পৃথিবীর মতো সে-ও চক্কর কাটছে সূর্যকে৷ মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে যে গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে, এটি তারই সদস্য৷ কথা হচ্ছে পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকা রিউগু গ্রহাণুকে নিয়ে৷ রিউগু-কে নিয়ে গত কয়েক বছরে বিস্তর গবেষণা হয়েছে৷ পৃথিবীতে যে প্রাণ রয়েছে, সেই প্রাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদানের হদিস মিলেছে এই গ্রহাণুতে৷ নতুন গবেষণায় তা আরও এক ধাপ এগোল৷ রিউগুতে মিলল ডিএনএ এবং আরএনএ-র সবগুলি যৌগিক উপাদান৷
কাছাকাছি হওয়ার ফলে এই গ্রহাণুকে নিয়ে গবেষণা তুলনামূলক সহজ হয়েছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে৷ মহাকাশযান পাঠানো গিয়েছে সেখানে৷ তা নিরাপদে ফিরেও এসেছে পৃথিবীতে৷ এই মহাকাশ অভিযানটি চালিয়েছিল জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘জাক্সা’৷ অভিযান শুরু হয় ২০১৪ সালে৷ রিউগুর উদ্দেশে পাঠানো হয় মহাকাশযান ‘হায়াবুসা-২’৷ অভিযানের সময়ে পৃথিবী থেকে রিউগুর দূরত্ব ছিল প্রায় তিন কোটি কিলোমিটার৷ দীর্ঘ ছ’বছরের মহাকাশ অভিযানের পরে ২০২০ সালে তা ফিরে আসে পৃথিবীতে৷ সঙ্গে নিয়ে আসে রিউগুর মাটি৷
গ্রহাণু খুঁড়ে সেখান থেকে প্রায় ৫.৪ গ্রাম মাটি পৃথিবীতে নিয়ে আসে ‘হায়াবুসা-২’৷ ওই মাটির নমুনা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয় তখন থেকেই৷ গত কয়েক বছরে তাতে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে৷ যেমন, ২০২৩ সালের এক গবেষণায় রিউগুর মাটির নমুনায় পাওয়া যায় ইউরাসিলের সন্ধান৷ ইউরাসিল হল রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যৌগ৷ এ বার নতুন গবেষণায় দেখা গেল, শুধু ইউরাসিল নয়, ডিক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) এবং আরএনএর সবগুলি যৌগিক উপাদানই রয়েছে রিউগুর মাটির নমুনায়৷
ডিএনএ ও আরএনএতে মোট পাঁচটি যৌগিক উপাদান পাওয়া যায় অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল৷ এর মধ্যে প্রথম চারটি হল ডিএনএর যৌগিক উপাদান৷ আরএনএতে থায়ামিনের বদলে থাকে ইউরাসিল৷ রিউগুর মাটিতে ইউরাসিলের খোঁজ আগেই মিলেছিল৷ এ বার জানা গেল ডিএনএর সব যৌগিক উপাদানও রয়েছে এই মাটিতে৷
পৃথিবীর বাইরে ডিএনএ এবং আরএনএর যৌগিক উপাদানের সন্ধান এই প্রথম বার মিলল, এমন নয়৷ অতীতেও মিলেছে৷ ২০১৯ সালে নাসা ‘বেন্নু’ নামে এক গ্রহাণু থেকে মাটি সংগ্রহের জন্য ‘ওসিরিস-রেক্স’ নামে এক মহাকাশযান পাঠিয়েছিল৷ ২০২৩ সালে সেটি পৃথিবীতে ফেরে৷ গত বছরের এক গবেষণায় সেই ‘বেন্নু’র মাটি থেকেও ডিএনএ এবং আরএনএর যৌগিক উপাদানগুলি পাওয়া গিয়েছে৷