Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

আফিমের মৌতাত

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ধস’ ধাতুর অর্থ হচ্ছে হত্যা করা, আঘাত করা, জখম করা, ঝরিয়ে দেওয়া৷ যে বস্তুটি আঘাত করে জখম করে তাকে ‘খস’ (খস্‌ + অচ্‌) বলা হয়৷

 কেউ যদি অত্যধিক পরিমাণে মদ গেলে তাহলে তার যকৃৎ জখম হয়ে যায়৷ তেমনি কিছু কিছু এমন বস্তুও আছে যারা স্নায়ুকোষকে ঝিমিয়ে দেয় ও দীর্ঘকাল ধরে এই ঝিমুনির জের চলতে চলতে শেষে স্নায়ুকোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে৷ স্নায়ু (নার্ভ সেল) আর কাজ করে না....বিহ্বল দৃষ্টিতে তখন ফ্যালফ্যাল করে চাইতে থাকে৷ চিন্তার প্রাখর্য তো থাকেই না, চিন্তার সামর্থ্যও শেষ হয়ে যায়৷ এই ধরণের ঘটনাটি ঘটে দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে সিদ্ধি, গাঁজা, চণ্ডু, চরস ও আফিং খেলে৷ মর্ফিন (মর্ফিয়া) ঘটিত বস্তুতে এই জঘন্য গুণ রয়েছে৷ স্নায়ুকোষ যাতে রোগগ্রস্ত না হয় সেইজন্যে গাঁজাখোর, আফিংখোররা বেশী মাত্রায় দুগ্ধ পান করে থাকে৷ তাতেও ঠ্যালা সামলানো দায় হয়৷ শেষ পর্যন্ত মানুষ জড় হয়ে যায়৷ মদ্যপানে মানুষ জড় হয় না–অতিরিক্ত উত্তেজনা জাগে৷ 

     মদ্য একটি অতি উত্তেজক বস্তু৷ উত্তেজক হলেও কফি কোকো–চা অল্পমাত্রায় উত্তেজক৷ তাই তারা বড় রকমের ক্ষতি করতে পারে না৷ তবে স্নায়ুর সাময়িক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ওই বস্তুগুলি পান বা গ্রহণ করলে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়৷ আর আফিং, গাঁজা, চণ্ডু, চরস এরা ঘটায় উল্টোটা৷ উত্তেজনার বদলে আনে অবসন্নতা৷ এই অবসন্নতা শেষ পর্যন্ত মানুষকে জড়ত্বে পর্যবসিত করে৷ একটা ভুল ধারণা আছে যে আফিম খেলে বুঝি পেটের রোগ সারে৷ কথাটা ডাহা মিথ্যা৷ আফিংখোর নেশার ঘোরে ভাবে এতে বুুঝি তার পেটের রোগ সারছে৷ একবার একটা ঘটনা হয়েছিল৷ এক ট্রেনে এক সাধুবাবা যাচ্ছেন.... যাচ্ছেন হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী৷ ট্রেনের অন্যান্য সহযাত্রীদের সঙ্গে বেশ ভাল ভাল কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন৷ হঠাৎ সন্ধ্যের দিকে সাধুবাবা ছটফট করে উঠলেন৷ সবাই শুধোলেন, ‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, সাধুবাবা৷ 

সাধুবাবা বললেন–‘‘মাথা ঘুরছে’’৷

সবাই শুধোলে–‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া–হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া৷

সাধুবাবা জানালেন, তিনি সঙ্গে আফিমের ডিবেটি আনতে ভুলে গেছেন৷ এই সময় তিনি একটু আফিং সেবন করেন৷ সহযাত্রী ছিলেন জনৈক কলকাতার বাবু৷ তিনি বললেন ‘‘একটু অপেক্ষা করুন সাধুবাবা৷ হয়তো বা আমি একটু আফিং যোগাড় করতে পারব’ খন’’৷ 

বাবুটি পরের ইষ্টিশনে নেবে গেলেন৷ প্লাটফর্মের নীচের দিক থেকে একটু আফিং রঙের ভিজে মাটি তুলে এনে গুলি পাকিয়ে সাধুবাবাকে হাঁ করতে বললেন৷ বাবুটি সেই গুলি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলেন৷ খানিক বাদে সাধুবাবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন৷ তাঁর মাথা ঘোরাও বন্ধ হয়ে গেল৷ তিনি আবার গল্পগুজৰ জুড়ে দিলেন৷ 

কথা প্রসঙ্গে এও বললেন–দেখলেন তো আফিংয়ের গুণ৷ সামান্য একটু খেলুম৷ তাতেই মাথা ধরা সেরে গেল৷ 

সাধুবাবা খানিকক্ষণের জন্যে গাড়ীর বাথরুমে গেলে কলকাতার বাবুটি অন্যান্য সহযাত্রীদের বললেন–আমি প্ল্যাটফর্মের নীচের থেকে ভিজে মাটির গুলি পাকিয়ে সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে দিলুম৷ তাতেই তাঁর রোগ সেরে গেল৷ আফিংয়ে রোগ সারে সেটা কেবল একটা মানসিক কল্পনা মাত্র৷ আফিং অবসাদ আনে৷ সেই অবসাদের আসা বা অবসন্নতায় যাওয়াটা নেশাগ্রস্ততা ছাড়া কিছুই নয়৷ আমি আরও লক্ষ্য করেছি, ওই যে গুলিটা আমি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলুম সেটা মুখের ভেতরও যায়নি৷ সাধুবাবার দাড়িতেই আটকে গেছে৷ অর্থাৎ আফিংয়ের নেশার চেয়ে অবসন্ন হতে চাওয়াটাই নেশা৷ এককালে এই আফিং–গ্রস্ত হয়ে চীন ধবংস হতে বসেছিল....এককালে আফিমের নেশায় অসমও ধবংস হয়ে যেতে বসেছিল৷ তাই আফিংয়ের নেশা থেকে সাবধান৷

শুণেছি ভারতের কোন একটি তীর্থে–তীর্থটিকে পক্ষীতীর্থ বলা হয়–সেই তীর্থের পুরোহিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ের ওপর দেবতার প্রসাদ এক থালা রেখে দিয়ে আসেন৷ আর শকুনি জাতীয় কয়েকটি পক্ষী সেই নির্দিষ্ট সময়ে সেই প্রসাদ ভক্ষণ করতে আসে ৷ এই অপরূপ অলৌকিক দৃশ্য দেখবার জন্যে তীর্থে অনেক যাত্রী–সমাগম হয়ে থাকে৷ আমি মনে করি, আসল ব্যাপারটি হচ্ছে ওই তথাকথিত প্রসাদের সঙ্গে কিছুটা আফিং মেশানো হয়৷ ওই আফিংমের নেশায় গ্রস্ত হয়ে পাখীরা নির্দিষ্ট সময়ে এসে ওই আফিং–মেশানো প্রসাদ খেয়ে অবসন্নতাকেই ডেকে আনতে চায়৷ 

একবার শোণা গেছিল যে কোন একটি হোটেলে বা রেস্তরাঁয় চা খাবার জন্যে কলেজের ছেলেদের ভীড় লেগে যেত৷ খোঁজ নিয়ে হয়তো দেখা যেত যে সেখানেও হয়তো এই পক্ষীতীর্থের মত ঘটনাই অলক্ষ্যে ঘটে চলেছে৷ 

আফিংয়ের বিষ সাপের ফেনার মতই হানিকারক৷ সাপের বিষ থেকে এ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের ঔষধ তৈরী হয় ঠিকই, তেমনি আফিং থেকে মর্ফিন/মর্ফিয়া ইন্জেকশনও তৈরি হয়৷ তবে ঔষধ তৈরি হয় বলেই স্বাভাবিকভাবে নেশার ঝোঁকে যাবার আশায় মর্ফিয়া ইনজেক্শান নেবে এটা তো সমর্থন করা যায় না৷ ‘অহিফেন’ শব্দের অর্থ সাপের ফেনা৷ মনে রেখো, ফেন বা ফেনা বানানে ‘ন’ ও ‘ণ’ দুই–ই চলবে৷ অহিফেন থেকে ‘অহিফাম’–শব্দ এসেছে আর ‘অহিফাম’ থেকে এসেছে ইংরাজী ‘ওপিয়াম’ (Opium) শব্দটি৷  

 

 

ঝুলন যাত্রা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

 প্রাচীন বাংলায় হোলি উৎসব যেভাবে হত তার অনেক বিবর্তন ঘটেছে৷ হোলি কৃষি সমাজের পুজো৷ শস্য উৎপাদনের কামনায় ছিল হোলি উৎসবের লক্ষ্য৷ দ্বাদশ শতকের আগে বাঙলা থেকে এই উৎসবে নরবলি দেয়া হতো৷ পরে নরবলি বন্ধ হয়ে পশুবলি ও হোম যজ্ঞ প্রচলিত হয়৷ এই হোলির সঙ্গে রাধা কৃষ্ণ ঝুলন ও আবীর কুমকুম এর খেলা ও একসময় অনুষ্ঠিত হতো৷ প্রথম ঝুলন উৎসবের কথা শোনা যায় খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় তৃতীয় শতকে রামগড় গুহার লিপির মাধ্যমে৷ কিন্তু সেই ঝুলন রাধাকৃষ্ণের ছিল না, ছিল মানুষের৷ সেই ঝুলনে নর নারী উভয়ই দোলা খেত৷ অবশ্য শিশুরাই বেশিক্ষণ সেই দোলনা অধিকার করে রাখতো৷ কালক্রমে মানব শিশুর জায়গায় স্থান পেল বাল গোপাল৷ বালগোপাল কে দোলা দিত মা যশোদা৷ পরবর্তী পর্বে বালগোপাল উত্তীর্ণ হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ৷ সেই থেকে পরমপুর শ্রীকৃষ্ণ আর রাধার ঝুলন লীলা আজও বাঙলা তথা সারা ভারতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে৷ আজকাল অবশ্য আমরা রাধাকৃষ্ণের সাথে আরো নানারকম পুতুল ও সাজসজ্জার মাধ্যমে ঝুলনকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করি৷

কৃষ্ণলীলা কে কেন্দ্র করে যে দুটি উৎসব প্রচলিত আছে তা হলো দোলযাত্রা ও ঝুলন যাত্রা৷ ভারতের বহু উৎসবের মতো এই উৎসব দুটিতেও সূর্যলীলার প্রকাশ ঘটেছে৷ সূর্যের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রেখেই দোল আর ঝুলনকে উৎসব না বলে যাত্রা বলা হয়েছে৷ যাত্রা মানে গমন, সূর্যের উত্তরায়নের শুরুতে হয় দোলযাত্রা৷ আর শ্রাবণী পূর্ণিমার সূর্যের দক্ষিণায়ন৷ সেদিন শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন অর্থাৎ দোলন৷ ঝুলন দোলযাত্রার অঙ্গ৷ শ্রী যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতে দোলযাত্রা একটি নয়, বছরে দুটি, একটি নাম দোল, অপরটির নাম ঝুলন৷ সূর্যরূপ বিষ্ণু বৎসরে দুইবার দোলনায় আরোহন করেন৷

 

 

  • Log in to post comments

ফুটপাত তুমি কার

কৌশিক খাটুয়া

ফুটপাত তুমি কার ------

তোমার উপরে সুখে-দুঃখে বাড়ে

 উদ্বাস্তুর সংসার৷

 তুমি নাও তার ভার!

তোমার পরে পথশিশু বাড়ে 

 সামনে অন্ধকার৷

চালচুলোহীন ঠিকানা বিহীন 

হরিষে বিষাদে কাটে প্রতিদিন 

 নাই নাগরিক অধিকার,

অভাবী ভিখারীর মৃত পথ ধারে

 নাই কোন দাবিদার!

সব ঘটনার নীরব সাক্ষী---

 ফুটপাত, তুমি কার!

ফুটপাত, তুমি কার?

‘সৌরভ’ হওয়ার স্বপ্ণে বিভোর 

 যত খুদে ক্রিকেটার,

তোমায় নিয়ে ভাঙ্গা-গড়া খেলা 

 রয়েছে পুরসভার৷

পথিক বনাম হকার-------

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার

 বিচারের ভার 

 রয়েছে নেত্রী নেতার৷

স্থানে স্থানে সেথা পসরা সাজায়

 ডাক শুনি বিক্রেতার৷

যেথা আইন চলেনা 

আইনের পথে,

পথিক কেমনে চলে ফুটপাতে!

দিনে ফেরিওয়ালা 

রাতে সম্রাট মাতালের পথ দখল,

খোলা আকাশের নিচে 

বসতি যাদের,ফুটপাত সম্বল!

রাস্তায় চলে কত পথচারী 

ঝুপড়িবাসি আর কত নরনারী,

শম্বুক গতি সারি সারি গাড়ি 

 ফুটপাতে দখলদার,

ষড় ঋতুতে আনন্দে মেতে 

 আছে কিবা শঙ্কার!

হায় হতভাগ্য হকার -------

কাল যারা ফেলে কুম্ভীরাশ্রু 

 আজ দেয় হুঙ্কার! 

তব ভাগ্য লয়ে যারা করে খেলা

 ভাবের আবেগে হয় উতলা,

সেই ‘শিশু মঙ্গল’, 

 ‘নারী কল্যাণ সমিতি’ 

 ভালবাসার নাই পরিমিতি,

অকাতরে তাদের অভয় বাণী,

 ‘নাই কোন শঙ্কার!’

নির্বাচনের আগমনী সুরে 

 ধবনিত বারংবার!

              (ক্রমশঃ)

 

 

  • Log in to post comments

যা ভাবছ তা নয়

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘মৃগী’ শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে একটি স্নায়ু–সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি, ইংরেজীতে (epilepsy) ৷ যদি কোনো কম বয়সের ছেলে বা মেয়ে হঠাৎ কোনো অভাবনীয় কিছু দেখে বা শোনে তাহলে অনেক সময় তার স্নায়ুর ওপর বা মনের ওপর হঠাৎ একটা ৰড় রকমের চাপ এসে পড়ে৷ সেই চাপ সে যদি সহ্য করতে না পারে তখন তার এই মৃগী রোগ দেখা দেয়৷ যেমন ধরো, একটি ১২/১৪ বছরের ছেলের ধারণা ছিল, অমুক লোকটি কোনো নেশার ধারেকাছে যান না৷ হঠাৎ সে দেখলে সেই সংশ্লিষ্ট লোকটি বোতলের পর বোতল মদ খাচ্ছে৷ ফলে তার আগেকার ধারণার ওপর বিরাট একটা হাতুড়ির আঘাত লাগল৷ এর ফলে তার মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে৷ কোনো একটি ছেলের ধারণা ছিল যে সে সদ্বংশজাত কিন্তু হঠাৎ সে শুনতে পেলে তার বংশ পরিচয় নেই৷ এই অবস্থায় তার মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে৷ মৃগী রোগীর জীবনে স্নায়ুতন্তুর ওপর হঠাৎ কোনো আরামদায়ক পরিস্থিতি এলেই রোগ ফুটে ওঠে৷ কোনো মৃগী রোগীর অনেকক্ষণ ধরে মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে৷ কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় মূত্র ত্যাগের সুযোগ পায়নি৷ এখন সে যখন মূত্র ত্যাগের সুযোগ পায় তখন তার স্নায়ুতে একটা আরামের অবস্থা আসে৷ এমন সময় মৃগী রোগী মূত্র ত্যাগ করতে করতে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে যায়৷ কোনো মৃগী রোগী হয়তো দারুণ গরমে কষ্ট পাচ্ছে, এমন সময়ে সেই কষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে সে পুকুরে বা নদীতে স্নান করতে গেল৷ জলের সংস্পর্শে এসে তার আরাম ৰোধ হল৷ এমন অবস্থায় রোগগ্রস্ত হয়ে সে জলে পড়ে মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে৷ এই কারণে কোনো মৃগী রোগীকে একলা কখনই কোনো জলাশয়ে স্নান করতে যেতে দিতে নেই৷

‘মৃগী’ প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ল৷ একবার কৃষ্ণনগরের এক পাঁড় মাতাল ৰেশী মদ খেয়ে বেসামাল হয়ে রাত্তিরটা নালীতে শুয়ে কাটালে৷ শেষ রাতের মিষ্টি মিষ্টি ফুরফুরে হাওয়া ও ঠান্ডা নালীর জলের মধুর স্পর্শে তার নেশার ঘোর যখন কিছুটা কেটে গেল সে চোখ মেলে চেয়ে দেখলে তাকে ঘিরে লোকের ভীড় জমেছে৷ তার তখন একটু একটু লজ্জা করতে লাগল৷ সে আবার চোখ বুজে ফেললে৷ খানিক বাদে আবার সে চোখ খুলে চাইল৷ চেয়ে দেখলে ভীড়ের লোকেদের ভেতর তার বেয়াই মশায়ও (বৈবাহিক) রয়েছেন৷

এবার তার লজ্জার মাত্রা গেল আরও ৰেড়ে৷ বেয়াই তাহলে আসল ব্যাপারটা জেনেই ফেলেছে৷ এবার কী হবে! সে তখন বেয়াইয়ের দিকে চেয়ে বললে–বেয়াই, ও বেয়াই, বেয়াই গো, শুনছ, তুমি যা ভাবছ এটি তা নয়–এ আমার মৃগী রোগ৷        

                                 (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের ‘গল্প সঞ্চয়ন’ থেকে)

 

ক্ষুদিরাম স্মরণে

পথিক বর

‘‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি, 

হাসি হাসি পরব ফাঁসী দেখবে ভারতবাসী৷’’

এই গানটি আজও অনেক বাঙালীর রক্তে আগুন ধরায়৷ ১৯০৫ সাল৷ সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ বাঙলাকে দুর্বল করতে ভাগ করে দু’টি আলাদা রাজ্য ঘটন করে৷ প্রতিবাদে গর্জে ওঠে সারা বাঙলা৷ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পথে নাবেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও৷ আন্দোলনকে দমন করতে সাম্রাজ্যবাদী বিদেশী শাসকও দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের আশ্রয় নেয়৷ এরই মাঝে বাঙলার একদল দামাল তরুণ ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেয় অত্যাচারী শাসককে তারই ভাষায় জবাব দিতে৷ সেদিনের সেই অত্যাচারী শাসকদের একজন ছিলেন ম্যাজিষ্ট্রেট কুখ্যাত কিংসফোর্ড৷ এই কিংসফোর্ডকে উপযুক্ত জবাব দিতে তৈরী হলেন বিপ্লবী তরুণ দল৷ কিংসফোর্ড তখন মজফরপুরে৷ কিশোর ক্ষুদিরাম বসু আর এক কিশোর প্রফুল্ল চাকীকে সঙ্গে নিয়ে মজফরপুরে পৌঁছলেন অত্যাচারী শাসককে মুখের মত জবাব দিতে৷ জবাব তারা দিয়েছিলেন৷ কিন্তু ভুলবশতঃ কিংসফোর্ড বেঁচে যায়৷ মারা যান দুই ইংরেজ মহিলা৷ প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ার আগেই নিজের হাতের রিভলবার দিয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷ ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম৷ 

যথারীতি অত্যাচারী শাসকের বিচারের প্রহসনে ফাঁসীর আদেশ হয় ক্ষুদিরামের৷ ১৯০৮ সালের ১১ই আগষ্ট সেই আদেশ কার্যকর হয়৷ প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষুদিরামে উকিলের বর্ণনা থেকেই জানা যায় ফাঁসীর মঞ্চে ওঠার আগে ক্ষুদিরাম এতটুকু বিচলিত ছিলেন না৷ বরং হাসতে হাসতে তিনি ফাঁসীর মঞ্চে ওঠেন৷ দেশের জন্য আত্মত্যাগের, বলিদানের পথ দেখিয়ে গেলেন ক্ষুদিরাম৷ পরবর্তীকালে সেই পথ ধরেই দেশের জন্য জীবন বলিদান দিয়ে যায় আরও শত-সহস্র তরুণ৷ তাঁদের আত্মত্যাগ ও বলিদানেই দেশ স্বাধীন হয়৷ কিন্তু আজ একদল ক্ষমতালোভী, ধূর্ত, কপট নেতারা সেই ত্যাগ ও বলিদানকে ব্যঙ্গ করে দেশের কর্ণধার হয়ে বসেছে৷ তাই আসুন ক্ষুদিরামের বলিদানে দেশবাসীর প্রার্থনা হোক---আর এক বার ফিরে আসুক ক্ষুদিরাম, আর একবার জেগে উঠুক জালাবাদ, বুড়িবালাম৷ নোতুন করে উদয় হোক চট্টগ্রামের সূর্য৷ আর একবার দুর্নীতিপরায়ণ ধূর্ত শাসকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিক মহাকরণের অলিন্দ৷ বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করতে জীবন দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম৷ সেদিন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল৷ কিন্তু ক্ষুদিরাম ও শত শহীদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ করে ক্ষমতা লোলুপ নেতারা বাঙলাকে ভাগ করেই ব্রিটিশের হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল৷ আজ আবার খণ্ডিত বাঙলার বুকে আবাজ উঠছে বঙ্গভঙ্গের৷ বাঙালী কি সত্যই চেতনাহীন জড়ে পরিণত হয়েছে! ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের দিন বাঙলার ছাত্রযুব সমাজ নূতন করে শপথ নিক ঐকবদ্ধ বাঙলা গঠনের৷ আত্মত্যাগে মহান, দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হে মহান ক্ষুদিরাম লহ প্রণাম৷

 

  • Log in to post comments

সুকুমার রায়ের কবিতা

আজি এ ধরায় শ্রাবণ বরিষণে

মনে পড়ে তোমারি মধুবণে

হৃদয়ে হৃদয়ে নন্দন সাজে

অমৃত ঢেলেছ ধরা মাঝে

দোলায় যেমন তোমারি তরে

নোতুন পৃথিবী ছন্দেও সুরে৷৷

 

  • Log in to post comments

অভিলাষ

কৌশিক খাটুয়া

সমুখে দাঁড়ায়ে দু’হাত বাড়ায়ে

 কে তুমি অজানা অতিথি,

চিনিতে পারিনি বুঝিতে পারিনি 

 তবু দিলে স্নেহ প্রীতি!

 

ভালবাসা যদি হয় তব রীতি 

 নাই তার পরিমিতি, 

 জগৎ জুড়িয়া উজাড় করেছ

 প্রেম, ভাব-সম্প্রীতি!

 

আছো লোকাচারে প্রীতির গভীরে

 হৃদয় বীণার মাঝে,

অষ্ট প্রহর নিয়োজিত আছো

 কল্যানকর কাজে!

 

জীবনে যা’ পাই তুলনা যে নাই 

’’প্রভুকে ভুলোনা’’ মনকে বলি তাই৷

ভালবাসা দিলে সাহস যোগালে 

 তব ভাবনায় মন মজালে৷

 

তোমারে ঘিরিয়া এত হাসি খেলা 

ভরেছে হৃদয় সারা দিন বেলা,

সুখে দূঃখে জানি তুমি চির সাথী

 জনমে জনমে তব পানে গতি৷

 

নবপ্রভাতের গীতি, এসেছ অতিথি 

 অবহেলিত ধরায় মহাসম্ভুতি, 

বিভাবরী মাঝে তুমি ধ্রুব জ্যোতি 

 মহাযজ্ঞে তুমি মহাব্রতী!

 

শোষিতের মাঝে 

 ঢালো প্রেম-প্রীতি

 বিগত জীবনে ছিল সুকৃতি, 

তাই মনের মনিকোঠায়

 উজ্জ্বল চির ভাস্বর,

মম অন্তর সুধার সাগর 

 বাহিরেতে নীল অম্বর! 

শ্মরণে বরণে আপ্লুত মনে 

 অতীতের সুখস্মৃতি!

 

  • Log in to post comments

কে উল্টো–জামা, না মাথা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আক্ল্মন্দ্ সিং সেবার কাঁথি গেছল৷ জুনপুট থেকে দীঘা পর্যন্ত সমুদ্র–উপকূল ধরে খুৰ ৰেড়াত৷ খুৰ কাজুৰাদাম আর ৰাদাম–সন্দেশ খেত, দিনকাল ভালই কাটছিল৷ এমন সময় একবার তার কী যে খেয়াল হ’ল, দুপুর বারটার শো–তে সিনেমা দেখতে গেল৷ ছবিটি নাচ–গান–হৈ–হল্লায় ভর্ত্তি৷ গল্পটা মুখ্যতঃ ট্র্যাজেডি৷ ওই ধরনের ছবিতে যেমনটি হয় এক্ষেত্রেও ব্যাপার–স্যাপার তেমনটিই৷ নায়ক–নায়িকা দু’জনেই সমুদ্রে ডুবে আত্মহত্যা করলে৷ দু’টো চিতায় তাদের জ্বালানোও হ’ল৷ তার পরের ছবিতে দেখানো হ’ল তারা দু’জনেই যথাকালে নরকে গিয়ে পৌঁছোল৷ যমরাজের উপস্থিতিতে তাদের মালাৰদল করে বিয়েও হয়ে গেল৷ মেয়েরা হুলুধ্বনি দিলেন৷ পুরুত তার পাওনা ৰুঝে নিয়ে চলে গেল৷ অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজেডিকে কমেডিতে রূপান্তরিত করা হ’ল৷ আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের ছৰিটা খুৰ পছন্দ হ’ল৷ সে তিনটের শো’য়েও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ ছ’টার শোয়েও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ এবার সে নাইট শো–তেও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ কিন্তু রাত্রি বারটার পরে আর কোন শো ছিল না৷ তাই ভারাক্রান্ত মনে তাকে হোটেল–মুখো হতে হ’ল৷

আক্ল্মন্দ্ সিং হোটেলের দিকে চলেছে৷ দক্ষিণে সমুদ্র৷ আরে! ঝাউ ৰনের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে ওটা কী! চাঁদ, না সূর্য ঘড়িতে ৰেজেছে একটা.....এটা দুপুর একটা, না রাত একটা! আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের মনে দু’টো প্রশ্ণ নড়াচড়া করতে লাগল৷ প্রশ্ণ দু’টো রীতিমত ডন–বৈঠক মারতে লাগল৷ প্রথম প্রশ্ণ হ’ল–আকাশে প্রকাণ্ড ৰড় ওটা কী আর দ্বিতীয় প্রশ্ণ–এখন রাত একটা, না দিন একটা যদি আকাশে ওটা চাঁদ হয়, তাহলে অত বড় চাঁদ কেন হবে আর তা সামনা–সামনি না এসে ঝাউৰনের ফাঁক দিয়েই বা কেন তাকাৰে আর ওটা যদি সূর্য হয় তা হলে সূর্যের তাপে গনগনে গরম কেন হবে না! আর এখন যদি রাত একটা হয় তাহলে নিশ্চয় ওটা চাঁদ, আর এখন যদি দুপুর একটা হয় তাহলে ওটা নিশ্চয় সূর্য৷ 

আক্ল্মন্দ্ সিং আকাশ–পাতাল ভেবে চলেছে.......আর আক্কেল–দাঁতে* দাঁত ঘসে চলেছে৷

এমন সময় তার সামনে এসে দাঁড়াল একটা ট্রাক৷ সে ভাবলে–ট্রাক থামিয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করা যাক এখন রাত একটা না দিন একটা, আর আকাশে ওটা চাঁদ না সূর্য৷ 

ড্রাইভার ওকে দেখেই লাফিয়ে গাড়ী থেকে নেৰে পড়ল৷ আক্ল্মন্দ্ সিং সবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলে –আরে! ও যে ওরই ছোটবেলাকার সাথী ৰেয়াক্কিলে সিং৷ ওই ৰেয়াক্কিলে সিং আর তার ৰোন ৰিচ্ছুরাণী দেবীর সঙ্গে সে পাঠশালায় এক সঙ্গে পড়েছিল৷ 

দু’জনেই তখন আহ্লাদে আটখানা৷ কতদিন পরে দেখা হ’ল! ৰেয়াক্কিলে সিং জিজ্ঞেস করলে–‘‘হ্যাঁরে আক্ল্মন্দ্, আজকাল করছিস কী’’

আক্ল্মন্দ্ বললে–‘‘আপাততঃ মন্ত্রীর কাজ করে চলেছি৷ তুই, করছিস কী’’

ৰেয়াক্কিলে সিং বললে–‘‘আমি আজকাল টরাক চালাই৷’’

আক্ল্মন্দ্ তখন আসল কথাটা পাড়লে৷ সে বললে–‘‘আচ্ছা ৰলতো, এখন দিন একটা না রাত একটা আর আকাশে ওটা কী–চাঁদ না সূর্য’’

ৰেয়াক্কিলে সিং বললে–‘‘এদেশে তুইও বিদেশী, আমিও বিদেশী৷ কি করে ৰলব ওটা এদেশের চাঁদ না সূর্য! আর কী করেই বা ৰলব রাত একটায় এদেশে দিন না রাত আর দুপুর একটায় এদেশের রাত না দিন! তাই আমরা যেমন ইচ্ছে ভেবে যেতে পারি৷ কারও কাছে কোন কৈফিয়ৎ দিতে হবে না’’৷ 

আক্ল্মন্দ্ সিং বললে–‘‘ঠিকই বলেছিস৷’’

* * * *

তারপর থেকে রোজই সন্ধেয় আক্লমন্দ্ সিংয়ের সঙ্গে ৰেয়াক্কিলে সিংয়ের দেখাসাক্ষাৎ গল্পগুজব চলতে থাকল৷ আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের পথঘাট তেমন জানা ছিল না৷ ৰেয়াক্কিলে সিং ট্রাক–ড্রাইভার৷ তাই সে পথঘাট জানত৷ ট্রাক নিয়ে সব জায়গায় যাওয়া চলে না৷ তাই সন্ধেয় সে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসত মোটর সাইকেলে চড়ে৷

একদিন সে মোটর সাইকেলে চড়ে আসছে.......দীঘা সৈকতে তখন একটু জোরালো হাওয়া বইছে৷ তার ৰুকের দিকের ৰোতামগুলোর ফাঁক দিয়ে হাওয়া ঢুকছে হু হু করে৷ তারপর জামার ভেতরে ঢুকে সেই হাওয়া পিঠের দিকের জামাকে চাপ দিচ্ছে৷ তার ফলে পিঠের দিকের জামাটা ফুলে উঠছে৷

ৰেয়াক্কিলে সিং ভাবলে–আচ্ছা ফ্যাসাদ তো! এটা এমন একটা ৰড় মানবিক সমস্যা, অথচ আজ পর্যন্ত কোন জ্ঞানী–গুণী মানুষই এর সমাধান করেননি৷ সে ভাবলে যদিও আমি নামে ৰেয়াক্কিলে কিন্তু কাজেতে যে ৰেয়াক্কিলে নই সেটা আজই প্রমাণ করে দোৰ৷ সে জামাটা উল্টো করে পরে নিলে৷ জামার ৰোতামের ঘরগুলো রইল পিঠের দিকে আর জামার পিছন দিকটা রইল তার বুকের দিকে৷ এবার মহা আরাম! ৰুকের দিকে ৰোতামের ফাঁক দিয়ে হাওয়া ঢুকতে পারছে না৷ আর যদিও বা অল্প–স্বল্প হাওয়া ঢুকছে, পেছনের দিকের জামা আর হাওয়ায় ফুলতে পারছে না৷ একটু অসুবিধে হচ্ছিল কেবল বুক–পকেটে রাখা ফাউন্টেন পেনটাকে নিয়ে কারণ ওটা তখন পিঠের দিকে রয়ে গেছে কিনা!

ৰেয়াক্কিলে নির্ভাবনায় মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে,......যাচ্ছে.....যাচ্ছে.....যাচ্ছে৷ সামনের দিক থেকে হঠাৎ দেখা গেল–আসছে একটা প্রকাণ্ড ট্রাক৷ তখন সন্ধে হয়ে গেছে, তার দু’পাশের আলোগুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে৷ ৰেয়াক্কিলে সিং তাই দেখে ভাবলে–তারই মত দু’জন মোটর সাইকেল–আরোহী পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে সামনের দিকে আসছে৷ সে ভাবলে–দু’টো মোটর সাইকেল যখন যথাযথ সমতা রক্ষা করে পাশাপাশি আসছে তখন আমি ঠিক ওদের মাঝখানটা দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাই৷ 

যা ভাবা তা–ই করা৷ সে দু’টো বাতির ঠিক মাঝখানটিতে নজর রেখে নিজের গাড়ী চালিয়ে দিলে৷ 

ট্রাক–ড্রাইভার দেখলে, জেনেৰুঝে দেখেশুণে একটা মোটর সাইকেল সবেগে তার ট্রাকের দিকে ছুটে আসছে৷ সে তখন ষোল আনা ঝুঁকি নিয়ে সশব্দে তার ট্রাক থামিয়ে দিলে৷ কিন্তু ৰেয়াক্কিলে সিং তার মোটর সাইকেল থামাল না৷ মোটর সাইকেল এসে ধাক্কা দিল ট্রাকে৷ গাড়ীসহ ৰেয়াক্কিলে সিং ছিটকে পড়ল৷ মোটর সাইকেলটা ভেঙ্গে তুৰড়ে গেল৷ ৰেয়াক্কিলে সিং অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল৷ পুলিশী হুজ্জোৎ আর জনতার ঘেরাওয়ের ভয়ে ট্রাক ড্রাইভার চম্পট দিল৷

আক্ল্মন্দ্ সিং অনেকক্ষণ ধরেই ৰেয়াক্কিলে সিং–এর আসা পথ চেয়ে ৰসে আছে ৷ কিন্তু ৰেয়াক্কিলে সিং আসছে না......আসে না.....আসে না.....আসেই না৷ খানিক পর আক্ল্মন্দ্ সিং ৰেয়াক্কিলে সিং যে রাস্তা দিয়ে আসে সেই রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল–কোন দুর্ঘটনা হয়েছে কিনা তা–ই দেখতে৷ সে যা ভেবেছিল তাই ঘটেছে৷ তোৰড়ানো দোমড়ানো মোটর সাইকেলটা এক পাশে পড়ে রয়েছে আর তারই কিছু দূরে মুখ থুৰড়ে পড়ে রয়েছে ৰেয়াক্কিলে সিং৷ আক্ল্মন্দ্ সিং দেখলে, আঘাত গুরুতর হলেও প্রাণঘাতক নয়৷ তবে সব কিছুই পরীক্ষা করার পরে সে সবিস্ময়ে দেখলে ৰেয়াক্কিলে সিংয়ের মুণ্ডুটা একেবারে ঘুরে গেছে অর্থাৎ ৰোতামের ঘরগুলো যেদিকে মানুষের মুখ তো সেদিকে থাকে, কিন্তু ৰেয়াক্কিলে সিংয়ের মাথাটা এমন ঘুরে গেছে যে ঘুরে তার ঘাড়টা ৰোতামের ঘরের দিকে এসে গেছে৷ কাছে পিঠে কোথাও ডাক্তার আছে কি না কে জানে! ফার্ষ্ট এডের (প্রাথমিক চিকিৎসা ) ব্যবস্থা সে নিজেই করতে বসল৷ ৰেয়াক্কিলে সিংয়ের মুণ্ডুটা ঘুরিয়ে ৰোতামের ঘরগুলো যেদিকে সেদিকে করে দেবার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করে যেতে লাগল৷ একে দারুণ আঘাতে ৰেয়াক্কিলে সিং হত চৈতন্য, তারপর এই মুণ্ডু ঘোরানোর কসরৎ–এ দু’য়ের মণি–কাঞ্চন সংযোগে ৰেয়াক্কিলে সিংয়ের কী দশা হয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়৷

গল্প শেষ হ’ল৷ আক্ল্মন্দ্ সিং নামটা কেমন ছিল তা পাঠকেরাই বিচার করুন৷

 

এক মানব সমাজ

কৌশিক খাটুয়া

একসঙ্গে একলক্ষ্যে অগগমন,

 হলো সমাজ

সেই সমাজে গতি আনা

 মানুষের পবিত্র কাজ৷

মানব সমাজ অবিভাজ্য 

 স্রষ্টা করেছেন যে টুকু ধার্য,

যুক্তিপূর্ণ উদার বন্টন 

 হাসি মুখে তাই স্বীকার্য৷

 

কেউ যদি রয় পিছে পড়ে

 হাতটি বাড়াও, তোলো তারে,

সুখ-দুঃখের সহানুভূতি,

 আত্মিক সম্পর্ক গড়ে৷

 মানবিকতার কোমল হৃদয়ে

 ফুল ফোটে থরে থরে৷

 

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব-----

 যেথায় শ্রদ্ধায় আবদ্ধ শিব,

মহান আদর্শে ব্রতী 

 মোদের অবাধ অগগতি,

সার্বজনীন স্বার্থ পূরণে

 মঙ্গলময় প্রগতি!

 

সামাজিক চেতনার অর্থ যেথায় 

 নবজাগরণের সঞ্চার,

‘সংগচ্ছধবং’ মহান মন্ত্রে

 বদ্ধ হৃদয় উদার৷

হেথায় নাই কোনো ভীতি 

 বুক ভরা প্রীতি

 গীত নব্যমানবতার গীতি,

শোষণ পীড়ণ দিনু বিসর্জন

 অতীতের কালো স্মৃতি!

 

আছে শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীতের

 অবিচ্ছেদ্য মেল বন্ধন,

জীবনের প্রতিচ্ছবির অভিপ্রকাশ 

 প্রকৃতই নন্দন৷

আছে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য

 কৃষ্টি-সংস্কৃতির পার্থক্য 

আকর্ষণীয়, চির বরণীয়

 ভরিয়া মনি মানিক্য!

 

উদাসীন নয় বর্বরতায় 

 যেথা শোষিত মানুষ অসহায়,

সেথা মুক্ত কৃপাণ ঝলসে উঠুক 

 নিয়ে সমাজের সব দায়!

কেটে গেছে বিভাবরী

 আকাশে সোনার তরী 

ক্রমশঃ অগসর মধ্য গগনে,

প্রভাতি সুর আশাবরী

 আশায় হৃদয় ভরি

 দৃপ্ত হৃদয় হয় রবির কিরণে!

  • Log in to post comments

রামফল সিংয়ের কোষ্ঠী গণনা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যদিও জন্মকালের রাশি–লগ্ণের অবস্থিতি অনুযায়ী ব্যষ্টি ও রাষ্ট্রের ভাগ্য গণনা করাই প্রাচীনকালের প্রথা কিন্তু পরবর্ত্তীকালে করকোষ্ঠী বা Palmistry এই বিদ্যাটি ভারতের পুরাতন বিদ্যা নয়৷ শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণেরা বিদেশ থেকে এটি ভারতে এনেছিলেন৷ সমুদ্রের ওপার থেকে এদেশে এসেছিল, তাই এর নাম সামুদ্রিক বিদ্যা) শাস্ত্রের উদ্ভাবন ও প্রচলন হয়৷ নাম অনুযায়ী ও ব্যষ্টির সংস্কার সম্পর্কিত সংখ্যা অনুযায়ীও আরও পরবর্ত্তীকালে ভাগ্য গণনার কাজ শুরু হয়৷ স্ফটিক দর্শন (crystal-gazing), নখদর্শন (nail-gazing) প্রভৃতি  বিদ্যাগুলির প্রচলন হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে৷ গণনা বিদ্যায় বা গণকের আওতার মধ্যে এরা সবাই আসে৷ বলা বাহুল্য মাত্র, জ্যোতিষের এই বিভিন্ন ধারার গণনা নিরঙ্কুশ বা ত্রুটিমুক্ত নয়৷ অবশ্য কেউ কেউ বলতে পারেন যে, যে সকল তথ্যের ভিত্তিতে গণনা করা হয়ে থাকে, সেই তথ্যে যদি ভুল থাকে বা গণনার অঙ্কে যদি ভুল থেকে যায় তাহলে ফলেতে তো ভুল থাকবেই৷ এই জন্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রের নিন্দা করা বৃথা৷ তাঁদের বক্তব্য একেবারে ফ্যালনা নয়৷ তবে কোনো মানুষেরই জ্যোতিষের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকা উচিত নয়৷ পুরুষকারের সাহায্যেই মানুষকে এগিয়ে যেতে হবে ও এটাই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ৷ 

                  ‘‘দৈবং নিহত্য কুরু পৌরুষমাত্মশক্ত্যা৷’’

কোথাও জ্যোতিষীর গণনা যদি নিষ্ঠার সঙ্গেও করা হয়ে থাকে তাহলেও তা যে সবাইকার ক্ষেত্রে সমভাবে ফলে যাবে এমন কথা হলপ করে বলা যায় না৷ 

রাজার ছেলে ও প্রজার ছেলে দু’জনেই যদি একই সময়ে জন্মায় তাহলে কোনো তারিখে প্রদোষ আট ঘটিকায় যদি রাজকুমারের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয় তাহলে প্রজার ছেলেটিকে হয়তো সেই সময়ে যাত্রার দলের রাজার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে৷ লোকে সেই সময়ের জন্যে তাকেও রাজা বলে ডাকবে৷

সেই যে কথা আছে না! একটি নবজাত শিশু–তার নাম রামফল সিং৷ গণকঠাকুর খড়ি পেতে গুণে বললেন, এর গ্রহসংস্থান যেমন..........দশা–অন্তর্দশা যেমন তাতে এর খুবই প্রাচুর্য্যের মধ্যে দিন কাটবে৷ আমি যে দেখছি, এর ডাইনে বাঁয়ে সামনে পেছনে থাকবে কেবল গাড়ির পর গাড়ি৷ এ কী কম ভাগ্যের কথা!

ৰন্ধু–ৰান্ধব আত্মীয়–স্বজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল কবে রামফলের সেই সৌভাগ্যের দিন আসবে৷ ২৪ বছর পর দেখা গেল রামফল সিং ট্রাফিক কন্ষ্টেবল হয়ে চউরাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে আর তার সামনে পেছনে ডাইনে বাঁয়ে হুস্ হুস্ করে গাড়ি চলছে৷ 

তা যাই হোক, গণকঠাকুররা যে সব সময় ভুল করেন একথা আমি বলছি না৷ কিছু কিছু জিনিস মিলে যেতে আমিও দেখেছি৷ তবে তোমরা যেন জ্যোতিষ বিদ্যার মুখ চেয়ে বসে থেকো না৷ 

একবার হজরৎ মোহম্মদের দুই দল শিষ্যের মধ্যে তুমুল বাদ–বিতণ্ডা শুরু হয়ে গেল৷ একদল বললে, তক্দির বা ভাগ্যে যা আছে তাই হবে৷ কোনো চেষ্টা করা বৃথা৷ আর একদল বললে, মানুষ তদ্বির অর্থাৎ চেষ্টা করেই সব কিছু পাবে৷ যুধ্যমান দু’দলই হজুরৎ মোহম্মদের কাছে যখন পৌঁছুল, তখন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তিনি বললেন, তক্দিরে যা আছে তা–ই হবে কিন্তু তোমরা তদ্বির করে যাও৷

 

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved