বর্তমানে সারা পৃথিবীতে জনসংখ্যা বহুল দেশগুলিতে নামে গণতান্ত্রিক শাসক৷ এইসব দেশগুলি যেমন আমেরিকা ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সরকার গুলি যেন চরম স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিচ্ছেন৷ শাসনের ফলে এই দুটি দেশকে দেখা যাচ্ছে তারা দেশের মহামান্য সুপ্রিমকোর্টকে গ্রাহ্য করছেন না পদে পদে৷ এমন কিছু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অস্বীকার করেই কাজ করে চলেছেন৷ ওই সরকার গুলি নির্বাচনে জয়ী হতে অনেক কারচুপি করে চলেছেন৷ এতে সমাজের যে অগ্রগতি সেটা ব্যর্থ হচ্ছে৷ তারা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী সরকার কারণ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে অস্ত্র বিক্রি করেছেন৷ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে একেবারে ধবংস করে বিশেষ করে আমেরিকা আমদানি শুল্ক এত বাড়িয়েছে যেটা কহতব্য নয়৷ মধ্য এশিয়ার খনিজ তেল সরবরাহের মূল ঘাটি সেই হরমুজ নিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে বসেছে আমেরিকা তাতে ইরানের দারুন ক্ষতি হচ্ছে ও সারা এশিয়ার জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিভিন্ন ঘটায় আশপাশের দেশগুলির দারুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে৷ তাতে গরীব পৃথিবীবাসীর বিশেষ করে এশিয়ার চরম সংকট বেড়েছে বই কমছে না৷ এ কেমন সুসভ্য দেশ! আজ মানুষ সভ্য হয়েছেন সারা পৃথিবীতে৷ তাই পৃথিবীটাই হয়ে গেছে একটি বৃহৎ পরিবার৷ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হয়ে কি করে শাসকগণ মহামান্য আদালতের রায় কে অগ্রাহ্য করে চরম দলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসক হিসাবে শাসনের নামে সেই নোংরা দলীয় সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেন চরম লজ্জার কথা রাষ্ট্রসঙ্ঘকেও অমান্য করা হয়৷ যেখানে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় দলের কাজকে তীব্র প্রতিবাদ করে ভোটে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে সেখানে তারা নীরব থাকেন৷ নিজেদের নাগরিকগণ চরম বিরোধিতা করছেন তাদের কাজে, উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন তারা সেটাকে গ্রাহ্য করছেন না, তাই এটাইতো দেশদ্রোহিতা৷ তাই গণতন্ত্র টাই হয়ে গেছে মূল্যবোধহীন সুবিধাবাদের স্বেচ্ছাচারীর শাসন৷ এতে কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার গণতন্ত্রকেই অস্বীকার করছে না৷
তাই আজকের এই যে চরম বিশৃঙ্খলা হয়ে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী শোষক ও তাদের অর্থে পুষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র৷ বৃহৎ রাষ্ট্রের লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলিকে গিলে খাওয়া অথবা শোষণের বাজার তৈরী করা৷ একে একেবারে নির্মূল করতে বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলির শাসিত নিপীড়িত অপেক্ষাকৃত আর্থিক শোষণে কাতর নাগরিকগণকে কিছুটা সাহসের সঙ্গে সচেতন হয়ে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাচূ্যত করাটাই কি যুক্তিযুক্ত নয়৷
নাগরিকগণ শেষ কথা বলেন তাদের সুষ্ঠু সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সাধারণ নির্বাচনে৷ অতি দুঃখের কথা নির্বাচন গুলিকে তারা ছল বল কৌশলে একেবারে প্রহসনে পরিণত করে পুনরায় জয়ী হতে যে পথগুলিকে আশ্রয় করে সেই পথগুলি যাতে চিরতরে বন্ধ হয়, জনগণের জন্যে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার যাতে ঘটিত হয় তার জন্যে জনগণকে সচেষ্ট হতে হবে৷ সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় হয়ে সব ষড়যন্ত্র অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে৷ এটা যে সম্ভব সম্প্রতি বাংলাদেশ, নেপাল, প্রভৃতি ক্ষুদ্ররাষ্ট্রগুলি সে নিদর্শন রেখেছে৷ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের কাছে সরকার মাথানত করতে বাধ্য হয়েছে৷ এইভাবেই জাগবে শোষিত নিপীড়িত ছাত্রযুবসমাজ৷ পৃথিবীর বুক থেকে স্বৈরাচারী শাসকেরা মুছে যাবে৷ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দহে৷ বাঁচার জন্য সকলের কিছু করাটা কর্তব্য৷ এটা সেই ঈশ্বরের নির্দেশ৷
স্বৈরাচারী শাসকের শেষই শেষ কথা নয়৷ প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্বের তথা প্রাউটের বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থা৷ প্রতিটি নাগরিকের জীবন ধারণের প্রাথমিক প্রয়োজন অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হবে৷ এ বিষয়ে প্রাউটের বক্তব্য---ধনতান্ত্রিক কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিলোপ করে প্রাউট নির্দিষ্ট পথে বিকেন্দ্রিত ব্লকভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে স্থানীয় সম্পদের যথার্থ উপযোগ গ্রহণ করে৷ এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষকেই নিয়োগ করতে হবে৷ এখানে বহিরাগতের কোন স্থান হবে না৷ এই ভাবে সারা বিশ্বে জলবায়ু, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সমস্যা ও সম্ভাবনা, মানুষের ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতিও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় অনুযায়ী প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে৷ তবেই সর্বপ্রকার শোষণমুক্ত আদর্শ মানব সমাজ গড়ে উঠবে৷
- Log in to post comments