রাস্তার ঝাঁকুনিতে প্রাণ ফিরে পেল মৃতপ্রায় মহিলা
চিকিৎসকেরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন৷ ‘জবাব’ দিয়ে দিয়েছিল হাসপাতাল৷ তাই ‘নিথর’ স্ত্রীকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিলেন কুলদীপ শুক্ল৷ বাড়িতে ফোন করে দুঃসংবাদ দিয়ে দিয়েছিলেন৷ এমনকি, শেষকৃত্যের আয়োজনও শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু বরেলী-হরিদ্বার ৭৪ নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ি উঠতেই হল অলৌকিক কাণ্ড! জেগে উঠলেন ‘মৃত’!
৫০ বছর বয়সি বিনীতা শুক্ল বরেলীর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন৷ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকেরা তাঁর ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন৷ হৃদ্যন্ত্র সচল ছিল বটে, কিন্তু সুস্থ হয়ে ফেরার আর কোনও আশা ছিল না৷ তাই হাসপাতাল থেকেও তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়৷ অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুলদীপ৷ আচমকা জাতীয় সড়কের উপর একটি গর্ত পেরোতে গিয়ে লাফিয়ে ওঠে অ্যাম্বুল্যান্স৷ বেশ খানিকটা ঝাঁকুনির পর কুলদীপ লক্ষ্য করেন, তাঁর স্ত্রী ‘বেঁচে’ উঠেছেন৷ আবার স্বাভাবিক হয়েছে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস!
দ্রুত হাসপাতালের দিকে অ্যাম্বুল্যান্স ঘোরান কুলদীপ৷ আরও কিছু দিন চিকিৎসা চলে৷ সোমবার মহিলাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তাঁর স্বামী বলেছেন, ‘‘ডাক্তার বলেছিলেন, কোনও আশা নেই৷ আমি বাড়িতে ফোন করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করতে বলে দিয়েছিলাম৷ হাফিজগঞ্জের কাছে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স একটা গর্তে পড়ে খুব জোরে লাফিয়ে ওঠে৷’’ তার পরেই স্ত্রীকে ফিরে পান কুলদীপ৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমার স্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল৷ দেখেই আমি পরিবারকে জানাই এবং আবার হাসপাতালে নিয়ে যাই৷ ও মৃত্যুকে জয় করল!’’ বাড়ি ফিরে ওই মহিলা স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তাও বলছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার৷
দ্বিতীয় বার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর যে চিকিৎসক মহিলাকে দেখেছিলেন, সেই রাকেশ সিংহ টাইম অফ ইন্ডিয়াকে জানান, বরেলীর হাসপাতালে মহিলার মস্তিষ্কের সাড় (ব্রেনস্টেম রিফ্লেক্স) পাওয়া যাচ্ছিল না৷ গ্লাস্গো কোমার মাত্রাও তিন পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল৷ স্বাভাবিক অবস্থায় যা ১৫ পয়েন্টে থাকার কথা৷ ফলে মহিলার কোনও সাড় পাওয়া যায়নি৷ তাঁর চোখের পরীক্ষা থেকেও ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু’র ইঙ্গিত মিলেছিল৷ তবে তার পর যা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক, মেনে নিয়েছেন চিকিৎসকও৷