Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আজকের দুপুরের গল্প ...গোলোইয়া

সমাজ মাধ্যম থেকে সংগৃহিত

তখন ‘পানি’কে ‘জল’ বললেই পিঠের উপর দুমদাম পড়তো৷

এটা আম্মার ইসলামি আদব লেহাজ শেখানোর অংশ ছিল৷ সাথে ছিল বাজখাই গলায় বকুনি, ‘মোসলমানের পোলা হইয়া পানিরে কস জল, ছি ছি ছি৷ এই হাতের গেলাসের পানি ফেলা৷ এই পানি এহন আর হালাল নাই, ফেলা, ফেলা৷ বিসমিল্লাহ বইলা আবার পানি নে৷ তারপর মাটিতে বইসা আদবের সাথে তিন ঢোক দিয়া খা, তিন ঢোকে সব পানি খাবি৷ এক ঢোকে না৷ এক ঢোকে পানি খায় শয়তানে’৷

আমি গ্লাসের পানি ফেলে দিয়ে আবার পানি নিয়ে মাটিতে বসে আদবের সাথে গ্লাসে চুমুক দিতে যাবো, অমনি আম্মার জোর চিৎকার, ‘পানি খাওনের দোয়া পরছস? জানোস দোয়া? দোয়া পড়, দোয়া পড়’৷

- দোয়াতো ভুইলা গেছি আম্মা!’

- ‘কি! দোয়া ভুইলা গেছস!! কই নিবি আমারে? কই? দোজখে? অক্ষন দোয়া মুখস্ত কর, অক্ষণ, বল, অসাকা হুম রববাহুম সরাবান তহুরা’৷ পড়, মুখস্ত কর, মুখস্ত কইরা তারপর এইখান থেইকা উঠবি’৷

আমি গভীর মনোযোগ এবং খানিক আগে দোয়া ভুলে যাওয়ার ভয় নিয়ে দোয়া মুখস্ত করতে বসে গেলাম৷ অসাকা হুম রববা হুম সরাবন তহুরা৷

এই দৃশ্য কেবল আমার একার না৷ কমবেশি সেই সময়ের আমাদের সবারই৷ আমরা তখন ভুলেও পানিকে জল বলি না৷ বরং বিলের পানিতে ফুটফুটে শাপলা ফুলের মধ্যেও তখন হিন্দু শাপলা আর মুসলমান শাপলা খুঁজি! চিকন চাকন দেখতে কট কটা লাল রঙের শাপলাগুলো হোল হিন্দু শাপলা৷ আর ধবধবে সাদা রঙের মোটা তাজা শাপলাগুলো মুসলমান শাপলা৷ আমরা বেছে বেছে সাদা শাপলাগুলো তুলে আনি৷ সেকালে গ্রামের মানুষদের বিনা পয়সায় পেটে জামিন দেয়ার নানান রকম ফন্দি ফিকির খুঁজতে হতো৷ সেক্ষেত্রে তরকারি হিসেবে শাপলা ছিল অপ্রতিদ্বন্ধি৷ চিংড়ির সাথে শাপলার ঝোল কিংবা ভাজির স্বাদ এখনো চোখ বুজলেই জিভের ডগায় লেপটে থেকে চাগিয়ে ওঠে! আহা!

কে শিখিয়েছে, কিংবা কিভাবে শিখিয়েছে জানি না৷ তবে এই হিন্দু মুসলমান বিভাজন খুঁজতাম সবকিছুতেই৷ হিন্দুদের আমরা বলতাম ‘নোমো’৷ এই নোমোদের সবকিছুই খারাপ৷ আমাদের কাছে ‘নোমো’ মানেই খারাপ৷ যেন একটা গালি! এরা পরিত্যাজ্য৷ কেবল চুল কাঁটাতে বিপুল নাপিত ‘নোমো’ হলেও তার কাছে যাওয়া যাবে, আর দা কুড়াল ধার দিতে শিতেশ কম্মকার! আমরা বাচ্চারাও এই বিভাজন সবক্ষেত্রেই মেনে চলতাম৷ কঠোরভাবে মেনে চলতাম৷ এমনকি আর সব পিঁপড়ার মধ্যে থেকেও ছোট ছোট লাল পিঁপড়েগুলোকে বেছে বেছে আঙুলের ডগায় পিষে দিতাম৷ যা বাবা! একটা ‘নোমো’ পিঁপড়াতো গেল!

‘নোমো’দের সব জিনিসকে খারাপ ভেবে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললেও চৈত্র মাস এলেই কেমন গাই গুই করা শুরু করতাম৷ আম্মার কাছে গিয়া বলতাম, ‘আপনে যে কন হিন্দুদের সব কিছুই খারাপ, এই কথা কিন্তু সত্য না’৷

- ‘কিভাবে সত্য না?’

- ‘এই যে দেখেন আদর্শ লিপি নামে যে বই আছে, সেই বই ভর্তি ভালো ভালো লেখা, এই বই কে লিখছে? লিখছে, সীতানাথ বসাক৷ সে কি হিন্দু? না মুসলমান? সে কিন্তু হিন্দু৷ দেখছেন কি ভালো ভালো কথা লেখছে!’

আম্মা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ কটমট করে বললেন, ‘আসল উদ্দেশ্য কি সেইটা বল’৷

আমি উদাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি৷ সেখানে বিশাল শিমুল গাছের মাথায় লাল শিমুল ফুলগুলো পরিণত হয়ে বড় বড় ফল হয়েছে৷ সেই শিমুল ফলের ভিতরেই শিমুল তুলা৷ বাজারে সেই শিমুল তুলার দাম মাশাল্লাহ ভালো৷ আমি কিছু তুলা এর মধ্যেই বিভিন্ন গাছ থেকে চুরি টুরি করে জমিয়ে রেখেছি৷ আরও কিছু তুলা জমাতে পারলেই কেল্লা ফতে৷ সময় আর বেশি বাকি নাই৷ আরতো মাত্র ক’টা দিন৷ তারপরেই...!

আম্মা আবার জিজ্ঞাস করেন, ‘কিরে, মতলব কি?’

আমি উদাস গলায় জবাব দেই, ‘মতলব কিছু না’৷

আম্মা হঠাৎ কড়ে আঙুলে মাস গোনেন আশ্বিন, কার্তিক... চৈত্র... বৈশাখ...! হ্যা, বৈশাখ৷ বাংলা নববর্ষের মাস! 

তারপর হঠাৎ শক্ত হাতে আমার কান চেপে ধরেন, ‘ওরে আল্লাহ! তুই এইবারও গোলোইয়ায় যাবি! গোলোইয়ায় যাবি! তোর সাহসতো কম না’! আমি নির্বিকারভাবে বলি, ‘সবাইতো যায় আম্মা, আমি গেলে কি হইছে?’

আম্মা বলেন, ‘গুনা হইব বাজান, এই সব মেলা ফেলায় যাওন ভালো না৷ ওইখানে পূজা হইব, নাচ গান হইব, ওইখানে যায় না বাজান’৷

কিন্তু আম্মা জানেন, তিনি ‘গোলোইয়ায়’ যাওয়া থেকে আমাকে ফেরাতে পারবেন না৷ আমি যাবোই৷ আমাদের অঞ্চলে তখন বাংলা নববর্ষে বিশাল বৈশাখী মেলা হতো৷ গৌরনদী অঞ্চলের এই বিশাল মেলাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হতো গোলোইয়া৷ এই গোলোইয়া নিয়ে তখন আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সে কি উন্মাদনা! উত্তেজনা! কৌতূহল! সেই মেলায় যাত্রাপালা হয়, পালাগান হয়, পূজা হয়! কি সুন্দর সব প্রতিমা! কিন্তু হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার সেই মেলা তখন যেন আর আমার মতো মুসলমান পরিবারের কাছে বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয়, যেন শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির উপলক্ষ্য৷ আমাদের তাই সেখানে যাওয়া বারণ! আমি ঘরের কোণায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি! আর জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি, ইশ! কত মানুষ রঙবেরঙের জামা পড়ে গোলোইয়ায় যাচ্ছে! কতো কতো মানুষ গোলোইয়া থেকে ফিরছে! ইশ! তাদের হাত ভর্তি কত কত খেলনা! কতো কতো জিলিপি, সন্দেশ, মুড়িমুড়কি, নাড়ু, বাতাসা! ইশ!

রঙের পসরা মেলে বসা সেই মেলা যেন বর্ণীল জীবনের সবটুকু রঙ৷ আমার মতো কিশোরের কাছে সেই রঙ তখন স্বপ্ণের দেশ! রূপকথার জগত! সেখানে হিন্দু-মুসলমান, পাপ-পুণ্য কিংবা ন্যায়- অন্যায়ের বোধ তখন নিতান্তই গৌণ৷ আমরা উন্মুখ হয়ে থাকি গোলোইয়া শুরুর মাস তিনেক আগে থেকেই৷ কি কি কিনবো মনে মনে তার তালিকা করি৷ উশখুশ করি৷ নানান ফন্দি ফিকির করি, প্ল্যান-পরিকল্পনা করি৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে টাকা কই পাবো? টাকা? আম্মাতো যেতেই দিবেন না৷ টাকা দেয়াতো অনেক দূরের কথা! যেতে হলেও যেতে হবে আম্মাকে না বলে৷ পালিয়ে৷ কিন্তু টাকা কোথায় পাবো?

টাকার ব্যাবস্থাও অবশ্য আমাদের আছে৷ আমরা গাছে গাছে পেকে যাওয়া শিমুল তুলো চুরি করে শিমুল তুলো জমাই৷ লুকিয়ে লুকিয়ে রোদে শুকাতে দেই৷ ভেজা তুলা কেউ কেনে না৷ প্রতিদিন আম্মার চোখ লুকিয়ে সেই তুলা রোদে শুকাই, আবার নিজের গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখি৷ দিনে দিনে একটু একটু করে ওজন বাড়ে৷ আজ-কাল-পরশু৷ প্রতিদিন ওজন মেপে দেখি! ইশ! যদি এক কেজী হতো! তাহলে কত দাম পাবো? তিরিশ টাকা? নাকি চল্লিশ? ভাগ্য ভালো হলে পঞ্চাশও পেয়ে যেতে পারি!

পঞ্চাশ টাকায় কি কি পাওয়া যায়?

আমি সেবার এক কেজির মতো তুলার ব্যাবস্থা করে ফেললাম! সত্যি সত্যি এক কেজী! রাতে আমার ঘুম হয় না! ছটফট লাগে! দমবন্ধ লাগে উত্তেজনায়, আনন্দে! টেনশনে! ইশ! এক কেজী! কি কি কিনবো? লাল নীল চরকী, লম্বা বাঁশি, চশমা, বাতাসা... আমার আর সময় কাটে না৷ রাত ভোর হয় না, ভোর হলে দুপুর হয় না৷ সন্ধ্যা হলে রাত হয় না৷ গোলোইয়ার দিন আর আসে না, আসে না৷

গোলোইয়ার দিন দুপুরে শুকনো ক্ষেতের আইল ধরে হাটা দেই৷ নদী পেড়িয়ে গৌরনদী হেঁটে যেতে যেতে ঘণ্টাখানেক লাগবে৷ আমি জোর কদমে হাটি৷ গা বেয়ে ঘামের স্রোত নামে৷ কিন্তু বুকের ভেতর উচ্ছ্বাস! আরতো কিছুক্ষন! তারপরই সেই গোলোইয়া! সেই মেলা! আমি মাথা নিচু করে হাতের তুলার বস্তাটা দেখি! বুকের ভেতর প্রজাপতিরা ডানা ঝাঁপটায়৷ নানান রঙের প্রজাপতি৷ লাল, নীল, হলুদ! ওরা বুকের ভেতর রঙ ছড়িয়ে পাখা ঝাঁপটায়৷

আজ রঙের দিন! খেয়া নৌকা নদী পাড় হবো৷ নৌকা ভর্তি গিজগিজে মানুষ৷ আমি কোন মতে গুটিসুটি মেরে নৌকার পাটাতনে উঠে পড়ি৷ তুলোর বস্তাটা বুকের সাথে চেপে ধরি৷ গোলোইয়ায় যাওয়া মানুষের ভিড়ে নৌকাটা টইটুম্বুর৷ তিল ঠাই আর নাহিরে অবস্থা৷ নৌকাটা হঠাৎ বা পাশে কাঁত হয়ে পড়ে৷ কাঁত হয়ে পড়ে৷ আমি প্রাণপণে পাটাতনের কাঠ ঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি৷ কিন্তু পারি না৷ টুপ করে পড়ে যাই জলের ভেতর৷ আমি এক না৷ আরও অনেকেই৷ কিন্তু তাদের আমি দেখি না৷ সেই বুক সমান জলে দাঁড়িয়ে আমি সেই তুলার বস্তাটা জলের ভেতর থেকে টেনে বের করি! অতো হালকা বস্তাটা জলের ভেতর এতো ভারী হয়ে আছে যে আমি আর টেনে তুলতে পারি না! আমার চোখের ভেতর জ্বালা করে ওঠে৷ টুপটুপ করে ক’ফোটা চোখের জল সেই নদীর পানিতে মিশে যায়৷ কি অদ্ভুত! কান্নার জল নদীর জল থেকে আলাদা করা যায় না৷

পরিশিষ্ট ঃ দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে৷ সেই ভেজা তুলার বস্তা নিয়ে আমি বসে আছি সেই নদীর পাশেই ক্ষেতের মাঝে এক বাঁশবাগানের ভেতর৷ বাঁশবাগানের পাশের হিন্দু বাড়িটা থেকে উলুধবনির শব্দ আসছে! আমার ভয় লাগছে৷ চোখের কোলে শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ৷ তবুও আমি সেই অন্ধকারে বসে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি আর কাঁদি! অন্ধকার আরও গভীর হয়, আমি কাঁদতেই থাকি! কাঁদতেই থাকি৷ হঠাৎ সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে কেরোসিনের কুপি হাতে কেউ একজন এগিয়ে আসেন৷ তার সিঁথিতে সিঁদুর৷ এক ‘নোমো’ মহিলা৷ তিনি এসে পরম মমতায় আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কি হইছে তোমার? কান্দ ক্যান?’

আমি জবাব দেই না৷ কাঁদতেই থাকি৷ তিনি তার কুপির আলোয় আমার পাশে পড়ে থাকা ভিজে চুপচুপে হয়ে যাওয়া তুলোর বস্তাটা দেখেন৷ তাকে আমি কিছু বলি না৷ কিন্তু তিনি যেন সব বুঝে যান৷ তিনি চুপচাপ আমার পাশে এসে বসেন, ‘তোমাগো বাড়ি কই বাপ? কইত্থেইকা আইছ? মেলায় আইছিলা? বাড়িতে বইলা আসো নাই? খাইছ কিছু? আসো আমার লগে আসো, বাড়ির ভিতর আসো’৷

আমি তার কোন প্রশ্ণের জবাব দেই না৷ কিন্তু তার পিছু পিছু বাড়ির ভেতর যাই৷ আমার কেন যেন ভয় করে না৷ এতো দিন লালন করে আসা ‘নোমো’ দের প্রতি কোন বিতৃষ্ণাও কাজ করে না৷ আমার কেবল মনে হয়, এই মানুষটা আমার চেনা৷ বহু দিনের চেনা৷

পরদিন ভোরে পাগলপ্রায় আম্মা এসে হাজির৷ তিনি কিভাবে খবর পেয়েছেন কে জানে! আমাকে জড়িয়ে ধরে উথাল পাথাল কান্না৷ সিঁথিতে সিঁদুর আঁকা সেই ‘নোমো’ মহিলাটিকে ধরেও৷ তাকে বুকের সাথে চেপে ধরে আম্মা কাঁদেন! সেই কান্নায় ধুয়ে মুছে যায় এতো এতো বছর, এতো এতো দিন, এতো এতো মুহূর্ত ধরে গড়ে তোলা বিভেদের দেয়াল! হিন্দু আর মুসলমান! মিলেমিশে এক হয়ে যায় অদ্ভুত ভালোবাসায়, বিশ্বাসে, অনুভূতিতে, কান্নায়! আমি অবাক চোখে তাকিয়ে দেখি৷ আমার হাতে তখন লাল-নীল-হলুদ রঙের চরকি, লম্বা বাঁশি, প্ল্যাস্টিকের চশমা, হাতের ভেতর পলিথিনে মোড়া নারকেলের নাড়ু, ধবধবে সাদা বাতাসা৷

ওই সিঁদুর পড়া মহিলাটা আমাকে কিনে দিয়েছেন৷ আমি হঠাৎ আমার মায়ের সাথে আর ওই সিঁদুর পড়া মানুষটার সাথে আর কোন তফাৎ খুঁজে পাই না৷ লাল পিঁপড়া আর কালো পিপড়াতেও না৷ লাল শাপলা আর সাদা শাপলাতেও না, জল আর পানিতেও না৷ আমি কোন তফাৎ খুঁজে পাই না৷

তফাৎ খুঁজে পাই না এই মানুষ দুজনের মধ্যেও৷ সেই সিঁদুর পড়া হিন্দু মমতাময়ী নারী আর আমার মায়ের ভেতর আলাদা করে কিছু খুঁজে পাই না আমি! কিচ্ছু না! শুধু খুঁজে পাই দুজন মানুষ! দুজন নারী৷ দুজন মমতাময়ী মা৷              (সংগৃহীত)

1

ওজন কমাতে প্লাস্টিক খাচ্ছেন চিনের মানুষ

পি.এন.এ ঃ ওজন বেশি হলেই শরীরে হাজার ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে৷ ডায়াবিটিস হোক বা কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ হোক বা বাতের সমস্যা চিকিৎসকের কাছে গেলেই তাঁরা সবার আগে সাধারণত ওজন কমানোর পরামর্শ দেন৷ ছিপছিপে শরীর পেতে অনেকেই সমাজমাধ্যম দেখে রকমারি ডায়েটের স্রোতে গা ভাসান৷ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং থেকে শুরু করে কিটো ডায়েট, মেডিটেরেনিয়ান থেকে ওম্যাড ডায়েট সমাজমাধ্যম খুললেই ওজন কমানোর একাধিক পন্থা চোখে পড়ে৷ সম্প্রতি চিনের বাসিন্দাদের মধ্যে ওজন কমানোর নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে৷ রোগা হতে প্লাস্টিক খেতে শুরু করেছেন তাঁরা!

শুনতে অবাক লাগলেও চিনে প্লাস্টিক খেয়ে ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে৷ লোকে খাবার খাওয়ার আগে একটি পাতলা প্লাস্টিকের টুকরো পুরে দিচ্ছেন মুখে৷ তার পর তাঁরা খাবারটি চিবিয়ে কিছু ক্ষণ মুখে রাখছেন এবং শেষে গিলে ফেলার পরিবর্তে প্লাস্টিক-সহ খাবারটি মুখ থেকে বার করে আনছেন৷ এর ফলে খাবার পেটে না গেলেও মস্তিষ্কে খাবার খাওয়ার সংকেত পৌঁছে যায়৷ যাঁরা লোভনীয় খাবার দেখে নিজেদের আটকাতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই টোটকাটি বেশ কাজের৷ এর ফলে, বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে৷

না খেয়েই পেট ভরা অনুভব করার ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এই প্রবণতাটি৷ তবে চিকিৎসকেরা ওজন কমানোর এই প্রক্রিয়াটি আদৌ ভাল চোখে দেখছেন না৷ তাঁদের মতে, অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেন না যে, ওজন কমানোর নামে তাঁরা প্রয়োজনীয় পুষ্টির পরিবর্তে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করাচ্ছেন৷ এই ভাবে ডায়েট করে সাময়িক ভাবে ওজন কমলেও শেষমেশ শরীরের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে৷ বাড়ছে ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি৷ এই ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যকর নয়৷ এই পদ্ধতি মেনে খেলে শরীরের ফ্যাট গলতে পারে না, শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না৷ ফলস্বরূপ পেশি আর শরীর দুর্বল হতে শুরু করে৷

চিকিৎসক শুভম সাহার পরামর্শ, এ ভাবে প্লাস্টিক খেয়ে ওজন কমানোর পরিবর্তে ডায়েটে ফাইবার, প্রোটিন আর জলীয় পদার্থ বেশি করে রেখে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর৷ ফাইবার প্রোটিন বা জলীয় উপাদানে সমৃদ্ধ খাবারে ক্যালোরি কম থাকা সত্ত্বেও তা দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে পারে৷ অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা চিনিযুক্ত খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি হলেও তা খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খিদে পেয়ে যায়, যার ফলে আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি৷ তাই সমাজমাধ্যম দেখে ডায়েট না করে, পুষ্টিবিদের থেকে পরামর্শ নিয়ে ডায়েট করাই স্বাস্থ্যসম্মত৷ আপনার ওজন, উচ্চতা আর শারীরিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে তাঁরাই বলতে পারবেন যে, কোন খাবার, কতটা পরিমাণে খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতিও হবে না আর ওজনও ঝরবে দ্রুত৷

12

কেমো ছাড়া সম্ভব ক্যান্সার চিকিৎসা

পি.এন.এ ঃ ক্যানসারকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধবংস করার নানা পদ্ধতিই এসেছে এত দিন৷ কিন্তু এতে শত্রুনাশ যেমন হয়, তেমন সুস্থ কোষেরও ক্ষতি হয় বিস্তর৷ একটি কোষকে পোড়াতে গিয়ে, পুড়ে যায় চারপাশের নিরীহ কোষগুলিও৷ দহনজ্বালা সইতে হয় গোটা শরীরকেও৷ তাই জ্বালানো বা পোড়ানোর দিকে আর যেতে চাইছেন না গবেষকেরা৷ বদলে এখন লক্ষ্য হাড়হিম ঠান্ডায় আক্রান্ত কোষগুলিকে জমিয়ে বরফ করে দেওয়া৷ এতে সাপও মরবে, আবার লাঠিও ভাঙবে না৷ টিউমার জমে বরফ হয়ে নিষ্ক্রিয় হবে, তার আশপাশের কোষও শীতল হবে৷

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্রায়ো্যাবলেশন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে৷ থেরাপিটি মানুষের শরীরে প্রয়োগও করা হচ্ছে৷ এমন থেরাপি এ দেশেও হয়৷ ক্রায়ো্যাবলেশনের প্রক্রিয়া ক্রায়োথেরাপির মতোই৷ চিকিৎসকেরা একে ফ্রিজ থেরাপিও বলেন৷ কিডনি, লিভার, ফুসফুস, স্তন এবং হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এর প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ প্রথমে আলট্রাসাউন্ড ও সিটি স্ক্যানের সাহায্যে টিউমারের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা হয়৷ তার পর খুব সূক্ষ্ম সুচ ফুটিয়ে তরল নাইট্রোজেন, হিলিয়াম বা আর্গন গ্যাস টিউমারে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে৷ এই তরল গ্যাসের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়েও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম৷ ফলে টিউমারের চারপাশে বরফের গোলক তৈরি হবে৷ তরল গ্যাস ক্যানসার কোষের যত ভিতরে ঢুকতে শুরু করবে, ততই তা জমতে থাকবে৷ শেষে ক্যানসার কোষের ভিতরে ও বাইরে বরফের ক্রিস্টাল তৈরি হবে৷ এই ক্রিস্টাল এমন প্রাচীর তৈরি করবে, যা ভেদ করে রক্ত ও শরীরের পুষ্টি উপাদান কোষগুলিতে পৌঁছোতে পারবে না৷ ফলে একটা সময়ে গিয়ে কোষগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়বে, তাদের বাইরের আবরণী বা কোষের পর্দা ফেটে যাবে ও কোষগুলি বিভাজিত হতে না পেরে নষ্ট হতে থাকবে৷

কেন লাভজনক ক্রায়ো্যাবলেশন? কাটাছেঁড়া নেই বলে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী যন্ত্রণা কম হবে৷ ক্যানসার চিকিৎসক শুভদীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই থেরাপিতে শরীরের ভিতরে কোনও রশ্মি ঢুকবে না, তাই সুস্থ কোষগুলির ক্ষতি হবে না৷ তরল নাইট্রোজেন বা অন্য গ্যাস এত কম মাত্রায় ঢোকানো হবে, যার কোনও ক্ষতিকর প্রভাব শরীরে পড়বে না৷ এই থেরাপির একমাত্র উদ্দেশ্য হল ক্যানসার কোষকে জমিয়ে বরফ করে ধবংস করে দেওয়া৷ শুধু সেই কাজটুকুই করা হবে৷ কিডনির টিউমারের ক্ষেত্রেও এই থেরাপিটি বিশেষ ভাবে উপযোগী বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা৷ রোগীদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ক্রায়ো্যাবলেশনে টিউমারকে জমিয়ে তার অপসারণও সম্ভব হয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, চিরদিনের মতো ক্যানসার ফিরে আসার পথটিকেও বন্ধ করে দেওয়া গিয়েছে৷ এই থেরাপির কারণে রোগীর আর ডায়ালিসিস করার প্রয়োজনও হয়নি৷ গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় থেরাপিটি করলে ফের ক্যানসার ফিরে আসার আশঙ্কা কমবে৷ চিরকালের মতো রোগমুক্তি ঘটবে৷

13

পোস্ত

পরিচয় ঃ ‘পপি’ নামে এক রকমের ছোট ফুলের গাছ ইয়ূরোপ থেকে এদেশে এসেছিল৷ এটি শীতকালের মরশুমী ফুল৷ ভারতে এখন শখের ফুল হিসেবে অনেকেই বাগানে চাষ করেন৷ ফুলের রঙ নানান ধরনের–লাল, শাদা, হলদে, ৰেগনে৷ এটি নির্দোষ বা নির্বিষ বর্গীয়৷ ফুল ঝরে যাবার পর এর গাছে যে ৰীজকোরক আসে সেটা ছোট ও লম্বাটে৷ তার গা চিরে দিলে যে রস বের হয় তা নির্দোষ৷ ৰীজকোরকে যে ৰীজ হয় তা কালচে রঙের৷ এই পপির যে প্রজাতিটি ওপিয়াম পপি নামে পরিচিত, তা কিন্তু ভারতে বিদেশ থেকে আসেনি৷ সেটা এদেশেরই ফুল৷ সাধারণ পপি ও ওপিয়াম–পপির মধ্যে তফাৎ হ’ল, সাধারণ পপির চেয়ে এর পাতা ৰড়, মোটা, পুষ্ট ও সতেজ ও একটু বেশী রকমের জোরালো সবুজ৷ সাধারণতঃ এর ফুল ঘি–রঙের, দেখতে সাধারণ পপির ফুলের মতই–তবে একটু ৰড়৷ ব্রিটেনে দেখেছি, কোন কোন চাষী শখ করে গমের ক্ষেতের ভেতরে কিছু সাধারণ পপির ৰীজও ছিটিয়ে দেন৷ ফুল ফুটলে ভারী সুন্দর দেখায়৷ সেগুলির কেউই ওপিয়াম–পপি নয়৷ ভারতেও বাগানে কেউ ওপিয়াম–পপি লাগান না৷ লাগানো আইনতঃ নিষিদ্ধ, কারণ ওপিয়াম–পপির চাষ কেন্দ্রীয় সরকারের আৰগারী বিভাগ কর্ত্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে৷

পোস্ত সাত্ত্বিক–পোস্তর গুণাগুণ ঃ ওপিয়াম পপির ৰীজকোরক সাধারণ পপি থেকে ৰড় ও পুষ্ট৷ এর গা চিরে দিলে এর থেকে রস বা আঠা বেরোয়৷ তাই হ’ল কাঁচা আফিং৷ এই ওপিয়াম পপির ৰীজকোরকে যে ৰীজ থাকে তার রঙ ফিকে ঘি–রঙের, তাকে আমরা পোস্ত বলে থাকি৷ কী অদ্ভুত ব্যাপার, পোস্তর ৰীজকোরকের আঠা ৰড় রকমের নেশা ও অধিক মাত্রায় সেবন করলে ৰড় রকমের বিষ, অথচ ভেতরকার ৰীজ পোস্তর দানা, যা একটি সত্ত্বগুণসম্পন্ন বস্তু, তা শরীরের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে৷

তরল ভেদ–বমিতে ও উদরাময়ের ৰাড়াৰাড়ি অবস্থায় গরম ভাতে অল্প পরিমাণ কাঁচা পোস্ত ৰাটা ঈষৎ লবণ সহযোগে ভক্ষণ করলে দ্রুত রোগ অপসারণে সাহায্য করে৷ ৰাংলার মানুষ (বিশেষ করে রাঢ়ের মানুষ) পোস্তর ৰড়া তো খায়–ই, আলু–পোস্ত, ঝিঙ্গে–পোস্ত, ৰড়ি–পোস্ত, কুঁদরী–পোস্ত, কাঁচা পোস্ত–ৰাটা–সবই সাগ্রহে খেয়ে থাকে৷ কথায় ৰলে ‘‘অতি সর্বত্র বর্জয়েৎ’’৷ খুব বেশী পোস্ত খেলে অপাক আমাশয় হতে পারে৷ তবে মাঝারী পরিমাণ পোস্ত খেলে তা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য দু’য়ের ৰৃদ্ধিতেই সাহায্য করে৷

পোস্ত শরীরকে পোষণ করে ৰলে সংস্কৃতে এর একটি নাম পোষিত (পোষিত> পোষ্ত>পোস্ত–‘ষ’ মূর্দ্ধ বর্ণ৷ তার সঙ্গে দন্ত্য বর্ণ ‘ত’ এর সংযুক্তি হয় না৷ তাই ‘পোস্ত’ বানানে ‘ষ’এর স্থানে ‘স’এর আগম হচ্ছে)৷

পোস্ত ও রাঢ়বাসী ঃ আফিং গাছের ৰীজকোরকের দানা (পোস্ত) একটি সাত্ত্বিক খাদ্য৷ এর পৌষ্টিক গুণ ও তৎসৎ ঔষধীয় গুণও রয়েছে৷ ৰাংলার, বিশেষ করে রাঢ়ের মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য হচ্ছে–এই পোস্ত৷ রাঢ় একটি দরিদ্রভূমি–অন্ততঃ বর্ত্তমান সমাজ–ব্যবস্থায়৷ রাঢ়ে আফিং চাষ করতে দেওয়া হয় না৷ তাই রাঢ়বাসী তাদের প্রিয় খাদ্য ক্রয়ের জন্যে লক্ষ লক্ষ টাকা তো বটেই, এমনকি কোটি কোটি টাকাও ব্যয় করে বাইরে থেকে এই পোস্ত কেনবার জন্যে৷ গত ১৯২৯ সাল থেকে ১৯৩৪ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার (economic depression) সময়েও

তরল ভেদ–বমিতে ও উদরাময়ের ৰাড়াৰাড়ি অবস্থায় গরম ভাতে অল্প পরিমাণ কাঁচা পোস্ত ৰাটা ঈষৎ লবণ সহযোগে ভক্ষণ করলে দ্রুত রোগ অপসারণে সাহায্য করে৷ কথায় ৰলে ‘‘অতি সর্বত্র বর্জয়েৎ’’৷ খুব বেশী পোস্ত খেলে অপাক আমাশয় হতে পারে৷ তবে মাঝারী পরিমাণ পোস্ত খেলে তা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য দু’য়ের ৰৃদ্ধিতেই সাহায্য করে৷

মানভূম জেলার চাণ্ডিলের গ্রামাঞ্চলে দেখেছি গরীব মজুর শ্রেণীর মানুষও পাঁচটি পয়সা নিয়ে বেণের দোকানে (লটকনের দোকান) গিয়ে কিনত ১ পয়সার চাল, ১ পয়সার ডাল, ১ পয়সার সরষের তেল, ১ পয়সার হলুদ তথা মশলা, ও ১ পয়সার পোস্ত৷ আজ এক পয়সায় পোস্তর একটা দানাও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ৷ পোস্ত অর্থাৎ আফিমের চাষ কেন্দ্রীয় আৰগারী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে হয়ে থাকে৷ তা হোক, এটা বাঞ্ছনীয়ও৷ তবে আৰগারী বিভাগের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রেখে রাঢ়ে প্রয়োজন মত পোস্ত পাওয়ার জন্যে যে পরিমাণ আফিম চাষের প্রয়োজন, সেই পরিমাণ আফিম চাষের অনুমতি দেওয়া উচিত৷ অন্যথায় এই পোস্ত কিনতে গরীব রাঢ়ের অর্থের বহিঃস্রোত ৰন্ধ করা যাবে না৷ হ্যাঁ, একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গরীব রাঢ়বাসী যাতে আফিংয়ে আসক্ত না হয় সেইজন্যে এই চাষের ওপর কড়া সরকারী তদারকী থাকা দরকার৷ শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের ‘দ্রব্যগুণে রোগারোগ্য’ থেকে

14

পথ চলতে ইতিকথা

‘‘ঙ্মজ্ঞানের মহাসমুদ্র পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার, যিনি একাধারে ধর্মগুরু, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, ইতিহাসতত্ত্ববিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, সঙ্গীতকার ও তার সঙ্গে সঙ্গে যুগান্তকারী সামাজিক–র্থনৈতিক দর্শন–প্রাউটের প্রবক্তা, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে কত যে বিচিত্র ইতিহাস অনর্গল বলে চলতেন–তা ভাবলে বিস্ময়ের সীমা থাকে না৷ এ থেকে পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, তিনি জ্ঞানের অসীম মহাসমুদ্র৷ তাঁর বলা সেই সব বিচিত্র ইতিহাসের কিছু কিছু নোতুন পৃথিবীর পাঠকদের এই কলমে উপহার দিচ্ছি৷ আমরা নিশ্চিত যে এ থেকে পাঠকবৃন্দের জ্ঞানভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ হবে৷         –সম্পাদকৰ

আম সম্পর্কে

সংস্কৃত আম্র > প্রাকৃতে, আম্ব/অম্বা৷ এর থেকে ৰাংলায় ‘আঁৰ’ শব্দটি এসেছে৷ উত্তর ভারতের অধিকাংশ ভাষাতেই এই ‘আম্ব’ বা ‘অম্বা’–জাত ‘আঁৰ’ শব্দটিই প্রচলিত৷ ওড়িষ্যায় আঁৰ (আঁৰ্–), মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের অংশবিশেষে আঁৰা, গুজরাতীতে অম্বো, মারাঠীতে আম্বা (‘পিকলে আম্বে’ মানে পাকা আঁৰ), পঞ্জাৰীতে আম্ব্ (আম্ব্ দ্য অচার), হিন্দীতে ও ৰাঙলার কোন কোন অংশে প্রচলিত ‘আম’ শব্দটি থেকেই ‘আঁৰ’ শব্দটি এসেছে৷ ব্যুৎপত্তিগত বিবর্ত্তনের বিচারে আমের চেয়ে আঁৰ বেশী শুদ্ধ৷ তবে একটি বিবর্ত্তিত শব্দ হিসেৰে আমকেও অশুদ্ধ ৰলা চলৰে না৷ ৰাঙলার মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলী, কলিকাতা, ২৪ পরগণা, খুলনা ও যশোরের অংশবিশেষে ‘আঁৰ’ শব্দই প্রচলিত৷ 

আঁৰ ভারতের একটি প্রাচীন ফল যদিও এর আদি নিবাস দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া৷ পৌরাণিক গল্পেও রয়েছে যে হনুমান সমুদ্রপার থেকে এদেশে আঁৰ এনেছিল৷ তবে আঁৰ এদেশে এসেছে হাজার হাজার বছর আগে৷ তাই বন্য অবস্থাতেও আমরা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আঁৰের সন্ধান পাই৷ অবশ্য বন্য আঁৰের খোলা একটু মোটা, চোঁচ বা আঁশ একটু বেশী৷ তবে স্বাদ তেমন কিছু খারাপ নয়৷ পাঠান যুগের শেষাশেষি ও মোগল যুগের গোড়ার দিকে ভারতের বিভিন্ন অংশে ব্যাপকভাবে আঁৰ নিয়ে চর্চা করা হয়েছিল৷ এই আঁৰগুলি ভারতের এক এক অংশের এক এক ঘরানার অন্তর্ভুক্ত৷ এই ধরণের ঘরানা ৰাঙলায় রয়েছে ৰারুইপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা, কৃষ্ণনগর, ৰারাসাত, বর্দ্ধমান ও হুগলীর দেবানন্দপুর গ্রামে৷ 

ৰারুইপুরের সাদা ল্যাঙড়া, কপাটভাঙ্গা, হুগলীর সরিখাস, বিশু চাটুজ্জে, বিশু মুখুজ্জ্যে, শেওড়াফুলির পেয়ারাফুলি, দেবানন্দপুরের লালফুলি, ৰারাসাত ও কৃষ্ণনগরের গোপালভোগ, মালদার ফজলী, হুগলীর সূর্যপুরী, বর্দ্ধমানের ভুতুৰোম্বাই, ৰেলখাস, সিন্দুরে, মুর্শিদাবাদ ঘরানায় রয়েছে ১১৫ ধরণের আঁৰ৷ এ ছাড়া ভাগলপুর ঘরানার বিখ্যাত জর্দালু আঁৰ, মুঙ্গের ঘরানার ৰড় আকারের ল্যাঙড়া, দ্বারভাঙ্গার কিষেণভোগ (মৈথিলী পণ্ডিত কিষেণপ্রসাদ ঠাকুরের নামে), মুজাফফরপুর–সমস্ ঘরানার সরল ল্যাঙড়া (প্রসঙ্গতঃ ৰলে রাখা ভাল, ল্যাঙড়া আঁৰটির জন্ম হাজিপুরে৷ ৰলা হয়, জনৈক খঞ্জ ফকির এই আঁৰটির উদ্ভাবন করেছিলেন৷ তাই একে ল্যাঙড়া অর্থাৎ খোঁড়া আঁৰ ৰলা হয়৷ আৰার অনেকের মতে ব্যাপারটা তা নয়৷ আঁৰটি খোঁড়া এই কারণে যে এই আঁৰকে গাছে ঠিকমত পাকানো যায় না৷ আঁৰটিকে গাছ থেকে তুলে ঘরে এনে পাকাতে হয়৷ তাই এর নাম ল্যাঙড়া৷ দীঘা ঘরানার সুস্বাদু ল্যাঙড়া, বারাণসী ঘরানার সাদা ল্যাঙড়া, এছাড়া রয়েছে লক্ষ্মৌ–মালিহাৰাদের সফেদা, চৌসা, দশেরী আঁৰ ও গোরক্ষপুর ঘরানার গবাহরজিৎ ও কর্পূরী আঁৰ এলাহাবাদ ঘরানার মালকা এ ছাড়া রয়েছে সাহারানপুর ঘরানার পঁয়ত্রিশ ধরণের আঁৰ৷ 

প্ত

ৰারুইপুরের সাদা ল্যাঙড়া, কপাটভাঙ্গা, হুগলীর সরিখাস, বিশু চাটুজ্জে, বিশু মুখুজ্জ্যে, শেওড়াফুলির পেয়ারাফুলি, দেবানন্দপুরের লালফুলি, ৰারাসাত ও কৃষ্ণনগরের গোপালভোগ, মালদার ফজলী, হুগলীর সূর্যপুরী, বর্দ্ধমানের ভুতুৰোম্বাই, ৰেলখাস, সিন্দুরে, মুর্শিদাবাদ ঘরানায় রয়েছে ১১৫ ধরণের আঁৰ৷ এ ছাড়া ভাগলপুর ঘরানার বিখ্যাত জর্দালু আঁৰ, মুঙ্গের ঘরানার ৰড় আকারের ল্যাঙড়া, দ্বারভাঙ্গার কিষেণভোগ (মৈথিলী পণ্ডিত কিষেণপ্রসাদ ঠাকুরের নামে), মুজাফফরপুর–সমস্ ঘরানার সরল ল্যাঙড়া ..........৷

প্ত

গুজরাত ঘরানার কেশর আঁৰের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত৷ মুম্বাই ঘরানার হাপুস আঁৰের খ্যাতি কম নয়৷ পর্ত্তুগীজরা তাঁদের তৎকালীন রাজা এ্যালফ্যান্সোর–নামে এর নামকরণ করেন৷ তেলেঙ্গানা ঘরানার ইমাম পসন্দ্, তোতাপুরী ও বৈগনপল্লী আঁৰ, তামিল ঘরানার নীলম ও কেরল ঘরানার বার প্রজাতির নামজাদা আঁৰ রয়েছে৷ চীন দেশের ‘আই–উইন’ আঁৰও নামজাদা ভাল আঁৰ৷ লেখকের স্বর্গত পিতামহ দেওয়ান কুঞ্জবিহারী সরকারও একজন প্রসিদ্ধ আম্রতত্ত্ববিদ ছিলেন৷ তাঁর উদ্ভাবিত ঝিনুক আম ও চীনা–ৰোম্বাই এককালে ৰেশ নাম করেছিল৷ আঁৰগুলি তিনি উদ্ভাবন করেছিলেন ৰার্মায় থাকাকালে৷ সংস্কৃতে আঁৰের পর্যায়বাচক শব্দ হচ্ছে আম্র, রসাল, সহকার, চূত, সুধারস প্রভৃতি৷ ভারত–সম্রাট অওরঙ্গজেব (আলমগীর) আম্ররসিক ছিলেন৷ তিনি তাঁর দাদা দারা শিকোহ্–র মত সংস্কৃতে পণ্ডিত ছিলেন৷ আঁৰের তিনি নাম রেখেছিলেন ‘সুধারস’৷ কাঁচা আঁৰ কেটে শুকিয়ে রাখলে তাকে ৰলা হয় আম্র–পেশী–ৰাঙলায় ‘আমশি’৷ পাকা আঁৰের রস রৌদ্রে শুষ্ক করা হলে তাকে সংস্কৃতে বলা হয় আম্রসত্ত্ব, আঁৰসত্ত্ব বা আমসত্ত্ব৷ বারান্তরে ৰলা হয়েছে ‘অচার’ (জিনিসটি ‘আচার নয়, ‘অচার’ ‘আচার’ একটি সংস্কৃত শব্দ যার মানে ‘আচরণ’) আমরা করতে শিখেছি পর্ত্তুগীজদের কাছ থেকে৷ শব্দটিও নিয়েছি তাঁদেরই কাছ থেকে৷ তাই প্রাচীনকালে নিশ্চয় আঁৰের অচার করতে এ দেশের লোক জানত না৷ তবে পূর্ণতাপ্রাপ্ত কাঁচা আঁৰকে নুন তেলের সঙ্গে জারিয়ে বেশী পক্ক করলে আম্রতৈল তৈরী হয়৷ এই আম্রতৈল/আঁৰতেল অনেকেই নিশ্চয়ই খেয়েছে৷ মুড়ির সঙ্গে আঁৰতেল খেতে মন্দ লাগে না৷ ৰাঙলার মেয়েরা প্রাচীনকাল থেকেই কাসুন্দি তৈরী করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন! সেই সূত্রেই না আমরা ৰলি–‘‘এসৰ পুরোণো কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ কী’’৷ পেট ভরে খাবার পরেও কখনও কখনও ৰলি–‘‘একটু কাসুন্দি অইলে জুত অইত’’৷

15

বিজনসেতুর

অব্যক্ত যন্ত্রনা 

কৌশিক খাটুয়া

আত্ম-বলিদানের অগ্ণিশিখায় 

 বন্দিত মহাপ্রাণ,

সপ্তদশ দধীচি স্মরণে বিনম্র মনে 

       জানাই সহস্র প্রনাম৷

মানব-কল্যানে নিবেদিত প্রাণ 

 চির মৃত্যুঞ্জয়ী বীর,

আদর্শ অনুসরণে মৃত্যু বরণে 

 চির উন্নত তব শির৷

সমুখের পানে অগগমনে

 নাই কোনো সংশয়, 

বীরের মরণে জনগন মনে 

 চিরস্থায়ী আশ্রয়! 

প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হয় 

 পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড,

চণ্ডশক্তির উধম নৃত্য 

 শূণ্য করুণা-ভাণ্ড! 

সাক্ষী সূর‌্য, নীচে রেলপথ

 ব্যস্ত শকট, গাড়ি, 

রাজপথে শুধু রক্ত লোলুপ

 হায়নার পায়চারি! 

সুপরিকল্পিত হত্যালীলার 

 যারা ছিল কুশীলব

নিশ্চিন্তে দিবসে ঘুরিয়া বেরায় 

 নাই মানবিক অনুভব!

মনুষ্যত্বের শেষ পরিচয় টুকু 

 সেদিন হয়েছিল অবসান,

মায়া-মমতার আকাল সেথায় 

 মানবতার তিরোধান৷!

বাঙালির সাংস্কৃতিক শহরে-

দেখলাম অভূতপূর্ব 

সংস্কৃতির বহর, 

বীরপুঙ্গব লুকায়েছে মুখ

 মানবিকতার অক্ষম বিবরে!

যেথা নীরব জনতা স্তব্ধ মানবতা 

 কত আর্তনাদ বীভৎসতা 

এক কুখ্যাত বৈশাখী দুপুরে!

প্রশাসন, সুশিক্ষিত ভূমিপুত্র 

 লুকায়ে নিরাপদ আশ্রয়ে,

শান্তশিষ্ট নীতিনিষ্ঠ সুশীল সমাজ 

 সঙ্কুচিত ভয়ে!

আজও বিজন সেতু

 নিরবে গুমরে কাঁদে, 

কি নারকীয় হিংসার সাক্ষী, 

 চায় সুবিচার পেতে৷

বিজন সেতু কৈফিয়ত চায় 

 তাই জনসমাবেশ,

রোদে-জলে তবু মিছিল এগোয়

 বিবেকের নির্দেশ৷

বিচারের বাণী বড় অভিমানী 

 কাঁদেনা নীরবে নিভৃতে,

দৃপ্ত কণ্ঠে প্রকাশিছে সে’’ বাণী 

 পাও কি তোমরা শুনিতে!

16

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বুদ্ধদেবের বহু উপদেশের মধ্যে কৃতজ্ঞতা স্বীকারও একটি মূল্যবান উপদেশ৷ তিনি শিষ্যদের সব সময়ই উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে উপদেশ দিতেন৷ উপকারীর উপকার অস্বীকার করা বা ভুলে যাওয়া তিনি মোটেই পছন্দ করতেন না৷

একদিন রাজগীরের এক ব্রাহ্মণের ইচ্ছে হলো তিনি সংসার ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবেন৷ তারপর ভিক্ষু হবেন৷ ব্রাহ্মণের নাম রাধ ভিক্ষু হবার জন্য রাধ এসে পৌঁছলেন বেণুবনে৷

কিন্তু কোন ভিক্ষুই রাধকে দীক্ষা দিতে চাইলেন না৷ কারণ রাধ ছিলেন বড় চঞ্চল৷ ভাবের ঘোরে আজ হয়তো তিনি দীক্ষা নিয়ে ভিক্ষু হবেন, কিন্তু ভিক্ষু জীবনের কঠোরতা সহ্য করতে না পেরে কালই হয়তো আবার সংসারে ফিরে যাবেন৷ তাই কোন ভিক্ষুই তাঁকে দীক্ষা দিলেন না৷

মনের দুঃখে রাধ অনশন শুরু করলেন৷ বিহারের মধ্যেই তিনি অনশন শুরু করলেন৷ খাওয়া নেই, দাওয়া নেই--- এমন কি ফলও পর্যন্ত স্পর্শ করেন না৷ শরীর ক্রমশঃ ভেঙে যেতে লাগলো৷ হাড় সব বেরিয়ে পড়লো৷ চোখ বসে গেল ভেতরে৷

এমন সময় তিনি বুদ্ধের নজরে পড়লেন৷ বুদ্ধ তাঁর সব কথা শুণলেন৷ শুণে দুঃখিত হলেন৷ তাঁর শিষ্যরা কালকের রাধকেই দেখেছে৷ কিন্তু কাল যে চঞ্চল ছিল আজ সে তো স্থির হতে পারে৷ জগতের সব কিছুরই তো নিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে৷

তিনি ভিক্ষুদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন--- ভিক্ষুগণ এই ব্রাহ্মণের উপকার তোমাদের কারো স্মরণ আছে কি?

কোন ভিক্ষুই কোন উত্তর দিল না৷ অবশেষে সারিপুত্র নামে এক ভিক্ষু উঠে বললেন, মনে আছে ভদ্রে৷

বুদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন, সারিপুত্র, এই বৃদ্ধের কোন উপকারের কথা তোমার মনে আছে?

সারিপুত্র বললেন, আমরা যখন রাজগীরে ভিক্ষাচার করে বেড়াচ্ছিলাম এই ব্রাহ্মণ তখন এক গৃহস্থকে আমাদের ভিক্ষা দিতে বলেছিলেন৷

উত্তম! --- সহাস্যে বললেন বুদ্ধ---উপকারীকে কেবল তুমিই মনে রেখেছ, সারিপুত্র৷ তুমি সাধু৷ জগতে যারা সাধু তারা কখনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে কুন্ঠা বোধ করে না--- ভুল করে না৷ সারিপুত্র, তুমি এই ব্রাহ্মণকে দীক্ষা দাও৷ কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি জানাও৷

সারিপুত্র ব্রাহ্মণকে দীক্ষা দিলেন৷ উপকারের মূল্য দিলেন--- মহামূল্য৷

17

                                    ৰ

ৰঃ (১) ‘ড’ প্রত্যয়যুক্ত ‘ৰ’ শব্দটি আমরা পাচ্ছি মুখ্যতঃ ‘ৰণ’ ‘ৰট্‌’ ও ‘ৰল্‌’ ধাতু থেকে৷ ‘ৰণ্‌’ ধাতুর অর্থ ৰনৰন শব্দ করা, ৰোঁ ৰোঁ শব্দ করা---আবার সাধারণ অর্থে যে কোন শব্দ করা৷ জলের অস্তিত্ব তার বিভিন্ন প্রকার ধবনিতে কল্‌-কল্‌-কল্‌, খল্‌-খল্‌-খল্‌, ছল্‌-ছল্‌-ছল্‌, ছলাৎ-ছলাৎ-ছলাৎ, টিক-টিক-টিক, টপ-টপ-টপ, পট্‌-পট্‌-পট্‌, ঝম-ঝম-ঝম ইত্যাদি শব্দের দ্বারা নিষ্পন্ন হয়৷ এই শব্দ-উৎপাদনকারী ঐশ্বরীয় শক্তি বিশেষকে প্রাচীনকালে ৰলা হত ৰরুণ দেবতা৷ তাই ‘ৰণ্‌’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ৰ’ শব্দ পাচ্ছি তার ভাবারাড়ার্থ হ’ল ‘ৰরুণ দেবতা’৷ (২) ওই একই অর্থে ‘ৰণ্‌+ ‘ড= ‘ৰ’ ৰলতে ‘জল’কেও ৰোঝায়৷ (৩) জলের বৃহত্তম আধার হচ্ছে সমুদ্র৷ তাই ‘ৰণ্‌’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ৰ’ শব্দ পাচ্ছি তার দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে ‘সমুদ্র’! (৪) কেউ যখন জল পান করে তখন চুমুক দেবার সময় চুক-চুক-চুক, চক-চক-চক, সুঁ-সুঁ-সুঁ বা এই ধরণের কোন একটা ধবনি উদগত হয়৷ তাই একদিকে যেমন জলপানকারী ‘প’-কেও ‘ৰ’ বলা হয় অন্য দিকে তেমনি যে পাত্র থেকে জল পান করা হয় (জলপাত্র বা গেলাস) তাকেও ‘ৰ’ ৰলা হয়৷ (৫) যখন কোন পাত্র থেকে গেলাসে জল ঢালা হয়, জল ঢালবার সময় এক ধরণের শব্দ উত্থিত হয় যা জলপানকারীর শব্দ থেকে ভিন্ন৷ তাই যে পাত্র থেকে জল ঢালা হয় (জগ---jug) তাকে ‘ৰ’ ৰলা হয়৷ (৬) জল যে নলের সাহায্যে বাহিত হয় সেই নল বা পাইপকেও pipe) ‘ৰণ্‌’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে ‘ৰ’ ৰলা হয়৷ (৭) নলযুক্ত যে পাত্র জল নিকাশ করে, সেই পাত্রকে ‘ৰ’ ৰলা হয়৷ যেমন, গাড়ু, ৰদনা প্রভৃতি৷ (৮) ‘ৰট্‌’ ধাতুর অর্থ ৰেড়ে যাওয়া, শক্তি সঞ্চয় করা, শক্তি প্রদর্শন করা৷ ‘ৰট্‌’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ৰ’ শব্দ পাচ্ছি তার ভাবারূঢ়ার্থ হচ্ছে ‘যা ৰেড়ে যায়’ ‘যা শক্তি সঞ্চয় করে’ অথবা ‘যে শক্তি প্রদর্শন করে’৷ (৯) ৰটগাছ অশেষভাবে বেড়ে যায়৷ তাই ‘ৰট+‘ড’= ‘ৰ’-এর একটি অর্থ ৰটগাছ banyan tree)৷ বট> ৰড়> ৰড়৷ বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে সাধারণ মানুষের ভাষায় ৰটগাছকে ‘ৰড়’ ৰলা হয়--- ফার্সী ও উর্দু ভাষায় ৰলা হয় ‘ৰরগদ্‌’৷ ৰটবৃক্ষ একটি বর্দ্ধমান প্রজাতির বৃক্ষ৷ সে ক্রমশই বেড়ে যায়৷ বিশ্ব ৰট্‌ বাbanyan-এর নানান প্রজাতি রয়েছে৷ তাদের মধ্যে চৈনিক প্রজাতি ও ভারতীয় প্রজাতি প্রধান৷ ভারতীয় প্রজাতির গুঁড়িতে banyan indica) ৰট দ্রুত ঝুরি২ নাৰাতে থাকে৷ এই ঝুরিগুলি পরবর্তীকান্সে গুঁড়িতে পরিণত হয়৷ এক একটি ৰটবৃক্ষে প্রচুর সংখ্যক গুঁড়ি দেখা যায়৷ এমনও হয়ে থাকে যে কয়েক হাজার বছর পরে মূল ঝুরিকে হয়তো উই৩ বা ‘শোঁ’ পোকা খেয়ে ফেলেছে কিন্তু সেই সময় ৰটবৃক্ষটি গুঁড়িতে পরিণত ঝুরির সাহায্যে ৰহাল তৰিয়তেই রয়েছে৷ হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে যে বটগাছটি ও নদীয়া জেলার ৰাগচী-জমশেদপুরের কাছাকাছি জায়গায় অবস্থিত যে ৰটগাছটি রয়েছে তারা ৪০০০ বছরের বেশী পুরোণো ৰলে অনুমিত হয়৷ দ্বিতীয়োক্তটির বয়স আরও কিছু বেশী হলেও হতে পারে৷                                       (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)

18

জাত কি কারো আছে

শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার

ক্রীতূকন্ঞ্চক্রীতক৷ প্রাচীনকালে পৃথিবীর সব দেশে কিছু এমন সংখ্যক দুঃস্থ লোক ছিলেন বা থাকতেন যাঁদের জীবিকা ছিল সন্তান বিক্রী করা৷ পুত্র সন্তান বা কন্যা সন্তান দুই–ই তাঁরা বিক্রয় করতেন৷ ‘ক্রীতকঃ’ শব্দের অর্থ তাই কেনা পুত্র বা ক্রীত পুত্র অর্থাৎ পোষ্যপুত্রও হয়৷ তেমনি আবার ক্রীতদাসও(গোলাম, ইংরেজীতে ত্রপ্ত্ত্র্লন্দ্ব) হয়৷ ‘ক্রীতকঃ’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গরূপ ‘ক্রীতকী’৷ ‘ক্রীতক’ শব্দের অর্থ নিজের কন্যার সঙ্গে বিবাহ দেওয়া নিজ–জামাতা বা ঘরজামাইও হয়৷ বলা বাহুল্য এই সকল ঘরজামাই–এর অবস্থা ছিল ক্রীতদাসেরও অধম৷ রাঢ়ের প্রাচীন গানে আছে–‘‘ঘরজামাইয়ে শ্বশুরবাড়ী মেগের লাথি খায়’’, অথবা–

      ‘‘বাইরের জামাই মধুসূদন ঘরের জামাই মধো, 

      ভাত খাও’সে মধুসূদন ভাত খেসে রে মধো’’৷

সেকালে অনেকে পয়সার বিনিময়ে ভাড়ার মেয়ে কিনতেন৷ এই ভাড়ার মেয়ের ব্যবসা করতেন হার্মাদেরা*(‘হার্মাদ/আর্মাদ’ কথার অর্থ জলদস্যু বা জলদস্যু–জাহাজ৷ এই জলদস্যুর অন্য নাম ছিল বোম্বাটিয়া বা বোম্বেটে)৷(‘‘রাত্রিদিন জেগে থাকে হার্মাদের ডরে’’৷ সেকালে বাঙলার উপকূল অঞ্চলের মানুষ রাত্রি–দিন জেগে পাহারা দিত......তাকিয়ে থাকত সমুদ্রের দিকে কখন হার্মাদেরা এসে তাদের বাড়ীর ছেলে–মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় সেই ভয়ে৷) বাঙলার উপকূলে জলদস্যুর কাজ করত পোর্তুগীজেরা৷ এদের প্রধান কাজ ছিল চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও বাখরগঞ্জের উপকূলবর্ত্তী অঞ্চল থেকে শিশু–বালক–বালিকা, তরুণ–তরুণীদের অপহরণ করে পশ্চিম বাঙলার উপকূল অংশে অবস্থাপন্ন লোকেদের কাছে বেচে দেওয়া৷ কোন কোন ক্ষেত্রে এর জন্যে এরা বেশ ভালো দর পেত৷ ৰর্দ্ধমান, হুগলী, মেদিনীপুর ও ২৪পরগণা অঞ্চলের অবস্থাপন্ন লোকেরা যাঁদের ঘরে ছেলের সংখ্যা একটু বেশী ছিল তাঁরা এইসব মেয়ে (ভারার মেয়ে) কিনতেন৷ মেয়ে সুশ্রী ও গুণসম্পন্না হলে তাদের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিতেন আর কুশ্রী হলে ক্রীতদাসী (বাঁদী) করে রাখতেন৷ পাছে জাতি–গোত্র জানাজানি হলে কুলীন জাতের বা উঁচু জাতের পক্ষে বিপত্তি দেখা দেয় বা জল–চল হবার সম্ভাবনা থাকে, তাই বলা হত ভাড়ার মেয়ের জাত জিজ্ঞেস করতে নেই৷ এ যেন সেই জল–চল জাতের ছোঁয়া কাঠ ছুঁলে স্নান করতে হয় বটে কিন্তু এক নৌকোয় যদি জল–চল ও জল–চল দুই জাতের লোক বসে ও সেক্ষেত্রে দায়ে পড়ে যদি ভাত খেতে হয় তবু জাত যায় না৷ তাই জাত বাঁচাবার জন্যে বলতে হয়, বৃহৎ কাষ্ঠে দোষঃ নাস্তি৷ অর্থাৎ কাঠ যদি খুব বড় হয় তা ছুঁয়ে ভাত খেলে জাত যায় না৷ 

অনেককাল আগে আমাদের ৰর্দ্ধমানে একটা ঘটনা ঘটেছিল৷ ছিলেন একজন ভট্টাচার্য বামুন–মস্তবড় কুলীন৷ ছোটজাতের কথা তো বাদ দিলুম, এমনকি বদ্যির দেওয়া ভাতও খেতেন না তাঁরা৷ তাঁরা কিনলেন একটি ভাড়ার মেয়ে চন্নগর বিবিরহাট থেকে৷ চন্নগর বিবিরহাটে তখন ভাড়ার মেয়ে বিক্রী হত–বিক্রী হত ভাড়ার ছেলেও৷ বিবিটি বেশ সুশ্রী সভ্যভব্য৷ তাঁরা ঘটা করে তার সঙ্গে বড় ছেলের বে’ দিলেন৷ কিছুদিন ভালভাবেই কাটল৷ পাড়ার লোকে এসে বউয়ের মুখ দেখে নানান উপহার দিয়ে যেতে লাগল৷ বউ একটু কম কথা বলত৷ বললেও মেপে–জুকে বলত পাছে মুখ ফসকে পূর্ববঙ্গীয় টান বেরিয়ে যায়৷ কিন্তু বিধি ৰোধ হয় অলক্ষ্যে বসে হাসছিলেন৷ একদিন বউ লাউ কাটবার সময় শাশুড়ীকে শুধোলে,–‘‘হ্যাঁ–মা কদুটা আজকেই কি কাটব’’ শাশুড়ী তখন গালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন৷ চোখ কপালে উঠে একেবারে শিবনেত্র হয়ে গেল৷ বললেন–এ কী কথা গো! বউ লাউকে কদু বলে গো! এ যে সব্বনেশে ব্যাপার গো! আমি যে অনেক কিছু দুঃসংবাদের আঁচ করতে পারছি গো! 

বাড়ীর কর্ত্তা তখন এসে বললেন–‘‘গিন্নী, কী আর করবে! কিল খেয়ে কিল চুরি কর, এসব কথা তিন কাণ হতে দিও না, তুমি জানলে আর আমি জানলুম৷ এ কথা যেন অন্য কেউ না জানে ভূ–ভারতে৷ জানাজানি হয়ে গেলে আমাদের জাত–পাত –গোত্র কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না৷’’

এমনই হয়েছিল বসিরহাটের বাঁড়ুজ্যে বাড়ীতে৷ এঁদের মেজ বউ ছিলেন ভাড়ার মেয়ে৷ বউ ছিল অসামান্যা সুন্দরী, রূপীয়সী৷ (বাংলার ‘রূপসী’ শব্দটি বৈয়াকরণিক বিচারে ভুল৷) একদিন হঠাৎ ভরদুপুরে দেখা গেল তার শাশুড়ী উঠোনের মাঝখানে পা ছড়িয়ে বসে চীৎকার করে হাপুস নয়নে কাঁদছে আর বলছে, ‘‘ওগো আমার এ কী হ’ল গো–আমার সোণার কপাল যে দিন–দুপুরে পুড়ে ছাই হয়ে গেল গো’’৷ গাঁয়ের লোক ছুটে এল৷ শাশুড়ীকে ঘিরে শুধোতে লাগল–‘‘হ্যাঁ গা কাঁদছ কেন গা.....কী হয়েছে গা কে তোমার কপাল পোড়ালে গা.....সেটা আমাদের খোলসা করে বল৷’’

শাশুড়ী বললে–‘‘দিদি গো, দেখে আর বাঁচিনে, বউ কী যেন করতিছে! চোখে আঁজন দিতিছে বউ, পীদিমকে চিরাগ বল্তিছে৷’’ 

এই হ’ল ভাড়ার মেয়ের কথা৷ এগুলিকে ভাল বাংলায় বলা হয় ক্রীতকী৷ তাহলে এ প্রসঙ্গে তোমরা আর একটা কথা জেনে রাখো৷ আজ যাঁরা জাতপাতের বড়াই করেন তাঁদের অনেকেই কয়েক পুরুষ আগেই জাত–পাত খুইয়ে বসেছেন যদি তাঁদের বাড়ীতে অতীতে কোনো ভাড়ার মেয়ে এসে থাকেন৷

ভাড়ার ছেলের ক্ষেত্রে যদি দেখা যেত ছেলে একটু ৰুদ্ধিমান, শিক্ষিত তাকে লোকে জামাই করে নিত.......করত ঘরজামাই৷ অন্যথায় তাকে গৃহভৃত্যের কাজে লাগিয়ে দিত৷ সে হত ক্রীতদাস.......গোলাম৷

আমার পরিচিত একটি চাটুজ্জ্যে পরিবারে এই ধরনের ব্যাপার অতীতে হয়েছিল৷ তাঁরা এই ধরনের একটি ভাড়ার ছেলে কিনেছিলেন তমলুকের কেলোমালের বাজার থেকে৷ সেকালে তমলুকেও ওইরকমের ভাড়ার ছেলে–মেয়ের ফলাও ব্যবসা চলত৷ ছেলে বিক্রির হাট ছিল কেলোমাল আর ভাড়ার মেয়ে পাওয়া যেত রাধামণির বাজারে (সেকাল থেকেই রাধামণির বাজার সুস্বাদু সন্দেশের জন্যে বিখ্যাত)৷ তারা কেলোমালের বাজার থেকে যে ১৪/১৫ বছরের ছেলেটাকে কিনে এনেছিল’ তাকে বাগাল হিসেবে কাজে লাগিয়ে দিল৷ সে গোরু চরাত, গোরু দেখাশোণা করত, ঘরদোর পরিষ্কার করত, আবার কাছে একটা চতুষ্পাঠীতে পড়তেও যেত৷ ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলে সে পূর্ববঙ্গীয় টানে বলত আমি কেওট কৈবর্ত্ত৷ কয়েক বছর গেল, ছেলেটি সংস্কৃতে আদ্য মধ্য পাস করে বেরুল৷ চাটুজ্জ্যে মশায় অন্য কোনো পাত্র না পেয়ে তার সঙ্গে নিজের মেয়ের বে’ দিয়ে দিলেন৷ বিয়ের পরে তাকে পাড়ার লোকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘হ্যাঁরে, তুই যে বলতিস তুই কেওট কৈবর্ত্ত তাহলে তুই ৰামুনের মেয়ে বিয়ে কি করে করলি’’

সে তখন ৰর্দ্ধমানী বাংলায় বললে, আসলে তো আমি রাঢ়ী শ্রেণীর ৰ্রাহ্মণ৷ কিন্তু বাগালের কাজ করতুম, তাই কর্ত্তামশায় বলেছিল তুই তো পড়াশুণা করিস নি, তাই তোকে কেউ জাত জিজ্ঞাস করলে কেওট কৈবর্ত্ত বলিস৷ নইলে নিন্দে হবে৷ এখন আমি লেখাপড়া শিখেছি৷ তাই নিজেকে ৰামুন বলতে আর কোন ৰাধা নেই৷

হ্যাঁ, আরও একটা কথা৷ সেকালে অনেক সময় রূপগুণসম্পন্না মেয়ে বা ছেলেকে ওজন দরে কেনা হত সাধারণতঃ রজত বিত্তের বিনিময়ে (ব্দন্প্ত্লন্দ্বব্জ ত্ব্ব্ভপ্তপ্তন্প্সুগ্গ৷ শোণা যায় কোন কোন রাজরাজড়ারা সোণার ওজনেও ভাড়ার মেয়ে কিনতেন৷ এই ওজনদরে যে ছেলে কেনা হত পরে তাকে ক্রীতদাস রূপেও রাখা হত অথবা পোষ্যপুত্র বা ঘরজামাইও করা হত৷ তাদের বলা হত ‘ক্রীতক’৷ আর ওই ধরনের ওজন দরে কেনা মেয়েকে বলা হত ‘ক্রীতকী’৷

(শব্দ চয়নিকা, ১১/৯৮)

19

সোনা জিতে জাতীয় রেকর্ড গড়ল বাঙলার শুটার আদ্রিয়ান

ক্রীড়াপ্রতিনিধি ঃ নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে সোনা জিতলেন বাংলার শুটার আদ্রিয়ান কর্মকার৷ ভোপালে কুমার সুরেন্দ্র সিংহ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ মিটার থ্রি পজিশন ইভেন্টে কীর্তি গড়েছেন আদ্রিয়ান৷ ছাপিয়ে গিয়েছেন বিশ্বরেকর্ডের স্কোরও৷

গত জানুয়ারিতে জুনিয়র এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এই ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন আদ্রিয়ান৷ তাঁর বিশ্বরেকর্ড দু’সপ্তাহ আগে কায়রোতে আয়োজিত জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ভেঙে দেন কাজাখস্তানের এক শুটার৷ সে কথা মাথায় রেখেই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় নামে আদ্রিয়ান৷ বাবা প্রাক্তন অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার ছেলেকে বিশ্বরেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার কথা বলে তাতিয়ে ছিলেন৷ আদ্রিয়ানও চ্যালেঞ্জ নেন৷ এই প্রতিযোগিতার স্কোর বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি না পেলেও চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি আদ্রিয়ান৷ জুনিয়র বিভাগে যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৩৬০.২ স্কোর করে জাতীয় রেকর্ড গড়ে ফাইনালে ওঠে৷ যা বর্তমান বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ৪.৮ পয়েন্ট বেশি৷ পরে ফাইনালেও সোনা জিতেছেন আদ্রিয়ান৷

প্রতিযোগিতায় সিনিয়র বিভাগে ৫০ মিটার থ্রি পজিশন ইভেন্টে সোনা জিতেছেন প্যারিস অলিম্পিক্সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা স্বপ্ণিল কুসালে৷ আদ্রিয়ান তাঁর চেয়েও বেশি স্কোর করেছেন৷ প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাকে এনে দিয়েছেন প্রথম সোনা৷

20

ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে জট অব্যাহত

ক্রীড়াপ্রতিনিধি ঃ প্রতিযোগিতা শুরু হতে এক মাসের কিছু বেশি সময় রয়েছে৷ এখনও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা জানেন না কোন চ্যানেলে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে৷ সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়ে ফিফা এবং রিলায়েন্স-ডিজনির এখনও সহমত হয়নি৷

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতে উন্মাদনার অভাব নেই৷ লিয়োনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা৷ অথচ এ বার যা পরিস্থিতি, তাতে খেলা দেখা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে৷ একটি সংস্থা প্রথম দিকে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও পরে তারা পিছিয়ে গিয়েছে৷ তবে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিলায়েন্স-ডিজনি৷

২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া ফিফা আগেই শুরু করেছে৷ প্রথমে স্বত্বের দাম রাখা হয় ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা৷ এত টাকা খরচ করে ভারতের কোনও সংস্থা সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে রাজি হয়নি৷ এর পর ফিফা সাড়ে ৩ কোটি ডলার বা প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা করে৷ তার পরও কোনও সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি৷ শেষে রিলায়েন্স-ডিজনি ২ কোটি ডলার বা প্রায় ১৮৬ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে৷ এত টাকায় আবার ফিফা সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে রাজি নয়৷ সব মিলিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত৷

শুধু ভারতে নয়, চিনেও ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চিত৷ চিনের কোনও সংস্থা ফিফার দাবি মতো দাম দিয়ে রাজি নয়৷ অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দু’টি দেশেই ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার অনিশ্চিত৷ ফিফা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৭৫টি দেশে বিশ্বকাপের সম্প্রচার চূড়ান্ত হয়েছে৷ সেই তালিকায় ভারত এবং চিন নেই৷ উল্লেখ্য, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন থেকে৷

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved