Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বিহারের ইতিকথা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘বিহার’ শব্দটি নিষ্পন্ন হয়েছে ‘বি’ --- হৃ ঘঞ্‌ প্রত্যয় করে৷ ‘বি’ এখানে উপসর্গ৷ উপসর্গের ‘ব’ কখনও বর্গীয় ‘ৰ’ (ba) হয় না৷ সর্বত্রই অন্তস্থ ‘ব’ (va) হয়, এমন কি ‘wa’-ও নয়৷

‘বিহার’ কথাটির ইংরেজী বানান লিখতে হবে ‘v’ দিয়ে অর্থাৎ বানান হবে Vihar৷ অথচ শতকরা নিরানববই ভাগ লোক লেখেন Behar ঊ ইংরেজরা লিখতেন Bihar৷ সেটিও ভুল৷

পাঠান যুগে উত্তর ভারতে তিনটি সুবা ছিল পঞ্জাব, হিন্দুস্তান ও বঙাল৷ আকবর এই তিনটি সুবাকে ভেঙ্গে আরও কয়েকটি সুবা তৈরী করেছিলেন৷ হিন্দুস্তান সুবাকে ভেঙ্গে তৈরী করেন আগ্রা সুবা ও অবধ সুবা (হওয়া উচিত Avadh৷ কিন্তু ইতিহাসে, ইংরেজীতে লেখা আছে Oudh৷ আর বঙাল সুবাকে ভেঙ্গে তৈরী করেন বেহার সুবা ও ওড়িষ্যা সুবা৷ পাঠান যুগে ওড়িষ্যা কার্যতঃ স্বাধীন ছিল৷ কিন্তু মোগল যুগে ওড়িষ্যাকে নিয়ে বারবার হাতফের হয়েছে৷ কখনও মোগলদের হাতে, কখনও ভোঁসলে মারাঠাদের হাতে৷ কখনও বা স্থানীয় হিন্দু নৃপতিদের হাতে৷ বস্তুতঃ কেশরী রাজবংশের (যে বংশে অনন্ত কেশরী, যযাতি কেশরীর মত বড় বড় রাজা এসেছিলেন) পর থেকেই ওড়িষ্যার ইতিহাস অনিশ্চিতত্বের মধ্যে পড়ে গেছল৷ আকবরের সময় যখন বেহার সুবাটি ঘটিত হয় তখন নামটি ফার্সী অক্ষর ‘বে’ দিয়ে লেখা হয়েছিল---লেখা হয়েছিল ‘বেহার’৷ পরে সুবা বেহারের পৃথক অস্তিত্ব ছিল না৷ তা সুবা বঙালের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়৷

তৎকালীন সুবা বঙাল পলাশীর যুদ্ধের পরে যখন ইংরেজদের হাতে যায় তখন সেই ফার্সী শব্দ বেহারের অনুকরণে ইংরেজীতে ‘Behar’ লেখা শুরু হয়৷ ১৯১২ সালে ইংরেজ আমলে যখন সুবা বেহার ও ওড়িষ্যাকে নিয়ে বেহার ও ওড়িষ্যা নামে একটি প্রদেশ ঘটিত হয় তখন গোড়ার দিকে Behar ছিল কিন্তু পরে তা পরিবর্তিত হয়ে হয়ে গেল Bihar৷ বৌদ্ধযুগে বিহারে, বিশেষ করে মগধে বৌদ্ধধর্মের দৃঢ় প্রতিষ্ঠা ছিল ---ছিল প্রচুর সংখ্যায় বৌদ্ধবিহার (Vihar) যাকে ‘ব্রহ্মবিহার’-ও বলা হত৷ একটু আগেই বলছিলুম, স্থানীয় মানুষের উচ্চারণে কেবল ‘ৰ’-ই আছে৷ শাহজাহানের সময় যখন ফার্সীর স্থানে উর্দুকে মোগল-ভারতের রাজভাষা করা হয় তখন বিহারের ‘মুন্সীরা’ (ছোট কাছারির কাজ যাঁরা করতেন) ফার্সী লিপির পাশাপাশি এক ধরনের বিবর্তিত নাগরী লিপিতেও উর্দু ভাষা লিখতেন৷ সরকারী কার্যে ও কোর্ট কাছারির কাজের উচ্চস্তরে যদিও ফার্সী হরফে লেখা উর্দু ভাষাই চলত কিন্তু সাধারণ স্তরে ওই বিবর্তিত নাগরীতে লেখা উর্দু ভাষাই বেশী চলত৷ ইংরেজ আমলেও কোর্ট-কাছারির উচ্চস্তরেও সরকারী ভাষারূপে যখন উর্দুর বদলে ইংরেজী প্রবর্তিত হ’ল তখনও কোর্ট কাছারিতে ও সরকারী কাজে সাধারণ স্তরে ওই বিবর্তিত নাগরীতে লেখা উর্দু ভাষাই প্রচলিত ছিল৷ যেহেতু ওই সকল মুন্সীরা ছিলেন সবাই জাতিতে কায়স্থ, তাই ওই বিবর্তিত-নাগরীর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘কায়েথী-লিপি’৷ আমাদের ছোটবেলায় দলিল-দস্তাবেজে, থানার কাগজ-পত্রে ওই কায়েথী লিপিই চলত ও অফিসারদের পক্ষে তা অবশ্যই শিক্ষণীয় বলে গণ্য হত৷ দেশ স্বাধীন হবার পরে ওই লিপিকে সরিয়ে দিয়ে সেই স্থানে দেবনাগরীকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে৷ ওই কায়েথী লিপিতে বাংলারই মত কেবল একটি মাত্র ‘ব’ আছে যার দ্বারা বর্গীয় ‘ৰ’ ও অন্তস্থ ‘ব’---দুয়েরই কাজ চালাতে হয়৷ শুদ্ধভাবে তাই লিখতে গেলে ‘বিহার’ লিখতেই হবে৷

বলছিলুম, আকবরের সময়কার ‘বেহার’ সুবাটির কথা৷ তার রাজধানী ছিল আজিমাবাদ৷ সিপাহসালার আজিম-উসসানের নামে গড়ে উঠেছিল শহরটি৷ আজকাল এই আজিমাবাদকেই বলা হয় পটনাসিটি (হাল আমলে ইষ্টিশানের নাম পরবর্তিত করে পটনাসাহিব করে দেওয়া হয়েছে কারণ গুরুগোবিন্দ সিংয়ের জন্মস্থান ছিল বলে স্থানটি শিখ সমাজের একটি তীর্থ)৷ পরে যখন বেহার সুবা বঙাল সুবায় পুনর্মিলিত হ’ল তখন সুবা বাঙালের নবাব ছিলেন একজনই কিন্তু সুবাদার ছিলেন তিনজন একজন ঢাকায়, একজন মুর্শিদাবাদে, একজন আজিমাবাদে৷

তোমরা অনেকেই নিশ্চয় জানো, এই আজিমাবাদের সুবাদার ছিলেন হাজী আহম্মদ যিনি ছিলেন নবাব আলিবর্দী খাঁর ভাই৷ পটনার (আজিমাবাদ) আফগান বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহী আফগান সৈন্যদের হাতে তিনি নিহত হন৷ এই হাজী আহম্মদের ছেলে মহম্মদ জৈন-উদ-দীনের সঙ্গে আলিবর্দী খাঁর কন্যা আমিনা বেগমের বিবাহ হয়েছিল৷ জৈন-উদ-দীনের বড় ছেলে মীর্জা মহম্মদ ও ছোট ছেলে মীর্জা মেহেদি৷ আলিবর্দীর পুত্রসন্তান না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর কন্যা আমিনা বেগমের পুত্র মীর্জা মহম্মদ নবাব হবার পর তাঁর নাম হয় সিরাজ-উদদওলা*৷ লোকে বলে, মীর্জা মেহেদি ইংরেজদের হাতে নিহত হন৷

 

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved