ভাবনাচিন্তা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই৷ এ বার সেই ভাবনাচিন্তাই বাস্তবায়িত করতে চলেছে ব্রিটেন৷ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার৷ অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার পর ব্রিটেনেও ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ স্টার্মার জানান, শিশুদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
স্টার্মারের কথায়, ‘‘আমরা ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছি৷ শিশুদের এমন এক জগতে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয় তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ছাপ ফেলে৷ আমরা চলতে দিতে পারি না৷ আমরা চাই, শিশুদের শৈশব ফিরে আসুক৷ সেখানে কোনও ভাবে প্রযুক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না৷’’
তবে সমাজমাধ্যমের কোন কোন ক্ষেত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ ১৬ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে গত তিন মাস ধরে আলোচনা হয়েছে ব্রিটেনে৷ বিবিসি জানিয়েছে, শুধু সমাজমাধ্যম নয়, গেমিং অ্যাপে অপরিচিতদের সঙ্গে মেলামেশার উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সেনেটে বিল পাশ করে এই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়৷ জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৬ বছরের কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না৷ ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতি ১০টি প্রচলিত সমাজমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷ পরে একই পথে হেঁটে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করে৷
ব্রিটেনেও এই নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে৷ তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে কিছু কম কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল৷ যেমন ইনফিনিট স্ক্রল বা অটোপ্লে-র মতো ফিচার বন্ধ, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার বা এআই চ্যাটবটের ব্যবহার সীমিত করার মতো বিষয়৷ সেই সমীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে ছিলেন৷ তবে কিছু অভিভাবকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে৷ যদিও শেষপর্যন্ত সব কিছু বিবেচনা করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল ব্রিটেন৷