গতকাল ৭ই জুন যথাযোগ্য মর্যাদায় আমরা বাঙালি কর্মী শহীদ বাবুল দেবের মৃত্যু দিবসকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়৷
১৯৮৭ সালের ৫ই জুন আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও আইএমডিটি আইন বাতিলের দাবিতে সারা আসাম ছাত্র সংস্থা অর্থাৎ আসু আসাম বন্ধের ডাক দিয়েছিল৷ বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ণে এই বন্ধের বিরোধিতায় অন্যান্য দল সংগঠনের সঙ্গে আমরা বাঙালি দল রাস্তায় নেমেছিল৷ সেদিন কাছাড় জেলার উদারবন থানার সামনে আসুর গুন্ডাদের দ্বারা বাবুল দেব আক্রান্ত হয়৷ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শিলচর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় সাতই জুন বাবুল দেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন৷ সেদিনের এই বন্ধের বিরোধিতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যেমন রাস্তায় নেমেছিল৷ তেমনি তখনকার প্রভাবশালী ছাত্র যুব সংগঠন সংগ্রাম সমন্বয় সমিতি ,আকসা ইত্যাদি অনেক সংগঠন আসুর এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল৷ বাবুল দেব কে হত্যার অভিযোগ নিয়ে উদারবন থানায় তপন ঘোষ নামে উদারবনদ দুর্গানগর এর বাসিন্দা খুনের মামলা দায়ের করেন৷ সেই মামলার নম্বর হচ্ছে ৭৬/১৯৮৭৷ উদারবন পুলিশ ১৫/১ /৮৯ ইংরেজি তারিখে চার্জ সিট জমা করেছিলেন, কিন্তু তখনকার বাঙালি বিদ্বেষী অসম গণপরিষদ সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন৷ অর্থাৎ খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে গেল৷৷ পরবর্তীকালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলে ও এই মামলা চালু করা হয় নাই৷ আজও বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কেদেই চলেছে৷ আমরা বাঙালি দল প্রতিবছর ৭ই জুন দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে৷ আমরা আশা করি সেদিনের আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন বাবুল দেবের ন্যায় বিচারের জন্য তারাও সরব হবেন৷সক্রিয় হবেন৷ এইভাবে একটা ইতিহাস অস্তাচলের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাই এগিয়ে আসবেন৷
সেদিনের আন্দোলনে উধার বন্ধের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ তার মধ্যে বিশু দত্ত, রঞ্জিত রায়, ইহজগত নেই৷ বিধান রায় সহ অনেকেই জীবিত আছেন৷ সেদিনের ঘটনা তারা কাছে থেকে দেখেছেন৷ এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ আমরা চাই বাবুল দেবের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আবার চালু করা হোক৷
বাবুল দেবের প্রতি আমরা বাঙালি দলের পক্ষ থেকে গতকালকের শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে যারা যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আজমল হোসেন চৌধুরী, অনিতা চন্দ, চন্দনা পুরকায়স্থ, দেব প্রিয়া পুরকায়স্থ সহ অনেকেই ছিলেন৷