Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

উপস্থিত ৰুদ্ধি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘তন্’ ধাতুর অর্থ হ’ল ৰেড়ে যাওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া৷ যে মানুষ তার ভাবধারাকে নাচে–গানে অভিনয়ে–আবৃত্তিতে অভিব্যক্ত করতে পারে তার জন্যে ‘তন্’ ধাতুূড প্রত্যয় করে ‘ত’ শব্দ ব্যবহূত হয়৷ তাই এক্ষেত্রে ‘ত’–শব্দের একটি অর্থ হ’ল ণট বা অভিনেতা৷ 

অভিনেতার মধ্যেও অনেক সময় অদ্ভুত রকমের উপস্থিত ৰুদ্ধি দেখা যায়৷ সে বিচারে তিনি দু’দিক দিয়েই ‘ত’৷ অভিনয় জগতের ‘ত’–এদের উপস্থিত–ৰুদ্ধি সম্ৰন্ধে বা উপস্থিত ৰুদ্ধির স্বভাব সম্ৰন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে৷ দু’একটি গল্প তোমাদের শোনাচ্ছি ঃ

 সেটা তখন ইংরেজ আমল৷ আমি তখন দিনাজপুরে৷ উত্তর ৰাঙলার অন্যান্য শহরের মত দিনাজপুরও একটি মাঝারি রকমের ছিমছাম শহর ছিল৷ শহরটি ছিল আমার খুব প্রিয়৷ দিনাজপুর–বাসীর স্বভাবের একটি বৈশিষ্ট্য আমার খুবই ভাল লাগত৷ ওঁরা*(*ওনারা, যেনারা, তেনারা শব্দগুলি গ্রাম্য দোষে দুষ্ট৷ ওঁরা, যাঁরা, তাঁরা–ই শুদ্ধ ওনারা, যেনারা, তেনারা না লেখাই ভাল৷) ছিলেন খুবই নাচ–গান–ভিনয় প্রিয়৷ সেকালে স্থায়ী অভিনয়মঞ্চ কোলকাতার বাইরে আর কোনো শহরেই ৰড় একটা ছিল না৷ কিন্তু দিনাজপুরে তা–ও ছিল৷ কয়েকজন স্থানীয় অভিনেতা তখন রীতিমত প্রথিতযশা হয়ে পড়েছেন৷ কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের দিকেও থিয়েটারের রমরমা৷ সেই সময়টায় ওই দিকটায় ‘সীতা’ নাটকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে৷ সীতার ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি দু’হাতে যশ কুড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল সম্ভবতঃ আব্দুল লতিফ৷ 

সীতা নাটকের অভিনয় চলছে৷ শহরে হাজার হাজার গোরুর গাড়ীর ভীড়৷ গ্রামের লোক ঝেঁটিয়ে এসেছে অভিনয় দেখতে৷ হাতে পাট বেচার তাজা টাকা৷ দরকার পড়লে অভিনয়ের জন্যে ৰেশ কিছু খরচ করতেও তৈরী৷ 

অভিনয় চলছে৷ নাটক তার চরম স্তরে ন্তুপ্তন্প্প্ত্রপ্রগ্গ

এসে পৌঁছেছে৷ এবার সীতার পাতাল প্রবেশ৷ ধরিত্রী মাতাকে সম্বোধন করে সীতাকে যা বলতে হবে তার মোদ্দা কথা হচ্ছে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, দ্বিধা হও, আমি তোমার স্নেহময় অঙ্গে স্থানলাভ করি’’৷ আব্দুল লতিফে.র নাটকের ভাব ষোল আনাই জানা, ভাষাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠোঁটস্থ৷ এই বিশেষ স্থানটিতে সীতা ধরিত্রী মাতাকে সম্ৰোধন করে যা বলবেন তার ভাবটিও তাঁর জানা আছে৷ কিন্তু ভাষা একটু গোলমেলে হয়ে গেছে৷ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ‘‘মাতঃ বসুন্ধরে’’ বলার পরই স্মারকের হ্মব্জপ্সপ্পহ্মব্ধন্দ্ এসে গেল দারুণ কাশি৷ সে কাশির চোটে আর কথা বলতে পারছে না অথচ সীতা তো আর তার প্রত্যাশায় মুখ ৰন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সে তখন উপস্থিত ৰুদ্ধি প্রয়োগ করে বললে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, তুই ফাঁক হ, মুই ভিতরত্ ঢুকিম্’’৷ 

দেখলুম, এ জিনিসটা শ্রোতারা সহজেই গ্রহণ করলেন৷ নাটকের কিছুমাত্র রসভঙ্গ হ’ল না৷

 

ষষ্ঠীর দিন তুষ্টি

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

মূলত জামাইদের নিয়ে জামাইষষ্ঠী৷ ঐ দিন জামাইকে নেমন্তন্ন করে শ্বশুরবাড়ি আনা হয়৷ শ্বাশুড়ী জামাইকে বাঁটা দেন৷ জামাইরা এই দিন বিশেষভাবে আপ্যায়িত হন৷ জামাইষষ্ঠী একটি ব্রত৷ অন্যান্য ব্রতের মত এরও ‘কথা আছে৷ ব্রতের সমস্ত অনুষ্ঠান মেয়েরাই করে৷ পুরোহিতের কোন ভূমিকা নেই ! বটের ডাল মাটিতে পুঁতে ঘটসাজিয়ে ষষ্ঠী পুজো করা হয়৷ বরকে বাঁশের পাতা, আম কাঁঠাল ও নানাবিধ কল বাঁটায় সাজিয়ে খেতে দেওয়া হয়৷ পূর্ববঙ্গে ষষ্ঠীর দিন শুধু জামাইদের নয়, ছেলেমেয়েদেরও তালপাতার পাখা দিয়ে হাওয়া করা হয়৷ অঞ্চল বিশেষে বাঁটায় ছোট ছোট তালপাতার পাখা এবং তালপাতার কাটি দিয়ে তীর ধনুক বানিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় ৷ কোন কোন জায়গায় জামাইষষ্ঠীতে দই নিলাম হয়৷ পরিবারের সবাই একে একে নিলামে দর তুলতে থাকে৷ জামাইকেও দর দিতে হয়৷ ডাক দিতে দিতে জামাই যদি নিলামে হেরে যায় তাহলে তাকে কাদা মাখিয়ে শালা শালীরা নানারকম রঙ্গ রসিকতা করে৷ আর সবচেয়ে বেশি দর দিয়ে দইয়ের নিলামে যদি জামাই ‘জিতে যায় তাহলে জামাইয়ের গায়ে দই মাখিয়ে আমোদ করা হয়৷

 

  • Log in to post comments

স্বাগত কালবৈশাখী

কৌশিক খাটুয়া

রবির কিরণে খর সমীরণে

 দাবদাহে আছো ভরে,

ক্লান্ত ডানায় তৃষিত চাতক 

 ডাকিছে তারস্বরে৷

অকালে তরুর মরণ কেবল

 মরুর সৃষ্টি করে৷

পুষ্প কলিরা জলের অভাবে 

 অকালে যে যায় ঝরে,

অলিকুল তাই ফুল বাগিচায় 

 আসেনাকো রাগ করে!

অস্তাচলে রবি অন্তর্হিত হলে 

 তপ্ততা যায় সরে,

তোমার কৃপায় আশা দেখা দেয়

 কালবৈশাখীর ঝড়ে!

 

  • Log in to post comments

জলটান

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

সংস্কৃত ‘মদ’ ধাতুর একটি অর্থ হল যা শুষে আরাম পাওয়া যায় (ভাবারূঢ়ার্থ), যোগারূঢ়ার্থে জল, সরবৎ, পানা, ফলের রস ও যে কোন তরল বস্তু যা পানীয় পর্র্যয়ভুক্ত৷ উপরি-উক্ত যে বস্তু খেলে জলটান হয় অর্র্থৎ যে আহার গ্রহণের পর বারৰার জলতেষ্টা পায় সেই বস্তুকে ম+ড= ‘ম’ নামে আখ্যাত করা হয়ে থাকে৷ যেমন কম জলে ছাতু গুলে খেলেও বার বার জলতেষ্টা পায়৷ এই ধরনের জলতেষ্টাকে ‘জলটান’ ৰলা হয়৷

তোমরা সেই ৰলাগড়ের ব্রজবল্লভ ৰসাকের জলটানের গল্প শুণেছ তো! যদি না শুণে থাক তো একবার ৰলি৷ ব্রজবল্লভ ৰসাক থাকতেন ৰলাগড়ে--- তাঁর পৈতৃক ভদ্রাসনে৷

কিন্তু ব্রজবল্লভ ৰসাকের অন্তরঙ্গ বন্ধুরা ৰেশ কিছুটা দূরে থাকতেন ৰন-হুগলীতে, অপর অন্তরঙ্গ বন্ধু বিজিত বসু থাকতেন ৰাজেশিবপুরে৷ বিজিত ৰাঁরুজ্জের ছেলেটি লেখাপড়া সমাপ্ত করে সদ্য সেই যে কী যে একটা সরকারী বিভাগ আছে যেখানে খাদ্যশস্য ওজন করে দাম দিয়ে গুদামজাত করা হয় সেই বিভাগটিতে অল্পদিন হল কাজ পেয়েছে৷ আর বিজিত বসুর ছেলেটি এম.এ. পাশ করেছে, হুগলীর কোন একটি কলেজে তার পেপেচুরির চাকরি হলো-হলো৷ 

একদিন প্রাতর্ভ্রমণ সেরে ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ী ফিরে আসতেই তাঁর স্ত্রী সেয়ানাসুন্দরী বললেন, ‘‘ওগো শোন, তোমার বন্ধু বিজিতৰাৰু এইমাত্র খৰর পাঠিয়েছেন, আজ রাত্তিরে ওঁর ছেলের ৰউ-ভাত৷ তোমাকে নেমতন্ন রক্ষা করতে যেতেই হৰে৷ নইলে উনি মনে ভারী দুঃখু পাৰেন৷ কাজকর্মে অত্যধিক ব্যস্ত থাকায় নিজে আসতে পারলেন না৷ নইলে তিনি নিজেই এসে তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন’’৷ 

ব্রজবল্লভ বসাক সেয়ানা সুন্দরীকে শুধোলেন---‘‘কোন জায়গাটার নাম করেছে ৰল তো--- ৰনহুগলীর না ৰাজেশিবপুরের’’৷ 

সেয়ানাসুন্দরী ৰললেন---‘‘অত তো জিজ্ঞেস করিনি৷ কারণ যে লোকটি এসেছিল সে ৰললে বিজিতৰাৰু ব্রজৰাৰুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ৷ নাম নিলেই ৰুঝতে পারৰেন’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক বললে---‘‘তাও তো জিজ্ঞেস করিনি কারণ লোকটি বললে, নেমতন্নকারীর নাম শুণলেই ব্রজৰাবু বুঝতে পারবেন, বেশী বলার দরকার পড়বে না’’৷

ব্রজবল্লভ মহাফাঁপরে পড়লেন৷ তিনি এবার বাস্তব বুদ্ধি প্রয়োগ করলেন৷ বিজিত বাঁডুজ্জের ছেলেটি চাকরী করে৷ সুতরাং চাকরী পাওয়ার পরে নিশ্চয় তার বিয়ের ঘটকালি শুরু হয়েছিল৷ তাই তার বিয়েই বেশীই সম্ভব৷ বিজিত বসুর ছেলেটি পেপেচুরির কাজ পাৰে, তারপরে পাত্রীর সন্ধান হবে, তারপরে দেনাপাওনার কথা হবে, ঠিকুজী গোষ্ঠী বিচার করে তারপরে পাকা দেখা হবে৷ তারপরে না বিয়ে! শতকরা ৯৯.৯ ভাগ সম্ভাবনা বিজিত বাঁড়ুজ্জের ছেলের বিয়ে৷

বলাগড় থেকে ৰাজেশিবপুর যেতে গেলে সোজা ট্রেনে যাওয়া যাবে না৷ গঙ্গা পার হতে হবে৷ কিন্তু বনহুগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ কিন্তু ৰনহগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ ব্রজবল্লভ বসাক কী করৰেন! ঘনিষ্ঠ বন্ধু তো৷ আত্মীয়ের চেয়ে বন্ধুর টান বেশী৷ তাই তিনি যেভাবেই হোক বনহুগলীতে গিয়ে পৌঁছুলেন সন্ধ্যে একটু আগেই৷ বন্ধুর ছেলের বিয়ে...... একেবারে ৰাইরের লোকের মত এসেই হাতটি ধুয়ে পাতে ৰসে পড়া যায় না৷ দরকার পড়লে ময়দা মাখতে হৰে, নুচি ৰেলতে হৰে, এমনকি কোমরে গামছা জড়িয়ে নুচি ভাজতে হৰে কিংবা ৰাঁ হাতে ডালের ৰালতি, ডান হাতে হাতা নিয়ে পরিবেশন করতে হবে৷ ঘাম মোছবার জন্য কাঁধে একটি গামছাও রাখতে হবে৷ তাই একটু আগেই যাওয়া দরকার৷

বনহুগলীতে পৌঁছলেন ব্রজবল্লভ বসাক৷ কিন্তু এ কি! বিজিত বাঁড়ুজ্জের বাড়ী দেখে বিয়ে বাড়ী ৰলে তো মনেই হচ্ছে না৷ বাইরের দিকে একটা আলোও জ্বলছে না৷ সামনে বৈঠকখানায় একটা কম পাওয়ারের আলো টিমটিম করে জ্বলছে৷ কড়া নেড়ে দরজা খোলাতে হল৷ 

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন--- ‘‘এসো এসো, ব্রজ, তোমার যে আজকাল টিকিই দেখতে পাই না৷ 

ব্রজবল্লভ ঘরে ঢুকে যা দেখলেন তাতে তার মনে নেৰে এল সন্দেহের কালো ছায়া৷ এ ৰাড়ী তো বিয়ে-ৰাড়ী নয়৷ পরিস্থিতি সামলাবার জন্যে বিজিত বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে তিনি দু’চারটি কুশল সংবাদের আদান প্রদান করলেন ৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জের চোখ মুখ দেখে মনে হল তার ঘুম আসছে৷ তখন রাত্রি পৌনে ন’টা৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জে হাঁই তুূলতে তুলতে ৰললেন, ‘‘একটু সকাল সকাল খাই কী না আর বোঝ তো বয়স হয়েছে--- বিশেষ কিছু সহ্য হয় না৷ রাত্তিরে খই দুধ খেয়ে শুয়ে পড়ি৷ ওটা একটু হাল্কা জিনিস তো৷’’

ব্রজবল্লভ বসাক ৰললেন, হ্যাঁ, আমিও অনেকক্ষণ ধরে উঠৰ উঠৰ করছিলাম৷ অনেকদিন পরে তোমাকে দেখে এত আনন্দ হচ্ছে যে কী ৰলৰ৷ ......আচ্ছা চলি৷ তা তোমার ছেলেটি এখন কী করছ? তার বিয়ে-থার কী হল?’’

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন,---‘‘পাত্রীর খোঁজ তো চলছে, তবে পাত্রী পছন্দ হচ্ছে তো দেনা-পাওনায় মিলছে না, আবার দেন-পাওনা মিলছে তো পাত্রী পছন্দ হচ্ছে না৷ তবে আশা করি সামনের মাঘ মাসে বিয়ের ব্যবস্থা হৰে৷ সে খবর তো তুমি আগেই পেয়ে যাৰে’’৷ 

ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ীতে ফিরে এলেন৷ কড়া নাড়তেই সেয়ানা-সুন্দরী দরজা খুলে দিলে৷ ঘরে ঢুকেই ব্রজবল্লভ স্ত্রীর দিকে একটু বিষণ্ণ্ মুখে তাকালেন৷ 

স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন---বিয়েবাড়ীতে কেমন খাওয়া-দাওয়া হ’ল?

ব্রজবল্লভ বসাক বললেন---‘‘আগে এক গেলাস ঠাণ্ডা জল দাও দিকি’’৷

ব্রজবল্লভ ধপাস্‌ করে চেয়ারে ৰসে হাতটা রাখলেন ডানগালের নীচে৷ জোরে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন৷ মনে মনে বললেন, নুচি-পোলাও দুই-ই৷ সেয়ানাসুন্দরী জল নিয়ে এলো৷ ব্রজবল্লভ বসাককে বললে,---‘‘কী খেয়েছো তোমাকে আর বলতে হবে না, আমি ৰুঝে নিয়েছি’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক ৰললেন---‘কী খেয়েছি ৰল দেখি’?

সেয়ানাসুন্দরী বললে,---‘নিশ্চয়ই পোলাও’৷

ব্রজবল্লভ শুধোলেন--- ‘কী করে ৰুঝলে’?

সেয়ানাসুন্দরী ৰললে---‘ওটুকু আমি জানি গো জানি, পোলাও খেলে দারুণ জলটান হয়’৷স

 

 

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

প্রৰবকান্তি দাশগুপ্ত

আকাশে মেঘ জমদ্রে দেখলে আমরা মনে করি বুঝি বৃষ্টি হবে৷ কিন্তু মেঘ ছাৱাও বৃষ্টির আরো পূর্ব লক্ষৰ আছে৷ 

আমাদের দেশের প্রাচীন জ্যোদ্রিষীরা বলে গেছেনক্ষ্ম পিপৰৱেদের যদি দেখা যায়ক্ষ্ম হৱাৎ খাবার মুখে নিয়ে ওপরের দিকে ৱৱদ্রে দ্রবে বুঝদ্রে হবে শিগ্রীই বৃষ্টি হবে৷ বৃষ্টি হবার আগে ব্যাঙ ৱাকে দ্রা আমরা প্রায় সবাই জানি৷ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেৱালরা অনেক আগেই টের পেয়ে নিরাপদ জায়গায় ছুটদ্রে থাকে৷ অনুরূপভাবে বেজি আর সাপও যার যার আস্তানার দিকে দৌৱদ্রে থাকে৷ শরভ নামে এক ধরৰের হরিৰ বৃষ্টির আগে দৌৱাদৌৱি শুরু করে দেয়৷

 বেদ্রো রোগীদের বাদ্রগ্রস্ত অঙ্গে আঘাদ্র লেগে যদি খুব যন্ত্রৰা হয় দ্রবে জানবে বৃষ্টি অবধারিদ্র৷ সাপেদের গাছে চৱাক্ষ্ম জলস্তম্ভক্ষ্ম জলচর পাখিদের ৱানা শুকনোর ব্যস্তদ্রা আর ঝিৰঝিৰর ৱাক---এ সবই বৃষ্টির পূর্ব লক্ষৰ৷

জ্যোদ্রিষীরা আরো বলে গেছেন পৌষ মাসে বৃষ্টির সময় যদি দেখা যায়ক্ষ্ম ৱত্তর বা পশ্চিম দিক থেকে হাওয়া বইছে দ্রাহলে বুঝদ্রে হবে প্রচুর বৃষ্টি হবে৷ আর পূর্ব ও দক্ষিৰ দিক থেকে হাওয়া বইলে বৃষ্টি সাধারৰদ্র অল্পই হয়৷ হাওয়া না বইলে ধরে নিদ্রে পার বৃষ্টি হবে না৷ এলোমেলো হাওয়া বইলে বৃষ্টি দ্রাৱাদ্রাৱি থেমে যায়৷ পৌষ মাসের যে-দ্রিথিদ্রে বৃষ্টি বা কুয়াশা হয় শ্রাবৰ মাসের সেই দ্রিথিদ্রে বৃষ্টি হবেই হবে৷

বাঙলায় ৱাকের বচনের মদ্র ৱত্তর প্রদেশে ঘাঘের বচনের প্রচলন আছে৷ সেই ঘাঘের বচন অনুসরৰ করে বলা যায়ক্ষ্ম যে বছর অগ্রাহায়ৰ মাসে খুব গরম পৱে সে-বছর প্রচুর বৃষ্টিপাদ্র হয়৷ যদি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠীদ্রে অনুরাধা নক্ষত্র পৱে দ্রবে সারা দেশ জুৱে বৃষ্টি হয়৷ যদি শুত্রৰবার আকাশে মেঘ দেখা যায় এবং সেই মেঘ শনিবার অবধি থাকে দ্রবে সেই মেঘে বৃষ্টি হবেই হবে৷ যদি আষাৰ মাসে সোম শুত্রৰ অথবা বৃহস্পদ্রিবার শুক্ল-প্রদ্রিপাদ দ্রিথি পৱে দ্রবে প্রবল বর্ষৰ হয়ে থাকে৷

 

 

  • Log in to post comments

বাঙালীস্তানের গান

সাক্ষীগোপাল দেব

জাগবে জাগবে ফের জাগবে

বাঙালী আবার ওরে জাগবে

নোতুন শপথ পালন করে

সংগ্রামে ওরা ফের লাগবে৷৷

 

কাপুরুষ ন বাঙালী

কত প্রাণ দিয়েছে ডালি

সেই বাঙালী জাগবে আবার

ঘুম তার একদিন ভাঙবে৷৷

 

বিবেকানন্দ নেতাজী সুভাষ

তাদের অগ্ণিবানী ছড়ায় সুবাস

বাঙালীর রক্তে জ্বলছে আগুন

শোষণ পোড়াতে ফের জ্বালবে৷৷

 

বাঙালী যেমন জেনো 

মরতে জানে

শত্রু হানা দিলে লড়তে জানে

লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙা

বাঙালীস্তান সে গড়বেই৷৷

 

 

  • Log in to post comments

গরমের দুপুরে

কৌশিক খাটুয়া

আমের আঁচার করতে পাচার

 মায়ের কাছে পড়ি ধরা,

তেঁতুল তলায় পাকা তেঁতুলে

 রসনা তৃপ্ত করা৷

নিঝুম দুপুর, 

 কাঁচামিঠে আম 

খোকা খুকু বোঝে,

 কী যে তার দাম!

খিলখিল হাসি 

 সারল্যে ভরা,

অবিরাম দৌরাত্ম্য 

 ইশারায় সাড়া৷

তালপাতার পাখা নেড়ে 

 একটু তৃপ্তি আনা,

হ্যারিকেনের আলো ঘিরে 

 ভূতের গল্প শোনা৷

আম-জাম-তাল-পেয়ারা-কাঁঠাল

 গরমকালের অতিথি,

এদের যোগ্য সন্মান দান 

 ভদ্রলোকের নীতি!

 

 

  • Log in to post comments

মুঙ্গের ও রেঙ্গুন পাশাপাশি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘খটক’ শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে যিনি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে কার্যসিদ্ধি করে দেন অর্থাৎ ‘ঘটক’৷ এঁরাও অনেক সময় কথা বেচে অনেক অনিচ্ছুক পাত্রপক্ষ ও অনিচ্ছুক পাত্রীপক্ষের ওপর অবাঞ্ছিত পাত্রী বা পাত্র গছিয়ে দেন৷ এই প্রসঙ্গে একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ল৷ 

সেটা ১৯৩৫ সালের কথা৷ আমরা তখন কলকাতায় থাকি, মামার বাড়ী শ্যামবাজারে৷ আমার দিদির বিয়ের সম্বন্ধ প্রায় পাকা হয়ে এসেছিল৷ কেবল পাকা দেখাটাই বাকী ছিল৷ পাত্র সব দিক দিয়েই ভাল–বার্মা গবর্ণমেন্টের উচ্চপদস্থ অফিসার৷ বাড়ী ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট৷ কোন তরফেই বিয়েতে কোন আপত্তি ছিল না৷ হঠাৎ আমার মা বেঁকে বসলেন......বললেন, মেয়েকে আমার নির্বাসনে পাঠাব না৷ হঠাৎ দরকার পড়লে মেয়েকে আনাতে পারব না৷ নিজেরা হঠাৎ ওখানে পৌঁছে যেতে পারব না৷ রেঙ্গুন অনেক দূর..... রেঙ্গুন অনেক দূর৷ অত দূরে মেয়ের বিয়ে দোব না৷ .... বিয়ে কলকাতার বাইরে দোবই না....তাও কেবল উত্তর কলকাতায়....বড় জোর ভবানীপুরে৷ 

আমার বাবা–মামা সবাই মা’র কথা মেনে নিলেন৷ প্রমাদ গুণলেন ঘটকী ঠাকরুণ৷ তাঁর মোটা একটা আয় গেল–গেল অবস্থায় গিয়ে পৌঁছোল৷ ঘটকী ঠাকরুণ একবার আমার বাবাকে ধরেন, একবার মামাকে ধরেন৷ ওঁরা বললে–মেয়ের মা যখন চাইছেন না তখন আমরা কিছুতেই বিয়েতে মত দিতে পারছি না৷ 

শেষ পর্যন্ত ঘটকী ঠাকরুণ আমার মা–কে বললেন–তুমি কেন রাজী হচ্ছ না মা বার্মা তো বাঙলার পাশেই ও তো আর দূর বিদেশ নয়৷ এ যেমন আমাদের শ্যামবাজার–কুমোরটুলী৷ 

মা তাতেও রাজী হলেন না৷ 

ঘটকী তখন শুধোলেন, ‘‘হ্যাঁ মা, তোমার যে জামালপুরে থাক সেটা কোন জেলায়

মা বললেন–মুঙ্গের জেলায়৷ তখন ফোকলা মুখে একগাল হেসে ঘটকী বললেন–তবে আর আপত্তি করছ কেন মা মুঙ্গের আর রেঙ্গুন তো পাশাপাশি৷

মা বললেন, ‘‘সে তো নিশ্চয়ই....দুয়েতেই যখন ‘ঙ্গ’ রয়েছে!’’

(শব্দ–চয়নিকা, ১২/১০৮)

 

মাহাত্ম্যহীন মহাত্মা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

আলোচ্য বিষয়-গান্ধীজীর মহাত্মা উপাধি৷ গান্ধীজীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহুপদক্ষেপই ছিল ভুলভ্রান্তিতে ভরা৷ কংগ্রেস সভাপতি পদে তিনি যেভাবে কৌশলে সুভাষচন্দ্র বসুকে হারিয়ে সীতারামাইয়াকে জিতিয়ে দিতে চেয়েছিলেন৷ তার মধ্যে মহাত্মার অন্যতম লক্ষণ উদারতা কোথায় অযোগ্য বিচার না করে তিনি কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলে ছিলেন---সীতারামাইয়ার পরাজয় মানে আমার পরাজয় এই হলো মহাত্মার নিরপেক্ষতা৷

বিহারে একবার প্রবল ভূমিকম্পে বহু লোক মারা গিয়েছিল৷ ঘটনাশুণে গান্ধীজীর মন্তব্য--- যারা মারা গিয়েছেন সেটা তাদের পাপের ফল৷ মহাত্মার মতই কথা৷

নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ী গান্ধীজী সম্পর্কে যা যা বলেছেন তা এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য৷ তিনি বলেছেন---‘একবার গান্ধী বেশ্যাদের দেওয়া অর্থ নিতে চাননি৷

বলেছিলেন যে পাপের টাকায় তিনি সৎ কার্য করবেন না৷’ ‘ধনী বণিকের অর্থে কংগ্রেস৷ ধনী শেঠেরা অর্থ ব্যাপারে বেশ্যাবৃত্তি সম্পন্ন তাদের অর্থ যদি তাঁর ধর্মের মগজে অনর্থ না ঘটায় তবে গণিকার অর্থগণ্য হবে না কেন?

তিনি আরো বলেছেন---‘গান্ধীজীর রাজনীতিও নির্বিবাদ নয়৷ ওঁর পলিটিক্যাল ফিলোসপি ও ? ভরা৷ অর্থাৎ প্রতারণা পূর্ণ৷

‘‘...শিল্পী নন্দলাল বসু ও তাঁর ডাণ্ডি অভিযান নিয়ে ছবি আঁকলেও তিনি মহাতনা নন৷’’

কোন মহাপুরুষই গণিকাদের এত ঘৃণা করতেন না৷ শিশির ভাদুড়ী বলেছেন ---‘একবার আমি তাঁকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম ‘সীতা’ দেখবার জন্য৷

কিন্তু গান্ধীজী বললেন তিনি অভিনয় দেখবেন না৷ কারণ? কারণ যেখানে গণিকার ব্যাপার সেখানে তিনি নেই৷ অথচ শিশির ভাদুড়ী শ্রীরামকৃষ্ণ প্রসঙ্গে বলেছেন--- ‘পরমহংস হয়েও গণিকার অভিনয় দেখতেন৷ দেখে ভাব বিভোর হতেন৷ অথচ গান্ধী অভিনয় ব্যাপারে সাক্ষাৎ সাবিত্রী-সতী ছাড়া আর কাকেও মঞ্চে দেখতে নারাজ৷ শ্রীরামকৃষ্ণ নটী বিনোদিনীর অভিনয় দেখে এতই ভাবে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর বিনোদিনীর কাছে গিয়ে মাথায় রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন---‘তোমার চৈতন্য হোক’৷ 

অনেকে আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, আহা, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই তো গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছেন৷ সেটা ছিল রবীন্দ্রনাথের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া৷ তিনি গান্ধীজীর সম্পূর্ণ জীবনকালের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে যেতে পারেননি৷ রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ খ্রীষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন৷ আর গান্ধীজীর মৃত্যু ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের চোখে গান্ধীজীর জীবন-পরিক্রমা দর্শন ছিল অসম্পূর্ণ৷ এ ব্যাপারে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের বক্তব্য শোণা যাক৷ তিনি বলেছেন--- ‘‘গান্ধীজীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল দীর্ঘকালীন হৃদ্যতা৷ গান্ধীজী রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব বলে সম্বোধন করতেন৷ আর রবীন্দ্রনাথ গান্ধীজীকে খুবই ভালবাসতেন৷ বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনের আর্থিক দুর্দশার দিনে যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন গান্ধীজী তাঁদের অন্যতম৷ রবীন্দ্রনাথ সেজন্য কৃতজ্ঞ থাকতেন ও একথা মুক্ত কন্ঠে মুখে বলে ও লিখে স্বীকার করে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন স্পষ্টবাদী৷ উপকারীর উপকার তিনি মুক্তকন্ঠে ঘোষনা করতেন৷

‘হ্যাঁ সেই গান্ধীজী যার সঙ্গে শেষ দিন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক অটুট ছিল, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে যে গান্ধীজী শোকাভির্ভূত ও বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন সেই গান্ধীজীর ভুল দার্শনিক নীতিকে (যাকে গান্ধীবাদ বলা হয়৷) সমালোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন--- গান্ধীবাদকে সমর্থন করা মানে যুক্তিবাদকে জলাঞ্জলি দিয়ে কুসংস্কারের ঘটস্থাপনা করা৷

বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায় বলেছেন---‘গান্ধীজীর নৈতিকতার আদর্শ স্পষ্টতই কতকগুলি প্রচলিত সংকীর্ণ শাস্ত্রীয় নীতির সমষ্টি৷’ তিনি আরো বলেছেন, ‘গান্ধীর নৈতিকতার আদর্শ স্পষ্টতই কতকগুলি প্রচলিত সংকীর্ণ শাস্ত্রীয় নীতির সমষ্টি৷’ তিনি আরো বলেছেন, ‘গান্ধীর নৈতিকতার অসংলগ্ণতা তাঁর নিজের মানদণ্ডেই ভ্রম বলে প্রমাণিত হচ্ছে৷ স্বাধীনভাবে প্রাপ্ত বা আহৃত বৌদ্ধিক বিচারে এ মতবাদ আরো অদ্ভূত৷’’

মোদ্দাকথা গান্ধীজীর রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপই শুধু নয়, তাঁর কথাবার্তা উপদেশাবলী অবাস্তব ও ভুলে ভরা৷ উপাধিতে ভূসিত করা কি যুক্তিসংগত?

 

  • Log in to post comments

খন্খন্ ঝন্ঝন্

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গম্ভীর শব্দের অর্থ হ’ল জলের তলমাপক ভাব অর্থাৎ জলকে গম্ভীর বললে বুঝতে হবে সেটা অথই জল....অনেক তলা পর্যন্ত সেই জল গেছে৷ যদিও শব্দটি আদিতে জলপরিমাপক হিসেবেই ব্যবহূত হত কিন্তু পরবর্ত্তীকালে বিভিন্ন ধরণের অলঙ্কারে বিভিন্ন বস্তুর তলমাপকতায় এর ব্যবহার হয়ে এসেছে৷ ভারী আবাজ, ভারী মনমেজাজ, ভারী চাল–চলন, ভারী চলন–বলন, যার মধ্যে অনেক নীচ অবধি বা অনেক ভেতর পর্যন্ত মাপবার প্রশ্ণ ওঠে তার জন্যে ‘গম্ভীর’ শব্দ চলতে পারে৷ বাজখাঁই আবাজ বলতে চলে গম্ভীর আবাজ হাসিবিহীন মুখকে বলব গম্ভীর মুখ অভিব্যক্তিবিহীন আচরণকে বলব গম্ভীর আচরণ মেপে মেপে মাটিতে চাপ দিয়ে দিয়ে চলাকে বলব গম্ভীর চলন৷ তবে মনে রাখতে হবে মুখ্যতঃ এটি জলেরই তলত্ব বা অতলত্বের পরিমাপ৷ 

‘গম্ভীর’ শব্দের কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেল একটি কম বয়সের ঘটনার কথা৷ আমার জানা এক ভদ্রলোক ছিলেন, ধরো তাঁর নাম সৌরেন সরকার৷ ভদ্রলোকের স্ত্রী ছিলেন দারুণ দজ্জাল, উঠতে বসতে স্বামীকে খোঁটা দিয়ে কথা বলতেন৷ বচনের ঝালে তিনি অন্নপ্রাশনের ভাতকেও বমি করে বার করে দিতে লোককে বাধ্য করতেন৷ কিন্তু সৌরেন সরকার মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত ভাল..... একান্তই গোবেচারা৷ *একদিন ভোরে পশ্চিম দিকের পাহাড়টার দিকে বেড়াতে যাচ্ছি৷ দেখি, রাস্তার ধারে বটতলায় বসে রয়েছেন সৌরেন সরকার৷ ভদ্রলোক আমার বাবার চেয়ে বয়সে এক বছরের বড় ছিলেন৷ তাই তাঁকে জ্যাঠামশায় বলতুম৷ তাঁকে ওইভাবে বসে থাকতে দেখে শুধোলুম–কী জ্যাঠামশায়! এখন এখানে এভাবে বসে আছেন!

হ্যাঁ, প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি, দেওয়ালে ঠেস দিয়ে থালা বাসন–পত্র যদি রাখা হয়, সেই বাড়ীর কাছ দিয়ে তীব্রগতিতে ছুটে আসা রেলগাড়ীর শব্দে থালা–বাসনপত্র দেওয়ালের গা ছেড়ে যখন মাটিতে পড়ে যায় তখন একটা খন্–খন্ ঝন্–ঝন্ ঝনাৎ শব্দ নিশ্চয়ই শুণেছ৷ আবাজ কেবন বোঝাতে গিয়ে লোকে বলে খন্–খন্ ঝন্–ঝন্ আবাজ৷ এ আবাজ কেবল বাসনেরই হয়, মানুষ বা অন্য জীবের হয় না৷ তবুও এ আবাজটি অনেক সময় মুখর বা মুখরা মানুষের অভিব্যক্তি বোঝানোর সময় ব্যবহূত হয়৷ 

আমি সরকার জ্যাঠামশায়কে জিজ্ঞেস করলুম–তা অত ভোরে এই বটতলায় বসে থাকার কারণটা কী

তিনি বললেন–বাবা, সবই তো জানো, বাড়িতে চবিবশ ঘণ্টা খন্–খন্ ঝন্–ঝন্ ৷ তা তোমার জেঠীমার ভয়ে একটু গাছতলায় বসে শান্তি পাচ্ছি৷ খানিক বাদে আবার বাড়ী ফিরতে হবে, তারপর অফিস যেতে হবে, তবু আর দশটা মিনিট বসে থাকি.... যতটুকু সময় খন্–খন্ ঝন্–ঝনের হাত থেকে দূরে থাকা যায়৷ 

 

তাহলে বুঝলে এই ‘গম্ভীর’ শব্দ যদিও জলের পরিমাপের জন্যে প্রাচীনকালে ব্যবহূত হত কিন্তু আজ গম্ভীর স্বভাবের মানুষ, গম্ভীর চালচলন, গম্ভীর চরণ–চারণা, গম্ভীর ধবনিবিন্যাস প্রভৃতি নানান ভাবে নানান ব্যঞ্জনায় নানান অঙ্কনের আঙ্গিকে ব্যঞ্জনার বহ্বাস্ফোটে তরঙ্গের উত্তরণে সত্যিই মুড়ি–মুড়কির মতই ছড়িয়ে পড়েছে৷ শব্দটি তার সাবেকি গাম্ভীর্য আজ হারিয়ে ফেলেছে৷ 

(শঃ চঃ ২০/১৮)

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved