Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বিজেপির বাঙলা দখলের উন্মত্ত প্রয়াস যুক্তরাষ্ট্রীয় সংহতিকে দুর্বল করবে

মনোজ দেব

ভারতবর্ষ নানা জনগোষ্ঠীর একটি যুক্তরাষ্ট্র৷ প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব আচার-আচরণ, রীতি-রীবাজ, চালচলন, জীবন প্রণালী, সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, পোষাক-পরিচ্ছদ-আহার ভিন্ন ভিন্ন৷ বিভিন্ন ধরণের এই বৈচিত্রময় জীবন-প্রণালীর মধ্যেই ঐক্যের বীজ নিহিত আছে৷ তাই বলা হয় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য৷

কবির কথায়---

          ‘‘নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান

          বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান৷’’

কোন একটি ভাষা, কোন একটি ধর্মমত অন্য গোষ্ঠীর ঘাড়ে জোর করে চাপিয়ে দিয়ে ঐক্যের প্রয়াস করতে গেলে হিতে বিপরীত হবে৷ পরিতাপের বিষয়ে--- স্বাধীন ভারতের জন্মলগ্ণ থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসক এই অপকর্মটি করে আসছে৷ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যতই নেহেরু বিদ্বেষ পোষন করে থাকুন, যতই কংগ্রেস বিরোধী হয়ে থাকুন---এই একটি বিষয়ে নেহেরু সরকারের বা বলা ভাল নেহেরুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছেন৷ অবশ্য এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যষ্টিগত প্রয়াস নয়৷ এক ভাষা এক ধর্মমতের ভারত গড়া বিজেপি তথা বিজেপির মাতৃ সংঘটন আর এস এসের প্রধান লক্ষ্য৷

নেহেরু সরকার বুঝেছিল বা বলা ভাল ইংরেজ ভক্ত নেহেরুকে বিদেশী ব্রিটিশ শাসক ও দেশীয় পুঁজিপতিরা বুঝিয়েছিল---দেশীয় পুঁজিপতিদের প্রতিনিধি হয়ে দেশ শাসন করতে গেলে প্রধান অন্তরায় হবে বাঙালী৷ ব্রিটিশকে ভারত ছাড়তে হয়েছিল কোন ভণ্ড অহিংসার পুজারীর ভয়ে নয়, বাঙালী-আতঙ্ক ব্রিটিশকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করেছিল৷ তাই ব্রিটিশ ভারত ছাড়ার আগেই জাতীয় কংগ্রেস তথা দিল্লির হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী শাসকের মধ্যে বাঙালী বিদ্বেষের বীজবপন করে দিয়েছিল৷ নেহেরু সযত্নে সেই বীজকে অঙ্কুরিত করেছিল তার বিশেষ বন্ধু বিধান রায়ের সহায়তায়৷ তাই সেদিন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ গোপীচাঁদ ভার্গব যেভাবে পঞ্জাবী উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান করেছিল দিল্লির কাছ থেকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্যের অধিক আদায় করে৷ বিধান রায় ন্যায্য প্রাপ্য দূরে থাকুক বাঙালী উদ্বাস্তুদের জন্যে ছিটে ফোঁটাও আদায় করতে পারেন নি৷

আজ মোদি জমানায় সেদিনের বাঙালী বিদ্বেষের বীজ মহিরুহ রূপ ধারণ করেছে৷ ভারতে বাঙালী আজ রাষ্ট্রহীন নাগরিকে পরিণত হয়েছে৷ বাঙলার প্রতি বঞ্চনার শুরু হয়েছিল নেহেরু জমানায়, মোদি জমানায় তা চরম আকার ধারণ করেছে৷ নেহেরু বাঙলাকে বঞ্চনা করতে বিধান রায়ের মত ডবল ইঞ্জিন সরকারের শাসককে পাশে পেয়েছিল৷ মোদি শত চেষ্টা করেও পারেনি৷ একটি গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কেন্দ্রীয় শাসক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কত নীচে নামতে পারে নরেন্দ্রমোদি তার উদাহরণ৷

২০২১-শে বাঙলা জয়ের স্বপ্ণ নিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে তৃণমূলের দল ভেঙে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল৷ স্বপ্ণ ছিল ২০০ পার, কিন্তু বিধান সভায় তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি, ৮০-এর আগেই থেমে গেছে৷ ২০২৬-এর নির্বাচন আসন্ন, অসম কেরলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেরও বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন৷ তাই রাজ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনাগোনা বেড়েছে৷ কিন্তু তার আগেই রাজ্যে রাজ্যে বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালী নির্যাতন চরম নিষ্ঠুরতায় রূপধারণ করেছে৷ বাঙালী ভাষী হলেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশী বলে নির্যাতন করা হচ্ছে৷ কয়েকজন প্রাণেও মারা গেছে৷ আজ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নে৷ রাজ্যে কোন ঘটনা ঘটলেই যখন বিরোধী দল নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চায়, তখন ভারতের অভ্যন্তরে কোন ঘটনা ঘটলে তার প্রতিক্রিয়া কি প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করা যায় না? না-কি পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের বাইরে!

আর্থিক বঞ্চনা, রাজ্যে রাজ্যে বাঙালী জনগোষ্ঠীর উপর শারীরিক লাঞ্ছনা, অত্যাচার, খুন, ভাষা-সংস্কৃতিকে অবদমন, বাঙলার মনীষীদের অপমান বিজেপির বাংলা ও বাঙালী বিদ্বেষ নির্মম রূপধারণ করেছে৷ যা শুধু বাঙালী জনগোষ্ঠীকে নয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানছে৷ এস আই আরের নামে অর্মত্য সেনের মতো নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে নির্বাচন কমিশনারের কাঠ গোড়ায় দাঁড়াতে হবে৷ বাঙলা দখলে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে বিজেপি৷ ধর্মীয় গোঁড়ামি অন্ধ বিশ্বাস, একভাষা, এক আইন কোন তত্ত্বই বাঙালীকে সাজাতে পারেনি, চরম আর্থিক বঞ্চনার মধ্যেও বিজেপি শাসিত রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবাঙলার মানুষ অনেক ভালো আছে৷ 

এই অবস্থায় মোদি-শাহ জুটি বাঙলা দখলে গণতান্ত্রিক রীতি নীতি বিসর্জন দিয়ে চরম স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করেছে---যা শুধু বাঙলা নয় দেশের সংহতিকেই বিপন্ন করবে৷ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত দুর্বল হচ্ছে মোদি জমানায়৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved