কাশ্মীরের ফলের কথা বললেই প্রথম মনে আসে আপেলের কথা৷ কাশ্মীরি আপেলের সুখ্যাতি ভারতের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও৷
কাশ্মীরের ফলের কথা বললেই প্রথম মনে আসে আপেলের কথা৷ কাশ্মীরি আপেলের সুখ্যাতি ভারতের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও৷ কিন্তু তার মধ্যেই যেন ব্যতিক্রম মধ্য কাশ্মীরের গান্ধেরবাল জেলার রেপোরা গ্রাম৷ গোটা উপত্যকার বাসিন্দারা যেখানে আপেল চাষ করে থাকেন, সেখানে রেপোরা গ্রামের বাসিন্দারা আঁকড়ে রয়েছেন আঙুল চাষ৷ স্বাভাবিকভাবেই কাশ্মীরে আঙুর উতাদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই গ্রাম৷ সাহিবি, হুসেইনি ও থমসন সহ বিভিন্ন প্রজাতির আঙুর চাষ হয় রেপোরায়৷ ক্রমশ পর্যটকদের মধ্যেও এই গ্রামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷ আঙুর বাগান দেখতে এবং টাটকা ফল কিনতে ভিড় করছেন অনেকেই৷
জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে গান্ধেরবাল জেলাজুড়েই সবচেয়ে বেশি আঙুর চাষ হয়৷ সরকারি হিসাব বলছে, এই জেলায় ২০৬ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আঙুর চাষ হয়৷ এর মধ্যে রেপোরাতেই রয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হেক্টর আঙুর খেত৷ রেপোরায় আগস্ট মাস থেকে আঙুর পাকতে শুরু করে, যা চলে সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত৷ কৃষিবিদরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সেভাবে আঙুর পাওয়া যায় না৷ আর সেই কারণেই লাভবান হচ্ছেন রেপোরার কৃষকরা৷ আন্তর্জাতিক বাজারে ‘প্রিমিয়াম কোয়ালিটি’র একটি আঙুরের ওজন ধরা হয় ৪ থেকে ৫ গ্রাম৷ সেখানে রেপোরায় উতন্ন একটি আঙুরের ওজন হয় প্রায় ১২ গ্রাম৷
মুজফফর খান নামে এক কৃষক জানালেন মহারাজা হরি সিংয়ের আমল থেকেই তাঁরা রেপোরায় আঙুর চাষ করে আসছেন৷ মহারাজার নিজের জমিতেও এই চাষ হত৷ বর্তমানে সেই জমি উদ্যান পালন দপ্তরের অধীনে রয়েছে৷ মুজফফর জানালেন, ওই গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দারই এখন আয়ের প্রধান মাধ্যম আঙুর চাষ৷ জাহাঙ্গির আহমেদ খান নামে আরও এক কৃষক জানিয়েছেন, উদ্যান পালন দপ্তর একটি আঙুর প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে৷ সেটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আরও সুবিধা পাবেন কৃষকরা৷