Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

অভিষেক

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

হে বীর, 

ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে

তুমি এক উজ্জ্বল ধুমকেতু৷

যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভিক সৈনিক,

আপোষহীন সংগ্রামী তুমি,

ত্যাগ তিতীক্ষার মূর্ত্ত প্রতীক৷

উদার চিত্তে ছিল তব আহ্বান

‘‘আমায়  রক্ত দাও, 

আমি স্বাধীনতা দোব’’

গড়লে আজাদহিন্দ ফৌজ,

শক্ত হাতে দিলে তাতে নেতৃত্ব,

সৈনিক বেশে তুললে জাতীয় পতাকা

গড়লে সরকার দেশের মাটিতে৷

জানে নি সে মানুষ পাওনি, মর্যাদা সেদিন তাই,

সাম্রাজ্যবাদীর কোমড় ভেঙে হলে তুমি নিরুদ্দেশ,

কিন্তু না, দমেনি মানুষ, থামেনি যুদ্ধ,

হ’ল বিদ্রোহ ঘোষণা---

সৈন্যদলে স্থানে স্থানে,

পালাবার পথ নেই জেনে

হ’ল হস্তান্তরিত শোষণ শাসনের,

পেলো রাজনৈতিক 

স্বাধীনতা ভারতবর্ষ,

নেই তাতে অন্ন বস্ত্র 

বাসস্থানের গ্যারান্টি,

পচে গলে মরছে মানুষ রাস্তার ধারে,

দ্বীপান্তরে শুস্ক বনভূমিতে৷

 

  • Log in to post comments

রূপালী রজনী

কৌশিক খাটুয়া

আজ ফাগুনের পূর্ণিমা তিথি 

বংশী বাজিয়ে কে এসেছে অতিথি, 

বরণ করেছি প্রেমে-অনুরাগে

মন রঞ্জিত তাঁহারই রাগে! 

তাঁকে দেখেছি নিপবনে

পেয়েছি রবির কিরণে,

দেখেছি ধরণীর প্রতি কোনে কোনে

স্নিগ্দ দখিনা পবনে৷

ফুলের হাসিতে মোহন বাঁশিতে 

তাঁহার মুগ্দ প্রকাশ,

পাপড়ি মেলিয়া কুসুম কাননে

তাঁর বর্ণময় বিকাশ!

 

  • Log in to post comments

গ্রীষ্মের দাবদাহে

শিবরাম চক্রবর্তী

গ্রীষ্মকালের দাবদাহে,

দক্ষিণের জোর হাওয়ার বেগে,

তোমার স্নিগ্দের পরশখানি

দেখি সেথায় ওঠে জেগে৷

গ্রীষ্মে কঠোর শ্রমের পরে

যাই যখনই ঘেমে নেয়ে,

জিরিয়ে জল খাওয়ার কথা

শোণাও বৈদ্যের মুখ দিয়ে৷

আম-কাঁটাল-জাম-জামরুলে

নানা স্বাদের রস যা পাই,

সে তো তোমারই কৃপার দানে,

মহানন্দে সবাই খাই৷

গ্রীষ্মের দু’মাস খুব গরমে,

সন্ধ্যে সকাল স্নানের ক্ষণে,,

তৃপ্তিতে মন উঠলে ভরে

তোমার কথাই পড়ে মনে৷

গ্রীষ্ম ঋতুর ঝড়-ঝাপটায়

প্রকৃতি দেখায় শক্তির বাহার,

সে তো পায় তোমারই শক্তি,

তারে শান্ত কর আবার৷

 

  • Log in to post comments

বন্দেমাতরম

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

কত শহীদ জীবন দিয়ে

      রাখলো জাতির নাম,

প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে

      করলো সংগ্রাম৷

বন্দী হলো কারাগারে

      পরলো মরণ-ফাঁসি,

বুকফুলিয়ে শির উঁচিয়ে

      হাসলো বীরের হাসি৷

হাতে পায়ে পরলো শেকল

      গেলো দ্বীপান্তর,

জ্বালালো আগুন মারলো শত্রু

      করলো না ভয় ডর৷

সইলো কত দুঃখজ্বালা

      লাঞ্ছনা নির্মম---

একটি শুধু মন্ত্র জপে

      বন্দেমাতরম্‌’!

 

  • Log in to post comments

‘‘চক্রং ভ্রমতি মস্তকে’’

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আরও কিছুদূর এগিয়ে চলতে চলতে সে সামনে দেখলে আর একটা পাহাড়......তাঁৰার*১ 

কিপ্ঢেকঞ্জুস দেখলে–ছ’পকেট ভরতি রূপোর টাকা নিলে তাতেও তিনটে অসুবিধে৷ প্রথমতঃ অত রূপোর টাকারই বা দাম কত! দ্বিতীয়তঃ রূপোর টাকার ভারে সে দ্রুত চলতে পারবে না৷ তৃতীয়তঃ তাতে ঝমঝম শব্দ হবে তাতে চোর–ডাকাতের ৰুঝতে সুবিধে হবে যে সে অনেক টাকার মালিক৷

সেকালে এক টাকার নোট ছিল না৷ ইংরেজ যুগে কড়ির ব্যবহারও রহিত হয়ে যায়৷ ব্যবহার ৰেশী ছিল তাম্র মুদ্রা, ৰ্রোঞ্জ মুদ্রা, নিকেল মুদ্রা ও রৌপ্য মুদ্রার (খাদ–মেশানো সোনার মুদ্রার –যাকে ইংরেজীতে সব্রেন, ৰাঙলায় গিনি বলা হত যার থেকে গিনি সোণা–ব্যবহারও অল্পস্বল্প ছিল)৷ বিক্রেতারা তাই দিনে যখনই দোকান থেকে বাড়ীতে যেতেন বিক্রয়লব্ধ অর্থ পুঁটলিতে মজৰুত ভাবে ৰেঁধে পুঁটলিকে ছোট্ট করে এমনভাবে নিয়ে যেতেন যাতে মুদ্রার কোনো আওয়াজ না হয়৷ একটি ছোটখাট ৰেনের পুঁটলিতে থেকে যেত অনেকগুলি টাকা৷

ৰেনের পুঁটলির কথা বলতে গিয়ে সেকালের একটা গল্পের কথা মনে পড়ল৷ একবার একজন গুরু অর্থসংগ্রহের জন্যে শিষ্যবাড়ী পরিক্রমায় বেরিয়েছিলেন৷ তখন শীতকাল.......সদ্য ধান উঠেছে৷ অর্থসংগ্রহের পক্ষে সেটা ছিল খুব উপযুক্ত সময়৷ শিষ্যবাড়ীতে আসায় শিষ্য তাঁকে খুবই আদরযত্ন করলে৷ তখন তার হাতে দু’পয়সা রয়েছে৷ রাত্রে সে গুরুকে বললে–ঠাকুরমশায়, এখন শীতকাল৷ রাত্রে আপনি কম্ৰল না লেপ গায়ে দেবেন আপনার জন্যে দুইই তৈরী আছে৷ গুরু ভাবলেন–এই সময়ে একটু মহাপুরুষ সাজা যাক!

সেই যে একবার জঙ্গলের ধারে এক ফকিরের আস্তানার পাশে ঝড়ে অনেকগুলো কাক মরে পড়েছিল, লোকে বললে–‘‘ফকির সাহেৰ, জঙ্গলের এত কাক ঝড়ে মরল কেন’’ ফকির বললে–‘‘কাকগুলো আমাকে বড্ড জ্বালাতন করত৷ কাল সন্ধেৰেলা ওদের খুব শাসিয়েছিলুম৷ বলেছিলুম–তোরা যদি খুব ভদ্রভাবে থাকতে না পারিস তাহলে তোদের সবাইকে শ্যাষ করে দোব৷ একরাত কাটল না গো, এমন ঝড় এল যে সবাই মরে গেল৷ আমার আদেশ পালন করে ওরা যদি কা কা রব ছেড়ে কুহু কুহু রব শিখে নিত তাহলে ওদের এ দশা হত না৷’’

গুরুমশায় দেখলেন–কাক মরল ঝড়ে, ক্যারামতী পেল ফকির৷ তাই না বাংলায় প্রবাদ আছে–ঝড়ে কাক মরে, ফকিরের ক্যারামতী বাড়ে৷ গুরুমশায় ভাবলেন–আমিও এই শিষ্যবাড়ীতে এসে একবার ক্যারামতী দেখিয়ে দিই৷ সে শিষ্যকে বললে–‘‘দেখ, আমরা সব মহাপুরুষ৷ আমাদের শীত–গ্রীষ্ম লাগে না৷ ওই লেপ–কম্ৰল কোনো কিছুরই দরকার নেই৷’’

গুরু খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লেন৷ শিষ্য মানুষটি খুবই ভাল৷ সে গুরুর দোরগোড়ায় কম্ৰল–মুড়ি দিয়ে বসে রইল৷ যদি গুরুর শীত করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে লেপ বা কম্ৰল দিয়ে দেবে৷ সে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলে–প্রথম প্রহরে গুরু হাত–পা লম্ৰা করে সটান হয়ে শুয়ে রয়েছে৷ সে আপন মনে বললে–‘‘প্রথম প্রহরে প্রভু ঢেঁকি অবতার’’৷ দ্বিতীয় প্রহরে গুরুর একটু শীত করছে ৷ শীতে তিনি হাঁটুকে একটু মুড়ে ফেললেন৷ শিষ্য বাইরে থেকে গেয়ে উঠল–‘‘দ্বিতীয় প্রহরে প্রভু ধনুকে টংকার’’৷ তৃতীয় প্রহরে শীত আরও বেড়েছে৷ গুরুর শরীর শীতে আরও কুঁকড়ে গেল৷ শিষ্য গেয়ে উঠল–‘‘তৃতীয় প্রহরে প্রভু কুকুরকুণ্ডলী’’৷ চতুর্থ প্রহরে শীত আরও বেড়ে যাওয়ায় গুরুর শরীরটা একেবারে গোল পাকিয়ে গেল৷ তাই দেখে শিষ্য গেয়ে উঠল– ‘‘চতুর্থ প্রহরে প্রভু বেনের পুঁটুলি’’৷ তা সে যাই হোক্, কিপ্ঢেকঞ্জুস বেনের পুঁটলি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে চায় না৷

সে আরও এগিয়ে চলল৷ কিপ্ঢেকঞ্জুস এগিয়ে চলল৷ দিনের পর দিন..........মাসের পর মাস৷ চলে গেছে কত বিনিদ্র রজনী.....কত অজস্র বৃষ্টিপাত৷ কিপ্ঢেকঞ্জুসের কোনো দিকেই ভ্রূক্ষেপ নেই৷ লক্ষ্য তার সম্পদ আহরণ.........মন তার বলে চলেছে–‘‘ম্যাঁয় ভুখা হুঁ......ম্যাঁয় ভুখা হুঁ ’’৷

হঠাৎ সে দেখলে ঝকঝকে সোণার*২ পাকা সোণার মুদ্রা–প্রাচীনকালে বলা হত ‘সীনক’৷

সোণার পাহাড় দেখে কিপ্ঢেকঞ্জুসের চোখ ঝলসে গেল–ওঃ! আমার জন্ম–জন্মান্তরের সাধ পূর্ণ হল৷ আমি আজ সবচেয়ে ধনী কিন্তু এই ধনরত্ন কী করে নিয়ে যাব! কোথায় রাখব! ........এই ধনরত্ন আমি সুদে আসলে আরও বাড়াব..........এতদিন জলখাবারে খেতুম তেল–নুন মাখা মুড়ির সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা৷ এবার থেকে কাঁচা লঙ্কা বাদ দিয়ে শুধু শুকনো মুড়ি খাব–খরচ কমাব......আয় বাড়াব৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফ্যাসাদ ৰাধল কীভাবে এই ধনকে নিয়ে যাওয়া যায় তাই নিয়ে ৷ ছ’টা পকেটে তো এই সোণার পাহাড় আঁটবে না৷    

 

মহানুভব

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

নটরাজ তুমি

বাড়ালো উদ্যম

প্রাণিনতা, 

স্বচ্ছতা, 

দেহমনে, 

দিব্যভাবে, 

শূণ্যতায় করি পূর্ণ

চূর্ণ করি অহংকারে৷

নাদতনু তুমি

শোণালে ধবনি

মুহুর্মুহু, 

সূক্ষ্মত্বের

অনাদি ছন্দে

পরমানন্দে

মূর্ত করি নিজে

আনন্দমূরতিরূপে৷

তুমি আদি অন্তহীন

কালাতীত জ্যোতির্ময় সত্তা

পরমানন্দস্বরূপ

তব গুণানুকীর্ত্তনে

ভরালে চিৎ

মোহন বানে

আন্দোলিত করি হিয়া, 

রাগাত্মিকাভাবে মিশি

করিলে একাত্ম সবে

মহানুভবে প্রিয়!

 

  • Log in to post comments

দধীচি দিবস

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

দধীচি দধীচি দধীচি দধীচি

দধীচি---পঞ্চবীর, 

মার্চের আজ পঞ্চম দিনে 

শ্রদ্ধায় নত শির৷

মানব-সেবার মহানযজ্ঞে

তোমরা হয়েছো সমিধ, 

ধর্মসংস্থাপনার্থে

রক্ত-সিক্ত শহীদ৷

নরাধম যত দানবের দল

নৃশংস নির্মম, 

কেড়ে নিয়েছিল কল্যাণকাজে

সকল উদ্যম৷

তোমাদের সেই প্রাণের প্রদীপ

আজও অনির্বাণ, 

সেই আনন্দনগর যে আজ

মোদের তীর্থস্থান৷

প্রপঞ্চময় জগতে তোমরা

পঞ্চপ্রদীপ সম, 

গুরুর চরণে জীবনাঞ্জলি---

তোমাদের নমো নমো৷

 

  • Log in to post comments

পঞ্চ দধীচি স্মরণে

কৌশিক খাটুয়া

সেদিনও হয়েছিল সূর্যোদয়, 

নির্মেঘ বসন্তের গগন৷

ঈশান কোণে অপ্রত্যাশিত মেঘ

বুঝতে পারেনি আসন্ন মহারণ৷

 

পাঁচই মার্চ, মহাবেদনার স্মৃতি,

বিক্ষত করে নিবিড় ভ্রাতৃ-প্রীতি৷

ধর্মের তরে পঞ্চ দধীচি যারা

আজও অম্লান প্রাতঃস্মরনীয় তারা৷

 

দূরাচারীর অস্ত্র যখন

নিঠুর খেলায় মাতে, 

সাধুজনের পরিত্রাণে আসেন পরমপিতা সাথে৷

জড়বাদী মন মানেনা কখনো তাই পাপাচারে লিপ্ত, 

কোন বিরোধীতা শুনিতে নারাজ

শুনিলেই হয় ক্ষিপ্ত৷

 

নিজ সঙ্কল্প রূপায়ণে দধীচিরা আসে ভূবনে, 

হাসিমুখে তাঁদের মরণ বরণ

আপন কর্তব্য সাধনে৷

ক্ষমতাবৃত্তে দিশাহারা হয়ে দুঃশাসনের বংশ, 

অত্যাচারের অস্ত্র বানায় শিশুপাল আর কংস!

 

অহংবোধের উন্মাদনায় লঙ্ঘিত মহামানবের বাণী, 

ষড়যন্ত্রীর চক্র রচিছে 

নিভৃতে চক্রপাণি৷

 

আজ সেই কুখ্যাত দিন----

ব্যাথিত হদয়ে স্মরণ করি

কেমনে শুধিব ঋণ!

তাঁদের দেখানো পথ অনুসরণে 

সুদৃঢ় করি মন, 

মানবিক কাজ পূরণে 

করি সম্মান প্রদর্শন৷

 

  • Log in to post comments

মাতৃভাষার মান

কৌশিক খাটুয়া

যাঁদের মরণে গর্বিত মনে 

 একুশকে করি স্মরণ, 

ভাষা আন্দোলনের পথের দিশারী 

 করিল মৃত্যু বরণ৷

 

বাংলা ভাষার দাবি আদায়ে 

 শত শত তাজা প্রাণ, 

কোন ভাবাবেগে আন্দোলিত হয়ে 

 রাখে মাতৃভাষার মান!

 

‘উর্দু’ হবে রাষ্ট্রভাষা 

 পাক শাসকের ঘোষণা, 

বাঙালীর দাবি, বাঙালীর ভাষা 

 লাঞ্ছিত আশা বাসনা৷

বাংলা হরফ বাংলা লিপি 

 মাতৃভাষার টান, 

সেই অধিকার হরণ করা নয়

 বাংলাকে অপমান?

 

বাহান্ন সালের ঐতিহাসিক একুশ, 

 জাগ্রত বাঙালী-মর্যাদার হুঁশ, 

সুসংবদ্ধ ছাত্র, যুবক, সমাজকর্মী,

পাহাড় আন্দোলিত, সাগরে ঊর্মি, 

সেই আন্দোলনে গুলি বর্ষণে

 পাক সশস্ত্র বাহিনী, 

রচিত রফিক, সালাম, জববরের 

 ভাষা আন্দোলনের কাহিনী৷

 

শোণিত ধারায় বয়ে যায় যার 

 আত্মসম্মান বোধ, 

কে রুধিবে তারে, উন্মাদনা ঘিরে 

 নয় সেতো নির্র্বেধ!

 

মাতৃ অঙ্ক শূণ্য করে 

 দামাল তুর্কি দল, 

দু’নয়নে মায়ের গঙ্গা-পদ্মা

 নীরব অশ্রুজল!

শত শহীদের রক্তে অর্জিত 

 বাংলা ভাষার মান, 

হৃদয়ে বরণে স্মরণ করি

 তাঁহাদের অবদান৷

 

  • Log in to post comments

বিয়ের ঝামেলা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

একজন কর্ষক ছিল৷ সে ছিল দারুণ ঔদরিক ৷ কিন্তু তার দু’পায়ে ছিল গোদ৷ তা সে যাই হোক, সেই কর্ষক গেছল বিয়ে করতে৷ গোদ দেখাদেখি জানাজানি হলে বিয়ে কেঁচে যাবে যে! তাই ঔদরিকতার কথা ভেবে তাকে তখন সবসময় ধুতি দিয়ে গোদ ঢ়েকে রাখতে হয়েছে৷ সে কী ৰিড়ম্বনা!

কনের অবস্থাও শোচনীয়, কারণ তিনি কানা৷ তাঁকে সব সময় চোখ ঢ়েকে রাখতে হচ্ছে৷ নইলে জানাজানি হয়ে গেলে বিয়ে ভেস্তে যাবে৷ তিনি বিয়ের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলা পান দিয়ে মুখ ঢ়েকে রাখছিলেন৷ বিয়ের পর তো আরো সুবিধে৷ ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢ়েকে রাখার সুযোগ পাওয়া গেছল৷ ঔদরিক ৰড় উস্খুস করছেন, কারণ তার সমস্ত সংবেদনা আজ ঔদরিকতার ভাবনায় প্রেষিত৷

ভালয় ভালয় যখন শুভ কার্য সমাধা হয়ে গেল ৰর তার ইনটেলিজেন্সের মাধ্যমে খোঁজখবর নিলে বিয়ের আর কোনো আনুষ্ঠানিক অঙ্গ বাকী আছে কিনা৷ ইনটেলিজেন্স যখন সবুজ সংকেত দিলেন যে না, আর কোনো ৰাধা–বাগড়া আসবার সম্ভাবনা নেই, ফাঁড়া কেটে গেছে ৰর তখন আশ্বস্ত হলেন৷ খোঁজ নিয়ে জানলেন এইবার প্রচলিত দেশাচার অনুযায়ী ক্ষীর ভোজনে বসতে হবে৷ ৰর তো মহা খুশী৷ এইবার তার ঔদরিকতা পূর্ণ চরিতার্থতার পানে ছুটে চলেছে৷ ৰর এবার ধুতি হাঁটুর ওপর তুলে ক্ষীর ভোজনে সমস্ত মানসিকতাকে চালিয়ে দিয়ে বললেন–

‘‘আর কি বিয়ের ভয়

হাঁটুর কাপড় তুলে 

এখন ক্ষীর ভোজনে রয়৷’’

কনে বসেছিলেন একটু দূরে ৰর কী বলছেন শোনার জন্যে উৎকর্ণ হয়ে৷ তিনিও কিছু কম দাঁও মারেননি৷ বিবাহ–বৈতরণী পার হওয়ার জন্যে তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে কষ্ট করে পান–ঘোমটায় মুখ ঢ়েকে থাকতে হয়েছিল৷ তিনি এবার মুখের কাপড় সরিয়ে দিয়ে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন–

‘‘আর কি বিয়ের মানা

মুখের কাপড় খুলে দেখ কনের দু’চোখ কানা’’৷

যাই হোক ‘ঔদরিক’ কাকে বলে ৰুঝে গেলে তো! ঔদরিকতাকে কোনো মতেই প্রশ্রয় দিও না৷ 

শিব বলেছেন.....

‘‘অতিভোজনম্ রোগমূলমায়ূঃক্ষয়ক৷ 

তস্মাদতিভোজনং সর্বথা পরিহরেৎ৷’’

এই ঔদরিকতায় কারো কোনো লাভ নেই, আছে কেবল ক্ষতির পাহাড়৷ যারাই ঔদরিক তারাই একটু ৰেশী বয়সে নানান ধরনের উদর ব্যাধিতে ভুগে থাকেন৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved