Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বিপন্ন ভারতীয় গণতন্ত্র!              

মনোজ দেব

 

এ যাবৎ রাষ্ট্রপরিচালনায় যতগুলি ব্যবস্থা আছে তার মধ্যে গণতন্ত্রই উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা যদিও সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়৷ গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে, রাষ্ট্রের নাগরিকদের সুবিচার পাইয়ে দিতে, সর্বশ্রেণীর মানুষের কল্যাণার্থে চারটি বিশেষ বিভাগ আছে৷ এই বিভাগগুলিকে বলা হয় গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভ৷ স্তম্ভ গুলি হল আইন বিভাগ , শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যম৷ আইনসভার প্রধান কাজ রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন আইন তৈরি করা, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা৷ এছাড়াও সংসদীয় গণতন্ত্রে আইন সভায় শাসক দলকে বিভিন্ন কাজের জবাব দিতে হয়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের সুখ দুঃখের কথা, অভাব অভিযোগের কথা শুনতে হয়৷ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ যাতে সুবিচার পায়, অন্যান্য বিভাগ গুলি যাতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলে তার দায়িত্ব বিচারবিভাগের৷ গণমাধ্যমের কাজ নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন, জনগণের অভাব অভিযোগের কথা তুলে ধরা, কোথাও কোন দুর্নীতি অবিচার হয়ে থাকলে সে কথা শাসক ও জনগণের সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব৷৷

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ভারতবর্ষের বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এই চারটি স্তম্ভই নিরপেক্ষতার অভাবে অভিযুক্ত৷ আইনসভা যেহেতু গঠিত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে তাই সেখানে শাসকদলের প্রাধান্য থাকেই৷ অনেক সময় দেখা যায় শাসক দল সবকিছু স্বচ্ছ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জনগণের সার্বিক কল্যাণের ভাবনা নিয়ে করে না৷ অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে দলীয় স্বার্থ বজায় রাখতে নিত্যনতুন আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করে থাকে৷ এইভাবে আইনের দ্বারা বিচার বিভাগকেও শাসকদলের কুক্ষিগত করে রাখতে চায়৷ তাই বিচার বিভাগও অনেক সময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ন্যায় বিচার করতে পারে না৷ ভারতীয় গণতন্ত্রে বিচার বিভাগও আজ অনেক সময় নিরপেক্ষতার অভাবে অভিযুক্ত৷ গণমাধ্যমও আজ একই অভিযোগে অভিযুক্ত৷ শাসক দলের স্বার্থে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে ব্যর্থ হয়৷ 

সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতকে নির্বাচিতদের স্বৈরাচারী ও আংশিক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে৷ গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ও রাখতে আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশনারের৷ সম্প্রতি সেখানেও নিরপেক্ষতার অভাবে অভিযুক্ত৷ এমনকি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পরিবর্তন করে কমিশনার নিয়োগের দায়িত্ব শাসক দল নিজের হাতে নিয়েছে৷ যার জন্য আজ নির্বাচন কমিশনারই শাসকদলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগে অভিযুক্ত৷ বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমও একই অভিযোগে অভিযুক্ত৷ এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশ গদি মিডিয়া নামে অখ্যাতি অর্জন করেছে৷ গণতন্ত্রে বিরোধী দলের দায়িত্বই হল শাসকদলের জনগণের স্বার্থ বিরোধী কাজের প্রতিবাদ করা ও সুবিচার না পেলে বিভিন্ন দুর্নীতি মূলক কাজের অভিযোগে আন্দোলনে নামা৷ শাসক দলের দায়িত্ব যুক্তি তথ্য দিয়ে অভিযোগ খন্ডন করা অথবা দোষ ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে জনগণের সার্বিক স্বার্থে কাজ করা৷ কিন্তু সম্প্রতি এর বিপরীতটাই দেখা যাচ্ছে৷ অর্থাৎ সরকার বিরোধী কথা বললেই দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনছে শাসকদলের প্রতিনিধিরা৷ যা সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অশনিসংকেত৷ শাসকদলের মনে রাখা উচিত শাসকদলের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা জনগণের অধিকারের মধ্যেই পড়ে৷ সেই অধিকারকে সংকুচিত করার চেষ্টা হলে বা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হলে জনগণ কিন্তু চিরকাল চুপ করে বসে থাকবে না৷ তখন গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অন্য খাতেও বইতে পারে৷ মনে রাখতে হবে আজকের পৃথিবীতে জোরপূর্বক স্বৈরাচারী মনোভাবের কোন সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয় না৷ ফরাসি দেশের বাস্তিল দুর্গের পতন, রাশিয়ায় জার শাসনের অবসান, সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বৈরাচারী কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ইতিহাসে এরকম অনেক দৃষ্টান্ত রেখে গেছে৷ ভারতীয় গণতন্ত্রের শাসকবর্গ যদি এর থেকে শিক্ষা না নেয় তাহলে তার ভয়াল পরিণতি শুধু শাসক দলই নয় রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও ভুগতে হবে৷ ভারতীয় গণতন্ত্রকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে শাসক বিরোধী ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার চারটি স্তম্ভ সব পক্ষেরই শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা রইল৷

 

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved