Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রভাতী

আগ কঁহা লগী

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গদ্গদ বচ ঘঞ ঞ্চ গদ্গদবাচ৷ তোমরা অনেক নেতার জ্বালাময়ী বত্তৃণতা প্রাক্–স্বাধীনতাকালে হয়তো শুণেছ৷ তাঁরা ভাষণে আগুন ছুটিয়ে দিতেন, যদিও বক্তব্যে বড় একটা কিছু থাকত না৷ শ্রোতার তলিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না৷ এই ধরণের অভ্যন্তরীণ মূল্যহীন যে ভাষণ তা’ ‘গদ্গদবাচ’৷ 

একবার বিহারে কোন এক জনসভায় জনৈক নেতা এলেন নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা পরে৷ শ্রোতারা অধীর আগ্রহে কখনো রোদে মুখ পুড়িয়ে, কখনো বা জলে জামা ভিজিয়ে অপেক্ষা করে আছে৷ নেতার আসতে দেরী হ’ল কারণ তিনি একটি দূরবর্ত্তী স্থানের সুলভ শৌচালয়ের ফিতে কাটতে গেছলেন৷

তিনি এসে কিন্তু লজ্জিত হলেন না....তাঁর মুখে কিন্তু কিন্তু ভাবও ছিল না৷ তিনি শ্রোতাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন–‘‘মালা লেনে কা টাইম নহী হ্যায়, ম্যায় বহুৎ ব্যস্ত হুঁ’’৷ সবাই ভাবল–নেতা তো, কতই ব্যস্ত! তাই মালা নিতে চাইছেন না৷ তাঁর জনৈক টাউট শ্রোতাদের এ্যাড্রেস করে বিহারের স্থানীয় ভাষায় বললেন–এঁর সময়ের অত্যন্ত অভাব৷ আর কাজও প্রচুর৷ নাওয়া–খাওয়া–শোয়া তো প্রায় উঠেই গেছে৷ দীর্ঘশঙ্কায় (মলত্যাগ) না গেলে নয়, তাই যান৷ আর ত্যাগ! ত্যাগের কথা আর বলবেন না৷ আগে দিনে দশ প্যাকেট সিগারেট খেতেন৷ আজকাল কেবল দীর্ঘশঙ্কার সময় এক প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান, নইলে পেট পরিষ্কার হয় না৷ ভেবে দেখুন তো কী দারুণ ত্যাগ! আসছে ইলেকশানের সময় এঁর কথা আপনারা যেন কিছুতেই ভুলবেন না৷ আমি আবার আপনাদের জোড়া পায়ে সালাম দিতে আসব৷ 

তারপর নেতা শুরু করলেন তাঁর ভাষণ–বন্ধুয়োঁ, আজ ইস সুবসর পর আগ লগ গয়ী৷ ক্যা হুয়ী আগ লগ গয়ী৷ আগ কহাঁ লগী আগ লগ গয়ী আপকে দিল মে, মেরে দিল মে, দুঃখিয়া মানবতা কে দিলমে৷ আগ জ্বল রহী হ্যায়...আগ জ্বল রহী হ্যায়....জ্বলতী রহেগী৷

তবু শ্রোতারা মুগ্ধ....অভিভূত!              (শব্দ চয়নিকা, ১৮/২০)

 

কথা বেচে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রকাণ্ড ৰড় মিউজিয়াম (প্রত্নশালা)৷ কিউরেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত হয়েছেন একজন অতিজল্পক মানুষ৷ বিতর্কেই তিনি বেঁচে আছেন.......বিতর্কেই তিনি চাকরি বজায় রেখেছেন......... বিতর্কেই তিনি পদোন্নতির আশা পোষণ করেন৷ দর্শনার্থীদের সম্বোধন করে তিনি একটি ছোট্ট করোটি (মাথার খুলি) দেখিয়ে বললেন–আপনারা জেনে হয়তো অবাক হবেন.........সত্যিই তো, অবাক হবারই কথা.........এই করোটিটি হচ্ছে ইতিহাসধন্য পুরুষ রাণা প্রতাপের৷ উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন একজন ইতিহাসের অধ্যাপক৷ তিনি বললেন, কিন্তু স্যর, রাণা প্রতাপ তো ছিলেন তাগড়া আকারের দশাসই চেহারার মানুষ৷ তাঁর করোটি এত ছোট হবে কেন

কিউরেটর বললেন–আপনি ভারী সুন্দর কথা বলেছেন......এই তো ইতিহাসের অধ্যাপকের মতই কথা৷ তাহলে শুনুন–এই করোটিটি রাণা প্রতাপের অল্প বয়সের৷ তখন তিনি ছোট ছিলেন, তাই তাঁর করোটিও ছোট ছিল৷ তিনি যখন ৰড় হয়েছিলেন, তাঁর করোটিও ৰড় হয়েছিল, আপনি যেমন বলছেন স্যর.......কিন্তু সেই ৰড় করোটিটি আমাদের মিউজিয়ামে নেই ৷ কিন্তু স্যর,আমরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ সেটি জোগাড় করার জন্যে আমরা উদয়াস্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসছে বার যখন আপনার পদার্পণ হবে, তখন আপনাকে সেটা দেখাতে পারব৷

পিতৃ–আজ্ঞা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ–বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত–ডাল–তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ ৰাৰা খেতে বসে বলছে–রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা, দাইলনিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস 

বেটা বললে–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–দিৰারে কইসিলাম কয় গণ্ডা 

বেটা–আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ–দিস কত

বেটা–আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷

বাপ–এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা–এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ–ত্র্যাতাযুগে যে রামচন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন করস্৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস

বেটা–আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷ 

বাপ–দিস কত 

বেটা–সয় গণ্ডা৷ 

বাপ–তুমি পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন কর্স৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইরা তালা ৰাইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

 

জৈনগুরু বর্দ্ধমান মহাবীর

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

জৈনধর্মের প্রচারক বর্দ্ধমান ছিলেন এক ক্ষত্রিয়বংশের কনিষ্ঠপুত্র৷ ৫৯৯ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বৈশালীতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন৷ তাঁরও আগে আরো ২৩ জন জৈনধর্মের প্রচারক ছিলেন৷ এই জৈনধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঋষভদেব৷ জৈনধর্মের উল্লেখযোগ্য প্রচারক ছিলেন অজিত নাথ, অরিষ্ট নেমী আর পরেশনাথ৷ বর্দ্ধমানেরও দুশো বছর আগের প্রচারক ছিলেন পরেশনাথ৷ পরেশনাথের শিষ্যদের শ্বেতাম্বর আর বর্দ্ধমানের শিষ্যদের দিগম্বর বলা হয়৷ শ্বেতাম্বরা পরিধানের বস্ত্র ছাড়া আর সবকিছুই ত্যাগ করেন আর দিগম্বরা সবকিছুর সাথে পরিধানের বস্ত্রও ত্যাগ করেন৷ বর্দ্ধমান এই দুই সম্প্রদায়কে এক করেছিলেন বটে কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ বর্দ্ধমান ২৮ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করেন৷ ১২ বছর কঠোর তপস্যার পর তিনি কৈবল্য অর্থাৎ মোক্ষলাভ করেন৷ তখন তার নামকরণ হয় মহাবীর৷ আর তখন তিনি ‘জিন’ উপাধিতে ও ভূষিত হন৷

রাঢ় বাংলায় জৈনধর্মের যথেষ্ট প্রভাব ঘটেছিল৷ জৈনবাদ ও শৈবাদর্শ-পরস্পর তত্ত্বগত বিপরীত মুখী হলেও রাঢ়ের বুকে দীর্ঘকাল পাশাপাশি চলেছিল৷ রাঢ়ের একটি শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘আস্তিকনগর’৷ এ প্রসঙ্গে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘বর্দ্ধমানের নাম বার-এ দেওয়ান (লোকে গ্রহণ করেনি)৷ ‘বার -এ-দেওয়ান’ থেকে ইংরেজী ‘বার্ডওয়ান’ শব্দটি এসেছে৷ সুপ্রাচীন নাম বর্দ্ধমান আড়াই হাজার বছর ধরে চলে আসছে৷ নামটি জৈন ধর্মগুরু বর্দ্ধমান মহাবীরের নামে হয়েছে৷ শহরটির আরো প্রাচীন নাম ছিল ‘আস্তিকনগর’.. প্রাকৃতে অত্থিনগর (বর্ণবিজ্ঞান)৷

অহিংসা জৈনদের কাছে সব চেয়ে বড় জিনিস হলেও তা অবাস্তবতায় ভরা৷ যেমন, পাছে পথ চলবার সময় পায়ের চাপে জীবহত্যা হয়, সেজন্য সন্ন্যাসীরা সম্নার্জনী (ঝাঁটা) দিয়ে পথ পরিষ্কার করতে করতে চলেন৷ জল ছেঁকে খান৷ মধুপান করেন না৷ নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে জীবাণুর মৃত্যু হয়৷ সেজন্য নাকে কাপড় জড়িয়ে রাখেন৷ সেজন্য নাকে কাপড় জড়িয়ে রাখেন৷ আবার আত্মহত্যা মহাপাপ হলেও জৈনদের মর্ত্যে আত্মহত্যার দ্বারা জীবন বৃদ্ধি লাভ করে৷ যদি সন্ন্যাস জীবন যাপন সম্ভব না হয়, কামনা বাসনার নিবৃত্তি না হয় তাহলে আত্মহত্যা করার বিধান জৈন ধর্মে আছে৷ মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের জীবনে এমনটাই ঘটেছিল৷ শেষ বয়সে তিনি জৈনধর্ম গ্রহণ করেন, কিন্তু বাসনা নিবৃত্তি না হওয়ায় তিনি দাক্ষিণাত্যে আত্মহত্যা করেন৷ তবে বারো বছর সন্ন্যাসী জীবন যাপনের পর এই আত্মহত্যার বিধান আছে৷ নারীর প্রতি জৈনদের দৃষ্টিভঙ্গি এতই নীচ যে, নারী নাকি লোভের বস্তু৷ অতএব নারীসঙ্গ একান্তই বর্জনীয়৷ আবার কৃষিকার্যের ফলে মাটির নীচের পোকামাকড় মারা যায় তাই চাষ বাস ও নিষিদ্ধ৷

এইসব উদ্ভট বিধিনিষেধের জন্যই শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন--- ‘যদিও ‘জিন’ শব্দ থেকে জৈন শব্দের উৎপত্তি ও যার অর্থ হচ্ছে জয়ী হওয়া, সব কিছুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জয়ী হওয়া কিন্তু এই কূর্মভাবে তা কি করে সম্ভব? এজন্য প্রয়োজন প্রচণ্ড উৎক্ষেপণাত্মক সম্পেষণ৷ তাই জৈন মতবাদ মানুষকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, মানুষকে নিষ্কর্মের অন্ধ তমিশ্রার অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে৷’ (বাংলা ও বাঙালী)

 

  • Log in to post comments

বাঙালী জাতিসত্তা অক্ষয় অমর

সাক্ষীগোপাল দেব

আছেন যত গুণীজন শুণুন দিয়া মন,

বাঙলার হাল বাঙালীর চাল করিব বর্ণন৷

যুগ যুগ ধরে এই বাঙলায় আমরা করছি বাস,

আমরা বাঙালী ভুলে গেছি আজ বাঙলার ইতিহাস৷৷

ধর্ম নিয়ে করি মারামারি কোন ধর্ম বড়,

মানুষ আগে না ধর্ম আগে মনেতে বিচার কর৷

ধর্মমতের যত ধবজাধারী করছে কলরব৷৷

ধর্ম নিয়ে ছিল নাকো ভেদ ছিল নাকো জাতপাত,

সবার বিপদে সবাই বন্ধু বাড়িয়ে দিত হাত৷

বিদেশী শাসক বিভেদের বিষ ছড়িয়ে দিয়ে মনে

শোষন করে নিঃস্ব করেছে বাঙলার জনগণে

সেই শোষন আজও শেষ হয় নাই চলছে নামে বেনামে

বাঙালী তুমি জাগো আরবার সেই বিপ্লবী গানে৷৷

সোনার বাঙলা করেছে টুকরো কেড়েছে মুখের ভাষা

বাঙালী তুমি ঘুম থেকে জাগো দুয়ারে সর্বনাশা৷

রক্ত দিয়েছ স্বাধীনতা পেয়েছ, তবু কেন কাঁদো আজও

দিন এসেছে বাঙালী তুমি ফের রণসাজে সাজো৷

ভুলে যেও না ওহে বাঙালী বাঙলার গৌরব৷

বাঙলা মায়ের অগ্ণিশিশুরা ছড়িয়েছে সৌরভ৷

বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষ, সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম,

বিনয়-বাদল-দীনেশ প্রীতিলতা শেষ হবে নাকো নাম৷

তাঁদের রক্তে লাল হয়ে আছে আজও বাঙলার মাটি,

লড়াই আজও শেষ হয় নিকো এযে দুর্জয় ঘাঁটি৷

মোরা হিন্দুও হই মুসলিমও হই, মোদের একটিই পরিচয়,

আমরা বাঙালী পৃথিবীর বুকে হয়ে যাবে অক্ষয়৷৷

 

  • Log in to post comments

"রাধে বদন তুলে.......’’

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

সেকালে কোলকাতায় বসবাসকারী উৎকলবাসীদের মধ্যে গুড়ুকী তামাকের ব্যাপক প্রচলন ছিল৷ স্থানীয় লোকেদের সে তামাকের রসৰোধ ছিল না৷ যে দু’একজন লোকের তার রসৰোধ হয়েছিল তাঁরা গোপনে ওড়িষ্যাবাসীদের কাছে গিয়ে গুড়ুক সেবন করে আসতেন৷ সাধারণতঃ ওড়িষ্যাবাসীরা মানুষ হিসেবে খুব ভাল হয়৷ কেউ কিছু চাইলে তারা না দিয়ে থাকতে পারে না৷ তারাও তাই গুড়ুক–আকাঙক্ষী লোকেদের গুড়ুকী দানে তৃপ্ত করত৷ লোকে বলে, কোনো অজানা–শাস্ত্রে নাকি আছে ঃ ‘‘তাম্রকূটং মহদ্দ্র ব্যং শ্রদ্ধয়া দীয়তে যদি৷ 

অশ্বমেধসমপূণ্যং টানে টানে ভবিষ্যতি’’৷ 

অর্থাৎ তাম্রকূট একটি মহৎ বস্তু৷ কেউ যদি শ্রদ্ধার সঙ্গে কাউকে তামাক অফার করে (উপহার দেয়), তাহলে গ্রহীতা যতবার সেই তামাকে টান দেবেন ততবার তামাক–পাতা অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্যফল পেতে থাকবেন৷ এই ছিল সেকালকার গুড়ুকী তামাকের রসকথা৷ 

কৃষ্ণযাত্রা চলছে৷ নাটক রীতিমত জমে উঠেছে৷ কৃষ্ণের ভূমিকায় যে নেৰেছে তার অভিনয়ের তারিফ সবাই পঞ্চমুখে করছে৷ স্মারককে বলতে হবে, ‘‘রাধে, বদন তুলে চাও৷’’ এমন সময় স্মারকের কাশি পেয়ে  গেছে৷ কাশির চোটে সে কথা বলতে পারছে না৷ ওই রকমের একটা চরম নাটকীয় মুহূর্তে ঝানু অভিনেতা কৃষ্ণটি তো আর মুখ ৰুজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সে উশ্খুশ্ করছে–কী বলি! কী বলি! এমন সময় কন্সার্ট পার্টির একজন আরেকজনকে গুড়ুকী তামাক অফার করতে করতে বললে ঃ ‘‘নাও দাদা, গুড়ুক খাও৷’’

যাত্রার কৃষ্ণের মুশকিল আশান হ’ল৷ তার ঘাম দিয়ে ম্যালেরিয়ার জ্বর ছাড়ল৷ সে বললে–‘‘রাধে, বদন তুলে গুড়ুক খাও’’!

 

 

বসন্তকাল

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বোশেখ থেকে বসে বসে

কেটেছে দিন কাল গুণে,

বসন্ত তোর রঙ্গভরা

সঙ্গ পাবো ফাল্গুনে৷

বন্ধ্যা মাটি স্বপ্ণ দেখে

ফুলের বাগান,

দখিন হাওয়ায় মন্দ্রিত তার

বন্দনা গান৷

ডানার শিশির রৌদ্রে মোছে

শঙ্খ চিল,

নেই কুয়াশা বিষন্নতার---

আকাশ নীল৷

রাতের আকাশ সরায় আঁধার

সূর্র্যেদয়

পাষান বুকে সুপ্ত প্রাণের

 অভ্যুদ্বয়৷

বন-মাতানো কুহুকুহু

মন মাতাল,

পলাশ বনে লাগলো আগুন

বসন্তকাল৷

 

 

  • Log in to post comments

বসন্তের আগমনে

কৌশিক খাটুয়া

শীতের বিদায় অন্তে

       বসন্তের কাঙ্ক্ষিত আগমন, 

ঋতুরাজ সমাগত তাই 

         সেজে ওঠে প্রকৃতি ও বন৷

উত্তরে শুষ্ক হাওয়ার শেষে 

         সজীবতা আনে দখিনা মলয়,

শীতের পত্র মোচনের পর 

          শাখায় শাখায় নব কিশলয়!

রাঙা হলো ভোরের আকাশ 

     নব রাগে রঞ্জিত বন,

    রঞ্জিত হলো হৃদাকাশ

    রঞ্জিত কুসুম কানন!

  নব সাজে সজ্জিত প্রকৃতি

       মহা সুখে ঋতুরাজ বসন্তে,

সজ্জিত নিখিল ভূবন, 

            ময়ূরের নৃত্যের ছন্দে! 

ভ্রমরের প্রতীক্ষার অন্ত 

        ফুলের আন্তরিক আবাহনে!

   রাঙা হলো পূর্ব-গগন

          প্রভাত-পাখির কলতানে!

কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠ

           রিক্ত হৃদয় দেয় ভরিয়ে,

গগনে নক্ষত্র খচিত মালা

   অমানিশার গ্লানি দেয় সরিয়ে৷

শতরূপে বিরাজিছো সমুখে ও দূরে,

 বুঝিলাম নিকটে আছো, 

        মোহন বাঁশির সুরে৷

     প্রকৃতির নিত্য নব সাজ

 তোমার উপস্থিতির পরিচয়,

 অপ্রত্যাশিত অবাঞ্ছিত সঙ্কটে

 শরণাগত, শিরোপরে বরাভয়!

প্রকৃতি সেজেছে আজ 

       কার নির্দেশে,

নেপথ্যে তুমি কারিগর 

 জগৎকে ভালোবেসে! 

কুঁড়িখানি ঢাকা কিশলয়ে

    বিকশিত হোলো ক্রমে ফুলে,

কন্টকের নিরাপদ বলয়ে 

       পরাগে কে মধু দিল ঢেলে!

শিমুল পলাশ কৃষ্ণচুড়ায় বন

       রঞ্জিত রক্তিম রাগে,

  রসালের নধর দেহখানি

আমের মঞ্জরীতে ঢাকা থাকে৷

      দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর 

অবশেষে কোকিলের কুহু রব, 

    বসন্ত নয়কো নিঃস্ব

  সাথে তার কত বৈভব!

ফুলবন জলসায় মজে

       মধুপের গুণগুণ সুরে,

প্রজাপতি  বিশিষ্ট অতিথি

         রঙীন ডানায় আসে উড়ে!

অরণ্যে সবুজের সমারোহ 

  উজ্জীবিত প্রকৃতি জুড়ে,

বসন্ত থাকুক মন ভরে 

   দেহ হতে শত হস্ত দূরে!

 

 

  • Log in to post comments

অভিষেক

আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

হে বীর, 

ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে

তুমি এক উজ্জ্বল ধুমকেতু৷

যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভিক সৈনিক,

আপোষহীন সংগ্রামী তুমি,

ত্যাগ তিতীক্ষার মূর্ত্ত প্রতীক৷

উদার চিত্তে ছিল তব আহ্বান

‘‘আমায়  রক্ত দাও, 

আমি স্বাধীনতা দোব’’

গড়লে আজাদহিন্দ ফৌজ,

শক্ত হাতে দিলে তাতে নেতৃত্ব,

সৈনিক বেশে তুললে জাতীয় পতাকা

গড়লে সরকার দেশের মাটিতে৷

জানে নি সে মানুষ পাওনি, মর্যাদা সেদিন তাই,

সাম্রাজ্যবাদীর কোমড় ভেঙে হলে তুমি নিরুদ্দেশ,

কিন্তু না, দমেনি মানুষ, থামেনি যুদ্ধ,

হ’ল বিদ্রোহ ঘোষণা---

সৈন্যদলে স্থানে স্থানে,

পালাবার পথ নেই জেনে

হ’ল হস্তান্তরিত শোষণ শাসনের,

পেলো রাজনৈতিক 

স্বাধীনতা ভারতবর্ষ,

নেই তাতে অন্ন বস্ত্র 

বাসস্থানের গ্যারান্টি,

পচে গলে মরছে মানুষ রাস্তার ধারে,

দ্বীপান্তরে শুস্ক বনভূমিতে৷

 

  • Log in to post comments

রূপালী রজনী

কৌশিক খাটুয়া

আজ ফাগুনের পূর্ণিমা তিথি 

বংশী বাজিয়ে কে এসেছে অতিথি, 

বরণ করেছি প্রেমে-অনুরাগে

মন রঞ্জিত তাঁহারই রাগে! 

তাঁকে দেখেছি নিপবনে

পেয়েছি রবির কিরণে,

দেখেছি ধরণীর প্রতি কোনে কোনে

স্নিগ্দ দখিনা পবনে৷

ফুলের হাসিতে মোহন বাঁশিতে 

তাঁহার মুগ্দ প্রকাশ,

পাপড়ি মেলিয়া কুসুম কাননে

তাঁর বর্ণময় বিকাশ!

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved