সংবাদ দর্পণ

অমানবিক কালাচুক্তির বিরুদ্ধে সরব ‘আমরা বাঙালী’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

শিলচর থেকে ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের অসম রাজ্য সচিব শ্রী সাধনপুরকায়স্থ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানঃ---সরকারী জমি দখলমুক্ত করার জন্য রাজ্য জুড়ে যে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, ‘আমরা বাঙালী’ অসম রাজ্য কমিটি সরকারের এই অমানবিক উচ্ছেদ কার্যৎ বন্ধ রাখার দাবী করছে৷

আমরা মনে করি ভূমিহীন, সহায়-সম্বলহীন মানুষদের যেখানে ভূমি বিতরণ করা সরকার নীতি হওয়া উচিত৷ তা না করে সেখানে ভয়ংকর বিভীষিকাময় করোনা পরিস্থিতিতে সরকার অসহায় সম্বলহীন লোকদের ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে৷ আমরা সরকারের এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করি ও ধিক্কার জানাই৷

উচ্ছেদ হওয়া লোকদের জমি অবন্টন করে পুনর্বাসন দেওয়া, সেই সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবী আমরা রাখছি৷ আমরা মনে করি আজ যে উচ্ছেদ অভিযান চলছে তা অসাংবিধানিক কালা চুক্তি ‘‘অসম চুক্তি’’র ১০ নং ধারার প্রয়োগ করে করা হচ্ছে৷ ঐ ধারায় সরকারী জমি দখলমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে৷ আজকে যারা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তারা কিন্তু ঐ কালা চুক্তি সম্পর্কে নীরব! সুতরাং এই অমানবিক কালাচুক্তির বিরুদ্ধে আজ আমাদের সবাইকে সরব হতে হবে, নতুবা সমস্যা সমস্যার জায়গাতেই থেকে যাবে প্রকৃত সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় অসম চুক্তি বাতিল৷ অসম চুক্তি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে৷ আর চুক্তির মূল দল অসম গণ পরিষদ এই সরকারের সঙ্গেই রয়েছে৷ এই যুগলবন্দি সরকারের বাঙালী বিদ্বেষী মনোভাবের ফলে বাঙালীদের প্রতি চরম অবমাননা করা হচ্ছে৷ জমি দখল বিষয়ে একটি প্রশ্ণ উঁকিঝুঁকি মারছে, তা হল---বনাঞ্চল যদি  দখল হয়ে থাকে তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে বনরক্ষী বাহিনী বা  বনদপ্তরে সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারীরা আছেন তারা এতদিন কি করছেন? সেই সব বনাঞ্চলে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়েছে৷ ৪০/৫০ বছর যাবৎ যারা সেইসব অঞ্চলে বসবাস করেছেন তাদের কে এইভাবে  উচ্ছেদ করা বেআইনি ও অমানবিক৷

সেই সঙ্গে ইহাও উল্লেখ করা প্রয়োজন, অতীতের সরকারের আমলেও ঐ সমস্ত ভূমিহীন লোকদের জমির পাট্টা দেওয়ার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি৷ ভোটের রাজনীতির জন্য ঐসব লোকদের যারা ব্যবহার করে আসছে, আমরা চাই তাদের মুখোশ সবার সামনে টেনে খুলে দেওয়া হোক৷ অসম থেকে বাঙালীদের উৎখাত করতে যে প্রক্রিয়া চলছে বর্তমান উচ্ছেদ অভিযান সেই বাঙালী উৎখাত ষড়যন্ত্রের একটি অঙ্গ মাত্র৷ তাই আজ প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ বাঙালী আন্দোলন৷ দলমত ধর্মমত ভুলে সকল বাঙালীদের এই কুচক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার আহ্বান রাখছে ‘আমরা বাঙালী’ অসম রাজ্য কমিটি৷

আমরা বাঙালীর মিছিল

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৮ই জুলাই শিলিগুড়িতে বাঙালী বিদ্বেষী জিটিএ চুক্তি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে ‘আমরা বাঙালী’৷ দলের দার্জিলিং জেলা সচিব বাসুদেব সাহা এক প্রেস বার্তায় জানান-২০১১ সালের ১৮ই জুলাই তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার  ও গোর্র্খমুক্তি মোর্চার যে চুক্তিতে জিটিএ ঘটিত হয় তা সম্পূর্ণ অবৈধ৷ এই চুক্তি বাঙলা ভাগে ইন্ধন জুগিয়েছে৷ ‘আমরা বাঙালী’ অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের  দাবী জানাচ্ছে৷ ওইদিন শিলিগুড়ি কোর্ট মোড় থেকে আমরা বাঙালী কর্মী সমর্থকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে হাসমিচকে পৌঁছায়৷ এখানে জিটিএ চুক্তি বাতিলের দাবীতে বক্তব্য রাখেন-জেলা সচিব বাসুদেব সাহা, সহসচিব শম্ভূ সূত্রধর, খুশীরঞ্জন মণ্ডল, নীতিশ বোস, অনিল দাশ প্রমুখ৷

বাঙালী ছাত্র যুব সমাজের ভাষাশহীদ স্মরণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসম গণ পরিষদ সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে অনসমিয়াদের উপর অসমিয়া ভাষা চাপানোর সার্কুলার জারির প্রতিবাদে, ১৯৮৬ সালের ২১শে জুলাই তৎকালীন অসমের  মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লকুমার মহন্তকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন করে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে শহীদ হোন বীর বঙ্গসন্তান জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাস৷

এ বছর কোভিডের কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে জমায়েত  এড়িয়ে ভার্চুয়ালি ২১শে জুলাই বাংলা শহীদ স্মরণসভা পালন করে ‘বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটি৷ উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সচিব তপোময় বিশ্বাস, অসম রাজ্যের প্রতিনিধি রত্নেন্দু দাস, ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিনিধি সুপ্রীতা দাস এছাড়াও সদস্য পার্থ রায় অর্পিতা মণ্ডল৷ সঞ্চলনা করেন কৌস্তভ বিশ্বাস৷ অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদ জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাসের প্রতিকৃতি মাল্যদান করেন সংঘটনের কেন্দ্রীয় ছাত্রসচিব তপোময় বিশ্বাস, এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান সবাই৷ বাঙালী ছাত্র যুবসমাজ দাবী করে অ.গ.প সরকারের অসমিয়া ভাষা বাধ্যতামূলক করার সার্কুলারকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে ও অসমে একটিও বাংলা মাধ্যম স্কুলকে  বন্ধ করা চলবে না৷ পাশাপাশি  বাংলা ভাসী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নতুন করে বাংলা মাধ্যম স্কুল তৈরী করতে হবে৷ চাকরির নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহার আবশ্যিক  করতে হবে৷ মাতৃভাষায় শিক্ষার মাধ্যম জাতির অধিকার এই অধিকার সংকুচিত  করতে এলে আবার রক্ত জড়বে,সেই রক্তে পিছলে পড়বে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট দালাল রাজনৈতিক দলগুলি৷ তাই সাবধান৷ এছাড়াও এদিন ‘‘আমরা বাঙালী’’ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কলকাতার শ্যামবাজারের ২ নং বল্লভ স্ট্রীটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১শে জুলাইয়ের বাংলা ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়৷

অমৃতলোকে  অমিতাভ সেনগুপ্ত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
amitabha Sengupta

বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নিষ্ঠাবান আনন্দমার্গী শ্রী অমিতাভ সেনগুপ্ত গত ১৮ই জুলাই ভোরে পরলোক গমন করেন৷ তিনি ১৯৪২ সালের বুদ্ধপূর্ণিমায় জন্মগ্রহণ করেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷ তিনি বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া শহরের প্রতাপ বাগানের বাসিন্দা ছিলেন৷ বাঁকুড়া পাঁচমুড়া কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপক ছিলেন৷ ওই কলেজ থেকেই তিনি চাকুরী জীবনের অবসর নেন৷ শ্রী অমিতাভ সেনগুপ্ত আনন্দমার্গের একজন আদর্শপরায়ণ ও একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন৷ মার্গের নানাবিধ কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন৷ তবে তিনি মূলত আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউটের প্রচার ও প্রসারের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন৷ জরুরী অবস্থার সময় তিনি দীর্ঘদিন কারাবাসে ছিলেন৷ তাঁর স্ত্রী একপুত্র এক কন্যা বর্তমান৷

২৫শে জুলাই সকাল ১০ ঘটিকায় তাঁর নিজ বাসভবনে আনন্দমার্গে চর্যাচর্য শাস্ত্রবিধিমতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷

শ্যামনগরে আমরা বাঙালীর বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ত্রিপুরায় বাঙালীর অস্তিত্ব ধবংসকারী গ্রেটার তিপ্রাল্যাণ্ড বিল ও পশ্চিমবঙ্গের অসাংবিধানিক গোর্র্খল্যাণ্ড টোরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্টেশন বা সংক্ষেপে  জিটিএ বাতিলের দাবীতে গত ২০ জুলাই ২০২১, শ্যামনগর রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ‘‘আমরা বাঙালী’’ সংগঠন৷ উপস্থিত ছিলেন---কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব জয়ন্ত দাশ, কেন্দ্রীয় ছাত্র সচিব তপোময় বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরূপ মজুমদার, মোহন অধিকারী, শেখর সাহা, সাগরিকা পাল সব জনা ২৫ কর্মী সমর্থকবৃন্দ৷ বিক্ষোভ সভায় জয়ন্ত দাশ বলেন বাঙালীর অস্তিত্ব ধবংস করতেই হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের এই চক্রান্ত৷ সকল স্তরের বাঙালীদের কাছে আহ্বান রাখছি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে৷ ছাত্রনেতা তপোময় বিশ্বাস বলেন--- জাতীয় স্তরে বাঙালীকে পায়ের তলায় দাবিয়ে রাখতেই হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত৷  ইতিহাস সাক্ষী আছে ত্রিপুরায় বাঙালীররাই ভূমিপুত্র৷ হালে পানি পাবার জন্য ৮০র দশকে মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট  পার্টি পশ্চিমবঙ্গে ও ত্রিপুরায় বাঙালী ও পাহাড়বাসীদের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি শুরু করেছে৷ সেই আগুন এখনো দাও দাও করে জ্বলছে, বর্তমানে সেই আগুনে ঘি ঢালার কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ জন বার্র্ল, নিশীথ প্রামাণিকের মতো সাংসদ যারা প্রকাশ্যে বাঙলা ভাঙার উস্কানিমূলক প্ররোচনা দিচ্ছেন, পুরস্কার স্বরূপ তাদের কে কেন্দ্রীয় সরকারের বড় বড় মন্ত্রীত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ঘৃণ্য চক্রান্ত আজ পরিস্কার ৷ সর্বস্তরের বাঙালীদের কাছে বাঙালী বিদ্বেষী সকল চক্রান্তকে ব্যর্থ করার  আহ্বান জানায় আমরা বাঙালী৷

নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির শহীদ স্মরণ

সময়

শিলচর থেকে  হিল্লোল ভট্টাচার্য ঃ নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটি, অসম এর পক্ষ থেকে আজ ১৯৮৬ সালে সেবা সার্কুলার প্রত্যাহার করার দাবীতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে শহীদ জগন্ময় দেব, দিব্যেন্দু দাস ও ২০১০ সালে বরপেটায় ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তকে রুখে দিতে এন.আর.সি,র তথাকথিত পাইলট প্রজেক্ট বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে শহিদ মাজম আলি, মাইদুল ইসলাম মোল্লা, সিরাজুল হক ও মতলেব আলিকে শ্রদ্ধার  সঙ্গে  স্মরণ করে৷ সংঘটনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য এক প্রেস বার্তায় জানান যে তাঁদের  মৃত্যু গোটা রাজ্যের ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে৷ উগ্র-প্রাদেশিকতাবাদী শক্তির মদতে পরিচালিত অসম সরকার রাজ্যের ভাষিক সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষার মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত স্বরূপ ১৯৬০ সালে যে কুখ্যাত ভাষা আইন তৈরী করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় এন আর সি তালিকা তৈরি করা হয়েছে৷ রাজ্যের বর্তমান সরকার সেই চক্রান্তকে আরও তীব্র রূপ দিতে তৎপর রয়েছে ও নিরপরাধ সাধারণ নাগরিকদের অন্ধ জাতি বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বলি হতে হচ্ছে৷ তিনি এও বলেন যে ১৯৬১ সালের ১৯শে মে, ১৯৭২ সালের ১৭ আগষ্ট ও ১৯শে মে, ১৯৭২ সালের ১৭ই আগষ্ট ও  ১৯৮৬ সালের ২১শে জুলাই  মাতৃভাষা আন্দোলনের যেমন গৌরবোজ্জ্বল দিন তেমনি ২০১০ সালের ২১ জুলাই এন.আর.সি তালিকা তৈরির নামে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তকে প্রতিহত করারও একটি ঐতিহাসিক দিন৷ বরপেটার চারজন আন্দোলনকারীর আত্মবলিদান এন.আর.সি প্রক্রিয়াকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল৷ তাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে গোটা দেশের জনগণ জানতে পেরেছিল এন.আর.সির ভয়াবহতা সম্পর্কে৷ সি আর পি সি সি,  অসম শহিদদের আত্মবলিদানের এই বিশেষ দিনটি শ্রদ্ধার সাথে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে স্মরণ করতে  আহ্বান জানায়৷ পাশাপাশি অসম সরকারের চরম সাম্প্রদায়িক ও উগ্র প্রাদেশিকতাবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জনগণকে আহ্বান জানায়৷

সম্পদের অভাব নয়, পরিকল্পনার ত্রুটি দারিদ্রতার কারণ - প্রাউটই চিরস্থায়ী সমাধানের পথ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

প্রাউটিষ্ট ইয়ূনিবার্র্সলের কেন্দ্রীয় সংঘটন সচিব আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত কলিকাতায় এক আলোচনা সভায় বলেন--- সার পৃথিবীতে আজও কোটি কোটি নিরন্ন মানুষের হাহাকার৷ অপুষ্টির শিকার পৃথিবীর দারিদ্র্য-অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষ৷ পৃথিবীতে সম্পদের অভাব নেই৷ সম্পদের অবপব্যবহার , ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা ও ধন বৈষম্য এই দুরাবস্থার কারণ৷ একদিকে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে উপচে পড়া ধন-সম্পদ, অপরদিকে দারিদ্র্যের কবলে পড়ে আছে কোটি কোটি মানুষ৷ সামাজিক-আর্থিক-সাংস্কৃতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আজ পুঁজিবাদী দানবের দাপট৷

আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত বলেন---প্রাউটই এর চিরস্থায়ী সমাধানের  পথ দেখাতে পারে৷ তাই প্রাউটিষ্টরা তাদের গুরুদায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না৷ প্রাউটিষ্টদের আজ পবিত্র দায়িত্ব নিরন্ন মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবার৷ প্রতিটি মানুষের ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবার৷  এই দুরবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে প্রাথমিকভাবে ধন-সম্পদের বৈষম্যের ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে৷ তার জন্যে চাই বহুমুখী পরিকল্পনা৷ এই বহুমুখী উন্নয়নের পরিকল্পনার পথ প্রাউটেই আছে৷ প্রাউটিষ্টদের এখন পবিত্র কর্তব্য এই বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা রূপায়িত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া৷ জানি এই কাজে অনেক বাধা আসবে৷ পূঁজিপতি শোষক ও তাদের মদতপুষ্ট শাসকের দল কখন্‌ই ধন-বৈষম্যের  ব্যবধান কমিয়ে আনা মেনে নেবে না৷ তাতে শোষণের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে৷ কিন্তু প্রাউটিষ্টদের শোষণমুক্ত সমাজ গড়তেই হবে সব বাধা বিপত্তিকে পদদলিত করে৷

আচার্য প্রসূনানন্দের কথায়-প্রাউটের বহুমুখী পরিকল্পনার মধ্যে যেমন থাকবে সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমস্ত প্রকার জটিল সমস্যার সুষ্টু ও স্থায়ী সমাধান, তেমনি থাকবে সার্বিক জনসেবামূলক কাজ৷  সবার আগে খাদ্যাভাব সমস্যার সমাধান জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে৷ সেবার কাজ গ্রামস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে প্রতিটি নিরন্ন মানুষ উপকৃত  হয়৷ প্রাউটিষ্টদের মনে রাখতে হবে আজ দেশের জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ অবদমিত৷ এই অবদমিত শোষিত মানুষকে সুষ্ঠুভাবে বাঁচার রাস্তা করে দিতে যেমন ধনবৈষম্যের ব্যবধান মুছে দিতে হবে তেমনি শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করতে হবে৷ প্রতিটি মানুষের কাছে শিক্ষাকে পৌঁছে দিতে হবে৷ উপেক্ষিত অবদমিত মানবতাকে রক্ষা করতে হলে উপযুক্ত শিক্ষারও প্রয়োজন৷

পরিশেষে প্রসূনানন্দ বলেন-প্রাউটের সার্বিক পরিকল্পনায় বহির্জগতে সামাজিক-আর্থিক-সংস্কৃতিক জীবনে সন্তুলন স্থাপনের পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ জগতে এগিয়ে চলার অনুশীলন করতে হবে৷ কারণ আধ্যাত্মিক ভাবধারা ও বহির্জাগতিক প্রয়াস দুয়ের সমন্বয়েই প্রকৃত প্রগতি সম্ভব৷ আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যত বাধাই আসুক সব বাধা চূর্ণবিচূর্ণ করে প্রাউটিষ্টরা শোষণমুক্ত নোতুন বিশ্ব গড়বেই৷

১০০ দিনের কাজে সবার আগে বাঙলা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১০০দিনের কাজে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষস্থানে৷ এই কাজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ,  উত্তরপ্রদেশ, মোদির গুজরাট পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক পিছিয়ে৷ সংসদে এই তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ১০০ দিনের কাজের তালিকায় দেখা যায় শীর্ষে আছে পশ্চিমবঙ্গ৷ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ৬৫.৬২ লক্ষ পুরুষ ও ৫২.৬৬ লক্ষ মহিলা কাজ পেয়েছে৷ চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ৫১.৫৪ লক্ষ মানুষ কাজ পেয়েছে৷

প্রাথমিক স্কুল খোলার সময় এসেছে

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কোভিড পরিস্থিতির কারণে দেড়বছর স্কুল বন্ধ৷ শিশুরা গৃহবন্দি৷ অনলাইন ক্লাসে শিশুদের গৃহবন্দি দশা ঘোচে না৷ নয়া দিল্লির এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলোরিয়া প্রাথমিক স্কুল খোলার পক্ষে মত দেন৷ তবে তিনি বলেন যে সব এলাকায় কোভিড পজিটিভিটির হার পাঁচ শতাংশের কম সেখানে স্কুল খোলার সময় হয়েছে৷ গুলোরিয়া বলেন শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেশী তাই শিশুদের সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কম৷ তাই শিশুদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে ও  সার্বিক উন্নয়নের জন্যেই স্কুল খোলা আবশ্যিক৷ তবে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্কুল খুলতে হবে৷ আই সি এম আয়ের সেরো সমীক্ষার প্রতিবেদনও স্কুল খোলার পক্ষে৷

আনন্দমার্গ দর্শনের ওপর আলোচনা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রেণেসাঁ ইয়ূনিবার্র্সলের যৌথ উদ্যোগে নারী জাতির উন্নয়নে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের প্রবর্তক শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর অবদান নিয়ে একটি জাতীয় ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়েছিল গত ২৬শে জুন৷ এই আলোচনায় প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন অবধূতিকা আনন্দকীর্তিলেখা আচার্যা৷ শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সিরাজ-উল-ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন৷  সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন যে, শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তি রচিত নারীর মর্যাদা বইটি মহিলাদের বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে৷ বইটিতে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, নারীর মুক্তি অর্থাৎ স্বনির্ভরতা, সামাজিক ন্যায় বিচার ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে অনেক গভীর চিন্তা-ভাবনা করা হয়েছে৷ তিনি বলেন আনন্দমূর্ত্তিজীর ভাবনায় নারী পুরুষ উভয়েই একই বিশ্বপিতার সন্তান৷ তাই সমাজে সর্বক্ষেত্রে উভয়ের সমান অধিকার থাকা উচিত৷ এছাড়া আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা সুনন্দিতা ভৌমিক, অধ্যাপিকা শেফালী পাণ্ডে, ডঃ রেখা ওঝা, ডঃ কীর্তি সিং প্রমুখ গুণীজন৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিসেস আবীরা৷

গত ১৯শে জুলাই জাতীয় ওয়েবিনারে অনুরূপ একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়৷ এখানে আলোচ্য বিষয় ছিল শিল্প ও সাহিত্যে শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তির অবদান৷ শুরুতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীমতি সুজাতা দেবনাথ, অধ্যাপক এস.আর ভাট ছিলেন প্রধান অতিথি৷ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বহু গুণীজন৷