রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে সব প্রস্তাব রাখলেন তাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের সদিচ্ছা আছে, সবকা সাথ সবকা বিকাশের প্রস্তাবও আছে৷ রাজ্যের সর্বশ্রেণীরমানুষের কল্যাণের ভাবনাও বাজেট প্রস্তাবে আছে৷ তবে তার কতটা বাস্তবায়িত হবে সেটা দেখার জন্যে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে৷ প্রস্তাবিত বাজেটের অর্ধেক বাস্তবায়িত হলেও পশ্চিমবঙ্গ এগোবে৷
রাজ্য বাজেটে যেমন পিছিয়ে থাকা জনজাতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, ডি.এ বাড়িয়ে সরকারী কর্মচারীদের খুশী রাখার চেষ্টাও হয়েছে৷ পূর্বতন সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলিও বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে নাম পরিবর্তন করে৷ বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে৷ ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় কেন্দ্রের বহুমুখী প্রকল্পের সঙ্গেও এবার রাজ্য জুড়বে৷ রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কর্মসংস্থানের প্রস্তাব রয়েছে৷ সব দিক দিয়ে বাজেটকে বিকাশমুখী বলা যায়৷
রাজ্য বাজেটে যে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন হয় তবে পশ্চিমবঙ্গ সত্যিই বদলে যাবে৷ কিন্তু বাজেটের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রসদ যোগানের কোন স্পষ্ট দিশা নেই৷ বাজেটে যে সব প্রস্তাব রাখা হয়েছে তা বাস্তবায়িত করতে যে অর্থের প্রয়োজন---বরাদ্দ অর্থ তার তুলনায় অনেক কম৷ অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর করতে হলে চাই অর্থের যোগান৷ এক্ষেত্রে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কেন্দ্রের বঞ্চনা বন্ধ হবে বলেই মনে হয়
রাজ্যের আর্থিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ৷ যদিও রাজ্য থেকে রাজস্ব আদায় করেই কেন্দ্র চলে৷ তাই রাজ্যের বিকাশে কেন্দ্রেরও দায়ীত্ব থাকে৷ কিন্তু রাজ্যে বিরোধী দলের শাসন থাকায় গত কয়েক বছরে রাজ্য বঞ্চিত থেকেছে তার ন্যায্য প্রাপ্য থেকে৷ আশা করা যায় এখন কেন্দ্রে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় রাজ্য তার প্রাপ্যের অধিকই পাবে৷ কিন্তু তাতেও কি সুরাহা হবে!
বাজেটে আর্থিক ঘাটতি রাজস্ব ঘাটতি কমানোর কথা বলা হলেও কিন্তু কিভাবে কমবে তার দিশা বাজেটে নেই৷ নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের দায়বদ্ধতা বাজেটে স্বীকার করলেও তা কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর৷ তাই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়ন হয় তার উপরই নির্ভর করছে সোনার বাঙলার ভবিষ্যৎ৷