হিংসার পরিণাম
ছোট ভাইবোনেরা, অপরের ক্ষতি করার ইচ্ছাকে বলে হিংসা৷ কথা ও কাজের দ্বারা কাউকে কষ্ট দিলে বা কষ্ট দেবার কথা ভাবলে তাকে হিংসা বলে৷ আর কথা ও কাজের দ্বারা কাউকে কষ্ট না দিলে বা কষ্ট দেবার কথা না ভাবলে তাকে বলে অহিংসা৷ শাস্ত্রে বলে অহিংসা পরমধর্ম ও হিংসা মহাপাপ৷ কেননা হিংসার পরিণাম খুবই খারাপ৷ এজন্যেই হিংসা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে৷ তোমরা কাউকে হিংসা করবে না৷ হিংসার পরিণাম নিয়ে একটা গল্প শোন৷
ভারন্ত নামে একটি অদ্ভুত ধরনের পাখি ছিল৷ তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ অন্যান্য পাখির মত৷ কিন্তু তার দুটি মুখ ছিল৷ দুটি মুখেই সে খাবার গ্রহণ করতে পারত৷ সে খাবার কিন্তু যেত একই পেটে৷ ফলও হত একই৷ যে কোন মুখে পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর পুষ্ট হত৷ আবার খারাপ কিছু খেলে খারাপ ফল হত৷ অসুখ করত৷
এই ভারন্ত পাখিটি নদীর ধারে বাস করত৷ নদীতে যে সব ফল ভেসে আসে তা খেয়েই ভারন্ত পাখিটি জীবন ধারণ করত৷ একদিন ভারন্ত পাখিটি দেখল সুন্দর একটি ফল ভেসে এসেছে৷ ফলটি ছিল অমৃত ফল৷ দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমনি সুস্বাদু৷ ভারন্ত পাখির খুব লোভ হল৷ একটি মুখ ফলটি খেতে শুরু করল৷ খেতে খেতে সে অন্য মুখকে বলল, জীবনে নদীতে ভেসে আসা অনেক ফলই খেয়েছি৷ কিন্তু এমন ফল কোন দিনই খাইনি৷ এই কথা শুনে দ্বিতীয় মুখ বলল, অমৃত ফল নাকি তা হলে আমাকে একটু দাও, খেয়ে তৃপ্ত হই৷
প্রথম মুখ হেসে বলল, তার দরকার কি আমাদের তো একটিই পেট৷ তুমিই খাও আর আমিই খাই সে তো এক পেটেই যাবে৷ একই খাবার ভিন্ন মুখে গ্রহণ করার কি দরকার৷ তার চেয়ে বরং এর কিছুটা স্ত্রীকে দেওয়া যাক৷ এই বলে প্রথম মুখ ফলটির কিছুটা অংশ স্ত্রীকে দিল৷ স্ত্রীও ফলটি খেয়ে খুব প্রশংসা করতে লাগল৷
ফল না খেতে পেয়ে দ্বিতীয় মুখ দারুণ রেগে গেল৷ প্রথম মুখের এ আচরণ সে ভুলতে পারল না৷ তার হিংসা হল৷ ঠিক করল, প্রথম মুখকে সে জব্দ করবেই৷ সে সুযোগ খুঁজতে লাগল৷
কিছুদিন পর দ্বিতীয় মুখ নদীর ধারে একটি বিষফল পেল৷ প্রথম মুখকে সে ডেকে বলল, ওরে নিষ্ঠুর, তুইতো সেদিন অমৃত ফলের অংশ আমাকে দিসনি৷ আমিও আজ যে বিষফল পেয়েছি এটি খেয়ে অপমানের প্রতিশোধ নে৷
বিষফলের কথা শুনে প্রথম মুখ আঁতকে উঠল৷ সে দ্বিতীয় মুখকে বলল, ‘‘একাজ করিস নে৷ এ ফল খেলে আমরা দুজনেই মরে যাব৷’’
দ্বিতীয় মুখ কোন কথা শুনতে রাজি নয়৷ অপমানের প্রতিশোধ সে নেবেই৷ বিষফলটি সে খেয়ে ফেলল৷ তারপর বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুজনেই মরে গেল৷
- Log in to post comments