১৯৭৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী মানব ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন৷ এই দিনেই তৎকালীন কংগ্রেসের ইন্দিরা গান্ধীর ভারত সরকার মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করে পটনার বাঁকীপুর সেন্ট্রাল জেলে মহান দার্শনিক ঋষি শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের ওপর তীব্র বিষ প্রয়োগ করে৷ শ্রীসরকার তাঁর দৈববলে, ঐশ্বরিক ক্ষমতায় সেই বিষ হজম করে কন্ঠে ধারন করে নীলকন্ঠী হয়ে ভূলুণ্ঠিত মানবতার রক্ষা করেন৷
কেন এই বর্বরতা? শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক তত্ত্ব ‘প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব’ সংক্ষেপে প্রাউট ... এই দর্শনের অভ্যুত্থান স্বৈরাচারী শোষণবাদী কর্র্পেরেট ও তাদের সাগরেদ শাসক ও রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সঞ্চার করে৷ এই অবস্থায় তারা চায় প্রাউট ও তার প্রবক্তাকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় করতে৷ কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের বাইরে যে তিনি .... মানব কল্যাণ যাঁর সংকল্প তাঁকে মারতে পারে এমন বিষ পৃথিবীতে নেই৷ সেই মারাত্মক বিষ কে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার কন্ঠে ধারণ করেছেন এবং এর প্রতিবাদে দীর্ঘ ৫ বছরেরও অধিক সময় অনশন করে পরবর্তীতে নিজেকে নির্র্দেষ প্রমাণ করে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পাপ শক্তির বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রামের প্রেরণাদাতা ও পথপ্রদর্শক হয়েছেন৷ আজ তাঁর সংঘটন ও শত সহস্র সর্বক্ষণের কর্মী ও গৃহী কর্মীরা বিশ্বজুড়ে বিশাল সেবাকার্য চালাচ্ছে৷ পাপশক্তি আজও বাধা দিচ্ছে কিন্তু শ্রীসরকারের আশীর্বাদ, প্রেরণা সেই বাধা ছিঁড়ে দূর্দান্ত গতিতে এগুতে সাহায্য করছে৷ এই ১২ই ফেব্রুয়ারী, প্রাউটের উপর আধারিত, বিপ্লবের মূর্ত প্রতীক ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের পক্ষ থেকে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভাবগম্ভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নীলকন্ঠ দিবস স্মরণ করছি৷