সমাজের অন্তরাত্মা হ’ল সমবায় আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে৷ একসঙ্গে চলার লক্ষ্যই সমাজ তাই এক সঙ্গে চলতে গেলে যে মূল যোগসূত্রটা দরকার বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে সেটা হ’ল খেয়ে পরে একসঙ্গে চলা, নুন্যতম পাঁচটি জিনিস আবশ্যিক তা হ’ল অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান৷ ধনতান্ত্রিক ও জড়বাদী সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থায় এই পাঁচটি নিয়ে চলছে শোষণ৷ তাই শোষণ মুক্তির আন্দোলনে সর্ব্বাগ্রে এসে দাঁড়ায় উৎপাদন ও বন্টনে সামাজিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া৷ সামাজিকীকরনটার সার্থক বিকাশ হ’ল সমবায় প্রথাকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া৷ কি কৃষিক্ষেত্রে, কি শ্রমিক শিল্পক্ষেত্রে সবস্থানে তাদের বঞ্চনা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার গ্যারান্টি দিতেই হবে৷ সর্বক্ষেত্রে তাদের মালিকানাসত্তকে স্বীকার করে নিতে হবে৷
তাই সমবায় প্রথায় উৎপাদন ও বন্টন যদি চলে তা হলে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে সমাজের মানুষকে শোষণ করা যায় না৷ তাই শোষণ মুক্তির পথকে ধীরে ধীরে প্রশস্ত করে তুলতে হবে৷
পৃথিবী এগিয়ে চলেছে কিন্তু ধনী দরিদ্রের বিভেদ পার্থক্যটা তো বাড়ছে বই কমছে না৷ মানুষকে মুক্তির কথা শোনানো হচ্ছে কিন্তু চোরাপথে শোষণ ঠিকই আছে৷ জীবনের বিভিন্ন দিকে সেই শোষণ চলছে৷
তাই শোষণ করবো না আর শোষিত হবো না এমন মানসিকতাকে দৃঢ় করতে চাই স্বচ্ছ জীবন দর্শনের অনুশীলন৷ অধ্যাত্মবাদই পারে সেই জীবন দর্শনের সন্ধান দিতে৷ বিশ্বের বুকে আনন্দ মার্গের প্রবক্তা শ্রদ্ধেয় প্রভাতরঞ্জন সরকার দৃঢ়ভাবেই ঘোষণা করে গেছেন যে মানুষ অর্থনৈতিক জীব নয়, মানুষ আধ্যাত্মিক জীব৷ সেই আধ্যাত্মিক জীবকে অবশ্যই আধ্যাত্মিক অনুশীলন করে জীবনদর্শন ও জীবনবোধকে জাগ্রত করতে হবে৷ মানুষকে অবশ্যই যুক্তিবাদী ও নীতিবাদী হতে হবে৷ এই সমবায় প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই সৎ–নীতিবাদী মানুষ৷ সৎ–নীতিবাদী মানুষ না হলে সমবায় বাঁচবে না৷ শোষকের দল ভীড় জমাবে ও ধীরে ধীরে সমবায় ব্যবস্থাকে অচল করে শোষণ চালিয়ে তাকে ধ্বংস করে দেবে৷ তাই অদ্যাবধি আমরা দেখছি পৃথিবীর অনেক দেশে বিশেষ করে ভারতে সমবায় ধবংস হয়ে গেছে৷ নীতিবাদী, সভ্যব্যষ্টিদের আন্তরিকতায় সমবায় বাঁচতে পারে ও সেই সমবায় ফলে ফুলে সমৃদ্ধশালী হয়ে মানুষের সমাজকে উন্নয়নের পথে টেনে নিয়ে যেতে পারে৷
দেখা গেছে কৃষি ও শিল্পে সমবায় প্রথাকে অনেক স্থানে চালু করা হয় কিন্তু অসৎ ব্যষ্টিরা সমবায়কে ধ্বংস করে দিয়েছে ও দিচ্ছে৷
দেশে তাঁত, সারের ক্ষেত্রে এমনকি ব্যাঙ্কিংক্ষেত্রে সমবায় অধিকাংশক্ষেত্রে ধ্বংস হয়ে গেছে৷ এছাড়া সমবায়কে ষড়যন্ত্র করে ধ্বংস করে দিচ্ছে ব্যবসাদার ও ধনী গোষ্ঠী কারণ সমবায় এমনই এক শক্তিশালী ব্যবস্থা যা প্রতিষ্ঠিত হলে ও সার্থক হলে ধনী শ্রেণীর শোষনটা বন্ধ হয়ে যাবে৷ তাই অসৎ লোভী ব্যষ্টিদের সহযোগিতায় সম্ভাবনাময় সমবায় ব্যবস্থাকে প্রতি পদে পদে মার খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এটা বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়৷
শুধু যে কৃষিক্ষেত্রে সমবায় চালু হবে তা নয়৷ ছোট ছোট শিল্পগুলি যদি গ্রামগঞ্জে এই সমবায়ের মাধ্যমে চালু হয় ও পরিচালনা করে তা হলে তাদের আন্তরিকতাও শ্রম দান এর মাধ্যমে সমবায় প্রথায় উৎপাদন করতে পারে ও বন্টন এর দায়িত্ব নিয়ে তারা সমবায় প্রথাকে সেবার সুযোগ দিয়ে সমাজকে গতিশীল ও শোষণমুক্ত করতে সক্ষম হতে পারে৷
বর্ত্তমানে ব্যবসাদাররা কৃত্রিমভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে শোষণ করে চলেছে৷ বাজারে চাল, ডাল, তেল, আনাজপত্রের দাম এমনই আকাশছোঁয়া যা জনসাধারণের পক্ষে তা ক্রয় করাটা অসম্ভব হয়ে পড়ছে৷ লাভও নয় লোকসানও নয় এই আদর্শকে সামনে রেখে সমবায় সেবা দিয়ে যাবে তা হলে জনসাধারণ শোষণের হাত হতে বাঁচতে পারবে ও প্রকৃত সমাজ গড়ে উঠবে৷ বেকার সমস্যা কমে যাবে৷ সকলের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে৷ আর সমগ্র মানব সমাজ আজ যে শোষিত হয়ে বঞ্চনার শিকার হয়ে আধমতরা হয়ে পড়ে আছে তার হাত হতে বাঁচবে৷ সমাজতন্ত্র ধীরে ধীরে সমাজ সেবায় এগিয়ে আসবে সামাজিক–র্থনৈতিক শোষণ কবে যাবে৷ গণতন্ত্রও সার্থকভাবে বিকশিত হবে সমাজের বুকে৷ মানুষের জীবনে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হবে মানব সমাজ গড়ে উঠবে পৃথিবীতে৷ অত্যন্ত দুঃখের কথা হ’ল অদ্যাবধি প্রকৃত মানব সমাজই গড়ে ওঠেনি৷ একদল শোষক নানা ছলচাতুরী করে মানুষের সমাজকে শোষণ করে সম্পদের পাহাড় জমাচ্ছে আর কোটি কোটি মানুষ সেই শোষণের শিকার হয়ে আধমরা হয়ে পড়ে পড়ে মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করছে৷ শোষণমুক্তির অন্যতম হাতিয়ার হ’ল সমবায় প্রথার সার্থকবিকাশ৷ আর তারই মাঝে সার্থকভাবে গণতন্ত্র বিকশিত হবে৷ সমাজতন্ত্রের প্রাণভ্রমরা আটকে আছে সমবায়ের মধ্যে৷ সেই বীজকে জাগ্রত করার দায়িত্ব সমাজের সৎ ও নীতিবাদী, আদর্শবান মানুষদের৷ সমবায় ছাড়া শোষর বন্ধ হবে না ও হতে পারে না৷ তবে শত শত বছরের শোষণ ও বঞ্চনা তো কয়েক বছরের মধ্যে দূর হবে না৷ তাই ধীরে ধীরে সেই আলোর পথকে প্রশস্ত করে তুলতে হবে সমাজ সেবক ও দেশপ্রেমিকদের৷
- Log in to post comments