Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সংবাদ দর্পণ

ডিএনএর চারটি যৌগিক উপাদান পাওয়া গেল সৌরজগতের এক গ্রহাণুতে!

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

পৃথিবীর মতো সে-ও চক্কর কাটছে সূর্যকে৷ মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে যে গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে, এটি তারই সদস্য৷ কথা হচ্ছে পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকা রিউগু গ্রহাণুকে নিয়ে৷ রিউগু-কে নিয়ে গত কয়েক বছরে বিস্তর গবেষণা হয়েছে৷ পৃথিবীতে যে প্রাণ রয়েছে, সেই প্রাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদানের হদিস মিলেছে এই গ্রহাণুতে৷ নতুন গবেষণায় তা আরও এক ধাপ এগোল৷ রিউগুতে মিলল ডিএনএ এবং আরএনএ-র সবগুলি যৌগিক উপাদান৷

কাছাকাছি হওয়ার ফলে এই গ্রহাণুকে নিয়ে গবেষণা তুলনামূলক সহজ হয়েছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে৷ মহাকাশযান পাঠানো গিয়েছে সেখানে৷ তা নিরাপদে ফিরেও এসেছে পৃথিবীতে৷ এই মহাকাশ অভিযানটি চালিয়েছিল জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘জাক্সা’৷ অভিযান শুরু হয় ২০১৪ সালে৷ রিউগুর উদ্দেশে পাঠানো হয় মহাকাশযান ‘হায়াবুসা-২’৷ অভিযানের সময়ে পৃথিবী থেকে রিউগুর দূরত্ব ছিল প্রায় তিন কোটি কিলোমিটার৷ দীর্ঘ ছ’বছরের মহাকাশ অভিযানের পরে ২০২০ সালে তা ফিরে আসে পৃথিবীতে৷ সঙ্গে নিয়ে আসে রিউগুর মাটি৷

গ্রহাণু খুঁড়ে সেখান থেকে প্রায় ৫.৪ গ্রাম মাটি পৃথিবীতে নিয়ে আসে ‘হায়াবুসা-২’৷ ওই মাটির নমুনা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয় তখন থেকেই৷ গত কয়েক বছরে তাতে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে৷ যেমন, ২০২৩ সালের এক গবেষণায় রিউগুর মাটির নমুনায় পাওয়া যায় ইউরাসিলের সন্ধান৷ ইউরাসিল হল রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যৌগ৷ এ বার নতুন গবেষণায় দেখা গেল, শুধু ইউরাসিল নয়, ডিক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) এবং আরএনএর সবগুলি যৌগিক উপাদানই রয়েছে রিউগুর মাটির নমুনায়৷

ডিএনএ ও আরএনএতে মোট পাঁচটি যৌগিক উপাদান পাওয়া যায় অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল৷ এর মধ্যে প্রথম চারটি হল ডিএনএর যৌগিক উপাদান৷ আরএনএতে থায়ামিনের বদলে থাকে ইউরাসিল৷ রিউগুর মাটিতে ইউরাসিলের খোঁজ আগেই মিলেছিল৷ এ বার জানা গেল ডিএনএর সব যৌগিক উপাদানও রয়েছে এই মাটিতে৷

পৃথিবীর বাইরে ডিএনএ এবং আরএনএর যৌগিক উপাদানের সন্ধান এই প্রথম বার মিলল, এমন নয়৷ অতীতেও মিলেছে৷ ২০১৯ সালে নাসা ‘বেন্নু’ নামে এক গ্রহাণু থেকে মাটি সংগ্রহের জন্য ‘ওসিরিস-রেক্স’ নামে এক মহাকাশযান পাঠিয়েছিল৷ ২০২৩ সালে সেটি পৃথিবীতে ফেরে৷ গত বছরের এক গবেষণায় সেই ‘বেন্নু’র মাটি থেকেও ডিএনএ এবং আরএনএর যৌগিক উপাদানগুলি পাওয়া গিয়েছে৷

 

ওজন কমাবে অজগরের রক্ত! দাবি বিজ্ঞানীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

যৌবন ধরে রাখা ও স্থূলত্ব দূর করা এই হল এখনকার চাহিদা৷ আর এতেই গা ভাসিয়েছে গোটা বিশ্ব৷ ওজন যে হারে বাড়ছে, তাতে জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগ, যেমন ডায়াবিটিস, ওবেসিটি, লিভারের অসুখ, পিসিওএস ইত্যাদি বেড়ে চলেছে৷ বড়রা তো বটেই, ছোটরাও এখন স্থূলত্বের শিকার৷ তাই ওজন কী ভাবে কমানো যায়, তা নিয়েই মাথাব্যথা বেশি৷ সে কারণে এত রকম ওজন কমানোর ওষুধ তৈরি হচ্ছে৷ সে সব ওষুধ নিয়ে মাতামাতিও চলছে৷ স্থূলত্ব দূর করার আরও অনেক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাও চলছে৷ এর মধ্যে নজর কেড়েছে একটি গবেষণা৷ আর তা নিয়েই খবর হয়েছে৷ সেটি হল অজগরের রক্তে স্থূলত্ব দূর করার উপাদানের খোঁজ৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সেই উপাদানটি খুঁজে পেয়েছেন৷ ‘নেচার মেটাবলিজম’ জার্নালে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷

হঠাৎ করে অজগর কেন? স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, বার্মিজ পাইথনদের দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ২০ ফুট বা তারও বেশি হয়৷ ওজনও ততোধিক বেশি৷ আকারে-ওজনে বিশাল এমন রাক্ষুসে অজগরেরা লেজের প্যাঁচে শিকার জড়িয়ে তার হাড়গোড় গুঁড়িয়ে ফেলে তাদের গিলে খায়৷ এরা যখন বিশাল আকারের শিকার গিলে ফেলে, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এদের হৃদিণ্ড, লিভার এবং ফুসফুসের আকার বড় হয়ে যায় এবং বিপাকহার কয়েকশো গুণ বেড়ে যায় এবং মেটাবলিজম বা বিপাক হার বেড়ে যায় কয়েক গুণ! বিজ্ঞানীদের দাবি, পাইথনের রক্তে এমন কিছু বিশেষ উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে, যা দ্রুত মেদ ঝরাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে৷ তার মধ্যে একটি হল ‘পিটিওএস’ (প্যারা-টাইরামাইন-ও-সালফেট)৷ গবেষক জোনাথন লং এই উপাদানটি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সেটি অজগরের অন্ত্রে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ভেঙে তৈরি হয়৷ এই উপাদানটি তৈরি করে অজগরের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়া৷

অজগর যখন শিকার গিলে ফেলে, তখন এই ‘পিটিওএস’ উপাদানটির মাত্রা ১০০০ গুণ বেড়ে যায়৷ সেটি খাবার হজম করাতে শুরু করে, পাশাপাশি হার্ট ও লিভারও ভাল রাখে৷ এর আরও একটি কাজ হল, পেট দীর্ঘ সময় ভরিয়ে রাখা৷ মস্তিষ্কে এমন সঙ্কেত পাঠানো, যাতে খিদের বোধ অনেক কমে যায়৷ এক বার খাবার খাওয়ার পর, দীর্ঘ সময় না খেয়েও সুস্থ থাকা যায়৷

অজগরের পেটে তৈরি হওয়া এই উপাদানটিকে আলাদা করে ইঁদুরদের শরীরে ঢুকিয়ে দেখেন গবেষকেরা৷ দেখা যায়, ২৮ দিনে ইঁদুরের ওজন তার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে৷ এর থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন, অজগরদের যা খুশি খেয়ে হজম করার ক্ষমতা এই উপাদানটির জন্যই৷ আর সেটি যদি মানুষের কাজে লাগানো যায়, তা হলে খেয়েদেয়েও রোগা থাকা যাবে৷ প্রয়োজনের বেশি খেয়ে ফেললেও ক্যালোরি বাড়বে না৷ তবে এই খোঁজ এখনও গবেষণার স্তরেই আছে৷ অজগরের রক্তের উপাদান মানুষের রক্তে মিশলে কী হবে, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখেননি তাঁরা৷

 

আন্টার্কটিকার পাইনদ্বীপের রহস্যের সমাধান হল

পি.এন.এ.
Sun, 12-04-2026

চারদিকে চাঁই চাঁই বরফ৷ আন্টার্কটিকার কথা ভাবলে প্রথমে এই দৃশ্যই চোখের সামনে ভেসে ওঠে৷ কিন্তু এই বরফের নীচেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য জগৎ৷ যা নিয়ে অবিরাম গবেষণা চলছে৷ তেমনই এক গবেষণায় খোঁজ মিলল বরফের স্তূপের তলায় লুকিয়ে থাকা এক ‘দানব’-এর৷

আন্টার্কটিকার পশ্চিমে রয়েছে হাডসন পর্বতমালা৷ সেখানেই রয়েছে পাইনদ্বীপ হিমবাহ৷ রয়েছে বিভিন্ন আগ্ণেয়গিরিও৷ সেই আগ্ণেয়গিরিগুলির চূড়ায় প্রায়শই কিছু অদ্ভূত-দর্শন পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ গোলাপি রঙের গ্রানাইট পাথর৷ যা পারিপার্শিক পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷ সেই কারণেই এগুলি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছিল৷ আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে বেমানান এই উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বোল্ডারগুলি কী ভাবে আগ্ণেয়গিরির চূড়ায় পৌঁছোল, তা গত কয়েক দশক ধরে ভাবিয়ে তুলেছিল বিজ্ঞানীদের৷

এই অস্বাভাবিকতার উৎস সন্ধানের চেষ্টা চলছিল বহু বছর ধরেই৷ এত দিনে সেই রহস্যের সমাধান হল৷ গোলাপি পাথর রহস্য বিজ্ঞানীদের পৌঁছে দিল আন্টার্কটিকার হিমবাহের নীচে এক অজানা দুনিয়ায়৷ খোঁজ মিলল গ্রানাইট পাথরের এক দানবাকার স্তূপের৷ যা চওড়ায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার৷ এবং প্রায় সাত কিলোমিটার পুরু৷ যে প্রকাণ্ড চেহারা এই গ্রানাইট স্তূপের, তাতে ব্রিটেনের ওয়েলের প্রায় অর্ধেক ধরে যাবে৷

আন্টার্কটিকায় কোনও স্থায়ী মনুষ্যবসতি নেই৷ গবেষণার প্রয়োজনে এখানে বিজ্ঞানীরা গিয়ে সাময়িক আস্তানা তৈরি করেন৷ ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস)-এর নেতৃত্বে এক গবেষকদলও গত কয়েক বছর ধরে আন্টার্কটিকায় গবেষণা চালাচ্ছে৷ এই গোলাপি পাথর রহস্যের সমাধানও করে ওই গবেষকদলই৷ তারা প্রথমে পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে থাকা গ্রানাইটের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেন৷ তাতে দেখা যায়, পাথরগুলির বয়স প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি বছর৷ অর্থাৎ, পাথরগুলি জুরাসিক যুগের৷

 

ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম

পি.এন.এ.
Sun, 12-04-2026

ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিমের একাংশ৷ বহু জায়গায় ধস নামার খবর পাওয়া গিয়েছে৷ উত্তর সিকিমে বেশ কয়েকটি জায়গায় ধস নামার ফলে বহু পর্যটক রাস্তায় আটকে পড়েছেন৷ জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, গ্যাংটক থেকে লাচেন এবং চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে অনেক জায়গায় ধস নেমেছে৷ ফলে যে সব পর্যটক লাচেন যাচ্ছিলেন, তাঁরা চুংথাংয়ে আটকে পড়েছেন৷ শতাধিক পর্যটক সেখানে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে৷ তবে রাস্তা থেকে ধস সরানোর কাজ শুরু হয়েছে৷ যত দ্রুত সম্ভব সেই ধস সরিয়ে ফেলা যায় তার চেষ্টা হচ্ছে৷

জেলাশাসক জৈন জানিয়েছেন, আটকে পড়া পর্যটকদের আইটিবিপি শিবির এবং গুরুদ্বারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ লাচেন যাওয়ার পথ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে৷ রাস্তায় অনেক গাড়ি আটকে রয়েছে৷ আবহাওয়া পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেই পর্যটকদের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে৷ তবে লাচুংয়ের পথে যে ধস নেমেছিল, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে৷ ওই পথে আটকে থাকা পর্যটকেরা গ্যাংটকে ফিরছেন ধীরে ধীরে৷ আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে৷ পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে৷

অন্য দিকে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে৷ ২৭ মার্চ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ ২৮ এবং ২৯ মার্চ এই জেলাগুলিতে ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে৷

 

হরিয়ানার গুরুগ্রামে চালু হল এলিপিজি এটিএম

পি.এন.এ.
Sun, 12-04-2026

দেশ জুড়ে যখন এলিপিজি-র চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের জেরে যখন গ্যাস নিয়ে আমজনতার মনে উদ্বেগ বাড়ছে, সেই সময় এক অভিনব ব্যবস্থা নিয়ে এল ভারত পেট্রোলিয়াম কর্র্পেরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)৷ কোনও ঝঞ্ঝাট ছাড়াই যাতে সহজে গ্যাস পেতে পারেন মানুষ, তাই এলিপিজি এটিএম চালু করল তারা৷ হরিয়ানার গুরুগ্রামে এই এটিএম চালু করা হয়েছে৷

সংস্থা সূত্রের খবর, কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মিলবে ওই এটিএম থেকে৷ ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে যেমন টাকা তোলা হয়, এই এটিএম অনেকটা সে রকমই৷ গ্যাসের সরবরাহ মসৃণ রাখতেই এই কৌশল বলে সূত্রের খবর৷ গুরুগ্রামের সোহনা এলাকায় সেন্ট্রাল পার্ক ফ্লাওয়ার ভ্যালির সেক্টর ৩৩-এ পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এই এটিএম বসানো হয়েছে৷ ২৪ ঘণ্টা এই এটিএম খোলা থাকবে৷ দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে ভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া যাবে বলে দাবি৷

এই প্রকল্পটি পুরোটাই ডিজিটাল৷ কী ভাবে কাজ করবে এই এটিএম? সংস্থা সূত্রে খবর, গ্রাহকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিতে হবে৷ সেই নম্বরে একটি ওটিপি আসবে৷ সেই ওটিপির মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য যাচাই হবে৷ তার পর গ্রাহককে খালি সিলিন্ডার এটিএমে ঢোকাতে হবে৷ অনলাইনে টাকা মিটিয়ে দিতেই ভর্তি একটি সিলিন্ডার মেশিন থেকে বেরিয়ে আসবে৷ তবে এই সিলিন্ডারগুলিতে ১৪ কেজির জায়গায় ১০ কেজি গ্যাস থাকবে৷ সিলিন্ডারগুলি ধাতব হবে না৷ সেগুলি ফাইবারের তৈরি৷ ওজনও অনেক হালকা৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে গ্যাস বুক করার পর অপেক্ষা করতে হত কবে আসবে৷ কিন্তু এই এটিএম তৈরি হওয়ায় সেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে না৷ দিন হোক বা রাত, এটিএম থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে আসা যাচ্ছে৷

 

জেলায় জেলায় আমরা বাঙালীর কর্মীসভা

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

এই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঙালীর আত্মপরিচয়, অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামকে আরও তীব্র ও সুসংগঠিত করতে রাজ্যজুড়ে বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনী কর্মীসভা আয়োজন করছে ‘আমরা বাঙালী’৷ এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাঙলার মাটি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে এক ঐতিহাসিক জনজাগরণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষের কাছে৷

ইতোপূর্বে পুরুলিয়া জেলার জয়পুর, আড়ষা, বাঘমুণ্ডি, বান্দোয়ান ও পুরুলিয়া শহর মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর, খড়গপুর, সবং, শালবনী পূর্ব মেদিনীপুরের পাশকুঁড়া ও কোলাঘাট পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ ও দুর্গাপুর পশ্চিম পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান ও কেতুগ্রাম বাঁকুড়ার শালতোড়া ও ছাতনা বীরভূমের সাঁইথিয়া, সিউড়ী ও রামপুরহাট হুগলির চন্দননগর ও তারকেশ্বর হাওড়ার আমতা, আন্দুল ও পাঁচলা উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা, বারাসাত, ব্যারাকপুর ও বসিরহাট দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর কলকাতার মানিকতলা ও শ্যামপুকুর মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, ভরতপুর, জলঙ্গী ও কান্দিসহ উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের মাথাভাঙা, কোচবিহার, তুফানগঞ্জ, শীতলখুচি আলিপুরদুয়ারের আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা জলপাইগুড়ির জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি ও ডাবগ্রাম দার্জিলিংয়ের শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ও বুনিয়াদপুর উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ, করণদিঘি, ইসলামপুর ও চোপড়া এবং মালদার রতুয়া ও সামসিপ্রভৃতি বিধানসভা এলাকায় এই সাংগঠনিক কর্মীসভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে৷

এই সকল সভায় উপস্থিত হয়ে সংগঠনের কর্মীদের পাশে থেকে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বার্তা দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস৷ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ‘‘হিন্দী তোষণ’’ নীতি ও বাংলা-বাঙালী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান এস.আই.আর-এর নাম করে বাঙালী জাতিকে পুনরায় এই দেশের মাটিতে উদ্বাস্তু করে তোলা এবং তাদের ভোটাধিকার হরণের যে গভীর চক্রান্ত চলছে, তা আসলে এক সুপরিকল্পিত হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের রূপ৷

তিনি আহ্বান জানান সমস্ত বিভাজন ভুলে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, গড়ে তুলতে হবে প্রতিবাদের মঞ্চ৷ বাঙলার ভাষা, কৃষ্টি, ইতিহাস ও অর্থনৈতিক অধিকারের সুরক্ষায় একযোগে আন্দোলনে শামিল হওয়াই সময়ের দাবি৷

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন এই সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি বাঙালীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, বাঙালীর অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই৷ বাঙলার ভাষা থেকে চাকরী সবকিছুতেই বাঙালী আজ নিজভূমে পরবাসী--বহিরাগত অবাঙালীদের দাসে পরিণত হচ্ছে!! এই শোষণের শৃঙ্খল ভাঙতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ও ১০০ ভাগ বাঙালীর কর্মসংস্থানের সুনিশ্চিততার দাবীতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিজ নিজ কেন্দ্রে বাঙালীর নিজস্ব সংগঠন ‘আমরা বাঙালী’র প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করে বাঙলার আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান তিনি৷

উত্তরবঙ্গ থেকে প্রবীন আমরা বাঙালী নেতা শ্রীখুশীরঞ্জন মণ্ডল জানান---উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে আমরা বাঙালী প্রচারে নামবে৷ আমরা বাঙালীর মূল লক্ষ্য--- ভূমি স্রেষ্ঠ বরেন্দ্রভূমি বনজ কৃষিজ সম্পদে লুন্ঠন বন্ধ করে কৃষিভিত্তিক ও কৃষিসহায়ক শিল্প গড়ে বরেন্দ্রভূমির তথা উত্তরবঙ্গের প্রতিটি যুবকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা৷ উত্তরবঙ্গে সম্পদের অভাব নেই৷ অভাব উপযুক্ত পরিকল্পনা ও সততা ও নৈতিকতায় প্রতিষ্ঠিত আদর্শ নেতৃত্বে৷ শ্রী মণ্ডল জানান ---স্বাধীনতার পর ৭৮ বছর পার হয়ে গেল, কেন্দ্র ও রাজ্যের কোন সরকারই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে সেভাবে নজর দেয়নি৷ উত্তরবঙ্গের রেশম, আম, তামাক,পাট প্রভৃতি কৃষি সম্পদকে ভিত্তি করে জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে শিল্প গড়ে উঠতে পারে৷ কিন্তু স্থানীয় নেতাদের হাত করে অবাঙালীফোড়েরা এই সব কৃষিজ সম্পদ অন্য রাজ্যে নিয়ে চলে যাচ্ছে৷ সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বাঙলার বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে৷ এরফলে বাঙলা উভয় দিক থেকে শোষিত হচ্ছে৷ একদিকে তার সম্পদ চলে যাচ্ছে বাঙলার বাইরে অপরদিকে তারই কৃষিজ সম্পদে উৎপাদিত পণ্য তাঁকে অধিক দামে ক্রয় করত হচ্ছে৷ 

আমরা বাঙালী চায় স্থানীয় সম্পদের বহিঃস্রোত বন্ধ করে প্রতিটা জেলার ব্লকে ব্লকে কৃষিভিত্তিক ও কৃষি সহায়ক শিল্প গড়ে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা৷ সমবায় ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এইসব শিল্পে বহিরাগতের কোন স্থান হবে না৷ এরফলে যেমন শিল্প কারখানায় স্থানীয় বেকারের কর্মসংস্থান হবে তেমনি শিল্পে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় মানুষ অনেক কম দামে ক্রয় করতে পারবে৷ এরফলে বাঙলার আর্থিক বুনিয়দ মজবুত হবে৷

শ্রী খুশীরঞ্জন মণ্ডল বলেন--- আমরা বাঙালী শুধু বাঙালীর কথাই চিন্তা করে না৷ প্রাউটের অর্থনীতি বিশ্বের সর্বশ্রেণীর মানুষের সার্বিক বিকাশের কথা বলে৷ তাই সারা বিশ্ব গড়ে তোলা হয়েছে ২৫০টির বেশী সামাজিক অর্থনৈতিক অঞ্চল৷ ভারতবর্ষে জনগোষ্ঠীগত বিন্যাসের দিকে তাকিয়ে ৪৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘটন করা হয়েছে৷

 

১২ বছরে ঋণে জর্জরিত আত্মনির্ভর ভারত

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

প্রধানমন্ত্রীর বহু বাগাড়ম্বরের একটি আত্মনির্ভর ভারত৷এই নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারও কম নেই৷ শুধ আত্মনির্ভর নয়, তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির পথেও অনেকটা এগিয়ে গেছে ভারত এমনই প্রচারে পাড়ামাত করছে মন্ত্রী আমলা থেকে গ্রাম-পঞ্চায়েতের সদস্য সকলে৷ কিন্তু এটা কি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র! বাস্তব চিত্র হলো এই সরকারের ১২ বছরের রাজত্বে ঋণের বোঝা ক্রমশঃ বাড়ছে৷ দেশের মোট জিডিপির ৫৩ শতাংশই ঋণ৷ বছর শেষে এই ঋণের বোঝা বেড়ে হবে প্রায় ২১৪ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি টাকা৷ এর ভেতর বিদেশী ঋণ আছে ৬৫ লক্ষ কোটি টাকা৷ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সরকারের খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ লক্ষ কোটি টাকা৷ রাজস্ব বাবদ আয়ের পরিমাণ ৩৬ লক্ষ ৫১ হাজার কোটির কিছু বেশী টাকা৷ বাকীটা ঋণ বাড়িয়ে জনগণের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া মোদি সরকারের এটাও একটা নজির৷ সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঋণের পরিমান ছিল ৭০ লক্ষ কোটি টাকা৷ ২০২৬-২৭ আর্থিক বর্ষে সেই ঋণের বোঝা হবে ২১৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি৷ গত ৬৭ বছরে ঋণের পরিমান ৭০ লক্ষ কোটি টাকা, মাত্র ১২ বছরে তিনগুণের বেশী ঋণের পরিমান বাড়বে৷ এই ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে৷ ঋণের এই বোঝা কমাতে গেলে যে পথে হাঁটতে হবে তাতে ধনকুবেরদের গায়ে ঘা পড়বে৷ এতে পুঁজিপতি দরদি প্রধানমন্ত্রীর হৃদয় কেঁপে উঠবে৷ প্রধানমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপিদের ছেড়ে দিয়েছেন৷ ঘনিষ্ট ধনকুবেরদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ মুকুব করে দিয়েছেন৷ তার দায় এখন বইতে হবে দেশের জনগণকে৷

 

পরলোকে পাড়ি দিলেন আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী ও নিষ্ঠাবান কর্মী আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত ২০শে মার্চ সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে কলিকাতার রবীন্দ্রনাথ টেগোর হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন৷ মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷ বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন৷

 আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত ১৯৬৫ সালে আনন্দমার্গে সর্বত্যাগী কর্মী হিসেবে যোগদান করেন৷ তিনি মার্গের বিভিন্ন বিভাগে অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন৷ মার্গের কেন্দ্রীয় ধর্ম প্রচারক সচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন৷ ১৯৮৩ সালে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি আচার্য গিরীজানন্দ অবধূত দেহত্যাগ করলে মার্গ গুরু আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতকে জেনারেল সেক্রেটারি নিয়োগ করেন৷ ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর তিনি অত্যন্ত দায়িত্ববোধ ও দৃঢ়তার সঙ্গে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে কাজ করে গেছেন মার্গগুরুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থেকে৷ সমস্ত রকম বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি কখনো বিচলিত হননি৷ সমস্ত রকম পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি আদর্শকে আঁকড়ে ধরে দায়িত্ব পালন করে গেছেন৷ শেষ জীবনে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তিনি সংঘের কেন্দ্রীয় প্রকাশন সচিবের দায়িত্বে ছিলেন৷ তাঁর প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে এইদিন অগণিত সাধক সাধিকা ও মার্গের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কলিকাতা কেন্দ্রীয় আশ্রমে আসেন৷ তার প্রয়াণে সংঘের অপূরণীয় ক্ষতি হলো৷

গত ২২শে মার্চ কলিকাতা ভি.আই.পি নগরে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের সংঘ জীবনের অবিস্মরণীয় অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সকাল থেকেই বহু মার্গী ভাইবোন আশ্রমে উপস্থিত হন৷ সকাল ১০টা থেকে মার্গীভাই বোন ও সর্বত্যাগী কর্মীরা শোকবিহ্বল বিষন্ন পরিবেশে আশ্রমের জাগৃতি ভবনে সমবেত হন৷ সকাল ১১টায় প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য-সদস্যা ও উপস্থিত মার্গী ভাইবোনে আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের প্রতিকৃতিতে মাল্য ও পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ এরপর আচার্য সুতীর্থানন্দ অবধূত, অবধূতিকা আনন্দকরুণা আচার্যা প্রমুখ আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের দীর্ঘ সংঘ জীবনের স্মৃতিচারণা করেন৷ তাঁদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে আচার্য সর্বাত্মানন্দ দাদা কিভাবে ইষ্ট ও আদর্শের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে সংঘের বহু গুরু দায়ীত্ব পালন করেছেন সংঘ জীবনে নিষ্ঠা ও আদর্শপরায়ণতার অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন৷

 

আন্তর্জাতিক স্তরের স্বাধীন সংস্থায় প্রকাশিত ভারতে চলছে নির্বাচিতদের স্বৈরাচার

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 12-04-2026

ভারতীয় গণতন্ত্র গভীর সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে৷ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে যে ভারত গর্ববোধ করে তাদের কাছে এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়৷ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রতিবেদন সূচকে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান নিম্নমুখী৷ মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ প্রতিবেদনের বিষয় ছিল বৈশ্বিক রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা৷ এই প্রতিবেদনে ভারতকে মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ থেকে নামিয়ে আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ সুইডেন ভিত্তিক ভি-ডেম ইনস্টিষ্টিউট তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতকে একটি নির্বাচিত স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বলে উল্লেখ করা হয়৷ অপর একটি প্রতিবেদনে ভারতকে ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷

সুইডেনের ভি-ডেম সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা জনসাধারণের দাবি, আন্দোলন ও সরকারের পদক্ষেপ ইত্যাদি বিচার করে বিভিন্ন দেশকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে যেমন উদারনৈতিক গণতন্ত্র, নির্বাচিত গণতন্ত্র, নির্বাচিতদের স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারি অগণতান্ত্রিক দেশ৷ সুইস সংস্থার ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতে নির্বাচিত গণতন্ত্র থাকলেও তা নির্বাচিতদের স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়েছে৷ জনগণের নির্বাচিত সরকার সব শ্রেণীর মানুষের কথা শুণছে না, সংবিধান বহির্ভূত কাজ করছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে৷

বিশ্ব গুরুর সরকার সম্পর্কে বিশ্বের রাজনৈতিক মহলের এমনটাই ধারণা যে ভারত এখন নির্বাচিতদের স্বৈরতান্ত্রিক দেশ৷ ২০২১ সাল থেকেই ভারতের গায়ে এই স্বৈরতন্ত্রের ছাপ পড়েছে৷ ভারতের অবস্থা প্রতিবেশী বাংলাদেশের থেকেও খারাপ৷ ১৭৯টা দেশের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে ভারতের অবস্থান ১০৫ নম্বরে৷

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ হয় সাংবাদিকরা সরকারের হয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে নতুবা ভয়ে চুপ থাকছে৷ গণতন্ত্রের পক্ষে আরও উদ্বেগের হলো নাগরিক সমাজের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন, অনেক মানুষকে শুধু সরকার বিরোধী বলে জেলে ভরে রাখা আছে৷ ওই সুইডিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতের শিক্ষা সংস্কৃতিও সরকারের আক্রমণের শিকার৷ আমেরিকার সংস্থা ফ্রিডম হাউস তাদের প্রতিবেদনে ভারতকে আংশিক স্বাধীন দেশের তকমা দিয়েছে৷

 

তিমির শরীরেই লুকিয়ে বার্ধক্য জয়ের চাবিকাঠি---রহস্য জানান বিজ্ঞানীরা

পি.এন.এ.
Sat, 11-04-2026

অতি প্রাচীন তিমির শরীরেই লুকিয়ে বার্ধক্য জয়ের চাবিকাঠি৷ তারা বো-হেড তিমি৷ স্বাভাবিক নিয়মেই তারা বাঁচে ২৬৮ বছর বা তারও বেশি৷ বাস করে মেরু এলাকায়৷ ২০০৭ সালে এমনই একটি বো-হেড তিমি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, যার বয়স তখনই ছিল ২০০ বছর৷ সেই তিমির চোখের জল পরীক্ষা করে, তার বয়স নির্ধারণ করেন বিজ্ঞানীরা৷ তার পরেই টনক নড়ে৷ কোন জাদুতে শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে রয়েছে এই তিমিরা? উত্তর খুঁজতে গিয়েই রহস্যটা জেনে ফেলেন বিজ্ঞানীরা৷ তিমির জিনই যে জাদুকাঠি, তা জানতে বাকি থাকেনি৷ বর্তমান সময়ে বার্ধক্যকে হারিয়ে যৌবন ধরে রাখার যে চেষ্টা শুরু হয়েছে, তাতে ফের একবার বো-হেড তিমি উঠে এসেছে আলোচনায়৷ আমেরিকার রচেস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা নতুন করে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন৷ ‘নেচার’ জার্নালে সেই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে৷ জিনের প্রোটিনই সেই সোনার কাঠি তিমিরা আকারে-আয়তনে বিশাল৷ ওজনও বিপুল৷ তাই এদের শরীরে কোষের সংখ্যা অজস্র৷ মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি৷ এই বিপুল সংখ্যক কোষে এমন কিছু প্রোটিন থাকে, যারা কোষের জন্ম-মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে৷ বুড়ো হওয়া কোষের মৃত্যু ঘটলেই, নতুন কোষের জন্ম হয়৷ এই প্রক্রিয়া হিসেব মেনেই চলতে থাকে৷ বিজ্ঞানী ভেরা গরবুনোভা ও আন্দ্রে সেলুয়ানভ বো-হেড তিমির শরীর থেকে নেওয়া এমন কোষগুলিকে অণুবীক্ষণের নীচে রেখে দেখেছেন, শুধু কোষ নয়, আসল চাবিকাঠি এক প্রোটিনের হাতে৷ এর নাম সিআইআরবিপি৷ এই প্রোটিনের কাজ হল ডিএনএ-র ক্ষত সারানো৷ প্রোটিনটি এমন করিতকর্মা যে ডিএনএ-তে সামান্য বদল ঘটলেই তা ঝটপট সারিয়ে ফেলতে পারে৷ একমাত্র এই প্রোটিনের কারণেই তিমির জিনে কোনও মিউটেশন বা রাসায়নিক বদল ঘটে না৷ এমনকি বো-হেড তিমিরা ক্যানসার থেকেও শত যোজন দূরে থাকে৷ দীর্ঘ জীবনে কোনও রোগব্যাধি হয়ই না তাদের৷ মানুষের শরীরে প্রতি দশ বছর অন্তর হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুসের কার‌্যক্ষমতা ৫-১০ শতাংশ হারে কমতে থাকে৷ সাধারণত ৩০ বছরের পর থেকেই এই ক্ষয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ তাই দেখা যায়, ৫০ বছরে গিয়ে হয়তো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে৷ ৮০ বছরে গিয়ে তাই ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমে যাবে৷ এর কারণ হল, কোষের ক্ষয় ক্রমাগতই হয়ে চলেছে৷

কোষের মূল জিনগত উপাদান হল ক্রোমোজোম৷ দেখতে ‘এক্স’-অক্ষরের মতো৷ এর দু’’টি বাহু, ছোটটির শেষ প্রান্তকে বলে টেলোমিয়ার৷ ক্ষয়টা হয় এখানেই৷ কোষ কত বার বিভাজিত হবে, তারও হিসেব আছে৷ যখন বিভাজন প্রক্রিয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে, তখনই কোষের মৃত্যু হবে৷ আর যদি কোনও কারণে জিনের বিন্যাসে বদল চলে আসে, তা হলেই বিপদ৷ তখন কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন ঘটে হয় তা ক্যানসারের রূপ নেবে, না হলে কোনও জটিল জিনগত রোগের জন্ম হবে৷ এই গোটা প্রক্রিয়াটাই যদি ঘুরিয়ে দেওয়া যাবে, অর্থাৎ, টেলোমিয়ারের ক্ষয় হবে না, কোষের জন্ম-মৃত্যুর প্রক্রিয়াটি থেমে যাবে না৷ নতুন কোষের জন্ম হতেই থাকবে৷ তা হলেই আর বুড়ো হওয়া হবে না৷ মৃত্যুও আসবে না চট করে৷ অনন্ত আয়ু পাবে মানুষ৷ একমাত্র ওই প্রোটিনই এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে বলে দাবি৷ ইতিমধ্যেই প্রোটিনটি সংগ্রহ করে তা বিশেষ উপায়ে কিছু মানুষ ও পতঙ্গের শরীরে ঢোকানো হয়েছে৷ যাদের শরীরে প্রোটিন ঢুকেছে, তাদের রোগব্যাধি সেরেছে বলেই দাবি৷ যে পতঙ্গেরা প্রোটিনটি পেয়েছে, তাদের আয়ুষ্কাল স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে৷ তবে এখানে একটি প্রশ্ণ থেকেই যায়৷ মানুষের শরীরে আদৌ প্রোটিনটি দীর্ঘায়ু হওয়ার বাসনা পূরণ করতে পারবে কি না৷ কারণ জলজ পরিবেশের যে তাপমাত্রায় প্রোটিনটি ক্রিয়াশীল, তা স্থলভাগের তাপমাত্রায় কতটা কার‌্যকরী হবে, সে নিয়ে সংশয় রয়েছেই৷

 

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved