* ইষ্টমন্ত্র* চির সাথী মোর
যথার্থ, ধ্রুব সত্য,
জন্ম জন্মান্তরের পূণ্যফলে
অহেতুক তাঁর কৃপাকণা বলে
নহি আমি কভু ব্রাত্য৷
মানব জীবনে তার উপযোগ
নিয়মিত তার দৃপ্ত প্রয়োগ
ছিনু গভীর অনুশীলনে মত্ত,
মানব জীবন ধন্য করার
সার্বজনীন শর্ত!
বিগত জনমে প্রাণের মন্ত্র
সাধন, ভজন, দর্শন, তন্ত্র,
সাথে ছিল কিনা
তাও অজানা,
পূণ্যের বোঝা পাল্লায় ভারি,
তাই জীবনে জেনেছি
তাঁহার ঠিকানা!
চরম লক্ষ্য মুক্তি মোক্ষ
শুরু হলো শুভ অন্বেষণ,
ইষ্টমন্ত্র জপ, ধ্যান সাধনায়
হয় দূরত্ব ক্রম সঙ্কোচন!
তিনি অভিমত এগোবার পথ
সে পথে চলার নিয়েছি শপথ,
যে পথে নিত্য এগিয়ে চলেছে
প্রভুর বিজয় রথ!
অনাদি কালের গহ্বরে রয়
অজ্ঞাত অতীত জগৎ,
অনন্তের পথে নিরন্তর যাত্রা
আগামী ভবিষ্যৎ!
জড়ের টানে আর যাবনা
হৃদয়ে যখন পেয়েছি ঠিকানা,
বুদ্ধি সময় বৃথা অপচয়
বিবেক আমায় করছে মানা৷
মন্দিরে দেবালয়ে খুঁজেছি যখন
হৃদয়ে তখন ছিল নাকি স্থান?
বিগহে তাই আগহ নাই
অন্তর্যামীত্বের নাই সন্ধান!
তাঁর প্রীতিডোরে গাঁথা অজস্র জীবন,
তাঁর ভাবনায় নাচে মন, ত্রিভূবন!
সবাকার ভাবাবেশে
তিনি সদা আছে মিশে,
চিরতরে আছে সাথে সবার আপন
চিনিতে পারিনি তাঁরে আমি অভাজন!
অজ্ঞানতায় জড়-ভাবনায়
মোহজালে জগৎ অন্ধকূপ,
ভাবের গভীরে ডুব দিয়ে দেখি
তাঁর ভূবন ভোলানো বিশ্বরূপ!
সপ্ত সাগরে অদ্রি শিখরে
তাঁর অপার মহিমা অপার গরিমা,
দূর নীলিমায় নাহি দেখা যায়
ঝাপসা দৃষ্টি হারায় সীমা!
শিশুর হাসিতে মোহন বাঁশিতে
ফুলের প্রস্ফূটনে,
অপার স্নেহধারা ভরে দিয়েছে
মায়ের কোমল প্রাণে৷
আলোকে অলোকে ত্রিলোকে রয়েছে
ভাবালোকে নাই বাধা,
পাখির কুজন নদী কলতান
প্রভাতী সুরে সাধা!
চলার পথে আসুক বাধা
নিকষ কালো অমানিশা রাত,
উপল পথে, কন্টকাঘাতে
যুঝে চলি শত ঘাত-প্রতিঘাত৷
সত্য ধর্ম ন্যায়ের মর্ম
উদ্ভাসিত হোক আলোর প্রভাত,
ভাবের গভীরে প্রদোষে প্রহরে
নয়ন নীরে জানাই প্রণিপাত!
- Log in to post comments