মনে পড়ে সেই অতীতের কথা--- আজ যাঁরা অশীতিপর প্রবীন মানুষ তাঁরা সেইদিন হঠাৎ শুণলেন দেশ স্বাধীন৷ কিন্তু স্বাধীনতার অর্থ কিছুই বুঝলেন না, স্বাধীনতার অর্থটা কি? বাবা মার হাত ধরে শৈশবের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে কেন চলে আসতে হলো---সেসব নিয়ে চিন্তা করার বয়স তখন হয়নি৷ নতুন পরিবেশে বাবা-মার সঙ্গেই রেল লাইনের ধারে জলে জঙ্গলে জীবনযাপন---এই কি স্বাধীনতা! আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলেন স্বাধীনতার জ্বালা, সাত পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে সব হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে জীবন যাপনের যন্ত্রণা! আজও শৈশবের স্মৃতি বেদনায় জেগে ওঠে---দালান বাড়ির আঙিনায় ছুটে বেড়িয়ে লুকোচুরি খেলা, যেখান থেকে চলে এসে ছোট্ট কুঁড়ের মধ্যে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকার জ্বালা৷ সেই সব মানুষকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে আজ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে৷ হায় স্বাধীনতা! কে জানতো তোমার মধ্যেও এতো বিষ৷
স্বাধীনতার সেই যন্ত্রণাময় পুণ্যলগ্ণে দেশে প্রতিষ্ঠিত হলো স্বাধীন সরকার---গান্ধীর দল কংগ্রেসের সরকার৷
উদ্বাস্তুদের অনেকে বিরোধী দলে যোগ দিল বাঁচার দাবী নিয়ে৷ জনসংঘ, কমিউনিষ্ট---স্বাধীনতা আন্দোলনে যাদের অনেকেই ব্রিটিশের দালালী করেছিল৷ দেশ ভাগের বলি পঞ্জাব গুছিয়ে নিল কেন্দ্রীয় শাসক দলের সুনজরে পড়ে৷ কিন্তু বাঙলার ভাগ্যে জুটলো না কিছুই অপদার্থ বিধান রায়ের কংগ্রেস সরকার উদ্বাস্তুদের স্থায়ী বাসস্থান অপেক্ষা নেহেরুর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থায়ী করতে বেশী ব্যস্ত ছিলেন৷
বিধান রায়ের আমল শেষ হলো৷ দেশ ভেঙে যারা স্বাধীনতার নামে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল তারা এবার ক্ষমতার মোহে দল ভাঙাভাঙি শুরু করলো৷ কংগ্রেস ভেঙে নব কংগ্রেস, সিপিআই ভেঙে সিপিএম....বোটানিকাল গার্ডেনের বটবৃক্ষের মূল খুঁজে পেলেও কোনদলের আজ আর মূল খুঁজে পাওয়া যায় না৷
আজ যিনি পশ্চিমবাঙলার মুখ্যমন্ত্রী তিনি কংগ্রেস দলে থেকে পশ্চিম বাঙলার শাসক সিপিএমের দুর্নীতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে নিজ দলের মধ্যেই বাধার সম্মুখীন হলেন৷ কারণ দিল্লিতে কংগ্রেস সিপিএমের সখ্যতা৷ বাধ্য হয়ে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস ঘটন করলেন৷ শাসক সিপিএমের ক্যাডার পুলিশের অকথ্য অত্যাচার তাঁর ওপর নেমে এসেছিল৷ সব সহ্য করেও সংগ্রাম থেকে সরে আসেননি৷ শত প্রলভন অত্যাচারও তাঁকে থামাতে পারেনি৷ অবশেষে সিপিএমকে পরাজিত করে বাঙলার ক্ষমতা আসীন হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ তিন বছর পরেই দিল্লিতেও সরকার বদল হলো, ক্ষমতায় এলেন নরেন মোদির বিজেপি দল৷
ধর্মীয় মৌলবাদী দল বিজেপি নরেন মোদির নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেই স্বৈরাচারী রূপ পরিগ্রহ করে৷ ধনীদের সেবা দাস মোদি গরিষ্ঠতার জোরে বিরোধীদের গলা টিপে আইন বদলে নিজের দল দাস ব্যষ্টিকে নির্বাচন কমিশনার বানালেন৷ প্রথম দুবার একক গরিষ্ঠতা পেলেও তৃতীয়বার একক গরিষ্ঠতার অনেক দূরে থামতে হয়েছে মোদিকে৷ বাধ্য হয়েই নীতিশ নাইডুর মত মানুষের সঙ্গে আপোষ করতে হয়েছে৷ জোট সরকার গড়ে চরম স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেছে মোদি সরকার৷ তবে বার বার চেষ্টা করেও বাঙলা দখল অধরাই রয়ে গেছে৷ তাই এবার দলদাস নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার করে বাঙলা দখলে নেমেছে মোদি শাহের দল৷ এস আই.আরের নামে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ দিতে চাইছে দলদাস নির্বাচন কমিশনার৷ বিহারে সফল হলেও নির্বাচন কমিশনার বাধার সম্মুখীন হয়েছে পশ্চিম বাঙলায় এসে৷
পশ্চিম বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী কাগুজে নেত্রী নয়৷ দীর্ঘ সংগ্রাম করতে করতে তিনি উঠে এসেছেন৷ তাই ক্ষমতায় থেকেও লড়াইটা তিনি জানেন৷ শুধু মাঠের লড়াই নয় অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইটা তিনি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছে৷
তবু স্বৈরাচারী শাসকের কাছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা কোনটাই থাকে না৷ নরেন মোদি সেইরকম একজন স্বৈরাচারী শাসক৷ দলীয় বশংবদ নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে নানা তুঘলকী আচরণের মধ্য দিয়ে বাঙলার মানুষকে চরম নির্যাতন করে চলেছে৷ কিন্তু বাঙালী আর কতদিন সহ্য করবে এই নির্যাতন! তাই কবির ভাষায় ডাক দিয়ে যাই---‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস শান্তির ললিতবাণী শোনাইতেছে ব্যর্থ পরিহাস! তাই বিদায় নেবার আগে ডাক দিয়ে যাই--- সংগ্রামের তরে প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে৷ আজ জাতির অস্তিত্ব ও মাটির অধিকার রক্ষা করতে হলে সংগ্রামে নামতেই হবে৷ তবেই বাঁচবে নতুবা স্বৈরাচারী সরকার সব ধবংস করে দেবে৷ আজ স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক দলতন্ত্রই হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যবিধাতা!
- Log in to post comments