় বাড়েনে৷ প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ব্যয় কমিয়ে সংযত জীবন যাপনের নির্দেশ দিয়েছেন৷ কিন্তু বেকারত্বের হার ফেরার কোন দিশা দেখাতে পারেননি৷

বিশিষ্ট আমরা বাঙালী নেতা খুশীরঞ্জন মণ্ডল বলেন পুঁজিবাদ নির্ভরকেন্দ্রিত অর্থনীতি এই বেকারত্ব সৃষ্টি বলেন অধিক মুনাফার দিকে লক্ষ্য রেখে৷ তিনি বলেন যতদিন না পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিনাশ ঘটিয়ে প্রাউটের বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ততদিন যুবসমাজের এই বেকারত্বের জ্বালা থেকে মুক্তি নেই৷

 

পুঁজিবাদী শোষণ অর্থনৈতিক বৈষম্য রাজনৈতিক দুরাচার যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sat, 04-07-2026

সমাজ ও সভ্যতা আজ এক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে৷ বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও আমরা বাঙালী দলের প্রবীন নেতা সাক্ষীগোপাল দেব গত ১৩ই জুন এক আলোচনায় কথাগুলি বলেন৷ তিনি এর জন্যে দায়ী করেছেন পুঁজিবাদ ও রাজনৈতিক দুরাচারীতাকে৷ তিনি বলেন বর্তমান সরকার মুখে সবকা সাথ সবকা বিকাশের কথা বললেও কাজে শুধু পুঁজিপতিদের বিকাশ করেছেন৷ একদিকে পুঁজিপতিদের বিপুল ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করে দিচ্ছেন ওপর দিকে দেশের অর্থ ভাণ্ডারে টান পড়তেই হাজার হাজার কোটি টাকার সোনা বেচে দিচ্ছেন৷ শ্রী দেব প্রশ্ণ করেন--- এ কেমন ধরণের বিকাশ৷

তিনি বলেন মোদি জমানায় যেভাবে ধনি দরিদ্রের আর্থিক বৈষম্য বেড়ে চলেছে তাতে একদিন পুরো আর্থিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়বে৷ অপরদিকে নীতিহীন অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্র-যুব সমাজ৷ এর পরিণতি সমাজের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে৷ বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শ বলে কিছু নেই৷ ক্ষমতার স্বাদ পেতে দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য দলে ভিড়ে যাওয়া নেতাদের কাছে এখন জল ভাত৷ এও এক ধরণের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা৷ জনগণ সব সময় ব্যষ্টিকে দেখে ভোট দেয় না, দলীয় আদর্শ ও দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে অনেকে অপচ্ছন্দের প্রার্থীকেও ভোট দেয়৷ 

তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে একদল সাংসদ বিধায়কদের অন্যদলে ভীড়ে যাওয়াকে চরম অনৈতিক কাজ বলে উল্লেখ করেন৷ যে জনগণ ওনাদের নির্বাচিত করেছে তাদের মত নেওয়া প্রয়োজন৷ ওই সব সাংসদ বিধায়কদের সামান্যতম নীতিজ্ঞান থাকলে প্রথমে ওনাদের পদত্যাগ করে পুনরায় জনমত নিয়ে সাংসদ বিধায়ক হতে পারতেন৷ এই সব রাজনৈতিক নেতাদের জালে পড়েই ছাত্র-যুব সমাজ বিপথে যাচ্ছে৷ একদিকে আর্থিক বৈষম্য ও সংকীর্ণ ধর্মমতের উস্কানি দিয়ে যুবসমাজকে উশৃঙ্খলতার পথে ঠেলে দিচ্ছে চতুর রাজনৈতিক নেতারা৷ অপর দিকে বেকারত্ব ও অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে৷

শ্রী দেব বলেন এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রথমেই আর্থিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে৷ পাশাপাশি ছাত্র যুব সমাজের মধ্যে ব্যষ্টি চরিত্র ঘটন ও সমাজ কল্যাণের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে৷ তিনি বলেন আনন্দমার্গ বিশ্বজুড়ে সেই কাজ করে চলেছে৷ আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক জীবনাদর্শ ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন যেমন মানুষকে সৎ ও নৈতিকতায় প্রতিষ্ঠিত করে আদর্শ মানুষ গড়ে তুলছে তেমনি আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব-প্রাউটের বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী শোষণ নির্মুল করে সমাজের সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে আর্থিক বিকাশ পৌঁছে দেবে ও প্রত্যেকের হাতে সুস্থ জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়ের ক্রয়ক্ষমতা দেবে৷

আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক চেতনা সমাজ থেকে সর্বপ্রকার ডগমা ও কুসংস্কারের গণ্ডি ভেঙে মানুষকে প্রকৃত মানব ধর্মের পথে পরিচালিত করবে৷ তবেই গড়ে উঠবে আদর্শ মানব সমাজ৷

 

পুরুলিয়ায় খরার সতর্কবার্তা দিলেন বিজ্ঞানীরা

পি.এন.এ.
Fri, 03-07-2026

 স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’-র আক্ষরিক অর্থ ‘দুষ্টু বালক’৷ তবে প্রকৃতিতে এর প্রভাব কিন্তু মোটেও ছেলেখেলা নয়৷ ২০২৬-এর মাঝামাঝি থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে এল নিনো আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে ‘সুপার এল নিনো’ হিসাবে ভয়ানক হয়ে উঠবে৷ এমনই আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের৷ তাতে ছোটনাগপুর মালভূমি ও পুরুলিয়া জেলা বড়সড় সংকটের মুখোমুখি হবে বলে মত তাঁদের৷ এমনই পুরুলিয়া খরাপ্রবণ জেলা৷ সুপার এল নিনোর প্রভাব আছড়ে পড়লে গোটা জেলায় ভয়ানক খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ সাধারণত জুন মাস থেকে ভারতে বর্ষার আগমন ঘটে৷ কিন্তু এল নিনোর প্রভাবে সেই চক্র এবার এলোমেলো হয়ে যেতে পারে৷ সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বর্ষা এবার ‘ফিটস অ্যান্ড স্টার্টস’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্নভাবে আসছে৷ কোথাও হঠাৎ প্রবল ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি হচ্ছে৷ পরক্ষণেই সেখানে ফিরে আসছে দাবদাহ৷ এটাই মূলত সুপার এল নিনোর উপসর্গ বলে বিজ্ঞানীদের মত৷ এখন এমন পরিস্থিতি ছোটোনাগপুর মালভূমির এলাকা গুলিতে দেখা দিচ্ছে৷ প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের জলস্তরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং বাণিজ্যিক বায়ুর দিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের বর্ষার স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের৷

সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক তথা ভূ-বিজ্ঞানী ডঃ বিশ্বজিৎ বেরা বলেন, ‘এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করবে৷ এটি একটি পূর্বাভাসমাত্র৷ এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, চিলি, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা হতে পারে৷ অন্যদিকে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে৷’ বিশ্বজিৎবাবুর মতে, ‘উত্তর-মধ্য ভারত, কর্ণাটক এবং ছোটনাগপুর মালভূমি, বিশেষত পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের মতো অঞ্চলগুলিতে এল নিনোর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ যদি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়, তবে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাবে৷ তখন তীব্র পানীয় জলের সংকট ও কৃষি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে৷’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা এবং জলের সঠিক ব্যবস্থাপনা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে৷ তবে আশার কথা, এল নিনো মানেই যে নিশ্চিত খরা, তা নয়৷ এটি একটি ঝুঁকির সংকেত৷ বলছেন বিজ্ঞানীরা৷ 

 

 

উত্তরপ্রদেশে অমানবিক চিকিৎসক

পি.এন.এ.
Fri, 03-07-2026

সরকারি হাসপাতাল৷ বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে পরিষেবা পাওয়াই নিয়ম৷ কিন্তু ঘুষ চেয়েছিলেন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ চিকিৎসক৷ তা দিতে না পারায় কিশোরীর পা জুড়েও ভেঙে দিলেন তিনি৷ এমনই অমানবিক কাজের অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশের মুজফরপুরে৷ 

জানা গিয়েছে, ১৪ বছরের ওই কিশোরী মানসিকভাবে অসুস্থ৷ একটি দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়৷ চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় তার মা৷ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের নির্দেশও দেন শীর্ষ আধিকারিকরা৷ সেই মতো কিশোরীকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা৷ অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ২৫ হাজার টাকা ঘুষ চান৷ কিন্তু বহু কষ্ট করেও ৮ হাজার টাকার বেশি জোগাড় করতে পারেননি কিশোরীর বিধবা মা৷ বাকি টাকা সংগ্রহ করতে বলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভাঙা পা জুড়ে দেন চিকিৎসক৷ তারপর বাকি টাকা দাবি করেন তিনি৷ কিন্তু মেয়েটির মা জানান, তাঁর পক্ষে আর টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়৷ অভিযোগ, তা শুনে বেজায় চটে যান ওই চিকিৎসক৷ স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা জানিয়ে ফের রোগীকে নিয়ে আসতে বলেন তিনি৷ অভিযোগ, সেখানে আসতেই মেয়েটির হাঁটু মুড়ে জুড়ে দেওয়া পা ফের ভেঙে দেন চিকিৎসক৷ ভাঙার শব্দও শোনা যায়৷ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতে থাকে কিশোরী৷ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে পরিবারের দাবি৷ বিষয়টি জানার পরই বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন চিফ মেডিক্যাল অফিসার সুনীল তিওয়ারি৷ তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকের তরফে কোনো ত্রুটি বা গাফিলতি ধরা পড়লে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে৷ 

 

 

প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান আন্দামানে

পি.এন.এ.
Fri, 03-07-2026

আন্দামান উপকূলে নতুন অনুসন্ধান কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে৷ এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে গুরুত্বপূর্ণ৷

আন্দামান উপকূলবর্তী অঞ্চলের আরও একটি অনুসন্ধান কূপে মিলল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলল৷ শুক্রবার একথা জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড৷ সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত তিনটি কূপের মধ্যে দু’টিতে হাইড্রোকার্বনের হদিশ পেয়েছে৷ এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্ঢেম্বরে বিজয়পুরম-২ কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের হদিশ মিলেছিল৷ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে সাম্প্রতিক এই আবিষ্কারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে ১৫ কিমি দূরের সমুদ্রে রয়েছে বিজয়পুরম-৩ অনুসন্ধান কূপ৷ অয়েল ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সেখানেই প্রায় ৩৫৫ মিটার গভীরে প্রাকৃতিক গ্যাসের হদিশ মিলেছে৷ বর্তমানে গ্যাসের গুণমান যাচাই করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি গবেষণামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উৎস সন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়েল ইন্ডিয়া৷

 

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved