Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সংবাদ দর্পণ

জলবায়ুর পরিবর্তনই কি ঘন ঘন ডেকে আনছে এল নিনো!

পি.এন.এ.
Sun, 02-08-2026

এ বছর ফিরে এসেছে এল নিনো৷ আবহবিদেরা সতর্ক করেছেন, আগের বারের থেকে আরও তীব্র হতে পারে সেই উষ্ণ স্রোত৷ তার প্রভাবে আরও বাড়তে পারে পৃথিবীর তাপমাত্রা৷ ভাঙতে পারে আগের রেকর্ড৷ জলবায়ুর পরিবর্তনই কি তীব্র করেছে এল নিনোকে, ফিরিয়ে আনছে বার বার? তার জেরেই কি বাড়ছে বিপর্যয়? এই নিয়ে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক৷ এক দল বিজ্ঞানী জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন৷ অন্য দল তা মানছেন না৷ 

কয়েক বছর অন্তর আবির্ভাব হয় এল নিনোর৷ তার প্রভাবে গোটা পৃথিবীরই তাপমাত্রা বাড়ে৷ আবহবিদেরা জানিয়েছে, গোটা ২০২৭ সাল ধরে চলবে এই এল নিনো৷ তার প্রভাব পড়বে আবহাওয়ায়৷ গত কয়েক দশক ধরে ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে এল নিনোর তীব্রতা৷ ১৯৮০-র দশক থেকেই তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে বিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের অনেকেই মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই এল নিনোর তীব্রতা বাড়ছে৷ তার প্রভাবে উষ্ণতা বাড়ছে, কোথাও কোথাও খরার প্রকোপও বাড়ছে৷ তবে এক দল বিজ্ঞানীর দাবি, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং এল নিনো এই দু’টি বিষয়কে মেলালে চলবে না৷ দুইয়ের যোগ নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নেই৷

বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো অতিশয় জটিল এক প্রক্রিয়া৷ তার নেপথ্যে রয়েছে মহাসাগর এবং বায়ুমণ্ডলে একাধিক প্রক্রিয়া৷ ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকার সরকারি সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, এই এল নিনোকে কন্েন্টাল করে অনেকগুলি ‘সুইচ’৷ তার মধ্যে একটি হতে পারে জলবায়ুর পরিবর্তন৷ তা বলে এল নিনোর প্রভাব তীব্র করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কতটা, সেই নিয়ে প্রশ্ণ রয়েই যায়৷ দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানের আইবিএস সেন্টার ফর ক্লাইমেনট ফিজিক্সের অধ্যাপক অ্যাক্সেল টিমারম্যান জানিয়েছেন, জলবায়ু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে ‘কোলাহলপূর্ণ’ অংশ হল এল নিনো৷ সেই কোলাহলেই যে বদল হচ্ছে, তা ধরার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা৷

চলতি বছর আবহাওয়া সংস্থাগুলি যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা সত্যি হলে ১৯৫০ সাল থেকে যত এল নিনো এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে চলেছে এ বছরেরটি৷ আবহবিদদের একাংশের মতে, চলতি বছরের এল নিনোর কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের তাপমাত্রা গড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে৷

চিনের ওশান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েনজু কাই গত ২০ বছর ধরে এল নিনো নিয়ে গবেষণা করছেন৷ সেই গবেষণা ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে৷ তাঁদের মতে শিল্পায়নের পরে এল নিনোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে আড়াই শতাংশ৷ তার আগে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কম ছিল বলে এল নিনো হত তুলনায় কম, এমনটাই দাবি কাইয়ের৷ তাঁর মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন না হলে এল নিনোর আবির্ভাব এ ভাবে বাড়ত না৷

এল নিনো নিয়ে ১৯৫০ সালের আগে সে ভাবে খাতায় কলমে কোনও পরিসংখ্যান মেলে না৷ নাবিকদের ডায়েরি বা লিখিত নথি থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়, তা-ও ১৮০০ শতক থেকে৷ তার আগের তথ্য এখনও অজানা৷

ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্ডের গবেষক ক্লারা ডেসার আবার এল নিনোর তীব্রতা, ঘন ঘন ফিরে আসার জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনের হাত রয়েছে বলে মানতে চান না৷ তাঁর মতে, জলবায়ুর বিশৃঙ্খল স্বভাবই এর জন্য দায়ী৷ এল নিনো নিয়ে নির্দেশিকা জারি করার সময় ওয়ার্ল মেটেরিওলজিক্যাল অর্গানাইজেশনও জানিয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধি, বার বার আগমনের নেপথ্যে জলবায়ুর পরিবর্তনের হাত রয়েছে বলে কোনও প্রমাণ মেলেনি৷ ইন্টারগভরমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষক কবের আবার দাবি, শিল্পায়নের আগে এল নিনোর তীব্রতা এখনকার থেকে অনেক কম ছিল৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্টনিয়ো গুতেরেসের ব্যাখ্যা, ‘‘উষ্ণ পৃথিবীর আগুনে আরও কিছুটা ঘি ঢালবে এল নিনো৷’’ তাঁর মতে, কারণ যা-ই হোক, প্রভাব পড়বে তীব্র৷

এল নিনো কী---কয়েক বছর অন্তর প্রশান্ত মহাসাগরে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে৷ পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী যে বাতাস সাধারণত উষ্ণ জলকে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়, সেই বাতাস হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে৷ এর ফলে উষ্ণ জল আবার পূর্ব দিকে ফিরে আসে এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ঘেঁষে বইতে থাকে৷ এই স্রোতের প্রভাবে মধ্যপ্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ উষ্ণ হয়ে ওঠে৷ বইতে শুরু করে উষ্ণ স্রোত৷ একেই বলে এল নিনো৷ স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’-র অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’৷ শত শত বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার মৎস্যজীবীরা প্রশান্ত মহাসাগরে এই অস্বাভাবিক স্রোত লক্ষ্য করেছিলেন৷ স্রোতের নামকরণও করেছিলেন তাঁরা৷

 

গরমে পুড়ছে গোটা ইউরোপ

পি.এন.এ.
Sun, 02-08-2026

ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, ব্রিটেন, পর্তুগাল-সহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এখন তাপপ্রবাহের কবলে৷ কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, কোথাও ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই৷ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ফ্রান্সের৷ দেশের অর্ধেকের বেশি অঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত৷ বাধ্য হয়ে স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ৮৪৫টি স্কুল ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে৷ ১৮০০টি স্কুলে পঠনপাঠন হচ্ছে সকালের দিকে৷

গত সোমবার ফ্রান্সের সর্র্বেচ্চ তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে৷ আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বদোতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছোয়৷ মধ্য ফ্রান্সের পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ ফ্রান্স প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই দুই শিশু-সহ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

অন্য দিকে, ইটালির ১২টি শহরে তাপপ্রবাহের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে সে দেশের আবহাওয়া দফতর৷ মিলান, ভেনিস, তুরিন, বলোগনা, ফ্লোরেন্স এবং রোমে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে৷ বুধবারের মধ্যে এই সংখ্যা ১৬ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে রোমে৷ জার্মানিতেও গরমের ছবিটাও এক৷ সেখানে বেশ কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ছুঁতে পারে৷ জার্মানিতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহে৷ ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে৷ ব্রিটেনে সোমবার দিনের সর্র্বেচ্চ তাপমাত্রা ৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে৷ তবে কোথাও কোথাও সেই তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছোতে পারে৷ বেলজিয়াম এবং পর্তুগালেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

 

ভগবতী দেবী শিক্ষা নিকেতনে অনুষ্ঠিত হল ৭ম বর্ষ গল্প বলা প্রতিযোগিতা

পি.এন.এ.
Sun, 02-08-2026

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খাকুড়দার বড় মোহনপুরে অবস্থিত ভগবতী দেবী শিক্ষা নিকেতনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৭ম বর্ষ গল্প বলা প্রতিযোগিতা ২৩শে জুন, মঙ্গলবার৷ রেণেশাঁ আর্টিস্টসএণ্ড রাইটার্স এ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ও ভগবতী দেবী শিক্ষা নিকেতনের পরিচালনায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গল্প বলা প্রতিযোগিতা, বাংলা শব্দের খেলা ও বাংলা - বাঙালী বিষয়ে ক্যুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল৷ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ভগবতী দেবী প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সিদ্ধার্থ শঙ্কর মিশ্র সহ অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা গণ৷ উদ্বোধনী সঙ্গীত ’আনন্দ লোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশিত হয় সমবেতভাবে৷ অতিথি বরণের পর কলেজের অধ্যক্ষ এদিনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোকপাত করেন৷ ট্টঙ্ঢ সম্পাদক গল্প ’ভিন্নরুচির্হি লোকাঃ’’র অন্তর্হিত মানে বুঝিয়ে বলেন৷ বিচারক হিসেবে উপস্থিত কাজরী বসু মহাশয়া রাওয়ার এই উদ্যোগের ভূয়ষী প্রশংসা করে বলেন এখনকার শিশু কিশোরদের গল্প মুখী করতেই হবে৷ যেভাবে মুঠোফোনে আসক্তি বাড়ছে তাতে আগামী প্রজন্মের ক্ষতি হতে বাধ্য৷ গল্প বলা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী ৪৩জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা পাঁচ বিবেচিত হয় - শ্রেয়ান প্রধান,ইশরত জাঁহা, সৌমিক জানা, সুফিয়া খাতুন ও শ্রেয়ান চণ্ডী৷ এরপর বাংলা শব্দের খেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৯জন প্রতিযোগী অংশ নেয়৷ সেরা দশ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়৷ বাংলা - বাঙালী বিষয়ক ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় ৪৪জন অংশগ্রহণ করে৷ সঠিক উত্তরদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়৷

 

বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের ঘোষনা আছে কিন্তু রসদের দিশা নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 02-08-2026

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে সব প্রস্তাব রাখলেন তাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের সদিচ্ছা আছে, সবকা সাথ সবকা বিকাশের প্রস্তাবও আছে৷ রাজ্যের সর্বশ্রেণীরমানুষের কল্যাণের ভাবনাও বাজেট প্রস্তাবে আছে৷ তবে তার কতটা বাস্তবায়িত হবে সেটা দেখার জন্যে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে৷ প্রস্তাবিত বাজেটের অর্ধেক বাস্তবায়িত হলেও পশ্চিমবঙ্গ এগোবে৷

রাজ্য বাজেটে যেমন পিছিয়ে থাকা জনজাতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, ডি.এ বাড়িয়ে সরকারী কর্মচারীদের খুশী রাখার চেষ্টাও হয়েছে৷ পূর্বতন সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলিও বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে নাম পরিবর্তন করে৷ বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে৷ ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় কেন্দ্রের বহুমুখী প্রকল্পের সঙ্গেও এবার রাজ্য জুড়বে৷ রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কর্মসংস্থানের প্রস্তাব রয়েছে৷ সব দিক দিয়ে বাজেটকে বিকাশমুখী বলা যায়৷

রাজ্য বাজেটে যে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন হয় তবে পশ্চিমবঙ্গ সত্যিই বদলে যাবে৷ কিন্তু বাজেটের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রসদ যোগানের কোন স্পষ্ট দিশা নেই৷ বাজেটে যে সব প্রস্তাব রাখা হয়েছে তা বাস্তবায়িত করতে যে অর্থের প্রয়োজন---বরাদ্দ অর্থ তার তুলনায় অনেক কম৷ অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর করতে হলে চাই অর্থের যোগান৷ এক্ষেত্রে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কেন্দ্রের বঞ্চনা বন্ধ হবে বলেই মনে হয়

রাজ্যের আর্থিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ৷ যদিও রাজ্য থেকে রাজস্ব আদায় করেই কেন্দ্র চলে৷ তাই রাজ্যের বিকাশে কেন্দ্রেরও দায়ীত্ব থাকে৷ কিন্তু রাজ্যে বিরোধী দলের শাসন থাকায় গত কয়েক বছরে রাজ্য বঞ্চিত থেকেছে তার ন্যায্য প্রাপ্য থেকে৷ আশা করা যায় এখন কেন্দ্রে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় রাজ্য তার প্রাপ্যের অধিকই পাবে৷ কিন্তু তাতেও কি সুরাহা হবে!

বাজেটে আর্থিক ঘাটতি রাজস্ব ঘাটতি কমানোর কথা বলা হলেও কিন্তু কিভাবে কমবে তার দিশা বাজেটে নেই৷ নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের দায়বদ্ধতা বাজেটে স্বীকার করলেও তা কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর৷ তাই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়ন হয় তার উপরই নির্ভর করছে সোনার বাঙলার ভবিষ্যৎ৷

 

যোগ সাধনা মানব জীবনের মূল ভিত্তি মানুষকে বিশ্বমানবে পরিণত করে যোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 02-08-2026

গত ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কর্মী ও সমর্থকরা বিশ্বের সর্বত্র আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করে৷ মূল অনুষ্ঠানটি হয় কলকাতা ভিআইপি নগর আনন্দমার্গ আশ্রমে৷ এই দিন সকালে বহুভক্ত মার্গী যোগ দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আশ্রমে সমবেত হয়৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত মার্গীভাই বোন ও সন্ন্যাসী দাদা দিদিরা প্রভাত সঙ্গীত ও কীর্ত্তন পরিবেশনের পর সকলে মিলিত সাধনা করেন৷ এরপর মার্গের বরিষ্ঠ সন্ন্যাসী ও কেন্দ্রীয় কার্যালয় সচিব আচার্য সুধাক্ষরানন্দ অবধূত যোগের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন৷ তিনি তন্ত্র সাধনা ও যোগ সাধনার ব্যাখ্যা করে বলেন মানুষ তন্ত্রকে অকারণে ভয় পায় আসলে তন্ত্র সাধনাকে মানুষের সামনে যথাযথভাবে প্রতিপাদিত করা হয়নে৷ তাই অনেক মননশীল মানুষও তন্ত্র সম্পর্কে ভুল ধারনা পোষন করেন৷ যোগ তন্ত্রেরই সূক্ষ্মতর শাখা৷ তিনি অষ্টাঙ্গিক যোগ সাধনারও বিস্তৃত ব্যাখ্যা করেন৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব আচার্য তথাগতনন্দ অবধূত ও দিল্লি সেক্টরের শিক্ষা সচিব আচার্য কৃষ্ণপ্রসূনানন্দ অবধূত প্রমুখ৷

এদিন শ্রীরামপুরে প্রবীন আনন্দমার্গী শ্রীপ্রভাত খাঁ এক আলোচনায় বলেন---যোগ মানুষকে সংকীর্ণ ভাবনা থেকে ক্ষুদ্র গণ্ডী থেকে মুক্ত করে বিশ্বমানবে পরিণত করে৷ তাই প্রকৃত যোগ সাধকের মনে কোনরূপ ভেদ ভাবনা থাকে না৷ মানুষের শারীরিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের সঙ্গে যোগ সাধনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত৷ তাই যোগ বিশেষ একটি দিনের জন্যে নয়৷ যোগ সারা জীবনব্যাপী দৈনন্দিন অনুশীলনের বিষয়৷ যোগ কোন ব্যয়বহুল প্রচার সর্বস্ব চর্র্চর বিষয় নয়৷ বর্তমানে প্রচারের নামে যোগের বহুল অপব্যবহার হচ্ছে৷ যোগানুশীল মানুষকে সৎ নিয়ম নিষ্ঠ পবিত্র জীবন যাপনে অনুপ্রাণিত করে৷ আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘ দীর্ঘ সময় ধরে সারা বিশ্বে জাত-পাত-ধর্মমত নির্বিশেষে সর্বশ্রেণীর মানুষকে যোগাভ্যাসে অনুপ্রাণিত করে আসছে৷

 

শুরু হচ্ছে আনন্দমার্গের সেমিনার আলোচনার বিষয় সাধনা সেবার দ্বারাই পরমার্থ লাভ সম্ভব

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sun, 02-08-2026

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের দিল্লি সেক্টরে প্রথম ডায়োসিস স্তরের সেমিনার আরম্ভ হচ্ছে ২৬শে জুন থেকে৷ কলিকাতা রিজিয়নে শিলং সার্কেলে গুয়াহাটিতে ও কলিকাতা সার্কেলে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে সেমিনার শুরু হচ্ছে৷ তিনদিনের এই সেমিনারে আনন্দমার্গ দর্শনের আধ্যাত্মিক সামাজিক ও অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনা হবে৷ এবারের আলোচনার মূল বিষয় সাধনার রূপ ও জনসেবাই উৎকৃষ্ট জীবনাদর্শ৷ মানব জীবনের পরমলক্ষ্য পরমার্থ লাভ তা একমাত্র সাধনা ও সেবার দ্বারাই অর্জন করা সম্ভব৷ মানুষকে সাধনাও করতে হবে আবার সমাজের সেবাও করতে হবে৷ সমস্ত প্রকার ভেদ-ভাবনা থেকে মনকে মুক্ত রাখতে হবে৷ এছাড়াও আলোচ্য বিষয় আছে ‘সভ্যতারভবিষ্যৎ’ ও ‘আদর্শ সংবিধানের প্রয়োজনীয় উপকরণ৷ সভ্যতার ভবিষ্যৎ বিষয়ে আনন্দমার্গ দর্শনের প্রণেতা বলেছেন--- মানুষ এক অজ্ঞাত আশঙ্কায় ভুগছে৷ তারা ভাবছে মানুষ জাতিটাই একেবারে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন এমন কিছু ঘটবে না৷ পৃথিবী একদিন ধবংস হয়ে যাবে৷ কিন্তু মানব জাতির অবলুপ্তি ঘটবে না৷ মানুষ একদিন উন্নত বিজ্ঞানের সাহায্যে অন্যগ্রহে যেতে সক্ষম হবে৷ আজ মানুষের কাছে যা স্বপ্ণ---আগামী দিনে তা বাস্তবে পরিণত হবে৷ আগামী দিনে কোন রাজনীতিবিদ নয়, সদ্‌বিপ্ররাই পৃথিবীকে বাঁচাবে৷

আদর্শ সংবিধানের জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিষয়ে আলোচনার মূল বক্তব্য হলো-রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন দেশের সংবিধান বিভিন্ন বিধি-ব্যবস্থার কথা বললেও তা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়৷ সব দেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিককে চারটি মৌলিক অধিকারের নিশ্চিততা দিতে হবে---ধর্মানুশীলনের অধিকার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অধিকার, শিক্ষা ও মাতৃভাষায় ব্যক্তিকরণের অধিকার ---এই তিনটি অধিকারের কোন একটির সঙ্গে মৌল মানবীয় নীতির বিরোধ দেখা দিলে ওই অধিকারটি সংকুচিত করতে হবে৷ অর্থাৎ সংবিধানে মৌল মানবিক নীতিকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে৷

তিনদিনের আলোচনা সভায় আনন্দমার্গ দর্শনের তাত্ত্বিক আলোচনা ছাড়াও সাংঘটনিক বিষয়ে আলোচনা হবে ও মার্গের আদর্শ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নানা কর্মসূচী নেওয়া হবে৷

 

মঙ্গলগ্রহের মাটিতে তৈরি করা হয়েছে অক্সিজেন

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

মঙ্গলগ্রহের মাটিতে মানুষের শ্বাস নেওয়ার মতো অক্সিজেন তৈরি করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা৷ একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে মঙ্গলে তৈরি হয়েছে ১২২ গ্রাম অক্সিজেন৷ পরীক্ষামূলক এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে মঙ্গল নিয়ে একাধিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, মত বিজ্ঞানীদের৷ পৃথিবী থেকে পাঠানো ওই যন্ত্র মঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেখানকার বায়ুমণ্ডল থেকে সংগ্রহ করা উপাদান দিয়েই অক্সিজেন তৈরি করেছে৷ সেই অক্সিজেন আরও বেশি পরিমাণে উৎপন্ন করা গেলে মঙ্গলে শ্বাসকার‌্য চালাতে মহাকাশচারীদের আর কোনও অসুবিধা হবে না৷ ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযান থেকে ফেরার জন্য পৃথিবী থেকে আলাদা করে বাড়তি অক্সিজেন নিয়েও যেতে হবে না৷

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানীরা মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সহযোগিতায় অক্সিজেন তৈরির যন্ত্র পাঠিয়েছিল মঙ্গলে৷ সেই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয় ‘মক্সি’, যার পুরো কথা হল মার্স অক্সিজেন ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন এক্সপেরিমেন্ট৷ ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নাসার প্রিজারভেন্স রোভারে চেপে এই যন্ত্র মঙ্গলগ্রহে পৌঁছোয়৷ এমআইটি-র বিশেষজ্ঞ মাইকেল হেচ এবং জেফরি হফম্যানের নেতৃত্বে গবেষকেরা এই যন্ত্র তৈরি করেছিলেন৷ ২০২১-এ স্পেস সায়েন্স রিভিউজ-এ তার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়৷ মক্সি সক্রিয় ছিল ২০২৩ সালের ৭ অগস্ট পর্যন্ত৷

যন্ত্রটির ওজন ১৫ কিলোমিটার৷ নাসা আনুষ্ঠানিক ভাবে একে মাইক্রোওভেনের আকারের যন্ত্র বলে উল্লেখ করলেও এর সঙ্গে কেউ কেউ ছোট টোস্টারের সাদৃশ্য পান৷ এর নকশার নথিতে বলা হয়েছিল, মক্সি প্রতি ঘণ্টায় ৬ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম৷ সেই অক্সিজেন ৯৮ শতাংশ বিশুদ্ধ৷ প্রাথমিক ভাবে মক্সি-র উদ্দেশ্য ছিল মঙ্গলে উপস্থিত উপাদান কাজে লাগিয়েই অক্সিজেন তৈরি করা৷ পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া উপাদান যাতে কম ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে আদৌ এই কাজ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ ছিল৷ কারণ এর আগে পৃথিবীর বাইরে সেখানকার উপাদান দিয়ে কখনও শ্বাসবায়ু তৈরি করেনি মানুষ৷

মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ৯৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড৷ তবে তার ভরের সিংহভাগই অক্সিজেন৷ কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে অক্সিজেনকে আলাদা করার প্রক্রিয়া পৃথিবীতে নতুন নয়৷ কিন্তু মঙ্গলগ্রহে তা সম্ভব কি না, সেটাই দেখতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ ২০২১ সালের শেষ দিকের তথ্য বলছে, মক্সি মঙ্গলগ্রহে ঘণ্টায় ৬ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি করেছে৷ সকাল কিংবা রাত, মঙ্গলের ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতেও এই অক্সিজেন তৈরি হয়েছে৷ ওই বছরের পর যন্ত্রের সক্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয় নাসা৷ চূড়ান্ত মিশনের ঘোষণার সময় অর্থাৎ, ২০২৩ সালে মক্সি থেকে ঘণ্টায় ১২ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যের দ্বিগুণ৷

 

এবার ব্রিটেনও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

ভাবনাচিন্তা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই৷ এ বার সেই ভাবনাচিন্তাই বাস্তবায়িত করতে চলেছে ব্রিটেন৷ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার৷ অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার পর ব্রিটেনেও ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ স্টার্মার জানান, শিশুদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

স্টার্মারের কথায়, ‘‘আমরা ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছি৷ শিশুদের এমন এক জগতে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয় তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ছাপ ফেলে৷ আমরা চলতে দিতে পারি না৷ আমরা চাই, শিশুদের শৈশব ফিরে আসুক৷ সেখানে কোনও ভাবে প্রযুক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না৷’’

তবে সমাজমাধ্যমের কোন কোন ক্ষেত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ ১৬ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে গত তিন মাস ধরে আলোচনা হয়েছে ব্রিটেনে৷ বিবিসি জানিয়েছে, শুধু সমাজমাধ্যম নয়, গেমিং অ্যাপে অপরিচিতদের সঙ্গে মেলামেশার উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সেনেটে বিল পাশ করে এই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার‌্যকর করা হয়৷ জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতি ১০টি প্রচলিত সমাজমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷ পরে একই পথে হেঁটে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করে৷

ব্রিটেনেও এই নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে৷ তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে কিছু কম কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল৷ যেমন ইনফিনিট স্ক্রল বা অটোপ্লে-র মতো ফিচার বন্ধ, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার বা এআই চ্যাটবটের ব্যবহার সীমিত করার মতো বিষয়৷ সেই সমীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে ছিলেন৷ তবে কিছু অভিভাবকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে৷ যদিও শেষপর্যন্ত সব কিছু বিবেচনা করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল ব্রিটেন৷

 

কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির উন্নতিতে রাশ টানতে চায় মার্কিন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিক

পি.এন.এ.
Sat, 04-07-2026

কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দুনিয়ায় শোরগোল৷ শোরগোল ফেলেছে অ্যানথ্রপিক৷ তাদের তৈরি ‘ক্লড এআই’ নাকি নিজের থেকেই বানাতে পারছে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা৷ এর জেরে এআইয়ের উন্নতি আরও দ্রুত হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট৷

 ‘এআই ক্লড’কে নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের ব্লগে গবেষণামূলক একটি লেখা পোস্ট করে অ্যানথ্রপিক৷ সেখানে বলা হয়েছে, যে ভাবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিটি কাজ করছে, তাতে এটি ‘পুনরাবৃত্তিমূলক আত্ম-উন্নয়ন’-এর দিকে চলে যেতে পারে৷ অর্থাৎ, আগামী দিনে মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজের উত্তরসূরির নকশা, নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ দিতে পারবে ‘এআই ক্লড’৷

মার্কিন টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, কৃত্রিম মেধার ‘পুনরাবৃত্তিমূলক আত্ম-উন্নয়নের’ বাস্তবায়ন হয়তো পুরোপুরি সম্ভব নয়৷ কিন্তু, এই ধরনের ভয়াবহ কিছু হতে পারে সেটা ধরে নিয়ে সরকার এবং সমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে৷ কারণ, যে গতিতে কৃত্রিম মেধা এগোচ্ছে তাতে চিন্তাভাবনার সময়টুকুও পাওয়া যাবে না৷ এর উন্নতি ধীরে হওয়ার বদলে খুব দ্রুত গতিতে হচ্ছে৷

একাধিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষকদের তড়িৎগতিতে কাজ করতে সাহায্য করছে এআই৷ অ্যানথ্রপিক মনে করে, আগামী দিনে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান এবং উৎপাদনশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বড় ধরনের উন্নতির পথ খুলে দেবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি৷ তখন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কী ভাবে নিজের সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ণ থাকছে৷

নিজেদের ব্লগে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছে অ্যানথ্রপিক৷ সেখানে বলা হয়েছে, গোড়ার দিকে সফটয়্যার তৈরি করতে ইঞ্জিনিয়ারেরা হাতে-কলমে কোড লিখতেন৷ তার পর এল এআই চ্যাটবট৷ তারা ছোটখাটো কোড লিখতে সাহায্য করত৷ সেটাই বর্তমানে কোডিং এজেন্টে পরিণত হয়েছে৷ এরা স্বাধীন ভাবে ফাইল লিখতে এবং সম্পাদনা করতে পারে৷ ফলে ওই ইঞ্জিনিয়ারদের আর কোনও প্রয়োজন নেই৷

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত কয়েক বছরে এআই এজেন্টগুলো আরও উন্নতি করেছে৷ কোড লেখা, ফাইল সম্পাদনার পাশাপাশি অন্য এজেন্টদের হাতে কাজ ভাগ করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের৷ অ্যানথ্রপিক মনে করে, এর পরের পদক্ষেপ হল এমন একটা কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা যারা অন্যান্য এআই মডেল বানিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেবে৷মার্কিন টেক জায়ান্টটির দাবি, প্রযুক্তিগত উন্নতির জেরে কৃত্রিম মেধার উপর আমজনতার নির্ভরশীলতাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ একটি পরিসংখ্যান থেকে সেটা বুঝে নেওয়া যেতে পারে৷ বর্তমানে প্রতি চার মাসে এআই ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ আগে এটা ছিল সাত মাস৷ ২০২৪ সালে মাত্র চার মিনিটে একজন সফটয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের প্রায় সব কাজ করে ফেলত ‘ক্লড ওপাস ৩’৷

গত বছর (২০২৫ সাল) ‘ক্লড সনেট ৩.৭’ বাজারে আনে অ্যানথ্রপিক৷ সেটা আরও কম সময়ে সেরে দিচ্ছিল সফয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ৷ এ বছর ‘ক্লড ওপাস ৪.৬’ তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট৷ যে কাজ করতে এক ব্যক্তির ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে, সেটা এই কৃত্রিম মেধা নিমেষে করতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, বর্তমানে এআই মডেল তৈরির বেশির ভাগ কোড নিজের থেকে লিখছে ‘ক্লড’৷ ফলে ইঞ্জিনিয়ারেরা অনেক বেশি পরিমাণে কোড তৈরি করতে পারছেন৷ ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের কোড তৈরির পরিমাণে দৈনিক প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেটা অভাবনীয়৷

‘ক্লড’ এআই মডেলটি শুধুমাত্র কোডিংয়ে দক্ষ, তা ভাবলে ভুল হবে৷ গবেষণামূলক কাজেও এই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিটি বেশ উন্নতি করছে৷ ফলে কঠিন কোডিংয়ে সাফল্যের হার চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে অ্যানথ্রপিক সূত্রে জানা গিয়েছে৷ আর তাই এআইয়ের ব্যাপারে তিনটি পূর্বাভাস দিয়েছে এই মার্কিন টেক জায়ান্ট৷অ্যানথ্রপিকের দাবি, কিছু কিছু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গোড়াতেই অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ করা গিয়েছে৷ ফলে পরবর্তী কালে অনেকটাই শ্লথ হয়েছে তাদের অগ্রগতি৷ কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রেও সেটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়৷ অন্যথায় উৎপাদনের দুনিয়ায় বড় ভূমিকা নেবে এআই৷ পাশাপাশি, নিজেরাই নিজেদের উত্তরসূরি তৈরি করে ফেলবে৷ এবং সেটা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল৷

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী সমস্ত এআই সংস্থাকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও৷ ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া থাকা দরকার৷ নইলে ভুল ভাবে এআই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে৷ এর সামাজিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে৷’’ আর তাই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার গতি শ্লথ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷

এর পাশাপাশি কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবস্থাগুলির কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন আমোদি৷ ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, ‘‘বড় ধরনের কোনও ভুল হলে এআই টুলটি নিষিদ্ধ হতেই পারে৷ তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে৷’’

ইতিমধ্যেই অ্যানথ্রপিক তাদের এআই মডেল ‘মিথোস’-এর একটি সর্বজনীন সংস্করণ বাজারে এনেছে৷ সফয়্যারের ত্রুটি খুঁজে বার করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে এর আগের একটি ‘প্রিভিউ’ সংস্করণ বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল৷ এ বার সাইবার নিরাপত্তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রোধে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ যুক্ত করেছে তারা৷

চলতি বছরের ৯ জুন মার্কিন টেক জায়ান্টটি জানায়, সফয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যানালিটিক্স ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করা ‘ক্লড ফেবল ৫’ মডেলটি তাদের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল, যা ব্যাপক পরিসরে ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে৷ গত এপ্রিলে ‘মিথোস’-এর মাধ্যমে হাজার হাজার সফয়্যার দুর্বলতা বা ‘ভালনারেবিলিটি’ শনাক্ত করার পর এর ব্যবহার সীমিত করে অ্যানথ্রপিক৷

মার্কিন এআই সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৯৬,৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছে গিয়েছে৷ তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা হল চ্যাটজিপিটির নির্মাণকারী সংস্থা ওপেনএআই৷ দু’টি কোম্পানিই বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম মেধার নতুন মডেল প্রতিযোগিতায় অ্যানথ্রপিককে কিছুটা এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷

 

আমরা বাঙালি কর্মী শহীদ বাবুল দেবের মৃত্যু দিবসকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন

নিজস্ব সংবাদদাতা
Sat, 04-07-2026

গতকাল ৭ই জুন যথাযোগ্য মর্যাদায় আমরা বাঙালি কর্মী শহীদ বাবুল দেবের মৃত্যু দিবসকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়৷ 

১৯৮৭ সালের ৫ই জুন আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও আইএমডিটি আইন বাতিলের দাবিতে সারা আসাম ছাত্র সংস্থা অর্থাৎ আসু আসাম বন্ধের ডাক দিয়েছিল৷ বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ণে এই বন্ধের বিরোধিতায় অন্যান্য দল সংগঠনের সঙ্গে আমরা বাঙালি দল রাস্তায় নেমেছিল৷ সেদিন কাছাড় জেলার উদারবন থানার সামনে আসুর গুন্ডাদের দ্বারা বাবুল দেব আক্রান্ত হয়৷ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শিলচর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় সাতই জুন বাবুল দেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন৷ সেদিনের এই বন্ধের বিরোধিতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যেমন রাস্তায় নেমেছিল৷ তেমনি তখনকার প্রভাবশালী ছাত্র যুব সংগঠন সংগ্রাম সমন্বয় সমিতি ,আকসা ইত্যাদি অনেক সংগঠন আসুর এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল৷ বাবুল দেব কে হত্যার অভিযোগ নিয়ে উদারবন থানায় তপন ঘোষ নামে উদারবনদ দুর্গানগর এর বাসিন্দা খুনের মামলা দায়ের করেন৷ সেই মামলার নম্বর হচ্ছে ৭৬/১৯৮৭৷ উদারবন পুলিশ ১৫/১ /৮৯ ইংরেজি তারিখে চার্জ সিট জমা করেছিলেন, কিন্তু তখনকার বাঙালি বিদ্বেষী অসম গণপরিষদ সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন৷ অর্থাৎ খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে গেল৷৷ পরবর্তীকালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলে ও এই মামলা চালু করা হয় নাই৷ আজও বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কেদেই চলেছে৷ আমরা বাঙালি দল প্রতিবছর ৭ই জুন দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে৷ আমরা আশা করি সেদিনের আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন বাবুল দেবের ন্যায় বিচারের জন্য তারাও সরব হবেন৷সক্রিয় হবেন৷ এইভাবে একটা ইতিহাস অস্তাচলের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাই এগিয়ে আসবেন৷ 

সেদিনের আন্দোলনে উধার বন্ধের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ তার মধ্যে বিশু দত্ত, রঞ্জিত রায়, ইহজগত নেই৷ বিধান রায় সহ অনেকেই জীবিত আছেন৷ সেদিনের ঘটনা তারা কাছে থেকে দেখেছেন৷ এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ আমরা চাই বাবুল দেবের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আবার চালু করা হোক৷ 

বাবুল দেবের প্রতি আমরা বাঙালি দলের পক্ষ থেকে গতকালকের শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে যারা যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আজমল হোসেন চৌধুরী, অনিতা চন্দ, চন্দনা পুরকায়স্থ, দেব প্রিয়া পুরকায়স্থ সহ অনেকেই ছিলেন৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved