বিশ্বকর্মা দেব শিল্পী৷ প্রভাস নামক বায়ুর ঔরসে তৎ পত্নী যোগ সিদ্ধার গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম৷ বিশ্বকর্মা অর্থাৎ বিশ্ব হয়েছে যার কর্ম৷
বিশ্বকর্মা কারিগরি যন্ত্র শিল্প ও সর্বপ্রকার শিল্পকর্মের দেবতা৷ বিশ্বকর্মার শিল্পকীর্তি অসংখ্য৷ বিশ্বকর্মা শুধু শিল্পী নন তিনি স্থপতি ও রামায়ণে উল্লেখ আছে বিশ্বকর্মার লঙ্কাপুরী নির্মাণ করেছিলেন৷ বিশ্বকর্মার বানর পুত্র নল দারোকা পুরী নির্মাণ করেছিলেন৷ পিতার শক্তিতে শক্তিমান হয়ে সমুদ্রের ওপর সেতুবন্ধন করেছিলেন৷ সসৈন্য ভারতের আপ্যায়নের জন্য ভরদ্বাজ মুনি বিশ্বকর্মাকে দিয়ে গৃহ নির্মাণ করিয়েছিলেন৷
কূর্ম পুরাণ মতে, সূর্যের সপ্ত রশ্মির অন্যতম বিশ্বকর্মা৷ গ্রীষ্ম শেষে যে সূর্য মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে কর্মসম্পন্ন করেন তিনি বিশ্বকর্মা৷ বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা আছে৷ তার কারণ ঘুড়ি ওড়ানোর সূর্য পূজারই একটা পদ্ধতি ঘুড়ি উড়িয়ে সূর্যকে বন্দনা করা হয়৷ ঘুড়ি ওড়ানো নিছক খেলা নয়৷
বর্ষান্তে ভাদ্র সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ ইন্দ্রপূজাও ভাদ্র মাসে৷ ইন্দ্র বৃষ্টির দেবতা৷ বিশ্বকর্মাও বর্ষার দেবতা৷ ভাদ্রের শেষে কৃষিকাজ শেষ হওয়ার পর কর্ষকদের ফসলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়৷ সেই অবসরে ভাদ্র সংক্রান্তিতে তারা বিশ্বকর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা বসতঃ পুজো করে থাকে৷ ইন্দ্রের মতো বিশ্বকর্মারও বাহন ঐরাবত৷ ঐরাবত আসলে ঐরাবত সদৃশ মেঘ৷ তাই বিশ্বকর্মা শুধু শ্রমিকদেরই দেবতা নন, চাষীদেরও দেবতা৷
বিদেশেও বিশ্বকর্মা আছেন৷ গ্রীকদের বিশ্বকর্মা নাম হেফায়েস্তাস৷ হেফায়েস্তাস্ হেরার পুত্র৷ কদাকার কুৎসিত বদমেজাজীও হলেও তাঁর দেহে অসাধারণ শক্তি৷ আর শিল্পকর্ম সবই নিখুঁত৷ তিনি তার শিল্পকর্মে সহায়তার জন্য কতগুলি সোনার যান্ত্রিক স্ত্রীলোক সৃষ্টি করেছিলেন৷ তাঁর কারখানায় সোনার চাকা লাগানো তিনপাওয়ালা কতগুলি টেবিল ছিল৷ প্রয়োজনীয় দ্রব্যসম্ভার নিয়ে টেবিলগুলো দেবতাদের সভায় দ্রুত যাতায়াত করত৷ প্রাচীন গ্রিক মিশে প্রিয় রোবটে বাস্তবায়িত হয়েছে৷ গ্রীস দেশের মতো রোমেরও বিশ্বকর্মা আছেন৷ তার নাম ভালকান৷ উত্তর ও মধ্য ইউরোপের বিশ্বকর্মা হলেন থর৷
- Log in to post comments