ভারতীয় গণতন্ত্র গভীর সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে৷ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে যে ভারত গর্ববোধ করে তাদের কাছে এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়৷ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রতিবেদন সূচকে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান নিম্নমুখী৷ মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ প্রতিবেদনের বিষয় ছিল বৈশ্বিক রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা৷ এই প্রতিবেদনে ভারতকে মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ থেকে নামিয়ে আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ সুইডেন ভিত্তিক ভি-ডেম ইনস্টিষ্টিউট তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতকে একটি নির্বাচিত স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বলে উল্লেখ করা হয়৷ অপর একটি প্রতিবেদনে ভারতকে ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷
সুইডেনের ভি-ডেম সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা জনসাধারণের দাবি, আন্দোলন ও সরকারের পদক্ষেপ ইত্যাদি বিচার করে বিভিন্ন দেশকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে যেমন উদারনৈতিক গণতন্ত্র, নির্বাচিত গণতন্ত্র, নির্বাচিতদের স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারি অগণতান্ত্রিক দেশ৷ সুইস সংস্থার ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতে নির্বাচিত গণতন্ত্র থাকলেও তা নির্বাচিতদের স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়েছে৷ জনগণের নির্বাচিত সরকার সব শ্রেণীর মানুষের কথা শুণছে না, সংবিধান বহির্ভূত কাজ করছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে৷
বিশ্ব গুরুর সরকার সম্পর্কে বিশ্বের রাজনৈতিক মহলের এমনটাই ধারণা যে ভারত এখন নির্বাচিতদের স্বৈরতান্ত্রিক দেশ৷ ২০২১ সাল থেকেই ভারতের গায়ে এই স্বৈরতন্ত্রের ছাপ পড়েছে৷ ভারতের অবস্থা প্রতিবেশী বাংলাদেশের থেকেও খারাপ৷ ১৭৯টা দেশের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে ভারতের অবস্থান ১০৫ নম্বরে৷
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ হয় সাংবাদিকরা সরকারের হয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে নতুবা ভয়ে চুপ থাকছে৷ গণতন্ত্রের পক্ষে আরও উদ্বেগের হলো নাগরিক সমাজের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন, অনেক মানুষকে শুধু সরকার বিরোধী বলে জেলে ভরে রাখা আছে৷ ওই সুইডিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতের শিক্ষা সংস্কৃতিও সরকারের আক্রমণের শিকার৷ আমেরিকার সংস্থা ফ্রিডম হাউস তাদের প্রতিবেদনে ভারতকে আংশিক স্বাধীন দেশের তকমা দিয়েছে৷