Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

ভারতীয় সংবিধানের ছিদ্রপথে স্বৈরাচারের প্রবেশ

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

রাষ্ট্র একটি সংস্থা যেখানে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সার্বিক বিকাশের জন্যে শাসন পরিচালনা করা হয়৷ এই সংস্থাই দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী৷ এই শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে অনেক সময় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ রাষ্ট্রের নাগরিকরা তখন রাষ্ট্রশক্তির নিয়ামকদের হাতে শোষন অত্যাচার নিপীড়ণের শিকার হয়৷ তাই শোষন অত্যাচার নিপীড়ণের হাত থেকে রাষ্ট্রের নাগরিকগণকে রক্ষা করতে এই ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে রাষ্ট্রের পরিচালকদের আচরণ বিধি, আইন ও আদর্শের প্রয়োজন৷ যে পুস্তকে রাষ্ট্রের আচরণ বিধি, আইন ও আদর্শের কথা লেখা আছে তাহাই রাষ্ট্রের সংবিধান৷

তাই সংবিধানকে বলা যায় একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন ও শাসন পরিচালনার মূল দলিল৷ রাষ্ট্রের সরকার, প্রশাসন ক্ষমতা, কার্যাবলী ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, দায়ীত্ব, কর্ত্তব্যের রূপরেখা তৈরী ক’রে নাগরিকদের সার্বিক বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখে৷ বর্তমান পৃথিবীতে যত প্রকার শাসন ব্যবস্থা আছে তার মধ্যে গণতন্ত্র সর্র্বেৎকৃষ্ট না হলেও মন্দের ভালো৷ ভারতযুক্ত রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দ্বারাই পরিচালিত৷

ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে---ভারত একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র ---যেখানে নাগরিকদের জন্যে সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায় বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সুযোগের সমতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা৷

ভারতরাষ্ট্রকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয়৷ গণতন্ত্র সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে--- জনগণের জন্যে, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন৷ কিন্তু ভারতবর্ষে কিছু সাংবিধানিক ত্রুটির ফলে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত শাসক জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় না৷ এখানে সরকার গড়তে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে৷ জনগণের ভোটে শাসক নির্বাচিত হয়৷ ভারতীয় সংবিধানে সাবালোক হলেই ভোটাধিকার পেয়ে যায়৷ ভারতীয় গণতন্ত্রের এটা একটা বড় ত্রুটি৷ শুধুমাত্র সাবালোক হওয়ায় ভোটাধিকার পাওয়ায় অসৎ লোকেরা ছলে বলে কৌশলে সাধারণ ভোটারদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ভোট আদায় করে ক্ষমতা দখল করে বসে৷ 

একাজে তার সহায়ক হয় অবাধ স্বাধীনতার অধিকারী দেশীয় পুঁজিপতিরা৷ তাদের অর্থের সাহায্যে যেন তেন প্রকারে জয়লাভের সচেষ্ট হয়, তারপর একবার ক্ষমতায় বসলেই স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে৷ ভারতবর্ষে আজ সেই স্বৈরাচারী শাসকেরই দাপাদাপি৷

এ বিষয়ে প্রাউট প্রবক্তার স্পষ্ট বক্তব্য ---সার্থক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে শতকরা ৫১ জনকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন হতে হবে৷ কিন্তু ভারতবর্ষে এই ধরণের সচেতন নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম---নগণ্য বলা চলে৷

তাই এখানে নাগরিকদের সুখ সুবিধার কথা না বলে ধর্মমতের আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট আদায় করা যায়৷ গণতন্ত্রে যদিও জনগণের শাসনের কথা বলা হয়ে থাকে তবুও এখানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই৷ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যারা দলে সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন৷ কিন্তু ত্রুটি সেখানেই৷ যে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করেন তাঁদের সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশের রাজনীতি অর্থনীতি সমাজ নীতি সম্পর্কে কোন জ্ঞানই নেই৷ তাই চতুর অসৎ লোকেরা একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতার গদিতে চিরস্থায়ী টিকে থাকার ব্যবস্থা করে নেয়৷ তারা তাদের পছন্দের লোককেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন৷ সেখানে আর জনগণের কোন ভূমিকা থাকে না৷

ভারতীয় গণতন্ত্রের নিরপেক্ষ শাসন বজায় রাখতে অন্যতম দুই স্তম্ভ শাসন বিভাগ ও সংবাদ মাধ্যম৷ শাসক নির্বাচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নাগরিকদের৷ নির্র্বচন পরিচালনার দায়ীত্বে থাকে তিনজন কমিশনারের হাতে৷ এই কমিশনার নিয়োগের দায়ীত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলনেতা ও সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি৷ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই নিয়ম পরিবর্তন করে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে তাঁর পরিবর্তে স্থান হয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ এইভাবে আইন পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নিয়েছে৷ দলদাস কমিশনার নিয়োগ করে নির্বাচন পরিচালনায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করেছে৷ এই সরকারের আমলে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতাও আর সন্দেহের উধের্ব নেই৷ পুঁজিপতি শোষকদের নিয়ন্ত্রণের কোন ক্ষমতা সরকারের হাতে নেই৷ যদিও আইনের দিক থেকে সবাই সমান তবুও বৈষম্য আছেই৷ এই রকম অজস্র ত্রুটির ছিদ্র পথ দিয়েই ভারতে আজ স্বৈরাচার কায়েম হচ্ছে৷ সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা তাদের সমীক্ষায় ভারতকে আংশিক স্বাধীন রাষ্ট্র ও নির্বাচিতদের স্বৈরাচার বলে উল্লেখ করেছে৷ তাই অবিলম্বে ত্রুটিগুলি সংশোধন না হলে ও শাসক নির্বাচনের প্রত্যক্ষ দায়ীত্ব সচেতন নাগরিকের হাতে তুলে না দিলে ভারতে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়বে৷ ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সংহতিও দুর্বল হবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved