Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

নামের উৎপত্তি হালিশহর

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

অনেকের ধারণা, হালিশহরের আগের নাম ছিল হাবেলি শহর৷ ‘হাবেলিশহর’ নাম মুসলমান যুগের৷ ‘হাবেলিশহর’ নামের অপভ্রংশ হালিশহর৷ উর্দূভাষায় হাবেলী অর্থে দালান, অট্টালিকা বা প্রাসাদ বোঝায়৷ অট্টালিকা বহুল নগরী ছিল বলে ‘হালিশহর’ নাম৷

শ্রীচৈতন্য গয়াতে ঈশ্বরপুরীর কাছে মন্ত্র দীক্ষা নিয়ে ছিলেন৷ এই ঈশ্বরপুরীর জন্মস্থান হালিশহর৷ হালিশহরে ঈশ্বর পুরীর বাস্তুভিটাই ‘চৈতন্য ডোবা’ নামে খ্যাত৷ এই হালিশহরে শ্রীবাস পণ্ডিতও বসবাস করতেন৷ পদাবলী রচয়িতা বাসুদেব ঘোষ, কীর্ত্তনীয়া মাধব ও গোবিন্দনন্দও থাকতেন হালিশহরে৷ চৈতণ্যের সময় থেকেই হালিশহরে বৈষ্ণবধর্ম বিস্তার লাভ করে৷ ঈশ্বরপুরীর স্মৃতিমন্দির, ‘চৈতন্য ডোবা’, শ্রীবাসের আবাস, চৌধুরী পাড়ার শ্যাম রায়, ঠাকুর পাড়ার রাধাগোবিন্দ, মল্লিক বাড়ির মদনমোহন ইত্যাদি বৈষ্ণব দেবদেবী বৈষ্ণব ধর্ম চর্চার নিদর্শন৷ তার আগে এখানে জঙ্গলের মধ্যে ও শ্মশানে বামাচারী তন্ত্র সাধক কাপালিক ও নামপন্থী শৈব যোগীদের শক্তি সাধনার আস্থানা ছিল৷ পরবর্ত্তী অনেক শাক্তধর্মী, বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেছিলেন৷

হালিশহরে যে এককালে শাক্তধর্ম প্রসার লাভ করেছিল জীর্ণ শিব মন্দিরগুলি আজো তার নির্দশনরূপে বিদ্যামান৷ অনেক মন্দিরে শিবলিঙ্গও প্রতিষ্ঠিত আছে৷ শিব ছাড়াও আরো অনেক শক্তি দেবীর পূজা হতো৷ যেমন, বালিঘাটার সিদ্ধেশ্বরী দেবী, অকিঞ্চন ব্রহ্মাচারী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত খাস বাটীর শ্যামা সুন্দরী, শ্মশান ঘাটের শ্মশানকালী ইত্যাদি৷ কার্ত্তিক গণেশের পূজাও এখানে হতো৷

এছাড়া লৌকিক দেবদেবীদের পূজার প্রচলনও ছিল৷ ঝাঁপান, চড়কপূজা, ব্রহ্মপূজা, শীতলাপূজা, পবন দেবের পূজা ইত্যাদি লৌকিক ধর্মানুষ্ঠান, মুসলমানযুগের আগে থেকেই শুরু হয়েছে৷ শাক্তধর্মের ঢেউ এসেছে তারপরে৷ তার ওপরে এসেছে বৈষ্ণবধর্মের বন্যা৷

১৯৫০ সালের আগে সাবর্ণ চৌধুরীদের আদিপুরুষ ‘পাঁচুশক্তি খান’ হাবেলি শহর পরগণার কর্তৃত্ব লাভ করেন৷ তিনি বিক্রমপুর থেকে বৈদ্যপরিবার, কোন্নগরের কায়স্থ পরিবার ইত্যাদি এনে ‘হালিশহর সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারপর থেকে অনেক পণ্ডিত বংশ এখানে বসবাস করতে শুরু করেন৷ আইন-ই আকবরীতে সরকার সাতগাঁ-র অন্তর্গত পরগণার মধ্যে ‘হাবেলীশহরের নাম পাওয়া যায়৷ যাইহোক, বহু প্রাচীন শহর এই হালিশহর৷ একাধারে শাক্তধর্মের পীঠস্থান ও বহু স্মৃতিবিজড়িত এই শহরে৷

 

  • Log in to post comments

সোনালী ভোরের অভিনন্দন

কৌশিক খাটুয়া

দিবসে রবির রুদ্র প্রতাপে

পুষ্প কলিরা ঝরিয়া যায়,

জীব তরুলতা তৃষিত চাতক

বর্ষার জল কাতরে চায়৷ 

চম্পককলি, চ্যামেলি ও বেলি

ফুটিবার আশে প্রতিক্ষায়

তপ্ত ধরা শীতল হোক

বৃষ্টি ঝরুক অঝোর ধারায়৷

 

  • Log in to post comments

বাঙালীস্তানের কবিতা

সাক্ষীগোপাল দেব

সংগ্রাম সংগ্রাম শুরু হলো সংগ্রাম

বন্ধু থেকো না আর বসে

দিন আগত ঐ পাপীরা 

মরবে জেনো৷

জনতার সীমাহীন রোষে৷৷

 

ঐ শোন শশ্মানের চিতা থেকে 

ভেসে আসাশোকার্র্ত্ত জননীর ক্রন্দন

মুক্ত হয়নি আজও 

কারার আঁধারে থাকা

হাজার ভাই-এর লৌহ বন্ধন

প্রতিভার কত কুঁড়ি 

শোষণের দাবদাহে

পড়ে গেল একে একে খাস৷৷

 

একটি বুলেট বেঁধে নাণ শুধু 

তরতাজা তরুণের বুকে

একটি জননী নয় 

হাজার মায়ের বুক

ভেসে গেছে 

সন্তান হারানোর দুঃখে

একটি জননী যদি সন্তান হারা হয়

হারিয়েছে আমাদেরই দোষে৷৷

সামনে রয়েছে জেনো 

বাধার পাহাড় ওই

পিছনেতে রক্তিম সূর্য

হাজার সূর্য শিশু ডাকিছে 

তোমায় আজ

ঐ শোন বাজে রণ তূর্য্য

এসো তবে পৃথিবীটা 

প্রাউটের আদর্শে

গড়ে তুলি থেকো নাকো বসে৷৷

 

  • Log in to post comments

উপস্থিত ৰুদ্ধি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘তন্’ ধাতুর অর্থ হ’ল ৰেড়ে যাওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া৷ যে মানুষ তার ভাবধারাকে নাচে–গানে অভিনয়ে–আবৃত্তিতে অভিব্যক্ত করতে পারে তার জন্যে ‘তন্’ ধাতুূড প্রত্যয় করে ‘ত’ শব্দ ব্যবহূত হয়৷ তাই এক্ষেত্রে ‘ত’–শব্দের একটি অর্থ হ’ল ণট বা অভিনেতা৷ 

অভিনেতার মধ্যেও অনেক সময় অদ্ভুত রকমের উপস্থিত ৰুদ্ধি দেখা যায়৷ সে বিচারে তিনি দু’দিক দিয়েই ‘ত’৷ অভিনয় জগতের ‘ত’–এদের উপস্থিত–ৰুদ্ধি সম্ৰন্ধে বা উপস্থিত ৰুদ্ধির স্বভাব সম্ৰন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে৷ দু’একটি গল্প তোমাদের শোনাচ্ছি ঃ

 সেটা তখন ইংরেজ আমল৷ আমি তখন দিনাজপুরে৷ উত্তর ৰাঙলার অন্যান্য শহরের মত দিনাজপুরও একটি মাঝারি রকমের ছিমছাম শহর ছিল৷ শহরটি ছিল আমার খুব প্রিয়৷ দিনাজপুর–বাসীর স্বভাবের একটি বৈশিষ্ট্য আমার খুবই ভাল লাগত৷ ওঁরা*(*ওনারা, যেনারা, তেনারা শব্দগুলি গ্রাম্য দোষে দুষ্ট৷ ওঁরা, যাঁরা, তাঁরা–ই শুদ্ধ ওনারা, যেনারা, তেনারা না লেখাই ভাল৷) ছিলেন খুবই নাচ–গান–ভিনয় প্রিয়৷ সেকালে স্থায়ী অভিনয়মঞ্চ কোলকাতার বাইরে আর কোনো শহরেই ৰড় একটা ছিল না৷ কিন্তু দিনাজপুরে তা–ও ছিল৷ কয়েকজন স্থানীয় অভিনেতা তখন রীতিমত প্রথিতযশা হয়ে পড়েছেন৷ কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের দিকেও থিয়েটারের রমরমা৷ সেই সময়টায় ওই দিকটায় ‘সীতা’ নাটকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে৷ সীতার ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি দু’হাতে যশ কুড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল সম্ভবতঃ আব্দুল লতিফ৷ 

সীতা নাটকের অভিনয় চলছে৷ শহরে হাজার হাজার গোরুর গাড়ীর ভীড়৷ গ্রামের লোক ঝেঁটিয়ে এসেছে অভিনয় দেখতে৷ হাতে পাট বেচার তাজা টাকা৷ দরকার পড়লে অভিনয়ের জন্যে ৰেশ কিছু খরচ করতেও তৈরী৷ 

অভিনয় চলছে৷ নাটক তার চরম স্তরে ন্তুপ্তন্প্প্ত্রপ্রগ্গ

এসে পৌঁছেছে৷ এবার সীতার পাতাল প্রবেশ৷ ধরিত্রী মাতাকে সম্বোধন করে সীতাকে যা বলতে হবে তার মোদ্দা কথা হচ্ছে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, দ্বিধা হও, আমি তোমার স্নেহময় অঙ্গে স্থানলাভ করি’’৷ আব্দুল লতিফে.র নাটকের ভাব ষোল আনাই জানা, ভাষাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠোঁটস্থ৷ এই বিশেষ স্থানটিতে সীতা ধরিত্রী মাতাকে সম্ৰোধন করে যা বলবেন তার ভাবটিও তাঁর জানা আছে৷ কিন্তু ভাষা একটু গোলমেলে হয়ে গেছে৷ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ‘‘মাতঃ বসুন্ধরে’’ বলার পরই স্মারকের হ্মব্জপ্সপ্পহ্মব্ধন্দ্ এসে গেল দারুণ কাশি৷ সে কাশির চোটে আর কথা বলতে পারছে না অথচ সীতা তো আর তার প্রত্যাশায় মুখ ৰন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সে তখন উপস্থিত ৰুদ্ধি প্রয়োগ করে বললে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, তুই ফাঁক হ, মুই ভিতরত্ ঢুকিম্’’৷ 

দেখলুম, এ জিনিসটা শ্রোতারা সহজেই গ্রহণ করলেন৷ নাটকের কিছুমাত্র রসভঙ্গ হ’ল না৷

 

ষষ্ঠীর দিন তুষ্টি

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

মূলত জামাইদের নিয়ে জামাইষষ্ঠী৷ ঐ দিন জামাইকে নেমন্তন্ন করে শ্বশুরবাড়ি আনা হয়৷ শ্বাশুড়ী জামাইকে বাঁটা দেন৷ জামাইরা এই দিন বিশেষভাবে আপ্যায়িত হন৷ জামাইষষ্ঠী একটি ব্রত৷ অন্যান্য ব্রতের মত এরও ‘কথা আছে৷ ব্রতের সমস্ত অনুষ্ঠান মেয়েরাই করে৷ পুরোহিতের কোন ভূমিকা নেই ! বটের ডাল মাটিতে পুঁতে ঘটসাজিয়ে ষষ্ঠী পুজো করা হয়৷ বরকে বাঁশের পাতা, আম কাঁঠাল ও নানাবিধ কল বাঁটায় সাজিয়ে খেতে দেওয়া হয়৷ পূর্ববঙ্গে ষষ্ঠীর দিন শুধু জামাইদের নয়, ছেলেমেয়েদেরও তালপাতার পাখা দিয়ে হাওয়া করা হয়৷ অঞ্চল বিশেষে বাঁটায় ছোট ছোট তালপাতার পাখা এবং তালপাতার কাটি দিয়ে তীর ধনুক বানিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় ৷ কোন কোন জায়গায় জামাইষষ্ঠীতে দই নিলাম হয়৷ পরিবারের সবাই একে একে নিলামে দর তুলতে থাকে৷ জামাইকেও দর দিতে হয়৷ ডাক দিতে দিতে জামাই যদি নিলামে হেরে যায় তাহলে তাকে কাদা মাখিয়ে শালা শালীরা নানারকম রঙ্গ রসিকতা করে৷ আর সবচেয়ে বেশি দর দিয়ে দইয়ের নিলামে যদি জামাই ‘জিতে যায় তাহলে জামাইয়ের গায়ে দই মাখিয়ে আমোদ করা হয়৷

 

  • Log in to post comments

স্বাগত কালবৈশাখী

কৌশিক খাটুয়া

রবির কিরণে খর সমীরণে

 দাবদাহে আছো ভরে,

ক্লান্ত ডানায় তৃষিত চাতক 

 ডাকিছে তারস্বরে৷

অকালে তরুর মরণ কেবল

 মরুর সৃষ্টি করে৷

পুষ্প কলিরা জলের অভাবে 

 অকালে যে যায় ঝরে,

অলিকুল তাই ফুল বাগিচায় 

 আসেনাকো রাগ করে!

অস্তাচলে রবি অন্তর্হিত হলে 

 তপ্ততা যায় সরে,

তোমার কৃপায় আশা দেখা দেয়

 কালবৈশাখীর ঝড়ে!

 

  • Log in to post comments

জলটান

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

সংস্কৃত ‘মদ’ ধাতুর একটি অর্থ হল যা শুষে আরাম পাওয়া যায় (ভাবারূঢ়ার্থ), যোগারূঢ়ার্থে জল, সরবৎ, পানা, ফলের রস ও যে কোন তরল বস্তু যা পানীয় পর্র্যয়ভুক্ত৷ উপরি-উক্ত যে বস্তু খেলে জলটান হয় অর্র্থৎ যে আহার গ্রহণের পর বারৰার জলতেষ্টা পায় সেই বস্তুকে ম+ড= ‘ম’ নামে আখ্যাত করা হয়ে থাকে৷ যেমন কম জলে ছাতু গুলে খেলেও বার বার জলতেষ্টা পায়৷ এই ধরনের জলতেষ্টাকে ‘জলটান’ ৰলা হয়৷

তোমরা সেই ৰলাগড়ের ব্রজবল্লভ ৰসাকের জলটানের গল্প শুণেছ তো! যদি না শুণে থাক তো একবার ৰলি৷ ব্রজবল্লভ ৰসাক থাকতেন ৰলাগড়ে--- তাঁর পৈতৃক ভদ্রাসনে৷

কিন্তু ব্রজবল্লভ ৰসাকের অন্তরঙ্গ বন্ধুরা ৰেশ কিছুটা দূরে থাকতেন ৰন-হুগলীতে, অপর অন্তরঙ্গ বন্ধু বিজিত বসু থাকতেন ৰাজেশিবপুরে৷ বিজিত ৰাঁরুজ্জের ছেলেটি লেখাপড়া সমাপ্ত করে সদ্য সেই যে কী যে একটা সরকারী বিভাগ আছে যেখানে খাদ্যশস্য ওজন করে দাম দিয়ে গুদামজাত করা হয় সেই বিভাগটিতে অল্পদিন হল কাজ পেয়েছে৷ আর বিজিত বসুর ছেলেটি এম.এ. পাশ করেছে, হুগলীর কোন একটি কলেজে তার পেপেচুরির চাকরি হলো-হলো৷ 

একদিন প্রাতর্ভ্রমণ সেরে ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ী ফিরে আসতেই তাঁর স্ত্রী সেয়ানাসুন্দরী বললেন, ‘‘ওগো শোন, তোমার বন্ধু বিজিতৰাৰু এইমাত্র খৰর পাঠিয়েছেন, আজ রাত্তিরে ওঁর ছেলের ৰউ-ভাত৷ তোমাকে নেমতন্ন রক্ষা করতে যেতেই হৰে৷ নইলে উনি মনে ভারী দুঃখু পাৰেন৷ কাজকর্মে অত্যধিক ব্যস্ত থাকায় নিজে আসতে পারলেন না৷ নইলে তিনি নিজেই এসে তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন’’৷ 

ব্রজবল্লভ বসাক সেয়ানা সুন্দরীকে শুধোলেন---‘‘কোন জায়গাটার নাম করেছে ৰল তো--- ৰনহুগলীর না ৰাজেশিবপুরের’’৷ 

সেয়ানাসুন্দরী ৰললেন---‘‘অত তো জিজ্ঞেস করিনি৷ কারণ যে লোকটি এসেছিল সে ৰললে বিজিতৰাৰু ব্রজৰাৰুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ৷ নাম নিলেই ৰুঝতে পারৰেন’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক বললে---‘‘তাও তো জিজ্ঞেস করিনি কারণ লোকটি বললে, নেমতন্নকারীর নাম শুণলেই ব্রজৰাবু বুঝতে পারবেন, বেশী বলার দরকার পড়বে না’’৷

ব্রজবল্লভ মহাফাঁপরে পড়লেন৷ তিনি এবার বাস্তব বুদ্ধি প্রয়োগ করলেন৷ বিজিত বাঁডুজ্জের ছেলেটি চাকরী করে৷ সুতরাং চাকরী পাওয়ার পরে নিশ্চয় তার বিয়ের ঘটকালি শুরু হয়েছিল৷ তাই তার বিয়েই বেশীই সম্ভব৷ বিজিত বসুর ছেলেটি পেপেচুরির কাজ পাৰে, তারপরে পাত্রীর সন্ধান হবে, তারপরে দেনাপাওনার কথা হবে, ঠিকুজী গোষ্ঠী বিচার করে তারপরে পাকা দেখা হবে৷ তারপরে না বিয়ে! শতকরা ৯৯.৯ ভাগ সম্ভাবনা বিজিত বাঁড়ুজ্জের ছেলের বিয়ে৷

বলাগড় থেকে ৰাজেশিবপুর যেতে গেলে সোজা ট্রেনে যাওয়া যাবে না৷ গঙ্গা পার হতে হবে৷ কিন্তু বনহুগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ কিন্তু ৰনহগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ ব্রজবল্লভ বসাক কী করৰেন! ঘনিষ্ঠ বন্ধু তো৷ আত্মীয়ের চেয়ে বন্ধুর টান বেশী৷ তাই তিনি যেভাবেই হোক বনহুগলীতে গিয়ে পৌঁছুলেন সন্ধ্যে একটু আগেই৷ বন্ধুর ছেলের বিয়ে...... একেবারে ৰাইরের লোকের মত এসেই হাতটি ধুয়ে পাতে ৰসে পড়া যায় না৷ দরকার পড়লে ময়দা মাখতে হৰে, নুচি ৰেলতে হৰে, এমনকি কোমরে গামছা জড়িয়ে নুচি ভাজতে হৰে কিংবা ৰাঁ হাতে ডালের ৰালতি, ডান হাতে হাতা নিয়ে পরিবেশন করতে হবে৷ ঘাম মোছবার জন্য কাঁধে একটি গামছাও রাখতে হবে৷ তাই একটু আগেই যাওয়া দরকার৷

বনহুগলীতে পৌঁছলেন ব্রজবল্লভ বসাক৷ কিন্তু এ কি! বিজিত বাঁড়ুজ্জের বাড়ী দেখে বিয়ে বাড়ী ৰলে তো মনেই হচ্ছে না৷ বাইরের দিকে একটা আলোও জ্বলছে না৷ সামনে বৈঠকখানায় একটা কম পাওয়ারের আলো টিমটিম করে জ্বলছে৷ কড়া নেড়ে দরজা খোলাতে হল৷ 

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন--- ‘‘এসো এসো, ব্রজ, তোমার যে আজকাল টিকিই দেখতে পাই না৷ 

ব্রজবল্লভ ঘরে ঢুকে যা দেখলেন তাতে তার মনে নেৰে এল সন্দেহের কালো ছায়া৷ এ ৰাড়ী তো বিয়ে-ৰাড়ী নয়৷ পরিস্থিতি সামলাবার জন্যে বিজিত বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে তিনি দু’চারটি কুশল সংবাদের আদান প্রদান করলেন ৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জের চোখ মুখ দেখে মনে হল তার ঘুম আসছে৷ তখন রাত্রি পৌনে ন’টা৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জে হাঁই তুূলতে তুলতে ৰললেন, ‘‘একটু সকাল সকাল খাই কী না আর বোঝ তো বয়স হয়েছে--- বিশেষ কিছু সহ্য হয় না৷ রাত্তিরে খই দুধ খেয়ে শুয়ে পড়ি৷ ওটা একটু হাল্কা জিনিস তো৷’’

ব্রজবল্লভ বসাক ৰললেন, হ্যাঁ, আমিও অনেকক্ষণ ধরে উঠৰ উঠৰ করছিলাম৷ অনেকদিন পরে তোমাকে দেখে এত আনন্দ হচ্ছে যে কী ৰলৰ৷ ......আচ্ছা চলি৷ তা তোমার ছেলেটি এখন কী করছ? তার বিয়ে-থার কী হল?’’

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন,---‘‘পাত্রীর খোঁজ তো চলছে, তবে পাত্রী পছন্দ হচ্ছে তো দেনা-পাওনায় মিলছে না, আবার দেন-পাওনা মিলছে তো পাত্রী পছন্দ হচ্ছে না৷ তবে আশা করি সামনের মাঘ মাসে বিয়ের ব্যবস্থা হৰে৷ সে খবর তো তুমি আগেই পেয়ে যাৰে’’৷ 

ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ীতে ফিরে এলেন৷ কড়া নাড়তেই সেয়ানা-সুন্দরী দরজা খুলে দিলে৷ ঘরে ঢুকেই ব্রজবল্লভ স্ত্রীর দিকে একটু বিষণ্ণ্ মুখে তাকালেন৷ 

স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন---বিয়েবাড়ীতে কেমন খাওয়া-দাওয়া হ’ল?

ব্রজবল্লভ বসাক বললেন---‘‘আগে এক গেলাস ঠাণ্ডা জল দাও দিকি’’৷

ব্রজবল্লভ ধপাস্‌ করে চেয়ারে ৰসে হাতটা রাখলেন ডানগালের নীচে৷ জোরে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন৷ মনে মনে বললেন, নুচি-পোলাও দুই-ই৷ সেয়ানাসুন্দরী জল নিয়ে এলো৷ ব্রজবল্লভ বসাককে বললে,---‘‘কী খেয়েছো তোমাকে আর বলতে হবে না, আমি ৰুঝে নিয়েছি’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক ৰললেন---‘কী খেয়েছি ৰল দেখি’?

সেয়ানাসুন্দরী বললে,---‘নিশ্চয়ই পোলাও’৷

ব্রজবল্লভ শুধোলেন--- ‘কী করে ৰুঝলে’?

সেয়ানাসুন্দরী ৰললে---‘ওটুকু আমি জানি গো জানি, পোলাও খেলে দারুণ জলটান হয়’৷স

 

 

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

প্রৰবকান্তি দাশগুপ্ত

আকাশে মেঘ জমদ্রে দেখলে আমরা মনে করি বুঝি বৃষ্টি হবে৷ কিন্তু মেঘ ছাৱাও বৃষ্টির আরো পূর্ব লক্ষৰ আছে৷ 

আমাদের দেশের প্রাচীন জ্যোদ্রিষীরা বলে গেছেনক্ষ্ম পিপৰৱেদের যদি দেখা যায়ক্ষ্ম হৱাৎ খাবার মুখে নিয়ে ওপরের দিকে ৱৱদ্রে দ্রবে বুঝদ্রে হবে শিগ্রীই বৃষ্টি হবে৷ বৃষ্টি হবার আগে ব্যাঙ ৱাকে দ্রা আমরা প্রায় সবাই জানি৷ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেৱালরা অনেক আগেই টের পেয়ে নিরাপদ জায়গায় ছুটদ্রে থাকে৷ অনুরূপভাবে বেজি আর সাপও যার যার আস্তানার দিকে দৌৱদ্রে থাকে৷ শরভ নামে এক ধরৰের হরিৰ বৃষ্টির আগে দৌৱাদৌৱি শুরু করে দেয়৷

 বেদ্রো রোগীদের বাদ্রগ্রস্ত অঙ্গে আঘাদ্র লেগে যদি খুব যন্ত্রৰা হয় দ্রবে জানবে বৃষ্টি অবধারিদ্র৷ সাপেদের গাছে চৱাক্ষ্ম জলস্তম্ভক্ষ্ম জলচর পাখিদের ৱানা শুকনোর ব্যস্তদ্রা আর ঝিৰঝিৰর ৱাক---এ সবই বৃষ্টির পূর্ব লক্ষৰ৷

জ্যোদ্রিষীরা আরো বলে গেছেন পৌষ মাসে বৃষ্টির সময় যদি দেখা যায়ক্ষ্ম ৱত্তর বা পশ্চিম দিক থেকে হাওয়া বইছে দ্রাহলে বুঝদ্রে হবে প্রচুর বৃষ্টি হবে৷ আর পূর্ব ও দক্ষিৰ দিক থেকে হাওয়া বইলে বৃষ্টি সাধারৰদ্র অল্পই হয়৷ হাওয়া না বইলে ধরে নিদ্রে পার বৃষ্টি হবে না৷ এলোমেলো হাওয়া বইলে বৃষ্টি দ্রাৱাদ্রাৱি থেমে যায়৷ পৌষ মাসের যে-দ্রিথিদ্রে বৃষ্টি বা কুয়াশা হয় শ্রাবৰ মাসের সেই দ্রিথিদ্রে বৃষ্টি হবেই হবে৷

বাঙলায় ৱাকের বচনের মদ্র ৱত্তর প্রদেশে ঘাঘের বচনের প্রচলন আছে৷ সেই ঘাঘের বচন অনুসরৰ করে বলা যায়ক্ষ্ম যে বছর অগ্রাহায়ৰ মাসে খুব গরম পৱে সে-বছর প্রচুর বৃষ্টিপাদ্র হয়৷ যদি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠীদ্রে অনুরাধা নক্ষত্র পৱে দ্রবে সারা দেশ জুৱে বৃষ্টি হয়৷ যদি শুত্রৰবার আকাশে মেঘ দেখা যায় এবং সেই মেঘ শনিবার অবধি থাকে দ্রবে সেই মেঘে বৃষ্টি হবেই হবে৷ যদি আষাৰ মাসে সোম শুত্রৰ অথবা বৃহস্পদ্রিবার শুক্ল-প্রদ্রিপাদ দ্রিথি পৱে দ্রবে প্রবল বর্ষৰ হয়ে থাকে৷

 

 

  • Log in to post comments

বাঙালীস্তানের গান

সাক্ষীগোপাল দেব

জাগবে জাগবে ফের জাগবে

বাঙালী আবার ওরে জাগবে

নোতুন শপথ পালন করে

সংগ্রামে ওরা ফের লাগবে৷৷

 

কাপুরুষ ন বাঙালী

কত প্রাণ দিয়েছে ডালি

সেই বাঙালী জাগবে আবার

ঘুম তার একদিন ভাঙবে৷৷

 

বিবেকানন্দ নেতাজী সুভাষ

তাদের অগ্ণিবানী ছড়ায় সুবাস

বাঙালীর রক্তে জ্বলছে আগুন

শোষণ পোড়াতে ফের জ্বালবে৷৷

 

বাঙালী যেমন জেনো 

মরতে জানে

শত্রু হানা দিলে লড়তে জানে

লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙা

বাঙালীস্তান সে গড়বেই৷৷

 

 

  • Log in to post comments

গরমের দুপুরে

কৌশিক খাটুয়া

আমের আঁচার করতে পাচার

 মায়ের কাছে পড়ি ধরা,

তেঁতুল তলায় পাকা তেঁতুলে

 রসনা তৃপ্ত করা৷

নিঝুম দুপুর, 

 কাঁচামিঠে আম 

খোকা খুকু বোঝে,

 কী যে তার দাম!

খিলখিল হাসি 

 সারল্যে ভরা,

অবিরাম দৌরাত্ম্য 

 ইশারায় সাড়া৷

তালপাতার পাখা নেড়ে 

 একটু তৃপ্তি আনা,

হ্যারিকেনের আলো ঘিরে 

 ভূতের গল্প শোনা৷

আম-জাম-তাল-পেয়ারা-কাঁঠাল

 গরমকালের অতিথি,

এদের যোগ্য সন্মান দান 

 ভদ্রলোকের নীতি!

 

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved