১লা বৈশাখ বাঙালীর বর্ষবরণের উৎসব উদ্যাপনে আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য থাকে৷ বাঙালীর নিজস্ব পোষাকে সজ্জিত হয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সামিল হয় বাঙলার সব শ্রেণীর মানুষ৷ খাবারেও থাকে বাঙালীয়ানার ছাপ৷ এবার সামনে নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের আলাদা করে বাঙালী অস্মিতায় ধার দিতে দেখা গেলো৷ ভোটের বাজারে বাঙালী বিদ্বেষী বিজেপিকেও দেখা গেলো বাঙালী সাজতে৷ এই নিয়ে অবশ্য তৃণমূল, সিপিএমের মত দলগুলির নেতারা বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি৷
১লা বৈশাখ সকাল থেকে ধূতি-পাঞ্জাবী, লাল পাড় শাড়ির ঝলমলে সাজে, কন্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর ছড়িয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হয়েছিল সব বয়সের ছেলেমেয়েরা৷ নববর্ষ উৎসব উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের প্রচার কর্ম সেরে নেয়৷ তবে উৎসবের মাঝেও ছিল একটা বিষন্নতার সুর৷ বহু বাঙালী এবার বর্ষবরণ উৎসবে সামিল হতে পারেনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় রাষ্ট্রহীন হওয়ার আতঙ্কে৷
আনন্দমার্গকে কেন্দ্রীয় আশ্রমে বর্ষবরণঃ--- পয়লা বৈশাখে কলিকাতা ভি.আই.পি নগর আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় আশ্রমে বাঙলা নববর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়, সকাল থেকে কলিকাতা ও পাশ্ববর্তী জেলার আনন্দমার্গী ভাইবোন ও সমাজকর্মীরা উপস্থিত হয়৷ সকাল ৬-১৫ মিনিট থেকে প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ ৬টা ৩০ মিনিট থেকে তিনঘন্টা ৰাৰা নাম কেবলম্ কীর্ত্তন পরিবেশন ও মিলিত সাধনা, স্বাধ্যায় ইত্যাদির মধ্য দিয়ে প্রাথমিক পর্বের অনুষ্ঠান শেষ হয়৷ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী রচিত ‘বাংলা নববর্ষ’ পাঠ করেন৷ আচার্য নিত্যসত্যানন্দ অবধূত৷ এরপর সমাজ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতৃবৃন্দ নববর্ষ উৎসব উদ্যাপনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন৷ শেষ পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ করেন কলিকাতা রাওয়া শিল্পিবৃন্দ৷ প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যপরিবেশন করেন নরেন্দ্রপুর আনন্দমার্গ আশ্রমের মেয়েরা৷