Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

বিয়ের ঝামেলা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

একজন কর্ষক ছিল৷ সে ছিল দারুণ ঔদরিক ৷ কিন্তু তার দু’পায়ে ছিল গোদ৷ তা সে যাই হোক, সেই কর্ষক গেছল বিয়ে করতে৷ গোদ দেখাদেখি জানাজানি হলে বিয়ে কেঁচে যাবে যে! তাই ঔদরিকতার কথা ভেবে তাকে তখন সবসময় ধুতি দিয়ে গোদ ঢ়েকে রাখতে হয়েছে৷ সে কী ৰিড়ম্বনা!

কনের অবস্থাও শোচনীয়, কারণ তিনি কানা৷ তাঁকে সব সময় চোখ ঢ়েকে রাখতে হচ্ছে৷ নইলে জানাজানি হয়ে গেলে বিয়ে ভেস্তে যাবে৷ তিনি বিয়ের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলা পান দিয়ে মুখ ঢ়েকে রাখছিলেন৷ বিয়ের পর তো আরো সুবিধে৷ ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢ়েকে রাখার সুযোগ পাওয়া গেছল৷ ঔদরিক ৰড় উস্খুস করছেন, কারণ তার সমস্ত সংবেদনা আজ ঔদরিকতার ভাবনায় প্রেষিত৷

ভালয় ভালয় যখন শুভ কার্য সমাধা হয়ে গেল ৰর তার ইনটেলিজেন্সের মাধ্যমে খোঁজখবর নিলে বিয়ের আর কোনো আনুষ্ঠানিক অঙ্গ বাকী আছে কিনা৷ ইনটেলিজেন্স যখন সবুজ সংকেত দিলেন যে না, আর কোনো ৰাধা–বাগড়া আসবার সম্ভাবনা নেই, ফাঁড়া কেটে গেছে ৰর তখন আশ্বস্ত হলেন৷ খোঁজ নিয়ে জানলেন এইবার প্রচলিত দেশাচার অনুযায়ী ক্ষীর ভোজনে বসতে হবে৷ ৰর তো মহা খুশী৷ এইবার তার ঔদরিকতা পূর্ণ চরিতার্থতার পানে ছুটে চলেছে৷ ৰর এবার ধুতি হাঁটুর ওপর তুলে ক্ষীর ভোজনে সমস্ত মানসিকতাকে চালিয়ে দিয়ে বললেন–

‘‘আর কি বিয়ের ভয়

হাঁটুর কাপড় তুলে 

এখন ক্ষীর ভোজনে রয়৷’’

কনে বসেছিলেন একটু দূরে ৰর কী বলছেন শোনার জন্যে উৎকর্ণ হয়ে৷ তিনিও কিছু কম দাঁও মারেননি৷ বিবাহ–বৈতরণী পার হওয়ার জন্যে তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে কষ্ট করে পান–ঘোমটায় মুখ ঢ়েকে থাকতে হয়েছিল৷ তিনি এবার মুখের কাপড় সরিয়ে দিয়ে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন–

‘‘আর কি বিয়ের মানা

মুখের কাপড় খুলে দেখ কনের দু’চোখ কানা’’৷

যাই হোক ‘ঔদরিক’ কাকে বলে ৰুঝে গেলে তো! ঔদরিকতাকে কোনো মতেই প্রশ্রয় দিও না৷ 

শিব বলেছেন.....

‘‘অতিভোজনম্ রোগমূলমায়ূঃক্ষয়ক৷ 

তস্মাদতিভোজনং সর্বথা পরিহরেৎ৷’’

এই ঔদরিকতায় কারো কোনো লাভ নেই, আছে কেবল ক্ষতির পাহাড়৷ যারাই ঔদরিক তারাই একটু ৰেশী বয়সে নানান ধরনের উদর ব্যাধিতে ভুগে থাকেন৷

 

ফাল্গুনে

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

গুণগুণিয়ে গান শুনিয়ে

 মৌমাছিরা এলো,

ফুলের বনে জাগলো সাড়া

 পাপড়ি সবাই মেলো৷

দখিন হাওয়ায় ভেসে ভেসে

 প্রজাপতি কত

রঙবেরঙের পাখনা মেলে

 খেলছে অবিরত৷

ফসল তোলা শেষ হয়েছে

 ঘরে ঘরে তাই

মনের বাঁশী উঠলো বেজে

 খুশির সীমা নাই৷

বনে বনে পলাশ শিমূল

 লালের বাহার দেখে

কে জানে কোন আড়াল থেকে

 উঠলো কোকিল ডেকে৷

ভ্রমর-ফুলে কত কথা

 কতই কানাকানি,

ফুল ফোটানোর খেলায় মেতে

 সাজায় বাগানখানি৷

শৈত্য-হারা দখিন হাওয়ায়

 শীতের শিশির ধোওয়া

জলে স্থলে বন-তলে 

 মিষ্টি রোদের ছোঁওয়া৷

 

  • Log in to post comments

সবই তোমার

কৌশিক খাটুয়া

ফুল বাগানে গাছ লাগালে

 কিছু তো ফুল ফোটে,

সুরভী ছড়ায় মধুও বিলায়

 ভোমরা অলি জোটে৷

 

তাদের মতি গতি ফুল বাগানে

 কাজের অবকাশে, 

রঙিন ডানায় প্রজাপতি 

 রঙিন ফুলের পাশে!

 

 ফুল বাগান নজর কাড়ে 

যারা চলে সে’ বীথিকা ধরে, 

মনের মাধুরী মিশিয়ে কাননে 

 কুঁড়ি থেকে ফুল প্রস্ফূটনে 

 সুধা ঢালা অন্তরে!

 

 ভ্রমর যেথায় নিত্য প্রাতে 

ভুল করে না গান শোনাতে,

সে গানের মানে

 একজনই জানে,

হাসি মুখে আসে রবির কিরণে!

 

 স্বাগত জানায় পুষ্প তাঁহারে

 অনন্তকাল বিনম্র শিরে,

 কুসুম কলি পাপড়ি মেলে

 পূর্নাঙ্গতা পায় ধীরে ধীরে!

 

 রূপ-বৈভব, বর্ণ-সুবাস 

 কিছুই নিজ নয়, নাই উচ্ছ্বাস,

তাঁর ইচ্ছায় অলি গান গায়

পরাগে মধু উপচিয়া যায়৷

তাঁহার স্মরণে উদার মননে 

শ্রীচরণে ঠাঁই মুক্তির গানে!

 

তিনি জাদুকর কোথায় লুকায় 

নদী কলতানে পাখির কুজনে 

অনন্তকাল কি গান শোনায়!

তিনি বোঝেন মানে 

 আর কেবা জানে,

 তাঁর ইচ্ছায় সব কিছু হয়----

 উদয়াস্ত সদাই ব্যস্ত, 

 সকল কর্মে, হে মঙ্গলময়!

 

আমার কবিতা, সে আমার নয়

ফুলের সুবাস, সে ফুলের নয় 

অহমিকা ভুলে এ জীবন ভরে 

 খুঁজে পেতে হবে তাঁর পরিচয়!

 

সুরভী ছড়ানো কুসুম কানন

 তিনিই পুষ্প, বন-উপবন,

 মধুপ রূপে ফুলের পরাগে

 গুন গুন সুরে রাগে অনুরাগে, 

 লাবন্য মাখা কোমল পুষ্প

 কন্টক দিয়ে ঘিরে,

বাগান যাঁর, ফুলও যে তাঁর 

 তাঁহার চরণে ঝরে!

 

  • Log in to post comments

মনুষ নহীঁ, দেওতা হ্যায়

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

তোমরা এমন কিছু কিছু মানুষ নিশ্চয় দেখেছ যাদের শরীরে মায়ামমতা অত্যন্ত বেশী৷ বিপদে আপদে সবাই তাঁদের দ্বারস্থ হয়, তাঁরাও বিপন্ন মানুষকে বাঁচাবার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন৷ নিজেকে বিপদে ফেলেও অন্যকে বাঁচাবার চেষ্টা করেন৷ একটি ঘটনার কথা মনে পড়ল৷ 

সেটি ১৯৪৬–৪৭ সালের কথা৷ ভারতে নানান স্থানে তখন সাম্প্রদায়িকতার কৃশাণু জ্বলছে৷ এই আগুন জ্বালাতেন বা জ্বালিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা৷ আমি তাঁদের জন্যে ঘৃণা সূচক পলিটিক্যাল পিগ (political pig) শব্দটি ব্যবহার করেছিলুম৷ তাদের কাছে মানুষের জীবনের দাম ছিল না৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে কোন পন্থায় তাদের রাজনৈতিক মতলব হাসিল করা৷ এজন্যে মানুষ মরে মরুক....শান্তির নীড় গ্রামগুলি ওই আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে জ্বলুক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে বড় কথা৷ আমরা যে পাড়াটিতে থাকতুম সেটি ছিল সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু দুই সম্প্রদায়েরই বাসভূমির সীমান্তরেখা৷ আমাদের বাড়ীটি ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাড়ার শেষ হবার কয়েক পা মাত্র দূরে৷ 

স্থানটি বিহারের একটি ছোট্ট শহর৷ তখন সন্ধ্যেবেলা৷ একজন বাংলাভাষী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক সিল্কের লুঙ্গি বেচতে আমাদের পাড়ায় প্রায় ঢুকে পড়েছিল৷ আমরা তাকে তাড়াতাড়ি আমাদের পাড়া ছেড়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাড়ায় চলে যেতে বললুম৷ আমাদের বাড়ী থেকে প্রায় একশ’ হাত দূরে৷ লোকটি ছিল ময়মনসিং জেলার৷ একে বিহারে সে কখনও আসেনি, তার ওপর এখানকার ভাষাও সে ভাল জানত না৷ সে বললে–‘‘কি করে যাব কর্ত্তা, সেখানে তো আমার জানা–চেনা কেউ নেই৷’ আমার এক অতি নিকট আত্মীয় ওই সময় আমাদের বাড়ীতে ছিলেন৷ তিনি তার হাত ধরে টেনে আমাদের বাড়ীতে ঢুকিয়ে নিলেন৷ লোকটি তখন ভয়ে কাঁপছে৷ চারিদিকে দাঙ্গা–কাজিয়া তখন চরম অবস্থায় পৌঁছেছে৷ সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের বাড়ীতে এসে বললে–সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকটিকে তোমাদের বাড়ীতে ঢুকতে দেখেছি, তোমরা ওকে আমাদের হস্তে সমর্পণ করো৷ 

আমাদের সেই আত্মীয়টি তখন বাড়ী থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এলেন৷ তিনি সংখ্যাগুরু ওই বিরাট রণোন্মত্ত বাহিনীকে বললেন–লোকটিকে আমিই বাড়ীতে ঢুকিয়ে রেখেছি৷ লোকটি বিপন্ন৷ তোমরা যদি লোকটিকে চাও আমি তাকে তোমাদের হস্তে সমর্পণ করতে রাজী আছি–একটি সর্ত্তে৷ তোমরা আমাকে এখনই মেরে ফেল....তারপর আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে চলে যাও ওই বাড়ীতে....লোকটিকে বাড়ী থেকে বার করে আনো৷ যতক্ষণ আমি বেঁচে আছি ততক্ষণ আমি তোমাদের ওই লোকটির কাছে যেতে দোবনা–তা সে সংখ্যায় তোমরা হাজারই হও, লাখই হও৷ আক্রমণকারীরা বলতে বলতে গেল, ‘‘দেওতা হ্যায়৷’’  (শব্দ–চয়নিকা, ১৩শ খণ্ড)

 

শিবরাত্রির কথা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বারানসীতে এক ব্যধ ছিল৷ বনে পশু শিকার করাই ছিল তার জীবিকা৷ একবার একটা হরিণ শিকার করতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল৷ হরিণের পেছনে ধাওয়া করতে করতে সে বনের অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছিল৷ ফলে বন থেকে ফিরতে সেদিন তাঁর সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হয়ে গিয়েছিল৷ সেইবনে ছিল বাঘের উপদ্রব৷ বাঘের ভয়ে ব্যধ তখন একটা উঁচু বেলগাছের ওপর আশ্রয় নিল৷ রাতটা শেষ হলেই সে বাড়ি ফিরে যাবে৷

সেদিন ব্যধ অনেক পশু শিকার করেছিল৷ তাই সে বড় ক্লান্ত ছিল৷ রাত গভীর হতেই সে একটা বেলগাছের ওপর ঘুমিয়ে পড়লো৷ সেই গাছের নীচে ছিল শিবলিঙ্গ৷ রাত্তিরে ব্যধ যখন ঘুমোচ্ছিল তখন তার গা থেকে এক ফোঁটা ঘাম শিবের মাথায় পড়লো৷ সেদিন ছিল শিবরাত্রির দিন৷ আর ব্যধও ছিল সারাদিন উপবাসী৷ মহাদেব ব্যধের এক ফোঁটা ঘামেই সন্তুষ্ট হন৷ অজান্তেই ব্যধ শিবের ? হয়ে গেল মহাপুণ্যবান৷ তাই যথাসময়ে ব্যধের মৃত্যুর পর যখন যমদূত এসে তাকে নরকে নিয়ে যেতে চাইল তখন শিবদূত এসে তাকে বাধা দিল৷ শিবদূত ব্যধকে নিয়ে গেল শিবলোকে৷ অর্থাৎ কৈলাসে৷

এই আদিম মিথোলজি তথালোক পুরাণের কাহিনীই শিবরাত্রির ব্রতকথায় রূপান্তরিত হয়েছে৷

এইসব ব্রতকথাকে বলা হয় অলিখিত সাহিত্য৷ এককালে এইসব অলিখিত সাহিত্য আমাদের মা-মাসিদের মুখে মুখেই প্রচারিত হয়েছে৷ ভিন্ন ভিন্ন মুখে একই কাহিনীর রূপান্তর ঘটা তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়৷

যেমন, এই কাহিনীতেই অনেকে বলেন, বেল গাছে যখন ব্যধ ঘুমোচ্ছিল তার নড়াচড়াতে কিছু বেলপাতা খসে গাছের নীচে শিবরূপী পাথরের ওপর পড়েছিল৷ আর পড়েছিল কয়েক ফোঁটা শিশির৷ শিব ভাবলেন ব্যধ বুঝি বেলপাতা আর জল তাঁর মাথায় ঢেলে পুজো করছে৷ তাই শিব সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বর দিলেন৷

দেবকুলে সবচেয়ে জনপ্রিয় দেবতা হলেন শিব৷ বৈষ্ণব ধর্ম প্রভাবিত কিছু অহতল বাদ দিলে বাংলার প্রায় সর্বত্রই শিবের রাজত্ব৷ শিব নানা সময়ে নানারূপে পূজিত হন৷ ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশীতে কুমারী মেয়েরা শিবরাত্রি পালন করে৷

মেয়েরা সেদিন উপোস করে শিবের মাথায় জল বা দুধ ঢালে৷ প্রসঙ্গতঃ উপোসের সেই বচনটি স্মরণীয় ‘‘ক্ষ্যাপার চোদ্দ ক্ষ্যাপীর আট/ এই নিয়েই ফালকাট৷’’ ক্ষ্যা হচ্ছেন শিব৷ চোদ্দ অর্থাৎ ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী (শিবরাত্রি)৷ ‘ক্ষ্যাপীর আট’ অর্থাৎ অষ্টপ্রহর৷ ঐদিন মেয়েদের রাত জাগতে হয়৷ শিবরাত্রির উদ্যোক্তা মূলতঃ কুমারী মেয়েরা হলেও বিধবা সধবা এমনকি পুরুষরাও শিবরাত্রি পালন করে থাকেন৷

কুমারী মেয়েদের শিবরাত্রি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য শিবের মতো বর পাওয়া৷ এটাই প্রচলিত ধারণা৷ শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের কথা বলি--- ‘বিবাহ’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বিশেষ এক ধরণের দায়িত্ব নিয়ে নোতুনভাবে জীবনধারাকে প্রবাহিত করা৷ ....শিব এই দায়িত্ব নিয়েই বিবাহ করেছিলেন৷ তাই আমরা নির্দ্ধিধায় বলতে পারি এই বিশ্বে প্রথম বিবাহ শিবই করেছিলেন (নারীমর্যাদা)৷’ এই বিশ্বে শিবই ছিলেন প্রথম বিবাহিত পুরুষ৷ তাঁর আগে কোন বিবাহিত পুরুষ ছিল না৷ তাই কোনপুরুসই পারিবারিক দায়িত্ব বলতে যা বোঝায় তা বড় একটা নিত না৷ হয়তো বা পশুদের মতই খুব অল্পসল্প দায়িত্ব নিতো৷’ (নমঃ শিবায় শান্তায়, শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তি)৷’’ তাই আনন্দমূর্ত্তিজী একথাও বলেছেন শিবই প্রথম বিবাহের মধ্য দিয়ে নারীজাতিকে সংসারে সমাজে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন৷ তাই প্রত্যেক নারীরই উচিত শিবের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা৷

 

  • Log in to post comments

শতরূপে বিরাজো

কৌশিক খাটুয়া

দুঃখের বেশে এসেছো জীবনে 

 ভেবেছো পারিনি চিনিতে,

‘দুঃখকে’ সুখে স্বাগত জানিয়ে 

 দ্বিধা করিনি তো বরিতে!

দুঃখের পাঁচালী সুখের আবরণে 

 হৃদয়ে সঙ্গোপনে,

নাইকো প্রয়াস দুঃখ নিবারণে 

 মনে রাখি সযতনে৷

হর্ষ-বিষাদ তব দুই রূপ 

সমভাবে জানাই স্বাগত,

খুলে দিনু দোর আলোকিত ভোর

বিভাবরী হলো বিগত!

হৃদয় কুঞ্জে নিয়েছো যে ঠাঁই 

 সব আবিলতা সরিয়ে,

 মরুদ্যানে ফুটিয়েছো ফুল 

 নিরস হৃদয় ভরিয়ে৷

ছিনু অচেতনে জড়-বন্ধনে

 জাগতিক সুখ সন্ধানে,

নিত্য প্রয়াস বৃথা অভিলাষ 

 সময় অতিবাহিত ক্রন্দনে৷

 চিরন্তন সুখ কারে যেন কয়

জাগালে সে’ বোধ তুমি দয়াময়,

অহেতুক কৃপায় শুভ চেতনায় 

 চিত্তে দিয়েছ দোলা,

 তোমাকেই খুঁজি ভিতরে বাহিরে 

জানি ঘিরে আছো মোরে চারিধারে 

 তবু কেন মন উতলা!

স্রোতস্বিনী আজও কলতানে ----

 চলার পথে ভরায় গানে,

গতিধারা তার হলো পথ হারা 

 নীল জলধির টানে৷

তোমার পথে পথ হারাতে

 মুক্ত জগৎ-বন্ধনে,

জীবনতরী যায় ভেসে যায় 

 সুধা সাগর সন্ধানে!

স্মিত হাসি দোলা দেয়          দেহ-মন-প্রাণে 

প্রেরণা যোগাও তুমি 

 রহিয়া গোপনে,

সমুখে চলার পথে 

 হাত রেখে হাতে,

মুক্তি মন্ত্রে আলোকজ্জ্বল 

 গহন তমিস্রাতে!

তুমি আপনা হইতে এসেছ যখন 

বাহিরে যাওয়ার কিবা প্রয়োজন,

মম অন্তর তব আনন্দ নিকেতন 

হোক এই আসন থেকে 

 রাজ্য শাসন!

 

  • Log in to post comments

আগ কঁহা লগী

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গদ্গদ বচ ঘঞ = গদ্গদবাচ৷ তোমরা অনেক নেতার জ্বালাময়ী বত্তৃণতা প্রাক্–স্বাধীনতাকালে হয়তো শুণেছ৷ তাঁরা ভাষণে আগুন ছুটিয়ে দিতেন, যদিও বক্তব্যে বড় একটা কিছু থাকত না৷ শ্রোতার তলিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না৷ এই ধরণের অভ্যন্তরীণ মূল্যহীন যে ভাষণ তা’ ‘গদ্গদবাচ’৷ 

একবার বিহারে কোন এক জনসভায় জনৈক নেতা এলেন নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা পরে৷ শ্রোতারা অধীর আগ্রহে কখনো রোদে মুখ পুড়িয়ে, কখনো বা জলে জামা ভিজিয়ে অপেক্ষা করে আছে৷ নেতার আসতে দেরী হ’ল কারণ তিনি একটি দূরবর্ত্তী স্থানের সুলভ শৌচালয়ের ফিতে কাটতে গেছলেন৷

তিনি এসে কিন্তু লজ্জিত হলেন না....তাঁর মুখে কিন্তু কিন্তু ভাবও ছিল না৷ তিনি শ্রোতাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন–‘‘মালা লেনে কা টাইম নহী হ্যায়, ম্যায় বহুৎ ব্যস্ত হুঁ’’৷ সবাই ভাবল–নেতা তো, কতই ব্যস্ত! তাই মালা নিতে চাইছেন না৷ তাঁর জনৈক টাউট শ্রোতাদের এ্যাড্রেস করে বিহারের স্থানীয় ভাষায় বললেন–এঁর সময়ের অত্যন্ত অভাব৷ আর কাজও প্রচুর৷ নাওয়া–খাওয়া–শোয়া তো প্রায় উঠেই গেছে৷ দীর্ঘশঙ্কায় (মলত্যাগ) না গেলে নয়, তাই যান৷ আর ত্যাগ! ত্যাগের কথা আর বলবেন না৷ আগে দিনে দশ প্যাকেট সিগারেট খেতেন৷ আজকাল কেবল দীর্ঘশঙ্কার সময় এক প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান, নইলে পেট পরিষ্কার হয় না৷ ভেবে দেখুন তো কী দারুণ ত্যাগ! আসছে ইলেকশানের সময় এঁর কথা আপনারা যেন কিছুতেই ভুলবেন না৷ আমি আবার আপনাদের জোড়া পায়ে সালাম দিতে আসব৷ 

তারপর নেতা শুরু করলেন তাঁর ভাষণ–বন্ধুয়োঁ, আজ ইস সুবসর পর আগ লগ গয়ী৷ ক্যা হুয়ী আগ লগ গয়ী৷ আগ কহাঁ লগী আগ লগ গয়ী আপকে দিল মে, মেরে দিল মে, দুঃখিয়া মানবতা কে দিলমে৷ আগ জ্বল রহী হ্যায়...আগ জ্বল রহী হ্যায়....জ্বলতী রহেগী৷

তবু শ্রোতারা মুগ্ধ....অভিভূত!                 (শব্দ চয়নিকা, ১৮/২০)

 

পিতৃ–আজ্ঞা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ–বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত–ডাল–তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ ৰাৰা খেতে বসে বলছে–রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা, দাইলনিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস 

বেটা বললে–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–দিৰারে কইসিলাম কয় গণ্ডা 

বেটা–আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ–দিস কত

বেটা–আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷

বাপ–এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা–এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ–ত্র্যাতাযুগে যে রামচ ন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন করস্৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস

বেটা–আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷ 

বাপ–দিস কত 

বেটা–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–তুমি পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন কর্স৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইর্যা তালা ৰাইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

হে সন্ন্যাসিনী

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

ৰাৰার স্নেহ মায়ের আদর 

বাৎসল্যের কত মায়া-ডোর৷

কত আবদার ছোট ভাই বোন

হাস্যমুখর সুখী গৃহ-কোণ৷

মুক্তির ডাক কর্ণে শ্রবণ৷

 

দিবা ও নিশি মাসি পিসির 

কাণের কাছে ফিসির ফিসির৷

মন ভোলানোর কত যে ফন্দি

সংসার-সুখে যুগল বন্দি৷

দাদা ও দিদির কঠোর শাসন

ছোট্ট বাড়ির বাইরে বারণ৷

আরামে বিরামে পূর্বাশ্রম

উৎসবে ভরা কত মনোরম৷

ভুলে গেছো আজ সে-সব কাহিনী

হে সন্ন্যাসিনী, হে সন্ন্যাসিনী৷

 

কত বান্ধবী গল্পগুজব, 

হাসি মশকরা কত কলরব

সাজানো গোছানো সংসার খানি

অন্তঃপুরে কত টানাটানি---

মুছে গেছে আজ সে-সব কাহিনী

হে সন্ন্যাসিনী, হে সন্ন্যাসিনী৷

 

অঙ্গে তুলেছো ত্যাগের প্রতীক, 

পা থেকে মাথা শুধু গৈরিক৷

আহারে বিহারে কৃচ্ছ সাধন, 

মানব সেবায় দহনে মরণ৷

আত্মমোক্ষে জগতের হিতে

প্রস্তুত প্রাণ উৎসর্গিতে৷

গুরুর মন্ত্রে কর্ম-যোগিনী

হে সন্ন্যাসিনী, হে সন্ন্যাসিনী৷

(২)

কত যন্ত্রণা কত-না কষ্ট

মুখে তার ছাপ ফোটে না স্পষ্ট৷

বেদনার কাঁটা হৃদয়ে বিদ্ধ৷

বৃহতের ডাক মনের গহনে---

ভোলেনি সুখের শত প্রলোভনে৷

দানবের দল গড়েছে বলয়, 

তবু আদর্শে অকুতোভয়৷

মাথার ওপর আছেন যে তিনি 

হে সন্ন্যাসিনী, হে সন্ন্যাসিনী৷

 

  • Log in to post comments

হারানো শৈশব

বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলো

 নানান স্মৃতির মখমলে ঢাকা

শৈশবের দিনগুলো 

    কাটত মুক্ত বিহঙ্গের মতো

সেখানে থাকত না

    কোন জোয়ার ভাটা৷

তখন শীতে শীত জমত, বর্ষার বৃষ্টি

 শরতে কাশবনে কাশফুলের দোলা

আর আকাশে শাদা মেঘের ভেলা

 পুজো পুজো গন্ধে মন হত উতলা

তখন পরিবেশ দূষণের দাপট

 আর উষ্ণায়ণের ভয়াল চেহারা

কোমল মনকে করত না ভারাক্রান্ত

 প্রকৃতিও থাকত নির্মল আর শান্ত৷

বসন্তে কোকিলের 

 কুহুতান আর দখিনা বাতাস

মনকে করত পুলকিত আর উদাস, 

আবির রঙে রেঙে উঠত সবাই 

বদ্ধ ঘরে থাকত না 

     ফটিক কিংবা বলাই

তার পর কালের স্রোতে 

     শৈশবের দিনগুলো

 একদিন নিঃশব্দে হারিয়ে যায়৷

 স্মৃতিগুলো হয়ে ওঠে 

     ফিকে আর বিবর্ণ

আকুতিগুলো ধীরে ধীরে চূর্ণ৷

    শৈশব জীবন এখন বড় নিস্তরঙ্গ তার কৃত্রিম পড়াশোনা আর 

 অনুশাসনের ঘেরাটোপে বন্দী

প্রতিযোগিতার যুগে কোমলমতি

     শিশুরা হয় যান্ত্রিক

বাঁচার তাগিদে 

    কেউ বা হয় শিশুশ্রমিক৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved