আনন্দমার্গ সর্বাত্মক জীবনাদর্শের প্রবক্তা ও প্রবর্তক জগদগুরু শ্রী শ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর শৈশব, বাল্যাবস্থা ও কৈশোরের পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত পৈতৃক বাড়ি বর্ধমান জেলার ‘বামুন পাড়াতে’ গতকাল ১৪ই সেপ্ঢেম্বর মহাসমারোহে পালিত হল ৪৪ তম প্রভাত সঙ্গীত দিবস৷ বহু বছর পর বাবার পৈতৃক বাসভূমি বামুনপাড়ায় যাবার সুযোগ হল৷ এই অনুষ্ঠানে বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মার্গী ভাইবোন ছাড়াও বীরভূম, হাওড়া ও কলিকাতা প্রভৃতি জেলা থেকে আনন্দমার্গের বহু সদস্যবৃন্দ যোগ দেন৷
সকাল সাড়ে আটটা থেকে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় প্রভাত সঙ্গীত দিয়ে৷ তারপর ভক্তরা সমবেতভাবে কীর্তন সাধনা ও গুরুপূজা করেন৷ এরপর শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব৷
সংঘের অশীতিপর সন্ন্যাসী আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত বলেন --- ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্ঢেম্বর বাঙালীস্তানের অংশ বর্তমান ঝাড়খন্ডে অবস্থিত দেওঘরে পরম পূজনীয় বাবা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী ওরফে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার প্রথম সঙ্গীত রচনা করেন ও তাতে সুর সংযোজনাও করেন৷ তার রচিত প্রথম গানটি হল----‘বন্ধু হে নিয়ে চলো আলোর ওই ঝর্ণাধারার পানে’৷ শ্রদ্ধেয় দাদা এরপর ওই প্রথম গানটি সবাইকে গেয়ে শোনান ও পরে বলেন ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্ঢেম্বর যে গানের সৃষ্টি তিনি করেছিলেন তা আট বছর পরে শেষ করেন৷ ১৯৯০ সালের ২১শে অক্টোবর তার মহাপ্রয়াণের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গান রচনা করে গেছেন এবং এই সংগীতের তিনি নাম দেন প্রভাত সঙ্গীত৷ এরপর প্রভাত সঙ্গীতের বিশাল সম্ভার থেকে কিছু গান চয়ন করে পরিবেশন করেন যথাক্রমে শ্রীমতী ছন্দা গড়াই, মলিনা গড়াই, চয়নিকা মন্ডল, মানবেন্দ্র ঘোষাল, রাজীব সাহা, বিমল বর্মন, শঙ্করদা, আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত, আচার্য অভয় ব্রহ্মচারী ও আরো অনেকে৷
এরপর নোতুন পৃথিবী পত্রিকার সম্পাদক আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত বলেন---শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার রচিত ও সুরারোপিত গান বলেই যে কেবল এগুলির নাম প্রভাত সঙ্গীত তা নয়৷ প্রভাত সঙ্গীত--- আলোর সঙ্গীত৷ প্রভাত সঙ্গীত পুঁজিবাদ ও ভাবজড়তার নাগপাশে
আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা তমসাবৃত মানব সমাজকে আলোকে উত্তরণ তথা আলোর দিশা দেখায়৷ মার্গগুরু বাংলা ভাষা সহ সংস্কৃত, ইংরেজী, উর্দু, হিন্দী, অঙ্গীকা, মগহী ও মৈথিলী ইত্যাদি আটটি ভাষায় মোট পাঁচ হাজার আঠারোটি বিভিন্ন আঙ্গিকের সঙ্গীত রচনা করেছেন ও সমস্ত গানেই তিনি সুর সংযোজনাও করেছেন৷ প্রভাত সঙ্গীত এর মূল উপজীব্য আধ্যাত্মিকতা৷ প্রভাত সঙ্গীত আমাদের জীবনের সমস্ত রকম হতাশা- নৈরাশ্য, দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা- বেদনা, মলিনতা- আবিলতা, জড়তা- তামসিকতা থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিকতার পরশমনির স্পর্শে আমাদের পৌঁছে দেয় আনন্দলোকে৷
প্রভাত সঙ্গীত দুরন্ত আশা বাদের প্রতীক৷ প্রভাত সঙ্গীত মানব জীবনের সমস্ত জড়তার বন্ধন ছিন্ন করে মুক্তির গান শোনায়৷ তাই প্রভাত সঙ্গীত জীবনের গান৷ প্রভাত সঙ্গীত বর্তমান সাংস্কৃতিক জগতের কুহেলিকা সম নিকষ কালো অন্ধকারের জাল ছিন্ন করে আমাদের নোতুন ভোরের -----
প্রভাতের স্নিগ্দ আলোর ঝর্ণাধারায় অবগাহন করিয়ে বলে ---- ‘চলো যাই আলোকতীর্থে’৷
সঙ্গীতগুরু শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তার গানের ভাষায় জগদবাসীকে আহ্বান জানান এই বলে-----
‘আঁধার শেষে আলোর দেশে
অরুণ ভোরের কথা শোনাবো সবায় ডেকে ডেকে’৷