চারদিকে চাঁই চাঁই বরফ৷ আন্টার্কটিকার কথা ভাবলে প্রথমে এই দৃশ্যই চোখের সামনে ভেসে ওঠে৷ কিন্তু এই বরফের নীচেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য জগৎ৷ যা নিয়ে অবিরাম গবেষণা চলছে৷ তেমনই এক গবেষণায় খোঁজ মিলল বরফের স্তূপের তলায় লুকিয়ে থাকা এক ‘দানব’-এর৷
আন্টার্কটিকার পশ্চিমে রয়েছে হাডসন পর্বতমালা৷ সেখানেই রয়েছে পাইনদ্বীপ হিমবাহ৷ রয়েছে বিভিন্ন আগ্ণেয়গিরিও৷ সেই আগ্ণেয়গিরিগুলির চূড়ায় প্রায়শই কিছু অদ্ভূত-দর্শন পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ গোলাপি রঙের গ্রানাইট পাথর৷ যা পারিপার্শিক পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷ সেই কারণেই এগুলি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছিল৷ আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে বেমানান এই উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বোল্ডারগুলি কী ভাবে আগ্ণেয়গিরির চূড়ায় পৌঁছোল, তা গত কয়েক দশক ধরে ভাবিয়ে তুলেছিল বিজ্ঞানীদের৷
এই অস্বাভাবিকতার উৎস সন্ধানের চেষ্টা চলছিল বহু বছর ধরেই৷ এত দিনে সেই রহস্যের সমাধান হল৷ গোলাপি পাথর রহস্য বিজ্ঞানীদের পৌঁছে দিল আন্টার্কটিকার হিমবাহের নীচে এক অজানা দুনিয়ায়৷ খোঁজ মিলল গ্রানাইট পাথরের এক দানবাকার স্তূপের৷ যা চওড়ায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার৷ এবং প্রায় সাত কিলোমিটার পুরু৷ যে প্রকাণ্ড চেহারা এই গ্রানাইট স্তূপের, তাতে ব্রিটেনের ওয়েলের প্রায় অর্ধেক ধরে যাবে৷
আন্টার্কটিকায় কোনও স্থায়ী মনুষ্যবসতি নেই৷ গবেষণার প্রয়োজনে এখানে বিজ্ঞানীরা গিয়ে সাময়িক আস্তানা তৈরি করেন৷ ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস)-এর নেতৃত্বে এক গবেষকদলও গত কয়েক বছর ধরে আন্টার্কটিকায় গবেষণা চালাচ্ছে৷ এই গোলাপি পাথর রহস্যের সমাধানও করে ওই গবেষকদলই৷ তারা প্রথমে পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে থাকা গ্রানাইটের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেন৷ তাতে দেখা যায়, পাথরগুলির বয়স প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি বছর৷ অর্থাৎ, পাথরগুলি জুরাসিক যুগের৷