বিহারে যে নির্বাচন হলো সেটির যে ফল সেটিতে খোদ বিহারের জনগণই ক্ষুব্ধ! কারণ যে সব দল যৌথভাবে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করেছে তারা তাদের অস্তিত্ব কিছুটা রক্ষা করেছেন৷ কিন্তু অন্যান্যরা শূন্য হাতে ফিরেছেন! তবে শাসকদল সব ক্ষেত্রে বেশী সুযোগ পায় কারণ তারা নানা ধরণের কৌশল করে জেতে৷ যেমন সংবাদে প্রকাশ সরকার নাকি ১০ হাজার করে টাকা বেশ কিছু মহিলা বোটার পুরুস বোটারের দিয়েছেন তাঁদের ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে! এই ধরণের অসাংবিধানিক কাজ হয়েছে৷ তাছাড়া লক্ষ লক্ষ বোটারদের বোট দানের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের বোটারহীন করে বেনাগরিক করে তাঁদের জীবনকে বরবাদ করে দিয়ে বোটার সংখ্যা কমিয়ে৷ যাঁরা কয়েকবার বোট দিয়েছেন! ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গোষ্ঠী নিরপেক্ষ রাষ্ট্র যা বিশ্বের চোখে এক মহান দেশ! যে দেশ বিশ্বের আদর্শতম রাষ্ট্র, শান্তির বাণী বহন করেন সেই রাষ্ট্রের শাসক বিশেষ করে কেন্দ্রের সরকারের এ কেমন গণতান্ত্রিক আচরণ? ভারতের মতো একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারের স্বৈরাচারীর মানসিকতা বিশ্বের চোখে ভারতের ভাবমূর্ত্তি ক্ষুণ্ণ্ করছে৷ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা যার ওপর কোন সরকার ছড়ি ঘোড়াতে পারে না৷ তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে৷ এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনার যথার্থ ভূমিকা পালন করছেন না৷ তাঁকে অনেক সময়ই কেন্দ্রীয় শাসক দলের প্রতিনিধি বলেই মনে হয়৷ কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভুলেই গেছেন যে নির্বাচন কমিশনার গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার একটা স্তম্ভ৷ তাই তাঁর ভূমিকা অবশ্যই দলমতের উধের্ব নিরপেক্ষ হবে৷ অবশ্য মোদি সরকারও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনে পরিবর্তন করে নিয়োগ ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিজে হাতে কুক্ষিগত করে নিয়েছে৷ তাই দলীয় বশংবদকেই যে তিনি নিয়োগ করবেন এটাই স্বাভাবিক৷
বর্তমান সরকারের শাসনকালে এমন সব অগণতান্ত্রিক ঘটনা ঘটছে যা অত্যন্ত সংবিধান বিরোধী ও অগণতান্ত্রিক কাজ৷ মহান সুপ্রিম কোর্ট সেই কাজকে সংবিধান বিরোধী বলে কেন্দ্র সরকারকে সাবধান করে রায় দিয়েছেন! কিন্তু অন্য পথে কেন্দ্রের শাসক সেই কাজ করেছেন! মহান সুপ্রিম কোর্ট হলেন সংবিধানের রক্ষাকর্র্ত্ত৷ কিন্তু জনগণের নির্বাচিত শাসকদলগুলি বিশেষ করে কেন্দ্রের সরকার পদে পদে সংবিধানকে অস্বীকার করে স্বৈরাচারিতারই পরিচয় দিচ্ছে৷
ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মুখে কি করে উচ্চারণ করেন যে তিনি হিন্দুত্ববাদী৷ আর রাজ্যের শাসনেও দেখা যায় বিরোধী দলের শাসকদের জনগণের দৃষ্টিতে ব্যর্থ সরকার প্রমাণিত করতে উন্নয়নমূলক কাজে তাঁদের কেন্দ্রের দেয় টাকা ছল বল কৌশলে কারণ না দেখিয়ে আটকে রাখে! এটাতো নির্বাচিত সরকারের সংবিধান বিরোধী কাজ কি নয়? বর্ত্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল বোটার যাঁরা তাঁদের কমানোর লক্ষ্যে এমন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করেছেন তিনি এস.আই.আর করে বোটার তালিকা থেকে নিবিড় নিরীক্ষণ করে৷ আর ধীরে ধীরে সারা ভারতযুক্ত রাষ্ট্রে বোটার বাদ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত! তাই নিরীক্ষণের পূর্বেই ঘোষনা করেন বিশেষ বিশেষ রাষ্ট্র থেকে অতীতে যেগুলি প্রদেশ ছিল কোটি কোটি বোটার বাদ দেবেন এমন কথাটা বলা কি সেই স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আইনসম্মত উক্তি৷ নির্বাচন কমিশনের এই উক্তি জন মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে৷
বিশেষ করে সমস্যা-সংকুল চিরবঞ্চিত রাষ্ট্রে পশ্চিম বাংলায় এই হুমকীর কারণে অনেক ব্যষ্টি আতঙ্কে অকালে প্রাণ ত্যাগ করেছেন! এরজন্য দায়ী কে? এটা আজ সারা ভারতযুক্ত রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রশ্ণ! আর তড়িঘড়ি বিহারে নির্বাচন করে যে রায় বেরিয়েছে তাতে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের প্রশ্ণ ? এটা কি করে হলো? এদিকে মহান সুপ্রিম কোর্টে এফ.আই.আর নিয়ে মামলা চলছে৷ বিরোধী দলগুলো মামলা করেছে৷ নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্ত্তি ক্ষুণ্ণ্ হচ্ছে৷ মনে পড়ে সেই প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি.এন শোষণের কথা যিনি বলেছিলেন---আমি কোন সরকারের নির্বাচন কমিশনার নাই৷ তাই মনে হয় নির্বাচন কমিশনার তার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করুন৷ সংবিধান তাকে সে অধিকার দিয়েছে৷ তবেই জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে৷
- Log in to post comments