প্রভাতী

তুক্‌গুণ

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আগেকার দিনে  সব নানান ধরণের ঝাড়-ফুঁক, তুক-তাক, ডাকিনীতন্ত্র, যক্ষিণীতন্ত্র,যোগিনীতন্ত্র ইত্যাদির নাম দিয়ে নানান জিনিসের চর্র্চ চলত৷ জিনিসগুলো ভাল কি মন্দ তা নিয়ে আলোচনার  সময় এটা নয়৷ তবে ওই সব জিনিসগুলির মানব সমাজে তেমন কোন কল্যাণ করতে পারিনি৷ ডাকিনী-ডাইনি৷ শোণা যায়  ডাকিনীতন্ত্রে প্রতিষ্টিত হতে গেলে মেয়েদের নাকি প্রথমেই  ওই বিদ্যাপ্রয়োগ করে নিজের স্বামী  অথবা পুত্রকে হত্যা করতে হয়৷  তবেই এই তন্ত্রে সিদ্ধিলাভ  করা যায়৷ সেই জন্যে ডাইনীরা ছিল সর্বকালে ঘৃণ্য৷ তবে ডাইনী ভেবে অনেক নিরপরাধ মেয়েদের ওপরও অত্যাচারও চলত ....আজও হয়তো চলে৷ তবে ডাইনী যে আজও সমাজে একেবারেই  নেই তা বলছি না ৷ মেয়েদের মধ্যে একটা ছড়াই আছে ‘‘জনম গেল ছেলে খেয়ে/ আজ বলে ডাইনী’’৷ অর্র্থৎ আমি কি আজকের ডাইনী গো! আমি এতকাল অনেক ছেলেকে খেয়েছি, এতদিন পরে তোমরা আমাকে ধরছ ডাইনী বলে’৷

ভুত নাবানো, প্রেত নাবানো, যক্ষ-যক্ষিণী নাবানো, বাড়িতে ইঁট ফেলানো, হাড় ফেলানো--- এগুলি সমস্তই ডাকিনীতন্ত্র..... তুক-তাকের কাজ৷ এখনও ক্কচিৎ কখনো খবরের কাগজে দেখবে , ‘‘অমুক বাড়িতে ক্রমান্বয়ে হাড় পড়ছে, অমুক বাড়ীতে ইঁট পড়ছে৷’’--- এগুলিও অবিদ্যা তন্ত্রের ক্রিয়াকলাপ--- এক কথায় অভিচার ক্রিয়া৷ এই অভিচার ক্রিয়া যখন সামাজিকতার বিরুদ্ধে চলে যায় যেমন ঘুষ নেওয়া, পাপকে সমর্থন করা, পাপীর স্বভাব সংশোধনের পূর্বে  তাকে ক্ষমা করা--- এগুলোকে বলে ব্যভিচার (বি---অভি---চর্‌ ঘঞ্‌)৷ তুকতাকের কথা বলতে গিয়ে  একটা গল্প মনে পড়ল৷ থাকতুম তখন রংপুরে৷ শহরের কাছ দিয়ে যে নদীটি বয়ে গেছে তার নাম সম্ভবতঃ ধরলা৷  বর্র্ষ ছাড়া অন্যসময়ে নদীটির তেমন কোন পরাক্রম দেখা যেত না৷

একদিন সন্ধ্যে হয় হয়৷ নিয়মমাফিক বেড়িয়ে সেই মাত্র ফিরেছি৷ পাশের  বাড়ীর গবা (সুস্নাত ভট্টাচার্য) আমাকে  বললে --- ওই যে লোকটাকে দেখছেন.... ওই মাঝারি চেহারা, ৰুঝতে পারছেন রংটা মেটে মেটে, ভালভাবে লক্ষ্য করলে মনে হয় পিছনের দিকের চুলগুলি একটু বড় বড়  ওটা টিকি বা ঝুঁটি নয়, পেছনের দিকে চুলগুলো  ও একটু ৰড় ৰড় রেখে থাকে৷ হ্যাঁ, বেশীরভাগ সময় ছাই রঙের  প্যাণ্ট  পরে, আজও পরে রয়েছে৷

তখন সন্ধ্যে হয় হয়৷  তাই গবার বর্ণনার সঙ্গে আমি ঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে পারলুম না৷ ৷ জিজ্ঞেস করলুম ---গবা ওর পুরো নামটা কী?

গৰা বললে --- জোসেফ অনিল কুমার ভৌমিক৷

আমি ৰললুম--- ও করে কী?

গৰা বললে---ও নানান  ধরণের তুকগুণ জানে৷

আমি ৰললুম---গুণ!

গৰা বললে---হ্যাঁ, ওই যে কীসব অবিদ্যা তন্ত্র-টন্ত্র হয় না, তারই একটা নাম গুণ, কেউ কেউ বলে তুক্‌গুণ আর এ সব ব্যাপারে যারা অভিজ্ঞ তাদেরও ৰলা হয় গুণী৷

আমি বললুম--- এগুণের  সঙ্গে সত্ত্ব-রজঃ-তমোগুণের কোন  সম্পর্ক আছে নাকি রে?

গৰা এক গাল হেসে ৰললে--- না, না, জিনিসটা লোক ঠকানো কিনা বলতে পারছি না,  তবে লোকে  মানে.... ভয় পায়৷ ভূত ছাড়ানো, ভূতে ধরানো, বাটি চালানো, আরো কত কী ও জানে!৷ ভূত নাৰাতেও নাকি পারে!

আমি ৰললুম--- তাই নাকি !

গৰা বললে--- আপনার সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দোব৷

আমি ৰললুম--- না, ওর গুণের কথা শুণেই আমার ভয় করছে, গা শির্‌শির্‌ করছে...গায়ে কাঁটা দিচ্ছে৷ আমি দূরে থেকেই নমস্কার জানাচ্ছি৷

গৰা আরো একটু হাসল৷ হেসে বললে--- না, আপনার সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দেবো৷ আগে তো ওকে বলে রাখব যাতে ও আপনার সামনে কোনো তুকগুণ না করে৷

গবার সঙ্গে আর বেশী কথা হয়নি৷

খেয়েদের রাত্রিতে শুয়ে পড়লুম৷ খাটের পাশে আমার মাথার কাছে ছিলএকটা জলভর্ত্তি  কুঁজো৷ তখন রংপুরের জলের বিশেষ প্রশংসা ছিল না৷ আমি আলাদা করে ফিল্টার  করা জল ব্যবহার করতুম৷ থাকত ওই কুঁজোতেই৷

শুলুম তো ঠিক সময়েই  কিন্তু পোড়ার চোখে  ঘুম আর আসেই না৷ ডান পাশ, বাঁ পাশ, এপাশ, ওপাশ .... কেবল পাশেরই খেলা.... একবারও ফেল নয়৷ হঠাৎ একটা  হালকা তন্দ্রা  নেবে এল৷ ভাবলুম---যাক, তারিয়ে নাক ডাকানো যাবে, চুটিয়ে  ঘুমানো যাবে৷

মাঝরাতে কেমন যেন  একটা কী হয়ে গেল! হঠাৎ দেখলুম আমার বাঁ পাশের কুঁজোটার  কাছেই শূন্যে  ভাসমান  একটি মুখ৷ তাকিয়ে রয়েছে আমার দিকেই, নজরটা কটমটে৷

আমি ৰললুম--- কে তুমি  বাছাধন এত রাত্তিরে  বিরক্ত করতে এসেছে!  তোমার  কি আর কাজকম্ম কোন কিছু  নেই! মুণ্ডুটা অর্র্থৎ মুখটা ৰললে--- মুই তোক্‌ খাম৷

আমি ৰললুম --- মোক্‌?

মুণ্ডুকে ৰললুম--- তোর শরীর ৰলতে তো কেবল মুখটা! মুখ দিয়ে আমায় খাবি  আর  তোর গলা দিয়ে আমি বেরিয়ে আসব৷  তাতে তোর লাভটা কী হৰে?

মুণ্ডু ৰললে--- ভয় দেখাতে এসেছি৷

আমি ৰললুম--- এ কীরকম বিটকেল মানসিকতা! শেষে খিটকেলের একশেষ হবে৷  আমার সঙ্গে লেগে তুই পার পাবি!

সে হাঃ হাঃ করে হাসল৷  ঘরের চারিপাশ কেঁপে উঠল৷ আমি মারলুম  এক লাথি৷ মুণ্ডুটি আবার নীচে নেবে এল--- ঠিক আগের বারের যেখানে  ছিল সেই খানে  নেবে এল৷ সে ৰললে--- তুই ভয় পাচ্ছিস না?

আমি ৰললুম--- না

সে ৰললে--- তোর খাটটা আমি ওপরের ছাতের দিকে তুলে দোৰ৷

আমি ৰললুম--- ওসব করে তোর লাভ কী হবে!

সে ৰললে --- একটু ভয় দেখানো হবে৷

আমি ৰললুম--- তবে রে.... এখন একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যাক, তুই বড় গুণী না আমি বড় গুণী৷ তোর গুণের  সঙ্গে আমার হাতের গুণের পরীক্ষা হোক৷

আমি খাট থেকে উঠে তার টিকিটা ধরে জোরে তার মুণ্ডুটা ঘোরাতে  লাগলুম ......বোঁ..বোঁ...বোঁ..শোঁ... শোঁ...শোঁ৷ তারপর মুণ্ডুটা ছুঁড়ে ফেলে দিলুম জানালা দিয়ে ঘরের বাইরের দিকে৷

মুণ্ডুটা আর ফিরল না৷ হাতে কঠিন কোন কিছুর স্পর্শ পেলুম৷ ঠাহর করে দেখি মুণ্ডুটা ছুঁড়তে গিয়ে আমি হাতে করে জোরে একটা ঘুষি চালিয়েছি কঁুজোটার ওপর৷ কুঁজোটা ভেঙ্গে ফুটিফাটা৷ ঘরময় জল...জল৷  যে মুঠোটা দিয়ে মুণ্ডুটার টিকিটা ধরেছিলাম একবার মনে হল হাতে যেন টিকিটা লেগে রয়েছে৷ তার সঙ্গে কিছুটা রক্তও৷ আরেকবার ভাল করে তাকালুম৷ দেখলুম টিকিও নেই, রক্তও নেই, তবে কোন কিছু যে ধরেছিলুম তার প্রমাণ স্বরূপ হাতে একটা হালকা ব্যাথা রয়েছে৷ যদ্দুর সম্ভব মনে হয় জিনিসটা ঘটেছিল স্বপ্ণে৷ প্রশ্ণ জাগল---ঠিক  কি স্বপ্ণ? না, সেটা ছিল জেগে থাকার অবস্থা? না, সেটা ছিল না-জাগা না ঘুমানো অবস্থা?

ঘরটার মধ্যে কেমন একটা অস্বাভাবিক ভাব! কেমন যেন একটা খাঁ....খাঁ.... কেমন যেন একটা অশরীরী ফিসফাস! না, চারিদিকে তাকালুম, ঘরের কোণগুলো তন্নতন্ন করে দেখলুম কেউই নেই৷ রয়েছি আমি আর রয়েছে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া ফুটিফাটা সেই কুঁজোটা৷

পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই  গবাকে ডেকে পাঠালুম৷ ৰললুম--- গৰা, চল তো একটু নদীর দিকে৷

গবা বললে--- এ সময় তো ওদিকে কেউ থাকে না৷

আমি ৰললুম--- এমনি একটু যেতে চাই৷ আমি তো পথঘাট চিনি না৷ তুই চিনিস, তাই৷

গৰা ৰললে--- হ্যাঁ, হ্যাঁ, তবে দু’জনে দুটো লাঠি হাতে নিয়ে নি’৷

গৰার সঙ্গে গেলুম! শহর থেকে ৰেশ কিছুটা দূরে৷

জায়গাটা ঠিক শ্মশান নয়, তবে মনে হয় সূদূর অতীতে শ্মশান ছিল৷

জায়গাটার একটু কাছাকাছি এলুম৷ গৰা বললে--- একটা মৃতদেহ রয়েছে না!

আমি ৰললুম--- তাই তো মনে হচ্ছে৷

দু’জনে তার কাছাকাছি গেলুম৷

আমি ৰললুম--- মৃতদেহ নয়.... হাতটা নড়ছে...একটা পা-ও সময় সময় ছুঁড়ছে....নাড়ছে৷

আরো একটু কাছে গিয়ে গবা ৰললে--- এই সেই জোসেফ.... কাল রাত্তিরে যার কথা বলছিলুম৷ রাতে ওর বাড়ীতে গিয়ে আমাদের মধ্যে যে কথাবার্র্ত হয়েছিল তা-ও ওকে  ৰলেছিলুম৷

সে ৰলেছিল --- শুণলুম.... ভাল, ভাল৷

আরেকটু কাছে গেলুম৷ লোকটা তখন হয় অচেতন,না হয় অর্ধচেতন৷ মুখটা দেখে অবাক হয়ে গেলুম৷ রাত্তিরে সেই ঘটনায় যে মুখটা দেখেছিলুম এটা হুবহু সেই মুখ৷

গৰাকে  ৰললুম--- একটু টিকির কাছটা দেখ তো!

দেখা গেল টিকির কাছে  একগোছ চুল কে যেন টেনে ছিঁড়ে নিয়েছে৷ সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে দরদরিয়ে রক্ত৷

সেই রক্তপাতের ফলেই এ অচৈতন্য বা অর্ধ-চৈতন্য হয়ে রয়েছে৷

আমরা তাকে পাঁজাকোলা করে হাসপাতালে পৌঁছে দিলুম৷

এটা কি সেই তুক্‌ গুণ! তৰে কি এরও নাম গুণ?

আমার কথাটি ফুরোল/ নটে গাছটি মুড়োল?     শব্দ চয়নিকা ২৪/১০৮

দিন রাত

লেখক
রাজদীপ কুন্ডু (শ্রেণী-চতুর্থ)

আমার জন্য সূর্য ওঠে

আমার জন্য দিন রাত

নতুন সকাল আসে দরজায়

নতুন দিনের সূচনায়

গ্রীষ্মকালে গরম হয়

বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়

শরৎকালে দূর্গা পূজায়

মন মেতেছে নতুন জামায়

শীতকালে ওই পিঠে পুলি

বসন্তকালে দোল

এইভাবেই কাটছে দিন

কাটছে আমার রাত৷

                --- আনন্দমার্গ স্কুল (মগরা)

ভাষা বিপ্লবীদের প্রতি

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

যাঁদের মরনে গর্বিত মনে

একুশকে করি স্মরণ,

ভাষা আন্দোলনে পথের দিশারী

করেছে মৃত্যু বরণ৷

বাংলা ভাষার দাবী আদায়ে

শতশত তাজা প্রাণ,

কোন ভাবাবেগে আন্দোলিত হয়ে

রাখে মাতৃভাষার মান!

‘উর্দু’ হবে রাষ্ট্রীয় ভাষা

পাক শাসকের ঘোষণা,

বাঙালির দাবী, বাঙালির ভাষা

লাঞ্ছিত আশা বাসনা!

বাংলা হরফ, বাংলা লিপি

মাতৃস্নেহের টান,

সেই অধিকার হরিয়া শাসক

করে বাংলাকে অপমান!

বাহান্ন সালের একুশ

জাগ্রত বাঙালি-মর্যাদার হুঁশ,

সুসংবদ্ধ ছাত্র, যুবক, সমাজ কর্মী

পাহাড় আন্দোলিত, সাগরে উর্মি,

সেই আন্দোলনে গুলি বর্ষণে

পাক সশস্ত্র বাহিনী,

রচিত রফিক, সালাম, জববরের

ভাষা আন্দোলনের কাহিনী৷

মাতৃৃ-অঙ্ক শূন্য করে

দামাল তুর্কি দল,

দু’নয়নে মায়ের গঙ্গা-পদ্মা

নীরব অশ্রুজল!

শত শহীদের রক্তে অর্জিত

বাংলা ভাষার মান,

হৃদয়ে বরণে স্মরণ করি

তাঁহাদের অবদান৷

ইচ্ছাপূরণ

অদ্রিজা দত্ত (শ্রেণী-চতুর্থ বিভাগ-ক)

মিষ্টি সকাল শান্ত মন

ঘুমিয়ে ছিলাম এতক্ষণ

কষ্ট করে খুললাম আঁখি

তুমি এখনো ঘুমাও নাকি!

তড়িঘড়ি উঠে পড়ো

আমার ইচ্ছা পূরণ করো৷

l l l l

ফিকে বসন্ত

লেখক
সুপর্ণা মজুমদার

সেই যে এক ষোড়শী মেয়ে

যে মেয়েটা ঘুঁটে কুড়ায়,

মরচে পড়া প্রেমের মাঝে

বসন্ত তার রঙটি হারায়৷

দুঃখটা যার নিত্যসঙ্গী

নুন আনতে পান্তা ফুরায়

মধুমাসে তার দ্বারে কি

ভালোবাসা কড়া নাড়ায়?

ছুটতে ছুটতে যে ছেলেটার

সুখতলাটা খুইয়ে গেছে,

বেকার খাতায় নাম লিখালো

ভালোবাসাটা মরে গেছে৷

পাশের পাড়ার ঐ মেয়েটা

যাকে নিয়ে স্বপ্ণ বুনতো,

মধুমাসে তাকে নাকি

চুপিচুপি রং মাখাতো!

এখন সেসব ভাঁজের পাতায়

গরীবি যাকে তাড়া করে!

বসন্তটা হারিয়ে গেছে

গা ছমছম অন্ধকারে৷

শহর যখন ডুবছে নেশায়

ঠোঁট লাগানো রঙীন খামে,

কিছু ফাগুন বিকিয়ে যায়

বস্তা পচা সস্তা দামে৷

পথের ধূলোয় রং মাখিয়ে

যুদ্ধটাকে করছে বরণ,

বসন্তটা ফিকে তাদের

অনাহারে হচ্ছে মরন৷

স্বপ্ণ তাদের দেখতে মানা

দুঃস্বপ্ণে কাটছে রাত,

মনের আবীর হচ্ছে ধূসর

জীবনযুদ্ধে কুপোকাত৷

পাহাড় প্রমাণ ঋণের বোঝা

দায়ভার যার কাঁধে গেছে

প্রেমটেম সব উবে গিয়ে

বসন্তটা ফিকেই আছে৷

এ্যাল্সেসিয়ানের আবাজ

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ক্রুশ  ত্তুণ ঞ্চ ক্রোষ্টু৷ ‘ক্রুশ্’ ধাতুর অর্থ হচ্ছে একই ধবনি ৰার ৰার দিয়ে চলা৷ যেমন  ঘেউ–ঘেউ–ঘেউ–ঘেউ–ঘেউ–, প্যাঁক–প্যাঁক––পিঁএ্য্, পিঁএ্যাঁক্ পিঁএ্যাঁক্–হুক্কাহুয়া–হুক্কাহুয়া–, ক্যা হুয়া–ক্যা হুয়া–ক্যা হুয়া৷

রসিক জনে ৰলে থাকেন, শেয়াল একটি ভীতু জীব৷ সামান্য একটু কিছু হলেই  সে বিচলিত হয়ে পড়ে৷ তাই তারা রাষ্ট্রভাষায় ৰলে থাকে–ক্যাহুয়া–ক্যাহুয়া–ক্যাহ্ (কী হয়েছে.....কী হয়েছে.....কী হয়েছে.....কী হয়েছে.....) তাহলে ৰুঝলে এই যে ‘ক্রোষ্টু’ শব্দের কথা বলছি তার মানে হচ্ছে শেয়াল৷ তুমি যদি ‘ক্ত’ প্রত্যয় করে, ‘ক্রুশ্বন্’ ৰল তার মানে হয়ে দাঁড়াৰে সেই শেয়াল, যে এখন হুক্কাহুয়া করে চলেছে৷

তোমরা জান আমাদের পরিচিত মাংসাশী জীবেরা মুখ্যতঃ মার্জার বর্গ ও কুক্কুর বর্গে বিভাজিত৷ মার্জার বর্গীয় জীবদের মুখ গোল, গোঁফ আছে (ব্যাঘ্রী বা ৰিড়ালীর–ও গোঁফ আছে), পরিবারৰদ্ধ হয়ে বাস করতে একেবারেই  চায় না৷ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সাহস আছে, কিন্তু ৰুদ্ধির প্রয়োগ করে সাহস দেখায় না অর্থাৎ সাহস দেখাতে গিয়ে ৰিপদে পড়তে চায় না৷ মার্জার বর্গীয়দের মানসিক উদারতা নাই বললেই চলে৷ আর  কুক্কুর (সংস্কৃতে কুক্কুর/কুকুর দুই–ই ৰলে, ৰাংলায় ৰলে ‘কুকুর’) ৰর্গীয় জীবদের একটু ছুঁচলো মুখ, কেউ কেউ পরিবারৰদ্ধ হয়ে থাকে (যেমন–সিংহ), ৰুদ্ধি অত্যন্ত সাধারণ মানের৷ সাহস দেখাতে গিয়েই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বিপদে পড়ে৷ মানসিক উদারতা বেশ কিছুটা আছে.....ত্যাগও আছে৷ কুক্কুর বর্গীয় বৃহৎ জীব হচ্ছে আফ্রিকাদেশীয় সিংহ–বর্ত্তমানে ধবংসোন্মুখ৷ রাঢ়ী সিংহ অনুমানিক এক শত বৎসর হ’ল শেষ হয়ে গেছে৷ গুজরাতী সিংহ বা গিরনার সিংহ বা গিরসিংহ–এদের মেয়ে–পুরুষ কারুরই কেশর নেই৷ অন্য প্রজাতির সিংহের পুরুষদের কেশর থাকে–স্ত্রী–র থাকে না (ৰাংলায় ‘সিংহ’, সংস্কৃতে ‘সিংহ’, ফার্সীতে ‘ৰবৰর’, ইংরেজীতে ন্প্সু, লাতিনে ন্ন্দ্বপ্স) এছাড়া রয়েছে নেকড়ে বাঘ, উত্তর ভারতে ‘লক্কড় বাঘ্ঘ’, সংস্কৃতে ‘বৃক’, ইংরেজীতে ভ্রপ্সপ্তন্দ্র৷ তার পরই রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর, তার পরে শেয়াল৷ অতি পরিচিত জীবদের মধ্যে এই বর্গের সবচেয়ে ছোট হ’ল খেঁকশেয়াল৷

মার্জার বর্গীয়দের মধ্যে সবচেয়ে ৰড় হ’ল সোঁদরৰনের ‘কুঁদো বাঘ’, বাংলায় ‘বাঘ’, সংস্কৃতে ‘ব্যাঘ্র’ বা ‘শার্দুল’, ফার্সীতে ‘শের’, ইংরেজীতে ন্ন্ধন্দ্বব্জ, ‘কালোবাঘ’, দক্ষিণ আমেরিকার ‘জাগুয়ার’, বা ‘ত্ন্ত্রুব্ধড়ন্দ্বব্জ’, ‘চিতাবাঘ’, চিত্রব্যাঘ্র বা প্তন্দ্বপ্সহ্ম্ত্রব্জস্ত্৷ তারপরেই রয়েছে হুড়ার/হুণ্ডার/বিগোয়া/গোবাঘা সংস্কৃতে ‘তরক্ষু’, ইংরেজীতে ‘হায়েনা’৷ তার চেয়ে ছোট রয়েছে ভাম্.....খট্টাশ (কথ্য ৰাংলায় খটাশ), ৰনৰেড়াল ও আমাদের ঘরোয়া পোষমানা ৰেড়াল৷ কুক্কুর বর্গ ও মার্জার বর্গ উভয়েই মাংসাশী, উভয়েই কাঁচা নিরামিষ খাদ্য খায় না তবে রান্না করা খাদ্য খায়৷ খুব মজার কথা এই যে কুক্কুর বর্গীয়দের মধ্যে বড়–ছোট৪ ভেদে নানা প্রজাতির  কুকুর রয়েছে ঠিকই কিন্তু তারা কোন মৌলিক জীব নয়৷ পিতা নেকড়ে ও মাতা শৃগালী এই হ’ল কুকুরের পরিচয়৷ তাই আদিমকালের ফসিল (জীবাশ্ম) খুঁজতে গিয়ে নেকড়ের ফসিল পেয়েছি......পেয়েছি শৃগালের ফসিলও৷ কিন্তু পাইনি কুকুরের ফসিল৷ শিশুকালে কুক্কুর বর্গীয় সকল জীবই অনেকটা দেখতে একই রকম৷ ৰড় হৰার সঙ্গে সঙ্গে চেহারার বৈষম্যগুলো এক দিকে যেমন প্রকট হয়ে ওঠে অন্যদিকে আবাজের ভিন্নতা হয় পরিস্ফুট৷ এ্যালসেসিয়ানের স্থান নেকড়ের খুব কাছাকাছি৷ পোষমানা নেকড়ে (সহজে পোষ মানে না) ও এ্যালসেসিয়ানের তফাৎ অত্যন্ত কম৷ এদের দুয়ের ঘ্রাণশক্তি অতি প্রখর ও বিভিন্ন প্রকারের ঘ্রাণের মধ্যে পার্থক্য বোঝবার সামর্থ্য খুব বেশী৷ তাই অপরাধী ধরার কাজে এ্যালসেসিয়ান কুকুর মানুষকে যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে৷ মার্জার বর্গ ও কুক্কুর বর্গের  প্রতিটি জীবেরই নিজস্ব ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ সে বিচারে এদের সবাইকে কি ‘ক্রোষ্টু’ ৰলা যেত না?

–না,  তা যেত না৷ কারণ শেয়াল ছাড়া কেউই নিয়মিতভাৰে একটানা আবাজ দেয় না৷ কুকুর একটানা ঘেউ ঘেউ করে বটে কিন্তু তা কোন সুনির্দিষ্ট বিধিতে নয়৷ তাই ‘ক্রোষ্টু’ ৰলতে শেয়ালকেই ৰোঝায়৷

একৰার শুণেছিলুম আড়ংঘাটার জনৈক ধনী মানুষের সখ হয়েছিল এ্যালসেসিয়ান পোষার৷ সেবার গরমকালে তিনি আঁাঁৰ বেচার টাকা নিয়ে জষ্ঠি মাসের রোদ মাথায় করে এসেছিলেন হাতীবাগান হাটে–একটা রোবৰারে৷ তাঁর মুখের দিকে চেয়ে ট্যাঁকে টু–পাইস্ আছে ৰুঝতে পেরে ৰিক্রেতা তাঁকে একটি কেমন ধরনের যেন এ্যাল্সেসিয়ানের বাচ্চা গছিয়ে দিলেন৷ ভদ্রলোক আড়ংঘাটায় গিয়ে সেই শিশু এ্যাল্সেসিয়ান নিয়ে যথেষ্ট আদিখ্যেতা করতে লাগলেন৷ তা করৰেন নাই বা কেন আঁাঁৰ বেচার করকরে দশহাজার টাকায় কেনা৷ সেবার নদে জেলায় আঁৰের ফলন ছিল আশাতিরিক্ত৷ দামও ছিল ভাল৷ ফলে ভদ্রলোক সন্ধ্যের সময় এ্যালসেসিয়ানে–শিশুর মাংসের বরাদ্দ আরও ৰাড়িয়ে দিলেন৷ শিশু এ্যালসেসিয়ান গায়েগতরে অল্প দিনে ৰেশ নধর হয়ে উঠল৷ ভদ্রলোক সন্ধ্যের সময় এ্যালসেসিয়ানের পাশে এসে ৰসতেন  ও তার আবাজ শোণার জন্যে উৎকর্ণ হয়ে থাকতেন৷ কিন্তু এ্যালসেসিয়ান  হলেও হাজার হোক ছোট শিশু তো, তাই সে কোন আবাজ করত না৷ কিছুদিন পরে আরো একটু ৰড়সড় হয়ে উঠলে ভদ্রলোক আশা করলেন এৰার তার কাছ থেকে তিনি একটা বিশুদ্ধ ধরণের ক্রোশন বা ঘেউ ঘেউ ধবনি শুণৰেন৷

নদে জেলা দোঁয়াশ মাটির জেলা৷ তাই তুলনামূলক বিচারে পুকুরের সংখ্যা একটু কম কিন্তু সেকালে আড়ংঘাটার আশেপাশে পুকুর ছিল যথেষ্ট৷ আর তার চারপাশে হয়ে থাকত নীল গাছের ঝোপ৷ একদিন সন্ধ্যেৰেলা শেয়ালেরা তাদের দৈনিক স্বাভাবিক দিনচর্চ্চার অঙ্গ হিসাবে প্রথম প্রাহরিক ‘হুক্কাহুয়া’ ধবনি দিতে শুরু করল৷ একটানা হুক্কাহুয়া ধবনি অল্প কয়েক সেকেণ্ড শোণার পরই ভদ্রলোকের বাড়ীর এ্যালসেসিয়ান কুকুর তাদেরই ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে তালে তাল দিয়ে হুক্কাহুয়া ধবনি শুরু করল৷ তার চোখে মুখে ফুটে উঠল শৃগালের আভিজাত্যের  শুভ–সূচনা৷ ভদ্রলোক শোকাশ্রুনেত্রে তাঁর বাড়ীর খিড়কির দরজা খুলে দিলেন৷ এ্যালসেসিয়ান শিশু শেয়ালের দলে ভিড়ে গেল৷  ভদ্রলোকের মনের স্মৃতিপটে ভেসে উঠল সেই জষ্ঠি মাসের গরমের দিনের কথা, সেই হাতীবাগানের হাটের সেই বিক্রেতার কথা যে এ্যালসেসিয়ানের নাম করে তাঁকে শৃগালশিশু গছিয়ে দিয়েছিল, তাকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছিল করকরে দশহাজার টাকা৷

ভারত সম্পদশালী দেশ অথচ ভারতের মানুষ গরিব

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

পূর্বপ্রকাশিতের পর ,

পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ গমজাত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে  অভ্যস্ত৷ গম উৎপাদনে  চীন পৃথিবীতে বর্তমানে প্রথম স্থান অধিকারী৷ (আর পৃথিবীর মোট গম উৎপাদনের শতকরা এ ভাগ গম উৎপাদন করে ভারত আছে দ্বিতীয় স্থানে৷)

পৃথিবীতে চা উৎপাদনে ও রপ্তানিতে ভারত শীর্ষস্থান অধিকারী করে আছে৷ পৃথিবীর মোট চা উৎপাদনের ২৯ শতাংশ উৎপাদন হয় ভারতে৷

ইক্ষু উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্থান দ্বিতীয়৷ পৃথিবীতে ভারতেই সর্বাপেক্ষা অধিক পরিমাণ জমিতে ইক্ষু চাষ হয়ে থাকে৷ বিভিন্ন প্রকার বাণিজ্যিক শস্য অর্থাৎ তন্তু-ফসলের মধ্যে তূলা বা কার্র্পস সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য৷ সেই তূলা উৎপাদনে ভারত তৃতীয় স্থানের অধিকারী৷

পাট উৎপাদনে পৃথিবীর মধ্যে ভারত অধিকার করে আছে প্রথম স্থান৷ (ক্রমশঃ)

সবার উপরে মানুষ

লেখক
ডাঃ শ্যামল গোস্বামী

নিজেকে ছড়িয়ে দাও

মানুষের মাঝে

মানুষের উপকারে

মানুষের কাজে৷

 

সামনে তাকিয়ে দেখ

মানুষই ডাকছে তোমায়

কতশত রয়েছে মানুষ

পৃথিবীর শহর ও গাঁয়৷

 

এখনো থাকবে বসে

ছোট্ট ঘরের কোণে

এখনো কিসের দ্বিধা

পীড়িত বঞ্চিত মনে!

 

এখনি বাইরে এসো

এই মুহূতেই আজ

বৃথাই সময় গেছে

রয়েছে অনেক কাজ৷

 

মানুষ মহান হয়

মানুষের অনুভবে

থাকলে তেমন মন

তুমিও মহান হবে৷

মঙ্গলময় নীলকন্ঠ

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

বিশ্বের বিষ-ভাণ্ড কন্ঠে ধারণ করে

অমৃত-সুধায় ধরা দিয়েছ ভরে,

বাঁচালে বিশ্ব-সংসার৷

জিঘাংসা জর্জরিত জগতের

বিষটুকু নিলে তুলে,

তাই নর, প্রাণী, তরুলতা

আজও বেঁচে দলে দলে,

নির্বিষ ধরনী দিলে উপহার৷

দু’হাত উজাড় করে

সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিলে ভরে

নিজে নিলে জগতের

যত দায়ভার!

যে অমৃতের প্রেরণা দেয়

বৃহতের হাতছানি,

নেচে চলে নর, প্রাণী,

সবুজ বনানী৷

তব সৃষ্টির তরে ---

বাড়ায়েছ জগৎ-বৈভব

মানুস তো বুঝেনি তোমায়

তাই তাগিদ করেনি অনুভব৷

তুমি না বোঝালে বল

বোঝে কোন জন?

চিনিতে পারে না সে

কে মোর আপন,

হেথায় হোথায় উন্মাদ সম

সময় অপচয়ে বৃথা উদ্যম৷

অথচ রয়েছো সৃষ্টির মাঝে

নানারূপে নানা সাজে,

নিত্য সবারে ভালো বাসিয়াছো

রয়ে গেছো শত কাজে৷

দনুজ দমনে শিষ্ট পালনে

ধরা মাঝে তুমি আসো,

প্রাণের দেবতা আলো ঢেলে তুমি

সকল তমসা নাশো৷

এত তুমি ভালোবাসো!

মানব জাতির বিবেকের দ্বারে

প্রশ্ণ নিত্য কেন কড়া নাড়ে?

ষড়যন্ত্রের এতো আয়োজন

এর কি ছিল কোন প্রয়োজন?

যুগে যুগে যাঁরা আবির্র্ভূত হন

ধর্ম স্থাপনের ব্রত নিয়ে,

মানব সমাজে চেতনা আনেন

অতীতের সবগ্লানি ভুলিয়ে৷

শোষণমুক্ত সমাজ স্থাপনে

যাঁরা অগ্রগ্রামী,

অশুভ শক্তির উদ্ধত হাত

শির পরে আসি নামি৷

ধর্ম স্থাপন জীবন-ব্রত

জীবনকে পায়ে দলে

এমন নজির অনেক রয়েছে

ইতিহাসে খোঁজ মেলে৷

মানব কল্যাণে মহাসম্ভূতি,

জগতের প্রাণ, অগতির গতি

সঙ্গে নতুন জীবনদর্শন,

বিশ্ব-লীলায় ত্রিভূবনপতি

তুমি ধ্রুবতারা পথের সারথী

অকৃপণ তব কৃপা বর্ষন!

তোমার নামে জগৎ আজ ঝংকৃত,

নন্দিত তোমার জয়ধবনিতে বিশ্ব

শিহরিত, স্পন্দিত৷

সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের মাঝে

মঙ্গলময় যে জন বিরাজে

তাঁরে ভক্তি পূর্ণ প্রণাম জানাই

অন্তরে তাঁর গীত বাজে৷

ভারত সম্পদশালী দেশ অথচ ভারতের মানুষ গরিব

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

গত ১৫থেকে ১৯শে ডিসেম্বর সাঁইথিয়া আনন্দমার্গ স্কুলে পাঁচদিনের প্রাউট প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়৷ এই পত্রিকার সংবাদ অনুসরণ করে বলছি---‘‘আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত বর্তমান ঘূণধরা সমাজের সর্বস্তরে যে ব্যাপক দুর্নীতি অনাচার ও ব্যাভিচারে ভরে গেছে৷ তার কারণ বিশ্লেষণ করে বলেন---ভারতবর্ষে সম্পদের অভাব নেই৷ যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই আজ দেশের এই করুণ অবস্থা৷’’ ভারতবর্ষে সম্পদের অভাব নেই অথচ দেশের মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পায়না৷ ‘‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা গরিবের পেটে ক্ষুধার খরা৷’’ ভারত সম্পদশালী দেশ অথচ ভারতের মানুষ গরিব৷ কথাটা স্ববিরোধী হলেও তা বাস্তব সত্য৷ কারণ প্রসূনানন্দজীর ভাষায় আদর্শ নেতৃত্বের অভাব৷ এছাড়া প্রাউটের পঞ্চমূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাগতিক সম্পদের যুক্তিসঙ্গত বন্টন--- তা হচ্ছে না৷ প্রাউটের সিদ্ধান্ত---‘‘কোন ব্যষ্টিই সামবায়িক সংস্থার  সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ভৌতিক সম্পদ সঞ্চয় করতে পারে না৷’’

এই নীতি পালিত না হওয়ার জন্যই ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একশো কোটি ডলারেরও বেশী সম্পদের মালিকের সংখ্যা ষাট শতাংশের ও বেশি বেড়ে গেছে৷ অক্সফ্যামের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এ খবর পাওয়া যায়৷

ভারতের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ব্যয়বহুল নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য এম.এল.এ, এম.পি.দের পুঁজিপতিদের দোর গোড়ায় কড়া নাড়তে হয়, হাতপাততে হয়৷ ফলতঃ জনপ্রতিনিধিদের  তথা দলের টিকি বাঁধা থাকে পুঁজিপতিদের হাতে৷ তাই পুঁজিপতিদের অঙ্গুলি-হেলনে তাদের চলতে হয়৷ একটি উদাহরণ---২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার কর্র্পেরেট করের পরিমান বহুলাংশে কমিয়ে দেয়৷ তার ফলে ভারতে বাজেটে যে পরিমান রাজস্ব লোকসান হয়েছিল তা দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের অর্ধেক৷ মোটকথা, ভারতের গণতন্ত্র হচ্ছে ছদ্মবেশী ধনতন্ত্র৷

এবার আসা যাক প্রসূনানন্দজীর মন্তব্যের বাস্তবতা বিষয়ে৷ উনি যথার্থই বলেছেন, ভারতবর্ষে সম্পদের অভাব নেই৷’’ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান বা  চাল অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য৷ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রধান খাদ্য চাল বা ধান৷ সেই ধান উৎপাদনে চীনের পরেই ভারতের স্থান দ্বিতীয়৷ (ক্রমশঃ)

লুকোচুরি

লেখক
আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত

মনের আকাশে যেন কুয়াশা না আসে,

যেন ভাসে স্বচ্ছ পূর্ণ কমল

দ্যুতিময় সত্তা যেন সদা রয়

কৃপাময় যিনি সদা উজ্জ্বল৷

মেঘরাশি যখন আকাশেতে ভাসে

প্রকৃতির নিত্য খেলা,

মনের মেঘ যেন দূরে রয়,

বুঝে যেন সব অনন্ত লীলা৷

নিত্য হাসেন লীলাময় মম

মনের অন্ধকারে,

আলো-আঁধারের লুকোচুরি খেলা তাও

তাঁরই ইচ্ছা বারে বারে৷

এ জগৎ শুধু তাঁরই প্রকাশ

যিনি বিরাজিত ভক্ত হৃদয়ে,

এ সত্য বোঝে কেবলই ভক্ত,

যে দেখে তাঁকে বরাভয়ে৷