বড়ই আশ্চর্য লাগে এই বৃহৎ নানা ভাষাভাষী ও নানা ধর্মমতের দেশে যারা শাসনে এসেছেন তারা প্রায় সবকটি ভারতের শাসকগণ কি কেন্দ্র কি রাজ্য যারা শাসনে তারা সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন শাসক৷ তবে কেন্দ্রের শাসক গুলি বেশি করে চিৎকার করে চলেন গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলেই কিন্তু তাদের আচরণে ও কাজে তারা ধনতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক ও তাদেরই ইয়েসম্যান নয় কি! ভারতীয় গণতন্ত্রে জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের সরকার প্রবাদটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে৷ গণতন্ত্রে শাসককে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার অধিকারী কি হতে হবে না? যদিও আমাদের গণতন্ত্রের সেই কংগ্রেস নেত্রী ইন্দির শাসনকালে সংবিধানে যেটি আইনসম্মতভাবে লিপিবদ্ধ করেন সেটি কে কিন্তু বর্তমান এন.ডি.এ সরকার গ্রাহ্য করেন না৷
তাই বড় দুঃখের কথা সেটা হলো জনগণের সরকারকে অবশ্যই যাতে জনগণের হাতে আর্থিক ক্ষমতা যায়,তারা আর্থিক দিক থেকে স্বনির্ভর হয় সেই রুজি রোজগারে তা দেখা দরকার সরকারের৷ তাহলে তাদের কোন শাসকের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে না৷ তাই ব্যাপকভাবে দেশে আর্থিক উন্নয়নে যাতে তারা সক্রিয় হয় সেটাই শাসকের দায়িত্ব কিন্তু সেই গুড়ে বালি৷ এরা সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত গরিব নর নারী নির্বিশেষে অধিকাংশকে অনুগ্রহকারী করে রাখতে কি নানাভাবে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থাকে জোরদার করে চলেছেন না? আর লক্ষ লক্ষ কর্মক্ষম শিক্ষিত অল্প শিক্ষিতরা কর্মহীন হয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নানাভাবে কিছু হতভাগ্য বিপথগামী হয়ে সমাজের বুকে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে বসছেন৷ এদের ধরপাকড়ের জন্য নানা আইন কি করে বসছেন না সরকার? কিন্তু শুধু আইন তো সমস্যার সমাধান নয়, সমস্যার সমাধানের রাস্তা প্রতিটি নাগরিকের সার্বিক বিকাশ ও কল্যাণের জন্যে উপযুক্ত আর্থিক পরিকল্পনা ও সামাজিক সুব্যবস্থা৷ তাই গণতন্ত্রে সরকার হবেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল জনকল্যাণকারী শাসক৷ তাই মনে পড়ে বারবার সেই মহান দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক সাধক পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারকে, যিনি বারবার বলতেন সৎনীতিবাদী ও মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ দেশ সেবকদের কথা যারা পৃথিবীর মানুষের সেবায় আত্মনিবেদন করে নরনারায়ণদের সেবা দেবেন৷ তাই নিরবে নিভৃতে বসে সেই কাজ করে যেতেন৷ আর তাদের দিয়ে জনসেবার কাজ করাতেন৷ দার্শনিক হিসেবে তিনি দিলেন প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব সর্বশ্রেণীর মানুষের ও সর্ব অস্তিত্বের বিকাশের জন্যে৷ এটাই হলো চক্ষু শূল শাসকদের৷ তাই তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে বন্দী করে ওষুধের নামে বিষ পান করিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়৷ হত্যার চক্রান্ত ব্যর্থ হলেও তার চক্ষু দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে বসেন ও কারাগারে অনশন আরম্ভ করেন৷ আইনের মান্যতা রাখতে তিনি শুধু প্রত্যহ এককাপ ঘোল খেতেন মাত্র৷ এইভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর বন্দি থাকেন৷ শেষে জনতা দলের শাসনে নির্র্দেষ প্রমাণিত হয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসেন সসম্মানে৷ এই হল সেই ইন্দিরাজীর কুশাসন৷ ইনি চরম হিংসাশ্রয়ী হয়ে তার সংঘটন কে নিষিদ্ধ করে সংঘটনের সব সেবামূলক কাজ বন্ধ করে দেন৷ পরে নির্বাচনে হেরে তার অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা তুলে নেন৷ যারা কর্মী সেই গৃহী ও সর্বক্ষণ সহ সবাই ছাড়া পান৷ পরে কঠোর পরিশ্রম করে তারা সংঘটনকে বাঁচিয়ে তোলেন৷ এই হল সেই ভারতের নোংরা দলাতন্ত্রের নামে সেই গণতন্ত্র৷ যার হাত থেকে মুক্তির পথ আছে সেই সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয় ও সকল নাগরিক কিছুটা শান্তিতে ও সুখে কাল কাটাতে পারেন৷
শুধু গণতান্ত্রিক শাসন নয়, মানুষকে আর্থিক শোষণ থেকেও মুক্তি দিতে হবে৷ এটাই চেয়েছিলেন বলে আনন্দমূর্ত্তিজীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল৷ কিন্তু সব ব্যর্থ করে তিনি কারাগার থেকে সসম্মানে বেরিয়ে আসেন৷ আজ বৈশ্যশোষণে বিশ্বের মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত৷ এই অবস্থায় মানুষকে দায়ীত্ব হতে হবে, মানুষের হাতে আর্থিক ক্ষমতা তুলে দিতে প্রাউটের বিকেন্দ্রীত অর্থনীতির বাস্তবায়ন করা হবে৷
- Log in to post comments