প্রতিটি মানুষকে এই পরিবর্তন জগতে বাধ্য হতে হবে পরিবর্ত্তন মেনে নিতে৷ তাই অতীতের যে অবস্থা এই পৃথিবীতে ছিল আজ আর তার চিহ্ণ দেখা যাবে না৷ মানুষের সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি আজ দ্রুত তালে এগিয়ে চলেছে৷ তাই আজকের যে সংবিধান ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সেটিতে সেই পরিবর্ত্তনশীলতাকে মান্যতা দিয়ে সংবিধানের নির্দেশনা মূলক প্রধান বিষয় হলো যেকোন ব্যষ্টি এই দেশের শাসনে আসবেন তাঁকে অবশ্যই ধর্ম নিরপেক্ষ নীতিকে মান্যতা দিয়ে জাত,পাত, ধর্মমত, নির্বিশেষে মানুষ হিসাবে সকলকে সেই জনসেবা দিয়ে যেতে হবে মানবতাবাদী হয়ে৷ তবে নিজের ধর্মমত ব্যাষ্টিজীবনে পালনে কোন বাধা নেই৷ এর কারণটা কি? সেটা বুঝে নিতে হবে প্রকৃত মানবতাবাদী হিসাবেই৷ তবেই তিনি সুষ্ঠু শাসক হতে পারবেন৷ ভারতযুক্তরাষ্ট্র-এর সংবিধানটি গড়ে তোলেন বিশেষ কোন রাজনৈতিক দল নয় এটি ভারতযুক্ত রাষ্ট্রের ২৪৮ জন জ্ঞানী ও গুণী মহিলা ও পুরুষ সমবেতভাবে সারা পৃথিবীর সংবিধানকে নিয়ে একেবারে নিরপেক্ষ আলাপ আলোচনা করে ভারতের নানা ভাষাভাসী ও নানা ধর্মমতের মানুষের কথা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেই৷ সেই সংবিধানকে সেই কংগ্রেস সরকার লোকসভায় সর্বসম্মতি ক্রমে স্বীকৃতি দান করেন৷ তাতে স্বাক্ষর দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাননীয় রাজেন্দ্রপ্রসাদ মহাশয়৷ ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী৷ ভারতযুক্ত রাষ্ট্র হয় সেই দিন থেকে পরে এটিতে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষনা করা হয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনে৷ যেটিকে বর্তমান হিন্দুত্ববাদী এন.ডি.এ সরকার মানতে চাননা৷ এই মহান ভারত যুক্তরাষ্ট্রে সেই রামমন্দিরে দাঁড়িয়ে মোদিজী ইংরেজ আমলের মেকলেন শিক্ষানীতিকে কঠোর সমালোচনা করেন৷ তিনি তাঁর মতামত দান করেন৷ কিন্তু সেটি ছিল বিদেশী ইংরেজ সরকার যাঁদের ভাষা ছিল ইংরাজী৷ তাই ইংরাজী শিক্ষার নির্দেশ দান করেন৷
শুধু তাই নয় সারা পৃথিবীতে ইংরেজ তার রাজত্ব বিস্তার করে রেখেছিল৷ তাই বলা হত ইংরেজ রাজত্বে সূর্য অস্ত যায় না৷ যাই হোক শিক্ষা নীতিতে ত্রি-ভাষা সূত্র আরোপ করা হয়--- মাতৃভাষা, সংস্কৃত ও ইংরেজী৷ তাই চলে আসে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পর্যন্ত৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভাষা শিক্ষানীতির কিছুটা পরিবর্তন হয়৷ কিন্তু ইংরেজ বাংলা ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিত৷ এমন কি প্রশাসনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাঁরাও বাংলা শিখে প্রশাসন চালাত৷ সেই সময় বিশ্বের কাছে ভারতের শিক্ষিত সমাজ বলতে বাঙালীকেই চিনতো৷ বাঙালী জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতপাতের বিভেদ অনেক কম ছিল৷ বাঙালী জনগোষ্ঠী উদার মানসিকতায় পুষ্ট৷ তাই আজও এই বাঙলায় সব প্রদেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বাস করেন৷ এই বাঙলার বীর সন্তান রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মমতের নিষ্ঠুর নির্মম সতীদাহ প্রথা আন্দোলন করে বন্ধ করতে বাধ্য করান তৎকালীন ভারতের ইংরেজ শাসন কর্তা লর্ড বেন্টিঙ্ককে দিয়ে৷ বাংলা ভাষার প্রাণপুরুষ দয়ার সাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা-বিবাহ প্রথা চালু করে অকাল বৈধ্যব্যের দুঃখ-দুর্দশার হাত থেকে হিন্দু বিধবাদের রক্ষা করেন৷ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচনায় বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসান৷ এক কথায় শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞানে, অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে বাঙলাই ছিল ভারতের পরিচয়৷ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামেও বাঙলার অবদানের ধারে কাছে নেই অন্য কোন রাজ্য৷ দেশবন্ধু, সুভাষচন্দ্রের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ অন্য কোন রাজ্যের নেতার মধ্যেও দেখা যায় না৷ অথচ স্বাধীনতার পর সেই সব রাজ্যগুলো দেশকে লুটে খাচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের কোন অবদান নেই৷ একদিন দেশ ভাগ করে তারাই ব্রিটিশের হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল৷ দেশ ভাগের বলি হয়েছিল কয়েক কোটি বাঙালী৷
আজ মোদিজী ও তার দল বল নানা ছলে বলে যেমন বাঙালীদের হেনস্থা করছে, বাংলা কথা শুণলেই বাঙালীকে বাংলাদেশী আখ্যা দিচ্ছে৷ নানা অছিলায় বাঙালী মনিষীদের অসম্মান করছে, যা বাঙালী জনগোষ্ঠীর পক্ষে সহ্য করা অসহ্য হচ্ছে৷ মোদিজীর মনে রাখা দরকার বাঙালী কোন স্বৈরাচারী শাসককে কোন দিন মেনে নেয় না৷
- Log in to post comments