Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

ৰামুনদিদির বিপত্তি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আমার ছোটবেলায় শ্যামবাজারে আমার মামার বাড়িতে এক রাঁধুনী ছিলেন৷ রান্নায় তাঁর হাত ছিল ৰেশ পাকা–যেন একেবারে সৈরিন্ধ্রী৷ আমরা তাঁকে ৰামুনদিদি বলে ডাকতুম৷ নুন–ঝাল–মশলার হিসেব ছিল তাঁর চমৎকার৷ একবার বাড়িতে কিছু লোককে নেমন্তন্ন করা হয়েছিল৷ খাবার পর অতিথিরা মুক্তকণ্ঠে ৰামুন–দিদির প্রশংসা করতে লাগলেন৷ সবাই বললেন–যা রেঁধেছ ৰামুন–দিদি, অমৃত, অমৃত! ত্রিভুবনে এর তুলনা মেলা ভার!

নিজের প্রশংসা শুনে আহ্লাদে আটখানা হয়ে ৰামুনদিদি উচ্ছ্বসিত ভাষায় বলে উঠলেন– আমি বালো পাক করুম না তো করৰো ক্যাডা খানিক বাদে নিমন্ত্রিতরা চলে গেলেন৷ অতিথিরা চলে যাবার পরে আমার ফুল মাসিমা ৰামুনদিদিকে ডেকে বললেন–ৰামুনদিদি, নিজের মুখে নিজের প্রশংসা করতে নেই৷

ৰামুনদিদি জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকিয়ে রইলেন৷ বললেন–তবে কী ক রুম 

ফুল মাসিমা–যখন কেউ তোমার প্রশংসা করবে তখন প্রথমতঃ মুখ আর চোখ নীচের দিকে করে দাঁড়িয়ে থাকবে দ্বিতীয়তঃ মিটিমিটি হাসবে তৃতীয়তঃ হাত কচলাতে থাকবে চতুর্থতঃ উৎকর্ণ হয়ে অর্থাৎ কান খাড়া করে নিজের প্রশংসা শুনতে থাকবে ও আনন্দ পেতে থাকবে৷ ৰুঝেছ

ৰামুনদিদি–হ, ৰুস্সি৷ তার কিছুদিন পরেকার কথা৷ আবার কিছু লোককে নেমন্তন্ন করা হয়েছে৷ অতিথিরা খেয়ে একেবারে ভাবতন্ময় হয়ে গেছেন৷ তাঁরা ৰামুনদিদিকে ঘিরে প্রশংসা করে চলেছেন আর বলছেন–কী বলব ৰামুনদিদি, যা রেঁধেছ অমৃত........ অমৃত! স্বর্গের ইন্দ্রলোকের বাবুর্চি –খানসামারাও এমন রাঁধতে পারে না৷ সত্যি কথা বলতে কী, ৰামুনদিদি যা খেলুম তা মুখে লেগে রইল৷ আর প্রত্যাশায় রইলুম কবে আবার ডাক পড়বে৷

ৰামুনদিদির আগেকার দিনের কথা মনে ছিল৷ তিনি বসেছিলেন৷ হঠাৎ তড়াং করে উঠে দাঁড়ালেন৷ মুখ আর চোখ নীচের দিকে করলেন..........হাত দু’টি কচলাতে লাগলেন.....মিটিমিটি হাসতে লাগলেন.........কান খাড়া করে নিজের প্রশংসা শুনতে লাগলেন আর আনন্দপেতে থাকলেন৷ কিন্তু ৰামুনদিদি এদিনও শেষ রক্ষা করতে পারলেন না৷ সব কিছু ঠিকভাবে করার পরে ৰামুনদিদি পরিশিষ্ট হিসেবে কিছুটা অতিজল্পন (বিতর্ক) যোগ করে বিনয়ের পরাকাষ্ঠা দেখাতে গিয়ে বললেন–কী আর পাক করসি, কী আর পাক করসি, এ্যাই মশলা দিয়া কানিকডা পসা গোবর পাক করসি৷ 

নিমন্ত্রিতরা একসঙ্গে ঃ থু.......থু...........থু............!

 

নববর্ষ

কৌশিক খাটুয়া

নববর্ষের দৃপ্ত অরুণোদয়ে---

নব উদ্যমে মঙ্গল কাজ 

 মানবিক পরিচয়ে৷

ধূয়ে মুছে দিক সংকীর্ণতা

 মলিনতা সংশয়৷

জন-হিতার্থে বাধা পার করে 

 লক্ষ্য পূরণে জয়!

ক্ষুদ্র স্বার্থ বিদ্বেষ ভুলে 

 হোক চেতনার উন্মেষ,

তাতেই নিহিত বিশ্ব শান্তি 

 দূরীভূত হয় ক্লেশ৷

নোতুন প্রভাতে সমবেত সুর,

 ঐক্যের জয়গান

পাখির কুজনে নদী কলতানে 

 শুনি তার আহ্বান!

পারস্পরিক অভিনন্দন

 শুভেচ্ছা বিনিময়,

ভ্রাতৃপ্রীতির নিবিড় বন্ধন

 মানবতার পরিচয়৷

অসহায় যারা পায় যেন তারা 

 নূন্যতম প্রয়োজন,

প্রসারিত হোক সকল হৃদয় 

 মহৎ উদার মন!

জগতে যত সৃষ্টি রয়েছে

 মানবধর্ম---সেবা কাজ,

তাতেই নিহিত শিবের সেবা 

 তুষ্ট মুগ্দ নটরাজ!

 

  • Log in to post comments

ওই ওরা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

চারিদিকে মানুষের দুর্দশা-দুঃখ

নেই আশা, নেই সুখ জীবনটা রুক্ষ৷

ওই ওরা জাগ্রত তন্ত্রের মন্ত্রে---

দমবে না দানবের শত ষড়যন্ত্রে৷

নিরাপদ অন্দরে, হতাশার ক্রন্দনে

মানবে না থাকবে না 

কোন বাধা-বন্ধনে৷

শত ঝড় দুর্র্যেগে মুখ-ভরা হাস্য,

যেথা যত দুর্নীতি প্রতিবাদী ভাষ্য৷

পদে পদে সংঘাতে 

সাথে আছে সংঘ,

মৃত্যুর নাহি ভয়, রণে নয় ভঙ্গ৷

পাপীদের উৎখাতে সংগ্রামে মত্ত-

সমস্যা সমাধানে আছে মহাতত্ত্ব৷

ঐক্যের সংগীতে জাগ্রত চিত্ত,

টুটবে না, কিছুতেই গুরু-ভ্রাতৃত্ব৷

আদর্শ রূপায়ণে আজ ওরা তৈরী,

রাখবে না মানবতা-বিরোধী বৈরী৷

পাল্টাবে ওরা 

এই ঘুণে ধরা দিনকাল,

তাতে যদি হয় হবে 

শ্মশানের কঙ্কাল৷

ধর্মে শান্ত ওরা, অধর্মে রুদ্র,

প্রয়োজনে ঢেলে দেবে রক্ত সমুদ্র৷

 

  • Log in to post comments

নববর্ষের আশিস

আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত

নববর্ষের শুভ প্রভাতে 

প্রীতিভরা অভিনন্দন

জানাই সকলকেই এ জগতে,

আনন্দে কাটুক সবার মন৷ 

হৃদয়ে আজ হোক

চেতনার উন্মেষ, 

দূর হোক জড়ীভূত

 দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষ৷ 

আমরা রয়েছি মিলে 

এক প্রাণ এক মন,

সবাই সবার পাশে

 সবাকার আপনজন৷

কেহ নয় পর, দু দিনের খেলা, এই ভুবনের লীলা, 

নিঃস্ব হাতে আবির্ভূত

নিঃস্ব হাতেই ফিরিবার পালা.. 

মিছে হানাহানি কেনই বা এত, দুঃখ কিসের তরে? 

বিধাতার দান সবার জন্য 

ক্ষণিকের এ সংসারে৷

আকাশ বাতাস সূর‌্য চন্দ্র 

ঢেলে দেয় সবে আলো, 

উদ্ভিদ,পশু,পাখি মোদের আত্মীয়, 

বাস সবারেই ভাল৷

এই ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলতে, 

নাহি বাধা কোন আর, 

গড়িব নূতন বিশ্ব আমরা 

পরমপুরুষের এ সংসার৷

নববর্ষের পূণ্য লগ্ণে 

এই আমাদের শপথ,

মঙ্গলময় কর্মে রত

ছুটিবে বিজয় রথ৷

 

  • Log in to post comments

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা—২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা
Wed, 20-05-2026

প্রভাতসঙ্গীতের ৪৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা—২০২৬

সময়ঃ প্রাচূড়ান্ত (Pre-final) ও চূড়ান্ত (Final) প্রতিযোগিতা ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্থানঃ ‘রাওয়া’/আনন্দমার্গ আশ্রম, ভি.আই.পি. নগর, তিলজলা, কলকাতা-১০০


(১) প্রতিযোগিতা ত্রিস্তরীয়— প্রারম্ভিক, প্রাকচূড়ান্ত ও চূড়ান্ত (Final)। প্রারম্ভিক প্রতিযোগিতায় যাঁরা ৬০ বা তার ঊর্ধ্বে নম্বর পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় হবেন তাঁরা পুরস্কৃত হবেন, অভিজ্ঞান পত্র পাবেন ও প্রাচূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তৃতীয় স্থানাধিকারী শুধু পুরস্কৃত হবেন ও অভিজ্ঞানপত্র পাবেন।
(২) প্রারম্ভিক প্রতিযোগিতায় সমবেত সঙ্গীত ও সমবেত নৃত্যে যে সংস্থা শতকরা ৬০ বা তার বেশী নম্বর পেয়ে প্রথম হবে সেই সংস্থা সরাসরি চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ৬০ বা তার বেশী পেয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার ও অভিজ্ঞানপত্র দেওয়া হবে।
(৩) প্রাক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা তিনটি বিভাজনে অনুষ্ঠিত হবে : কলিকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, হুগলী, বর্ধমান ও বীরভূম জেলার প্রারম্ভিক প্রতিযোগী X বিভাজনের অন্তর্ভুক্ত। উত্তরবঙ্গ, উত্তরপূর্ব প্রদেশ সমূহ ও বাঙলাদেশের প্রতিযোগী Y বিভাজন, অন্যান্য প্রারম্ভিক কেন্দ্রের প্রতিযোগী Z বিভাজনের অন্তর্ভুক্ত। এই বিভাজনগুলি থেকে প্রাক-চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় যাঁরা ৬০ বা তার বেশী নম্বর পেয়ে প্রথম তিনের মধ্যে থাকবেন তাঁরা (অর্থাৎ তিন বিভাজনের মোট ১-জন) চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করবেন, ও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ৬০ শতাংশ বা তার বেশী নম্বর পেলে ‘নবরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হবেন। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় যিনি ১ম হবেন তাঁকে ‘রাওয়া রত্ন’ ও ২য়, ৩য় প্রতিযোগীকে ‘ত্রিরত্ন' উপাধিতে ভূষিত করা হবে ও পুরস্কৃত করা হবে। অঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রাকচূড়ান্ত ও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা একই সঙ্গে হবে, বিভাজন অনুযায়ী নবরত্নও ঘোষিত হবে।
(৪) কোন প্রতিযোগী একাধিক প্রারম্ভিক কেন্দ্রে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
(৫) প্রারম্ভিক স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রবেশ মূল্য প্রতি বিভাগে........টাকা, সমবেত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে....... টাকা । প্রাক্-চূড়ান্ত স্তরের প্রবেশ মূল্য ৪০০ টাকা, সমবেত সঙ্গীত ও সমবেত নৃত্যের প্রবেশ মূল্য ১০০০ টাকা। সমবেত প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী ন্যূনতম ৫ জন ও ঊর্ধ্বে ৭ জন হতে পারবেন ।
(৬) প্রারম্ভিক কেন্দ্রের প্রতিযোগিতার ৭দিন আগে প্রতিযোগীদের প্রবেশমূল্য ও জন্ম তারিখের অভিজ্ঞানপত্রের ফটোকপি ও ফোন নম্বর সহ আবেদন পত্র প্রারম্ভিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। সর্বস্তরের প্রতিযোগিতার সময় জন্ম তারিখের অভিজ্ঞানপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
(৭) প্রতি স্তরের প্রতিযোগিতায় বিচারকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
(বিঃ দ্রঃ শুধুমাত্র গানে যারা রাওয়া রত্ন হবেন অর্থাৎ প্রথম হবেন ও অডিশন টেস্টে উত্তীর্ণ হবেন তারা প্রভাতসঙ্গীত রেকর্ডিং-এ কন্ঠ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।)

 

প্রতিযোগীদের প্রতি নির্দেশ

মূল্যায়নের বিষয়াবলী

প্রভাতসঙ্গীত প্রতিযোগিতা (কণ্ঠ)

১) বাণী / উচ্চারণঃ (ক) গানের বাণী বহির্ভূত শব্দের ব্যবহার করলে ত্রুটির সংখ্যার অনুপাতে নম্বর বাদ যাবে। (খ) বাণী দেখে গাইলে ১০ নম্বর বাদ যাবে।
২) সুর / স্বরমাধুর্য্যঃ (ক) যে সুরে গানটি গাওয়া হয়েছে ও কলিগুলির পুনরাবৃত্তি যেভাবে করা হয়েছে সেই ভাবে গাইতে হবে। (খ) প্রিলিউড ও ইন্টারলিউড মিউজিক অডিও অনুযায়ী না করে কেবল স্থায়ী সুরটি বাজাতে হবে নতুবা নম্বর বাদ যাবে।
৩) তাল, লয়, ছন্দঃ (ক) অডিওতে গীত নির্দিষ্ট তাল, লয় ও ছন্দে গাইতে হবে (খ) তাল, লয় ও ছন্দের বিচ্যুতি অনুযায়ী নম্বর বাদ
যাবে। 
৪) ভাবঃ ভাবের গভীরতা অনুযায়ী গানের ভাবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্দিষ্ট ভাবের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
৫) সামগ্রিক মূল্যায়নঃ (ক) মাঝপথে বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় শেষ করলে প্রতিযোগিতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। (খ) গান অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অনাবশ্যক ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করলে নম্বর বাদ যাবে ।
একক ও সমবেত গানঃ (ক) প্রতিযোগিতায় শুধু হারমোনিয়াম/তানপুরা ও তবলার ব্যবহার করতে হবে। (খ) সমবেত প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীর সংখ্যা ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে হবে। (গ) মাইক্রোফোনের ব্যবহার আবশ্যিক নয়। এটি প্রতিযোগীর সংখ্যা ও বিচারক বৃন্দের শ্রবণসাধ্যতার ওপর নির্ভর করে।

নৃত্য প্রতিযোগিতা

১) শুরু ও শেষঃ নৃত্যের শুরু ও শেষ করার মধ্যে মুন্সীয়ানা অনুযায়ী নম্বর পাবেন ।
২) তালঃ নৃত্যে তাল কেটে গেলে সেই বিচ্যুতি অনুযায়ী নম্বর বাদ যাবে।
৩) পোষাকঃ গানের ভাব অনুযায়ী রুচি সম্মত ও শিষ্টাচার সম্মত পোষাক হতে হবে।
৪) মুদ্রা ও অভিনয়ঃ প্রভাত সঙ্গীত ভাব প্রধান তাই অভিনয়ের মাধ্যমে ভাবটাকে ফোটাতে হবে। ভাব অনুযায়ী মুদ্রার শৈলী প্রদর্শন করতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক জিনিসপত্রের ব্যবহার (যেমন তালা,প্রদীপ, ফুল প্রতিকৃতি ইত্যাদি) বাঞ্ছনীয় নয়।
৫) কোরিওগ্রাফঃ কত্থক, ভরতনাট্যম, ওড়িশী প্রভৃতি বিশেষ নৃত্যশৈলীকে গুরুত্ব না দিয়ে নৃত্যের মাধ্যমে বা কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে কতটা ভাব ফুটেছে তাই বিচার্য।
সমবেত নৃত্য : সমবেত নৃত্যে প্রতিযোগীর সংখ্যা ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে হতে হবে।

অঙ্কন প্রতিযোগিতা

১) বিষয়বস্তুঃ গানের বিষয় ও ভাবকে কতটা অঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারছে তা দেখতে হবে। বিষয়বস্তু ঠিক না হলে
দক্ষতা কোনও মূল্য বহন করবে না।
২) অঙ্কন দক্ষতাঃ ভাবকে ফোটাতে রঙের কাজ, তুলির টান, প্রভৃতিতে কতখানি দক্ষতা ও শিল্পসৌন্দর্যের প্রদর্শন করতে পারছে
তা দেখতে হবে। রঙের বিভিন্ন মাধ্যমের মিশ্রণ চলবে না। করলে অযোগ্য বলে ধরা হবে।

প্রাকচূড়ান্ত ও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার তথ্য 

(১) ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্যে কতজন প্রতিযোগী ও কতজন সঙ্গী আসছেন তা ১৩ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই স্থানীয় সংগঠককে ও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা কেন্দ্রে এই নম্বরের মাধ্যমে 8617034199- Whatsapp করে জানাতে হবে।
(২) হাওড়া থেকে CTC –র বারুইপুর, কামালগাজী অথবা পাটুলী গামী বাস, CSTC 24 নম্বর বাস, দেজ মেডিক্যাল মিনি বাস, শিয়ালদহ থেকে 39A, C-12 বাস ধরে ভি. আই. পি. বাজার ষ্টপেজে নাবতে হবে।
(৩) প্রারম্ভিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া সার্টিফিকেটের ফটো কপি অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে ও তা Registration Counter- এ দেখিয়ে একক প্রতিযোগিতার জন্যে ৪০০ টাকা ও সমবেত প্রতিযোগিতার জন্যে ১০০০ টাকা জমা দিয়ে Qualified candidate's Identity Card সংগ্রহ করতে হবে।
(৪) প্রতিযোগিতার দিন Registration Counter সকাল ৮টা থেকে ৯-৩০ পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রতিযোগিতার আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত Registration Counter খোলা থাকবে।
(৫) প্রতিযোগিতার আগের রাতে আহারের, ও প্রতিযোগিতার দিন প্রাতঃরাশের ও দুপুরের আহারের ব্যবস্থা থাকবে। রাত ৯-টার মধ্যে ও দুপুর ২-টোর মধ্যে আহার করতে হবে। প্রতিযোগিতার দিন সকাল ১০-টার পর প্রাতঃরাশ সরবরাহ করা হবে না। ব্যষ্টিগত প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী ও আর একজন বিনামূল্যে আহারের কূপন পাবেন। ব্যষ্টিগত প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী একাধিক বিষয়ে অংশগ্রহণ করলেও কূপন পাবেন একটি + অতিরিক্ত একটি। অর্থাৎ কূপন বিষয় ভিত্তিক নয়— প্রতিযোগী ভিত্তিক। সমবেত প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরা ও সংস্থার একজন বিনামূল্যে কূপন পাবেন। অতিরিক্তদের জন্যে টাকা দিয়ে আহারের কূপন সংগ্রহ করতে হবে।
(৬) ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯-৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
(৭) প্রতিযোগিতা চলাকালীন নাম ডাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণ না করলে আর সুযোগ থাকবে না।
(৮) যাঁদের একাধিক বিষয়ে নাম আছে তাঁদের রেজিষ্ট্রেশনের সময় জানাতে হবে কোন প্রতিযোগিতায় তিনি আগে অংশগ্রহণ করবেন।
(৯) অঙ্কন প্রতিযোগিতায় সকাল ৮-টায় অথবা ১০-টায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যাদের অঙ্কন ছাড়াও অন্য প্রতিযোগিতা আছে তাদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হবে সকাল ৮টায়। অঙ্কনের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় হ্যাণ্ড মেড্‌ ড্রইং শিট সরবরাহ করা হবে।
(১০) যাঁদের সমবেত প্রতিযোগিতা ছাড়াও একক প্রতিযোগিতা থাকবে তাঁদের সমবেত প্রতিযোগিতায় আগে অংশগ্রহণ করতে হবে।
(১১) Reception / Enquiry বিভাগ সর্বদা আপনাদের সহযোগিতার জন্যে প্রস্তুত। মো : 8240136991/8617034199

 

প্রতিযোগিতার বিষয় 

ক বিভাগ : জন্ম তারিখ : ১-১-২০১৬ বা তার
প্রভাতসঙ্গীতঃ 

কোন্ তিমিরের পার হতে ফুটে উঠেছো মোর জীবনের ধ্রুবতারা!
কোন্ অমরার লোক হতে বয়ে এনেছো বসুধার সুধাধারা।।
এসো প্রভু প্রাণের ধূপে, এসো প্রভু মনের দীপে,
এসো প্রভু হৃদয়ের নীপে, সুরভিত করো এই ধরা।।
এসো প্রভু প্রাণের তানে, এসো প্রভু মনের গানে,
এসো প্রভু হৃদয়ের ছন্দে, জাগাও ঘুমায়ে আছে যারা ।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৩১) 

স্বরলিপি ও গানের ফাইল 

প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যঃ 

মায়ামুকুরে কে কী ভাবে কী করে সবই জানো ওগো দেবতা ।
প্রাণের স্পন্দন যুগবিবৰ্ত্তন সবই শোণো গোপন কথা ৷ ৷
তোমারে লুকায়ে কী করিতে পারি, তোমারে ভুলায়ে কী ভাবিতে পারি।
সকল বিকাশ মাঝে তুমি আছো সব কাজে নীরব মধুরতা ।।
—প্রভাত সঙ্গীত (১০)

গানের ফাইল

প্রভাতসঙ্গীতাংশ অবলম্বনে অঙ্কনঃ 

অরুণ এসেছে, রঙ ভেসেছে, ফুল হেসেছে গুলবাগিচায় । -- প্রঃসঃ(৪৭৭৮)

খ বিভাগ : জন্ম তারিখ : ১-১-২০১১ থেকে ৩১-১২-২০১৫
প্রভাতসঙ্গীতঃ 

গীতিবিতানে বিশ্বপ্রাণে সম্বিৎ ঢেলে' দিয়েছ।
কে আপন-পর কে বাহির-ঘর সবারে নিকটে টেনেছ।।
আজ প্রভাতে দেখি চেয়ে আমি শুধু তোমায় নিয়ে। 
তোমার নামে তোমার গানে মোর পরিচয় লিখেছ।।
আমিও পিছে থাকব নাকো, আমার কিছুই ভাবব নাকো। 
যা ছিল আছে যা গেল গেছে, কেন না নিয়ে নিয়েছ।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৪০৫৮)

স্বরলিপি ও গানের ফাইল 

প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যঃ 

তুমি কাছে এসে’ কাণে কয়েছিলে আসব জেনো সেই মধুমাসে,
মধুমাসে গো মধুমাসে, রঙীন মধুমাসে কিশলয়ের মাসে।।
হয়তো বাতায়নে বসে' পথের পাশে থাকবে তুমি আমারই আশে।
আসবে ফাগুনে আবার অলির গুণ্‌গুণ্‌
গাইবে পিক-কেকায় রাগে নোতুন
এক সে রূপকার যে লীলায় নিপুণ ভাসাবে ভালবাসাবে রাসে।।
সেদিন অনেক দূরে গেল চলে রবী-শশী তারা গেছে ভুলে। 
সে সুর আজও মর্ম দেউলে স্পন্দিত করে মোর চিদাকাশে।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৪৬০৩)

গানের ফাইল

প্রভাতসঙ্গীতাংশ অবলম্বনে অঙ্কনঃ 

বুলবুলি নাচে গুলবাগিচাতে পাপিয়া গান গায় ৷ -- প্রঃসঃ (১৫৪৬)

 

গ  বিভাগ : জন্ম তারিখ : ১-১-২০০৬ থেকে ৩১-১২-২০১০
প্রভাতসঙ্গীতঃ 

এক ফালি চাঁদ শুধু আকাশে, তাতেই ধরা আলোতে ভাসে ৷
পূর্ণ চন্দ্র তুমি পূর্ণ রূপে এসো, জ্যোৎস্নায় ভরো মোর চিদাকাশে ।।
অখণ্ড চেতনায় তুমি জ্যোতিসিন্ধু,
তোমাতে উদ্ভাসিত আছে যত বিন্দু ।
তোমাকে ভোলা যায় না, মেঘ যায় আর আসে।।
জেনে' বা না জেনে' সবাই তোমারে চায়,
প্রীতিডোরে তোমারে সবাই কাছে পায় ।
তুমি আছ তাই আছি তব সুধারসে।।
—প্রভাত সঙ্গীত (২০৩৬)

স্বরলিপি ও গানের ফাইল 

প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যঃ 

বেণু বাজিয়ে চলো শ্যাম ।
বেণুর রেশে ভালৰেসে’ তোমায় আমি ভাবি অবিরাম ৷
নাচো মনোবৃন্দাবনে গোষ্ঠে গোষ্ঠে ধেনুর সনে।
রাখাল বেশে সঙ্গোপনে গোপী জানায় আভূমি প্ৰণাম ৷৷
ব্রজভূমি অন্তরেতে সেই তো গোলোক ৰোধিচিতে।
ভাসছ অণু চিত্তাণুতে লীলা ভরে' হে অভিরাম।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৪৯৭৬)

গানের ফাইল

প্রভাতসঙ্গীতাংশ অবলম্বনে অঙ্কনঃ 

আঁধার সাগর তীরে বসে বসে ভাবছি তুমি আসো যদি।
আলোর নৌকো নিজ হাতে বেয়ে পার হয়ে ওই মহোদধি।। -- প্ৰঃসঃ (৮৩৯)

 

ঘ বিভাগ : জন্ম তারিখ : ১-১-২০০৬-র আগে
প্রভাতসঙ্গীতঃ 

ছেয়ে নভঃঘন নীল গগনে তুমি এলে আজি।
মেখে কেতকী-পরাগ, পরাণে শিখি উঠিল নাচি' ।।
সৌরভে যূথিকার বাতাস ভরিয়া গেছে,
বনবীথিকার মৃগ আকাশে চাহিয়া আছে ।
ভেবে' তাদের কথা মননে বীণা উঠিল ৰাজি ৷ ৷
কদম্বকেশরে পুলক ছড়িয়ে গেছে, বিন্দু বিন্দু উদক্‌, তাতে আঁকা আছে ।
দেখে নীপের শোভা নয়নে, ধরা উঠিল সাজি ।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৩২২৮)

স্বরলিপি ও গানের ফাইল 

অথবা 

আঁখিয়াঁ তুম্‌হীকো চাহ্‌তী হ্যাঁয়, পানেকো প্যাসী হ্যাঁয়।
বৃন্দাবন কে বন বন মেঁ, ব্রজবাসী কে মন মন মে।
যুমনা কে কালে নীর মেঁ, এক মোহন হী রমতা হ্যায়।।
ধেনু চলে তুম্‌হারী খোজ মেঁ, বেণু বোলে তুম্‌হারী আমে।
কোয়েল রোয়ে খোনে কী লাজমে বিনা চাঁদ অন্ধেরা হ্যায়।।
--প্রভাত সঙ্গীত (৪৭৩৩) 

গানের ফাইল

প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যঃ 

দূরবাসী বঁধু ঘুম ভাঙ্গায়ো কাছে আসি'।
যদি গো কুহেলীমায়ায় অকূলেতে ভাসি ।।
দিন গেল বৃথা খেলায়, সন্ধ্যা আসে বুঝি অসময় ।
প্রতি পলে হয় বৃথা আয়ুক্ষয়, ইশারায় কয় কালনিশি।।
শুণি আছো ওতঃপ্রোতে দুঃখে সুখে ভাবের স্রোতে।
অনাদি হতে অনন্তে, এই ভরসায় কাঁদি হাসি ।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৪৪৬৪)

গানের ফাইল

প্রভাতসঙ্গীতাংশ অবলম্বনে অঙ্কন

ব্রজের কানু বাজিয়ে বেণু আজকে তুমি কেন এলে। -- প্ৰঃসঃ (৩২৯৮)

সমবেতঃ  যে কোন প্রতিষ্ঠানের পাঁচ থেকে সাত জন
প্রভাতসঙ্গীতঃ

আলোর সাগর পেরিয়ে দেখি, আরো কাছে আলো,
দেখি আলোর পরেও আলো ।
মন্দ সে দেশে নয় কেহই, ভালোর পাশে ভালো ।।
তরুলতা ফুলে ফলে মলয় বাতে দোদুল দোলে।
মিষ্টি মানুষ মিষ্টি বলে শুধায় কী চায় বলো ।।
নেইকো সেথায় জলবিদূষণ, হয়নি হাওয়া বিষে ভীষণ।
কলের ধোঁয়ায় গাছপালারা হয়নি সেথায় কালো ৷৷
মানব মনের নেইকো কলুষ, গ্লানিতে নয় নত পুরুষ।
নারীর কথাও ভাবে সমাজ, ৰলে সামনে চলো।।
—প্রভাত সঙ্গীত (৩৯৯৩)

স্বরলিপি ও গানের ফাইল 

প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যঃ 

মানুষ, মানুষ, হারায়ে হুঁশ কোথায় চলেছ তুমি ।
আকাশ বাতাস বিষিয়ে দিয়ে নরক করে' মর্ত্ত্যভূমি।।
বলে' থাক তুমি সেরা, পশুপাখী-উদ্ভিদেরা
তোমার চেয়ে ছোট, তুমি চল অভ্র চুমি'।
দেখছ না কালের ছায়া আসে গতি উৎক্রমি’
তোমার সকল দ্রুতি দমি’।।
বিধির বলে শ্রেষ্ঠ দেহী, বুদ্ধিবলে আকাশ বাহি
ছুটে চল তারায় তারায় বাধাতে না থামি’।। 
—প্রভাত সঙ্গীত (১১৯০)

গানের ফাইল

 

 

গাজনে মড়া খেলা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

‘গাজন’ শব্দের উৎপত্তি প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তি বলেছেন---‘সারা বছর ধরে নানান জনের সঙ্গে নানান্‌ কথাই তো বলছি---জাগতিক কাজ করছি, ধান-চালের কথা বলছি পটোলের দর, বেগুনের দর নিয়ে চর্চা করছি৷ অন্ততঃ একদিন প্রাণভরে চীৎকার করে শিবের নামে গর্জন করি, ‘শিব হে’ বলে মানুষকে আহ্বানকারী গর্জন প্রাকৃতে ‘গজ্জন’ বর্তমান বাংলায় ‘গাজন’৷

এককালে চৈত্রমাসের গাজন ছিল বাংলার একটি জনপ্রিয় উৎসব৷ গাজনের নায়ক হচ্ছেন শিব৷ ভূত প্রেত নিয়ে শিব শ্মশানে থাকেন৷ তাই তাঁর উৎসবে একটু ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার থাকবে---এ আর আশ্চর্য কি৷ এমনি ধারণা লোকের৷

এখন গাজন উৎসব অনেক পরিচ্ছন্ন হয়েছে৷ সেকালের মতো গাজনে মড়া খেলার অনুষ্ঠান আর হয় না৷ গাজনের সন্ন্যাসীরা আচার-আচরণের দিক দিয়ে নানা শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল৷ কেউ পিশাচের বেশে মৃত নরদেহ নিয়ে নৃত্য করতো৷ এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হতো মড়া খেলা৷ কেউ বা আবার ডাকিনী সাজতো৷ পরণে লাল কাপড়, গলায় ফুলের মালা, গায়ে রূপোর গয়না, মাথায় লম্বা লম্বা চুল, মুখে আবিরের প্রলেপ আর হাতে বেত নিয়ে বিকট চিৎকার করে নেচে নেচে বেড়াতো৷ অনেকে আবার আবীরের বদলে মুখোশ পরে নাচতো৷

মড়া খেলা হতো উৎসবের দিন শেষ রাতে৷ অবিরাম ঢাকের আওয়াজ, ধূপের ধোঁয়া আর ভক্তদের ভৌতিক গর্জনে গা ছমছমানি ভাব৷ হঠাৎ আস্ত মড়া কাঁধে নিয়ে ভক্তরা নাচতে শুরু করতো৷ অনেকে গলিত শব নিয়েও নাচতো৷ যে যত বেশী শব সংগ্রহ করতে পারতো তার তত কৃতিত্ব৷ অন্যথায় মড়ার মাথা নিয়েই নাচ শুরু করতো৷ বর্দ্ধমানের কুড়মুনের গাজনেও সন্ন্যাসীরা নরমুণ্ড নিয়ে নাচতো৷ না শেষ হলে ভক্তরা শবের গায়ে আবির মাখাতো, শবকে আদর করতো৷ তারপর ঢাক বেজে উঠলেই ভক্তরা শবের চারদিক ঘিরে নেচে নেচে মন্ত্র পড়ত আর গান করতো---

শ্মশানে গিয়েছিলাম মশানে গিয়েছিলাম

সঙ্গে গিয়েছিল কে?

কার্ত্তিক গণেশ দুই ভাই

সঙ্গে সেজেছে৷৷

১২৮৮ সনে স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য সরকারী আদেশে শব আর নরমুণ্ডসহ নাচ বন্ধ হয়ে যায়৷ ইদানিং নরমুণ্ডের বদলে নারকেল নিয়ে নাচ হতে দেখা যায়৷

বাংলার গাজনে এই মড়া খেলার সূচনা কিভাবে হল? তিববতে লামাদের মধ্যে এধরণের মড়াখেলার প্রচলন আছে৷ ওয়াডেল সাহেবের বিবরণ অনুযায়ী তিববত, নেপাল ও ভুটান প্রভৃতি অঞ্চল থেকে এই মড়া খেলা অনুষ্ঠানের প্রেরণা আসতে পারে৷ আবার অনেক পণ্ডিতের মতে না, এই অনুষ্ঠান তিববত থেকে আমদানি হয়নি৷ তাঁদের মতে, ইন্দো-মঙ্গোল সংস্কৃতির মিশ্রণ বাংলার সংস্কৃতির ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে৷ এরকম কোন মিশ্রণের ফল হতে পারে এই ‘মড়া খেলা’ অনুষ্ঠান৷ আবার এমনও ভান হয়, বাঙলার একেবারে নিজস্ব সাংস্কৃতিক জমিতেই এই ‘মড়া খেলা’ অনুষ্ঠানের জন্ম৷

 

  • Log in to post comments

সুকুমার রায়ের কবিতা

(১)

প্রভু চিরকাল ধরে বিশ্বচরাচরে

লুকিয়ে আছ অনন্তে নিরাধারে

রূপাতীত তুমি গো দাও না ধরা

ঘুরিছে তোমার সন্তান সারা৷

 

এসেছিলে ধরায় প্রাণের টানে

মোহনভাবে মধুময় ছন্দে গানে

সত্য সনাতন কীরূপে ধরা দিয়ে

চলে গেলে সবার হাসায়ে কাঁদায়ে৷

(২)

তোমারি নামে গায় নাচে সবে

নোতুন প্রভাত নিয়ে এসেছ ভবে

সে কী আনন্দ গো তোমার পরশে

আঁধারের ব্যথা গেল যে ভেসে৷

 

দিয়েছ প্রেরণা সত্যের পথে

জাতি কূলভেদ করনি তাতে

দয়াল প্রীতিতে বেঁধেছ সবারে

চিরকাল এ মধুস্মৃতি রবে অন্তরে৷

 

  • Log in to post comments

সুপ্রভাত

কৌশিক খাটুয়া

বলতে পারো সূর্যিমামা

ভোরে কেন ওঠে, 

কুঁড়ি কেন সকালবেলা

ফুল হয়ে ফোটে?

ঝর্ণা কেন নৃত্য করে

একই ছন্দ ধারায়, 

নদী কেন কলতানে

সাগর মাঝে হারায়?

উর্মি কেন সাগর বুকে

নাচে উছল আনন্দে, 

ভ্রমর অলি কেন জুটে

কুসুমের গন্ধে?

পেখম তুলে নাচলে ময়ূর

বৃষ্টি আসে ঝরে, 

কোকিল জানায় উপস্থিতি

মিষ্টি কুহু সুরে৷

পাখিরা কেন এত স্বাধীন

যখন খুশি উড়ে, 

দখিনা পবন শিস দিয়ে বহে

পরমপিতার বরে!

 

  • Log in to post comments

নাচাতে নাচাতে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ঠাকুরের অর্থাৎ শ্বশুরের কন্যা এই অর্থে ঠক্করদুহিতা > ঠক্কুর জুহিআ > ঠাকুরঝিআ > ঠাকুরঝি৷ ননদকে বাংলায় ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করা হত ও আজও করা হয়ে থাকে৷ 

ননদের স্বামী নন্দাইকে (ননন্দাপতি>ননন্দাঅই>নন্দাই) সম্ৰোধন করা হত ‘ঠাকুর জামাই’ বলে৷ ঠাকুর জামাই মানে ঠাকুরের জামাই অর্থাৎ শ্বশুরের জামাই৷ রাঢ়ের কোনো কোনো অংশের পুরুষেরা পত্নীর ভগিনীকেও ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করে৷ ভাষাবৈজ্ঞানিক মতে এ ব্যবহার শুদ্ধ৷ 

‘ননন্দা’ মানে যে আনন্দিতা নয়৷ ভ্রাতৃজায়া ঘরে আসার সময় সব ননদের না হলেও কোনো কোনো ননদের মনে একটা বিক্ষোভ জন্মায়৷ সে ভাবে, অন্য বাড়ির মেয়ে এসে আমার বাপের বাড়িতে সর্বময়ী কর্ত্রী, একেবারে রাজরাণী হয়ে বসল আর আমি কি না পরের বাড়িতে গিয়ে দু’বেলা হেঁসেল ঠেলছি!

সেকালে ননদ ও ভাজ দু’য়েরই শিক্ষার স্তর খুব উন্নত ছিল না৷ তাই ছোটখাট ব্যাপারে একে অন্যকে ঠেস দিয়ে কথা শোনাত, একে অন্যকে সহ্য করতে পারত না৷ আজকাল কিন্তু চাকা ঘুরে গেছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজ দুই–ই শিক্ষিত৷ তাই দু’য়ের মধ্যে আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দারুণ ভাব৷ এ যেন একেবারে–

‘‘ভাবে গদগদ তেলাকুচো

কেঁদে মরে গেল কাল ছুঁচো৷’’

সেকালে কিন্তু সব ক্ষেত্রে না হোক, অনেক ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজে দিব্যি রেষারেষি চলত৷ সেই যে গল্প আছে না ঃ

ননদ–ভাজে ঘাটে গেছে চান করতে৷ এমন সময়ে কুমীর এসে ননদকে ধরে নিয়ে গেল৷ ভাজ কিন্তু কথাটি চেপে রাখল৷ মনে মনে তার খুব আনন্দ, কারণ ননদ তাকে জ্বালা দিত৷

         ‘‘ননদিনী রায়বাঘিনী, ননদিনী কুলের কাঁটা, 

         উঠতে বসতে দেয় গো খোঁটা৷৷’’

সে বাড়িতে এসে কাউকে কিচ্ছুটি বললে না, একবারও মুখটি খুললে না, কেননা মুখ খুললেই তো বিপদ৷ খাওয়া–দাওয়া শিকেয় উঠবে.......রাঁধা ভাতের হাঁড়ি ফেলে দিতে হবে.......শুক্তো–ঘণ্ট–ডাঁটা–চচ্চড়ি গোরু–ছাগলে খাবে৷ ভাজ তাই মুখে কুলুপ এঁটে রইল৷ তারপর পেট ভরে ৰেড়াল ডিঙ্গোতে পারে না এমন পরিমাণ ভাত খেয়ে, লাউডগা–পোস্তবাটা থেকে শুরু করে ঝালের ঝোল, অম্ৰল সব কিছু চেটেপুটে খেয়ে হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল৷ আর মনে মনে বললে, কী জ্বালা হয়েছে, এঁটো পাতা আবার আমাকেই তুলতে হবে!

         ‘‘ঢ়লাঢ়লা পুঁইয়ের পাতা মলুকচালের ভাত ৷

         খেয়ে দেয়ে রইনু বসে কে ফেলাবে পাত৷’’

বউ কোনোক্রমে গেল আঁচাতে৷

কুম্ভীরবর্গীয় সমস্ত জানোয়ারেরাই চলবার সময় একটু লাফাতে লাফাতে যায় (সে বিরাট আকারের কুমীর থেকে শুরু করে টিকটিকি পর্যন্ত সবাই এই রীতিতেই চলে) ও এই একই রীতিতে শিকার ধরে ৷ শিকার ধরে মুখে নিয়ে যাবার সময় তারা নিজেরা লাফাতে লাফাতে যায় বলে দেখে মনে হয় শিকারটাও ৰোধহয় নাচতে নাচতে যাচ্ছে৷ কুমীর যখন ননদকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তখন কুমীরটা নিশ্চয় ওই ভাবেই যাচ্ছিল৷ বউ দেখলে খ্যাঁটনের পালা তো চুকে গেছে৷ এখন ননদকে কুমীরে নিয়ে গেছে বললেও ক্ষতি নেই৷ হাঁড়ি যদি ফেলে দেওয়াও হয়, হাঁড়িতে এক কণা ভাতও অবশিষ্ট নেই৷ বউ সবই চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছে৷ তাই বউ (অর্থাৎ ভাজ) আঁচাতে আঁচাতে ঘাটের আর সবাইকে ডেকে বললে ঃ 

         ‘‘ভাল কথা মনে পড়ল আঁচাতে আঁচাতে৷

         ঠাকুরঝিকে নিয়ে গেল নাচাতে নাচাতে৷৷’’

সবাই বললে–তোমার ঠাকুরঝিকে কুমীরে নিয়ে গেছে এই খবরটা এতক্ষণ চেপে রেখেছিলে কেন ভাজ বললে– এতক্ষণ কথাটা মনে ছিল না৷ আঁচাতে আঁচাতে মনে পড়ল৷

 

সুস্বাগতম

জ্যোতিবিকাশ সিনহা

সময় এগিয়ে চলে নিজের নিয়মে 

দিন বেয়ে আসে কালো রাত্রি, 

রাত্রিশেষে জেগে ওঠে নোতুন প্রভাত

দিন দিন করে’ পেরোয় বছর

পিছনে জমে থাকে কত 

হাসি-কান্নার স্মৃতি৷ 

অদূরেই মর্মরিত নববর্ষের পদধবনি,

আজ যুগসন্ধিক্ষণে নব আশায় 

রোমাঞ্চিত সমগ্র ধরিত্রী৷

 

অতীতের গর্ভে জন্ম নেয় বর্তমান 

বর্তমানের বেদীমূলেই 

গড়ে ওঠে ভবিষ্যৎ,

শোষণ-জর্জরিত ভগ্ণস্তূপে দাঁড়িয়ে

এসো,ঊর্ধে তুলি বিপ্লবের মশাল---

নব্যমানবতার দীপ্ত আলোকে

ভাস্বর হোক সমাজ-

সভ্যতা-সংস্কৃতি সব

সত্য-ধর্ম-ন্যায়ের পথে

রক্তিম অরুণোদয়ে আসুক 

সুন্দর সকাল 

আর নোতুন জীবনের সবুজ স্বপ্ণ৷

47

একই বৃত্তায়ণে

কৌশিক খাটুয়া

চলে যায় যারা ফিরে আসে তারা 

     নাহি যায় চিরতরে,

ফেলে আসা সেই অপূর্ণতা পূরণে 

     নব আঙ্গিকে শুরু করে৷

নতুন দিনের নতুন কর্মসূচি 

 নতুন অঙ্গীকারে,

যারা আসে ফিরে ক’’ দিনের তরে 

 গৃহীত কর্মসূচী সারে৷

 

যুগ হতে যুগান্তরে 

 প্রত্যাবর্তন অবনি পরে

 নবরূপে আবির্ভূত,

বাহুতে শক্তি, হৃদয়ে ভক্তি

 কর্মে মুক্তি, সেবা তার ব্রত৷

 

 ফুল ঝরে যায় প্রভুর চরণে 

ফিরে আসে তারা স্বাগত বরণে,

 নদী বহমান সাগর-আহ্বানে,

ফিরে নির্ঝরিণী জলধারায়, 

 চক্রাকারে আবর্তিত৷

 

 তাপিত হৃদয়ে নয়ন ধারায় 

 প্রিয়জনকে জানায় বিদায়

বিয়োগান্তক সুর ক্রমে ম্লান হয়

 নিত্য ব্যস্ত কর্মধারায়,

যুগ যুগ ধরে মানব সমাজে 

আসা-যাওয়া মাঝে ব্যস্ততা কাজে 

 এই রীতিটাই প্রবর্তিত! 

 

তাঁহার লীলায় সবাই আসে যায় 

বিরাট আধারে সবে ঠাঁই পায়,

মিছে ভয় পাই, কিছু না হারায় 

যা’’ কিছু ঘটিছে তাঁর অভিপ্রায়৷

 

গমনাগমনের বৃত্তায়নে 

নিজ কর্মসূচি রূপায়ণে 

 বারংবার আসা যাওয়া,

কীর্তন-গানে ভজনে সাধনে

নিত্য চর্চা কঠোর অনুশীলনে 

 চরম লক্ষ্য পূরণে 

ফিরে আসা ফিরে পাওয়া৷

মিলে মিশে যায় 

 এক অভিন্ন সত্ত্বায় 

রয়েছে যে তাঁর মিলনের দায় 

 *পরমাত্মায়*!

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved