বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা যত বাড়ছে, তত উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্রের জল৷ আন্টার্কটিকা সংলগ্ণ সমুদ্রের উষ্ণ স্রোতে বরফ গলে যাচ্ছে৷ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই তা নিয়ে আশঙ্কিত৷ সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ব্যাপক ভাবে কমিয়ে আনা হলেও ২১০০ সালের মধ্যে আন্টার্কটিকার বরফক্ষয় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সবচেয়ে কম নির্গমনের পরিস্থিতিতেও ২১০০ সালের মধ্যে আন্টার্কটিকার বরফস্তরের নিট বরফের ভর কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ৯২ শতাংশ৷ অর্থাৎ, নির্গমন কমিয়ে আনলেও বরফক্ষয় পুরোপুরি থামবেএমন নিশ্চয়তা নেই৷ তবে নির্গমনের মাত্রার উপর ভবিষ্যতে বরফক্ষয়ের পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে৷
গবেষকেরা দেখিয়েছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেলেও এই শতাব্দীতে, অর্থাৎ ২১০০ সালের মধ্যে আন্টার্কটিকার বরফ ক্ষয় বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই৷ তবে ক্ষয়ের পরিমাণে তারতম্য হতে পারে৷ সেই সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের দিকে তাকানোর আগে বোঝা দরকার, কী ভাবে আন্টার্কটিকা মহাদেশের বরফের উপর উষ্ণায়নের প্রভাব কার্যকর হচ্ছে৷
আন্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের ৯৮ শতাংশই বরফাবৃত৷ এই বরফ রয়েছে শক্ত ভূখণ্ডের উপর৷ তার কিনারা বরাবর কিছু ভাসমান বরফের স্তর রয়েছে, যার গুরুত্ব অপরিসীম৷ বিজ্ঞানীদের দাবি, চলমান হিমবাহগুলির গতি কমাতে সাহায্য করে বরফের এই ভাসমান স্তরই৷ স্থলভাগের হিমবাহ ও বরফপ্রবাহ স্বাভাবিক ভাবেই সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যায়৷ ভাসমান বরফের স্তর তাদের সেই গতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে৷ অর্থাৎ, তাদের কিছুটা ঠেকিয়ে রাখে ভাসমান বরফের স্তর৷ এতে হিমবাহের গতি পুরোপুরি রুদ্ধ না হলেও অনেকাংশে হ্রাস পায়৷ কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরই বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হলে ২১০০ সালের মধ্যে কম নির্গমনের পরিস্থিতির তুলনায় আন্টার্কটিকার বরফক্ষয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ৮৯ শতাংশ৷ অর্থাৎ, এই ৮৯ শতাংশ সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা নয়, বরং বেশি নির্গমনের ফলে আন্টার্কটিকার বরফক্ষয় আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনাকেই নির্দেশ করছে৷ গবেষকদের মতে, বরফক্ষয়ের এই অতিরিক্ত মাত্রা ভবিষ্যতে উপকূলীয় এলাকাগুলির সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়াবে৷ ইউচেং এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘ক্ষতি আটকাতে না পারলেও তার পরিমাণ এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷ মনে রাখতে হবে, মানুষের কাজের জন্য বায়ুমণ্ডলে নির্গত এক এক টন গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব শত শত বছর ধরে স্থায়ী থাকে৷’’ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন খুব বেশি থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে আন্টার্কটিকার বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রায় ১৫.৭ সেন্টিমিটার বা ৬.২ ইঞ্চি বাড়তে পারে৷ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই বৃদ্ধি প্রায় ২৫.৪ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে৷ এর ফলে সমুদ্রতীরবর্তী শহরগুলিতে বিপদ বাড়তে পারে৷