অনেকেই ‘বেগুন’ শব্দটির কষ্টকল্পিত অর্থ করেন–ৰে–গুণ অর্থাৎ যার গুণ নেই৷ এখানে বলে রাখা ভাল যে বেগুনের নাম গুণরাহিত্য হেতু হয়নি, বা তা আদৌ ‘ডিসকোয়ালিফিকেশন’ নয়৷ বেগুন একটি সংস্কৃতজাত তদ্ভব শব্দ৷ সংস্কৃত ‘ব্যাঙ্গন’ শব্দ থেকেই ৰাংলায় বেগুন, বাইগন, বাইগুন হিন্দীতে বৈগন শব্দগুলো এসেছে৷ বেগুনের পর্যায়বাচক অন্য সংস্কৃত শব্দ হচ্ছে বার্তাকু, বার্তাকী, বার্তিকী, ৰৃহতী, বৃন্তাক প্রভৃতি৷ সরু লম্বা বেগুনকে (কুলী বেগুন) সংস্কৃতে ৰৃহতী বলে৷ ৰাংলায় প্রচলিত ‘মুক্তকেশী’ বেগুনের সংস্কৃত ‘বার্ত্তাকু’৷ পঞ্জাবীতে বেগুনকে ‘বাতায়ু’ বলে–এসেছে সংস্কৃত ‘বার্ত্তাকু’ থেকে৷ সব বেগুনেরই ভাল ইংরেজী হচ্ছে ‘ৰ্রিঞ্জাল’ (Brinjal)। সমস্ত বেগুনই চীন থেকে এসেছে৷
বেগুন তরকারিটির গুণ আছে৷ বেগুন জিবে লালা (saliva) পৌঁছে দিয়ে খাদ্যে রুচি আনে ও খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে৷ বেগুনের সঙ্গে তিক্ত বস্তু (নিম, উচ্ছে প্রভৃতি) মিশিয়ে একত্র ভক্ষণ করলে তিক্ত বস্তুর দোষ নষ্ট হয়ে যায়৷ বেগুনের যা অল্প একটু দোষ রয়েছে তা হচ্ছে বেগুন ‘বাতর’ পর্যায়ভুক্ত অর্থাৎ অত্যধিক পরিমাণ বেগুন খেলে ‘কন্ডূয়ন’ (চুলকানি) ব্যাধির সম্ভাবনা থাকে৷
‘বৃন্তাক’ মানে শাদা বেগুন (আমেরিকান ইংরেজীতে ‘এগফ্রুট’)৷ এই শাদা বেগুন তামসিক খাদ্য রূপে বিবেচিত হয়–তাই অভক্ষ্য৷ বলা হয়েছে–
‘‘কুসুম্ভনালিতা শাক–বৃন্তাকং পোতকীস্তথা৷
ভক্ষয়ন্ পতিতস্তু স্যাদপি বেদান্তগঃ দ্বিজঃ৷৷’’
অর্থাৎ চিচিঙ্গা, ডাঙ্গার কলমী, শাদা বেগুন ও লাল পুঁই খেলে সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ব্রাহ্মণেরও পাতিত্য ঘটে৷ (নালিকা শাক অর্থাৎ পাট শাক কিন্তু অভক্ষ্য নয়)৷